Friday, 2 May 2025

রাজপুত্র vs ব্যাঙ

 একজন রাজকন্যা একবার একটি ব্যাঙকে চুমু খায়, এবং সবুজ ত্বকের নিচে এক সুদর্শন রাজপুত্র প্রকাশ পায়। ধরুন ঘটনা অন্যরকম। একটি ব্যাঙ, এক রাজকন্যাকে চুমু খায় এবং তাকেও ব্যাঙে পরিণত করে, এবং নিজের জলাভূমির জগতে নিয়ে যায়? এই অদ্ভুত পটচিত্রে, তাদের আর প্রাসাদ বা মুকুটের দরকার হয় না, শুধু পদ্ম শালুক কচুরিপানা ভরা আর চাঁদের আলোয় ঝিকিমিকি করা পুকুরই তাদের রাজ্য হয়ে ওঠে। তারা একসাথে জলাভূমিতে লাফায়, মোহময় ভালবাসার জালে জড়িয়ে থাকে। যখন বৃষ্টি নামে, তখন তা হয়ে ওঠে নিখাদ ব্যাঙদের উৎসব, তারা কাদায় লাফায়, জিহ্বায় বৃষ্টির ফোঁটা ধরে আর আনন্দে মেতে ওঠে। এমনকি আকাশও যেন আশীর্বাদ করে তাদের প্রাণময় প্রেমকাহিনীকে।

সুন্দর, তাই না?

কিন্তু আমরা কি কখনও ভাবি, প্রচলিত গল্পে রাজপুত্রকে কেন ব্যাঙের সঙ্গে তুলনা করা হলো? অনেক জায়গায় ব্যাঙকে কুৎসিত, পিচ্ছিল বলে মনে করা হয়, যা রাজপুত্রের সৌন্দর্যের এক নিখুঁত বিপরীত। কিন্তু আমরা কীভাবে বিচার করি কী সুন্দর আর কী নয়? কুৎসিততা কি সত্যিই সহজাত, নাকি তা শুধুই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়?



Wednesday, 30 April 2025

বসলো এসে মুখোমুখি

 বাইরে তখন কালবৈশাখী,

টুকটুকে ওই লাল পাখি,
বসলো এসে মুখোমুখি,
বললো হেসে, "ভালোবাসি"।
ভালোবাসা, অসামান্য,
জানি তুমি চঞ্চল, বন্য,
তবু এই ভালো বাসা,রাখা রইলো তোমার জন্য।
মন ভরে ডাকবো যখন, এসো প্লিস, হবো ধন্য।

৩০ এপ্রিল ২০১৯ 



তখন আমি উড়ছি পাখা না ঝাপটে

 তখন আমি উড়ছি পাখা না ঝাপটে,

তখন আমি সুটটা টানি গলির খাঁজে,

তখন আমার দুপুর কাটে মেঘ-নকশায়,

সেদিন তোমায় প্রথম দেখি ওই জানলায়,

তখন থেকে তুমি আমার ঘড়ির কাঁটায়,

প্রথম চিঠি ঠিক করেছি দেব তোমায়,

বুকপকেটে বোমা নিয়ে পৌঁছে দেখি,

রুমাল দিয়ে মুছছো বুঝি তোমার আঁখি?

মনে হলো, কাঁধ আমার শক্ত নয়,

তোমার চোখের ভার কমাবো সাধ্য নেই।

ফিরে এলাম, উড়িয়ে চিঠি, পুড়িয়ে বুক,

প্রথম চিঠি টুকরো হয়ে খুঁজুক সুখ।

২৯ এপ্রিল ২০১৮ 




লাঞ্চ বাক্স

হঠাৎ কখনো রাস্তায় দেখা না হয় নাই হলো,

দুম করে রেস্তোরাঁতেও নয়।

আমাদের যে পছন্দের জায়গা ছিল,

পাহাড়,

তার ধারের ওই চেয়ারতাতেও হয়তো নয়।

ফোন নম্বর বদলেছে জানাই আছে,

হোয়াটস্যাপ, ফেসবুকের বালখিল্য কবেই ভ্যানিশ।

শুধু আজও লাঞ্চ বাক্স খোলার সময়,

বুক দুরু দুরু।

হার্ট বিট নব্বই।

শ্বাস রুদ্ধ।

যদি চিরকুট খুঁজে পাই।

নাহয় মিরাকেল হোক,

ভুতুড়ে কারসাজি।

শত যুক্তি দিয়ে তাকে মেলানো দুস্কর হোক।

রূপকথার গল্প বলে বলুক লোকে।

চিরকুট তবু আসুক লাঞ্চ বাক্সে।

শিরশির করে তরঙ্গ হয়ে বয়ে যাক উপর থেকে নিচে।

নাহয় একমুহূর্তের জন্যই হোক।

কখনো কখনো মনে হোক না একটা স্বপ্ন।

তবু লাঞ্চ বাক্সের চিঠি চাই।

আপোষের সীমারেখা যা কিছু,পড়ে থাক বাক্সের লক্ষণরেখার বাইরে।


২৯ এপ্রিল ২০২০ (ইরফান খান স্মরণে)




Friday, 25 April 2025

চিঠি বলতে আমি শুধু প্রেমের বুঝি

 চিঠি বলতে আমি শুধু প্রেমের বুঝি।

যাতে বেশ করে রসিয়ে ভাব বর্ণনা করা যায়।

একটু থেমে জানলার দিকে তাকালে ভাবে রস বাড়ে।

বাকি ঝগড়া-তর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো।

কাগজে ওসব লিখতে গেলে রাগ-রোষ-ক্ষোভ এর ইনটেনসিটি হ্রাস পায়।

পেতে পেতে তলানিতে ঠেকে, শেষে আবার ভাব রসে মিলে যায়।

মানে রোষ থেকে রস।

তাই আমার মনে হয়, মুখ থাকতে হাতে কেন!


২৫ এপ্রিল ২০২০ 



Thursday, 24 April 2025

কফি আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কফি আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
আর তারপর
১. বত্ৰিশ সেলসিয়াসের প্যাচপ্যাচে ঘাম উধাও।
২. কাকের গলায় সুর, কিরকম যেন কোকিলি-লতা।
৩. ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রাম!! শব্দগুলো চেনা। কিন্তু খায় না মাথায় দেয়?
৪. চড়াইদুটো এক-একটা উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপারে বসে। গাড়ির মালিক জেনে বুঝেই ওগুলোকে নামিয়ে রাখেনি হয়তো। এই মুহূর্তে চড়াই দুটোর চোখে-চোখে খেলা। নির্লজ্জের মতো প্রেম শুরু করবে ঠিক, দেখিয়ে দেখিয়ে। ওদের দায় নেই সমাজের বখে যাওয়া নিয়ে। আচ্ছা প্রেমে কি কেউ বখে যায়?
৬. বাজার? রান্না? পেন্ডিং এক্সেল ফাইল? নিমন্ত্রণ-রক্ষা? ডাক্তারখানা? নাহ কিছু নেই আজ। শুধু ল্যাদ।
৫. উত্তরের জানালায় গ্রীকদেব নোটস গুড মর্নিং জানিয়ে ফুঁ দিয়ে পাঠালেন দক্ষিনি হাওয়া।
৭. কফিতে মল্ট হুইস্কির মৃদু নেশা। দেবী এম্ব্রোসিয়া। দক্ষিনি হাওয়ায় কানে ফিসফিস করে বলে গেলেন, এ কাজ তারই।
৮. চিৎকার করে বলে উঠি,"আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ"
১০. চোখের সামনে দেখি, ছাতিমতলায় বসে গান গায় কেষ্ট বাউল,"মন চলো রূপের নগরে"
৯. বাড়ির পাশে পলাশগাছ ছিল বলে জানতাম না তো। সে ফুলের মালা হাতে উত্তম কুমার!! পরিয়ে দিচ্ছে পাহাড়ি সান্যালে।
১১. বৃষ্টি আসছে। মনে। ধীরে বৎস তিষ্ঠ ক্ষণকাল তিষ্ঠ ক্ষণকাল। বৃষ্টির ঠিক আগে ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা উঁকি মারবে। সেটা দেখে তবে এ নেশা যেন কাটে।
এরকম সব ঘটছে না ঘটবে? নাকি ঘটেছিলো কোনো কালে? আজ মনে পড়েছে? সংখ্যা গুলো গুলিয়ে গিয়েছে না চারের পরে ছয়? হয়?
নাহ কাল থেকে কফি আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিয়ে বসা যাবে না। বরং কফি আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিয়ে বসবো। 


২৩ এপ্রিল ২০১৭ 



Thursday, 10 April 2025

শরীর সর্বস্ব


নিন্দুকেরা বলে পশ্চিমি দেশগুলো নাকি শরীর সর্বস্ব। ভালোবাসা নাকি ততদিন, যতদিন শরীরের টান। নিদেনপক্ষে মনের টান থাকলেও নাকি তার মেয়াদ স্কুলের গরমকালের ছুটির থেকে কিছুমাত্র বেশি নয়। আমাদের সহমরণের দেশের সাথে নাকি তাদের তুলনায় চলে না। লম্বাটে সুদীর্ঘ প্রসারিত জীবৎকালব্যাপী দুটি মানুষের একসাথে কাটানোর গল্প, তা সে যতই লাথি-ঝ্যাটা খাওয়াই হোক না কেন তাকেই তো আমাদের দেশ "আহা কি ভালোবাসা দ্যাখো" বলে হা হা করে। কিন্তু ভালোবাসাকে শুধুই কি লম্বাতে মাপা যায়? বরং চওড়াতেই তো তার কদর একান্তই বেশি বলে মনে হয়। আর তাই যদি হয়, পশ্চিমি দেশ আমাদের থেকে ভালোবাসাকে যে কিছু কম বোঝে না, তা বলাই বাহুল্য। আমাদের দেশে রবি থেকে চন্দ্র (বিন্দু) নানাভাবে প্রেম-ভালোবাসাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। রবি ঠাকুর প্রেমকে জিজ্ঞেস করেছেন, "ওই যে যারা দিনরাত্রি, অলো-হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী, গ্রহ তারা রবি, তুমি কি তাদেরি মতো সত্য নও", "সুদূর নীহারিকা" র সাথে তুলনা করেছেন, যত্নে, সামলে।চন্দ্রবিন্দু "নায়াগ্রা" দেখিয়েছে, প্রেমিকাকে "তুমি লোড শেডিংএ চাঁদের আলোর সর, তুমি জ্বরের শেষে সূর্য ধোয়া ঘর" বলেছেন।

রবি ঠাকুরের শব্দে হারিয়েছি। চন্দ্রবিন্দুর শব্দে ধেড়িয়েছি।

আর যখন শুনি ম্যাথিউ মোল বলছেন,"তুমি ক্ষুদ্র জলাশয়, কর্দমাক্ত খোঁয়াড়-এর ন্যায় আমার জীবনে", আমি অবাক হয়েছি। এই লাইন যখন গান হয়ে এসেছে, স্মুথ এন্ড সুথ মিউজিকে, একবার একবার করে বারবার শুনেছি।

ইউটুবে একেবারেই বাকিদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ম্যাথিউ মোল-এর ফোক গান শোনবার অনুরোধ রইলো।

১১ এপ্রিল ২০১৯