Showing posts with label কালো. Show all posts
Showing posts with label কালো. Show all posts

Friday, 6 July 2018

ব্ল্যাক ফরেস্ট

- ছোটোমামা, জঙ্গল জঙ্গলই তো লাগছে তাই না?
- যাক, তোরও যে তাই মনে হলো, দেখে বেশ গর্ব হচ্ছে। অবশ্য মুখেভাতে তোকে ভাতের পিস্ খাওয়াতে খাওয়াতেই বুঝেছিলাম যে এনার্জি রেডিয়েট করছে।
- তা মামা জঙ্গলে কিরকম যেন সবুজের অভাব। কচি গাছ কিছু পুঁতি?
- আলবাত, লে কে আও। হাম ইধার খেয়াল রাখতা।
- ও মামা, দ্যাখোতো ঠিক হয়েছে?
- তোফা হয়েছে। ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে কি সুন্দর আমাজন হয়েছে। বাহ্ তোমার হবে খোকা। শুধু একটা জিনিস  .....
- জঙ্গলে জন্তু-জানো  ......
- ইয়েসসসস। জানোয়ার। অনিমেলস মাস্ট ভায়া। এহ, কোথায় গেলি?
- এএ এই যে মামা   ......
- ব্রিলিয়ান্ট, ছেড়ে দে ছেড়ে দে  ...... এ এ এ এ এই রে। দিদি আসছে, পালা পালা।

এসব কি ঘরের মধ্যে? এহ। একি। ছোট, জামাইবাবুর গায়ে ওসব কি? ঘাস-পাতা। ওমা পিঁপড়েও নাকি ! এহ। কি রে। ওকিরে। পালাচ্ছিস কোথায়। এ কি করেছিস তোরা মামা-ভাগ্নে মিলে!  দাঁড়া দাঁড়া।
- ভাগ্নে জাস্ট পালা। টেম্পোরারি কালা মিলখা সিং হয়ে যা।
- মামা, রোববার আরসালানটা মনে থাকে যেন।
- থাকবেএএএ ......

Monday, 20 November 2017

তুম তানা নানা

পরিস্থিতি হেবি থমথমে। জেঠুর মুখে কালি লেপে শ্রাবন্তীদি নাকি পালিয়েছে। কালি মুছতে সারা পাড়া উইথ পাড়ার ডাক্তার বাড়িতে হাজির। আমি আর দাদা স্কুল থেকে ফিরে খবর পেয়েই দৌড়ে কালি মোছা দেখতে গেলাম। কালি কোথায়! জেঠুর দিব্বি সেই ফর্সাটি। শুধু খাটে হেলান দেওয়া আর বুকে হাত। পাড়ার ডাক্তার বলছেন,"কালই ইসিজি করিয়ে নিন। কোনো নেশা নেই তো? এখনকার ব্যাথাটা আপনার স্ট্রেস থেকেই। বেশি চাপ নেবেন না" চারিদিকে সবার মুখ কালাপানির কয়েদিদের মতো। নিস্তব্ধতার কম্পেটিশন -এ পাড়ার দিদা-দাদুরা মাঝে মাঝে বাঁধ সাধলেও, মোটের ওপর একটা থমথমে ভাব ইন্ট্যাক্ট রাখতে সক্ষম হচ্ছেন সবাই। মাঝে মাঝে চপাট চপাট মশা মারার আওয়াজ। শ্রাবন্তীদির পালানো তবু সহ্য হবে,  কিন্তু ভয়ানক ডেঙ্গি? সে থেকে কে বাঁচাবে? কুঁইকুঁই করে জেঠু বলে উঠলেন,"কাছুয়া টা জ্বালাও না"
উপস্থিত সকলেই ঝটপট শশব্যস্ত হয়ে কাছুয়া খুঁজতে লাগলেন। পেলেনও। মুশকিল হলো, দেশলাই? নাই। জেঠিমার মুখ-এর পরিস্থিতি যা, তাতে বিনা দেশলাই-তেই আগুন লাগার সম্ভাবনা। তাই জেঠিমাকে কেউ ঘাটাতে চায় না। ঠিক এ অবস্থায়, দাদা বলে উঠল,"আরে দাদু, লাইটার তো তোমার পকেটেই"।

সবার মুখ এখন দাদার দিকে। ঠিক তখনি, কার মোবাইলে বেজে উঠলো,"আগুন লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন তুম তানা নানা নানা"

Wednesday, 18 October 2017

১২ নম্বরের রচনা

"বৈচিত্র্য-র মধ্যে ঐক্য" এই ১২ নম্বরের রচনাটা সবার হেব্বি পছন্দের। "কমন পড়েছে, হুররে"।
গাছগাছালি, পাহাড়পর্বত, মরুভূমি এসব নিয়ে লিখলে মেরে কেটে ৬, তবে খাতা যিনি দেখছেন তাঁর জিভে জল আনা খাবার দাবার নিয়ে লিখলে ৯ নম্বর পাক্কা।
রাকাও মহা উৎসাহে পরীক্ষাতে রচনাটা লিখেছিল, বলেছিল জব্বর লিখেছে। নম্বর বেড়োতে রাকা কিরকম যেন হতভম্ভাইস্ড হয়ে গিয়েছিল, ১২তে পেয়েছিল ২। শুধুই কি তাই? টিচার-ব্যক্তিটি বাঁকা হাসি হেসে উচ্চস্বরে ক্লাসের মাঝে পড়ে শুনিয়েছিলেন ওর লেখা। সে কি কান্ড! মাথা নিচু করে ছিল রাকা। টপটপ করে দুফোটা জল পড়েছিল হাতে। আজ সবটা মনে নেই। তবে শেষ লাইনটা ছিল এইরকম, "ভারতবর্ষ-এর মানুষের মন সর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যময়। কালো রং-ওয়ালা মহিলা-জীব ভারতের রাস্তায়-হাটে-মাঠে-ঘাটে কুচ্ছিত-মহাঅশুভ, তবে পূজার মন্দিরে মূর্তি হিসেবে চলবে।"

(চরিত্র কাল্পনিক। বিষয়বস্তু কাল্পনিক কিনা, আপনারাই বলুন।)
(নিচের ছবিটি একটি শ্যামবর্ণা নারীর, যেন ঘরের মা লক্ষীটি, যাঁর অস্ত্র ওঠে অন্যায়ে।)