Wednesday, 3 April 2024

মেডিটেশন ইস মাস্ট

 দাদু বললেন,"শোন, মেডিটেশন ইস মাস্ট। সম্পূর্ণভাবে নিজেকে একাত্ম করে, চোখ বন্ধ করে আধঘন্টা। ব্যাস, মোক্ষ।

আমি বললাম," সত্যি?"
দাদু বললেন,"তবে নয়তো কী? কী সব তোদের টেনশন-ফেনশন? অল উইল ভ্যানিশ, উধাও।"
আমি বললাম," তুমি করো দাদু?"
দাদু বললেন,"এভরি নাইট, রাত এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটা, চলে আসিস আজ রাতেই, দেখে যাবি। আমি তো তখন এ জগতেই থাকি না। একাত্ম টু দি অলমাইটি।কানের কাছে হানি সিং ফানি সিং কিছুই বাজিয়ে দেখিস। আমার কোনও নড়ন-চরন হবে না"
-----
ঠিক রাত এগারোটা দশ। সাথে মোবাইল। যদি সত্যিই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। দেখি দাদু খাটের ওপর, মনে হয় শবাসনে মেডিটেশন করছেন।
দিদিমা বলেন,"কী রে এতো রাতে?"
আমি বললাম,"দাদু মেডিটেশন?"
দিদা বলেন,"ধুসসস ..... জমিয়ে ঘুমোচ্ছে, দেখছিস না নাক ডাকছে! রোজ সকালে উঠে আমাকে মেডিটেশনের গল্প বলে, আমি লুকিয়ে হেসে নি"
-----
আর কি, ঘুমোনোতেই তো বাঙালির মোক্ষ।

Tuesday, 19 March 2024

একটি সাঁওতালি গল্প

 একটি সাঁওতালি গল্প

---------------------------

রসিকবাবু স্টোরিটেলার। গল্প বলতে পারেন বেশ ভালো। তা তার কাছে সঠিক তথ্য থাকুক বা না থাকুক, একটি মুচমুচে রোববার বিকেলের চা-কাটলেট মার্কা গল্প নামিয়ে দেবেন মুহূর্তে।

সেদিন পপি জিজ্ঞেস করল,"মামা, ওদের নাম সাঁওতাল কেন?"
রসিকবাবু দুমিনিট সময় নিয়ে বলতে শুরু করলেন
-------------
ব্রাজিলের সাঁও-পাওলোতে ফুটবল শিখতে গেল বাংলার অনামী এক ছোট্ট গ্রামের ছেলে বুরু মুরমু। ফুটবল না শিখেই মুরমু, হুড়মুড় করে দেশে ফিরে এল। সবাইকে বলল, "উরা, ফুটবলটিকে বেদম পিটায় বটেক। উ আমাদের জন্যে লয় রে।" গ্রামের সবার খুব মন খারাপ। নতুন খেলা একটি শিখবে ভেবেছিল। সে আর হল না। একদিন বিকেলে মুরমু আনমনে ফুটবলের কিকটা প্র্যাক্টিস করছিল। আর তাই দেখে সব বলে উঠল,"ই তো মজার রে". সবাই তখন হাতে হাত ধরে সাঁও-পাওলোর কিক শিখল। সবাই মিলে এক সাথে কিক দিতে দিতে বেশ একটা ছন্দ এল, তাল এল। তালের নেশায় বুঁদ হয়ে যাওয়া আর সাঁও-পাওলো থেকে ফিরে আসা বুরু মুরমু এবং তার গ্রামের লোক সেদিন থেকে "সাঁও-তাল"।

P.S. সব চরিত্র কাল্পনিক।


ঝিঁঝিঁ

 - এই যে এতো ক্রিকেট ক্রিকেট করিস, কত রকম ক্রিকেট আছে জানিস? খোঁজ রাখিস?

- হ্যাঁ এই তো টেস্ট, ওডিআই .....

- তোদের দৌড় ও ওই অব্দি। হাউস ক্রিকেট জানিস? ফিল্ড ক্রিকেট?

- য়্যা? সে সব কি? ডোমেস্টিক বা ইন্টারন্যাশনাল মানে বিদেশ .....

- ধুর। ঘরের পিছনে জঙ্গলে।

- য়্যা?

- হ্যাঁ। ঝিঁঝি পোকা। ইংরিজিতে ক্রিকেট বলে। জানতিস?

- ঝিঁঝি?

- হে হে পোকা। এবার থেকে আর বলিস না কাউকে ক্রিকেটের সব জানিস। বুঝলি? উঠে পর আর আমাকে একটু ধর তো, উঠি। এতক্ষন একটানা বসে আছি তো, কিরকম অবশ অবশ লাগছে। পায়ে ক্রিকেট। হে হে বুঝলি না? পায়ে ঝিঁঝি। 😁

Tuesday, 27 February 2024

একটা জবরদস্ত নাটক

 ঝড়-বৃষ্টি-বজ্র-বিদ্যুৎ এরা বেশ জমিয়ে মাঝরাতেই একটা জবরদস্ত নাটক মঞ্চস্থ করবে বলে রেডি।

পর্দা উঠল।
নাটক শুরু হল।
সমস্যার শুরু তার পরে।
নাটক শুরু হতে না হতেই দর্শক মোবাইল বাগিয়ে চালু করল সেল্ফি-ক্লিক-ক্লিক। তার ফ্লাশলাইট-এ "ওরেশশালা" বলে পালাল বজ্র-বিদ্যুৎ ভ্রাতৃদ্বয়।
ঝড়-বৃষ্টি তবু বেশ কিছুক্ষন ক্লাইম্যাক্স ধরে রাখতে চাইল। কিন্তু দর্শক নাটক ছেড়ে ফেসবুকে আপডেট দেওয়া শুরু করতেই, ঝড়-বৃষ্টি সমস্ত উত্তেজনা-অনুপ্রেরণা হারাল। ঝপাঝপ পর্দা ফেলে তারাও পড়ল কেটে।
মঞ্চ এখন ফাঁকা। দর্শক মুখ বেজার করে, চুক চুক করছে"এহে! আর একটু হলো না? এতো তাড়াতাড়ি শেষ!"
এখন দর্শক নিজেরাই মঞ্চে উঠে খানিক বাঁদর নাচ নেচে নেবে কিনা ভাবছে।
কে যেন অলক্ষ্যে বললো,
"তেরে নাসিব মে নেহি জো খুশিকে মানজর,
সামনে হি তো থি, জো তুঝে ফুরসৎ না মিলা।"



Wednesday, 14 February 2024

এসব নাটক আর কতদিন

 'আমরা নতুন যৌবনের দূত' অর্থাৎ এএনজেডি এবং 'আমরা সবাই রাজা' অর্থাৎ এএসআর, এই দুটি ক্লাবের ঝগড়া ধারাবাহিক। এতটাই, যে এবার ইতিহাসের পাতায় নাম উঠল বলে।

কালীপুজোতে এএনজেডি এএসআর-এর একটি ছেলের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো। এএসআর পরের দিন এএনজেডি-র ক্লাব হানা করে চারজনকে থ্রেট দিয়ে আসে। এএসআর-এর একজনের মনে হয় খেলাটা এক-এক হয়নি। তাই সে রাতের অন্ধকারে এএনজেডি-র ক্লাবে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এক সদস্যকে আধমরা করে। এবার খেলাটা বেশ এক-এক হয়। পরের রাউন্ডে এএনজেডি তৈরী হচ্ছে। এএসআর রাতের পর রাত বসে ছক করছে আক্রমণ সামলানোর। সরস্বতী পুজোর আগের দিন, এএনজেডি এএসআর-এর ক্লাবে আগুন লাগিয়ে দেয়। পাড়ার সবাই বিরক্ত। পাড়া প্রায়ই টেনশনে থাকে, এই বুঝি আবার ঝামেলা। পাড়ার মাথারা মধ্যস্থতা করেছেন বহুবার, বহুবার সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে, ফল জিরো।
মোহনবাণী শোনালেন দাদু। দাদু বলেন, এই এক-এক খেলা একটা অসভ্যতা। প্রতিশোধের স্পৃহা মানুষকে অসভ্য করে তোলে। চোখের বদলে চোখ নিলে পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে।
এসব শুনে এএসআর ক্লাব এই আগুনের পরের চাল নিয়ে আলোচনায় বসে। ঠিক করে কোনও মারামারি নয়, পাড়ার কেউ যেন এএনজেডি-র সরস্বতী পুজোতে না যায়। এভাবেই তাদের শাস্তি দেওয়া হোক। এড়িয়ে যাত্তয়া যাক। দেখা যাক কী হয়! উত্তম প্রস্তাব। পাড়ার সকলে এই উদারতার রায়ে ধন্যধন্য করে ওঠে।
কেউ এএনজেডি-র সরস্বতী পুজোতে যায়নি। কেউ না!
সত্যি? কেউ না?
পাড়ার কয়েকজন গিয়েছিল। বেমালুম গিয়েছিল! শুধু যায়নি, জমিয়ে আড্ডা মেরে, লেচে-গেয়ে রীতিমতো যাকে বলে এনজয় করে এসেছে।
তাতে এএনজেডির সাহস কয়েক লিটার বাড়ে আর এএসআর-র বুক ফাটে। কী হল এভাবে এড়িয়ে গিয়ে। দুশমন এখন কলা দেখাচ্ছে। আর এদিকের লোকজন যারা সৎ হয়ে পুজোয় গেল না, মাথা নিচু করে চলছে।
পাড়ার হারু ডাক্তার পুরো ব্যাপারটা শুনে বলেন,ধুস। মন খারাপ কেন। ভালোই হল তো! ক্যান্সার চিনে নাও। ওই যারা একবার এদিকের খেলেন আবার ওদিকেরও ফেললেন না।
দাদু বললেন, ঠিক তাই। এই বিভীষণ চেনাও বিরাট বিষয় খোকা। আগে তাদের অন্তরাত্মাতে কড়া পড়ুক। তারপর বাইরের শত্রু। ওদের বাড়ি সরস্বতী পুজোর স্পেশাল প্যাকেট পাঠানো হোক, সঙ্গে ফুল, 'গেট ওয়েল শুন'
পাড়ায় পোস্টার পড়ল:
'এসব নাটক আর কতদিন, ভাবের ঘরে চুরি,
গান্ধীও এবার স্বর্গ থেকে, এগিয়ে দেবেন ছুরি।'



Tuesday, 13 February 2024

বাজল আজ ভীমপলাশী

গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে নানান কান্ড। হাসি-ঠাট্টা-তামাশা-মজা। 'ধুস ভাল্লাগেনা' হয়ে চলছে দিনগুলো। ফেসবুক খুলবেই না, এমনই ভেবেছিল পূরবী। অসহ্য লাগছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা দেখানোর খেলা। অফিসে, ফেসবুকে কত কথা কাটাকাটি হলো এই নিয়ে। ভ্যালেনটাইন উইক! কী ভয়ানক বাড়াবাড়ি, লোক দেখানো! আগে একদিন ছিল, এখন পুরো সপ্তাহ ধরে চলছে! যেন দুর্গাপুজো! একথা মনে হতেই দুম করে হঠাৎ একটা ভাবনা এল। পুজোও তো মানুষ সারাবছর করে। তাহলে দুর্গাপুজো নিয়ে এতো মাতামাতি কেন। আসলে হয়ত মানুষ আনন্দ পেতে চায়, উৎসবে থাকার ছুতো খুঁজতে চায়। অনেক কিছু ভুলে যাওয়ার জন্য, অথবা অনেক কিছু মনে পড়ানোর জন্য।

এই কথা মনে হতেই 'কেমন আছিস তোরা? হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে, ইতি পূরবী' মেসেজ করলো পাঁচ বন্ধুকে, যাদের সাথে কত বছর কোনও কথা হয়নি, অথচ একদিনও তাদের ছাড়া থাকতে হবে, তা ভাবাই যেত না কলেজের দিনগুলিতে। মেসেজ করেই নিজের মনে খুশি হয়েছিল পূরবী। কাজ করছিল টুকটাক। মুহূর্তের মধ্যেই একটা টুং, তারপর আবার একটা টুং, তারপর আবার। শেষে ফোন, মিট করার প্ল্যান আরও কত কী! মুঁচড়ে যাওয়া মনটা, ছয় বন্ধুর হাসি-ঠাট্টার আওয়াজে কখন গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে পড়েছে। উইকেন্ডে মিট হল, বাড়ি ফিরে শুধুই নস্টালজিয়া। অনেকদিন পর আজ গুলজার শুনতে ইচ্ছে করল পূরবীর। না পড়া, পরে থাকা বইগুলো সব আজই পড়তে ইচ্ছে করছে। কতকিছু করতে ইচ্ছে করছে। কত কাজ বাকি! আজ আর ঘুমের ওষুধ নিতে হলো না পূরবীকে।
পরের দিন ফেসবুকে পোস্ট করলো পূরবী,'ভালোবাসার বিজ্ঞাপন হচ্ছে বটে, তবে ভ্যালেন্টাইন্স ডে চড়া সুরে জানান দিচ্ছে সবাইকে, ভালোবাসতে-ভালো থাকতে ভুলে যাননি তো?'
********************
"ভালোবাসা-বাসি তো হলো, দেখান হল আরও অনেক বেশি,
তবু তাতেই, ছেঁড়া তারের তানপুরাতে বাজল আজ ভীমপলাশী"



Wednesday, 7 February 2024

শীতটা শেষ হতে চলেছে, ইটস বোরিং, ম্যান

 নতুন বছর শুরু আর ওদিকে শীতটা শেষ হতে চলেছে!

এমন রাগ হয় যে কি বলব। শীত এলো, যেন গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। আরে বাবা, দু এক মাস আরও থেকে যাবি, রসে-বশে-বসে-কষে, তা না! মাঙ্কিক্যাপটা তো সূর্যের মুখ দেখতেই পেল না। মটনের ইনটেক ২০% বাড়াতেই ঘেমে ঘ হয়ে যাচ্ছে মানুষ। শাটল গাড়ির চারজনের সিটটা আবার তিনজনের মনে হতে শুরু করেছে। সবাই এক্সপ্যান্ড করছে, প্রস্থে! ধুস ধুস ধুস...
রোববার সন্ধ্যেতে রোমহর্ষক ভূতের গল্পে কম্বলের মরাল সাপোর্ট তো মেলে এই শীতেই।
আর ওদিকে বেহালা টু বইমেলা জার্নি সামলানোর মত মানানসই ক্লাইমেটটা তো নিদেনপক্ষে চাই নাকি!
আরও কতকিছু যে রইলো বাকি!
সার্কাস দেখা, ক্ষীরাই যাওয়া, লাল-হলুদ শাড়ি পড়ে বোলপুরে সেল্ফি কিচিক ইত্যাদি ...
বল্টুকে মুখ থেকে একরাশ ধোঁয়া বের করা ম্যাজিক দেখানো বাকি,
জমাট কুয়াশাতে প্রিন্সপ ঘাট থেকে দৌড়ে এসপ্লানেড যাওয়া বাকি,
ঠাকুমার কোলে শুয়ে কম্বল মুড়িয়ে খই নাড়ু খাওয়া বাকি।
আর মাখোমাখো প্রেমে বাহু জড়াইয়া, পুস্পকাননে টহল দিয়া, কড়াইশুটির কচুরি গিলিব নব্য আলুর সহিত, উহাও যে বাকি।
ধুস!
P.S. অল্টারনেট ডে তে স্নানের রুটিন আবার ব্যাক টু ডেইলি রুটিন। ইটস বোরিং, ম্যান।