Showing posts with label মিনি গল্প​. Show all posts
Showing posts with label মিনি গল্প​. Show all posts

Saturday, 8 December 2018

টিকালো নাক

টিকালো নাক বড্ডো ওভাররেটেড বুঝলেন। সুন্দর মুখের ওয়ান অফ দি এলিমেন্ট হিসেবে টিকালো নাক ধরা হলেও নাকানিচোবানি কম খেতে হয়না। ফিজিক্স স্যার তো চুম্বকের বিপরীত মেরুর ধর্ম বোঝাতে, উদাহরণ দিলেন ক্লাসের টিকালোমোষ্ট নাক হোল্ডার পটার। ফুটবল, দেওয়াল, দরজা ইত্যাদির সাথে পটার টিকালো নাকের সম্পর্ক যেমন। পটা চুমু খায় চোখ খুলে। যতবার চোখ বন্ধ করে চুমু খেতে গেছে, গার্লফ্রেন্ডের মাথা স্ট্রেইট হিট ওন টিকালো নাক। মাথা ভোঁ ভোঁ। রোমান্সের সাড়ে সব্বোনাশ।
রসিকবাবুর কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে রসিকবাবু বলেন, "যেমন বাজপাখির মতো তোমার নাক ....."
রসিক গিন্নি কনুই মেড়ে রসিকবাবুকে থামিয়ে বললেন,"বাজপাখি নয়, টিয়াপাখি। তোমার তো কোনোদিনই কান্ডজ্ঞান নেই ..... পটুবাবু তুমি ওসব বাজে কথাতে কান দিও না তো। কি সুন্দর লম্বা নাক তোমার ....."
রসিকবাবু,"হে হে নাক গলাতেও সুবিধে। হে হে ...... উফফ তুমি আবার চোখ পাকাচ্ছো কেন গিন্নি!! আমি বলছি টিকালো নাক ভালোই। এই দেখো না অটোগুলো। একটা চাকা ওরকম টিকালো নাকের মতো এগিয়ে থাকে। মার্সিডিজ-ফেরারিকে কেয়ারই না করে, হালকা নাক গলিয়ে দিলেই ব্যাস কেল্লা ফতে। পটে, নাকের গুরুত্ব কাছে বটে। মাঝে মধ্যে খুড়োর কল হিসেবে ব্যবহার করবে কিনা ভেবে দেখো তো খোকা? তবে চুমুটা চোখ খুলেই খেও।"

Wednesday, 31 October 2018

আসলেতে পাখি সে

টেবিল ১:
শোন্ শোন্ কন্সেন্ট্রেট করতে শেখ। সামনের কালীপুজোতে তুবড়ি প্রতিযোগিতা। নোটবুকটা বার কর দেখি। তুবড়ির মশলার মাপটা ঝালিয়ে নেওয়া যাক। চল চম্পাহাটি। চারটে কাটলেট বলে দে।

টেবিল ২:
অনিককে ফোন করে "হ্যাঁ" বলেই দাও রুমাদিদি। কবিরাজি অর্ডার করবে তো আজ। স্পেশাল ডে বলে কথা।

টেবিল ৩:
আর শোনো, কাল কিন্তু ইলেকট্রিসিটি বিলটা জমা করতে হবে। শুনছো তুমি? আরে আবার কফি অর্ডার করলে যে। উঠবে কখন?

টেবিল ৪:
একটা ব্রীজ রিপেয়ার করতে কতদিন লাগে বলুনতো বরুণবাবু? আমরা নাকি এখন দ্রুতগতির যুগে? ধুর ধুর, এখন কফিটা পেলে হয় সময়মতো।

টেবিল ৫:
পাগলা দাশু জানিস না? পড়িস নি? আচ্ছা মটন মামলেট ..... মানে ওই ওমলেট, খা। খেতে খেতে বলছি।

টেবিল ৬:
বাবার শরীরটা বিগড়েছে। এখানে এসেছি শুনেছে যখন, কাটলেট প্যাক করিয়ে নিয়ে যেতে হবেই গো।

টেবিল ৭:
শোনো তোমার এই রোজকার অভিযোগ শুনে আমি এবার ফেডাপ। আমি কি এতোই খারাপ? এবার দেখবে একদিন সম্পর্কটা এতোই তেতো হবে যে দুজনেই ভ্যানিশ হয়ে যাবো। কোল্ড কফি বলবো?

টেবিল ৮:
পলাশপ্রিয়াকে ভুলতে পারছিস না? একেবারেই না? আজকাল কোয়ালিটিতে বেড়ে গোলমাল দেখছি। নাহলে ০৪ মাসের প্রেম ভুলতে চার কাপই তো যথেষ্ট। যাক তুই দশম কাপটা ট্রাই করেই দেখ তো। কাজ হবেই। হতেই হবে। এই বাড়ির কফির ওপর ভরসাটা এতো সহজে ডাইলিউট হতে দেওয়া যায় না।

টেবিল ৯:
আজ পুরো আঠারো বছর পর তোমার সঙ্গে দেখা। কেমন আছো তুমি? ফিশ ফ্রাই এখনো তেমনি ভালোবাসো? নাকি চেহারার সাথে সাথে স্বাদও বদলেছে?

======

ধুস আড্ডা নয়, কোনো এক অদৃশ্য লেখকের ইচ্ছে হচ্ছে আর টেবিলে টেবিলে তৈরী হচ্ছে ইমোশন, কফি হাউসের স্টিমুলেশনে তাতে টপাস টপাস ফোঁটা ফোঁটা টুইস্ট।

ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে; যার খুশি দেখে এস "কফি হাউসে"।



Sunday, 9 September 2018

গুগলের থেকেও হাই স্পিড

- হ্যাল্লো
- কোথায়?
- এই তো, অটোতে। প্রচুর জ্যাম। বদ্দিপাড়াতে আটকে। বড়ো বড়ো বাস গুলো এপাশে, ওপাশে আটকে দিয়ে একেবারে স্যান্ডউইচ   .....
- বলছি যে খবর শুনেছ?
- ওহ তুমিও পেলে?
- ওহ তোমাকে কে বললো?
- আমাকে রমাদি। তোমাকে?
- গুগল।
- এহ? মানে? ওহ রামকাকার ছেলে গোগোল?
- ওহ না রে বাবা। গুগল গুগল।
- গু?
- বাদ দাও। যাই হোক, খবরটা তো দুঃখজনক। আবার শিলিগুড়িতে?
- তাই নাকি? আমি ভাবলাম দিঘা?
- সেকি! দিঘাতেও? কি বলছো? কি সব হচ্ছে গো। আমি তো পড়লাম শিলিগুড়িতে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার।
- আমি তো শুনলাম দিঘা। ওখানেই এখন তোলপাড়। রুমকির বাবা-মা সব তো ছুটেছে ওদিকেই। মেয়েটা  .....
- দীঘাতে কোন ব্রিজ বলতো? (পাশের কে-প্যাসেঞ্জের দের দিকে মুখ করে) বলছি দাদা আবার আরেকটা ভেঙেছে, এটা আবার দিঘাতে। গিন্নী জানালো। গিন্নি আমার গুগলের থেকেও হাই স্পিড। আমাদের আসলে প্রচুর রিলেটিভ আসে পাশে। খবর একেবারে সাংহাই ম্যাগলেভ এর স্পীডে একেবারে আমাদের মোবাইলের স্পিকারএ। এ হ্যালো হ্যালো তোমার কথাই বলছিলাম এই অটো-দাদাদের  ..... স্পিকারে দিচ্ছি বুঝলে? একটু বলো তো কি শুনেছ।
-  ওই, রুমকি আবার পালিয়েছে। প্রথমবার তো তবু ডায়মন্ড হারবার। হোটেলে পৌঁছনোর আগেই খপ। এবার দীঘা। তাও কোন হোটেল জানা যায়নি। বলছে দক্ষিনেশ্বরে নাকি বিয়েও সেরে ফেলেছে। তা তুমি কি সব ব্রিজ ব্রিজ করছো গো? এএএই, আমার চা টা ঠান্ডা হয়ে গেলো গো। আমি যাই, বাবা লোকনাথ শুরু হয়ে গেছে। আর আটা নিয়ে এসো মনে করে। রাখলাম।
- (ফোন কাটতে কাটতে, পাশের কে-প্যাসেঞ্জের দের দিকে মুখ করে) ওই ইয়ে মানে, আমি ভাবলাম ব্রিজ আবার  ..... ইয়ে, বলছি এখানেই নামিয়ে দিন তো দাদা। কাজ আছে। এখানেই এখানেই হ্যা। দূর মশাই, জল-কাদা যা থাকুক, থামান এখানে। নামি।  

Friday, 6 July 2018

ব্ল্যাক ফরেস্ট

- ছোটোমামা, জঙ্গল জঙ্গলই তো লাগছে তাই না?
- যাক, তোরও যে তাই মনে হলো, দেখে বেশ গর্ব হচ্ছে। অবশ্য মুখেভাতে তোকে ভাতের পিস্ খাওয়াতে খাওয়াতেই বুঝেছিলাম যে এনার্জি রেডিয়েট করছে।
- তা মামা জঙ্গলে কিরকম যেন সবুজের অভাব। কচি গাছ কিছু পুঁতি?
- আলবাত, লে কে আও। হাম ইধার খেয়াল রাখতা।
- ও মামা, দ্যাখোতো ঠিক হয়েছে?
- তোফা হয়েছে। ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে কি সুন্দর আমাজন হয়েছে। বাহ্ তোমার হবে খোকা। শুধু একটা জিনিস  .....
- জঙ্গলে জন্তু-জানো  ......
- ইয়েসসসস। জানোয়ার। অনিমেলস মাস্ট ভায়া। এহ, কোথায় গেলি?
- এএ এই যে মামা   ......
- ব্রিলিয়ান্ট, ছেড়ে দে ছেড়ে দে  ...... এ এ এ এ এই রে। দিদি আসছে, পালা পালা।

এসব কি ঘরের মধ্যে? এহ। একি। ছোট, জামাইবাবুর গায়ে ওসব কি? ঘাস-পাতা। ওমা পিঁপড়েও নাকি ! এহ। কি রে। ওকিরে। পালাচ্ছিস কোথায়। এ কি করেছিস তোরা মামা-ভাগ্নে মিলে!  দাঁড়া দাঁড়া।
- ভাগ্নে জাস্ট পালা। টেম্পোরারি কালা মিলখা সিং হয়ে যা।
- মামা, রোববার আরসালানটা মনে থাকে যেন।
- থাকবেএএএ ......

Thursday, 15 March 2018

স্কেলটা

"টিক টিক টিক টিক"
ব্যাস ওই আবার। এখন আবার কি? এই এখুনি তো লাঞ্চ খাইয়ে এলাম। ওহো এবার বোধহয় ওনার পটি টাইম। উফফ এটা একটা লাইফ? সারাদিন শুধু  "টিক টিক টিক টিক"। এই চা দাও, এই ব্রেকফাস্ট দাও, এই শাড়ি চেঞ্জ করাও। আর পটি করানো তো যুদ্ধ। সারাদিন খেয়ে খেয়ে আর বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোটা হচ্ছে আর শুধু "টিক টিক টিক টিক"। রোমা বলে, শাশুড়ীরা নাকি খুব ভয়ঙ্কর হয়। তারা নাকি ঝগড়া করে, তারা নাকি বৌয়ের নিন্দে করে প্রতিবেশীর কাছে! আমার প্যারালাইস্ড শাশুড়ী, তাই আমি নাকি ভালোই আছি। প্রতিবেশীর কাছে আমার নাম নিন্দে করতে পারেনা। কথা বলতে পারেনা তাই ঝগড়াও নেই। তা আমি বলি, ওসব হলেই বরং বেঁচে যেতাম। কানের কাছে সারাদিন প্রতি ঘন্টাতে "টিক টিক টিক টিক" তো আর শুনতে হতো না। কোনো শখ-আহ্লাদ-ঘুরতে যাওয়া-সিনেমা যাওয়া তো নেই জীবনে। রোমার সাথেও যে দশমিনিট কথা বলবো তার জো নেই। শুরু হবে "টিক টিক টিক টিক"। সেদিন তো "জননীর কোলে" সিরিয়ালের ঠিক ক্লাইমেক্সের টাইমেই "টিক টিক টিক টিক"। ও বলে, পঁচাশি বছরের ওর মা, তাকে নাকি আর আয়ার ভরসাতে রাখা যায় না, বয়স্কদের ওপর নাকি খালি হামলার খবর পেপারে। তাও তো খুব জোড় করে একজন আয়া রাখা হলো। ওই পনেরদিন মতো টিকেছিল। সারাদিন "টিক টিক টিক টিক" এর জ্বালায় আর রোজ মাঝরাতে আঠারোবার উঠতে গিয়ে সে আয়ার নিজেরই নাকি এখন বাড়িতে আয়ার সেবার দরকার হয়ে পড়েছে।
সারাদিন সমস্ত বাড়ির খেয়াল রেখে তারপর রাতে ওই "টিক টিক টিক টিক" আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন আর কিছু না শুধু একটু ভালো করে ঘুমোতে চাই। কতদিন যে ভালো করে ঘুম টুকু হয়নি!

ওই আবার। "টিক টিক টিক টিক"।
"দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাকে বাথরুম থেকে তো বেরুতে দাও উফফফফ"
মাঝে মাঝে মনে হয় ওই যে স্কেলটা দিয়ে খাটের ধারে "টিক টিক টিক টিক" করে, সেটা দিয়েই মাথাতে ..... 

============================================================================

- কি হলো, উঠে পড়লে কেন?
- না ওই যে মা বোধহয়  ....
- মা? পর্ণা তুমি আমার মা কে এতো ভালোবাসতে? উনি চলে যাওয়ার পরেও  .....
- ও হ্যা। রোজ রাতে কি যে হয়। কিন্তু আজ যেন  ..... যাক ঘুমিয়ে পড়ো। আমিও  ..... এই ওটা কিসের আওয়াজ। শোনো, শুনতে পাচ্ছো। শোনো
- কোথায় পর্ণা কিচ্ছু তো নয়। তোমার মনের ভুল। শুয়ে পড়ো।
- উফফফফ ভালো করে শোনো। শোনো না। আরে এইটা স্কেলের তোবড়ানো দিকটার আওয়াজ। আমি জানবো না? এই ছ'বছর ধরে শুনছি  .....
- পর্ণা  .....

Monday, 20 November 2017

তুম তানা নানা

পরিস্থিতি হেবি থমথমে। জেঠুর মুখে কালি লেপে শ্রাবন্তীদি নাকি পালিয়েছে। কালি মুছতে সারা পাড়া উইথ পাড়ার ডাক্তার বাড়িতে হাজির। আমি আর দাদা স্কুল থেকে ফিরে খবর পেয়েই দৌড়ে কালি মোছা দেখতে গেলাম। কালি কোথায়! জেঠুর দিব্বি সেই ফর্সাটি। শুধু খাটে হেলান দেওয়া আর বুকে হাত। পাড়ার ডাক্তার বলছেন,"কালই ইসিজি করিয়ে নিন। কোনো নেশা নেই তো? এখনকার ব্যাথাটা আপনার স্ট্রেস থেকেই। বেশি চাপ নেবেন না" চারিদিকে সবার মুখ কালাপানির কয়েদিদের মতো। নিস্তব্ধতার কম্পেটিশন -এ পাড়ার দিদা-দাদুরা মাঝে মাঝে বাঁধ সাধলেও, মোটের ওপর একটা থমথমে ভাব ইন্ট্যাক্ট রাখতে সক্ষম হচ্ছেন সবাই। মাঝে মাঝে চপাট চপাট মশা মারার আওয়াজ। শ্রাবন্তীদির পালানো তবু সহ্য হবে,  কিন্তু ভয়ানক ডেঙ্গি? সে থেকে কে বাঁচাবে? কুঁইকুঁই করে জেঠু বলে উঠলেন,"কাছুয়া টা জ্বালাও না"
উপস্থিত সকলেই ঝটপট শশব্যস্ত হয়ে কাছুয়া খুঁজতে লাগলেন। পেলেনও। মুশকিল হলো, দেশলাই? নাই। জেঠিমার মুখ-এর পরিস্থিতি যা, তাতে বিনা দেশলাই-তেই আগুন লাগার সম্ভাবনা। তাই জেঠিমাকে কেউ ঘাটাতে চায় না। ঠিক এ অবস্থায়, দাদা বলে উঠল,"আরে দাদু, লাইটার তো তোমার পকেটেই"।

সবার মুখ এখন দাদার দিকে। ঠিক তখনি, কার মোবাইলে বেজে উঠলো,"আগুন লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন তুম তানা নানা নানা"

Monday, 13 November 2017

নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি

মেজোমামার বিয়েতে তার সঙ্গে প্রথম দেখা। না ঠিক দেখা নয়। আড়চোখে পলক ফেলে ফেলে নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি কে একটু বুঝে নেওয়া। কালো ধুতির চল সে সময় ছিল না। তাই সবার চোখই ছিল তার ওপর। নানারকম চাহুনি, যেমন “কি বোকা বোকা” “একি অদ্ভুত” “বাহ্ বেশ হাটকে তো” ছিল বটে। কিন্তু তাতে তাকে মোটেই অপ্রতিভ মনে হচ্ছিল না। বরং যেন একটু বেশিই স্বচ্ছন্দ। আর তাতে আড়চোখ আরও বেশি করে তাকেই খুঁজতে লাগলো। তার চোখ দু-একবার আমার চোখকে অ্যাকনোলেজ করেছিল বটে তবে খুব দ্রুত। ইতিমধ্যে এই পুরো সাইলেন্ট টেলিফিল্মটা কখন যে আমার ভাই ট্র্যাক করতে শুরু করেছে জানি না। মালা–‌বদলের ভিড়ে আমার কানের কাছে এসে বললো, “লাভ নেই। এনগেজড। আমাদেরই কোচিংয়ের মেয়ের সঙ্গে” । ড্যাম। চুরি করে ধরা পরে যাওয়া, তাও আবার সে চোরাই মাল যদি অকেজো হয়। ফিলিংসটা ঠিক কেমন হয় বলুন তো! যাক চোখাচুখি নিয়ন্ত্রিত হল তখুনি। সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে।
===============
প্রায় ৭-৮ মাস পরে, অক্সিজেনে তখন পুজো পুজো গন্ধ। নতুন জামার মসমস, নতুন জুতোর ফোস্কা, পুরনো বন্ধুর হইচই, পুরনো রেস্টুরেন্টে নতুন মেনু, সব চলছিল নিজের তালে। উলটোদিকের টেবিলে আমাদের মতোই আরেক দল, একইরকম হুল্লোড়ে মত্ত। শুধু মুখগুলোই অচেনা ….. উহু একটা মুখ তো বেশ চেনা। আরিব্বাস। নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি যে। আজ সাদা শার্ট নীল ডেনিম। আর সঙ্গে সঙ্গেই মাথা বলে উঠলো, “না না, আর ও পথে না”। ব্যাস সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে। কিন্তু ওপার থেকে ফোর জি নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী চোখ যেন আমাকে ফলো করছে মনে হল। ইগনোর করতে, আরও বেশি করে মন দিলাম বিরিয়ানিতে। সবে দু-চামচ মুখে দিয়ে বিরিয়ানিতে মেডিটেশন শুরু করেছি, ওমনি “হাই, ডু উই নো ইচ আদার ….. ” সাদা শার্ট নীল ডেনিম আর তার দলবল, চোখের সামনে। কতক্ষণ হা করে ছিলাম মনে নেই। বাকি কী বলে গেল, মনে নেই। আলাপচারিতার শুরু। সুতপা কনুই-এর গুঁতো মেরে বলেছিল,”এই সেই? খবরদার। এনগেজেড কিন্তু।” এরকম সাবধান বাণী শুনে মনে হল, যেন ও সাবধান না করলে আমি যে কোনও মুহূর্তে সাদা শার্ট নীল ডেনিমকে জড়িয়ে ধরবো। আশ্চর্য্য। তা সেই সাবধানবাণীর ঠেলায় বা বিরিয়ানি কন্সেন্ট্রেশনে বাঁধা পড়ায়, আলাপচারিতাতে কন্সেন্ট্রেট করতে পারিনি। আমি মূলত শ্রোতাই হলাম। শেষে অবাক করে দিয়ে সুতপা হঠাৎ নবমীতে ম্যাডক্স স্কোয়ারের প্ল্যান বানিয়ে বসলো। সুতপাকে বুঝতে পারে কার সাধ্যি! আবার দেখা হওয়ার এক্সাইটমেন্ট যে আমার মধ্যে একেবারেই ছিল না তা বলা ভুল। মাস্কারা লাগালাম একটু ঘন করেই। না না, আর কিছু না। একটা প্রেজেনটেব্‌ল লুক তো দরকার, নাকি! তবে সুতপা-বুবাই দের সঙ্গে বেরোলে কেন এ কথা মনে হয় না! ওরা ছোট্টবেলার বন্ধু বলে! ম্যাডক্স স্কোয়ারের আড্ডা তখন চরমে, সাদা শার্ট নীল ডেনিম আমার কানে ফিসফিস করে বললো, “হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে। কাল একবার লেকে মিট করা যায়? সেই বিয়ে বাড়ি থেকে ট্রাই করছি। না বললে শুনবো না কিন্তু।” হার্টবিট ১১০। আচ্ছা এমন বুক চিনচিন করে কেন বলুন তো যখন মাথা আর মন ঝগড়া করে? মাথার শত অ্যালার্টকে মিথ্যে করে, দেখি না কী বলতে চায়, শুনতে মন চলল দশমীর বিকেলে, লেকের ধারে। পৌঁছনোর দু-কিলোমিটার আগেই এসএমএস, “নাহ সামনাসামনি বলার সাহস নেই। অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে। ক্যান ইউ হোল্ড মাই হ্যান্ড? ফর লাইফ?” মোবাইল থেকে চোখ তুলে মনে হল আশেপাশের কিছু লোক হা করে দেখছে আমায়? খেয়াল করলাম আমার মুখটা এক গাল হাসিতে ভরে গেছে কখন, আমার অজান্তেই! অক্সিজেনে এখন নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতির গন্ধ। আশেপাশে লুকিয়ে আমায় দেখছে না তো? বাড়ি ফিরে ভাইকে একটা কিল মারবো ভাবছি।

Monday, 28 August 2017

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপর নাই

"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই"
- য়্যা? কে বললো?
- ইয়ে আমি
- আমি কে?
- আমি ক্রো, ব্রো।
- (ভুঁরু উঁচিয়ে) অ তুমি? তা আমি কারো ব্রো নই। তবে আপাতত তুমি আমার লেফ্ট আই ব্রোয়ের ওপর থেকে ঠোঁটটা সরাও বাছা। 
- উপস সরি। বলছি আপনিই কি সেই? মানে দি অলমাইটি? দি খ্ৰীষ্ট।
- মমম সেই রকমই তো জানতাম। তো হঠাৎ এই ভর দুপুরবেলা, আমাকে বাটারিং? কি চাই হে?
- ধুস, কি যে বলেন, খ্ৰীষ্টদা। একটা প্রশ্ন খুঁজতে খুঁজতে সেই দূর নিকো থেকে ইকোতে এসে হাজির।
- বটে। নিকো আর এমনকি দূর? ওই তো সেক্টর ফাইভ …
- আরে আমি কি আর ওলা-উবের করে এসেছি? এর কাঁধে, ওর মাথায় ভর করে, নৌকো চড়ে, সাঁকো বেয়ে তবে না....
- আচ্ছা হয়েছে।, এবার প্রশ্নটা বলে ফেলো।
- সেরকম কিছু না, তবে আবার সেরকমই। মানে যার কাছে যেরকম। তো উইদাউট মাচ বকমবকম, প্রশ্নটা হলো,"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই", ইহা কি সত্য?
- বটে। কলকাতার ঘাম চ্যাটচ্যাটে দুপুরবেলা হিসেবে প্রশ্নটি নিতান্তই বিরক্তিকর। তবে ক্রোয়ের মুখে এরকম প্রশ্ন আগে থ্রো হতে দেখিনি। তাই আমি যাইপরোনাই আপ্লুত। তা হ্যা কথাটি সত্য হে।
- ও মানে একেবারেই মিথ্যা করা যায়না? সেই ঈশপের সময় থেকে ছেলেপুলে আমার রেফারেন্স নিয়ে নিয়ে ডাক্তার-ইঞ্জি হয়ে গেলো। আর আজ এতো ওপরে বসেও আমায় শুনতে হবে সবার ওপরে ওই ওরা?
- দেখো হে, এটাই বলবো তুমি ভায়া অনেক সেফ।
- সেফ?
- ইয়েস। ওপথে মোটেই পা বাড়িও না। দেখছো না "সবার ওপরে মানুষ সত্য" শুনে পাবলিক গুলোর হাল কি হয়েছে? খেলা শুরু করেছে নিজেদের মধ্যে। কে সত্য, কে ওপরে, সেই নিয়ে লাঠালাঠি শুরু করেছে। ওই ওই দেখো সমস্ত রকম অস্ত্র নিয়ে নেমে পড়েছে। সাহিত্য? লালিত্য? বাচস্পত্য? পাণ্ডিত্য? সব নিয়ে। তার চেয়ে বরং এই ওপর থেকে সেফ খেলা দেখে যাও ভায়া।
- ওরে ব্বাবা। তাই তো। আপনার ওপর এই এদের দ্বায়িত্ব ভেবে আমার নিজেকে বেশ ফ্রি বার্ড লাগছে। মানে সেটাই ছিলাম। আরও ফুরফুরে লাগছে। এখন মনটা বেশ হালকা লাগছে। বেশ একটা উপলব্ধি হচ্ছে।
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপর নাই,
আর

বেশ উঁচু স্ট্যাচু পেলে, আমি টপ ভিউটা পাই।
 

Tuesday, 23 May 2017

রেসিপি অফ ডেলিসোপ

উপকরণ:

  • ·      স্কুললেভেল মেয়ে (প্রেফারেবলি বোকা বোকা গোল মুখ এবং ফর্সা), কলেজেলেভেল ছেলে (প্রেফারেবলি পেশীবহুল, বাকি যা হোক হলেই হলো),
  • ·      দুটি পঁচিশের কাছাকাছি মহিলা (একটি অবশ্যই বোকা বোকা গোল মুখ, আরেকটি অবশ্যই সুন্দর লম্বা এবং প্রেফারেবলি ফর্সা মুখ),
  • ·      পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি ভদ্রলোক (প্রেফারেবলি পেশীবহুল, বাকি যা হোক হলেই হলো),
  • ·      জনপ্রিয়মুখ মাঝবয়সী একজন মহিলা এবং পুরুষ



প্রণালী: 


স্কুললেভেল বোকা বোকা মুখ মেয়েটি ও পঁচিশের কাছাকাছি গোল মুখ মহিলাকে বেশ কিছুক্ষন ভাসতে দিন। 
পঁচিশের কাছাকাছি সুন্দর-লম্বা-ফর্সা মুখ মহিলাকে পর্দার আড়ালে থেকে নাড়াচাড়া করতে দিন। 
দেখবেন স্কুললেভেল বোকা বোকা মুখ মেয়েটি ও পঁচিশের কাছাকাছি গোল মুখ মহিলা বেশ ফুটতে শুরু করেছে। 
বেশ ঘন হয়ে এলে পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি ভদ্রলোককে মাঝে মাঝে ওর মধ্যে ছিটিয়ে দিন, সাথে সাথে নাড়তে থাকবেন। 
দেখবেন যেন ভালো করে ঘেঁটে যায়। 
বার বার খালি জল ঢালুন। 
(অ)রুচিমতো কলেজেলেভেল ছেলেটিকে এবার মেশান। 
বাসি গন্ধ বেরোনো অব্দি চালিয়ে যান। 
বাসি গন্ধ যখন বেরোতে সবে শুরু করেছে, মানে টেকা-দায়ের ঠিক পৌনে ছয় সেকেন্ড আগে, কলেজেলেভেল ছেলেটিকে চিমটে দিয়ে আলাদা করে বের করে এনে টেনে-হিচড়ে-তুবড়ে-তাবরে রংবদল করে আবার মেশান। 
বেশ খানিক মেশানোর পরে শুধু নাড়িয়ে যান। 
জনপ্রিয় মাঝবয়সী মহিলা এবং পুরুষকে হাটের মাঝে হাড়ির মধ্যে বসিয়ে দিন। ওতে স্বাদে কিছু হেরফের হবে না। শুধু গার্নিশিং এর জন্য। আর ওটাই শেষ সাময়িক বিকল্প।
অতঃপর ল্যাজেগোবরে হচ্ছে বুঝবেন যখন, আর কোনো উপকরণও হাতে নেই, ব্যাস গ্যাস নিভিয়ে দিন। 
রান্না আপনার শেষ হলো। 
এবার পরিবেশন করতে করতে চুপচাপ কেটে পড়ুন। 

Thursday, 11 May 2017

শুধু এই হাসিতেই

** সিরিয়ালটা শুরু হলো ভালোই কিন্তু নায়কের আট নম্বর বিয়েটা আর নেওয়া যাচ্ছেনা।
** ভালো একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস মাথায় আসছে না!! কি মুশকিল।
** মনীষা ম্যাথসে আমার থেকে টেন মার্ক্স্ বেশি পেয়েছে বলে আমাকে এবার সামার সেলে ক্রপটপ কিনে দেবে না? কি অদ্ভুত লজিক!!
** বিরিয়ানির দামটা ফট করে কুড়ি টাকা বাড়িয়ে দিলো!! আর এ নিয়ে কোনো বিপ্লব হলোনা?
** শুধু গান গাইতে চেয়েছিলাম, এখন স্কেল নিয়ে লোকের বাড়ি-ঘরের মাপঝোপ করছি। এটা জীবন?
** শ্লা আমি ঠিক জানতাম। কাল ছুটি নিচ্ছি, মালটা ঠিক লাস্টমোমেন্টে ফাইলগুলো পাঠাবে। ধুস।
** মাসের শেষের ডেটগুলোতেই সব নিমন্ত্রণ বাড়িগুলো হামলে পরে। কেন রে? আখেরে তোদেরই তো ক্ষতি রে। ক্ষি জ্বালা রে ভাই।
** "ইটস নট ওয়ার্কিং"? মানেটা কি? এতদিনের চ্যাট-স্ক্রিনের সামনে গালে হাত দিয়ে অপেক্ষা, প্রতিটি বোকা-বোকা স্ট্যাটাস আপডেটে ওয়াও নিদেনপক্ষে লাইক, দেখা করলেই প্রত্যেকবার ডেয়ারিমিল্ক আর ডোমিনোস। আর এখন "ইটস নট ওয়ার্কিং"? কারণটা ঝেড়ে কাশলো না পর্যন্ত!!
** নিশ্চিন্তে আইপিএল টাও আমার জীবনে চ্যালেঞ্জ। এর থেকে কোলের বাচ্চার ফেসভ্যালু অনেক বেশি। 
** অফিসের কাজ, ঘরের কাজ এসবই যদি একমাত্র যুদ্ধ হতো, তুড়ি মেরে বলতাম,"আই ক্যান কংকর দা ওর্য়াল্ড"। কিন্তু সারাদিন এরওর হাঁ-করা জিভ-বার-করা মুখ সহ্য করা, বাসে-ট্রামে শরীর বাঁচানো, এগুলো?
 -------------
শুধু এই হাসিতেই মাথাঠাসা ডালহৌসি, মুহূর্তে সান্দাকফু
শুধু এই হাসিতেই "আমার মতে জগৎটাতে ভালোটারই প্রাধান্য, মন্দ যদি তিন-চল্লিশ, ভালোর সংখ্যা সাতান্ন"
শুধু এই হাসিতেই "আমি যামিনী, তুমি শশী হে"
শুধু এই হাসিতেই ডেসডিমোনা বেঁচে উঠে এক চড় মেরে ওথেলোকে বলে," উইথিন এ পার্ক অফ লাসটি ফ্লাওয়ারস, দি চার্ম অফ হিস্ ফ্লুট এস এম্পাওয়ার্স … গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে, বিসরি ত্রাস-লোকলাজে. সজনি, আও আও লো, জয়েন মি জয়েন মি জয়েন ওহ"
শুধু এই হাসিতেই কেটো বাসের জানলা, বাকিংহাম প্যালেসের দোতলা
শুধু এই হাসিতেই চ্যাটচ্যাটে ঘাম আচমকা পনেরো ডিগ্রির ম্যাজিকে চিলড
শুধু এই হাসিতেই ঢেঁড়সের তরকারির বদলে ডিনার টেবিলে অকস্মাৎ রগরগে মটন
শুধু এই হাসিতেই অফিসের বস, বাজারের ফর্দ, পুরোহিতের দক্ষিণা, ছেলের বায়না, মহুয়ার পরচর্চা, কেকেআরের রান রেট, বাজেটপেশ, আউটঅফসিলেবাস, দেশের ইকোনমি, পাশের জনের প্রতি পক্ষপাত হঠাৎ কিরকম "বেশ-তো"
শুধু এই হাসিতেই লাল-সবুজ-কমলা “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি” টপিক নিয়ে একমঞ্চে
শুধু এই হাসিতেই বামুনদল জাত-পাতের বিরুদ্ধে পিটিশন দেয়
শুধু এই হাসিতেই মাঝরাতের ভয়-ভয় হোয়াটস্যাপ আই-লাভ-ইউ মেসেজটা গান্ধীজির স্ট্যাম্পমার্কা ইনল্যান্ড লেটার হয়ে পৌঁছে যায় তার ডেস্কে

শুধু এই হাসিতেই, সবাই “এই মুহূর্তে” বাঁচে

Wednesday, 12 April 2017

ভয়ঙ্কর টুপি

টুপি। ওহ অমনি মাঙ্কি ক্যাপ ভাবছেন? তা অবশ্য ভাবতেই পারেন। সে বাঙালিদের এক্কেবারে নিজস্ব কিনা। ন্যাপথলিনের গন্ধে জড়ানো আলমারির শেষ প্রান্তে সে থাকে। তাকে খুঁজে বার করা যেন পলাশীর যুদ্ধ, খুঁজতে গেলে সব টেনে আগে বার করতে হবে। এই নিয়ে কত গল্প কত লেখালেখি। তবে ২০১৭ তে দাঁড়িয়ে বলবো মাঙ্কি ক্যাপএর গুরুত্ব হারিয়েছে, শুধু হারিয়েছে বললে ভুল বলা হবে। বলা উচিৎ সচেতনভাবে পরিহার করা হয়েছে। নকল করা চলছে যে!! হে হে, বাঙালি যা করে মন দিয়ে, তাই নকলও। যদিও আজকাল লেখকেরা এখনো মাঙ্কি ক্যাপ আওড়ান লেখালেখিতে। বোধহয় এটি বাঙালির কমফোর্ট এঙ্গেল। ওই যেরকম গ্লোবাল ওয়ার্মিংর খাঁচায় আঁটকে থাকা বাঙালিদের জন্য, "ডিসেম্বরের হাড় হিম করা" শীতের মিথটা বেশ এনজয়বল।
সে যাই হোক, টুপি কিন্তু টেনশন ও। এই বুঝি কেউ পরিয়ে দিলো। সব সময় সজাগ থাকতে হয়।
**কি হলো, রোজ যাচ্ছি এই রুটে, ডেলি প্যাসেঞ্জেরদের বোকা বানানো? রোজ আট টাকা নিচ্ছে, আর তুমি বলছো নয়? তুমি কে হে?
**এই জানো, পুরো ঠকে গেলাম। ওই দোকানে এতো দরাদরি করে আশি টাকা, আর এখানেতো এমনিতেই আশি বলছে। ইশশ
**দিস ইস আনরিয়েল। সেম রুম ছশ টাকা বেশি চার্জ করেছেন আমাকে। ওই তো দেখলাম ওনাদের দিব্যি ডিসকাউন্ট দিয়ে দিলেন।
এই সব খুচরো ঝামেলার পরে আরও একটু উচ্চমার্গের কিছুও আছে।
**দূর বা** ফেসবুক করা ছেড়েই দেব। শালা সব ফেক একাউন্টে ভর্তি। মালটার সাথে ইমোশনালি ইনভল্ভড হয়ে গেলামরে। এখন দেখছি ফেক।
**রামকৃষ্ণ এন্ড বিবেকানন্দ চিট ফান্ড-এর ঘটনাটা শুনলি? ভগবানকেও ছাড়ছেনা, এদের নরকেও ঠাই নেই 
**বিয়ের আগে কিচ্ছু বলেনি, ছেলেটার আগের বিয়ের এখনো ডিভোর্সও হয়নি। এখনো নাকি সম্পর্ক আছে। একটা বাচ্চাও নাকি আছে ওদের।
যত্রতত্র তাই এই অদৃশ্য টুপির টেনশন। তবে এর থেকেও ভয়ানক এক টুপি আছে, বলুনতো কি?
আচ্ছা দাঁড়ান, হিন্ট দিচ্ছি, এটিকে দেখা যায়। এটিকে পড়া যায়, আর পড়লেই পরাজয়। এটলিস্ট সমর্পন তো বটেই।
একদম ঠিক বলেছেন কত্তা, টোপর। টুপির ওপর।

আচ্ছা, এর থেকেও ভয়ঙ্কর টুপি আছে। আমেরিকার আমাজন ভ্যালিতে যুগের পর যুগ ধরে আছেন এক প্রজাতি, তারা টুপি। মানে তাদের প্রজাতির নাম টুপি। টুপিরা আবার টুপি ও পড়ে। কেন ভয়ঙ্কর? তারা মরতে ভালোবাসে। নিজের জন্য, নিজের প্রজাতির জন্য, নিজের মাতৃভূমির জন্য। নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে, এককথায়, মুহূর্তে। কি ভয়ঙ্কর, তাই না? আমরা সব কি সুন্দর নিজেরদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত, নিজের বর-বৌ-বাচ্চা নিয়েই সময় পাইনা আর এদিকে দেখুন এদের! এরা একেবারেই পাতে দেওয়ার মতো নয়। নাঃ আমাজন ভ্যালিতে কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে গেলে টুপি থেকে সাবধান। সংস্পর্শে যদি দেশপ্রেম-ট্রেম জেগে ওঠে! টু ডেঞ্জারাস।

ঘরোয়া পদ্ধতি

রসিকবাবুর বিয়ের পরের একসপ্তাহ, পঙ্গপালের মতো আত্মীয়দের বিদায় দিতে দিতেই চলে গেলো। বৌয়ের সাথে বসে দুদণ্ড কথা বলবে তার উপায় নেই। আজ আপিস থেকে বাড়ি ফিরে দেখে বাড়ি ফাঁকা, অনলি বৌ রান্নাঘরে, ফ্রায়িং বেগুউউনি। উফফফফ লাভলি। 
- ওগো খেতে এসো? বেগুনভাজা গুলো তুলে রেখেছি। দেরি কোরোনা কিন্তু, ঠান্ডা হয়ে যাবে। 
- হে হে 
-হাসছো কেনো গো? কি হলো? এসো খেয়ে নাও। 
- হে হে হে হ্যা যাচ্ছি হে হে 
-কি হলো গো তোমার? হাসছো কেনো।
- হে হে কিজানি কেনো
-মানে, ওমাগো পাগলের সাথে বিয়ে হলো নাতো? কিগো না হেসে খাও না গো। কি দেব বোলো।
- এগুনি ব্যাকটা। হে হে
- মানে?
- না এগুনি ব্যাকটা ধুর হে হে বেগুনি একটা। হে হে যুলিয়ে গাচ্ছে। ধুর গুলিয়ে যাচ্ছে। হে হে।
(হাত পা ছড়িয়ে)- ওগো বাবাগো মাগো , একি হলো গো। এই তুমি কি পাগল? হাসছো? ভুলভাল বকছো?
রসিকবাবু হেসেই চললেন। বেগতিক দেখে পাড়ার সাহিত্যিক কাম ডাক্তার সুবিমলকে ডাকতে হলো। অবস্থা বিচার করে, সুবিমল বললেন,"রেয়ার কেস। বিয়ের কদিন খুব হা হা করে হাসার ফলে, মুখের পোস্টেরিওর পিলার আর ইন্টেরিওর পিলার তীব্র অভিমান করেছে। বুঝলেন না? মানে মুখের ওপর আর নীচ, তীব্র অভিমান, কিছুতেই কাছাকাছি আসতে চাইছে না। এতদিন কিছু সিম্পটম বোঝেননি? মান ভাঙাতে হবে। জিভ ওদিকে ঘটক হতে গিয়ে বিপদে পড়ছে। তীব্র বিরোধিতায় খেই হারিয়ে ফেলছে।"
-উপায়?
-হমমম ওই আর কি ইয়ে মানে চুম্বন। দুটি অভিমানী বিপরীতগামী মেরুকে এক করতে ঐটিই একমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতি। কি করবেন দেখুন। নাহলে এম্বুলেন্স ডাকি?
রসিকবাবু সবটি শুনে জোরে জোরে বললেন,"হে হে হে হে হে হে হে হে"


Monday, 10 April 2017

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চক্রের বদলে ছড়ান রসভরা জিলিপি

সন্দীপনিতে পড়াশোনা শেষ করে থেকে সময় পেলে ভালো লেখা পড়েন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। লিপি, পাণ্ডুলিপি সব পড়া শেষ। বারকয়েক রিভিশনও হয়ে গেলো। এবার একটু নতুন লেখা পেলে ভালো হতো। দেবী সরস্বতী শেষমেশ বাঁচালেন, খোঁজ দিলেন ফেসবুকের। লিংক পাঠিয়ে দিলেন। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও। ফেসবুকে নতুন একাউন্ট খুলে শ্রীকৃষ্ণ ভারী খুশি। এতো লিপি, এতো লিখন, এতো ভাষা, এতো বর্ণমালা। বেশ চলছিল, মুশকিল হলো, গত কয়েকবছরে লেখার সংখ্যা হুড়হুড় করে বেড়েছে।
যেমন সংখ্যা বাড়ে পরীক্ষার সময় ছাত্রভক্তের,
যেমন সংখ্যা বাড়ে পুজোর সময় মহিলাভক্তের,
যেমন সংখ্যা বাড়ে ইয়ারএন্ডের সময় চাকুরেভক্তের, (সূক্ষ্মরূপে বেশিরকম বাড়ে ফিনান্সিয়াল ইয়ারেন্ডে)
যেমন সংখ্যা বাড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের পর আমজনতাভক্তের, (বাজেট পেশের পর অতিরিক্ত মাত্রায়)
তেমনই ঝাটিকাবেগে লেখার পরিমান বাড়ছে। চারিদিকে থিকথিক করছে লেখা। শ্রীকৃষ্ণ অভিভূত, বিস্মিত এবং চিন্তিত। কোনো লেখা মিস করতে চান না তাই কিছুটা বিচলিতও। নারদকে খুব দরকার। এইসব কাজে ওর খুব মাথা চলে। ঠিক সময়ে আগমন নারদমহাশয়ের।
-নারায়ণ, নারায়ণ, প্রভু, চিন্তিত দেখাইতেছে কেন আপনারে?
-আইসো আইসো নারদমহাশয়, এইতো খুঁজিতেছিলাম তোমারে।
-হাজির প্রভু, কহেন দেখি কি চিন্তা আপনারে করিতেছে বিব্রত?
-আর কি বলি, ফেসবুকে লেখা লেখি, কত কত, শত শত ....
-আর বলিতে হইবে না প্রভু, ধরিয়াছি ঠিক, পড়িতে এতো লিখন, হউক দিনের দৈর্ঘ্য অধিক.
-উহু না না, উহাতে সমস্যা বাড়িবে অতিশয়, পড়িবার সময়ের সাথে লিখনও জন্মাইবে শয় শয়। অন্য কোনো উপায়?
-তবে প্রভু, লেখকের চিত্তবিক্ষেপ ঘটিলে, বিশ্রাম লইবে কলম, বিরতি আঙুলে।
-সাধু উপায় হে নারদমহাশয়, ভাবিয়া দেখ কি রূপে তাহাদের চিত্তবিক্ষেপ হয়। যাহাতে সমাজেরও কল্যাণ এবং চিত্ত রয় আমোদময়।
-জিহ্বা লইয়া বড়ো সংবেদনশীল বাংলার লেখককুল, খাদ্য জাতীয় আয়োজনে চিত্তবিক্ষেপ ঘটিবেই, নির্ভুল।
- ইয়ায়ায়ায়াহুউউউউউ
জিহ্বাকে পরিতৃপ্ত করিতে লেখক ছুটিল, শ্লথ হইলো লিপি,
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চক্রের বদলে ছড়ান রসভরা জিলিপি।
নারদ অগোচর হতে হতে ভাবলেন, বাঙালিদের জন্য জিলিপি কেন? রসগোল্লা-সন্দেশ থাকতে? ও হরি, প্রভুর জন্মস্থান ভুললে চলবে কি করে। প্রভু নিজের জন্মস্থানের মিষ্টান্ন বড়ই পছন্দ করেন বটে।
মধ্য(প্রদেশ)এর স্বাদ পাক উত্তর, উত্তরের স্বাদ পাক পশ্চিম,
এবার পশ্চিম? পশ্চিম পাক খাক রসে।


Wednesday, 22 March 2017

জীবন মানেই জিবাংলা 2

রসিকবাবু হনিমুনে। না মানে একটু খাঁদমিশ্রিত হনিমুনে।
যৌথ পরিবারে আর হনিমুন! কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা বললেই মিনিমাম সতেরোজন সঙ্গে সঙ্গে তল্পিতল্পা নিয়ে রেডি। তাই আপিসের কাজে উড়িষ্যা যেতে হবে শুনে অফারটা বাগিয়ে নিলেন রসিকবাবু। এব্রিথিং ইস ফেয়ার ইন লাভ। আর ওয়ার নিয়ে শান্তপ্রিয় রসিকবাবুর কোনো কাজ নেই। পাতের পেঁপের মতো জীবনের থালা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
রসিকবাবু এসে হাজির উড়িষ্যায়। কথামতো গিন্নিও বাপের-বাড়ি-যাবে অজুহাতে, সাথে সাথে। সব একদম মাখনের মতো হলো।
বাড়ি থেকে কেউ একটিবারও ট্যাফোঁ করতে পারেনি। ইয়াহুহুহুহুহুহু। অফিসের গেস্ট হাউসটিও বেশ। ঢুকেই বাথরুমটা দেখে নেওয়া মাস্ট। ঐটিতেই আত্মার সম্পর্ক। পরিষ্কার বাথরুমের পরিবর্তে একবাটি ইলিশ? উহু তুচ্ছ, তবে যদি স্ট্রেইট ফ্রম পদ্মা হয়, তাহলে ওই ইয়ে আর কি। যাহোক বিছানা পরিষ্কার। ঘরে জল? তোয়ালে? সব জায়গামতো অবস্থিত। পারফেক্ট। অফিসে ঢু মারতে হবেই। তাড়াতাড়ি চলে আসতে হবে এদিক-ওদিক ম্যানেজ করে। গিন্নিকে ফ্লাইং কিস দিয়ে বেরিয়ে যাবেন যেই, গিন্নি বলে উঠলেন,"বলছি, টিভির রিমোটটা?" "ধুস, এই তো নাও। চলে আসবো তাড়াতাড়ি বুঝলে?" রসিকবাবু বলে বেরিয়ে গেলেন। এ
র পরের কয়েক ঘন্টা কাটানো যেন জিও সিমের নেটওয়ার্ক খোঁজা। কিছুতেই ঘড়ির কাটা আর নড়ে না। ফাইলের পর ফাইল, শেষ আর হয়না। লঙ্কাহীন মামলেট গেলা এর থেকে সহজ। বিকেল সাড়ে পাঁচটা অব্দি ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ফটোগ্রাফারদের মতো উত পেতে বসে ছিলেন। ঠিক সাড়ে পাঁচটা বাজতেই বেরিয়ে এলেন ঝোপ থেকে। এদিক ওদিক দেখে চুপি চুপি গুটিগুটি পায়ে কোনোরকমে বসের কেবিনটা ক্রস করতেই উনি ভ্লাদিমির লেনিন। তেমনি দর্পে গটগটিয়ে ঘরে ঢুকলেন। গিন্নি কোথায়? বাথরুমে? উহু? তবে? বিছানার ওপরে লেপ মোড়া? বোঝো ..... গিন্নি এসি চালিয়ে, লেপ মুড়িয়ে, জড়িয়ে, ঘুমিয়ে, রসিয়ে, খানিক কষিয়ে, নাক ডাকিয়ে, সুরে সুরে ভনভনিয়ে ওই আর কি  ..... ঘুমোচ্ছেন।
ধ্ধ্যুস বলে বিমর্ষ রসিকবাবু বসতে যাবেন খাটে, অমনি কর্কশ আওয়াজে,"আজ ব্লু হ্যা পানি পানি  ....." বেজে উঠলো। গিন্নির মোবাইলের অ্যালার্ম আর অমনি গিন্নি ধড়মড়িয়ে উঠলেন। রসিকবাবুর চেহারায় হাসি ফুটে উঠলো। যাক।
গিন্নি -"ওমা তুমি এসে গেছো? কখন এলে?"
রসিকবাবু হামাগুড়ি দিয়ে চোখ সরু করে গিন্নির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে-"চাহে কোই মুঝে জংলী কহে  ..... "
গিন্নিও মুচকি হেসে-"কেহেনে দো জি কাহ্তা রাহে  ...."
রসিকবাবু উল্লাসে -"হাম পিয়ার কে তুফানো মে  ....."
অমনি আবার "আজ ব্লু হ্যা পানি পানি  ....." বেজে উঠলো।
রসিকবাবু-" ওহ কি মুশকিল, এটা বন্ধ করতো, থেকে থেকে বাজছে কেনো?"
গিন্নি-"ওহ,এই রে ছটা বাজলো, সরো দেখি সরো। "
রসিকবাবু -,"য়্যা, কি হলো?"
গিন্নি (এক ঠেলা দিয়ে)-"দিদি নম্বর ওয়ান, যাতে মিস না হয় স্নুজ করে রেখেছিলাম মোবাইলের অ্যালার্ম।সরো দেখি সরো। আমি খুব ভাবছিলাম জানো যদি জি বাংলা না আসে এখানে! প্রণাম করে নামজপ করতে করতে ভয়ে ভয়ে টিভি খুলতেই উফফফফ কি শান্তি। বাড়ি ফিরে গোপালকে এক্সট্রা নকুলদানা আর মমমম সরভাজাও দুটো দেব।দেখি সরো"
রসিকবাবু গিন্নির ধাক্কায় ততক্ষনে খাট থেকে নিচে মাটিতে।
রসিকবাবু বিড়বিড় করছেন,"হাম পিয়ার কে তুফানো মে গিরে হ্যা হ্যাম ক্যা করে"





Tuesday, 21 March 2017

জীবন মানেই জিবাংলা

অফিস থেকে ঠিক বেরোনোর মুহূর্তে বুড়ো বস একগাদা ফাইল চাপিয়ে দিয়ে পাঠালেন পিওনের হাত দিয়ে। যারা বলে গভর্নমেন্ট চাকরি সুখের, তাদের বিরিয়ানিতে গাদা গাদা উচ্ছে সিদ্ধ। তাদের রসোগোল্লায় গাদাখানেক নুন। তাদের মটনরোলে সোয়াবিন আর পনির ঠাসা।
"ধ্যাৎ তেরিকা" বলে সব ফাইল ঠেলে বিনীতা ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।
মিটির এক্সাম কেমন হলো কেজানে। এতক্ষনে নিশ্চয় এক্সাম শেষ। একটা কল করে দেখ যাক। টিংটিং ফোন , রিং হচ্ছে। কিন্তু ওপার থেকে কোনো উত্তর নেই। "উফফফ" বলে আবার ফোন। এবারও কোনো উত্তর নেই। নিশ্বাসটা জোরে জোরে পড়ছে বিনীতার।
সতেরো বছরের মেয়ে, তবু একা ছেড়ে একমুহূর্তে থাকতে পারে না বিনীতা। সমসময় চিন্তায় থাকে। স্বামীর সাথে ডিভোর্স পাঁচ বছর হলো। মা আর মেয়েকে নিয়ে সমস্ত পৃথিবী বিনীতার।
মা কে ফোন করে দেখি তো। এখানেও রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ফোন তোলে না। কি  মুশকিল। টেনশনে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার যোগাড়। তাড়াতাড়ি ট্যাক্সি ধরে জোরে চালাতে বললো বিনীতা। পুরো রাস্তাটা একবার এই ফোন, আরেকবার ওই ফোন। এরকম তো কোনোদিন হয়না। মাঝরাস্তা যখন পৌঁছেছে, বাইরে অফিস টাইমের ট্রাফিক। জঘন্য। নাঃ মিটির বন্ধু কে ফোন করি। টিংটিং ফোন , রিং হচ্ছে।
-হ্যালো
-হ্যা হ্যালো, আমি মিটির মা বলছি
-হ্যা বলুন বিনীতা। আজকের পেপারটা কি বাজে হয়েছে না। সব আউট অফ সিলেবাস। মিটির কেমন হো  .....
- হ্যা মানে বলছি, মিটিকে ফোনে পাচ্ছি না। ওকে দেখেছেন ছুটির পর?
- য়্যা? মিটি? মমমম হ্যা বেরোলো তো। স্কুলভ্যানেও উঠলো দেখলাম, কিন্তু পেপারটা অতি জঘন  .....

যাক্ তাহলে ভ্যানে উঠেছে। বাড়ি পৌঁছেছে।  ......
কিন্তু তাহলে ফোন ধরছেনা কেন। বাড়িতে পৌঁছলে মা বা মিটি কেউই রিং শুনতে পাচ্ছে না? আর পিলামাসি, সেও তো আছে। সেও কি এখনো রান্না ঘরে? ভ্যানওয়ালা ঠিকঠাক পৌঁছে দিয়েছে তো? নাকি? আবার টেনশনে অস্থির হয়ে উঠলো বিনীতা। আর ভাবতে পারছে না, মাথাটা টলমল করছে। হাতগুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে। বাড়ির দরজার কাছে পৌঁছলো। তাড়াতাড়ি ভাড়া মিটিয়ে চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঢুকলো। বাড়ির একটা চাবি বিনীতার কাছে থাকে। সব্বাই উপরের ঘরে থাকে। হাঁকুপাঁকু করে উপরে উঠতেই এদিক ওদিক দেখে, কেউ কোথাও নেই। মা র ঘরের দরজা বন্ধ। পড়িমরি ঠেলে ঢুকতেই দেখে প্রচন্ড শব্দে টিভি চলছে।  আর মা, মিটি , পিলামাসি সব বুঁদ হয়ে টিভির দিকে। "টেন পোয়েএএএএএএএএএন্টস, দি  .. দি  .. নম্বর ওয়ান। দি  .. দি  .. নম্বর ওয়ান।"
প্রচন্ড রাগে বিনীতা বলতে শুরু করলো,
"কি ব্যাপার কি হ্যা? তখন থেকে ফোন করে যাচ্ছি? তোমরা কি পাগল? কোনো কান্ডজ্ঞান নেই নাকি হ্যা? অফিসের সমস্ত টেনশন নিয়ে আছি, তার ওপর ফোনটা ধরারও প্রয়োজন  বোধ  ....."

মা: "কুমড়ো   ....."
মিটি: "না গো দিম্মা, আনসারটা ক্যাডবেরি হবে ...."
পিলামাসি: "না না, কোনো সব্জির নাম বলতি হবে  ....."

সব দেখে ধপ করে বসে পড়লো বিনীতা। বসতে গিয়ে দেখে চেয়ারে ডাই করে রাখা সব জামাকাপড়, তার মধ্যে মা আর মিটির ফোনদুটো চোখ পিটপিট করে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে।

Thursday, 23 February 2017

রুদ্রোদয় হোক

আজ সকালে এলাকার প্রত্যেক স্বামী একটা খাম পেয়েছেন পাঞ্জাবি বা শার্ট বা বারমুডার পকেটে। মুশকিল হচ্ছে, যে খামটা খোলা যাচ্ছে না। কাগজের, অথচ টানো, ছেড়ো, উপড়ে ফেলো, অল আন-সাক্সেস্ফুল। খামটা পেয়েই নিজ নিজ পত্নীকে তা বলাতে তারা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে। শুধু স্বামীরাই দেখতে পাচ্ছে খামটা। নিজের ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে যে বাকিদের সাথে বসে এ নিয়ে কথা বলবে, তারও সুযোগ দিচ্ছেনা বৌয়েরা। আজ একটার পর একটা কাজ চাপিয়ে যাচ্ছে। সব থেকে ভয়ঙ্কর ঘটনা হলো, মনে মনে গালাগাল দিলে বৌ বুঝে যাচ্ছে আর উল্টে দশটা বৃহত্তর এবং জোরাল ঝাড়ছে। রাত্রেবেলা স্বামীদের তখন কুকুরের মতো জিভ বেরিয়ে গেছে। এলাকার স্বামীদের মধ্যে জয়ন্তও একজন। রাতের বাসনগুলো মেজে যখন আর শরীর চলছেনা, হঠাৎ ফোন।
-হ্যালো
-আমি রুদ্র, বাড়ির বাইরে চলে আসুন এখুনি, অপেক্ষা করছি।
-আজ না আর পারছিনা বুঝলেন? কে বলুনতো আপনি? ব্যাডমিন্টন ম্যাচের জন্য ফোন করে থাকলে বলে দি, আজ যা গেছে, কাল যদি বেঁচে থাকি, তাহলে ফিল্ডে যাবো, না হলে আপনারা দেখে নিন। রাখছি।
-এখুনি আসবেন, না টেনে বাইরে নিয়ে আসবো?
-আরেব্বাবা থ্রেট দিচ্ছেন নাকি হে? কারোও কাছে কোনো ধার আছে বলে তো জানি না! সুদীপের কাছে একটা বিয়ার ডিউ আছে ব্যাস। আপনি কে বলুনতো? ফোন রাখ   ....... এই অব্দি বলতেই হঠাৎ একটা ঝড়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জয়ন্ত দরজার বাইরে। সৎবিৎ ফিরতেই জয়ন্ত দেখে আশপাশের সব স্বামীরাও দাঁড়িয়ে, সব হতভম্ব। ঠিক তখনই-
-সরি, একটু ফোর্স করতেই হলো, আপনারা থ্রেট আর নির্দেশের তফাৎ জানেন না। তাছাড়া একটু ব্যস্ত, তাই শক্তির ব্যবহার করতেই হলো।
স্বামীরা হতভম্ব, এদিক ওদিক চাইছে। শব্দ আসছে, কিন্তু কিচ্ছুটি দেখা যাচ্ছেনা। অথচ একটি সুপারপাওয়ারের ব্যাপারস্যাপার তো আছেই মনে হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই কণ্ঠ

-আমাকে দেখার ঋদ্ধি তোদের এখনো হয়ে ওঠেনি রে ছোকরার দল। খুব দরকারি যে কটি কথা বলতে এসেছি শোন। আজ তোরা সমস্ত করেছিস, তোদের নিজের কাজের সাথে সাথে যা রোজ স্ত্রীয়েরা করে থাকে তাও। এই ট্রেলারটা যদি রিপিট না হতে দেখতে চাস, তাহলে প্রতি শিবরাত্রিতে যে ড্রাম কে ড্রাম দুধ বইয়ে দেওয়ার তোদের স্ত্রীয়েদের প্ল্যান তা বইয়ে দে পাশের বস্তির শিশুদের মধ্যে, মেয়েদের এক গ্লাস বেশি দিস। আর ওর একফোঁটা দে আমার লিঙ্গে। এই ধরাধামে দুধের বন্যা নালায় না হয়ে হোক রক্ত-মাংসের শরীরে। আর ভাবছিস, একথা একেবারে স্ত্রীয়েদের না বুঝিয়ে তোদের বোঝাচ্ছি কেনো? সেটা তোরা জানিস। চলি।
**
উফফফ সবে সকাল সাড়ে ছয়, ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। বাপরে স্বপ্ন বটে। উফফফ। জয়ন্ত পাশ ফিরে বেশ তরিজুত করে আবার শুতে গিয়ে দেখে মাথার পাশে, সেই খাম। ধড়াস করে উঠলো বুকটা। তাড়াতাড়ি খামটা খোলার চেষ্টা করতেই খুলে গেলো। ভিতর থেকে বেরোলো একটা চিরকুট তাতে লেখা দুলাইন
“জন্ম আমার তাপ থেকে, অগ্নিচ্ছটা থেকে।
তোদের মধ্যে রুদ্রোদয় হোক, একে, একে।“

Sunday, 19 February 2017

আদিম এবং অকৃত্রিম, তথাপি প্রতি পলের আনন্দ

- মানে, আর কতক্ষন? লোকদেখানো না করলেই নয়?
-ওহ, মানে আমি লোকদেখাই, আর তুমি? ধোওয়া তুলসীপাতা
-তাহলে তুমিই দেখো, এই হিসেবে তো আমি রিলিশড ফ্রম অল এলিগ্যাশন্স।
-মানে? কি ভুলভাল বকছো।
-আরে তুমি তো বললে তুলসীপাতা, তুলসী দাসের রামায়ণের পাতা। খুললেই তো একের পর এক গৃহঅশান্তি। সে দিক দিয়ে আমি তো শান্তিপ্রিয় এবং ………
-থামো, সোজা কথাকে শুধু উল্টো করা। তুমি হলে ঘাপটি, ঘাপটি বোঝো? লোকের কাছে সাধুপুরুষটি, ভাজা মাছটি উল্টে খেতে পারে না। আমি চিনি না তোমাকে …… বাব্বা।
-উঁহু উঁহু সাধুরা জেনেরালি নিরামিষাশী, ভাজা মাছ তো আউট অফ কোয়েশ্চেন। আর যে সাধুপুরুষ, মাছ ভাজতে পারে, সে ওল্টাতে পারবেনা কেন হে! তার কি হঠাৎ প্যারালিসিস হলো? কোইন্সিডেন্স অনুযায়ী যদি তা হয়ও, পয়েন্ট ওয়ান পার্সেন্ট, তাহলে তার ভাজা মাছের চিন্তা ছেড়ে এম্বুলেন্সের নম্বর খোঁজা আর হরিনাম জপ করা উচিত। বাংলার প্রবাদ গুলোর একটু রিভিশন দরকার। ইটস হাই টাইম।
-এই লোক আমায় পাগল করে দেবে একদিন। এই লোকের সাথে ঘর করে দেখাক কেউ।
-সে চান্স নেওয়া বোকামোর কাজ হবে মনে করি। আর তাতে লসটা তোমারি।
-আচ্ছা? তাই নাকি?
-মানে, শুধু শুধু খাওয়ার লোক বাড়াবে?
-আচ্ছা, মানে ঝি গিরিও করাতে চাও আমায় দিয়ে, তলে তলে এতো। চলে যাবো যেদিকে দু-চোখ যায়।
-তোমার ক্যাটারাক্ট অপারেশনটা হয়নি যে।
-ওহ বাহ্, হলে রাস্তায় ছেড়ে দিতে বেশ সুবিধে হতো তাই না? শয়তান, তুমি তল-শয়তান।
-মুখোশের তলায় শয়তান হবে কথাটা
-ওরে আমার বাংলার মাস্টারমশাই, তুমি ওই, তুমি ওই, তুমি মুখোশ, তুমি শয়তান, তুমি পাজি ...... উফ আমার বুক ধরফর করছে।
- বুক ধড়ফড় সেন্স করে সেটা সেন্সরি নার্ভাস সিস্টেমে গিয়ে তারপর সেটা বলতে মিনিমাম ৩০-৭০ মিলিসেকেন্ড লাগে। তোমার কি এতটা সময় .......
- ও মা গো
- আচ্ছা আচ্ছা, ডাক্তার ডাকবো, মানে কোথায় কষ্ট হচ্ছে?
- বলছি, আগে বলো। গোয়ার টিকিটটা কালই কাটবে, বলো ......
- (বিড়বিড় করে) কে বলে, মহিলাদের বুদ্ধি কম?






Saturday, 17 December 2016

টিট ফর ট্যাট


রাত তখন দুটো.

রাতুলের বার্থডে পার্টিটা বেশ জমে গ্যাছিল, ধুর অনেক রাত হ​য়ে গেল​.এই রাস্তা ধরেই যাই, শর্টকাট হবে.......

আরে এত কুকুর কোথা থেকে এল​.... চারটে.... আরে ওদিক থেকে কতগুলো ছুটতে ছুটতে আসছে.... কি মুশকিল.... পাশ কাটিয়ে যা.... একি আমার চারিধারে চলে এসেছে..... কাছে চলে আসছে.... কেন এরকম করছে....হুশ হুশ যা যা য্..... কার আওয়াজ যেন .. কে কথা বলছেন.... জোড়ে বলুন.... আমাকে বাঁচান....প্লিজ


"হে হে কে বাঁচাবে! আমরা কথা বলছি হে ছোকরা! আমাদের দেখে রোজ ঢিল ছোড়া, পালিয়ে যাওয়া, আর এখন কান্নাকাটি! কতবার তো মুখ বুজে স​ড়ে গেলাম! কতবার তো কাঁদলাম, তখন চোখে জল দেখিসনি? যা করে এতদিন মজা পেলি, এবার সে মজা আমাদের একটু পেতে দে! হাঃহাঃ.. দেখি তোরা কি আনন্দ পাস…"

Wednesday, 7 December 2016

বাবুরা ফোনটা ধরো না গো

বাবুরা বল্লেন কাল থেকে এক হপ্তা রোজ সকাল ৬টা থেকে দাঁড়াতে হবে গেটে.
কাঁটায় কাঁটায় ৬ টাতেই রাজু পৌছল গেটে, দেখে দরজার সামনে লাইন. সে লাইন বাবলু চায়ের দোকান পেরিয়ে আরও কতদূর! সে দেখাই যায় না.

গেট খুলতে যাবে যেই, হৈ হৈ করে ঝাপিয়ে পড়ল লাইনের সামনের কয়েকজন. রাজুর মাথা ঘুরছে, চোখ অন্ধকার. কানে এল "মামার বাড়ির আবদার যেন, শালা আমাদের টাকা নিয়ে এখন ..... ATM টা কি শালা দেখার জন্য রেখেছ.....মার মার ...."
চোখ যখন খুল্লো, রাজু তখন সরকারী হসপিটালে.
বাবুদের ফোন করেই চলছে, কেন যে ফোন গুলো unreachable?

ভাগ্যিস দ্বিতীয়টি ছেলে

প্রথম সন্তান, মেয়ে, যেন এক দায়। ভাগ্যিস দ্বিতীয়টি ছেলে!

ইংরিজী মিডিয়ম স্কুল, দুটো বাড়তি রসগোল্লা, পুজোতে খাসজামাটি আর অতিরিক্ত আদরটুকু দ্বিতীয়টির জন্যই।

ছেলে ফ্ল্যাট কিনে চলে গেল​, গৃহপ্রবেশে নিমন্ত্রণ করেছিল বটে!
আজকাল তাইবা কজন করে!
বাবার চোখে ছানি, মেয়ে লোন নিয়ে ছানি কাটালো।
চোখের ছানি তো কাটলো, সাথে মনের ধুলোও!

অনুতাপে বাবামা-র চোখভরা বিরামহীন জল।