Showing posts with label হেরিটেজ কথা. Show all posts
Showing posts with label হেরিটেজ কথা. Show all posts

Monday, 5 November 2018

রঙ্গমঞ্চ

কালীপুজোর পাড়া-ভোজন।
প্রথমদিন আমিষ। দ্বিতীয়দিন নিরামিষ।
অবাধ খাবার আয়োজন, তার ওপর আমিষ। পাড়ার রিকশারাজু থেকে ডাক্তার হাজরা, মণ্ডপে সবার হাজিরা।
বাঙালি কে কোন শ্লা অসময়নিষ্ঠ বলে?
বেলা বারোটায় রান্না রেডি, খাবার লোক নেই। ঠিক একটা বাজতেই, জনজোয়ার। সব বাঙালির একসাথে খিদে পায়। ফ্রি -এর খাবার পেতে এবার লাগা লাইন। খিদে এবার পেট থেকে মাথাতে। পুজোর দিনে, মণ্ডপে গালাগাল দিলে, দেবীর কোপে পড়ার ভয়। ঢোক গেলা ছাড়া নো উপায়। ইতিমধ্যে পেট ভরপেট করে দাঁত খুঁচতে খুঁচতে বেরিয়ে আসা লোকজন-এর "জিতে গেছি কাকা" টাইপ বাঁকা চাহনি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া। এ যেন যুদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে পড়ে মিনি-পুকুর। লাইন এগোয় অনুপমের কাছিমের মতো। "গুটি গুটি পায়ে আর এগোতে পারে না"। শেষে পুকুর উপচে পড়ার আগেই এক ঠেলাতে একেবারে ফ্রাইড রাইস এর কাউন্টারে। তারপরে স্বপ্নের মতো ফিফটিন মিনিটস। ততক্ষনে পেট দয়াভিক্ষা করে ক্লান্ত। তুবড়ির মতো একটা জম্পেশ ঢেঁকুর দিতেই এ হে হে ...... ফিফটি পার্সেন্ট মাল হড়হড়িয়ে বাইরে। আসলে গলার নিচে ডাউনস্ট্রিম ফ্লো করবে, সে সময়টা পায়নি বেচারা। ঢেঁকুরটা চিরকালই অবাধ্য। আইটেমগুলোকে পেটে স্টে ই যদি না করানো গেলো, তাহলে তো যুদ্ধ-এ ফেল। যাক কেউ দেখেনি। মুখ-টুক ধুয়ে বেরিয়ে পড়লেই বাঁচোয়া। আরে ওদিকে কি? ভিড় কেন? পান-সুপারি টা মিস হলো নাকি? আরে এ হে হে, এতো আরেকজন বমি টমি করে ......
তাহলে এখন বাঙালির টাইম টু এক্ট এস এ শুভানুধ্যায়ী
"আরে কেন এতো খাস? ফ্রি এর মাল দেখলেই হামলে পড়বি? একটু বুঝে খাবি তো নাকি ..... মণ্ডপের এখানে এ হে হে কি ময়লা" ....... এবার কব্জি গুটিয়ে বেরিয়ে পড়া যাক মানে মানে। হে হে সবই "এ মায়া প্রপঞ্চময় ভব রঙ্গমঞ্চ মাঝে"।

Wednesday, 31 October 2018

আসলেতে পাখি সে

টেবিল ১:
শোন্ শোন্ কন্সেন্ট্রেট করতে শেখ। সামনের কালীপুজোতে তুবড়ি প্রতিযোগিতা। নোটবুকটা বার কর দেখি। তুবড়ির মশলার মাপটা ঝালিয়ে নেওয়া যাক। চল চম্পাহাটি। চারটে কাটলেট বলে দে।

টেবিল ২:
অনিককে ফোন করে "হ্যাঁ" বলেই দাও রুমাদিদি। কবিরাজি অর্ডার করবে তো আজ। স্পেশাল ডে বলে কথা।

টেবিল ৩:
আর শোনো, কাল কিন্তু ইলেকট্রিসিটি বিলটা জমা করতে হবে। শুনছো তুমি? আরে আবার কফি অর্ডার করলে যে। উঠবে কখন?

টেবিল ৪:
একটা ব্রীজ রিপেয়ার করতে কতদিন লাগে বলুনতো বরুণবাবু? আমরা নাকি এখন দ্রুতগতির যুগে? ধুর ধুর, এখন কফিটা পেলে হয় সময়মতো।

টেবিল ৫:
পাগলা দাশু জানিস না? পড়িস নি? আচ্ছা মটন মামলেট ..... মানে ওই ওমলেট, খা। খেতে খেতে বলছি।

টেবিল ৬:
বাবার শরীরটা বিগড়েছে। এখানে এসেছি শুনেছে যখন, কাটলেট প্যাক করিয়ে নিয়ে যেতে হবেই গো।

টেবিল ৭:
শোনো তোমার এই রোজকার অভিযোগ শুনে আমি এবার ফেডাপ। আমি কি এতোই খারাপ? এবার দেখবে একদিন সম্পর্কটা এতোই তেতো হবে যে দুজনেই ভ্যানিশ হয়ে যাবো। কোল্ড কফি বলবো?

টেবিল ৮:
পলাশপ্রিয়াকে ভুলতে পারছিস না? একেবারেই না? আজকাল কোয়ালিটিতে বেড়ে গোলমাল দেখছি। নাহলে ০৪ মাসের প্রেম ভুলতে চার কাপই তো যথেষ্ট। যাক তুই দশম কাপটা ট্রাই করেই দেখ তো। কাজ হবেই। হতেই হবে। এই বাড়ির কফির ওপর ভরসাটা এতো সহজে ডাইলিউট হতে দেওয়া যায় না।

টেবিল ৯:
আজ পুরো আঠারো বছর পর তোমার সঙ্গে দেখা। কেমন আছো তুমি? ফিশ ফ্রাই এখনো তেমনি ভালোবাসো? নাকি চেহারার সাথে সাথে স্বাদও বদলেছে?

======

ধুস আড্ডা নয়, কোনো এক অদৃশ্য লেখকের ইচ্ছে হচ্ছে আর টেবিলে টেবিলে তৈরী হচ্ছে ইমোশন, কফি হাউসের স্টিমুলেশনে তাতে টপাস টপাস ফোঁটা ফোঁটা টুইস্ট।

ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে; যার খুশি দেখে এস "কফি হাউসে"।



Wednesday, 16 May 2018

গড়িয়াহাট এর মোড়ে

গড়িয়াহাট এর মোড়ে রক্তারক্তি কাণ্ড। 
রসিকবাবুর হাঁটুতে চোট, দোকানদারের থুতনিতে।
ভিজিটর দের কেউ কেউ হালকা আহত, কারও পা, কারও হাত, কারও নাক, কারও পেট। বাকিরা তীব্র মানসিক চাপে। 
চারিদিক থেকে চাপা উত্তেজনা। গজগজ। খসখস। ফিসফাস। ফোঁস ফোঁস।
ট্র্যাফিক পুলিশ চলে এসেছেন। 
বুঝলেন যে, গরমই ছিল। ফুলকোও বটে। আলুও চন্দ্রমুখী। নুন - চিনি যথাযথ।
তবু .......
কিছুক্ষন ভেবে হঠাৎ মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,
"আরে সমস্যা টা আগে বলবেন তো। আরে আমার বউ ভারী করিৎকর্মা। বাড়িতে লঙ্কা গাছ লাগিয়েছে। সারা বাড়িতে শুধু লঙ্কা আর লঙ্কা। দেখুন দেখি, ব্যাগে ও রয়ে আছে বেশ কয়েক টা। এতদিন বিরক্ত হতাম। এই আজ দেখি কাজেই লাগলো। সকাল ৬ টাতে কি আর এ জিনিস এখানে চাইলেই পাবেন? যা ডিমান্ড। এই যে নিন। (বলেই, পিঠের ব্যাগ থেকে বার করলেন একটি কচি সবুজ টসটসে কাঁচা লঙ্কা।) আরে নিন মশাই নিন, লজ্জা পাবেন ন ন না ..... এই একি এই কাড়াকাড়ি করবেন না .... এই একি.... কি হচ্ছেটা কি, একি লঙ্কা কান্ড!!"



Monday, 23 October 2017

আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ

-ও এম জি! দিস ইস ড্যাম অসাম ইয়ার। এটা বট না অশ্বত্থ?
-অশ্বত্থ গাছ। খুব পুরোনো হবে। বাড়িটাকে পুরো জাপটে ধরেছে। হে হে যেন বাড়িটা ওর প্রেমিকা।
-তুই এই দেখছিস? আমি ভাবছি, প্রোপার্টিটার কি বিচ্ছিরি অবস্থা। নিশ্চয় ছেলে-মেয়েরা সব আমেরিকা-লন্ডনে। আর কোর্টে কেস চলছে। হিয়ারিংয়ের ডেট পিছোচ্ছে। সেম ওল্ড স্টোরি।
-ধুস। তুই আনরোমান্টিক। আমার মতো করে ভাবলেও তো পারো দেবী ফর আ চেঞ্জ। শিকড়-এ একটা আর্ট আছে, দেখ। লুক্স লাইক একটা মেয়ের এলোমেলো সাহসিনী চুল।
-আমার তো মনে হচ্ছে একটা নাম্বার, সামথিং লাইক থার্টি নাইন?
- হে আমার আনরোমান্টিক, সংখ্যাতত্ববিদ দেবী, আপনি এর মধ্যে কোর্টের কেস আর সংখ্যা ছাড়া আর কিছু পেলেন না দেখে নিশ্চিন্ত হলাম।
- নিশ্চিন্ত কেন?
- বিয়ের পর সংসারের জমা-খরচের রেসপনসিবিলিটি তোমায় দিয়ে আমি মাতবো আপন তালে।
- স্যাট আপ।
- আচ্ছা আচ্ছা, যাক ফটো তুলে নি কি বল। রাতে একবার আসবো। বিউটিফুল একটা ক্যাপচার হবে এক্সপেক্ট করছি।
-এই, আজ কি রে? পূর্ণিমা না অমাবস্যা?
-ওহ গস। কাম অন। আমি কি বলছি, আর তুই কি বলছিস! আই ডোন্ট নো ইয়ার, পূর্ণিমা না অমাবস্যা। কাল রাতে কালীপুজো গেলো। নিশ্চয় অমাবস্যা হবে। রাইট?
-দিদা বলতেন, অমাবস্যার রাতে বট বা অশ্বত্থ গাছের তলায় যেতে নেই!
-ডোন্ট টেল মি, সেটা তুই বিলিভ করিস আজও। প্লিস লেট্ মি কন্সেন্ট্রেট। আজ রাতে আসছি। একটা ফাটাফাটি ক্লিক তোমাকে উপহার দেব বেবি।
=======================
"আজ কি অপরূপ সাজ তোমার হে পৃথিবী
অশ্বত্থে আজ লেগেছে হাওয়া, উত্তাল মাধবী।
হা হা হা হা। আজ অমাবস্যা। অশ্বত্থের আজ কামনা জেগেছে, আবার। আবার সে আজ মহাতরঙ্গময়। যেমন হয়েছিল আজ থেকে ষাট বছর আগে। পাতায় পাতায় কেমন ইশারা। ডালে ডালে চলেছে সর্বনাশা খেলা। শিকড়গুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। উদ্দণ্ড শক্তি চেপে বসেছে ওতে। আজ কি নেশায় মেতেছে যেন। গুণে দেখেছো উনচল্লিশ। সেই উনচল্লিশটা খিদে মিটিয়েছিলো অশ্বত্থ একে একে উনচল্লিশ তাজা প্রাণে। আরে আরে এ ছেলে-মেয়ে দুটি কোথায় যায়? ওদের আটকাই কিভাবে। এই কি বিধাতার ইচ্ছে? আজ কি আবার? আবার? না, না ..."
=========================
-এই পিনটু দেখ দেখ, অশ্বত্থ গাছটা কিরকম বেড়ে গেছে এক রাতে?
-আরে ও সব ওরকমই। বাড়িটা কোনদিন ভেঙে পড়বে, দেখিস।
-এই দেখ দেখ, শিকড়ে এমন জড়িয়ে আছে, যেন কি একটা বোঝাতে চাইছে।
- ওই আবার। আবার সেদিনের মতো। আজ কি সংখ্যা? নাকি আজ তোকে ডাকছে, বলছে, দোল খাবি? হ্যা? হা হা।
-আরে ইয়ার্কি না। সত্যি দেখ, শিকড়গুলোর আঁকাবাঁকা পথ গুলো দেখ। কিরকম একটা যেন লাগছে। মম ... ওই চার আর এক দেখ দেখ একচল্লিশ। একদম যেন একচল্লিশ। ও ও ওই ও ও ওই কিছু শুনতে পাচ্ছিস? একটা চিৎকার? কেউ যেন কিছু বলতে চাইছে?


-ধুর ভাই। চল তো যত্তসব। এই সেদিন বলি উনচল্লিশ। আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ। আবার চিৎকারও শুনছিস? তুই কবিতা লেখ না হয় ডাক্তার দেখা। হা হা। এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? ধুর। শোন। সামনের অমাবস্যায় রাতে আসবো দুজনে কেমন? কিচ্ছু ভয়ের নেই। একবার রাতে এখানে এসে বসবো, দেখবি ভয়-টয় সব হাওয়া। কবে রে অমাবস্যা? পরশু?

Saturday, 7 October 2017

থিমের প্যান্ডেল

রসিকবাবু ফাইনালি এবার হুপহাপ্ করে হপিংয়ে বেরোলেন, গিন্নিকে নিয়ে প্যান্ডেল। 
- বেহালা মন্দ কি। প্যান্ডেল সে তো আছেই। অশোকার মোগলাইও তো আছে। বেঙ্গল হোটেলের মটন কাটলেটও তো .... 
(গিন্নি কটমট চোখে)- বেরোতে না বেরোতেই খাওয়ার চিন্তা এসে গেলো, তাই না? বলি বিয়ের পর এই প্রথম তো নাকি। 
- আহা এতো হাটবে, শরীর টাকে রাখতে হবে না? তাছাড়া তোমার পছন্দের প্রচুর ডালডা ঢালা এগরোলও তো আছে- এগরোল ফ্রম হাজি, কি রাজি?
(গিন্নি) - সে পরে দেখা যাবে। চলো চলো, এতে ঢোক তো। কি সুন্দর প্যান্ডেলটা। এই কি থিম গো এইটের?
- দাড়াও বুঝে দেখি। ভিতরে চলো। ওকি কিছুই তো নেই। প্যান্ডেল কি কমপ্লিট হয়নি নাকি? সব তো ফাঁকা। নাকি চোখে দেখা যাচ্ছে না? বললাম কাটলেট খেয়ে ঢুকি। তাতে চোখ-মাথা সব ভালো খোলে। থিমের প্যান্ডেল বোঝা কি সহজ নাকি? নিড এলেম গিন্নি।
(সিকিউরিটি) - স্যার ওপরে তাকিয়ে দেখুন। টেবিল, চেয়ার, আলমারি সব ওপরে সাঁটানো। বুঝলেন না? এটাই থিম। যেন বাড়িটা উল্টে গ্যাছে।
(গিন্নি) - এই এই ওকি কি করছো, ওগো কে কোথায় আছো গো? এই এরকম শুয়ে পড়লে কেন? দেওয়াল বেয়ে কি করছো?
রসিকবাবু ততক্ষনে দেওয়াল বেয়ে মাথা নিচে, পা ওপরে।
- আহা আহা গিন্নি এইবার থিম টা বোঝা যাচ্ছে। থিমের নাম "শীর্ষাসন"। ঠিক বলেছো গিন্নি, আগে থিমের প্যান্ডেল, তারপর কাটলেট। না হলে এতক্ষনে কাটলেট মাথায় চড়তো।


Tuesday, 3 October 2017

বাঁশ

"বাঁশ" শুনলেন কি ব্যাস অমনি সব ভয়ে ভ। বলি বাঁশকে ভয় পান কেন? আরে মশাই, বাঁশ তো আর নিজে নিজে ভয় দেখায় না। যত্তসব। বাঁশ-ক্যারিয়ারদের ভয় পাওয়াটা বরং লজিকাল। বাঁশ-ক্যারিয়াররা বাঁশকে অন্য-এর ওপর ইউস করলে, তাতে বাঁশের কি দোষ বলুন তো? বেচারা নির্ভেজাল শান্ত বাঁশটি। এভাবে ওকে ভয় পেতে থাকলে আর খিল্লি ওড়াতে থাকলে একদিন যে বাঁশ বাবাজি নিজেই ভয় দেখাতে হামলা করবে না, সে গ্যারান্টি নেই কিন্তু। বাঁশ বলে কি, আত্মসম্মান নেই নাকি! ভাগ্যিস পুজোর প্যান্ডেলে বছর বছর তার একটু সন্মান প্রাপ্তি হয়। না হলে ওনাকে বাগে আনা মুশকিল ছিল। এবারের পুজোতে বাঁশ বাবাজি হেব্বি হ্যাপি সুরুচি সংঘ-এ। তার মেক ওভার আগেও হয়েছে বটে তবে এখানে লুকটা জাস্ট ফাটিয়ে। তৈরী হয়েছে বাঁশ-মানুষ। উচ্চতায় সাধারণদের দু-গুণ। সিক্স প্যাক, বাই-ট্রাই সেপ্স, চেস্ট, মানে একেবারে জমে রাবড়ি। মানুষ-মানুষ সেজে বাঁশের সে কি ঝিং-চ্যাক হাবভাব! সাধারণ মানুষ যখন ভিড়ে গুঁতোগুঁতি করে, ঘাড় উঁচিয়ে, হা করে, শুধু ঢোক গিলছে, বাঁশবাবুর কি মজা। মনে মনে হেব্বি হেসেছে। সে এক কান্ড বটে।

পুনশ্চ: বাকি সবাই যেমন তেমন বাঁশ সামলেছে। কিন্তু অসুর টেনশনে সবুজ হয়ে গেছে। যতই হোক ভিলেন, যতই থাকুক ত্রিশূলের গুঁতো, যতই কামড়াক সিংহ, ফিজিক এর দিক দিয়ে একটা ফেভারেবল পসিশন তো তার ছিল এতদিন নাকি! সেটাকেই চ্যালেঞ্জ? দু হাত তুলে বলছে, "কি বাঁশ। কি বাঁশ"


দেবীকে চক্ষুদান

পূজার বেদীতে বসা দেবীকে যেমন ইচ্ছে সাজাতে পারি, বলেই কি তার প্রতি এতো যত্ন? এতো মন আকুল করা ভালোবাসা?
না হলে, রক্ত-বুদ্ধি ওয়ালা জীবের প্রতি এতো অন্যায় কেন? তাদের বুঝি যেমন ইচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করা কিঞ্চিৎ দুস্কর? 
কাউকে বেশ করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার মধ্যে মনের জ্বালা মেটানো তৃপ্তি আছে একরাশ, তাই না?
যে দেশ কাউকে স্বচ্ছন্দ-স্বাধীন হতে দেখতে পারে না, সে "দেশ লয় গো কত্তা, দেশ লয়। সে দেশলাই, ভিজে দেশলাই। ক্ষুদ্র, সংকীর্ণ, ক্ষমতাহীন।" 

কুমোরটুলিতে আজ দেবীকে চক্ষুদান করা হচ্ছে, দেখুন দেখুন দেবী হাসছেন। এই দেশের অন্তরে চক্ষুদান কবে হবে?

গোলবাড়ি

এক প্লেট মটন কষা। এক প্লেট মটন কিমা। সাথে পরোটা। ব্যাস এইটুকুই। 
তাং মাত কারো। 
বাকি কিছু মনে নেই, মশাই। মনে থাকার কথাও নয়। মেডিটেশন -এ কতটা কন্সেন্ট্রেশন লাগে, সে যারা করেন তারা জানেন, বোঝেন। মনপ্রাণ এক করে চিন্তন-মননকে ভাসিয়ে দিয়ে তবেই তো আধ্যান। গাঢ় খয়রী রং আর তেলের ভাবাবেগের মাঝে সে আধ্যান তখন পিকে। আমির খানের পিকে নয়। ইংরিজি পিকে। মানে শীর্ষ-এ। ঘোর কাটল যখন সামনের প্লেটে লেগে তেলের বিন্দু। হাত ভার্টিক্যালি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আঙ্গুল চেটে ফিনিশিং টাচ চলছে তখন, কানে ভেসে এলো,"গোলবাড়ি কেন গোল নয়", "গোলবাড়ির কেন কোনো শাখা নেই", "গোলবাড়ি কেন এতো ঘিঞ্জি", "গোলবাড়িতে কেন এসি নেই", "গোলবাড়ির মেনুতে অপসন এতো কেন কম".
হে মহাজীবন .....
নাহ মানুষের দেখছি কন্সেন্ট্রেশনের খুব অভাব। মটন কষাকে সামনে পেয়েও ফোকাস করতে পারছে না। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার আঘাত সামলাতে, প্রতিবাদ স্বরূপ কালো কাপড়, না না কাপড় নয়, ওই কালো রগরগে মটন কষাই ওই আর কি ইয়ে এক প্লেট অনলি, সাথে মটন কাটলেট আর মটন চাপ প্যাক করানো গেলো। এ শুধুমাত্র জাতির উদ্দেশ্যেই। প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে।


Thursday, 25 May 2017

তিনি আমার পরমাত্মীয়

- ওটা আবার কি?
- ভাস্কর্য।
- য়্যা? কে? কে কথা বললো? আপনি কিছু বলছেন?
- হ্যা। তুমি বললে, ওটা আবার কি? আমি তাই উত্তর দিলাম ভাস্কর্য-স্কাল্পচার। মূর্তিও বলতে পারো।
- ও কিন্তু আমি তো মনে মনেই ভাবছিলাম। আপনি শুনতে পেয়ে গেলেন!! একটু জোরেই বলে ফেলেছি, তাই না? সরি।
- সরির কিছু নেই ভাই। আর জোরেও তুমি বলোনি। আমারই সব শুনে ফেলার রোগ হয়েছে কিছুকাল ধরে। মাঝে মাঝে কানটা ঝালাপালা করে।
- হে হে আপনি মজার মানুষ তো।
- মজার? আচ্ছা তা বেশ।  ...... এই মূর্তিটার অর্থ কি ভেবে পাচ্ছ না নাকি?
- কি আশ্চর্য। আপনি কি করে বুঝলেন? আসলে আমি খুব ভাবার চেষ্টা করছি এই মূর্তির মাধ্যমে কি বলা হয়েছে? আসলে ডেবিট-ক্রেডিট করে করে মাথাটা গ্যাছে।
- বটে? কমার্স?
- ওই হ্যা হ্যা। ঠিক ধরেছেন। আর্ট এন্ড কালচারে একদম অজ্ঞ। কিন্তু জানার ইচ্ছে খুব জানেন? তাই তো শান্তিনিকেতনে  .... আচ্ছা, আপনি জানেন, বলে দেবেন, এই মূর্তির মানে কি?
- হমম বলতে পারি। তবে তোমার কি মনে হচ্ছে শুনি আগে? তারপর আমি বলবো।
- আমার দেখেই কিরকম মনে হলো ভীম। দুর্যোধনকে বেদম পেটাচ্ছে। মাফ করবেন আমার অজ্ঞতাকে।
- হা হা কি বললে ভীম? হা হা।  তা বেশ বলেছো। আর কি মনে হচ্ছে?
-  হে হে ভীম তো পুরুষ তাই ঠিক মেলাতে পারছি না। তাছাড়া দুর্যোধনের মাথাও দেখা যাচ্ছে না। তাই এখন মনে হচ্ছে কোনো মহিলা  ...
- বাহ্। বলতে থাকো। 
- কাপড় কাঁচছে। শুধু মাথাটা নেই কেন ভাবছি। মাথাটা পিছনের দিকে আর্চের মতো ঝোলানোও নেই। নাঃ। তাই আর কিছু মাথায় আসছে না। আপনিই বলে দিন প্লিজ।
- আচ্ছা, আচ্ছা। মূর্তির নিচে কি লেখা আছে, সেটা তো পড়েছো নিশ্চয়।
- হ্যা। লেখা আছে থ্রেশার। তাই তো প্রথমে ভীম ভাবলাম।
- হমম হারভেস্টার জানো? চাষীরা ফসল আছড়ায় দেখেছো? শহরে আর ওসব কি দেখবে তোমরা!! ঐটিই আছে এই মূর্তিতে। ল্যাটেরাইট মাটি আর সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে এই মূর্তি। তুমি আছড়ানোর ব্যাপারটা ভালোই ধরেছো যদিও। হা হা
- ওহ তাই নাকি। আচ্ছা, শিল্পীর ভাবনা যা এইটিই আপনি জানলেন কি করে? আপনি কি এখানেই থাকেন? লোকাল?
- হ্যা আমি সেই ঊনিশ বছর বয়স থেকে এখানেই। লোকালই বলতে পারো। লোকে আমায় খ্যাপাকিঙ্কর বলে। তবে আমি এই মূর্তির বিষয়ে জানি কারণ যিনি এটি বানিয়েছেন তিনি আমার পরমাত্মীয়। তাই  ....
- সে কি বলছেন মশাই? মানে? আপনি চেনেন তাকে? তিনি কি এখনো  ....
- বেঁচে? আমার তো মনে হয় আছেন। লোকে বিশ্বাস করেনা।
- য়্যা? মানে?
- তবে তুমি মনে হয় তার দেখা পাবে। ওই ঘরে তাকে দেখা যায় মাঝে মাঝে। 
- আপনি মশাই ভয় দেখাচ্ছেন রীতিমতো। কি বলছেন? কিছু বুঝতে পারছিনা যে। তবে এই দিনে দুপুরে এরকম....
- ঠাট্টা?
- না না মানে তা ঠিক বলতে …, উফ আপনি না মশাই  ... সব মনের কথা পড়ে ফেলেন। দাঁড়ান একবার ওই ঘরে ঢুকে দেখিই  .... ও মশাই এখানে তো সব ফাঁকা আ আ আ। শুধুই একটা ছবি ই ই ই ই। শুনতে পাচ্ছে  .... ন? .... য়্যা? আরে মশাই এতো আপনিই বানিয়েছেন যে? আপনারই ছবি তো। এতক্ষন আমার সাথে ছিলেন আর একবারও বলেননি!! আমি এতো গুণী মানুষ। আমার শিল্পকার্য্য শান্তিনিকেতনে? একি কোথায় গেলেন? মশাই  .... নামটাও বলে গেলেন না? আরে ও মশাই  ... একটা অটোগ্রাফ এটলিস্ট  .... চলে গেলেন কোথায়? ওনার নামটা ছবির তলাতেই থাকবে নিশ্চয়। রামকিঙ্কর বেজ। জন্ম - ১৯০৬। মৃত্যু? মৃত্যু? .... উনিশ্য আশি  ..... 



Thursday, 11 May 2017

শুধু এই হাসিতেই

** সিরিয়ালটা শুরু হলো ভালোই কিন্তু নায়কের আট নম্বর বিয়েটা আর নেওয়া যাচ্ছেনা।
** ভালো একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস মাথায় আসছে না!! কি মুশকিল।
** মনীষা ম্যাথসে আমার থেকে টেন মার্ক্স্ বেশি পেয়েছে বলে আমাকে এবার সামার সেলে ক্রপটপ কিনে দেবে না? কি অদ্ভুত লজিক!!
** বিরিয়ানির দামটা ফট করে কুড়ি টাকা বাড়িয়ে দিলো!! আর এ নিয়ে কোনো বিপ্লব হলোনা?
** শুধু গান গাইতে চেয়েছিলাম, এখন স্কেল নিয়ে লোকের বাড়ি-ঘরের মাপঝোপ করছি। এটা জীবন?
** শ্লা আমি ঠিক জানতাম। কাল ছুটি নিচ্ছি, মালটা ঠিক লাস্টমোমেন্টে ফাইলগুলো পাঠাবে। ধুস।
** মাসের শেষের ডেটগুলোতেই সব নিমন্ত্রণ বাড়িগুলো হামলে পরে। কেন রে? আখেরে তোদেরই তো ক্ষতি রে। ক্ষি জ্বালা রে ভাই।
** "ইটস নট ওয়ার্কিং"? মানেটা কি? এতদিনের চ্যাট-স্ক্রিনের সামনে গালে হাত দিয়ে অপেক্ষা, প্রতিটি বোকা-বোকা স্ট্যাটাস আপডেটে ওয়াও নিদেনপক্ষে লাইক, দেখা করলেই প্রত্যেকবার ডেয়ারিমিল্ক আর ডোমিনোস। আর এখন "ইটস নট ওয়ার্কিং"? কারণটা ঝেড়ে কাশলো না পর্যন্ত!!
** নিশ্চিন্তে আইপিএল টাও আমার জীবনে চ্যালেঞ্জ। এর থেকে কোলের বাচ্চার ফেসভ্যালু অনেক বেশি। 
** অফিসের কাজ, ঘরের কাজ এসবই যদি একমাত্র যুদ্ধ হতো, তুড়ি মেরে বলতাম,"আই ক্যান কংকর দা ওর্য়াল্ড"। কিন্তু সারাদিন এরওর হাঁ-করা জিভ-বার-করা মুখ সহ্য করা, বাসে-ট্রামে শরীর বাঁচানো, এগুলো?
 -------------
শুধু এই হাসিতেই মাথাঠাসা ডালহৌসি, মুহূর্তে সান্দাকফু
শুধু এই হাসিতেই "আমার মতে জগৎটাতে ভালোটারই প্রাধান্য, মন্দ যদি তিন-চল্লিশ, ভালোর সংখ্যা সাতান্ন"
শুধু এই হাসিতেই "আমি যামিনী, তুমি শশী হে"
শুধু এই হাসিতেই ডেসডিমোনা বেঁচে উঠে এক চড় মেরে ওথেলোকে বলে," উইথিন এ পার্ক অফ লাসটি ফ্লাওয়ারস, দি চার্ম অফ হিস্ ফ্লুট এস এম্পাওয়ার্স … গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে, বিসরি ত্রাস-লোকলাজে. সজনি, আও আও লো, জয়েন মি জয়েন মি জয়েন ওহ"
শুধু এই হাসিতেই কেটো বাসের জানলা, বাকিংহাম প্যালেসের দোতলা
শুধু এই হাসিতেই চ্যাটচ্যাটে ঘাম আচমকা পনেরো ডিগ্রির ম্যাজিকে চিলড
শুধু এই হাসিতেই ঢেঁড়সের তরকারির বদলে ডিনার টেবিলে অকস্মাৎ রগরগে মটন
শুধু এই হাসিতেই অফিসের বস, বাজারের ফর্দ, পুরোহিতের দক্ষিণা, ছেলের বায়না, মহুয়ার পরচর্চা, কেকেআরের রান রেট, বাজেটপেশ, আউটঅফসিলেবাস, দেশের ইকোনমি, পাশের জনের প্রতি পক্ষপাত হঠাৎ কিরকম "বেশ-তো"
শুধু এই হাসিতেই লাল-সবুজ-কমলা “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি” টপিক নিয়ে একমঞ্চে
শুধু এই হাসিতেই বামুনদল জাত-পাতের বিরুদ্ধে পিটিশন দেয়
শুধু এই হাসিতেই মাঝরাতের ভয়-ভয় হোয়াটস্যাপ আই-লাভ-ইউ মেসেজটা গান্ধীজির স্ট্যাম্পমার্কা ইনল্যান্ড লেটার হয়ে পৌঁছে যায় তার ডেস্কে

শুধু এই হাসিতেই, সবাই “এই মুহূর্তে” বাঁচে

Monday, 8 May 2017

লাবণ্যর জীবন

দৃশ্য ১:

উফফ, সংসারের সব দায়িত্ব আমার তাই না? কেউ কিচ্ছু করবে না! পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকবে! এ সংসার আমার একার যে। তাই না? 
 উফফফ, কি নোংরা করে রেখেছে ঘরটা। এই পঁয়তাল্লিশের কোমড় তো এবার বিদ্রোহ করবে। আর কত কি সামলাবো বলতে পারো? তোমাকে আর কি বলবো? দূরে দাঁড়িয়ে আমার কথা শোনো আর ভাবটা এমন যেন কিচ্ছুটি জানো না। তাই না? এই লাবণ্য ছিল বলে বেঁচে গেলে হে অমিত রায়। ওওওওই মুচকি হাসি ব্যাস। ওতেই সব রাগ গলে জল। হা হা। 
আচ্ছা তোমার ওপর কিছুতেই রাগ করতে পারিনা কেন বলতো? তোমার ওই চাহুনিতে কি যে খুঁজে পাই কি বলবো। তোমার ওই চাহুনি? উফফফ এখনো মনে আছে সেই প্রথম ছোঁয়া? সে কি শিহরণ কি বলবো। তুমি সাথে থাকলে দিনগুলো কাটে হ্যারি পটারের ম্যাজিক ওয়ানডের মতো। কেন যে মাঝে মাঝে আমাকে একদম সময় দাও না। ওরে বাবা, আচ্ছা আচ্ছা সে অভিমানের কথা না হয় আজ বাদ দিলাম। ঠিক আছে তো এইবার?কিন্তু সেইদিন কি যে হলো, আমি কি আমার মধ্যেই ছিলাম না? কি যে হলো হঠাৎ? সকাল থেকে বৃষ্টি। পেন-খাতা নিয়ে সারাটাদিন হাঁ করে ছিলাম। একটা শব্দ বেরোলো না। এমন মাথায় আগুন জ্বললো। আসলে মনটাই ভালো ছিলোনা হয়তো। পেনটা ছুঁড়লাম আর পড়বি তো পড়, তোমার ...... ইশ ইশশ এই এই যে এখানে এখনো দাগটা রয়েছে। এযে মহাপাপ। কি করে হলো এই অন্যায়? ইশশ। তুমি আমায় ক্ষমা করতে পারবে? কোনোদিনই? জানি জানি, তুমি ক্ষমা করেছ। কিন্তু আমি পারছি না যে, নিজেকে ক্ষমা করতে। এই দাগ কত চেষ্টা করেও মিলছে না কেন জানো? ও বুঝিয়ে দেয় ওর হিসেবটা এখনো বাকি আছে, ও আমাকে আমার অপরাধ মনে করায়। প্রতি মুহূর্তে। না না এটা ঠিক। এটাই ঠিক। এতেই আমার পাপের শাস্তি।

য়্যা রবু? তুই এখানে কখন এলি? এই তুই হাসছিস কেন রে? খুব মজা লাগছে তাই না? জামাটার কি অবস্থা করেছিস বলতো? আয় চেঞ্জ করিয়ে দি। আমার সোনাটা তুই, জানিস, প্রথম যখন তুই এলি আমার কোলে, তোকে ছুঁয়ে প্রথমটায় রোমাঞ্চ লেগেছিলো যেন। নিজের চোখেই যেন বিশ্বাস হচ্ছিলো না। কত চেয়েছিলাম তোকে মনে মনে। শেষে তুই এলি, ঠিক এলি। তোর গায়ে অদ্ভুত গন্ধ। এখনো মনে করলেই পাই সেই গন্ধ। তুই আমার, এক্কেবারে আমার। তোকে আজ এই সবুজটা পড়াই। খুব মিষ্টি লাগে তোকে এটাতে। আমার সবুজসোনা। ওরে সবুজ ওরে আমার কাঁচা … হা হা।

এই সঞ্চু কোথায়? কোথায় গেলো রে? তুই জানিস কোথায় গেলো? সঞ্চু না আমাকে পাগল করে দেবে একদিন। ইচ্ছে করে-করে কোথায় লুকোবে, আর আমি পাগলের মতো খুঁজবো! আমাকে খুঁজতে দেখতে, খুব মজা লাগে ওর। এই কে রে ওখানে কে রে কে রে? খিলখিলিয়ে হাসে যে? খুব মজা না? দাঁড়া তো? দাঁড়া তো? এই তো কাপবোর্ডের পিছনে মনে হচ্ছে, এএএএই এই তো পেয়েছি বদমাসটাকে। হা হা। কি রে? এখানে লুকিয়ে আছিস? দাঁড়া তো? এইকি ওমাগো ………… কেঁটে গেলো কি করে!! তুই আমাকে বলিসনি? ডাকিসনি? এ হে? কাটলো কি করে? এতো ছটফট করিস না তুই! তোকে নিয়ে কি যে করি সঞ্চু। উফফফ আহা আহা কি যে করিসনা বাবা! এরকম করিসনা সোনা। জানিসনা তোদের কিছু হলে আমার কত কষ্ট হয়। একদম বুঝবিনা তোরা? তোরা তিনজনেই তো আমার জীবন রে। একটু বুঝবি না সোনা। আয় আয় সোনা ব্যাণ্ডেজ বেঁধে দি।
------------------------------------
দৃশ্য ২:

ঘরের মধ্যে,
শেষের কবিতা হেলে আছে একদিকে, তার প্রথম কয়েকটা পাতায় পেনের খোঁচার গভীর দাগ।

রবীন্দ্ররচনাবলি সদ্য নতুন মলাটে আবৃত, সবুজ মলাটে।

লাবণ্য ব্যস্ত, এইমুহূর্তে সঞ্চয়িতার পিছনের পাতার ছিঁড়ে যাওয়া কোণের অংশতে সেলোটেপ লাগাচ্ছে।

Wednesday, 12 April 2017

ভয়ঙ্কর টুপি

টুপি। ওহ অমনি মাঙ্কি ক্যাপ ভাবছেন? তা অবশ্য ভাবতেই পারেন। সে বাঙালিদের এক্কেবারে নিজস্ব কিনা। ন্যাপথলিনের গন্ধে জড়ানো আলমারির শেষ প্রান্তে সে থাকে। তাকে খুঁজে বার করা যেন পলাশীর যুদ্ধ, খুঁজতে গেলে সব টেনে আগে বার করতে হবে। এই নিয়ে কত গল্প কত লেখালেখি। তবে ২০১৭ তে দাঁড়িয়ে বলবো মাঙ্কি ক্যাপএর গুরুত্ব হারিয়েছে, শুধু হারিয়েছে বললে ভুল বলা হবে। বলা উচিৎ সচেতনভাবে পরিহার করা হয়েছে। নকল করা চলছে যে!! হে হে, বাঙালি যা করে মন দিয়ে, তাই নকলও। যদিও আজকাল লেখকেরা এখনো মাঙ্কি ক্যাপ আওড়ান লেখালেখিতে। বোধহয় এটি বাঙালির কমফোর্ট এঙ্গেল। ওই যেরকম গ্লোবাল ওয়ার্মিংর খাঁচায় আঁটকে থাকা বাঙালিদের জন্য, "ডিসেম্বরের হাড় হিম করা" শীতের মিথটা বেশ এনজয়বল।
সে যাই হোক, টুপি কিন্তু টেনশন ও। এই বুঝি কেউ পরিয়ে দিলো। সব সময় সজাগ থাকতে হয়।
**কি হলো, রোজ যাচ্ছি এই রুটে, ডেলি প্যাসেঞ্জেরদের বোকা বানানো? রোজ আট টাকা নিচ্ছে, আর তুমি বলছো নয়? তুমি কে হে?
**এই জানো, পুরো ঠকে গেলাম। ওই দোকানে এতো দরাদরি করে আশি টাকা, আর এখানেতো এমনিতেই আশি বলছে। ইশশ
**দিস ইস আনরিয়েল। সেম রুম ছশ টাকা বেশি চার্জ করেছেন আমাকে। ওই তো দেখলাম ওনাদের দিব্যি ডিসকাউন্ট দিয়ে দিলেন।
এই সব খুচরো ঝামেলার পরে আরও একটু উচ্চমার্গের কিছুও আছে।
**দূর বা** ফেসবুক করা ছেড়েই দেব। শালা সব ফেক একাউন্টে ভর্তি। মালটার সাথে ইমোশনালি ইনভল্ভড হয়ে গেলামরে। এখন দেখছি ফেক।
**রামকৃষ্ণ এন্ড বিবেকানন্দ চিট ফান্ড-এর ঘটনাটা শুনলি? ভগবানকেও ছাড়ছেনা, এদের নরকেও ঠাই নেই 
**বিয়ের আগে কিচ্ছু বলেনি, ছেলেটার আগের বিয়ের এখনো ডিভোর্সও হয়নি। এখনো নাকি সম্পর্ক আছে। একটা বাচ্চাও নাকি আছে ওদের।
যত্রতত্র তাই এই অদৃশ্য টুপির টেনশন। তবে এর থেকেও ভয়ানক এক টুপি আছে, বলুনতো কি?
আচ্ছা দাঁড়ান, হিন্ট দিচ্ছি, এটিকে দেখা যায়। এটিকে পড়া যায়, আর পড়লেই পরাজয়। এটলিস্ট সমর্পন তো বটেই।
একদম ঠিক বলেছেন কত্তা, টোপর। টুপির ওপর।

আচ্ছা, এর থেকেও ভয়ঙ্কর টুপি আছে। আমেরিকার আমাজন ভ্যালিতে যুগের পর যুগ ধরে আছেন এক প্রজাতি, তারা টুপি। মানে তাদের প্রজাতির নাম টুপি। টুপিরা আবার টুপি ও পড়ে। কেন ভয়ঙ্কর? তারা মরতে ভালোবাসে। নিজের জন্য, নিজের প্রজাতির জন্য, নিজের মাতৃভূমির জন্য। নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে, এককথায়, মুহূর্তে। কি ভয়ঙ্কর, তাই না? আমরা সব কি সুন্দর নিজেরদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত, নিজের বর-বৌ-বাচ্চা নিয়েই সময় পাইনা আর এদিকে দেখুন এদের! এরা একেবারেই পাতে দেওয়ার মতো নয়। নাঃ আমাজন ভ্যালিতে কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে গেলে টুপি থেকে সাবধান। সংস্পর্শে যদি দেশপ্রেম-ট্রেম জেগে ওঠে! টু ডেঞ্জারাস।

Monday, 3 April 2017

গাইয়ে হবু-জামাই

বেশ অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মেয়ে কমলা নাকি প্রেম করছে, তাও আবার এক গাইয়ে বাউন্ডুলের সাথে। মেয়ের বাবা ডেকে পাঠালেন গাইয়েকে। ইন্টারভিউ টাইম উইথ প্রবাবল-হবু শ্বশুরমশাই।
---------------------------------------------------------
-কতদিন ধরে চলছে এসব?
-পুরানো সেই দিনের কথা, হায় ও সেই, চোখের দেখা প্রাণের কথা .....

-থাক থাক ওকি গান শুরু করলে কেন? বলছি যে, কিছু করা হয়? নাকি বাবার হোটেলেই....
-হা-আ-আ-আই। নাই কাজ নাই। দিন যায়, দিন যায়। আয় আয়, আয় আয়। হাতে কাজ নাই॥

- ও বাবা তারমানে লবডঙ্কা!
-তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে,আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে ....

-কি জ্বালা! আরে বাপু কি খাওযাবে আমার মেয়েকে?
- আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছু তো নাই বাকি, ওগো নিঠুর, দেখতে পেলে তা কি ....

-কি কপাল, মা কমলা আর কোন ছেলে পেলে না মা, শেষে এই? তা ছেলে, তোমার বাবা-মা কি বলছে?
- হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো--সুর হারালেম অশ্রুধারে....

- বটেই তো, তা হবে না, এ ছেলের জন্মমাত্রই মা-বাবার এই হাল বলে আমার মনে হয়! বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো কেস, তা কি আমার ঘাড়ে পড়বার পরিকল্পনা নাকি?
- হৃদয়-আবরণ খুলে গেল তোমার পদপরশে হরষে ওহে দয়াময় ....

- জানতাম আমি, এ সব কেস কি করে ঠিক করতে হয় আমি জানি.
- হৃদয় মোর কোমল অতি, সহিতে নারি রবির জ্যোতি, লাগিলে আলো শরমে ভয়ে,মরিয়া যাই মরমে॥

-- (মাথায় হাত দিয়ে)হে ভগবান ....
-- (ইন ঘরে-বাইরে-সৌমিত্র স্টাইল) শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।


Monday, 6 March 2017

রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"

রিকির আজ ক্লাস ফোর হলো। নতুন ক্লাসে শুরুর দিনে সবাইকে নিজের ব্যাপারে চার লাইন বলতে বলা হলো। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা নানারকম ভাবে নিজেদের কথা বলছে। এবার পালা রিকির। রিকি বেঞ্চ থেকে উঠে ধীরে ধীরে গেলো সামনে। শুরু করলো।
"আই এম রিকি বোস। মাই ফাদার ইস ধীমান বোস। মাই মাদার ইস শর্মিলা বোস। মাই ফাদার ইস এ পোয়েম   ....."
কেউ কেউ হাসতে শুরু করলো। টিচার বললেন,"রিকি, নট পোয়েম বেবি, ইট উইল বি পোয়েট"
রিকি বললো,"উফফ, সরি টিচার, মাই ফাদার ইস এ পোয়েট। মাই মাদার ইস এ  ......" বলে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে রিকি।
টিচার পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন,"ওকে, ভেরি গুড, নেমে এসো রিকি। হু ইস নেক্সট?" সমস্ত ক্লাস যথারীতি ক্লাপ করলো। উঠে পড়লো পরের জন।
রিকি বেঞ্চে ফিরে আসতে পাশে বসা বন্ধু টনি জিজ্ঞেস করলো,"তুই কেনো স্টেমার করছিলি? চুপ করে গেছিলি কেনো হঠাৎ? তোর মা কি করে? ডক্টর? হাউজওয়াইফ?"
রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"
টনি হেসে উঠলো,"শুধু পাপার হাত ধরে থাকে? আর কিছু করে না? আর ইউ ম্যাড রিকি?"
রিকি মাথা নিচু করে বিড়বিড় করলো,"সত্যি বলছি"
বাড়ি ফিরে টনি সব কথা মাকে বলছে, আর হাসছে। যত হাসছে, মার মুখ তত গম্ভীর হচ্ছে। শেষে মা বললো,"টনি বেবি, তুমি রিকির থেকে একটু দূরে থাকবে হ্যা? যা বলছি শুনবে কিন্তু। হি ইস ইল"
ইল!!
পরের দিন টনির মা দেখা করলেন রিকির বাবার সাথে, সব বললেন, শেষে বললেন,"আমার মনে হয় ওকে ভালো সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো দরকার। মানে বাইরে থেকে তো ও সুস্থ। প্লিজ ডোন্ট টেক মি রং। হয়তো মায়ের অভাবটা ফিল করতে করতেই  ......"
রিকির বাবা টলোমলো পায়ে বাড়িতে ঢুকেই খোঁজ করলেন ছেলের। ছেলে ঘুমোচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গা অব্দি অপেক্ষা করতে সোফায় ঠাঁয় বসে ভাবলেন। এ কি ভাবে সম্ভব। সত্যি ছেলে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে?
তখন ছটা হবে, ছেলে পিছন থেকে "পাপা, এসে গেছো" বলে গলা জড়িয়ে ধরলো। বাবা শান্ত ভাবে, রোজের মতো স্কুলের সমস্ত গল্প শুনলেন। কিন্তু ক্লাসের ঘটনাটা এড়িয়ে গেলো রিকি। বাবা জিজ্ঞেস করলেন," রিকি সোনা, তুমি জানো তোমার মা আকাশের ষ্টার, বলেছি না কতবার? তবে তুমি টনিকে আজ ওরকম বললে কেনো?"

রিকি চমকে গেলো, পাপা জানলো কি করে? বিড়বিড় করে চোখ ছলছল রিকি বললো,"মা সবসময় তোমার হাত ধরে থাকে। দাদুকে বলেছিলাম, দাদুও বিলিভ করেনি। আমাকে বকলো, তোমাকে বলতে বারণ করেছিল...তাই তো আমি … এখনো মা তোমার হাত ধরে আছে, তুমি একবার ঘুরে আয়নায় দেখো? পাপা, মা তোমার সাথেও কথা বলে না? কি হলো পাপা, কথা বলো, তুমি কি ভয় পেয়েছো?"

Thursday, 2 March 2017

অমুকবাবু কি বাঙালি?

মিস্টার অমুক। দুর্ভাগ্যক্রমে ওনার জন্ম ভারতবর্ষের বাংলায়। ইংলিশ মিডিয়ামে বড় হতে হতে তিনি দুর্ভাগ্য আরও বেশি অনুভব করেছেন। তার জীবনে এ লেগে আছে কলঙ্কের মত। সে নিয়ে তার লজ্জার শেষ নেই। চাকরিজীবনের আগে এ কলঙ্ক থেকে বাঁচার চেষ্টার ত্রূটি ছিলনা বিন্দুমাত্র। ভাঙা-ব্যাঁকা-ন্যুব্জ-ক্ষীণ ইংলিশ নিদেনপক্ষে হিন্দি ব্যবহার করেছেন প্রতি মুহূর্তে, বাংলায় তার সাবলীলতাকে সচেতনভাবে, খানিক নির্দয়ভাবে অস্বীকার করে। "হাত দিয়ে খেতে তার অসুবিধার" কথা প্রকাশ করেছেন বারে বারে প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে। বাবা-মার সাথে তাজমহল ঘুরতে গিয়ে প্রথম ধপধপে সাদা চামড়াওয়ালা মানুষ পড়ে তার চোখের সামনে। তার সাথে ছবি তোলার বায়না তার বাবাকে অস্বস্থিতে ফেললেও মা সে সাধ পুরণে আকাশ-বাতাস এক করে দিয়েছিলেন। ছেলেটির অনুরোধে সে ছবি দেখতে হয়েছে, খানিক বাধ্য হয়েই পরিচিত স্বজন-কুজনদের। ছোট্টবেলায় যতটুকু সম্ভব আর কি। চাকরিজীবনে পৌঁছনোর পর প্রথম শর্তই ছিল, চাকরি হতে হবে বাংলার বাইরে। মিলেও গেলো একটি, আইটির ঘাঁটি বেঙ্গালুরুতে। সেখানে গিয়ে যথাসম্ভব চেষ্টা করতেন, নিজের আদি বাড়ির কথা সর্বসম্মুখে না আনতে। কেউ কখনো তাকে যদি জিজ্ঞেস করতেন,"আর ইউ পাঞ্জাবি" বা "আর ইউ ফ্রম সাউথ", একরাশ খুশি ফুটে উঠতো তার চোখে মুখে। বাংলায় আর প্রায় আসেনি না অমুকবাবু। সমগ্র বাংলা তখন তার কাছে গলে যাওয়া ভাতের মতো। এহেন অমুকবাবু রোজের মতো একদিন বেড়িয়েছেন প্রাতঃভ্রমণে। আগের দিন বার্থডে সেলেব্রেশন জোড়দার হয়েছে। তাই প্রাতঃভ্রমণটা আজ মাস্ট। একপাঁক ঘুরতেই পেট মোচড়, কিছুতেই আর চলতে পারছেন না। বসে পড়লেন কাছাকাছি একটি বেঞ্চে। মাথা ঘুরছে, চোখ অন্ধকার। 
****
চোখ খুলতেই দেখলেন নিজের ঘরে শুয়ে আছেন, আর সামনে একটি মাঝারি সাইজের টাক মাথা লোক দাঁড়িয়ে। লোকটি মুচকি হেসে বলতে শুরু করলেন,"যাক, জ্ঞান ফিরেছে তাহলে, আর একটু দেরি হলেই ডাক্তার ডাকতে হতো।"
অমুকবাবু বলে উঠলেন,"বাঙালি? এই রে … আই মিন আর ইউ বেঙ্গলি? আই ডোন্ট সিম টু নো ইউ, এন্ড হোয়াই দা হেল ডিড ইউ এন্টার হিয়ার উইথাউট মাই পারমি ...... "
লোকটি বলে উঠলেন,"দাঁড়ান দাঁড়ান, উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? পার্কে দেখি বেঞ্চিতে শুয়ে গোঙাচ্ছেন। আমি বুঝলাম, এসিডিটি। যতই হোক বাঙালি তো, গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারি, জেলুসিল কেস না নেক্সট লেভেল।"
অমুকবাবুর মুখে রা টি নেই। 
লোকটি বলে চলেছেন,"একটু চেনা লাগছিলো আপনাকে। গোঙাতে গোঙাতে যেই বললেন, গলা জ্বালা। ব্যাস, একদম স্ট্রেইট ব্রেনে কিক। কোরামঙ্গলাতে তো, দুর্গাপুজোর চাঁদা চাইতে এসেছিলুম না দু-বছর আগে? কে যেন খবর দিলো এই ফ্ল্যাটে বাঙালি আছে। আপনি কি সব ভাষা বলতে শুরু করলেন, সেই থেকে আপনাকে আর ঘাটায়নি, মানে ইয়ে সরি। যাকগে, তারপর ট্যাক্সি ফ্যাক্সি ডেকে এখানে পৌঁছে, বিল্ডিংয়ে উঠলুম। তারপর তো কি জ্বালা। আপনার সাউথইন্ডিয়ান বাড়িওয়ালা চাবি দিতেই চায়না। বলি মশাই দেখতে পাচ্ছেন না, একজনের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারপর ওই পাতি বাঙালি কায়দায় মালটাকে হাত করলাম। বললাম, আমরা একই শহরের কলকাতার, আইডি কার্ডটা দিয়ে আস্তে হলো শেষে। ভদ্রলোকের যত চিন্তা বাড়ির সেফ্টিতে, মানুষের জীবনটিতে ততটা নয়। আর বলুন কিছু জানার আছে?" 
অমুকবাবু ধাতস্থ হচ্ছেন ধীরে ধীরে। রোবটের মতো হঠাৎ বলতে থাকেন,"আমি কি বলে যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবো, আপনি আমার জীবন রক্ষা করেছেন" 
লোকটি বলেন,"ও কিছু নয়, আমরা সব ভিনদেশে উড়ে এসে জুড়ে বসেছি। নিজেদের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে হবে অনলি টু সার্ভাইভ। আচ্ছা জ্ঞান দিয়েছি আপনার বাড়িওয়ালাকে। ব্যাটা আমাকে সন্দেহ করছিলো? আচ্ছা ভদ্রলোক কিরকম ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে ছিলেন, যখন জানলেন আপনি বাঙালি.যাক, আপনি রেস্ট নিন। আসুন না মাঝে মাঝে আমাদের আসোসিয়েশনে। জমিয়ে আড্ডা হবে। আসি।”
অমুকবাবুর পেটব্যাথা একদম নেই এখন আর, কিন্তু মাথাটা যেন আবার ঘুরছে, ধন্যবাদ-জ্ঞাপন-জীবন-রক্ষা এই এতগুলো বাংলা শব্দ কি করে তিনি নিজে মুখে বললেন!