Showing posts with label জন্ম কথা. Show all posts
Showing posts with label জন্ম কথা. Show all posts

Tuesday, 3 October 2017

দেবীকে চক্ষুদান

পূজার বেদীতে বসা দেবীকে যেমন ইচ্ছে সাজাতে পারি, বলেই কি তার প্রতি এতো যত্ন? এতো মন আকুল করা ভালোবাসা?
না হলে, রক্ত-বুদ্ধি ওয়ালা জীবের প্রতি এতো অন্যায় কেন? তাদের বুঝি যেমন ইচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করা কিঞ্চিৎ দুস্কর? 
কাউকে বেশ করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার মধ্যে মনের জ্বালা মেটানো তৃপ্তি আছে একরাশ, তাই না?
যে দেশ কাউকে স্বচ্ছন্দ-স্বাধীন হতে দেখতে পারে না, সে "দেশ লয় গো কত্তা, দেশ লয়। সে দেশলাই, ভিজে দেশলাই। ক্ষুদ্র, সংকীর্ণ, ক্ষমতাহীন।" 

কুমোরটুলিতে আজ দেবীকে চক্ষুদান করা হচ্ছে, দেখুন দেখুন দেবী হাসছেন। এই দেশের অন্তরে চক্ষুদান কবে হবে?

Sunday, 26 March 2017

বুড়োর নবজন্ম এর আমানত আছে "গুলজার"এ

-কিরে, সেল্ফের মধ্যে থেকে থেকে ঘুমিয়ে পড়েছিস যে! ভালোই আছিস, আর আমার দেখ কত কাজ। এখ্খুনি বুড়ো আবার আমাকে নিয়ে ক্লিক ক্লিক শুরু করবে।  তবে.... যতই হোক কর্মই ধর্ম।  এখন আমার কাজ করার দিন। হে হে আর তোর পরে পরে ঘুমানোর আর আমার দিকে ঈর্ষার উঁকি-ঝুঁকির দিন। কিরে ভুল বললাম? খিক খিক।

- হমমম

- শুধু হমমম ! অবশ্য কিই বা বলবি। উইগুলো সব লাইন দিয়ে তোর ওই সেলফের দিকেই। যা সামলা ওদের। তোদের নিয়ে এই হচ্ছে মুশকিল।  কোনো কাজেও আসবি না, উপরন্তু আবার হেভি মেইন্টেনেন্স কস্ট।  বুড়ো যে কেনো তোদের লাইব্রেরিতে দিয়ে দিচ্ছেনা, বুঝিনা। বেকার ঝামেলা।


- (মুচকি হাসি) ওটি হবে না হে ছোকড়া। ওই কোনায় ঢুলছে "মধুসূদন রচনাবলী", ওর ১০৮ নম্বর পাতার ভাঁজে রাখা শুকনো গোলাপ নিয়ে দেখিস না বুড়ো কিরকম আদিখ্যেতা করে প্রতি দুপুরে। ওই যে সমরেশ বসুর "প্রজাপতি" চোখ পিটপিট করছে। ওকে পড়তে গিয়ে সেকি কান্ড, বুড়োর চোখের সব কান্না কোপাই হয়ে বয়েছিল পাতায় পাতায়। এখনো তার স্রোতের শব্দ শোনা যায়  মাঝে মাঝে। আর আমি, মানিকবাবুর "পুতুল নাচের ইতিকথা", প্রতি বিকেলে চা খেতে খেতে বুড়ো যখন তাকায় আমার দিকে,  মনে মনে কি জিজ্ঞেস করে জানিস,"শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?" সে মনের হদিস আমার কাছেই যে পায়, "শশী"বুড়ো। আর এই যে "গুলজার" হেলে আছে। বুড়োর নবজন্ম এর আমানত আছে "গুলজার"এ। এ না থাকলে তো কবেই সন্ন্যাসী হয়ে যেত বুড়ো। তখন কোথায় থাকতিস তুই, তোর স্ক্রল আর তোর ক্লিক ক্লিক। যতই চাচা চৌধুরীর নব সংস্করণ হও হও হে হিরো, কোথায় পাবে পাতার পর পাতায় লেগে থাকা সেই হাজার কথা মনে করিয়ে দেওয়া গন্ধ আর ছোট্ট সেই হাতে লেখা পেজমার্কগুলো, যার একটাতে প্রথম "আই লাভ ইউ" লেখা লাল কালিতে। কোথায় পাবে? কোথায় পাবে!

নয় এ মধুর খেলা

"নয় এ মধুর খেলা"
----
মনে আছে একটু একটু করে খড় দিয়ে, কুটো দিয়ে, ঘাস দিয়ে বেঁধেছিলাম ঘর। 
----
"তোমায় আমায় সারাজীবন সকাল-সন্ধ্যাবেলা নয় এ মধুর খেলা"
----
প্রথম প্রথম যেদিন ঘর বাঁধলাম আর ঝড় এলো, তোমার চোখের কোনে দেখেছিলাম চিকচিক জল। তবু তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি। তাই তো ওই ঝড় শুধু ঘরটাকেই তছনছ করলো। আমাদের শক্ত করে ধরে থাকা তো নষ্ট করতে পারেনি। আমাদের উষ্ণতাকে তো হিম করতে পারেনি। আমাদের পাখা চারটিকে শিথিল করতে পারেনি। পরের বার ঝড় আমাদের মুচকি হাসি দেখে খানিক ভয়ই পেয়েছিলো জানো? কেমন পালিয়েছিলো অর্ধ্যেকরাস্তায়। তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি।
-----
"কতবার যে নিবল বাতি, গর্জে এল ঝড়ের রাতি
সংসারের এই দোলায় দিলে সংশয়েরই ঠেলা"
-----
বুড়ো পাখিটার নজর ছিল আমার ওপর। সেদিন প্রথম জানলাম তুমি রাগতেও পারো। আমার সর্বাঙ্গে কাটা দিয়েছিলো প্রথম। তোমার চোখে প্রথম সেদিন দেখেছিলাম ত্রাস। আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় ছিল বুঝি? জিজ্ঞেস করিনি কোনোদিন, আজ বলবে? শত ডানা ঝাপটানোতেও মোটেই সে বুড়ো বাঁধ মান ছিলো না, মনে আছে তোমার? শেষে যখন একসাথে এগিয়ে গেছি মরিয়া হয়ে, পিছু হটে গেলো। আজ ভাবলে অবাক লাগে। ও যদি পিছু না হটত? যদি ঘুরে দাঁড়াতো, এগিয়ে আসত? সত্যি কতটুকু ক্ষমতা ছিল আমাদের বলো। সত্যিই কি আটকানো যেত? তবে একটা প্রবল ইচ্ছাশক্তি ছিল আমাদের। ওতেই বোধহয় ...... আর হারানোর মতো কিইবা ছিল আমাদের বলো। তুমিই তো আমার সব। তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি।
-----
"বারে বারে বাঁধ ভাঙিয়া বন্যা ছুটেছে।
দারুণ দিনে দিকে দিকে কান্না উঠেছে।"
-----
তুমি শুনতে পাচ্ছো? ওগো সত্যি শুনতে পাচ্ছো গো। মনে নেই তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি। তবে আজ বলছো কেন, ছেড়ে যাবে? এই দুটি শব্দ আমার সব কিছুকে গুলিয়ে দিচ্ছে যে। কোনটা ভুল ছিল? কোনটা ঠিক ছিল? কোনটা স্বপ্ন ছিল? কোনটা বাস্তব? আমার সব গল্পগুলোর শব্দ এদিক ওদিক ছিটকে পড়ছে। ওদের জুড়বো সেই শক্তিটাও তুমি কেড়ে নেবে? এমন অবলীলায় বলছো, ছেড়ে যাবে? কার সাথে চলে যাবে, সে জিজ্ঞাসা করার সাহস আমার নেই। তোমাকে অনুযোগ করবো, তাও পারছি না। তুমি তো কিচ্ছু লুকোলে না, অকপটে বলে দিলে, ছেড়ে যাবে। তোমার চোখে ভয় নেই তো, মিথ্যা নেই তো। কিন্তু চিকচিক করছে কি একটা যেন। এর থেকে তুমি যদি আমার সাথে লুকোচুরি করতে, তোমার ওপর রাগ করতাম, খুব রাগ করতাম, খুব বকতাম তোমায়, খুব খারাপ কথা বলতাম। তাতে হয়তো একদিন সবকিছু ভুলেই যেতাম। কিন্তু তুমি তো তা করলে না. শুধু বললে, ছেড়ে যাবে। কিভাবে মনকে বোঝাবো? কিভাবে বলবো মনকে, "ভালো হয়েছে চলে গেছে, ও একটা শয়তান ....." সে যে তুমি নও, সে আরও একবার প্রমান করলে অকপটে বলে। তাহলে তোমার চোখ চিকচিক কেন? তবে তাই হোক, শুধু ঐটিই নিয়ে তাহলে আমি বাঁচি। তবে যায়, চলে যাও, আর কিছু বোলো না, চলে যাও। আমার জন্য এই তো অনেক, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময়, তোমার চোখের কোণে চিকচিক। তোমার প্রেমে আঘাত পেলাম, অবহেলা নয় বটে।
------
"ওগো রুদ্র, দুঃখে সুখে এই কথাটি বাজল বুকে—
তোমার প্রেমে আঘাত আছে, নাইকো অবহেলা
নয় এ মধুর খেলা"
------

Monday, 6 March 2017

রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"

রিকির আজ ক্লাস ফোর হলো। নতুন ক্লাসে শুরুর দিনে সবাইকে নিজের ব্যাপারে চার লাইন বলতে বলা হলো। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা নানারকম ভাবে নিজেদের কথা বলছে। এবার পালা রিকির। রিকি বেঞ্চ থেকে উঠে ধীরে ধীরে গেলো সামনে। শুরু করলো।
"আই এম রিকি বোস। মাই ফাদার ইস ধীমান বোস। মাই মাদার ইস শর্মিলা বোস। মাই ফাদার ইস এ পোয়েম   ....."
কেউ কেউ হাসতে শুরু করলো। টিচার বললেন,"রিকি, নট পোয়েম বেবি, ইট উইল বি পোয়েট"
রিকি বললো,"উফফ, সরি টিচার, মাই ফাদার ইস এ পোয়েট। মাই মাদার ইস এ  ......" বলে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে রিকি।
টিচার পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন,"ওকে, ভেরি গুড, নেমে এসো রিকি। হু ইস নেক্সট?" সমস্ত ক্লাস যথারীতি ক্লাপ করলো। উঠে পড়লো পরের জন।
রিকি বেঞ্চে ফিরে আসতে পাশে বসা বন্ধু টনি জিজ্ঞেস করলো,"তুই কেনো স্টেমার করছিলি? চুপ করে গেছিলি কেনো হঠাৎ? তোর মা কি করে? ডক্টর? হাউজওয়াইফ?"
রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"
টনি হেসে উঠলো,"শুধু পাপার হাত ধরে থাকে? আর কিছু করে না? আর ইউ ম্যাড রিকি?"
রিকি মাথা নিচু করে বিড়বিড় করলো,"সত্যি বলছি"
বাড়ি ফিরে টনি সব কথা মাকে বলছে, আর হাসছে। যত হাসছে, মার মুখ তত গম্ভীর হচ্ছে। শেষে মা বললো,"টনি বেবি, তুমি রিকির থেকে একটু দূরে থাকবে হ্যা? যা বলছি শুনবে কিন্তু। হি ইস ইল"
ইল!!
পরের দিন টনির মা দেখা করলেন রিকির বাবার সাথে, সব বললেন, শেষে বললেন,"আমার মনে হয় ওকে ভালো সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো দরকার। মানে বাইরে থেকে তো ও সুস্থ। প্লিজ ডোন্ট টেক মি রং। হয়তো মায়ের অভাবটা ফিল করতে করতেই  ......"
রিকির বাবা টলোমলো পায়ে বাড়িতে ঢুকেই খোঁজ করলেন ছেলের। ছেলে ঘুমোচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গা অব্দি অপেক্ষা করতে সোফায় ঠাঁয় বসে ভাবলেন। এ কি ভাবে সম্ভব। সত্যি ছেলে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে?
তখন ছটা হবে, ছেলে পিছন থেকে "পাপা, এসে গেছো" বলে গলা জড়িয়ে ধরলো। বাবা শান্ত ভাবে, রোজের মতো স্কুলের সমস্ত গল্প শুনলেন। কিন্তু ক্লাসের ঘটনাটা এড়িয়ে গেলো রিকি। বাবা জিজ্ঞেস করলেন," রিকি সোনা, তুমি জানো তোমার মা আকাশের ষ্টার, বলেছি না কতবার? তবে তুমি টনিকে আজ ওরকম বললে কেনো?"

রিকি চমকে গেলো, পাপা জানলো কি করে? বিড়বিড় করে চোখ ছলছল রিকি বললো,"মা সবসময় তোমার হাত ধরে থাকে। দাদুকে বলেছিলাম, দাদুও বিলিভ করেনি। আমাকে বকলো, তোমাকে বলতে বারণ করেছিল...তাই তো আমি … এখনো মা তোমার হাত ধরে আছে, তুমি একবার ঘুরে আয়নায় দেখো? পাপা, মা তোমার সাথেও কথা বলে না? কি হলো পাপা, কথা বলো, তুমি কি ভয় পেয়েছো?"

Thursday, 2 March 2017

অমুকবাবু কি বাঙালি?

মিস্টার অমুক। দুর্ভাগ্যক্রমে ওনার জন্ম ভারতবর্ষের বাংলায়। ইংলিশ মিডিয়ামে বড় হতে হতে তিনি দুর্ভাগ্য আরও বেশি অনুভব করেছেন। তার জীবনে এ লেগে আছে কলঙ্কের মত। সে নিয়ে তার লজ্জার শেষ নেই। চাকরিজীবনের আগে এ কলঙ্ক থেকে বাঁচার চেষ্টার ত্রূটি ছিলনা বিন্দুমাত্র। ভাঙা-ব্যাঁকা-ন্যুব্জ-ক্ষীণ ইংলিশ নিদেনপক্ষে হিন্দি ব্যবহার করেছেন প্রতি মুহূর্তে, বাংলায় তার সাবলীলতাকে সচেতনভাবে, খানিক নির্দয়ভাবে অস্বীকার করে। "হাত দিয়ে খেতে তার অসুবিধার" কথা প্রকাশ করেছেন বারে বারে প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে। বাবা-মার সাথে তাজমহল ঘুরতে গিয়ে প্রথম ধপধপে সাদা চামড়াওয়ালা মানুষ পড়ে তার চোখের সামনে। তার সাথে ছবি তোলার বায়না তার বাবাকে অস্বস্থিতে ফেললেও মা সে সাধ পুরণে আকাশ-বাতাস এক করে দিয়েছিলেন। ছেলেটির অনুরোধে সে ছবি দেখতে হয়েছে, খানিক বাধ্য হয়েই পরিচিত স্বজন-কুজনদের। ছোট্টবেলায় যতটুকু সম্ভব আর কি। চাকরিজীবনে পৌঁছনোর পর প্রথম শর্তই ছিল, চাকরি হতে হবে বাংলার বাইরে। মিলেও গেলো একটি, আইটির ঘাঁটি বেঙ্গালুরুতে। সেখানে গিয়ে যথাসম্ভব চেষ্টা করতেন, নিজের আদি বাড়ির কথা সর্বসম্মুখে না আনতে। কেউ কখনো তাকে যদি জিজ্ঞেস করতেন,"আর ইউ পাঞ্জাবি" বা "আর ইউ ফ্রম সাউথ", একরাশ খুশি ফুটে উঠতো তার চোখে মুখে। বাংলায় আর প্রায় আসেনি না অমুকবাবু। সমগ্র বাংলা তখন তার কাছে গলে যাওয়া ভাতের মতো। এহেন অমুকবাবু রোজের মতো একদিন বেড়িয়েছেন প্রাতঃভ্রমণে। আগের দিন বার্থডে সেলেব্রেশন জোড়দার হয়েছে। তাই প্রাতঃভ্রমণটা আজ মাস্ট। একপাঁক ঘুরতেই পেট মোচড়, কিছুতেই আর চলতে পারছেন না। বসে পড়লেন কাছাকাছি একটি বেঞ্চে। মাথা ঘুরছে, চোখ অন্ধকার। 
****
চোখ খুলতেই দেখলেন নিজের ঘরে শুয়ে আছেন, আর সামনে একটি মাঝারি সাইজের টাক মাথা লোক দাঁড়িয়ে। লোকটি মুচকি হেসে বলতে শুরু করলেন,"যাক, জ্ঞান ফিরেছে তাহলে, আর একটু দেরি হলেই ডাক্তার ডাকতে হতো।"
অমুকবাবু বলে উঠলেন,"বাঙালি? এই রে … আই মিন আর ইউ বেঙ্গলি? আই ডোন্ট সিম টু নো ইউ, এন্ড হোয়াই দা হেল ডিড ইউ এন্টার হিয়ার উইথাউট মাই পারমি ...... "
লোকটি বলে উঠলেন,"দাঁড়ান দাঁড়ান, উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? পার্কে দেখি বেঞ্চিতে শুয়ে গোঙাচ্ছেন। আমি বুঝলাম, এসিডিটি। যতই হোক বাঙালি তো, গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারি, জেলুসিল কেস না নেক্সট লেভেল।"
অমুকবাবুর মুখে রা টি নেই। 
লোকটি বলে চলেছেন,"একটু চেনা লাগছিলো আপনাকে। গোঙাতে গোঙাতে যেই বললেন, গলা জ্বালা। ব্যাস, একদম স্ট্রেইট ব্রেনে কিক। কোরামঙ্গলাতে তো, দুর্গাপুজোর চাঁদা চাইতে এসেছিলুম না দু-বছর আগে? কে যেন খবর দিলো এই ফ্ল্যাটে বাঙালি আছে। আপনি কি সব ভাষা বলতে শুরু করলেন, সেই থেকে আপনাকে আর ঘাটায়নি, মানে ইয়ে সরি। যাকগে, তারপর ট্যাক্সি ফ্যাক্সি ডেকে এখানে পৌঁছে, বিল্ডিংয়ে উঠলুম। তারপর তো কি জ্বালা। আপনার সাউথইন্ডিয়ান বাড়িওয়ালা চাবি দিতেই চায়না। বলি মশাই দেখতে পাচ্ছেন না, একজনের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারপর ওই পাতি বাঙালি কায়দায় মালটাকে হাত করলাম। বললাম, আমরা একই শহরের কলকাতার, আইডি কার্ডটা দিয়ে আস্তে হলো শেষে। ভদ্রলোকের যত চিন্তা বাড়ির সেফ্টিতে, মানুষের জীবনটিতে ততটা নয়। আর বলুন কিছু জানার আছে?" 
অমুকবাবু ধাতস্থ হচ্ছেন ধীরে ধীরে। রোবটের মতো হঠাৎ বলতে থাকেন,"আমি কি বলে যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবো, আপনি আমার জীবন রক্ষা করেছেন" 
লোকটি বলেন,"ও কিছু নয়, আমরা সব ভিনদেশে উড়ে এসে জুড়ে বসেছি। নিজেদের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে হবে অনলি টু সার্ভাইভ। আচ্ছা জ্ঞান দিয়েছি আপনার বাড়িওয়ালাকে। ব্যাটা আমাকে সন্দেহ করছিলো? আচ্ছা ভদ্রলোক কিরকম ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে ছিলেন, যখন জানলেন আপনি বাঙালি.যাক, আপনি রেস্ট নিন। আসুন না মাঝে মাঝে আমাদের আসোসিয়েশনে। জমিয়ে আড্ডা হবে। আসি।”
অমুকবাবুর পেটব্যাথা একদম নেই এখন আর, কিন্তু মাথাটা যেন আবার ঘুরছে, ধন্যবাদ-জ্ঞাপন-জীবন-রক্ষা এই এতগুলো বাংলা শব্দ কি করে তিনি নিজে মুখে বললেন!

Thursday, 23 February 2017

রুদ্রোদয় হোক

আজ সকালে এলাকার প্রত্যেক স্বামী একটা খাম পেয়েছেন পাঞ্জাবি বা শার্ট বা বারমুডার পকেটে। মুশকিল হচ্ছে, যে খামটা খোলা যাচ্ছে না। কাগজের, অথচ টানো, ছেড়ো, উপড়ে ফেলো, অল আন-সাক্সেস্ফুল। খামটা পেয়েই নিজ নিজ পত্নীকে তা বলাতে তারা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে। শুধু স্বামীরাই দেখতে পাচ্ছে খামটা। নিজের ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে যে বাকিদের সাথে বসে এ নিয়ে কথা বলবে, তারও সুযোগ দিচ্ছেনা বৌয়েরা। আজ একটার পর একটা কাজ চাপিয়ে যাচ্ছে। সব থেকে ভয়ঙ্কর ঘটনা হলো, মনে মনে গালাগাল দিলে বৌ বুঝে যাচ্ছে আর উল্টে দশটা বৃহত্তর এবং জোরাল ঝাড়ছে। রাত্রেবেলা স্বামীদের তখন কুকুরের মতো জিভ বেরিয়ে গেছে। এলাকার স্বামীদের মধ্যে জয়ন্তও একজন। রাতের বাসনগুলো মেজে যখন আর শরীর চলছেনা, হঠাৎ ফোন।
-হ্যালো
-আমি রুদ্র, বাড়ির বাইরে চলে আসুন এখুনি, অপেক্ষা করছি।
-আজ না আর পারছিনা বুঝলেন? কে বলুনতো আপনি? ব্যাডমিন্টন ম্যাচের জন্য ফোন করে থাকলে বলে দি, আজ যা গেছে, কাল যদি বেঁচে থাকি, তাহলে ফিল্ডে যাবো, না হলে আপনারা দেখে নিন। রাখছি।
-এখুনি আসবেন, না টেনে বাইরে নিয়ে আসবো?
-আরেব্বাবা থ্রেট দিচ্ছেন নাকি হে? কারোও কাছে কোনো ধার আছে বলে তো জানি না! সুদীপের কাছে একটা বিয়ার ডিউ আছে ব্যাস। আপনি কে বলুনতো? ফোন রাখ   ....... এই অব্দি বলতেই হঠাৎ একটা ঝড়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জয়ন্ত দরজার বাইরে। সৎবিৎ ফিরতেই জয়ন্ত দেখে আশপাশের সব স্বামীরাও দাঁড়িয়ে, সব হতভম্ব। ঠিক তখনই-
-সরি, একটু ফোর্স করতেই হলো, আপনারা থ্রেট আর নির্দেশের তফাৎ জানেন না। তাছাড়া একটু ব্যস্ত, তাই শক্তির ব্যবহার করতেই হলো।
স্বামীরা হতভম্ব, এদিক ওদিক চাইছে। শব্দ আসছে, কিন্তু কিচ্ছুটি দেখা যাচ্ছেনা। অথচ একটি সুপারপাওয়ারের ব্যাপারস্যাপার তো আছেই মনে হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই কণ্ঠ

-আমাকে দেখার ঋদ্ধি তোদের এখনো হয়ে ওঠেনি রে ছোকরার দল। খুব দরকারি যে কটি কথা বলতে এসেছি শোন। আজ তোরা সমস্ত করেছিস, তোদের নিজের কাজের সাথে সাথে যা রোজ স্ত্রীয়েরা করে থাকে তাও। এই ট্রেলারটা যদি রিপিট না হতে দেখতে চাস, তাহলে প্রতি শিবরাত্রিতে যে ড্রাম কে ড্রাম দুধ বইয়ে দেওয়ার তোদের স্ত্রীয়েদের প্ল্যান তা বইয়ে দে পাশের বস্তির শিশুদের মধ্যে, মেয়েদের এক গ্লাস বেশি দিস। আর ওর একফোঁটা দে আমার লিঙ্গে। এই ধরাধামে দুধের বন্যা নালায় না হয়ে হোক রক্ত-মাংসের শরীরে। আর ভাবছিস, একথা একেবারে স্ত্রীয়েদের না বুঝিয়ে তোদের বোঝাচ্ছি কেনো? সেটা তোরা জানিস। চলি।
**
উফফফ সবে সকাল সাড়ে ছয়, ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। বাপরে স্বপ্ন বটে। উফফফ। জয়ন্ত পাশ ফিরে বেশ তরিজুত করে আবার শুতে গিয়ে দেখে মাথার পাশে, সেই খাম। ধড়াস করে উঠলো বুকটা। তাড়াতাড়ি খামটা খোলার চেষ্টা করতেই খুলে গেলো। ভিতর থেকে বেরোলো একটা চিরকুট তাতে লেখা দুলাইন
“জন্ম আমার তাপ থেকে, অগ্নিচ্ছটা থেকে।
তোদের মধ্যে রুদ্রোদয় হোক, একে, একে।“

Saturday, 17 December 2016

শীত কবিতা

শীতকালে বাঙালী কুম্ভকর্ণ​.

ছ​-মাসের ঘুম থেকে জেগে উঠে বলে,

" জাগিয়াছি আমি, পরাক্রমশীল, পৃথিবী করিব জ​য়,
লাগাও কষে মুর্গি-মটন, রগরগে ঝোলে নাহি ভয়.
নভেম্বর হইতে মার্চ মূলত গলাধ:করণ,
এপ্রিল হইতে, নীরস গ্রীষ্মের সহিত অভিযোজন.
অতএব লইয়া আইস ফুলকপির সিঙারা, নলেন​-গুড়,

বাঙালি রসনা শান্ত হউক দ্রুতবেগে, যুদ্ধজ​য় অত:পর"

Wednesday, 7 December 2016

আস্থা


জন্মকথা


সুপ্রভাত


স্ব​-সাধপূরণ​

"বুড়ো, আজ তোর বাবার জন্মদিন, তুই আর বৌমা একটু জা না, বাবাকে প্রনাম কর. কোনোবারই তো করিসনা" "আঃ মা, এখন সম​য় নেই, পরে পরে" অফিসে পৌঁছে অবশ্য ফেসবুকে লিখলো বুড়ো, "হ্যাপি বার্থডে বাবা"!
বৌমা তাতে কমেন্ট করলো "ফিলিং ব্লেস্ড্"!

ফেসবুকের আলো থেকে শতদূরে থাকা বাবা-মার কাছে এ বার্তা পৌঁছলনা! ঘরে রান্না করা পায়েসই চিরাচরিত দিনটাকে স্বতন্ত্র করে তোলে.