Showing posts with label প্রেম কথা. Show all posts
Showing posts with label প্রেম কথা. Show all posts

Tuesday, 8 December 2020

নিশিকান্তর ভালোবাসা

 নিশিকান্ত ভালোবাসতে ভালোবাসে। অথচ প্রথম প্রেমে দড়াম ধাক্কা খেয়েছিল। প্রেমের কটা বছর কেটেছিল প্রতিমুহূর্তে ভালোবাসার মানুষকে ভেবে ভেবে। প্রেম ভেঙে যাওয়ার পর সেই ভাবনাগুলোই ক্যাকটাসের তীক্ষ্ণ স্পাইনের মত বিঁধেছিল। দুটো পর্যায়ই গভীর। দুর্ভাগ্য নিশিকান্ত-এর মধ্যে আবেগের ভলিউম সাধারণের থেকে বেশি। বন্ধু, গান, বই, কাজ, পরিবার, রাস্তা, গাছ, আকাশ, দুর্গাপুজো, রবিবার, মদ, গাঁজা এত্ত কিছু তার জীবনে থাকলেও শুধু ওই প্রেম-প্রেম ব্যাপারটাই নিশিকান্তর জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ কেন, তা কেউ বোঝে না! কাউকে ভালোবাসা আর কেউ তাকে ভালোবাসে এইটুকুর প্রত্যয়ই তো তার চাওয়া। এখন সোশ্যাল মিডিয়া আছে। তার মাধ্যমে বন্ধু পাওয়া একেবারে ঢেঁকুর তোলার মতো সহজ। কিন্তু এখন নিশিকান্ত একটু বড়ো হয়েছে। ছোট্টবেলার প্রেমটা তার যেমন তেমন কিভাবে যেন হয়ে গিয়েছিলো। এবার তো সে সচেতন। নিজের একটা চেকলিস্ট বানিয়েছে সে। সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষজনকে নিশিকান্তর ভীষণ shallow মনে হয়। গভীরতা নেই। সবটাই রঙ চঙে মলাট। সবাই সব জানে। অথচ আঙ্গুল ডোবে না। নিশিকান্তর আরো বেশ কয়েকটা সমস্যা আছে, সে নিজের বয়সের ছেলেমেয়ের চেয়ে মানসিকভাবে একটু বেশিই বড়। নিজের গায়ের রং আর কাজকর্মের পরিধি নিয়ে হীনমন্যতা আছে। তার নিজের গুণ মানুষের কাছে বাড়িয়ে না বলে বরং লুকোনোর মহান গুণ আছে। সৎ হয়ে থাকার আর ভালোমানুষ হওয়ার বাতিক আছে। অর্থাৎ আজকের টিকে থাকার রেসে কোনোটাই এক্সেপটেবল ক্রাইটেরিয়া নয়। অতএব সঠিক মানুষের খোঁজ নিশিকান্ত পায় না। এভাবে দশ বছর কাটে। পাব, বালিগঞ্জ স্টেশন, গাঁজার ঠেক, মানসিক ডাক্তার, ওষুধ আর চায়ের দোকান ধীরে ধীরে আবছা হয়ে যাচ্ছে। নিশিকান্ত সব ছেড়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করবে ভাবছে সচেতন ভাবে। 

আর যখন চারিদিক বন্ধ, ছোট্ট পুঁচকে আলো এলো নিশিকান্তএর সোশ্যাল মিডিয়ার ফ্রেন্ড লিস্টে। যত আলাপ বাড়ে নিশিকান্তর মনে হয়, যেন এর জন্যই তার অপেক্ষা। চেকলিস্ট মাইল যাচ্ছে ম্যাজিকের মতো। সিনেমা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন স্বপ্ন। এরকম হয়না বাস্তবে। কিন্তু স্বপ্নটাই আরো বেশিক্ষণ দেখবে বলে নিশিকান্ত ডুব দেয় স্বপ্নসিন্ধুতে। এরপরের দিনগুলো একেবারে দুর্গাপুজোর মতো। পেটে প্রজাপতি, ইমোশনের চড়াই উৎরাই, রাগ-অভিমানের নাগরদোলা কি নেই। ধীরে ধীরে নিশিকান্ত সেই একেবারে হারিয়ে ফেলা প্রত্যয় খুঁজে পায় নিজের মধ্যে। বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে নিশিকান্তর এখন খুব। জীবনটাকে এইবার যেন জীবন বলে মনে হচ্ছে নিশিকান্তর। এতদিন যেন শীতঘুমে ছিল। এভাবেই মধুযামিনী চললো এক্সপ্রেসওয়েতে একশো কুড়ি কিলোমিটার বেগে। সবকিছুর মত সেসব কাটতেই নতুন সমস্যা তৈরী হলো। নতুন মানুষের সাথে চাওয়া পাওয়ার সমস্যা। দুজনেই প্রত্যাশা ভালোবাসা, কিন্তু চাহিদা দুজনেরই, একই সময়ে, অনেকটা। কেউ একটু পিছু হটে আরেকজনকে সুযোগ দিতে চায় না। ভালোবাসাটুকুই তো চাই। তাতে আপোষ কেন! যুক্তির আইসবার্গ তৈরী হয়ে পোক্ত। সহজে তা গলে না। শেষে কান্নাকাটি, ভাঙ্গাভাঙ্গি। নিশিকান্ত ভালোবাসা চেয়েছিল। কিন্তু মৌলিক পদার্থ নিয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। শুধুই পেটে প্রজাপতি ভালোবাসা নয়। ধৈর্য্য, সময়, আপোষ, নিয়ন্ত্রণ, অনু পরমাণু এসব যে এতো গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝেনি নিশিকান্ত। এখন নিশিকান্তর সব আছে। কিন্তু শান্তি? স্থিরতা? হারমোনি?  



Monday, 28 January 2019

ব্যালান্সের চেষ্টা

- ডিভোর্স ছাড়া উপায় নেই রমিতদা। এ একেবারে নাজেহাল কেস। তুমিই ভালো আছো দিব্যি। আপেল খাচ্ছো। কামড়ে খাও, কেটে খাও। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমার জীবনটা শালা কৈফিয়তের শপিং মল তৈরী হয়েছে।

- স্থির হও খোকা। সোমবার তো। চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ্যশ্বাসে আকাশে বাতাসে একটু নেগেটিভ এনার্জি জেনারেট করেছে। এই নে, তুই ও একটা আপেল খা দেখি। কামড়ে খাবি খা। হুইস্কি বের করে ঢাল। দেখবি বেশ একটা স্বাচ্ছন্দ্যময় ওয়ার্ম ফিলিং আসছে। মনে হালকা চাপ তখনও থাকবে। তবে সেটা ব্যালান্সড।
এই যে আপেল এর হাঁকুপাঁকু মাটির দিকে ধেয়ে যাওয়া দেখে, স্যার নিউটন, ইউনিভার্স -এর প্রতিটি কণার মধ্যে এট্ট্রাকশন এর কথা বলেছিলেন। বিয়ে করেননি সারাজীবন। তাই মাখোমাখো আকর্ষণটুকুই দেখেছেন।

- তবেই বোঝো। শালা বিয়ে করেছো কি কেস খেয়েছো।

- বটেই। কিন্তু কেস ভালো। উইলিয়াম থমসন বিবাহিত। টেরটি পেলেন হাড়ে হাড়ে। গ্যালাক্সি-এর ডার্ক ম্যাটার খুঁজে পেলেন। বললেন রিপালশনের কথা। দিলেন বিকর্ষণ এর ব্যাখ্যা। ওদিকে আইনস্টাইন আবার বেলতলা গিয়েছেন দুবার। E=MC2 করতে করতে জিভ দেখিয়ে নেগেটিভ ম্যাসের থিওরি বলেছেন।

- হমমম।

- যেদিকে যাও, কন্ট্রিবিউট করে যাও। লক্ষ্য হবে, ব্যালান্স। আসবে না। তবু চেষ্টা করে যেতে হবে খোকা। থ্যানোস ও চেষ্টা করেছে অর্ধ্যেক এভেঞ্জআর দের হত্যা করে ব্যালান্স আনবে ইউনিভার্স-এ। পারেনি। ভূগর্ভে একটু এদিকওদিক হয়, ভূমিকম্প আসে, কিন্তু নড়াচড়া করে আবার স্থিতিশীলতা মাস্ট। উল্টিমেটলী ব্যালান্সের চেষ্টা। নইলে বাছা খেলাটা ভীষণ বোরিং।

- দাদা, ওই সংকটময় কৈফিয়ত ডিমান্ডের চাপের মুহূর্তে কি আর এসব তত্ত্বকথা মাথায় আসে!

- আনবে। আনতে হবে। আনা প্র্যাকটিস করবে। সময় খুব খারাপ মানি। গুগলে নিউটন সার্চ করলে এখন আর শান্ত-স্নিগ্ধ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট দৃশ্য আসে না। রাজকুমার রাওয়ের আঁতকে ওঠা ছবি আসে। তা বলে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। কণ্ঠ ও বেশি জোড়ে নয়। মনে মনে ভাবো "কফি উইথ করনে" বসে আছো। উস্কানি আসবে। ট্র্যাপ রেডি। পা দেওয়া যাবে না। গান গাও মনে মনে, আমি যামিনী, তুমি শশী হে। লিরিক্স টা মনে না পড়লে, মনে করার চেষ্টা কারো। একসময় দেখবে মেঘ কেটেছে। এইভাবেই চালিয়ে যাও ভায়া। আপেল কামড়ে বা কেটে। 

Saturday, 8 December 2018

টিকালো নাক

টিকালো নাক বড্ডো ওভাররেটেড বুঝলেন। সুন্দর মুখের ওয়ান অফ দি এলিমেন্ট হিসেবে টিকালো নাক ধরা হলেও নাকানিচোবানি কম খেতে হয়না। ফিজিক্স স্যার তো চুম্বকের বিপরীত মেরুর ধর্ম বোঝাতে, উদাহরণ দিলেন ক্লাসের টিকালোমোষ্ট নাক হোল্ডার পটার। ফুটবল, দেওয়াল, দরজা ইত্যাদির সাথে পটার টিকালো নাকের সম্পর্ক যেমন। পটা চুমু খায় চোখ খুলে। যতবার চোখ বন্ধ করে চুমু খেতে গেছে, গার্লফ্রেন্ডের মাথা স্ট্রেইট হিট ওন টিকালো নাক। মাথা ভোঁ ভোঁ। রোমান্সের সাড়ে সব্বোনাশ।
রসিকবাবুর কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে রসিকবাবু বলেন, "যেমন বাজপাখির মতো তোমার নাক ....."
রসিক গিন্নি কনুই মেড়ে রসিকবাবুকে থামিয়ে বললেন,"বাজপাখি নয়, টিয়াপাখি। তোমার তো কোনোদিনই কান্ডজ্ঞান নেই ..... পটুবাবু তুমি ওসব বাজে কথাতে কান দিও না তো। কি সুন্দর লম্বা নাক তোমার ....."
রসিকবাবু,"হে হে নাক গলাতেও সুবিধে। হে হে ...... উফফ তুমি আবার চোখ পাকাচ্ছো কেন গিন্নি!! আমি বলছি টিকালো নাক ভালোই। এই দেখো না অটোগুলো। একটা চাকা ওরকম টিকালো নাকের মতো এগিয়ে থাকে। মার্সিডিজ-ফেরারিকে কেয়ারই না করে, হালকা নাক গলিয়ে দিলেই ব্যাস কেল্লা ফতে। পটে, নাকের গুরুত্ব কাছে বটে। মাঝে মধ্যে খুড়োর কল হিসেবে ব্যবহার করবে কিনা ভেবে দেখো তো খোকা? তবে চুমুটা চোখ খুলেই খেও।"

Wednesday, 31 October 2018

আসলেতে পাখি সে

টেবিল ১:
শোন্ শোন্ কন্সেন্ট্রেট করতে শেখ। সামনের কালীপুজোতে তুবড়ি প্রতিযোগিতা। নোটবুকটা বার কর দেখি। তুবড়ির মশলার মাপটা ঝালিয়ে নেওয়া যাক। চল চম্পাহাটি। চারটে কাটলেট বলে দে।

টেবিল ২:
অনিককে ফোন করে "হ্যাঁ" বলেই দাও রুমাদিদি। কবিরাজি অর্ডার করবে তো আজ। স্পেশাল ডে বলে কথা।

টেবিল ৩:
আর শোনো, কাল কিন্তু ইলেকট্রিসিটি বিলটা জমা করতে হবে। শুনছো তুমি? আরে আবার কফি অর্ডার করলে যে। উঠবে কখন?

টেবিল ৪:
একটা ব্রীজ রিপেয়ার করতে কতদিন লাগে বলুনতো বরুণবাবু? আমরা নাকি এখন দ্রুতগতির যুগে? ধুর ধুর, এখন কফিটা পেলে হয় সময়মতো।

টেবিল ৫:
পাগলা দাশু জানিস না? পড়িস নি? আচ্ছা মটন মামলেট ..... মানে ওই ওমলেট, খা। খেতে খেতে বলছি।

টেবিল ৬:
বাবার শরীরটা বিগড়েছে। এখানে এসেছি শুনেছে যখন, কাটলেট প্যাক করিয়ে নিয়ে যেতে হবেই গো।

টেবিল ৭:
শোনো তোমার এই রোজকার অভিযোগ শুনে আমি এবার ফেডাপ। আমি কি এতোই খারাপ? এবার দেখবে একদিন সম্পর্কটা এতোই তেতো হবে যে দুজনেই ভ্যানিশ হয়ে যাবো। কোল্ড কফি বলবো?

টেবিল ৮:
পলাশপ্রিয়াকে ভুলতে পারছিস না? একেবারেই না? আজকাল কোয়ালিটিতে বেড়ে গোলমাল দেখছি। নাহলে ০৪ মাসের প্রেম ভুলতে চার কাপই তো যথেষ্ট। যাক তুই দশম কাপটা ট্রাই করেই দেখ তো। কাজ হবেই। হতেই হবে। এই বাড়ির কফির ওপর ভরসাটা এতো সহজে ডাইলিউট হতে দেওয়া যায় না।

টেবিল ৯:
আজ পুরো আঠারো বছর পর তোমার সঙ্গে দেখা। কেমন আছো তুমি? ফিশ ফ্রাই এখনো তেমনি ভালোবাসো? নাকি চেহারার সাথে সাথে স্বাদও বদলেছে?

======

ধুস আড্ডা নয়, কোনো এক অদৃশ্য লেখকের ইচ্ছে হচ্ছে আর টেবিলে টেবিলে তৈরী হচ্ছে ইমোশন, কফি হাউসের স্টিমুলেশনে তাতে টপাস টপাস ফোঁটা ফোঁটা টুইস্ট।

ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে; যার খুশি দেখে এস "কফি হাউসে"।



Monday, 13 November 2017

নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি

মেজোমামার বিয়েতে তার সঙ্গে প্রথম দেখা। না ঠিক দেখা নয়। আড়চোখে পলক ফেলে ফেলে নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি কে একটু বুঝে নেওয়া। কালো ধুতির চল সে সময় ছিল না। তাই সবার চোখই ছিল তার ওপর। নানারকম চাহুনি, যেমন “কি বোকা বোকা” “একি অদ্ভুত” “বাহ্ বেশ হাটকে তো” ছিল বটে। কিন্তু তাতে তাকে মোটেই অপ্রতিভ মনে হচ্ছিল না। বরং যেন একটু বেশিই স্বচ্ছন্দ। আর তাতে আড়চোখ আরও বেশি করে তাকেই খুঁজতে লাগলো। তার চোখ দু-একবার আমার চোখকে অ্যাকনোলেজ করেছিল বটে তবে খুব দ্রুত। ইতিমধ্যে এই পুরো সাইলেন্ট টেলিফিল্মটা কখন যে আমার ভাই ট্র্যাক করতে শুরু করেছে জানি না। মালা–‌বদলের ভিড়ে আমার কানের কাছে এসে বললো, “লাভ নেই। এনগেজড। আমাদেরই কোচিংয়ের মেয়ের সঙ্গে” । ড্যাম। চুরি করে ধরা পরে যাওয়া, তাও আবার সে চোরাই মাল যদি অকেজো হয়। ফিলিংসটা ঠিক কেমন হয় বলুন তো! যাক চোখাচুখি নিয়ন্ত্রিত হল তখুনি। সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে।
===============
প্রায় ৭-৮ মাস পরে, অক্সিজেনে তখন পুজো পুজো গন্ধ। নতুন জামার মসমস, নতুন জুতোর ফোস্কা, পুরনো বন্ধুর হইচই, পুরনো রেস্টুরেন্টে নতুন মেনু, সব চলছিল নিজের তালে। উলটোদিকের টেবিলে আমাদের মতোই আরেক দল, একইরকম হুল্লোড়ে মত্ত। শুধু মুখগুলোই অচেনা ….. উহু একটা মুখ তো বেশ চেনা। আরিব্বাস। নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি যে। আজ সাদা শার্ট নীল ডেনিম। আর সঙ্গে সঙ্গেই মাথা বলে উঠলো, “না না, আর ও পথে না”। ব্যাস সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে। কিন্তু ওপার থেকে ফোর জি নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী চোখ যেন আমাকে ফলো করছে মনে হল। ইগনোর করতে, আরও বেশি করে মন দিলাম বিরিয়ানিতে। সবে দু-চামচ মুখে দিয়ে বিরিয়ানিতে মেডিটেশন শুরু করেছি, ওমনি “হাই, ডু উই নো ইচ আদার ….. ” সাদা শার্ট নীল ডেনিম আর তার দলবল, চোখের সামনে। কতক্ষণ হা করে ছিলাম মনে নেই। বাকি কী বলে গেল, মনে নেই। আলাপচারিতার শুরু। সুতপা কনুই-এর গুঁতো মেরে বলেছিল,”এই সেই? খবরদার। এনগেজেড কিন্তু।” এরকম সাবধান বাণী শুনে মনে হল, যেন ও সাবধান না করলে আমি যে কোনও মুহূর্তে সাদা শার্ট নীল ডেনিমকে জড়িয়ে ধরবো। আশ্চর্য্য। তা সেই সাবধানবাণীর ঠেলায় বা বিরিয়ানি কন্সেন্ট্রেশনে বাঁধা পড়ায়, আলাপচারিতাতে কন্সেন্ট্রেট করতে পারিনি। আমি মূলত শ্রোতাই হলাম। শেষে অবাক করে দিয়ে সুতপা হঠাৎ নবমীতে ম্যাডক্স স্কোয়ারের প্ল্যান বানিয়ে বসলো। সুতপাকে বুঝতে পারে কার সাধ্যি! আবার দেখা হওয়ার এক্সাইটমেন্ট যে আমার মধ্যে একেবারেই ছিল না তা বলা ভুল। মাস্কারা লাগালাম একটু ঘন করেই। না না, আর কিছু না। একটা প্রেজেনটেব্‌ল লুক তো দরকার, নাকি! তবে সুতপা-বুবাই দের সঙ্গে বেরোলে কেন এ কথা মনে হয় না! ওরা ছোট্টবেলার বন্ধু বলে! ম্যাডক্স স্কোয়ারের আড্ডা তখন চরমে, সাদা শার্ট নীল ডেনিম আমার কানে ফিসফিস করে বললো, “হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে। কাল একবার লেকে মিট করা যায়? সেই বিয়ে বাড়ি থেকে ট্রাই করছি। না বললে শুনবো না কিন্তু।” হার্টবিট ১১০। আচ্ছা এমন বুক চিনচিন করে কেন বলুন তো যখন মাথা আর মন ঝগড়া করে? মাথার শত অ্যালার্টকে মিথ্যে করে, দেখি না কী বলতে চায়, শুনতে মন চলল দশমীর বিকেলে, লেকের ধারে। পৌঁছনোর দু-কিলোমিটার আগেই এসএমএস, “নাহ সামনাসামনি বলার সাহস নেই। অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে। ক্যান ইউ হোল্ড মাই হ্যান্ড? ফর লাইফ?” মোবাইল থেকে চোখ তুলে মনে হল আশেপাশের কিছু লোক হা করে দেখছে আমায়? খেয়াল করলাম আমার মুখটা এক গাল হাসিতে ভরে গেছে কখন, আমার অজান্তেই! অক্সিজেনে এখন নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতির গন্ধ। আশেপাশে লুকিয়ে আমায় দেখছে না তো? বাড়ি ফিরে ভাইকে একটা কিল মারবো ভাবছি।

Monday, 30 October 2017

ফিউচার

ফিউচার

- তাহলে কি.....
- হ্যা আর কোনো ফিউচার দেখছি না। শুধু শুধু একে টেনে বেরিয়ে লাভ কি?
- সবই তো ঠিক ছিল শ্রী। হঠাৎ কি হলো?
- তোমার আর আমার মধ্যে এতো ফারাক। এডজাস্ট করা সম্ভব কিন্তু তার একটা লিমিট আছে তো নাকি?
- খেতে খেতে ঢেকুরটা তো আজকাল একটু কমই হয়। হয় না?
- উফ ওটা তো মাইনর। কুঁজো হয়ে হাঁটা টা আর নেওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সময়-অসময়ে কথার খেই হারিয়ে ফেলা। পরশু রাতে ফোন করতে করতে হঠাৎ চুপ। কত কথা বলে যাচ্ছি আমি একা একাই। শেষে আওয়াজ নেই দেখে কেটে কল করি। তারপর বুঝলাম, ঘুমিয়ে পড়েছিলে। মানে হাউ ডেয়ার ইউ! যাক গে যাক আজ ঠিক করেছি আর মাথা গরম করবো না।
- বলছি যে, একটি বার আমার কথা শোনো। আমি কথার খেই হারাবো না। মানে যেই খেই হারিয়ে যাবার সিগন্যাল পাবে, আমাকে একটু চোখ মেরে দিও বা হাত টিপে দিও। আমি বুঝে যাব। কথার খেই, দড়ি, তার, পাইপ যা পাবো ধরে উঠে আসবো ঠিক মেন লাইনে। আসলে তুমি না থাকলে খেই-খৈ সবেতেই তো জল থৈ থৈ। ঠাঁই পাই কোথা বলতো। আর ঘুমের কেসটার সমাধান আছে।
- আছে?
- হ্যা গো। কলেজেই কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নেবো না হয়। ক্যারাম আর উনিয়নের টাইমটার সাথে এডজাস্ট করে নেবো। স্যার শাস্তি দেবে দিক। বন্ধুরা ত্যাগ করবে করুক। ও দুঃখ তবু সহ্য হবে। কিন্তু তোমাকে ছেড়ে থাকার দুঃখ, সারাজীবন তোর্তুগিলা দ্বীপে একা থাকার মতো হবে গো। তুমি ত্যাগ কোরো না গো। ট্যাগ করে রেখো। পিনপোস্টের মতো।
- প্লিস। রাস্তায় মেয়ে দেখলেই যে চোখটা ড্যাবডেবিয়ে বেরিয়ে আসে। জিভটাও। তার বেলা? ঐটাই মেন রিজন। আমি তো আর গরু চড়াতে তোমার সাথে হাঁটি না যে সারাক্ষন তোমার দিকেই নজর রাখবো। আর কি ইরিটেটিং! তুমি একটা পারভার্ট। বিকৃতবুদ্ধি। নাহলে রাস্তায় মেয়ে দেখে এরকম করো!
- বটেই তো। বটেই তো। গরু চড়াবে কেন খামোকা। কিন্তু তুমি তো পয়েন্টটাই বোঝোনি এতদিন আর আমাকে ভুল বুঝে এসেছো, এহ হে এহ হে এহ হে।
- কিসের পয়েন্ট? দাঁত বার না করে বলে ফেলো।
- ব্যাপারটা হলো যে, দ্যাখ তুমি হলে আমার রত্ন। মানে তোমাকে পেয়ে আমার সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে। মানে তুমিই আমার ডেসডিমোনার সুরেলা গলা, তুমিই আমার "হামদাম সুনিও রে", তুমিই আমার "টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন, টু ফোর ফোর ...."
- একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেব কিন্তু, ভনিতা না করে বলবে?
- ঐটাই তো মানে সংক্ষেপে এই যে, তোমাকে সাথে নিয়ে হাঁটি যখন, ওরা দেখনি কিরকম হাঁ করে থাকে!! তাই ওদের আমি ইয়ে মানে....
- কি বলো?
- ওই মুখ ভেঙ্গাই। জিভ বের করে, এ এ এ এ। আর চোখ আর জিভের কানেক্শনটা তো জানোই। জিভ বেরোলেই দেখবে চোখটা বড়ো হয়ে যায়। ওই "জিম ক্যারি" ইন "দি-মাস্ক" এর মতো আর কি। কি যে প্রশান্তি কি বলবো তোমায়।
- য়্যা মানে? ওরকম বাঁদরের মতো?
- এএএই এক্কেবারে ঠিক বলেছো। বাঁদরের মতো ভেঙ্গিয়ে সারা পৃথিবীকে জানাতে চাই,"পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি, ফিং দিয়া দিই তিন দোল, আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা  ...."
- আচ্ছা আচ্ছা। বুঝেছি।
- বুঝেছো?
- হুঁ।
- (ভয়ে ভয়ে) কি?
- একটু এডজাস্ট নাহয় করেই নেবো। ছেলে তুমি মন্দ না।

Monday, 7 August 2017

"রাখী" তে কেউ "গুলজার" হচ্ছে না

আগের দিন যে চঞ্চল হাত গুলো "বাড়িয়ে দাও তোমার হাত আমি আবার তোমার আঙ্গুল ধরতে চাই" জানিয়েছিল, আজ তারা অদৃশ্য। অদ্ভুত তো!
"রাখী" তে কেউ "গুলজার" হচ্ছে না।
"রাখী" শুনলেই কেউ "পল পল দিল কে পাশ" ধর্মেন্দ্র হচ্ছে না।
উল্টে ছেলেগুলো সব ভাইরাস-এর মতো একেবারে নিকেশ হচ্ছে।
জন্মমাত্রই যদিও "রাখী" এন্টিভাইরাস-সম! ওই যে সংস্কৃত-তে রাখী শব্দের অর্থ "বন্ড অফ প্রটেকশন"। তাই .....
তা সে তো দুশমন-দমনে। শিষ্ট-দের ভয় কিসের? তারা পালাচ্ছে কেন?
ইতিহাস অনুযায়ী "রাখী" যত্রতত্র সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে। এই যেমন ধরুন যুদ্ধ বাঁধলো রাজা-স্বামীর সাথে অন্য রাজার। স্ত্রী টিং টিং টি টিং করে বুদ্ধি বাতলে ফটাং পাঠিয়ে দিলেন "রাখী", ব্যাস বরফ গলে জল। (কে বলে, বাঙালিরাই শুধু ইমোশনাল। শুধু নিজেদের ভাও বাড়ালে হবে, হে বাঙালি?)। তা সেসব তো সব ওই উত্তরভারতে। পূর্ব-পুরুষদের ওসব কান্ড দেখে তারা আজকাল জোরকদমে "ভাইয়া-মেরে রাখী কে বন্ধন কো নিভানা"। বেশ কথা।
কিন্তু দি গ্রেট বেঙ্গলে যারা রবি-ঠাকুর বলতেই মূর্ছা যান, তারাও কি করে তালে বেতাল হয়ে পড়েন শুনি? যেখানে রবিগুরু হিন্দু-মুসলিম বন্ড-এর উদ্দেশ্যে রাখী-বন্ধন উদযাপন করছিলেন, সেখানে? অবশ্য যতই তিনি করে থাকুক না কেন, তা তখনই বিভাজন রুখতে পারেনি। আর আজ তিনি যখন শুধুই বাঙালির বসার ঘরের "টেগোর" হয়ে আছেন, তখন আর .... উহু কোনো শক্ত শক্ত কথা নয়। সোমবার এমনি বড়ো একগুঁয়ে। তাই আল্টিমেটলি "রাখী" একটা বন্ড। জেমস বন্ড। মজবুত জোর। টুটেগা নাহি।
অতঃপর ছেলে-মেয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাখী কিনুন, রাখী পড়ান। শুধু ভাই-বোন কেন? আজ ওই রিক্সা-চালককে রাখী পড়ান না কেন? পাশের বাড়ির ঠাম্মাকে রাখী পড়ান না কেন? বয়-ফ্রেন্ড, গার্ল-ফ্রেন্ডকেও পড়ান। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে কেও পড়ান।
শর্ত একটাই।
কব্জির এপাশ ঘুরিয়ে সুতো ওপাশে নিয়ে যাবার সময়, জোরে জোরে বলুন, "ভালো থেকো, শুভ হোক"।
#রাখীবন্ধন #রাখী

Thursday, 1 June 2017

সিলভার লাইন

- দিন কাগজটা এদিকে দিন। এটা পেলেন কোথায়?
- বালিশের পাশে। এতে যে শব্দ গুলো আছে, এরা আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ......
- ও। তা কে দিলো এটা আপনাকে?
- ওই সেইটাই ঠিক মনে করতে পারিনা! উফ খুব কষ্ট হয় মনে করতে .....
- ঠিক আছে, ঠিক আছে, দেখি কি লেখা আছে, সাংসারিক আলাপ?
- ওই আর কি, আল্টিমেটলি অন্যের ছেলে মার্ক্স কম পেলো কিনা সেইটাই লক্ষ্য আর তাতেই মোক্ষ।
- খাতির?
- শুধু যদি ব্যাকগ্রাউন্ড সলিড থাকে। ভালো কানেকশন বা টাকা। অন্ততপক্ষে ভালো বংশ। নাহলে কে তুমি বাবা শান্তিগোপাল?
- ডাঙ্গুলি লাঞ্ছিত ছেলেবেলা?
- জানি জানি, প্রতিদিন দুপুরে আমার অপেক্ষা করেছে। প্রতারণাটা আমিই করেছিলাম। ইঁদুর দৌড়ের নেশার কাছে সব তুচ্ছ মনে হতো। তবু সেতো ছেলেবেলা।
- ড্রেনমগ্ন শব যার পিঠে সতেজ উদ্ভিদের মতো ফুটে রয়েছে অমোঘ একটা ছুরি?
- এ থেকে রেহাই নেই। নোংরা-পঁচা গন্ধটা অনেকদিন থেকেই একটু একটু করে বেড়েছে। আমি বলেছিলাম বুল্টিকে, মাধবীকে, চয়নকে, সান্টুকে, কোকিলকে, পলাশগাছটাকে, সাক্সফোনটাকে, গানের সুরগুলোকে, সকালকে মানে প্রায় সকলকে। কেউ গন্ধ পেতো না। তারপর যখন ছুরিটা দেখা যেতে থাকলো, সবাই যন্ত্রনাটা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করলো, তখন গন্ধটাও টের পাচ্ছিলো। কিন্তু উপায় কি? এভাবেই চলতে হবে। সবাই জখম। ওষুধ কোথায়? শুধু রাতে একটু হাত বোলানোতে কি প্রচন্ড শান্তি।
- আকাশচারী কেরানি?
- ওহ।
- কি হলো?
- এভরি ক্লাউড হ্যাস এ সিলভার লাইন, ডাক্তারবাবু। শনিবার রাতে ফ্লাইং শসারটা নামে যখন ছাতের ওপর। ডাঙ্গুলি টাকে সাথে নি। বুকটা এমন ঢিপঢিপ করে যতক্ষণ না আসে। ঠিক আসে নিয়মাফিক। উঠে যাই ওতে আর .... মহীনের ঘোড়াগুলি টেনে নিয়ে যায় ফ্লাইং শসারটাকে। কি হলো ডাক্তারবাবু চললেন কোথায়?
- আসছি একটা ফোন করে। (ঘর থেকে বেরিয়ে) হমমম আপনার বন্ধুর মেন্টাল ডিসর্ডারটাই ..... বুঝলেন। একটু চিকিৎসার দরকার আছে। আজ এডমিট করে যান ..... ওই দেখুন উনি চেঁচাচ্ছেন। কন্ফার্ম করুন। আমি বলে দেব টীম এখুনি ওনার ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেবে।
- (ঘরের ভিতর থেকে) ও ডাক্তারবাবু ..... আরে ও ডাক্তারবাবু .........
আমরা যাইনি ম’রে আজো -তবু কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়,
মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে। .....

(নিচের ছবিটি ১৯৭৮ সালের মহীনের ঘোড়াগুলি বাংলা ব্যান্ডের দ্বিতীয় অ্যালবামের (অজানা উড়ন্ত বস্তু বা আ-উ-ব)।ভারতের সর্বপ্রথম রকব্যান্ড।)





Thursday, 11 May 2017

শুধু এই হাসিতেই

** সিরিয়ালটা শুরু হলো ভালোই কিন্তু নায়কের আট নম্বর বিয়েটা আর নেওয়া যাচ্ছেনা।
** ভালো একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস মাথায় আসছে না!! কি মুশকিল।
** মনীষা ম্যাথসে আমার থেকে টেন মার্ক্স্ বেশি পেয়েছে বলে আমাকে এবার সামার সেলে ক্রপটপ কিনে দেবে না? কি অদ্ভুত লজিক!!
** বিরিয়ানির দামটা ফট করে কুড়ি টাকা বাড়িয়ে দিলো!! আর এ নিয়ে কোনো বিপ্লব হলোনা?
** শুধু গান গাইতে চেয়েছিলাম, এখন স্কেল নিয়ে লোকের বাড়ি-ঘরের মাপঝোপ করছি। এটা জীবন?
** শ্লা আমি ঠিক জানতাম। কাল ছুটি নিচ্ছি, মালটা ঠিক লাস্টমোমেন্টে ফাইলগুলো পাঠাবে। ধুস।
** মাসের শেষের ডেটগুলোতেই সব নিমন্ত্রণ বাড়িগুলো হামলে পরে। কেন রে? আখেরে তোদেরই তো ক্ষতি রে। ক্ষি জ্বালা রে ভাই।
** "ইটস নট ওয়ার্কিং"? মানেটা কি? এতদিনের চ্যাট-স্ক্রিনের সামনে গালে হাত দিয়ে অপেক্ষা, প্রতিটি বোকা-বোকা স্ট্যাটাস আপডেটে ওয়াও নিদেনপক্ষে লাইক, দেখা করলেই প্রত্যেকবার ডেয়ারিমিল্ক আর ডোমিনোস। আর এখন "ইটস নট ওয়ার্কিং"? কারণটা ঝেড়ে কাশলো না পর্যন্ত!!
** নিশ্চিন্তে আইপিএল টাও আমার জীবনে চ্যালেঞ্জ। এর থেকে কোলের বাচ্চার ফেসভ্যালু অনেক বেশি। 
** অফিসের কাজ, ঘরের কাজ এসবই যদি একমাত্র যুদ্ধ হতো, তুড়ি মেরে বলতাম,"আই ক্যান কংকর দা ওর্য়াল্ড"। কিন্তু সারাদিন এরওর হাঁ-করা জিভ-বার-করা মুখ সহ্য করা, বাসে-ট্রামে শরীর বাঁচানো, এগুলো?
 -------------
শুধু এই হাসিতেই মাথাঠাসা ডালহৌসি, মুহূর্তে সান্দাকফু
শুধু এই হাসিতেই "আমার মতে জগৎটাতে ভালোটারই প্রাধান্য, মন্দ যদি তিন-চল্লিশ, ভালোর সংখ্যা সাতান্ন"
শুধু এই হাসিতেই "আমি যামিনী, তুমি শশী হে"
শুধু এই হাসিতেই ডেসডিমোনা বেঁচে উঠে এক চড় মেরে ওথেলোকে বলে," উইথিন এ পার্ক অফ লাসটি ফ্লাওয়ারস, দি চার্ম অফ হিস্ ফ্লুট এস এম্পাওয়ার্স … গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে, বিসরি ত্রাস-লোকলাজে. সজনি, আও আও লো, জয়েন মি জয়েন মি জয়েন ওহ"
শুধু এই হাসিতেই কেটো বাসের জানলা, বাকিংহাম প্যালেসের দোতলা
শুধু এই হাসিতেই চ্যাটচ্যাটে ঘাম আচমকা পনেরো ডিগ্রির ম্যাজিকে চিলড
শুধু এই হাসিতেই ঢেঁড়সের তরকারির বদলে ডিনার টেবিলে অকস্মাৎ রগরগে মটন
শুধু এই হাসিতেই অফিসের বস, বাজারের ফর্দ, পুরোহিতের দক্ষিণা, ছেলের বায়না, মহুয়ার পরচর্চা, কেকেআরের রান রেট, বাজেটপেশ, আউটঅফসিলেবাস, দেশের ইকোনমি, পাশের জনের প্রতি পক্ষপাত হঠাৎ কিরকম "বেশ-তো"
শুধু এই হাসিতেই লাল-সবুজ-কমলা “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি” টপিক নিয়ে একমঞ্চে
শুধু এই হাসিতেই বামুনদল জাত-পাতের বিরুদ্ধে পিটিশন দেয়
শুধু এই হাসিতেই মাঝরাতের ভয়-ভয় হোয়াটস্যাপ আই-লাভ-ইউ মেসেজটা গান্ধীজির স্ট্যাম্পমার্কা ইনল্যান্ড লেটার হয়ে পৌঁছে যায় তার ডেস্কে

শুধু এই হাসিতেই, সবাই “এই মুহূর্তে” বাঁচে

Thursday, 27 April 2017

শিল্প ভাবনা

মানুষের শিল্প ভাবনা যত্রতত্র। শিল্পকাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদের ব্যক্তিত্ব। তাদের শিল্পীস্বত্বা পাশের মানুষকেও দেয় অনাবিল আনন্দ।
এই যেমন এই ছবিটি, দেখুন ভালো করে। ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন? তাহলে অনুরোধ করবো, আরেকবার দেখুন।

-কি দেখছেন বলুন তো?
-আরে, ওই তো কটা চাড্ডি রুমাল আর মোজা।
-ধুস, ভালো করে দেখুন। রুমাল গুলি দেখুন বাঁ দিক থেকে ডানে। কিরকম রংগুলি গাঢ় থেকে ধূসর? আবার উল্টোদিক থেকে ধূসর থেকে গাঢ়। এবার মোজাগুলি দেখুন। এর মধ্যে আবার অন্য বৈচিত্র। গাঢ়-ধূসর-গাঢ়।
- কি বুঝলেন?
- কি আর বোঝার আছে বলুন তো?
- বটে, এবার তো আপনার শিল্পচিন্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে মশাই। দেখুন এর মধ্যে আছে নিষ্পাপ অভিরাম শিল্প। এবং এর মাধ্যমে শিল্পীর চরিত্র প্রকাশ পায়। চারটি প্রধান বৈশিষ্ঠ্য নজরে পড়ে।

প্রথমত
শিল্পী নিশ্চয় কাজে-কর্মে বেশ নিপুণা। ঘরে বাইরে নিশ্চয় তিনি অনবদ্য়।

দ্বিতীয়ত
এনার হাতে সময় অনেক। তাই সময় নিয়ে এক এক করে এগুলি সাজিয়েছেন।

তৃতীয়ত:
দেখুন মহিলারুমাল এবং পুরুষমোজা বেশ কাছাকাছি। মানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাকে বলে বেশ মাখোমাখো।

চতুর্থত:
রুমালের ক্ষেত্রে রং ধূসর থেকে গাঢ় অর্থাৎ বেশ খুশিতেই দিন কাটছে শিল্পীর। মোজার মধ্যে বৈচিত্র্য সুতরাং স্বামীর জীবন বেশ রঙিন। রঙের ওঠানামা নজরে আসে। কিন্তু তা সংযত।

তাছাড়া ব্যালান্স মানে সামঞ্জস্য ব্যাপারটা শিল্পী ভালোই বোঝেন। সে সংখ্যার দিকেই হোক বা জোড়ায়।
ম্যাট্রিমোনিয়াল নয় একই রকম একটি মানুষের প্রয়োজন এ সমাজে। শিল্পীর সাথে আলাপচারিতাতেই কিছু জ্ঞানবৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ থেকেই যায়। কি বলেন?





Tuesday, 25 April 2017

হাঁস ত্যাগ

দাদা- বুঝলে ভাই, হাঁস ত্যাগ করলাম

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - সেকি রোস্টেড প্রিপারেশনটা তো মারাত্মক ছিলো, বৌদির হাতেই তো প্রথম খেলাম। বৌদি, দাদা কি পাগল হয়ে গেলেন নাকি।

বৌদি (কোমড়ে হাত দিয়ে ভুরু কুঁচকে দাদার দিকে শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে)
(থতমত দাদা)- মানে আমি তো ফেসবুকএ যাস্ট  .....

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো- আবার ফেসবুকেও জানাচ্ছেন নাকি এসব। আরে বাবা প্রোটিনএর দিকটাও যদি দেখেন, তাতেও তো হাঁস এগিয়ে চিকেনের থেকে, বৌদি আপনিই বলুন তো। 

বৌদি (শ্যেনদৃষ্টি এখনও) - গতমাসে বুড়ির জন্মদিনের দিন যে বললে, হাঁস-আইটেমটা তোমার খাসা লেগেছে! তবে কি শুনছি এসব হ্যা?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - তবে। তাছাড়া আপনি না খেলে বৌদি কি আর শুধু নিজের জন্য রাঁধবে! তাছাড়া বৌদিরও তো প্রোটিন দরকার নাকি এই বয়সে। (বিড়বিড় করে) আর আমাদের জন্য!!!!

(এখনও থতমত দাদা)-কি যে হচ্ছে একেবারে ধরতে পারছি না যে ভাই। কি রাঁধবে ভাই?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো -আরে ধুর বাবা, ওই যে বললেন হাঁস। ত্যাগ করলেন যে!

(এইবার ধাতস্ত দাদা)-না না হাঁস না হাঁস না। হাঁস ছাড়া যায়। ঐটা তো মানে সত্যিই 
তোমার বৌদির ওতে জুড়ি নেই। আমি তো হ্যাস ট্যাগএর কথা বলছিলাম। নতুন শিখলাম ফেসবুকে। 

বৌদি (লুকিয়ে মুচকি হেসে)- বুড়োর ভীমরতি যত্তসব।


বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - ও হরি। মশায় পুরো দিয়েছিলেন একেবারে টেনশনে ফেলে। বলছি কথা যখন উঠলোই, হবে নাকি কাল? নিয়ে আসবো নাকি দাদা আজ?

Wednesday, 19 April 2017

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়?

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়? কোয়ালিফিকেশন নয় পকেটমারাটা?

কোন পকেটটা টার্গেট, দূর থেকে সেটা পরিমাপ করা। বাসে-ট্রামের দুলুনি সহ্য করা, লোকের ঘাম-বগলের গন্ধ সে সব তো ছেড়েই দিন। লোকজন নাকি ডিও মাখে। ধুর ধুর খুব খারাপ কোয়ালিটি। ডিও কোম্পানিগুলোর উচিত আমাদের থেকে রিভিউ নেওয়া।

সে যায় হোক, পকেটমারের ঝক্কি জানেন? পকেটের পিছনে সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষকে কমফোর্ট দেওয়া। ভিড়ে ওই মসাজ খেয়ে যখন তারা মোটামুটি নিরূপদ্রব নিয়ন্ত্রণাধীনে, তখন বকশিস হিসেবে ঐটুকু আর এমন কি। তাতেও তো ঠকে যাই, মশাই। একে তো ওই মানিব্যাগগুলো সব চাইনিজ মাল, তার মধ্যে ক্যাটরিনা কাইফের দাঁত কেলানো ছবি, দশ টাকা, দাঁত খুচানোর কাঠি। এই সব দেখলে মটকাটা একেবারে.... একবার তো পেলাম পাঁচশো টাকা। পেয়েই মনে হলো, যাক আজ পিঙ্কিকে নিয়ে আটটা-এগারোটার একটা শো ঠুকে দেব। শ্লা, জানলাম টাকাটাই নাকি এখন অচল। সে টাকা ভাঙাতে লাইন-টাইন দিয়ে মাইরি, খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে গেলো। মোবাইল ফোবাইল ছুঁই না। ও সব সালটানো খুব মুশকিল। মেয়েদের ব্যাপারেও হেভি রিস্ক। তাই ওব্যাপারে কোনোদিনই সাহস করিনি। তাছাড়া ওদের গলায়-কানে আজকাল যা সব আইটেম, ও সব দেখে ওদের জন্যই মায়া হয়। এক একবার মনে হয় ডেকে বলে দি, "দিদিমনি গলা-ঘাড়টা তো আপনার কালো হয়ে যাচ্ছে, ওসব বাজে কোয়ালিটির মাল পড়বেন না". তবে মেয়েদের মুডের ঠিক নেই তো, কিসে কি হয়, সেই ভেবে আর সাবধান করতে যাইনি।

আচ্ছা সবই কি খারাপ করি বলুন? এই মানিব্যাগগুলোর যা একেবারে জরাজীর্ন অবস্থা, পকেটমার হওয়ার পর যখন ভদ্রলোক নতুন আরেকটা কেনেন, মনটা কিরকম খুশি খুশি লাগে বলুন তো? সেদিন তো মানিব্যাগের সাথে একটা চিঠিও পেলাম। মাফ করবেন, পড়ে ফেলেছি, হে হে। ওতে যা পড়লাম তাতে বুঝলাম, বৌয়ের হাতে ওই টিনা-ময়নার চিঠি পড়লে, ভদ্রলোক খবরের কাগজের হেডলাইন হতেন। ভদ্রলোকটিকে কিরকম মারাত্মক বিপদ থেকে বাচালাম, বলুন। হয়তো, ওই ভদ্রলোকের খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হয়ে যেত, সে রাতে বাড়ি ফিরে পকেটমারির গল্প করতে করতে, বৌয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন, তখন হয়তো আর ডিভোর্সের কথা ভাবতে ভালো লাগছে না তাদের।

আর এদিকে আমার কাছে বরং চিঠিটা সেফ। পিঙ্কিকে চিঠি লেখার একটা ইনস্পিরেশন কপি হিসেবেও রইলো। আমার তো আর কাব্য ফব্য আসে না। এইসব লিখলে পিঙ্কি হয়তো খুশি হয়ে উঠলো। সারাদিনের ঘাম, দুলুনি, ঠেলাঠেলি, মার্ খাওয়ার টেনশন, এসবের পর শুধু ওই ওর হাসি মুখেতেই তো সব জমা-খরচ ডেবিট-ক্রেডিট মিলে মিশে কিরকম যেন .... মম..... কিরকম যেন লাল-মার্কা তীর-চালানো-দিল হয়ে যায়।


Wednesday, 12 April 2017

ঘরোয়া পদ্ধতি

রসিকবাবুর বিয়ের পরের একসপ্তাহ, পঙ্গপালের মতো আত্মীয়দের বিদায় দিতে দিতেই চলে গেলো। বৌয়ের সাথে বসে দুদণ্ড কথা বলবে তার উপায় নেই। আজ আপিস থেকে বাড়ি ফিরে দেখে বাড়ি ফাঁকা, অনলি বৌ রান্নাঘরে, ফ্রায়িং বেগুউউনি। উফফফফ লাভলি। 
- ওগো খেতে এসো? বেগুনভাজা গুলো তুলে রেখেছি। দেরি কোরোনা কিন্তু, ঠান্ডা হয়ে যাবে। 
- হে হে 
-হাসছো কেনো গো? কি হলো? এসো খেয়ে নাও। 
- হে হে হে হ্যা যাচ্ছি হে হে 
-কি হলো গো তোমার? হাসছো কেনো।
- হে হে কিজানি কেনো
-মানে, ওমাগো পাগলের সাথে বিয়ে হলো নাতো? কিগো না হেসে খাও না গো। কি দেব বোলো।
- এগুনি ব্যাকটা। হে হে
- মানে?
- না এগুনি ব্যাকটা ধুর হে হে বেগুনি একটা। হে হে যুলিয়ে গাচ্ছে। ধুর গুলিয়ে যাচ্ছে। হে হে।
(হাত পা ছড়িয়ে)- ওগো বাবাগো মাগো , একি হলো গো। এই তুমি কি পাগল? হাসছো? ভুলভাল বকছো?
রসিকবাবু হেসেই চললেন। বেগতিক দেখে পাড়ার সাহিত্যিক কাম ডাক্তার সুবিমলকে ডাকতে হলো। অবস্থা বিচার করে, সুবিমল বললেন,"রেয়ার কেস। বিয়ের কদিন খুব হা হা করে হাসার ফলে, মুখের পোস্টেরিওর পিলার আর ইন্টেরিওর পিলার তীব্র অভিমান করেছে। বুঝলেন না? মানে মুখের ওপর আর নীচ, তীব্র অভিমান, কিছুতেই কাছাকাছি আসতে চাইছে না। এতদিন কিছু সিম্পটম বোঝেননি? মান ভাঙাতে হবে। জিভ ওদিকে ঘটক হতে গিয়ে বিপদে পড়ছে। তীব্র বিরোধিতায় খেই হারিয়ে ফেলছে।"
-উপায়?
-হমমম ওই আর কি ইয়ে মানে চুম্বন। দুটি অভিমানী বিপরীতগামী মেরুকে এক করতে ঐটিই একমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতি। কি করবেন দেখুন। নাহলে এম্বুলেন্স ডাকি?
রসিকবাবু সবটি শুনে জোরে জোরে বললেন,"হে হে হে হে হে হে হে হে"


Saturday, 8 April 2017

বোতল এট ইওর সার্ভিস, চিয়ার্স

নতুন বিয়ের পর অনেক কিছু পরিবর্তন হবে, এই সাবধান বানীর অন্ত ছিল না. বিয়ের পর তাই যা কিছু পরিবর্তন তার সাথে মোটামুটি একপ্রকার সমন্বয়সাধন করা গিয়েছিল. মদ্যপানের সাথেও. 
এমনিতে বৌ আমার অপর্না সেন, শুধু ওই .. মানে .. মদ্যপান নিয়ে একটু ছায়াদেবী গোছের. আমি আবার লুকিয়ে চুড়িয়ে কিছু করে বৌয়ের কাছে কেস খেতে নারাজ. তাই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেল্লাম.সুযোগ বুঝলেই শুরু করলাম এলকোহলের গুরুত্ব​-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ছোট ব​ড় অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা. মুখ ঝামটা, রবিবার সকালের আধসিদ্দ আলুর দম, রাতের মশারি টানানোর বিরক্তিকর ডিউটি সব মুখ বুঝে হজম করলাম. এট লাস্ট একদিন বৌ বলে ওঠে, "এনোতো দেখি একটা ওয়াইন, কাল বিউটিশিয়ান রিনা টিভিতে বলছিলেন ওটা খেলে নাকি স্কিনে গ্লো আসে!" ইয়াহু উ উ উ উ চাহে কোই মুঝে জঙলি কাহে..... ওয়াইন জিনিসটাতে আমিও তখন সেভাবে অভ্যস্ত নই যদিও, লেকিন কুছ পরোয়া নেই.....বিউটিসিয়ান রিনাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করলো। না মানে ধন্যবাদজ্ঞাপন হিসেবে। যাই হোক পরের দিনই একটা রেড ওয়াইন নিয়ে হাজির হলাম.. উত্তেজনায় ঘেরা সন্ধ্যেতে গদ গদ গলায় বল্লাম, কি গো খুলবো? গিন্নীর ঘাড় নাড়া ওয়িথ মুচকি হাসি দেখে আমি তো তখনই মাতাল. ওপরের প্লাস্টিকটা খুলতেই, দেখি বোতলের মুখে কর্ক. বুঝলাম যত সাধ্য সাধনা এর আগমনের জন্য, আগমনের পরবর্তী বন্দোবস্তের প্রতি অবহেলা হ​য়েছে, মানতেই হবে. কর্কস্ক্রু নেই বাড়িতে! ঠুকঠাক-দুমদাম-টানা-হ্যাঁচ​ড়া যন্ত্রবিজ্ঞানের যাবতীয় কৌশল প্রয়োগ করে যা দেখা গেল, হিতে বিপরীত হ​য়েছে, কর্ক আর ও ভিতরে ঢুকে গেছে! বৌয়ের ভুরুযুগল কাছাকাছি আসছে, মানে আসন্ন ঝ​ড়ের সংকেত. ওদিকে কর্কও বিপরীতমুখী. রাত তখন একটা. বৌ ইতিমধ্যে যুদ্ধের অভিপ্রায় ত্যাগ করে হাই তুলছে আর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিতে দিতে বলছে,"হোলো, বোতল খোলা?" কথাটা স্ট্রেইট ছবি-বিশ্বাসী-অভিমানী-হৃদয়ে হিট করল. করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে. দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে পাতি বাঙলা আইটেম মানে সাঁড়াশি নিয়ে দিলাম এক বাঙালি ঠোকা কর্কের ওপর, ব্যাস কর্ক আত্মসমর্পণ করে টুপ করে পরলো বোতলের মধ্যে, সাঁড়াশি ই  ই ই, তোমায় কুর্নিশ..... বৌ, বোতল এট ইওর সার্ভিস..... চিয়ার্স…


পুনশ্চ: বৌ গ্লাস হাতে নিদ্রালু চোখে জিজ্ঞাসা করেছিল,"বোতলের ভিতরে ওটা কি ভাসছে যেন".... আমি বলেছিলাম," ও আমাদের প্রেম গো, ওই রূপরাশি আপনা বিকাশি. রয়েছে পূর্ণ গৌরবে ভাসি"

Monday, 3 April 2017

গাইয়ে হবু-জামাই

বেশ অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মেয়ে কমলা নাকি প্রেম করছে, তাও আবার এক গাইয়ে বাউন্ডুলের সাথে। মেয়ের বাবা ডেকে পাঠালেন গাইয়েকে। ইন্টারভিউ টাইম উইথ প্রবাবল-হবু শ্বশুরমশাই।
---------------------------------------------------------
-কতদিন ধরে চলছে এসব?
-পুরানো সেই দিনের কথা, হায় ও সেই, চোখের দেখা প্রাণের কথা .....

-থাক থাক ওকি গান শুরু করলে কেন? বলছি যে, কিছু করা হয়? নাকি বাবার হোটেলেই....
-হা-আ-আ-আই। নাই কাজ নাই। দিন যায়, দিন যায়। আয় আয়, আয় আয়। হাতে কাজ নাই॥

- ও বাবা তারমানে লবডঙ্কা!
-তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে,আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে ....

-কি জ্বালা! আরে বাপু কি খাওযাবে আমার মেয়েকে?
- আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছু তো নাই বাকি, ওগো নিঠুর, দেখতে পেলে তা কি ....

-কি কপাল, মা কমলা আর কোন ছেলে পেলে না মা, শেষে এই? তা ছেলে, তোমার বাবা-মা কি বলছে?
- হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো--সুর হারালেম অশ্রুধারে....

- বটেই তো, তা হবে না, এ ছেলের জন্মমাত্রই মা-বাবার এই হাল বলে আমার মনে হয়! বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো কেস, তা কি আমার ঘাড়ে পড়বার পরিকল্পনা নাকি?
- হৃদয়-আবরণ খুলে গেল তোমার পদপরশে হরষে ওহে দয়াময় ....

- জানতাম আমি, এ সব কেস কি করে ঠিক করতে হয় আমি জানি.
- হৃদয় মোর কোমল অতি, সহিতে নারি রবির জ্যোতি, লাগিলে আলো শরমে ভয়ে,মরিয়া যাই মরমে॥

-- (মাথায় হাত দিয়ে)হে ভগবান ....
-- (ইন ঘরে-বাইরে-সৌমিত্র স্টাইল) শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।