Showing posts with label Comedy. Show all posts
Showing posts with label Comedy. Show all posts

Saturday, 25 January 2020

পার্কসার্কাসের সার্কাস

হুন্ডাই থেকে হন্ডা মেয়ে টানে বেশি। অভীক এর প্রতিটি উইকেন্ড হন্ডা কেনার পর থেকে জব্বর কাটছে। কলেজের সিনিয়র - জুনিয়র এরা তো ছিলই। এখন সানন্দার কভার মডেলরাও ইসি। আর তাছাড়া আজকাল সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আনসোশাল হওয়াটা অনেক বেশ সহজ। তার ওপর বিংশ শতাব্দীর সুবিধা হলো, ইনিয়ে বিনিয়ে প্রেমের কথা বলে গাড়িতে ডাকতে হয় না। হন্ডা, আর সাথে সমপ্লেসএলসের অফার পেলেই ব্যাপারটা স্মুথ। গাড়ির কাঁচে ব্ল্যাক ফিল্ম লাগানোটা বেআইনি। অভীক এর তাতেই ডেয়ারিং হওয়ার এডভেঞ্চার। ফিল্ম লাগানো কাঁচের গাড়ি থাকলে, বাইরের লোকজন ভিতরের কিছু দেখতে পায় না। তাতে বান্ধবীকে বাড়িতে ডেকে এনে ঝামেলা বাড়ানোর চাপ নেই। জীবনে ফ্লেক্সিবিলিটি খুব দরকার। এই যুগের ছেলেমেয়েরা সবাই খুব ফ্লেক্সিবল। সরস্বতী পুজোর পর কুল খাওয়া দিন গন। এখন সবাই "কুল"। তাতে মাঝে মাঝে এক দুটো ভুল হয় বটে। কিন্তু সেসব ভেবে উইকেন্ড খারাপ করা যায় না। এরকম বেশ কয়েকটা উইকেন্ড কুল অভীক, কুল মোনালিসার সাথে কোলাকুলি কাটিয়ে নেওয়ার পর, যখন পাশ কাটিয়ে সোনা আর লিসাদের দিকে ঝুঁকছে, মোনালিসা এ জিনিস মেনে নিতে পারছে না। কুল হতে গিয়ে ইমোশনাল ভুল হয়ে গেছে। এইখানে হয়ে যায় সমস্যা। ফ্লেক্সিবিলিটির মজা নিতে নিতে আজকের সোনা-মনারা ভুলে যায় যে বেশি টানাটানি করলে ফ্লেক্সিবিলিটি টুং করে ছিঁড়ে যেতে পারে, অন্তত সম্ভাবনা থেকেই যায়। অনুনয়, বিনয়, আবেগ, ভালোবাসা, মোহ আর নানা রকম হাতিয়ারেও কাজ না হতে মোনালিসা প্রায় মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকে। তাতে অভীকের কিছু যায় আসে নি।
মোনালিসার ভাই কয়েকটা উইকেন্ড অভীককে ফলো করে দেখে নিয়েছে উইকেন্ডে হন্ডা কোথায় কোথায় যায়। গাড়ি চাঁদনীচক থেকে পার্কস্ট্রিট আসে। সেখান থেকে "জলযোগ" হয় তারপর পার্কসার্কাসে গাড়ি বেশ কিছুক্ষন দাঁড়ায়।
থার্টি ফার্স্ট। গাড়ি আজ অনেক বেশি চনমনে। হন্ডা গ্যারাজ থেকে এসেছে আজই আরও ধোপদুরস্ত হয়ে নতুন চকচকে রঙে। বান্ধবীর সাথে অভীকের এক্সসাইটমেন্টের লেভেলটাই আজ মধ্যগগনে। গাড়ি চাঁদনীচক, পার্কস্ট্রিট হয়ে এখন পার্কসার্কাসে দাঁড়িয়েছে দশমিনিট। আশেপাশের লোকজন একটু বেশিই দেখছে আজ গাড়িটাকে।
ঠোঁটে চুমু, বিয়ারে চুমু, নেশা তখন টানটান। গাড়িতে নক, হালকা তারপর জোড়ে, ভীষণ জোড়ে, ভীষণ রকম জোড়ে। পুলিশ।
========
অভীক এখন পুলিশের কাস্টডিতে। নাঃ গাড়ির কাঁচে ব্ল্যাক ফিল্ম লাগানো ছিল বলে নয়। ইনফ্যাক্ট অভিকের গাড়ি কয়েকদিন যে গ্যারাজে ছিল, মোনালিসার ভাই সেখানে গিয়ে ব্ল্যাক ফিল্ম সরিয়ে দিতে বলেছিল। এক্সসাইটমেন্টে অভীক বোধহয় তা খেয়াল করেনি।

Thursday, 5 December 2019

তার আগে আসুক কম্পাস

পুজোর সময় থেকেই চারিদিকে পোস্টার "উত্তর আসবেই"। ছোটমামা গম্ভীর মুখে বলেছিলো,"তা আসুক কিন্তু তার আগে প্রশ্ন আসুক, আর তার আগে আসুক মালপোয়া"। বলেই একটা মালপোয়া এক সেকেন্ডে গপাৎ।
তা প্রশ্ন আসেনি তবে পোস্টার বদলে নতুন পোস্টার এলো,"পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ, উত্তর আসবেই"। ছোটমামা গম্ভীর মুখে বলেছিলো,"তা আসুক, তবে তার আগে আসুক কম্পাস"।
রাজর্ষি দে র নতুন ছবি পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ, উত্তর আসবেই । চলন্ত একটা ট্রেনে যাত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় ও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। হঠাৎ অর্পিতাকে কোনও একটা গল্প শোনার জন্য জোরাজুরি কমলেশ্বরবাবুর। আমার বিশ্বাস ফাঁকা কামরা থাকলেও উনি গল্প বলতেন নিশ্চিত। প্রতিবেশী বয়স্কা যাত্রীটি ডায়ালগ ডেলিভারির দায়িত্ব সুন্দর পালন করেছেন। টানা বলে গেছেন। সামনের কারোর কথা শোনার বা বোঝাবার অবকাশ দেননি। এবং বক্তব্য শেষ করেই ধা হয়েছেন। ঠিক আমার এক দিদার মতো। তিনি অবশ্য কানে শোনেন না। যাই হোক, কমলেশ্বরবাবু গল্প শুরু করেন। তিনটি গল্প বলেন। গল্পের মাঝে মাঝে অর্পিতাও থেকে থেকে নিজের জীবনের কথা বলতে থাকেন, তা সে গল্পের সাথে যোগাযোগ থাকুক বা না থাকুক। কমলেশ্বরবাবুর তিনটি গল্পের প্রতিটিতেই ভীষণ রকম তাড়াহুড়ো। প্রথম গল্পটি শেষ হয়ে গেলো বোঝা গেলো যখন দ্বিতীয় গল্প শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় গল্পটিতে এক ভদ্রমহিলা পুরো গল্পটা জুড়েই ছিলেন। "মেয়ে বাড়ি এসেছে" থেকে "মেয়ে পালিয়ে গেছে" বরাবর তার এক অভিব্যক্তি। এ ধরণের চারিত্রিক গুণধারী মানুষের বাস্তবজীবনে আশেপাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি। "জীবন মানেই মায়া" গোছের ভাব আসে, দুঃখ কষ্ট স্পর্শ করে সে সাধ্য কার। এ ছাড়াও দ্বিতীয় গল্পটিতে আবার সেই তাড়াহুড়ো। দুষ্টের দুষ্টামি যত না রসিয়ে কষিয়ে দেখানো হলো, দুষ্টের দমন হলো পাঁচ সেকেন্ডে। কাট টু তৃতীয় গল্প। তৃতীয় গল্পটি আগে থেকে না পড়া থাকলে "বোধহয় অমুক, বোধহয় তমুক" টাইপ অনুমানের ওপর ভরসা করতে হবে। আর বাকি সব ভুতুড়ে বাংলা সিনেমার মতো এতেও ভূত অদ্ভুত হাঁটে, অদ্ভুত কথা বলে, অথচ আশেপাশের লোক তাদের সাধারণ মানুষ হিসেবেই ঠাওর করে। কি বোকা! এত্ত গপ্পো হলো  তাতে লাভের লাভ এই যে কমলেশ্বরবাবু গল্প বলার জাদুতে অর্পিতা যথেষ্ট ইমপ্রেসড হন এবং ডিরেক্টর সুযোগের অপব্যবহার না করে তাদের প্রেমের সম্পর্ক-এ  আবদ্ধ করেন। পাবলিক শুরুর দিকে ঘেটে ঘ হলেও শেষে মাখোমাখো প্রেম দেখে চিপসের প্যাকেট সিটের তলায় গুঁজে বেরিয়ে পড়েন।
গল্প এক্সেকিউশন ঝুলে গেলে যে জিনিসটা সারভাইভাল ফ্যাক্টর হিসেবে বেঁচে থাকে তা হলো, কিছু বাঘা অভিনয়। পরানবাবু, রুদ্রপ্রসাদ বাবু, রাজেশ শর্মা, বিদীপ্তা, পদ্মনাভ সাথে গৌরব আর দামিনী বেণী বসু(আসল নাম জানি না) দুঘন্টা জমিয়ে দিয়েছেন।
শেষে, কিসের উত্তর খুঁজতে ঢুকলাম বা কিসের উত্তর পেলাম সেটাই প্রশ্ন হয়ে রইলো। ছোটমামা গম্ভীর মুখে বলেছিলো,"প্রশ্ন আসবেই"।

P.S.ব্যাগে যা নিয়ে এলাম, আগমবাগীশকে আরো বেশি করে জানার আগ্রহ।



Monday, 28 January 2019

ব্যালান্সের চেষ্টা

- ডিভোর্স ছাড়া উপায় নেই রমিতদা। এ একেবারে নাজেহাল কেস। তুমিই ভালো আছো দিব্যি। আপেল খাচ্ছো। কামড়ে খাও, কেটে খাও। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমার জীবনটা শালা কৈফিয়তের শপিং মল তৈরী হয়েছে।

- স্থির হও খোকা। সোমবার তো। চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ্যশ্বাসে আকাশে বাতাসে একটু নেগেটিভ এনার্জি জেনারেট করেছে। এই নে, তুই ও একটা আপেল খা দেখি। কামড়ে খাবি খা। হুইস্কি বের করে ঢাল। দেখবি বেশ একটা স্বাচ্ছন্দ্যময় ওয়ার্ম ফিলিং আসছে। মনে হালকা চাপ তখনও থাকবে। তবে সেটা ব্যালান্সড।
এই যে আপেল এর হাঁকুপাঁকু মাটির দিকে ধেয়ে যাওয়া দেখে, স্যার নিউটন, ইউনিভার্স -এর প্রতিটি কণার মধ্যে এট্ট্রাকশন এর কথা বলেছিলেন। বিয়ে করেননি সারাজীবন। তাই মাখোমাখো আকর্ষণটুকুই দেখেছেন।

- তবেই বোঝো। শালা বিয়ে করেছো কি কেস খেয়েছো।

- বটেই। কিন্তু কেস ভালো। উইলিয়াম থমসন বিবাহিত। টেরটি পেলেন হাড়ে হাড়ে। গ্যালাক্সি-এর ডার্ক ম্যাটার খুঁজে পেলেন। বললেন রিপালশনের কথা। দিলেন বিকর্ষণ এর ব্যাখ্যা। ওদিকে আইনস্টাইন আবার বেলতলা গিয়েছেন দুবার। E=MC2 করতে করতে জিভ দেখিয়ে নেগেটিভ ম্যাসের থিওরি বলেছেন।

- হমমম।

- যেদিকে যাও, কন্ট্রিবিউট করে যাও। লক্ষ্য হবে, ব্যালান্স। আসবে না। তবু চেষ্টা করে যেতে হবে খোকা। থ্যানোস ও চেষ্টা করেছে অর্ধ্যেক এভেঞ্জআর দের হত্যা করে ব্যালান্স আনবে ইউনিভার্স-এ। পারেনি। ভূগর্ভে একটু এদিকওদিক হয়, ভূমিকম্প আসে, কিন্তু নড়াচড়া করে আবার স্থিতিশীলতা মাস্ট। উল্টিমেটলী ব্যালান্সের চেষ্টা। নইলে বাছা খেলাটা ভীষণ বোরিং।

- দাদা, ওই সংকটময় কৈফিয়ত ডিমান্ডের চাপের মুহূর্তে কি আর এসব তত্ত্বকথা মাথায় আসে!

- আনবে। আনতে হবে। আনা প্র্যাকটিস করবে। সময় খুব খারাপ মানি। গুগলে নিউটন সার্চ করলে এখন আর শান্ত-স্নিগ্ধ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট দৃশ্য আসে না। রাজকুমার রাওয়ের আঁতকে ওঠা ছবি আসে। তা বলে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। কণ্ঠ ও বেশি জোড়ে নয়। মনে মনে ভাবো "কফি উইথ করনে" বসে আছো। উস্কানি আসবে। ট্র্যাপ রেডি। পা দেওয়া যাবে না। গান গাও মনে মনে, আমি যামিনী, তুমি শশী হে। লিরিক্স টা মনে না পড়লে, মনে করার চেষ্টা কারো। একসময় দেখবে মেঘ কেটেছে। এইভাবেই চালিয়ে যাও ভায়া। আপেল কামড়ে বা কেটে। 

Friday, 30 November 2018

অশ্বিনীকুমার

রসিকবাবুর পেট ব্যাথা।
কখনো পেটের ডানদিকে, কখনো পেটের বাঁদিকে, আর কখনো একবারে সেন্টার অফ মাস।
সকাল থেকেই থেকে থেকে পেটে হাত দিয়ে,"ওরে ওরে ওরে" করে উঠছেন।
গিন্নী স্পাইডারম্যানের মতো হাত বাড়িয়ে এন্টাসিড সাপ্লাই দিচ্ছেন। বিকেলে "ওরে ওরে ওরে" র ভলিউম সঙ্কটজনক লেভেলে যেতেই পাড়ার ডাক্তারঠাকুরপোকে তলব দেওয়া হলো।

ডাক্তারঠাকুরপো - বুঝলে বৌদি, উল্টোপাল্টা খাওয়ার এতো বাজে স্বভাব রসিকদার। এইটে কন্ট্রোলে না আনলে তো সমস্যা হবেই। লোভ সামলানো কঠিন সাধন, সবাই কি পারে? নিশ্চয় গতকাল কিছু উল্টোপাল্টা খেয়েছিলো, ঠিক বলেছি বৌদি?

রসিকগিন্নী - না মানে  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - ব্যাস ব্যাস আর বলতে হবে না। আপনার চোখের সামনে কি আর খেয়েছে। নিশ্চয় বাইরেই গপাগপ সাটিয়েছে। উফ বৌদি সিঙ্গারাটা কি ভালো বানিয়েছো গো। আর দুটো হবে?

রসিকগিন্নী - হ্যা নিশ্চয়, এইতো নাও। বলছি যে, সমস্যাটা কি বলতো? এরকমতো আগে কখনো দেখিনি। ইদানিং তো ডায়েট করছেন, স্যুপ আর ভেজিটেবল ব্যাস  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - সেকি রসিকদা আর ডায়েট ! ধুস তুমি কি আর খেয়াল রাখছো আপিসে কি করছে? জানো না, মোড়েই বসন্ত কেবিন, এগোলেই পুঁটিরাম তারপর কত কি।

রসিকগিন্নী - এই ওকি, তুমি আঙ্গুল মটকাচ্চো কেন? তোমার আবার গালাগাল করার ইচ্ছে হলো নাকি? এরকম হলেই তো তুমি এরকম আঙ্গুল মটকাও। তোমার কি শরীরে খুব কষ্ট হচ্ছে? মাথা গরম করছো কেন? মানে ঠাকুরপোকে বলো না মাথা ঠান্ডা করে। উঠে বসবে? ও হ্যা বলছে মনে হয়। ও ঠাকুরপো একটু তুলে ধরো তো। কি বলছে বুঝতে পারছি না।

ধরাধরি করে রসিকবাবুকে তুলে ধরতেই রসিকবাবু কেটে কেটে সাড়ে চারটে গালাগাল দিলেন বজ্রনিনাদে। পঞ্চমটার বেলা গলাটা শক্তি হারিয়ে মিনমিন করে ফেলেছে। তাতে আরও রেগে বলতে শুরু করলেন, বেরো বাড়ি থেকে, আমার বাড়িতে এসে সিঙ্গারা গিলছে শুধু না, আমার পেট টিপে টিপে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে দেওয়ার জোগাড় করলো, তার ওপরে আমার নামে আবার উল্টোপাল্টা বকা!! বেরো বাড়ি থেকে এখুনি বেরো বাড়ি থেকে।

ডাক্তারঠাকুরপো - ঠিক আছে ঠিক আছে , ইয়ে এ এ এ এ এই যে রইলো ইয়ে তোমার সিঙ্গারা। খেলাম না পাঁচ নম্বরটা। এভাবে অপমান।

এই বলে পঞ্চম সিঙ্গারাটা ফুল ফোর্সে প্লেটে রাখতে যান ঠাকুরপো। সিঙ্গারাও অমনি ভার্টিকাল এক্সিসে স্পিন করে স্ট্রেইট রসিকবাবুর মুখে।
এহে এহে করে রসিকগিন্নী মুখ থেকে সিঙ্গারা বার করতেই দেখেন রসিকবাবুর মুখে হাসি।

রসিকগিন্নী - এএ ই কি হলো, লাগলো নাকি? হাসছো কেন? পাগল হলে নাকি?

রসিকবাবু- আরে দাঁড়াও দাঁড়াও, সিঙ্গারাটা মুখে ঠেসে ধরতো আবার।

রসিকগিন্নী - এ মানে?

রসিকবাবু- আরে ধরই না। আ আঃ আহা (গপ করে সিঙ্গারা গিলে) কি শান্তি কি শান্তি। আহা আহা কি শান্তি।

রসিকগিন্নী আর ঠাকুরপো চোখ বড়ো করে তাকিয়ে।

রসিকবাবু প্লেটে পরে থাকা ষষ্ঠ সিঙ্গারাটা মুখে তুলে নিয়ে বলতে লাগলেন, অবিচার করেছি এতদিন গিন্নী অবিচার। ডাক্তার আমাকে ক্ষমা করো। তুমি আজ আমাকে মহাপাপ করা থেকে বাঁচালে। সিঙ্গারার ওই টুপটুপে তেল আজ সাতদিন পর জিভে পড়তেই শরীরে কি শান্তি, কি স্বস্তি, কি আরাম। যেন জীবনের আসল মানে খুঁজে পাওয়া। এক বোধোদয়। জানলাম শরীরের প্রতি কি অন্যায় অবিচারটাই না করেছি। জিভ থেকে পেট সবাই অভিমান করছে। বুঝিনি। নেহাতই উপায় ছিল না তাই বিদ্রোহ করেছে। ডায়েট করেছি, স্যুপ খেয়েছি, সিদ্ধ সব্জি চিবিয়েছি। একের পর এক অন্যায়। কি পাপ কি পাপ। নাহ ডাক্তার আর নয়। গিন্নী তুমি অশ্বিনীকুমার হয়ে  ..... ইয়ে আরও কিছু সিঙ্গারা সাপ্লাই দিতে পারো? আভি ইসি ওয়াক্ত ? প্লিস?

Wednesday, 12 September 2018

একটি অদ-ভূত

গল্পের প্লট:
একটি গ্রাম, গ্রামে অন্ধকার, গ্রামে বন-জঙ্গল, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসী, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসীর কুসংস্কার। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে হেজিয়ে দেওয়া অতি পরিচিত ভূত-ভূত প্লট।

গল্পের অদ-ভূত:
একটি মহিলা।

ওনার বৈশিষ্ট্য:
লাজুক মহিলা যার মুখের অর্ধাংশই ঘোমটা ঢাকা। ইনি ওড়েন। হাত-পা না নাড়িয়েই, জাস্ট উড়তে পারেন। ওনার টার্গেট মূলতঃ পুরুষ। তবে আচমকা নিরীহ পুরুষদের ওপর চড়ে বসেন না। যথেষ্ট সতর্কীকরণ বার্তা জানিয়ে তারপরই হামলা করেন। প্রথমে ফিসফিসিয়ে তার নাম ধরে ডাকেন। তারা সাড়া দিলে ধাঁ করে কাঁধের কাছে পৌঁছে যান। এবং তখন সময় দেন। পুরুষটি যদি মুখ ঘোরায়, তবেই তাকে উনি সম্মতি বলে ধরেন। নচেৎ কি করেন, তা জানা নেই। কারণ এযাবৎ ওনার ডাকে সাড়া না দিয়ে কেউ থাকেনি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিধারণকারিনী এই মহিলা ভূত এরপর লেসার পয়েন্টার লাইট ফেলেন ছেলেটির চোখে। ব্যাস। কোথায় যাবে। পুরুষটি আন্ডার হার কন্ট্রোল এন্ড টেকেন ইনটু হার ডেরা। এই ভূতের বিশেষত্ব হলো, ইনি নিজে চব্বিশ হাত কাপড়ে ঢাকা থাকলেও শিকার নেওয়ার সময় পরিবেশের প্রতি যথেষ্ট সচেতনতা দেখান। তাই পুরুষটির জামাকাপড় রিসাইক্লিং -এর জন্য ওখানেই ফেলে শুধু শিকারটিকেই বগলদাবা করে কেটে পড়েন।

ভূত তাড়ানোর উপায়:
গ্রামের সবাই এই মহিলা ভূত এবং তার পদ্ধতি-প্রণালী সম্পর্কে অবগত। তাই তারা প্রত্যেকে বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে, ওই মহিলাকে না আসার অনুরোধ জানিয়ে দেওয়াললিখন করে রাখে। লক্ষণরেখা কনসেপ্ট। মহিলা ভূতটি শিক্ষিত, শিষ্টাচার-সমৃদ্ধ এবং ভদ্র বাধ্য। দেওয়াললিখন থাকলে উনি সে বাড়ির পুরুষদের বাড়িতে থাকা অবস্থাতে শিকার কনসিডার করেন না। কিন্তু রাস্তাতে হাতে নাতে ধরেন।

কেসটা কি:
"স্ত্রী"।
বাড়ির পুরুষদের বিনা কাপড়ে গায়েব করা ভূত তাড়াতেই হবে। এই বেমক্কা রাস্তা-আক্রমণ রুখতে এবং এই অদ-ভূত চিরতরে তাড়াতে যে পরিস্থিতি পরিবেশ তৈরী হয়, তাই নিয়েই সিনেমা "স্ত্রী"। এক বালতি পপকর্ন শেষ করেও গল্পের শেষে মাথা চুলকোতে চুলকোতে হল থেকে বেরোলেন। গল্পের “হরর” হড়হড় করে মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়ল। "কেসটা কি হলো" এই নিয়েই কো-অডিয়েন্সের সাথে আলোচনা করতে করতে ওলা ধরে বেহালা পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। কিন্তু কিছুতেই শেষে কি হলো, কেন হলো, গভীরে গেলেন, আরো গভীরে গেলেন, কিন্তু কেসের তল খুঁজে পেলেন না।
এই হলো "স্ত্রী"।



পুনশ্চ: রাজকুমার রাও, অপারশক্তি খুরানা, অভিষেক ব্যানার্জী এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠি একসাথে এই অদ-ভূতকে আউট এন্ড আউট কমেডি করে তুলতে পেরেছে। ওদের অভিনয় দুর্দান্ত। ডায়ালগ রাইটারকে স্যালুট।

Wednesday, 6 December 2017

লিস্টটা

বাপ মরা মেয়ে তাও আবার বয়স পঁয়ত্রিশ ছুঁইছুঁই। সে মেয়ের বিয়েটা ঠিকঠাক দিতে পেরে উমাজেঠিমা বেশ খুশি। আরও বেশি খুশি এইজন্য যে বিয়ের ১ মাসের মধ্যে মেয়ে তল্পি-তল্পা নিয়ে বাড়ি ফেরেনি। ঘন ঘন ফোন করেনি। যে কবার ফোন করেছে, শশুড়বাড়ির গুষ্টি উদ্ধার করেনি। আর  এতো কিছু করেনি বলেই, উমাজেঠিমা দারুন খুশি।
একদিন সকালে ছেলেকে ডাকলেন ঘরে।
- শোন বাবু, পিলুর বিয়েটা ভালোই হলো কি বল? শোন, একটা লিস্ট করেছি। তার মধ্যে টুকটাক জিনিসগুলো স্বপনকে দিয়ে আনিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু কিছু জিনিস আনতে হবে তোকে। কাল বিকেলের আগে একটু এনে দিস তো।
- সে এনে দেওয়া যাবে মা। দেখি কি জিনিস? লিস্টটা দাও  ..... ও এই টিক দেওয়া গুলো? আচ্ছা। য়্যা? মানে? হুঁকো? গাঁজা? মানে? মা?
- হ্যা আর ওই ইসে ....
- কি?
- ওই মদের মধ্যে কোনটা ভালো হবে রে?
- মানে? তুমি? মদ? গাঁজা? কিসব বলছো?
- কেন?
- মানে তুমি বলছো? তোমার চাই মদ?
- কেন? তুই আকাশ থেকে পড়ছিস যে? কি বলছি যেন বুঝতেই পারছিস না? রোজ রবিবার দরজা বন্ধ করে কি গেলা হয়, জানিনা নাকি?
- এ এই ইয়ে মানে  ..... না মানে আহা আবার আমার কথা কেন  .... আমি বলছি যে তুমি? মদ? মানে  ....
- মানে মানে করিস না তো। কোনটা ভালো হবে বল।
- ওই ওই ইয়ে, হুইস্কি।
- আচ্ছা আনিস ঐটাই। ব্যাস বিকেলের মধ্যেই আনিস কিন্তু। রাতেই বসতে হবে তো?
- (চিৎকার করে) মা গো, বলছি এমন কি হলো গো তোমার? এই রকম করছো। আমাদের কোনো ভুল হলে বলো একবার। কি হয়েছে তোমার?
- আরে, কি আবার হবে? "শিবঠাকুরের মানত" এর এবার রিটার্ন টাইম। শিবঠাকুরের পুজো হবে কাল। ওনার যা পছন্দ দিতে হবে না পুজোর সামগ্রীতে?

Monday, 20 November 2017

তুম তানা নানা

পরিস্থিতি হেবি থমথমে। জেঠুর মুখে কালি লেপে শ্রাবন্তীদি নাকি পালিয়েছে। কালি মুছতে সারা পাড়া উইথ পাড়ার ডাক্তার বাড়িতে হাজির। আমি আর দাদা স্কুল থেকে ফিরে খবর পেয়েই দৌড়ে কালি মোছা দেখতে গেলাম। কালি কোথায়! জেঠুর দিব্বি সেই ফর্সাটি। শুধু খাটে হেলান দেওয়া আর বুকে হাত। পাড়ার ডাক্তার বলছেন,"কালই ইসিজি করিয়ে নিন। কোনো নেশা নেই তো? এখনকার ব্যাথাটা আপনার স্ট্রেস থেকেই। বেশি চাপ নেবেন না" চারিদিকে সবার মুখ কালাপানির কয়েদিদের মতো। নিস্তব্ধতার কম্পেটিশন -এ পাড়ার দিদা-দাদুরা মাঝে মাঝে বাঁধ সাধলেও, মোটের ওপর একটা থমথমে ভাব ইন্ট্যাক্ট রাখতে সক্ষম হচ্ছেন সবাই। মাঝে মাঝে চপাট চপাট মশা মারার আওয়াজ। শ্রাবন্তীদির পালানো তবু সহ্য হবে,  কিন্তু ভয়ানক ডেঙ্গি? সে থেকে কে বাঁচাবে? কুঁইকুঁই করে জেঠু বলে উঠলেন,"কাছুয়া টা জ্বালাও না"
উপস্থিত সকলেই ঝটপট শশব্যস্ত হয়ে কাছুয়া খুঁজতে লাগলেন। পেলেনও। মুশকিল হলো, দেশলাই? নাই। জেঠিমার মুখ-এর পরিস্থিতি যা, তাতে বিনা দেশলাই-তেই আগুন লাগার সম্ভাবনা। তাই জেঠিমাকে কেউ ঘাটাতে চায় না। ঠিক এ অবস্থায়, দাদা বলে উঠল,"আরে দাদু, লাইটার তো তোমার পকেটেই"।

সবার মুখ এখন দাদার দিকে। ঠিক তখনি, কার মোবাইলে বেজে উঠলো,"আগুন লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন তুম তানা নানা নানা"

Monday, 30 October 2017

ফিউচার

ফিউচার

- তাহলে কি.....
- হ্যা আর কোনো ফিউচার দেখছি না। শুধু শুধু একে টেনে বেরিয়ে লাভ কি?
- সবই তো ঠিক ছিল শ্রী। হঠাৎ কি হলো?
- তোমার আর আমার মধ্যে এতো ফারাক। এডজাস্ট করা সম্ভব কিন্তু তার একটা লিমিট আছে তো নাকি?
- খেতে খেতে ঢেকুরটা তো আজকাল একটু কমই হয়। হয় না?
- উফ ওটা তো মাইনর। কুঁজো হয়ে হাঁটা টা আর নেওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সময়-অসময়ে কথার খেই হারিয়ে ফেলা। পরশু রাতে ফোন করতে করতে হঠাৎ চুপ। কত কথা বলে যাচ্ছি আমি একা একাই। শেষে আওয়াজ নেই দেখে কেটে কল করি। তারপর বুঝলাম, ঘুমিয়ে পড়েছিলে। মানে হাউ ডেয়ার ইউ! যাক গে যাক আজ ঠিক করেছি আর মাথা গরম করবো না।
- বলছি যে, একটি বার আমার কথা শোনো। আমি কথার খেই হারাবো না। মানে যেই খেই হারিয়ে যাবার সিগন্যাল পাবে, আমাকে একটু চোখ মেরে দিও বা হাত টিপে দিও। আমি বুঝে যাব। কথার খেই, দড়ি, তার, পাইপ যা পাবো ধরে উঠে আসবো ঠিক মেন লাইনে। আসলে তুমি না থাকলে খেই-খৈ সবেতেই তো জল থৈ থৈ। ঠাঁই পাই কোথা বলতো। আর ঘুমের কেসটার সমাধান আছে।
- আছে?
- হ্যা গো। কলেজেই কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নেবো না হয়। ক্যারাম আর উনিয়নের টাইমটার সাথে এডজাস্ট করে নেবো। স্যার শাস্তি দেবে দিক। বন্ধুরা ত্যাগ করবে করুক। ও দুঃখ তবু সহ্য হবে। কিন্তু তোমাকে ছেড়ে থাকার দুঃখ, সারাজীবন তোর্তুগিলা দ্বীপে একা থাকার মতো হবে গো। তুমি ত্যাগ কোরো না গো। ট্যাগ করে রেখো। পিনপোস্টের মতো।
- প্লিস। রাস্তায় মেয়ে দেখলেই যে চোখটা ড্যাবডেবিয়ে বেরিয়ে আসে। জিভটাও। তার বেলা? ঐটাই মেন রিজন। আমি তো আর গরু চড়াতে তোমার সাথে হাঁটি না যে সারাক্ষন তোমার দিকেই নজর রাখবো। আর কি ইরিটেটিং! তুমি একটা পারভার্ট। বিকৃতবুদ্ধি। নাহলে রাস্তায় মেয়ে দেখে এরকম করো!
- বটেই তো। বটেই তো। গরু চড়াবে কেন খামোকা। কিন্তু তুমি তো পয়েন্টটাই বোঝোনি এতদিন আর আমাকে ভুল বুঝে এসেছো, এহ হে এহ হে এহ হে।
- কিসের পয়েন্ট? দাঁত বার না করে বলে ফেলো।
- ব্যাপারটা হলো যে, দ্যাখ তুমি হলে আমার রত্ন। মানে তোমাকে পেয়ে আমার সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে। মানে তুমিই আমার ডেসডিমোনার সুরেলা গলা, তুমিই আমার "হামদাম সুনিও রে", তুমিই আমার "টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন, টু ফোর ফোর ...."
- একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেব কিন্তু, ভনিতা না করে বলবে?
- ঐটাই তো মানে সংক্ষেপে এই যে, তোমাকে সাথে নিয়ে হাঁটি যখন, ওরা দেখনি কিরকম হাঁ করে থাকে!! তাই ওদের আমি ইয়ে মানে....
- কি বলো?
- ওই মুখ ভেঙ্গাই। জিভ বের করে, এ এ এ এ। আর চোখ আর জিভের কানেক্শনটা তো জানোই। জিভ বেরোলেই দেখবে চোখটা বড়ো হয়ে যায়। ওই "জিম ক্যারি" ইন "দি-মাস্ক" এর মতো আর কি। কি যে প্রশান্তি কি বলবো তোমায়।
- য়্যা মানে? ওরকম বাঁদরের মতো?
- এএএই এক্কেবারে ঠিক বলেছো। বাঁদরের মতো ভেঙ্গিয়ে সারা পৃথিবীকে জানাতে চাই,"পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি, ফিং দিয়া দিই তিন দোল, আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা  ...."
- আচ্ছা আচ্ছা। বুঝেছি।
- বুঝেছো?
- হুঁ।
- (ভয়ে ভয়ে) কি?
- একটু এডজাস্ট নাহয় করেই নেবো। ছেলে তুমি মন্দ না।

Friday, 18 August 2017

প্রতিযোগিতার নাম হলো .....

আরে ভায়া, বিকেলে পারফরম্যান্স, হ্যা হ্যা অন স্টেজ। তা সেলেব্রিটি সময়ের একটু আগেই এসে পড়েছেন। এসেই লাজুক মুখে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে একটু রেস্ট নেওয়ার প্রস্তাব রাখলেন। একে তো ওই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি তায় আবার জাস্ট একটু "বিউটি স্লিপ" এর রিকোয়েস্ট। কোনো অসুবিধা তো হয়ইনি। বরং আগে এসে পড়াতে স্টেজে ওনার সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিয়ে কোনো রকম চিন্তাই রইলো না। আপ্লুত হয়ে ক্লাব একটা বেঞ্চ ইসিলি এরেঞ্জ করলো। উনিও দিব্বি ওতেই ভালোভাবে এডজাস্ট করে নিলেন। একটু রেস্ট চাই বৈকি। যতই হোক পারফরমান্সটা তো তাতে আরও জমবে, কারণ শুনেছি ঘুমলে নাকি উনি নাকি আরও বিস্তারিত হন! সেও চাক্ষুষ দেখার সুযোগ রইলো। মানে একেবারে জমে দই .... মানে হতো। জাস্ট একটা মাইনর প্রব্লেম। উনি যখন সবেই বেঞ্চে নিজেকে বেশ কমফোর্টেবল করে, হেমা মালিনীর মতো ড্রিমগার্ল চোখটা বন্ধ করবেন, ব্যাস ..... ওনার মালিক হাজির! ভাবুন, ওই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি হয়েও ওনার ওপর হম্বিতম্বি করার এক মালিক আছে। কি দুঃখের কথা বলুন তো। তবে কি, ওনার এই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি হওয়ার পিছনে ওনার মালিকেরই সমস্ত অবদান। তাই কিছু বলারও নেই। সেলেব্রিটির পুষ্টি-তুষ্টি-ইস্টি এমনকি সেলেব্রিটির সৃষ্টিও ওই মালিকেরই দয়ায়। তাই আর মুষ্টি বাগিয়ে ধরা হয়না মালিকের ওপর। মালিক লোকটা এমনি ভালো, কিন্তু এই সময় বিশেষে নিজেকে এমন প্রাধান্য দেন যে ওই সেলেব্রিটি ব্যাটাকে একদম পাত্তা দেননা। এমনিতে মালিক-সেলিব্রিটি এক আত্মা এক প্রাণ। কিন্তু কোথাও পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেলেব্রিটি আগে পৌঁছন। তা এই যে সেলিব্রিটি রেস্ট নিতে যাবেন বেঞ্চে, মালিক দেরীতে পৌঁছলেন। পৌঁছেই মালিক উইদাউট নকনক, ঠেলে গুঁতিয়ে ওই জায়গা নিজে দখল করলেন। বেদম ঠেলা খেয়ে সেলিব্রিটি বেচারা চোখ খুলে হড়কে একেবারে ঝুলে পড়ে-পড়ে। ভাগ্যিস ক্লাবের মেম্বারদের মধ্যে একজন ঘটনাটা একদম সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেয়েছে, সে তাড়াতাড়ি এসে সেলিব্রিটিকে দুহাতে তুলে ধরে। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষন বসে থাকবে। চিল চিৎকার করতে বাকিরাও এসে পড়ে। ওর ওই অবস্থা দেখে চটপট একটা তক্তা জোগাড় করে। তাতে এইযাত্রা রেহাই। আপাতত ওটাই ঠেকিয়ে রাখা। মালিক তো ততক্ষনে বেঞ্চে স্বপ্ন-সাগরে। গোলু-সেলিব্রিটি তক্তায়। ক্লাবের উদ্যোক্তারা আপাতত বিকেল অব্দি পর্যায়ক্রমে টহল দিচ্ছে। তক্তা সরলেই মুশকিল। মালিক-সেলিব্রিটি তো নিশ্চিন্তেই আছেন মনে হচ্ছে। ও আপনাদের প্রতিযোগিতার নামটাই বলা হয়নি, নাম হলো "ভুঁড়ি কত ভারী"।

Wednesday, 26 July 2017

এ জগতে হায় সেই বেশি চায় যার আছে ভুরি "ভুঁড়ি"

পূজোতে পুরুষদের জামাকাপড় কেনা? তার দ্বায়িত্ব ওনাদের। বৌ-দিদি-বৌদি মিলে চললেন শপিংএ। "XL" এ জাত যাবে। "L" তাদের কাছে তবু সহনীয়। কিন্তু ওই বিবাহিত পুরুষদের মধ্যপ্রদেশ যে মাত্রায় প্রভাবশালী, তাকে কি আর ওই এল-ফেলে আয়ত্তে আনা যায়?

জাস্ট একটা গর্ভাশয়! জাস্ট! ঐটা নেই বলেই যত তাচ্ছিল্য? দিলেই কি তা গর্ব ভরে গর্ভে স্থান দিত না পুরুষ? বীর হবার চান্সটুকুই দেওয়া হলোনা পুরুষদের। কিন্তু তবু নিজের শুধুমাত্র নিজের একান্ত পরিশ্রমে যে পরিমান মাল-মশলা ঠুসে টুসটুসে ভুঁড়ি টুকু বানিয়েছে তাকে একেবারেই পাত্তা না দেওয়া এবং রীতিমতো হেয় করা কি ভালোমানুষের কাজ? "L" মার্কা জামা-কাপড় কিনে এনে একেবারে বোল্ড এন্ড উন্ডারলাইন করে দেখানোর মধ্যে যে মানসিক অত্যাচার, তা কি সুন্দরীদের মানায়? সবথেকে দুঃখের কথা হলো, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও সময়মতো ঠুকে দিয়েছেন, এ জগতে হায় সেই বেশি চায় যার আছে ভুরি "ভুঁড়ি"। কি আর চাইলো পুরুষ! সবই তো চাওয়ার আগেই নারী হিসেবে টপাস ছাদনাতলাতে।
সেই নারীরাই এক হলে বরের ভুঁড়ি নিয়ে তোলপাড়।
আর ব্যাপারটা শুধু কি মানসিক-এই?
পার্থবাবুকে রোজ সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠানো? সেটা? জগিং করতে গিয়ে ওনার ওই ইয়ে টা যে ক্লিয়ার হয়না, সেইটা কে বোঝে?
ত্রিলোকবাবুকে কি একটা মেশিন এনে দেওয়া হয়েছে, সেটা বেল্টের মতো জাপ্টে নিতে হয়। তারপর সুইচ অন। তখন মনে হয় যেন কেউ ওনার সাথে "রজনীকান্ত" "রজনীকান্ত" খেলছে। আর রমেনবাবুর? ওনার গল্পটা শুনে যান। লুচি আর রসগোল্লা গিলে রমেনবাবু শুয়েছেন। হঠাৎ পেটের ওপর হেব্বি চাপ। ঘাড় উঁচিয়ে দেখেন, বৌ পেটের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন চারটি খন্ডস অফ রবীন্দ্ররচনাবলী, তারপর রেখেছেন নিজের বাহুবলী। ওই অবস্থায় যখন রমেনবাবু শুধু মুখ হা করে কিছু বলার চেষ্টা করছেন, বৌ ওনার দিকে তাকিয়ে ভারতনাট্যম চোখ নাচাচ্ছেন। ভেবে দেখুন অবস্থাখানা।

Wednesday, 19 July 2017

পোচ্চন্ড নেশা

এসেছি ..... আমি এসেছি .......দূর থেকে বহুদূরে- পথে পথে ঘুরে ঘুরে আমি এসেছি।
নেশা নিরাময় করাতে চাই ডাক্তারবাবু। পোচ্চন্ড নেশা আমার। গাঁজা-চরসের নেশা নয়। ওসব তো সেই বাচ্চাবেলার জিনিস। আর ড্রাগ শুনলেই ড্রাগনের ভয়। সেই একবার ড্রাগন-ওয়ার্স দেখতে গিয়ে সিনেমাহলে বন্যাপরিস্থিতি তৈরী হলো, সেই থেকে ড্রাগ-ওনে অনীহা। হেরোইনটা মমমম না ঠিক নেশা বলবোনা। ওটাও আয়ত্তে। আসলে আমার হিরোইনে নেশা। পোচ্চন্ড। তা সে যেকোনো হিরোইনই হোকনা কেন। সে নেশা বলবো কি মশাই, কি দুলুনি কি দুলুনি। সিনেমাহল থেকে আর বাড়ি ফিরতে পারি না। এই মনে হয় সামনে নূতন। আপনি কি নতুন পড়লেন? উফফ আপনাদের এতো তাড়াহুড়ো না। নতুন নয়, নতুন নয়, নূতন, নূতন। ওই "দিল কা ভমর করে পুকার", পাড়ায় হুল্লোড় করেছিলাম, সারা পাড়া বালতি নিয়ে জল ঢালতে তবে সৎবিৎ ফেরে। আবার কখনো মনে হয় সামনে দীপিকা, ওই পাদুকোন। হ্যাঁ। "কাশ্মীর ম্যা, তু কন্যাকুমারী", নেশার চোটে সেবার তো ফুলদাদুর বিয়ের ধুতিই পড়ে পাড়া মাত করেছিলাম। তবে সেবার নাকি সবাই মজাই পাচ্ছিলো। ওই যেই ধুতিটা গুটিয়ে হাঁটুর ওপর তুলতে গেছি, ব্যাস "ও বাবাগো" বলে আবার জলের বালতি। পরশু একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। করিনার ওই রিকুয়েস্ট আর ফেলতে পারিনি। হ্যা মশাই কাপুর। ওনার ফটো কিনে বুকে চিপকে নিয়েছি নেশার ঘোরে। সে অব্দি তবু ঠিক ছিল। ফেভিকলটা যে পকেটেই সে খেয়াল ছিলোনা। ও নিয়েই বসে গেছিলাম কোমোডের ওপর। ব্যাস। আঁটকে গেছি। কিছুতেই উঠতে পারিনা। সেবার আর জল ঢালতে হয়নি। ওই ল্যাজে গোবড়ে কেসে নেশা এমনিই কেটে গিয়েছিলো।
তাই মনে হলো সিম্পটম গুলো সিরিয়াস। কেস বেশ ম্যাচুওর্ড। তাই প্রফেশনাল হেল্প নিতান্তই দরকার বলে মনে হচ্ছে। তা বলছি যে, আপনার স্পেশালাইজেশন বোধহয় মদ-এর ওপরেই। ওই পি কে তারপরই আপনার বিশ্বাস। আর তাছাড়া ডার্ক রেড, বোল্ড লেটারে "মদ ছাড়ান" .... তাই দেখেই গেস মারলাম। কিন্তু আমার কেসটা তবু আপনাকেই নিতেই হবে। আপনি পারবেন। আমি জানি।
কেন?
1. আপনার নামে আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস।
2. লোকেশনটাও বেশ সুইট্যাবল। গেস্ট হাউসে নিরিবিলি-বিবৃতিতে বেশ দ্বিধাহীন বোধ করবো।
3. বৃহঃবার টাও সুবিধাজনক। ঐদিন আমার নেশা লাগে না। শুক্কুরবারে নতুন রিলিজ থাকে যে।
খুব সমস্যায় আছি মশাই। বাঁচান।

ইমোজি না ইমোবাবু

- মে আই কাম ইন? 
- ইয়েস। সিট্ ডাউন প্লিস। আপনার বায়ো-ডাটা তো খাসা মানে বেশ ইম্প্রেসিভ। 
- বলছেন? ওই ইয়ে সবই ন্যাচারাল-ট্যালেন্ট বলতে পারেন। 
- সে আর বলতে। বলছি এখুনি একটু হেসে দেখাতে পারবেন? ওয়েট। যে সে হাসি নয় কিন্তু। ওমরেশ পুরি টাইপ?
- কি আর বলবো স্যার? হে হে ওটা তো আমার বাথরুম স্টান্ট। 
- য়্যা? সেকি? আর উৎপল দত্ত "হীরক রাজা" মার্কা?
- হে হে ঐটাও। খুবই সহজ। মুখ আধ-চাপা, বেরিয়ে থাকবে দাঁত শুধুমাত্র ওপর পাটির চারটি ইন্সাইজর। ব্যাস।
- বটে? আর কানন দেবী কান্না?
- একটু ডিফিকাল্ট ছিল শুরুতে, ডুকরে কান্না টাইপ তো, তা এখন করে ফেলতে পারি ঐটাও। আসলে শুধুই তো এক্সপ্রেশন। ভয়েসের ব্যাপারটা নেই বলেই ব্যাপারটা সহজ আর কি। সুচিত্রা সেন "সপ্তপদী" মানে চোখ ছলছল কিন্তু গাম্ভীর্য্য, মাধবী "ছদ্মবেশী" মানে মুখ বন্ধ এক গাল হাসি, রবি ঘোষ "ধন্যিমেয়ে" মানে উচ্ছে-তেতো মুখ করা পুরোহিত। এই গুলোও রপ্ত।
- আপনি তো মশাই ফাটিয়ে দিয়েছেন। এতো ট্যালেন্ট নিয়ে এতদিন কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলেন? আপনার আগের জনেরা, যারা সব ইন্টারভিউ দিতে এলো, সব কটা যেন হিমেশ রেশমিয়া, পাথরের সাথে কম্পেটিশনেও হেরে যাবে। যাক গে যাক। শুনুন চাকরি আপনিই পাচ্ছেন। আপনার গাল গুলো একটু শুধু ভরাট করতে হবে এই যা। সে একটা ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিতে হেল্প করবে আমাদের টীম। এখন অনেক কাজ। আপনার সব ইমোশন প্রিন্ট করতে পাঠাতে হবে। আমাদের সোশ্যাল নেটওয়র্কিংএ লঞ্চ করতে হবে। সে নিয়ে একটা প্রমোশন ইভেন্ট এরেঞ্জ করতে হবে। টু মাচ ওয়ার্ক। ফেসবুকের সাথে কম্পিটিশন বাবা, যে সে কথা! তবে বাঙালি এক্সপ্রেশন-এর সাথে ওরা পাল্লা দিতে পারবে না। হে হে হে হে। ও আর একটা কথা, আপনার নামটা ....
- ইমোজি। বা স্মাইলি।
- উহু। বদলাতে হবে। বাঙালি এক্সপ্রেশন্স। বাঙালি ভাব-আবেগ থাকবে আর নাম ধার নেবো নর্থ ইন্ডিয়ানদের থেকে? ইমো "জি"? ওসব "জি" "ফি" চলবে না। বাবু চলতে পারে। ইমোবাবু? বা ইমো-মশাই? শর্ট-এ ইমোশাই। শব্দে বেশ একটা লাজুক ব্যাপার আছে। কি বলেন?

জাগ্গা জাসুস

বলছি, বয়স কত? হাড়ের নয়। মনের? কিভাবে মাপবেন?
"জাগ্গা জাসুস" দেখে আসুন।
*****প্রথমেই বিধিমূলক সতর্কীকরণ, এলেখা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। একে বলা যায় "ধিতাং" লেখা।
"এহেড অফ টাইম" "নট ইভেন ইন্টেলেকচুয়াল" "বোগাস" "বিলো অ্যাভারেজ" ইত্যাদি শুনেই বা পড়েই গিয়েছিলাম "জাগ্গা জাসুস" দেখতে।
ফোর্থ ডে, লাস্ট শো।
ছবির শুরুতেই একটি বাচ্চার গলা, গানের মাধ্যমে জানাচ্ছে ডু'স এন্ড ডোন্ট'স। ওই মোবাইল-ফেসবুক ইত্যাদি বন্ধ রাখা, নাহলে ফিল্মে যা খিচুড়ি হয়েছে, সেটা গুলিয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। শুনে মুচকি হাসি এসেই গেলো অজান্তে। আরে সিরিয়াসলি। অনুরাগ বাসু আমার খুড়তুতো কাকুর জ্যাঠতুতো জ্যেঠুর মামাতো মামা বলেই কি বলছি নাকি? সিরিয়াসলি এলো। চুপচাপ ইন্টারনেট অফ করলাম। মোবাইল সাইলেন্ট করলাম।
ক্যাটরিনা গল্পকার, বাচ্চাদের কমিক বই থেকে গল্প শোনাচ্ছেন। কখনো কথা কখনো গান। গল্প নিয়ে যাচ্ছে এক সেট থেকে অন্য সেটে। সেখানেও গান-নাচ। বুনিয়াদে আসলে রহস্য উদ্ঘাটন। নামেই সেটা স্পষ্ট। "জাসুসি" তো থাকছেই। মোট তিনটে অনুসন্ধানী বা গোয়েন্দা গল্প, পাশাপাশি জাগ্গা-গোয়েন্দার নিজস্ব জীবন কাহিনী নিয়েই এই মুভি। মোটামুটি সবাই এটিকে "মিউজিক্যাল ফিল্ম"ই বলছেন। কারণ সংলাপ-এর বেশিরভাগই গানে গানে। তিন ঘন্টার সিনেমাতে তাহলে কত গান হতে পারে, কল্পনা করুন। অদ্ভুতভাবে অসংখ্য সে গানের সবকটাই আমার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অদ্ভুত নয়? কন্সিস্টেন্সি রাখতে পারাটা কি চাট্টিখানি কথা?
তা হঠাৎ খামোকা সব গানে-ভুবন-ভরিয়ে-দেব কেন? লজিক হ্যায়। "জাগ্গা জাসুস" তোতলা, মানে একটু নয়, বেশ ভালো রকম। গানে গানে কথা বললে ব্যাপারটা নাকি স্মুথ হয়ে যায়। ওই মিউসিক ডিরেক্টর প্রীতমের নিজস্ব এক্সপেরিন্সও তাই। ওর ইন্টারভিউতে এ কথা বহুবার শুনেছি।
যদিও খুব কম জায়গায়, তথাপি, "গলতি সে মিস্টেক" হয়েছে। "জাগ্গা জাসুস" ভুলে গেছে সে তোতলা আর ফ্লুয়েন্টলি কথা বলে ফেলেছে। আমি ব্যাপারগুলো ইগনোর করেছি। এ ঘটনা এক্সসাইটমেন্টে হতে পারে বলে ধরেছি। হয় জগ্গার এক্সসাইটমেন্ট বা হয়তো অনুরাগ বাসুর।
হাতি-জিরাফ-বাঘ-গুহা- হিরোর চুলের স্টাইল সবই এলো পর্দায়। তাতে একটু বেশ টিনটিন এ ফিরে যাওয়া হলো। পুরুলিয়া, আসাম হয়ে, মরক্কো পৌঁছলো। আসামের বিহু হলো। "নাইফ থ্রো" হলো। "গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা" হলো। "শুন্ডি" হলো। কলকাতার "ইয়েলো ট্যাক্সি" হলো। “শাশ্বত-রজতাভ” হলো। মানে বাঙালিদের জন্য এক্সট্রা মাখো-মাখো, যেটা অনুরাগ বাসুর মুভিতে না পেলেই বরং মন খারাপ, সে সব একদম জোরকদমে ছিল। আর সেই একই কারণে অবাঙালিরা বেশিরভাগই গালি দিয়েছেন। গানে গানে গল্প বলে অনেকেই হাই তুলেছেন। হাতির মাথার ওপর চেপে বিয়াল্লিশ তলা থেকে ঝাঁপ মেরে আবার লাফ দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে কাঁখে করে সোজা বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া টাইপ "সিম্পল" সিনেমাটিক কিছু নেই বলেছেন। তার ওপর আবার বাঙালিদের নিয়ে বাড়াবাড়িটা, "আগুনে ড্রপিং ফ্রেশ ঘি"। আমার কথা হচ্ছে, আইডিয়াটা এদেশে নতুন। সেইটা মানতে হবে ভায়া। শুধু একটাই ইয়ে ইয়ে ব্যাপার। বেশ কয়েকবছর আগে একটি হলিউড মিউজিক্যাল ফিল্ম "দি সাউন্ড অফ মিউসিক" দেখেছিলাম। সেটি সাধারণ একটি গল্পকে অসাধারণ করে তুলেছিল শুধুমাত্র মিউসিক ছিল বলে। মিউসিকের সব লিরিক্সের মানে বোঝা না গেলেও গল্পটা সিম্পল বলে কোনো ঠোক্কর খেতে হয়নি। এবার "জাগ্গা জাসুস" যেহেতু ডিটেক্টিভ তাই প্রতিটি শব্দ-বাক্য পরিষ্কার শোনা বা বোঝার প্রবল চেষ্টা ছিল, তা যাচ্ছিলোনা মিউজিকের জন্য বা ছন্দের জন্য বা স্পীডের জন্য বা আমার ব্রেনের সিগন্যালের জন্য। ঐটাই যা.... কিন্তু তা রসে ব্যাঘাত ঘটায় নি। বরং দুটো গান বেশ মনে ধরেছে। সোশ্যাল মেসেজ দেওয়া,"কিষান সুইসাইড কর রাহা হ্যায় তো হামারা কিয়া, হাম তো নিম্বু মির্চি লাগাকে সেফ হ্যায়।" অন্যটি,"জিনা তো উনহিকা জিনা কাহালায়া, জোভি বিনা চু চা কারকে, খাকে-পিকে চলে গায়ে।"
না না এতো কিছুর পরেও এটা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। আসলে লোকজন বলছে প্রচুর জায়গা থেকে নাকি কপি-টপি হয়েছে। আমার কাছে যুক্তিগুলো একেবারেই ধোপে টেকার মতো না। বাঙালির ইমোশনগুলোকে ইঙ্গিতে রেখেছেন সারা সিনেমা জুড়ে, হ্যা তা বলতে পারেন। তাতে তো বাঙালিদের খুশিই হওয়া উচিত। বাঙালিমুভির যা হাল ৮০-এর পর থেকে, এই অনুরাগ, প্রীতম এরাই তো আবার একটু হাল ধরছেন। বাঙালিদের তাতেও প্রব্লেম। রাবণের চেয়ে বিভীষণ মার্কেটে বেশি। যাই হোক রিস্ক নিয়ে এতো সুন্দর একটা প্রজেক্ট করার জন্য পুরো টীমকে হৃদয়মার্কা ইমোজি।
আর ইয়ে সৌরভ শুক্লা ভদ্রলোককে আবারো প্রণাম।

Tuesday, 4 July 2017

জিরো

 -কিরে মুখটা ওরকম করে আছিস কেন?
- মামা, পাউট প্র্যাক্টিস করছি। এ এ এ মমম ঐটা হলো পাউট। সেলফি নিতে লাগে, আবার উত্তমবাবুর মতো গোল গোল ধোঁয়া ওড়াতেও লাগে।
- তোদের পাউটে ইয়ে..... ও সব জিরোর খেলা।
- জিরো? সেটা কোথা থেকে এলো।
-তুই একটু জিরো বাবা। আমি বোঝাচ্ছি। উত্তম বাবুর মুখ থেকে কি বেরোচ্ছে? জিরো, মানে শূন্য. বুঝলি?
- ও।
- ইয়েস ও। জানিস কি আদিম টাইপরাইটার-এ দেয়ার ওয়াস নো জিরো। জিরোর কোনো লিখিত গুরূত্ব সেখানে নেই। ইংরিজির o দিয়ে কাজ হয়ে যেত তো।
- ও। তা আজকাল তাহলে জিরোর আলাদা বাটন কেন?
- অভিমানী জিরোর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস হওয়াতেই..... তাছাড়া o কিরকম ওয়েইট গেইন করেছে দেখেছিস? ক্যালোরি নিয়ে ওর চিন্তাই নেই। ওদিকে জিরোকে ওসব নিয়ে ভাবতে হয়। পৃথিবীর শুরু এবং শেষএর মাঝে আছে শূন্য। সাংঘাতিক রিস্কে। তাই তো একটা স্লিম o হিসেবে জিরো। আবার অঙ্কের হিসেবে যা নাল, পাতি ভাষায় বাতিল।
-মানে কোনো দাম নেই?
-আছে। দৃষ্টিভঙ্গির বদলে। এই যে দূরদেশে ফোন করবি? শুরুতেই একটি শূন্য ছাড়া সে নম্বর ডায়াল করা অসম্ভব। মানে জিরো হলো শুরু। আবার হিমাঙ্ক হিসেবে দেখ। শূন্যতেই তরল থেকে কঠিনে পরিণত হওয়া। মানে ঘুরে দাঁড়ানো অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
-মানে পসিটিভিটি?
-মমম মানে নেগেটিভিটির আগের অবস্থা। যেমন অণু-পরমাণুর খেলা। নিরপেক্ষ, প্রশমিত, উদাসীন। এক তুরি নয়, ওই এক শূন্যমার্কা ফুঁ ই দিতে পারে সব লন্ড-ভন্ড করে। এই যে কথায় কথায় "ও" বলছিস। মানে সম্মতি। আবার সভ্যতার ভাষায় সম্পর্কশূন্যতাসূচক অবস্থার ঠিক আগের মুহূর্ত। মানে একেবারে নেই তা নয়, আছে। আবার মুহূর্তে তা নেই হযে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। ওই সম্ভাবনা। ঐটি হলো শূন্য। শূন্য মানে সম্ভাবনা। 


Thursday, 8 June 2017

আজকের বিশেষ খবর

আজকের বিশেষ খবর:
তারাতলার কাছে মাঝরাস্তায় বসে আছেন এক ভদ্রলোক। বাবুই পাখির মতো শুধু হাত দিয়ে কপালে আঘাত হানছেন। চারিদিকে লোক জড়ো হয়ে গেছে। বাস এগোতে পারছে না। পুলিশও বমকে গিয়েছে। অটো-ট্যাক্সি-সাইকেল সবাই অত্যন্ত বিরক্ত। তারাতলার ট্রাফিক আবার সমস্যার মুখে। আমাদের প্রতিনিধি পৌঁছে গিয়েছে ইতিমধ্যেই, প্রত্যেকবারের মতোই সবার প্রথম। জনগণের খবর নেয়, জনগণকে খবর দেয়।
- হ্যালো ঋক, হ্যালো, শুনতে পাচ্ছো, হ্যালো, কোনো যান্ত্রিক গোলমালে বোধহয় লাইনটি কেটে গেলো। আবারো জানাই, তারাতলার কাছে মাঝরাস্তায় বসে আছেন এক ভদ্রলোক। বাবুই পাখির মতো শুধু হাত দিয়ে কপালে আঘাত হানছেন.... হ্যালো ঋক, হ্যালো, শুনতে পাচ্ছো … আবারো কোনো যান্ত্রিক গোলমাল … হ্যালো … আবারো জানাই, তারাতলার কাছে মাঝরাস্তায় বসে আছেন …ওহ এই তো যোগাযোগ করা গিয়েছে ঋকের সাথে। ঋক, আমাদের জানাও কি অবস্থা ওখানকার।
- হ্যালো নবনীতা, হ্যালো হ্যালো নবনীতা
- হ্যালো ঋক, হ্যালো, আমরা শুনতে পাচ্ছি তুমি বোলো।
- ধুস মাইকটা লাগা ঠিক করে এদিকে। ইয়্যা ও ও হ্যালো নবনীতা … হ্যা শুনতে পাচ্ছো … হ্যা ভদ্রলোক এখনো মাথায় হাত দিয়ে, কিছুই বলছেন না। ক্যামেরা নিয়ে যাচ্ছি তার কাছে। এই যে শুনুন, আপনাকে সমস্ত বাংলা দেখছে, বলুন কি ব্যাপার আপনার। এভাবে কেন বসে আছেন? এই যে শুনছেন?
ভদ্রলোক (ক্যামেরার দিকে এগিয়ে এসে) - য়্যা? ক্যামেরা, সবাই দেখতে পাচ্ছে? চৌরাস্তার সবাই? আমাকে শুনতে পাচ্ছে?
- হ্যা নিশ্চয়। আপনি লাইভ। দর্শকদের জানান, সবাই উদগ্রীব হয়ে বসে আছে।
- ও, (ক্যামেরার দিকে আরও এগিয়ে) ওরে ওই হারামজাদা ঘনা, ওরে ওই ঘনা শুনতে পাচ্ছিস? ঘনেশ্বর ঘোষ? শুনতে পেয়েছিস? তুই পালিয়ে পাড় পাবি না রে, বুঝলি? তুই ব্যাকস্ট্যাব করলি রে হারামজাদা? আমার জীবনের একমাত্র খুশি তুই এভাবে ছিনিয়ে নিলি? একমাত্র খুশি। পাপ লাগবে তোর পাপ। তোর বিবেক কাঁদলো না রে ঘনা? তুই মানুষ? আমি কেস করবো। আমি সুপ্রিম কোর্ট অব্দি যাব। শেষ দেখে ছাড়বো।
- ও নবনীতা, দেখতেই পাচ্ছো। কিছু মারাত্মক হারিয়েছেন ভদ্রলোক। আচ্ছা আচ্ছা, আমাদের একটু খুলে বলুন প্লিস মিস্টার ঘনা কে? উনি কি আপনার পরিচিত? উনি কি করেছেন? চুরি? ডাকাতি? আপনার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে? আপনার বৌয়ের প্রতি কুনজর? আপনাকে কি আঘাত করেছে? আপনি কি রুলিং পার্টির? মিস্টার ঘনা কি বিরোধী দলের.....
- আরে দাঁড়ান মশাই, কোথা থেকে কি টানছেন? আমার গিন্নির রান্নার স্বাদ বুঝলেন এক্কেবারে স্বর্গসুখ। আজ টিফিনে ছিল লুচি আর ইয়ে মটন। শালা ঘনার বাচ্চা সবকটা লুচি একেবারে থরেথরে সাজিয়ে রেখে সমস্ত মটন সাবাড় করে হাওয়া? এই দেখুন টিফিন বক্স, দেখে বোঝার উপায় নেই, যে এতে কখনও মটন ছিল বলে। নেহাৎ আমার কাছে প্রমাণ আছে, এই যে গিন্নির এসএমএস, "আজ মটন দিলাম আমি, অনেক অনেক হামি”.

- (ঢোক গিলতে গিলতে) য়্যা? ঠিক ঠিক আছে, নমস্কার, ক্যামেরায় ভ্যাবলার সাথে আমি ঋক, জনগণের খবর নেয়, জনগণকে খবর দেয়। 

Tuesday, 23 May 2017

রেসিপি অফ ডেলিসোপ

উপকরণ:

  • ·      স্কুললেভেল মেয়ে (প্রেফারেবলি বোকা বোকা গোল মুখ এবং ফর্সা), কলেজেলেভেল ছেলে (প্রেফারেবলি পেশীবহুল, বাকি যা হোক হলেই হলো),
  • ·      দুটি পঁচিশের কাছাকাছি মহিলা (একটি অবশ্যই বোকা বোকা গোল মুখ, আরেকটি অবশ্যই সুন্দর লম্বা এবং প্রেফারেবলি ফর্সা মুখ),
  • ·      পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি ভদ্রলোক (প্রেফারেবলি পেশীবহুল, বাকি যা হোক হলেই হলো),
  • ·      জনপ্রিয়মুখ মাঝবয়সী একজন মহিলা এবং পুরুষ



প্রণালী: 


স্কুললেভেল বোকা বোকা মুখ মেয়েটি ও পঁচিশের কাছাকাছি গোল মুখ মহিলাকে বেশ কিছুক্ষন ভাসতে দিন। 
পঁচিশের কাছাকাছি সুন্দর-লম্বা-ফর্সা মুখ মহিলাকে পর্দার আড়ালে থেকে নাড়াচাড়া করতে দিন। 
দেখবেন স্কুললেভেল বোকা বোকা মুখ মেয়েটি ও পঁচিশের কাছাকাছি গোল মুখ মহিলা বেশ ফুটতে শুরু করেছে। 
বেশ ঘন হয়ে এলে পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি ভদ্রলোককে মাঝে মাঝে ওর মধ্যে ছিটিয়ে দিন, সাথে সাথে নাড়তে থাকবেন। 
দেখবেন যেন ভালো করে ঘেঁটে যায়। 
বার বার খালি জল ঢালুন। 
(অ)রুচিমতো কলেজেলেভেল ছেলেটিকে এবার মেশান। 
বাসি গন্ধ বেরোনো অব্দি চালিয়ে যান। 
বাসি গন্ধ যখন বেরোতে সবে শুরু করেছে, মানে টেকা-দায়ের ঠিক পৌনে ছয় সেকেন্ড আগে, কলেজেলেভেল ছেলেটিকে চিমটে দিয়ে আলাদা করে বের করে এনে টেনে-হিচড়ে-তুবড়ে-তাবরে রংবদল করে আবার মেশান। 
বেশ খানিক মেশানোর পরে শুধু নাড়িয়ে যান। 
জনপ্রিয় মাঝবয়সী মহিলা এবং পুরুষকে হাটের মাঝে হাড়ির মধ্যে বসিয়ে দিন। ওতে স্বাদে কিছু হেরফের হবে না। শুধু গার্নিশিং এর জন্য। আর ওটাই শেষ সাময়িক বিকল্প।
অতঃপর ল্যাজেগোবরে হচ্ছে বুঝবেন যখন, আর কোনো উপকরণও হাতে নেই, ব্যাস গ্যাস নিভিয়ে দিন। 
রান্না আপনার শেষ হলো। 
এবার পরিবেশন করতে করতে চুপচাপ কেটে পড়ুন। 

Wednesday, 3 May 2017

"কায়নাত" কি "কৌশিশ"

"কেহতে হে কি কিসি চিজ কো আগার দিল সে চাহো, তো পুরি কায়নাত উসে তুমসে মিলানেকি কৌশিশ মে লাগ্ জাতি হে।"

ইয়ে মানে ডায়ালগ টা সঠিক। এতদিন বুঝিনি। কাল বুঝলাম জানেন। বাহুবলী দেখতে গিয়ে জীবনে প্রথম তা মর্মোদ্ধার করলাম। সিনেমা দেখতে গেলে আশেপাশের পরিবেশ আপনাকে শুরু থেকেই ট্রেলার দেখাতে থাকে। না হলে সিনেমার মাহাত্ম্যর মাইলেজে ঘাটতি পড়ে। 
যেমন ধরুন নতুন সিনেমা আসছে, পোস্ত। বাড়িতে দেখলেন, ইয়েস, লাঞ্চে আলুপোস্ত। বেগম জান দেখতে যাওয়ার আগে একটু বৌকে জড়িয়ে ধরে হঠাৎ বলে উঠলেন,"আন বান শান, তুমি বেগম জান" বা ঐরকম পেটি কিছু ছড়া। 
ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস এর ক্ষেত্রে সংসারীরা একটু গুণে দেখবেন সারাদিনে কতবার ফিউরিয়াস হয়েছেন। অন্যদিনের তুলনায় একটু যেন বেশি না? হে হে হতেই হবে বাওয়া। নাহলে বুঝবেন, আপনি সিনেমাটির প্রতি সুবিচার করেননি। আপনি মুভিটাই ডিজার্ভ করেন না। 
এবার আসি বাহুবলীর কথায়। সিনেমা যেহেতু বাহুবলী। একটা অ্যাকশন-অ্যাকশন.... আর সেখানেই যত সমস্যা। মানে আমি শান্তিপ্রিয় তুলসী চক্কোত্তি। তা বলে কি আমাদের কি বাহুবলী দেখতে নেই? ভয়ে ভয়ে আছি, "কায়নাত" কি "কৌশিশ" করছে কে জানে। রিলিজ করার পরের দিন। সিনেমা শুরুর পনেরো মিনিট আগেই সিনেমাঘরে পোঁছলাম। ভিড় এভোয়েড করতে নিজের যথেষ্ট স্মর্টনেস ব্যবহার করে বাইরেই কিছুক্ষন দাঁড়ালাম। ভাবলাম সবাই ঢুকে গেলে ধীরে ধীরে এন্ট্রি নেওয়া যাবে। স্মার্ট আইডিয়া। শো শুরু হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে ঢুকতে গিয়ে দেখি, ভিড়ের পরিমাণ তো কমেনি উল্টে বেড়ে গিয়েছে। কানটা খাঁড়া করতেই বুঝলাম, শো অনিবার্যকারণবশতঃ পনেরো মিনিট ডিলেইড। আর শুনেই পিছন ফিরতে গিয়ে দেখি,জনঅরণ্য। আমি-পেরেক, গর্তে ঢুকে প্যাঁচ খেয়ে গেছি। এবার হাতুড়ি ঠোকা খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর কি, দরদর করে ঘাম, জায়গা-অজায়গায় চুলকুনি, ঘাড়ের কাছে গরম-পিঁয়াজি নিশ্বাস। অনুভব করলাম। মন দিয়ে। পিছনের মহিলা তার পাশের শ্রেষ্ঠতর-অর্ধ্যেকের (বেটার হাফের) কাঁধে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। তিনি বুঝতেও  পারছেন নাকি যে নিজের সাথের ঢাউস ব্যাগটার নাইন্টিটু পার্সেন্ট আমার বাহুর ওপর? আমি বাহুবলী নই ম্যাডাম। বুঝলাম "কায়নাত" ইস নাউ ইন অ্যাকশন। এই মুহূর্তে কোথা থেকে অসময়ে এসে "চ্যালেঞ্জ" গোত্তা মারলো, ব্যাস আর তো হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না। অপেক্ষার একেকটি সেকেন্ডে মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষের টিকি দেখার অপেক্ষা। যেই না দরজা খুলবে, সে সময় কোন স্ট্রাইকটা যথোপযুক্ত হবে, তার প্ল্যান ছকে নেওয়া চলছে। আসে-পাশের সবার মুখ দেখি গম্ভীর। কেউ হাসছে না, কথা বলছে সিক্রেট মিশনের এজেন্টদের মতো। সবার নজর মাছের চোখে। ভাবলাম শত্রুকে ডাইভার্ট করি। বলে উঠলাম আচমকা,"বিচ্ছিরি গরম ভাই। কি করছে এরা। কখন যে খুলবে। পশ্চিমবঙ্গের টাইমসেন্সটা নিয়ে কোনো বিপ্লব যতদিন না হচ্ছে  ....." পিছন থেকে একজন বলে উঠলেন,"মশাই, এই গরমে চুপ করে থাকুন না প্লিস। আর না হলে কিছু নতুন বলুন। গান শোনান। বাজে কথা বলাটাও একধরণের পলিউশন জানেন, বাকদূষণ"। ড্যাম!! বুঝলাম সবাই কনসেনট্রেট করতে চাইছে। শত্রুপক্ষ অনেক বেশি প্রিপারেড। আমি এমনিতেই পিছনের সৈন্য। কালচক্রে এইমুহূর্তে আবার অভিমন্যু স্টেটে। অসহায় বোধ করছিলাম ভীষণ। অপেক্ষার আরও পাঁচ মিনিট। এইই দরজা খুলল। ব্যাস। আক্রম..... ণ। বাহুবলী ১ এর কিছু দৃশ্যের কথা মনে করে একটু ঝুঁকে, তীরের ফলের মতো মুঠো বন্ধ করে যেই না এগোবো, হঠাৎ কোমরে বেদম জোরে গুদুম। পাশের মহিলার কনুইয়ের সফল লক্ষ্যভেদ আমার কোমরে, বুঝলাম অফেন্সিভ খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই সময়ে, কেউ আমার চোখের ওপর রুমাল ঝাড়লো। ডেন্জার। মানে দল বেঁধে নেমেছে। আমি রিস্ক না নিয়ে "কাটাপ্পা পা পা পা" বলে ছুটলাম এলোপাতাড়ি। হে হে কাটাপ্পা-নামের মহিমা কম? দেখলাম হলের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। এবার শুরু অন্ধকারে সিট্ হাতড়ানো। কোনোরকমে নিজেরটা খুঁজে বসা গেলো। মনে হলো ব্যাস এবার বোধহয় "কায়নাত" বাবুও বাহুবলী এনজয় করবেন। ও হরি, সে গুড়ে বালি। বাহুবলী সিনেমা বলে কথা বাওয়া, তাই মহাধামাকা "কৌশিশ" টাও যথোপযুক্ত হবে সেটা এক্সপেক্ট করা উচিত ছিল। হঠাৎ চিল-চিৎকার সাথে বেদম সিটি। একের পর এক। সিনেমা শুরুর প্রথম দশ মিনিট কানে তালা ছিল। যতবারই বাহুবলীর স্ক্রিনে আগমণ, ততবারই চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী উড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী নাচছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী চোখ নাড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী কোপাচ্ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। সামনে-পিছনে সর্বত্র। এতক্ষনে অস্ত্র নামিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু যুদ্ধে হার নিশ্চিত। আমি আত্মসমর্পণ করেছি। তুলসী-চক্কোত্তি- আমি ক্ষেপটি মেরে বসে রইলাম বাকি সময়টা। আর অনুধাবন করলাম বাহুবলী কে বড্ডো বেশি "দিল সে" চাওয়া হয়ে গিয়েছে। নেক্সট টাইম একটু কেয়ারফুল থাকতে হবে।

P.S.সামনের সিটে বসে (বা উড়ে) থাকা "চিল-চিৎকার-সিটি" গ্রূপের যে লিডার ছেলেটি, চেহারাতে তিনি লাঠিকে কম্পেটিশন দেন। কিন্তু গলার জোরে নয়। মাঝে কোনো বিশেষ ফোন আসাতে তিনি একটু দিকভ্রান্ত হলেও শেষ অব্দি গলা জোর অটল ছিল। ওনার সাথে একটু আলাপ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সিনেমা শেষ হতেই উনি লুচি-মটনের মতো মুহূর্তেই অন্ধকারের পেটে অদৃশ্য হলেন। হোয়াট এ মিস।

Saturday, 29 April 2017

প্রসাদ

- মানে? ইয়ার্কি নাকি? টাকা দেবেন না মানে? মামদোবাজি?
- (আঙুলে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চাটতে চাটতে) ইয়াম মানে... ইয়ে চেঁচামেচি করছেন কেন। এটা আপনার দোকান?
-হ্যা। না হলে বলছি কেন? টাকা বার করুন ফটাফট।
-আরে দাঁড়ান মশাই। আপনার ব্যবসা এটা?
-আলবাত
-শুনুন, ঠাকুমা বলতেন বুঝলেন (আঙুলে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চাটতে চাটতে)
-মশাই ঝোল চাটা বন্ধ করুন। কি বলতেন আপনার ঠাকুমা?
-বলছি বলছি। ঠাকুমা বলতেন," মন্দিরে চেঁচামেচি করতে নেই। দেবতা অসন্তুষ্ট হয়।"
-অ। মানে? কি? হঠাৎ দেবতা-মন্দিরের প্রসঙ্গ কেন?
-ওই দেখুন। ধর্মে কর্মে একেবারেই মন নেই দেখছি। ওই যে পিছনে লিখে আটকে রেখেছেন, সে কি লোক দেখানো? লোক দেখানো ধর্ম আমার একদম পছন্দ নয় বুঝলেন। আজকাল যা সব.... যাক ওসব কোথায় কাজ নেই। আসল কথা হলো, আপনি ব্যবসায়ী, আপনার মন্দির এটা। আমি দেবতা। এবার আপনি নিশ্চয় জানতে চাইবেন, আমি সন্তুষ্ট কিনা। তা রান্না আমার খুব খারাপ লাগেনি। শুধু মাংসে একটু আজিনোমোটো দিলে জমে যেত। আর রুটি পাতলা করে বেল্লে বেশ একটু তুলতুলে ভাব আসতো। রুমালি রুটির অপশনটাও তো রাখতে পারেন।
-থামুন। ইয়ার্কি মারার জায়গা পাননি। আটত্রিশটা রুটি খেয়ে দুটো মাংসের প্লেট গিলে, ন্যাকামো হচ্ছে? তুলতুলে নয় তো গিললেন কি করে?
-আহা একেবারেই মন্দ হয়নি। কিন্তু ইম্প্রোভমেন্টের জায়গা রাখবেন না তা বলে? শুনুন রান্না একটা শিল্প। আর শিল্পে ইম্প্রোভমেন্ট না থাকলে স্যাচুরেশন এসে যাবে যে। তাহলেই দেবতা রুষ্ট হবেন। মানে কাস্টমার। আর শুনুন বাড়িতে পঁচিশটা খাই। তাই আটত্রিশটা ওয়াস টাফ। কিন্তু শুধুমাত্র আপনার মুখ চেয়ে আমি জোর করে ঠুসে ঠুসে খেলাম।
-জোর করে ঠুসে ঠুসে? আমার ছেলেগুলো দৌড়ে দৌড়ে যোগান দিতে দিতে পাগল হয়ে গেলো। আর আপনি কি ঢপের কথা বলছেন? পাগল আপনি?
-কেন, পাগলের কি আছে? আপনিই তো লিখে রেখেছেন? পরিশ্রম আমার পূজা। তা আমাকে কি আপনার এমন অমানুষ মনে হয় যে একজন মনখুলে মন্দিরে পূজা করতে চাইছে আর আমি দেখেও তা অদেখা করবো? একটু সাহায্য করবো না? তাই.....
-আরে মশাই। আপনি আমাদের পাগল করে দেবেন যে। ওইটাতো কাল বৌ এসে কোথা থেকে এনে লাগিয়ে গেছে। দেওয়ালের ওই জায়গাটা খোবলানো ছিল, ঐটাই চাপা দিতে … যাতে দেখতে ভালো লাগে তাই। শুনুন, এখন কাস্টমার আসার টাইম। ঝামেলা করবেন না। চুপচাপ দিয়ে দিন।
-হ্যা এই তো। একেবারে কড়কড়ে। 
- (হেসে) দিচ্ছেন? ব্বাবা, বকালেন বটে। দিন দিন। দিয়ে দিন।

-আরে কি যে বলেন, না দিয়ে যাই কখনো। এএএই এএএই ......... এই যে আমার হাত রইলো তোমার মাথায়। আর আমি বলছি, আমি খুব সন্তুষ্ঠ। তোমরা যে পরিপাটি করে পূজার আয়োজন করেছো। তাতে আমি খুব খুশি। ব্যাস প্রসাদ পেয়ে গেলে। চলি তাহলে। ওহ হ্যা বলছি যে, আজকাল কি সব সেলফি টেলফি হয়. তুলতে পারেন আমাকে নিয়ে। যদি টদি আপনাদের টাপনাদের কাজে টাজে লাগে টাগে। ওই হয়তো নেক্সট দেবতার সামনে রেফারেন্স হিসেবে … এই এএএই একি পড়ে গেলেন যে। ওরে বাবা একি পরম ভক্ত রে আমার, সাষ্টাঙ্গে টাস্ট্যাঙ্গে দরকার নেই রে পাগল। আমি এতেই খুশি রে। ওকি সাড়া নেই কেন..... কি হলো?

Thursday, 27 April 2017

শিল্প ভাবনা

মানুষের শিল্প ভাবনা যত্রতত্র। শিল্পকাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদের ব্যক্তিত্ব। তাদের শিল্পীস্বত্বা পাশের মানুষকেও দেয় অনাবিল আনন্দ।
এই যেমন এই ছবিটি, দেখুন ভালো করে। ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন? তাহলে অনুরোধ করবো, আরেকবার দেখুন।

-কি দেখছেন বলুন তো?
-আরে, ওই তো কটা চাড্ডি রুমাল আর মোজা।
-ধুস, ভালো করে দেখুন। রুমাল গুলি দেখুন বাঁ দিক থেকে ডানে। কিরকম রংগুলি গাঢ় থেকে ধূসর? আবার উল্টোদিক থেকে ধূসর থেকে গাঢ়। এবার মোজাগুলি দেখুন। এর মধ্যে আবার অন্য বৈচিত্র। গাঢ়-ধূসর-গাঢ়।
- কি বুঝলেন?
- কি আর বোঝার আছে বলুন তো?
- বটে, এবার তো আপনার শিল্পচিন্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে মশাই। দেখুন এর মধ্যে আছে নিষ্পাপ অভিরাম শিল্প। এবং এর মাধ্যমে শিল্পীর চরিত্র প্রকাশ পায়। চারটি প্রধান বৈশিষ্ঠ্য নজরে পড়ে।

প্রথমত
শিল্পী নিশ্চয় কাজে-কর্মে বেশ নিপুণা। ঘরে বাইরে নিশ্চয় তিনি অনবদ্য়।

দ্বিতীয়ত
এনার হাতে সময় অনেক। তাই সময় নিয়ে এক এক করে এগুলি সাজিয়েছেন।

তৃতীয়ত:
দেখুন মহিলারুমাল এবং পুরুষমোজা বেশ কাছাকাছি। মানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাকে বলে বেশ মাখোমাখো।

চতুর্থত:
রুমালের ক্ষেত্রে রং ধূসর থেকে গাঢ় অর্থাৎ বেশ খুশিতেই দিন কাটছে শিল্পীর। মোজার মধ্যে বৈচিত্র্য সুতরাং স্বামীর জীবন বেশ রঙিন। রঙের ওঠানামা নজরে আসে। কিন্তু তা সংযত।

তাছাড়া ব্যালান্স মানে সামঞ্জস্য ব্যাপারটা শিল্পী ভালোই বোঝেন। সে সংখ্যার দিকেই হোক বা জোড়ায়।
ম্যাট্রিমোনিয়াল নয় একই রকম একটি মানুষের প্রয়োজন এ সমাজে। শিল্পীর সাথে আলাপচারিতাতেই কিছু জ্ঞানবৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ থেকেই যায়। কি বলেন?





Tuesday, 25 April 2017

হাঁস ত্যাগ

দাদা- বুঝলে ভাই, হাঁস ত্যাগ করলাম

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - সেকি রোস্টেড প্রিপারেশনটা তো মারাত্মক ছিলো, বৌদির হাতেই তো প্রথম খেলাম। বৌদি, দাদা কি পাগল হয়ে গেলেন নাকি।

বৌদি (কোমড়ে হাত দিয়ে ভুরু কুঁচকে দাদার দিকে শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে)
(থতমত দাদা)- মানে আমি তো ফেসবুকএ যাস্ট  .....

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো- আবার ফেসবুকেও জানাচ্ছেন নাকি এসব। আরে বাবা প্রোটিনএর দিকটাও যদি দেখেন, তাতেও তো হাঁস এগিয়ে চিকেনের থেকে, বৌদি আপনিই বলুন তো। 

বৌদি (শ্যেনদৃষ্টি এখনও) - গতমাসে বুড়ির জন্মদিনের দিন যে বললে, হাঁস-আইটেমটা তোমার খাসা লেগেছে! তবে কি শুনছি এসব হ্যা?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - তবে। তাছাড়া আপনি না খেলে বৌদি কি আর শুধু নিজের জন্য রাঁধবে! তাছাড়া বৌদিরও তো প্রোটিন দরকার নাকি এই বয়সে। (বিড়বিড় করে) আর আমাদের জন্য!!!!

(এখনও থতমত দাদা)-কি যে হচ্ছে একেবারে ধরতে পারছি না যে ভাই। কি রাঁধবে ভাই?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো -আরে ধুর বাবা, ওই যে বললেন হাঁস। ত্যাগ করলেন যে!

(এইবার ধাতস্ত দাদা)-না না হাঁস না হাঁস না। হাঁস ছাড়া যায়। ঐটা তো মানে সত্যিই 
তোমার বৌদির ওতে জুড়ি নেই। আমি তো হ্যাস ট্যাগএর কথা বলছিলাম। নতুন শিখলাম ফেসবুকে। 

বৌদি (লুকিয়ে মুচকি হেসে)- বুড়োর ভীমরতি যত্তসব।


বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - ও হরি। মশায় পুরো দিয়েছিলেন একেবারে টেনশনে ফেলে। বলছি কথা যখন উঠলোই, হবে নাকি কাল? নিয়ে আসবো নাকি দাদা আজ?