Showing posts with label emotion. Show all posts
Showing posts with label emotion. Show all posts

Saturday, 7 September 2019

হ্যান্ডওভার

- হ্যালো
- হ্যা হ্যাল্লো হ্যাল্লো মিস্টার দাশ, তন্ময় বলছি।
- হ্যা হ্যা বলুন। কেমন আছেন? অফিসের সব কেমন লাগছে? নতুন কেবিন? সব ঠিক তো?
- একটা গোলমাল বুঝলেন
- কিরকম গোলমাল? হ্যান্ডওভারের সব কাগজপত্র বুঝিয়ে দিলাম যে।
- লেবু চা টা কোথা থেকে আসে বলুন তো?
- মানে?
- মানে রোজ বিকেলে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। ক্যান্টিন থেকে কেউ পাঠায় না বললো।
- ওহ! লেবু চা? হা হা, আসলে আমি তো রোজ ওই সময়ে খেতাম, তাই বোধহয় অভ্যেস বশে রাস্তার পাশের চা ওয়ালাটা দিয়ে গিয়েছে।
- গত ৩ সপ্তাহের প্রতিটি দিন উইথাউট মিস। আমি চাওয়ালা কে জিজ্ঞেস করলাম। ওরা না বললো। কে দিয়ে যায় দেখতে পাইনা। শুধু দেখি বিকেলে ওই সময়ে চা টা টেবিলে।
- স্ট্রেঞ্জ। আমি তো কিছু  ....
- আর ওয়ালক্লক টা দশ মিনিট ফাস্ট। ম্যানেজার বাবু বললেন, আপনি নাকি করে রাখতেন ওরকম।
- হ্যাঁ তা বটে।
- আমি কারেক্ট টাইম করালাম, কিন্তু পরেরদিন যেই কে সেই।
- বটে, নতুন ঘড়ি ট্রাই করে দেখ  .....
- দেখেছি। যে কে সেই।
- সেকি।
- শুধু তাই নয়, ভাঙা সবুজ পেপারওয়েটটা কিছুতেই টেবিলের ওপর থেকে নড়ছে না। পাঁচটা নাগাদ জানলার শেডটা আপনাআপনি নেমে আসছে। সবই ঠিক আপনার অভ্যেস মতো তাই না?
- হ্যাঁ কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা, আমি তো এখন আর ওই কেবিনে নেই। যাই নি গত ৩ সপ্তাহ।
- কিন্তু গত তিরিশ বছর আপনি ছিলেন, এই কেবিনে। এই অভ্যেসগুলোর সাথেই। ওদের নিয়েই। আপনি ওদের ছেড়ে গিয়েছেন। ওরা ছাড়তে পারেনি।
- হ্যান্ডওভার  .....
- কি শুধুই কাগজের আর দায়িত্বের? অভ্যেসের হ্যান্ডওভার হয়নি মিস্টার দাশ।

Thursday, 14 February 2019

আয়না, আই লাভ ইউ

আদো আদো করে গড়িয়াহাটের মোড়ে দাঁড়িয়ে তারা আজ প্রমিস করলো, কখনো ছেড়ে যাবে না একে অপরকে।
আজ থেকে তারা মনে-প্রাণে এক।
অটোতে বাড়ি ফেরার পথে, মেয়েটি দেখলো, ছেলেটি হা করে রাস্তার ওপারে অন্য একটি মেয়েকে দেখছে। এমন তন্ময়, যে তাকে হাত নেড়ে "বাই" বলতেও ভুলে গিয়েছে।
ছেলেটি এক্সপেক্ট করছিলো, বাড়ি ফিরে মেয়েটি জানাবে, ছেলেটির দেওয়া গিফ্টটা কেমন লাগলো। কিন্তু মেয়েটি জানায়নি।
তারপর রাতে ফোনে কি প্রচন্ড ঝামেলা! দুজনেই রাগে গুমরোচ্ছে। বিছানাতে এপাশ-ওপাশ, দুশ্চিন্তা। পরের দিন মিটমাট হবে কিনা জানা নেই। গড়িয়াহাটের প্রমিসটা জাস্ট ছেলেখেলা মনে হচ্ছে। একটা রাত চলে যাবে চিন্তায়, মন খারাপে। একটা পুরো রাত। ধুস।
হঠাৎ কি মনে হলো, তখন মাঝরাত, মেয়েটি আয়নার কাছে গেলো, নিজেকে দেখলো আর কি জানি কি মনে হলো, কারিনা কাপুর স্টাইলে বললো,"মেয় আপনি ফেভারিট হু". আর বলেই হেসে ফেললো। আর পরক্ষনেই রাগটাগ ভ্যানিস। জাস্ট সু, ভ্যানিশ। ইশ, রাগটা কি বিচ্ছিরি রকমের বাড়াবাড়ি লাগছে এখন।
কেউ কতদিন কাকে কত কিলোগ্রাম ভালোবাসবে, তা কি সে নিজেও জানে! প্রমিস-ট্রমিস তো শুধুই মুহূর্তকে গ্ল্যামারাস করার মেকআপ কিট। একজনের প্রতি অপরজনের ভালোবাসা থাকলে থাকে। না থাকলে থাকে না। ভালোবাসা আসে, যায়, হয়তো আবার আসে।
রবি ঠাকুর বলেছেন,"
লাজে ভয়ে ত্রাসে আধো-বিশ্বাসে
শুধু আধখানি ভালোবাসা,
শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা,
শুধু আলো-আঁধারে কাঁদা-হাসা।"
কেউ ছেড়ে যাবে তার ভয়, কেউ যদি আর ভালো না বাসে তার ভয়, কেউ চিট করছে কি না তার ভয়! এই ভয় যাকে বলে ইনসেক্যুরিটি, চব্বিশঘন্টা চেপে থাকবে কেন! কেন কারো জন্য নির্ভর করবে নিজের ভালো থাকা! কেউ কাউকে কি বা দিতে পারে! কাকে কত লিটার বিশ্বাস করা যায়! এর উত্তর কি কেউ জানে?
কিন্তু নিজেকে ভালোবাসার গ্যারান্টিটা তো নিজেই দেওয়া যায়। তাতে না কাউকে দরকার, না কেউ বাধা। বরং নিজেকে ভালোবাসলে মনের মধ্যে একটা হনলুলুকুলুপুলু টাইপ তৈরী হয়, তাতে বাকি সব কিছু "বেশ তো" টাইপ হয়ে যায়। বেশ একটা ক্ষমা-মা ভাব আসে।
মেয়েটি সেদিন রাতে এসএমএস করলো,"আই লাভ ইউ, বাট মোর আই লাভ মাইসেলফ। এন্ড, আই এম হ্যাপি"। সে রাতটা দুজনেই নিশ্চিন্তে ঘুমোতে গেলো। ভবিষ্যৎ কেউ জানে না। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে কোনো গ্রাজ নেই, কারোর ওপর কোনো রাগ নেই। ঠিক যেমনটা সবাই চাই। শান্তি।
তাই কাউকে ভালোবাসা ভালো। তার চেয়ে ভালো একটা আয়না আর তাকে বলা আই লাভ ইউ। নিজেকে ভালোবাসলে বাকিদের থেকে চাওয়ার ক্যালকুলেশনে ব্যস্ত থাকার দরকারই হয়না। ট্রাই, ইট ওয়ার্কস।

Monday, 28 January 2019

ব্যালান্সের চেষ্টা

- ডিভোর্স ছাড়া উপায় নেই রমিতদা। এ একেবারে নাজেহাল কেস। তুমিই ভালো আছো দিব্যি। আপেল খাচ্ছো। কামড়ে খাও, কেটে খাও। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমার জীবনটা শালা কৈফিয়তের শপিং মল তৈরী হয়েছে।

- স্থির হও খোকা। সোমবার তো। চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ্যশ্বাসে আকাশে বাতাসে একটু নেগেটিভ এনার্জি জেনারেট করেছে। এই নে, তুই ও একটা আপেল খা দেখি। কামড়ে খাবি খা। হুইস্কি বের করে ঢাল। দেখবি বেশ একটা স্বাচ্ছন্দ্যময় ওয়ার্ম ফিলিং আসছে। মনে হালকা চাপ তখনও থাকবে। তবে সেটা ব্যালান্সড।
এই যে আপেল এর হাঁকুপাঁকু মাটির দিকে ধেয়ে যাওয়া দেখে, স্যার নিউটন, ইউনিভার্স -এর প্রতিটি কণার মধ্যে এট্ট্রাকশন এর কথা বলেছিলেন। বিয়ে করেননি সারাজীবন। তাই মাখোমাখো আকর্ষণটুকুই দেখেছেন।

- তবেই বোঝো। শালা বিয়ে করেছো কি কেস খেয়েছো।

- বটেই। কিন্তু কেস ভালো। উইলিয়াম থমসন বিবাহিত। টেরটি পেলেন হাড়ে হাড়ে। গ্যালাক্সি-এর ডার্ক ম্যাটার খুঁজে পেলেন। বললেন রিপালশনের কথা। দিলেন বিকর্ষণ এর ব্যাখ্যা। ওদিকে আইনস্টাইন আবার বেলতলা গিয়েছেন দুবার। E=MC2 করতে করতে জিভ দেখিয়ে নেগেটিভ ম্যাসের থিওরি বলেছেন।

- হমমম।

- যেদিকে যাও, কন্ট্রিবিউট করে যাও। লক্ষ্য হবে, ব্যালান্স। আসবে না। তবু চেষ্টা করে যেতে হবে খোকা। থ্যানোস ও চেষ্টা করেছে অর্ধ্যেক এভেঞ্জআর দের হত্যা করে ব্যালান্স আনবে ইউনিভার্স-এ। পারেনি। ভূগর্ভে একটু এদিকওদিক হয়, ভূমিকম্প আসে, কিন্তু নড়াচড়া করে আবার স্থিতিশীলতা মাস্ট। উল্টিমেটলী ব্যালান্সের চেষ্টা। নইলে বাছা খেলাটা ভীষণ বোরিং।

- দাদা, ওই সংকটময় কৈফিয়ত ডিমান্ডের চাপের মুহূর্তে কি আর এসব তত্ত্বকথা মাথায় আসে!

- আনবে। আনতে হবে। আনা প্র্যাকটিস করবে। সময় খুব খারাপ মানি। গুগলে নিউটন সার্চ করলে এখন আর শান্ত-স্নিগ্ধ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট দৃশ্য আসে না। রাজকুমার রাওয়ের আঁতকে ওঠা ছবি আসে। তা বলে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। কণ্ঠ ও বেশি জোড়ে নয়। মনে মনে ভাবো "কফি উইথ করনে" বসে আছো। উস্কানি আসবে। ট্র্যাপ রেডি। পা দেওয়া যাবে না। গান গাও মনে মনে, আমি যামিনী, তুমি শশী হে। লিরিক্স টা মনে না পড়লে, মনে করার চেষ্টা কারো। একসময় দেখবে মেঘ কেটেছে। এইভাবেই চালিয়ে যাও ভায়া। আপেল কামড়ে বা কেটে। 

Monday, 5 November 2018

রঙ্গমঞ্চ

কালীপুজোর পাড়া-ভোজন।
প্রথমদিন আমিষ। দ্বিতীয়দিন নিরামিষ।
অবাধ খাবার আয়োজন, তার ওপর আমিষ। পাড়ার রিকশারাজু থেকে ডাক্তার হাজরা, মণ্ডপে সবার হাজিরা।
বাঙালি কে কোন শ্লা অসময়নিষ্ঠ বলে?
বেলা বারোটায় রান্না রেডি, খাবার লোক নেই। ঠিক একটা বাজতেই, জনজোয়ার। সব বাঙালির একসাথে খিদে পায়। ফ্রি -এর খাবার পেতে এবার লাগা লাইন। খিদে এবার পেট থেকে মাথাতে। পুজোর দিনে, মণ্ডপে গালাগাল দিলে, দেবীর কোপে পড়ার ভয়। ঢোক গেলা ছাড়া নো উপায়। ইতিমধ্যে পেট ভরপেট করে দাঁত খুঁচতে খুঁচতে বেরিয়ে আসা লোকজন-এর "জিতে গেছি কাকা" টাইপ বাঁকা চাহনি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া। এ যেন যুদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে পড়ে মিনি-পুকুর। লাইন এগোয় অনুপমের কাছিমের মতো। "গুটি গুটি পায়ে আর এগোতে পারে না"। শেষে পুকুর উপচে পড়ার আগেই এক ঠেলাতে একেবারে ফ্রাইড রাইস এর কাউন্টারে। তারপরে স্বপ্নের মতো ফিফটিন মিনিটস। ততক্ষনে পেট দয়াভিক্ষা করে ক্লান্ত। তুবড়ির মতো একটা জম্পেশ ঢেঁকুর দিতেই এ হে হে ...... ফিফটি পার্সেন্ট মাল হড়হড়িয়ে বাইরে। আসলে গলার নিচে ডাউনস্ট্রিম ফ্লো করবে, সে সময়টা পায়নি বেচারা। ঢেঁকুরটা চিরকালই অবাধ্য। আইটেমগুলোকে পেটে স্টে ই যদি না করানো গেলো, তাহলে তো যুদ্ধ-এ ফেল। যাক কেউ দেখেনি। মুখ-টুক ধুয়ে বেরিয়ে পড়লেই বাঁচোয়া। আরে ওদিকে কি? ভিড় কেন? পান-সুপারি টা মিস হলো নাকি? আরে এ হে হে, এতো আরেকজন বমি টমি করে ......
তাহলে এখন বাঙালির টাইম টু এক্ট এস এ শুভানুধ্যায়ী
"আরে কেন এতো খাস? ফ্রি এর মাল দেখলেই হামলে পড়বি? একটু বুঝে খাবি তো নাকি ..... মণ্ডপের এখানে এ হে হে কি ময়লা" ....... এবার কব্জি গুটিয়ে বেরিয়ে পড়া যাক মানে মানে। হে হে সবই "এ মায়া প্রপঞ্চময় ভব রঙ্গমঞ্চ মাঝে"।

Saturday, 27 October 2018

নাড়ু

লক্ষ্মীপুজো এলেই আবীর কোমরবেঁধে পুজোর জোগাড়ে লেগে যায়। মা-বাবা-বৌ খুশিই হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের মধ্যে হালকা আধ্যাত্মিক পাঞ্চ থাকলে বাড়ির লোকজন ভরসা পায়। আবীর পুজোর বাজার করে, ঘরের ঝুল ঝাড়ে, লক্ষ্মীঠাকুর ফুল দিয়ে সাজায়, ঘরের ডেকোরেশন করে, মা-বৌ লক্ষ্মীর পা আঁকলে কোমরে হাত দিয়ে রিভিউ করে, আল্পনার ডিসাইন গুগল খুঁজে জোগাড় করে। দেখেশুনে আত্মীয়স্বজন "কি ভালো কি ভালো" বলে। বন্ধুরা হাসে, বলে, কি মেয়েদের মতো  ....... । মা গর্বভরে ছেলের মাথায় হাত বোলান। বাবা কিন্তু প্রত্যেকবারের মতোই বিরক্ত।
- আবু, তুই এবার নাড়ু এনেছিস না আবার ভুলেছিস? আবু? আবীর? শুনতে পেলি?
- বাবা, পরের বছর পাক্কা।
- আবু, প্রত্যেকবার তোর এই এক কথা  ......

মা ছেলের মাথায় হাত বোলান। ছেলের সাথে নাড়ুর কি যে এতো রাগ! ভুলে যাওয়ার ছেলে যে আবু নয়, তা মা জানেন। বৌ রিয়া জানে আজ আবীর ছাতে কাটাবে অনেকরাত অবধি। কারণ জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যায়। জোর করবে এ স্বভাব রিয়ার নেই।

- তুই আবার কাঁদছিস
- কোথায় কাঁদছি?
- আমার সাথে নাটক করিস না। তোর মা-বাবা যে কি, এতোবছরেও তোকে সামলাতে পারলো না।
- সামলানোর কি আছে ? আমি কি বাচ্চা নাকি?
- আচ্ছা, তাহলে এবারেও দোকানে নাড়ু এদিক-ওদিক নাড়িয়ে কিনলি না কেন?
- উফফ, তুমি আবার  ......
- কি আবার? বল বল। চুপ করলি কেন বল।
- ও দোকানদার বাজে কোয়ালিটির নাড়ু গছাচ্ছিল, তাই  ......
- আচ্ছা, অন্য সব দোকানেই বাজে নাড়ু? আবুদাদুভাই, নাড়ুর গন্ধে তুমি আমাকে খোঁজো, তা কি আমার বুঝতে বাকি আছে। তাই না? দাদুভাই? আরে আরে ওই দেখো ছেলের চোখ অমনি ছল্ছলিয়ে  ..... কি মুশকিল .......
- ঠাম্মা, প্যাকেটের নাড়ুতে তোমার শাড়ির গন্ধ খুঁজি, নেই যে ......  এই ছায়াতে বসে তোমার ঘিয়ে মাখা তেলতেলে হাত আমার কপালে চাই সেই আগের মতো, আর পাই না ..... তোমার নরম কোলে মাথা রেখে লালকমলের গল্প শুনতে চাই, শুনি না তো আজকাল   ......  ব্যাঙ্গমাদের কথা শুনে আমার হাসি পেলে, চোখ বড়ো করে বিশ্বাস করাও না তো আজকাল  ...... পাঁচালি পড়ার সুরটা তোমার মতো কারোর নয়, কেনো বলো?   ......  ঠাম্মা, কেন ছায়া হয়ে আছো ঠাম্মা? ঠাম্মা  তুমি ফিরে এসো .......

Wednesday, 16 May 2018

গড়িয়াহাট এর মোড়ে

গড়িয়াহাট এর মোড়ে রক্তারক্তি কাণ্ড। 
রসিকবাবুর হাঁটুতে চোট, দোকানদারের থুতনিতে।
ভিজিটর দের কেউ কেউ হালকা আহত, কারও পা, কারও হাত, কারও নাক, কারও পেট। বাকিরা তীব্র মানসিক চাপে। 
চারিদিক থেকে চাপা উত্তেজনা। গজগজ। খসখস। ফিসফাস। ফোঁস ফোঁস।
ট্র্যাফিক পুলিশ চলে এসেছেন। 
বুঝলেন যে, গরমই ছিল। ফুলকোও বটে। আলুও চন্দ্রমুখী। নুন - চিনি যথাযথ।
তবু .......
কিছুক্ষন ভেবে হঠাৎ মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,
"আরে সমস্যা টা আগে বলবেন তো। আরে আমার বউ ভারী করিৎকর্মা। বাড়িতে লঙ্কা গাছ লাগিয়েছে। সারা বাড়িতে শুধু লঙ্কা আর লঙ্কা। দেখুন দেখি, ব্যাগে ও রয়ে আছে বেশ কয়েক টা। এতদিন বিরক্ত হতাম। এই আজ দেখি কাজেই লাগলো। সকাল ৬ টাতে কি আর এ জিনিস এখানে চাইলেই পাবেন? যা ডিমান্ড। এই যে নিন। (বলেই, পিঠের ব্যাগ থেকে বার করলেন একটি কচি সবুজ টসটসে কাঁচা লঙ্কা।) আরে নিন মশাই নিন, লজ্জা পাবেন ন ন না ..... এই একি এই কাড়াকাড়ি করবেন না .... এই একি.... কি হচ্ছেটা কি, একি লঙ্কা কান্ড!!"



Tuesday, 20 March 2018

ভিক্টিম শেষে চড়াই

কিউট অথচ শো-অফ হীন।
পুচকে, নাদুসনুদুস, কঠিন-দৃঢ়-অভিমানী ঠোঁট। অথচ নো শো-অফ। দিব্বি আশেপাশে ঘুরে বেরায়। বদ্রি-লাভবার্ড -এর মতো দুর্লভ নয়। তা বলে কি এলেবেলে নাকি? আত্মসম্মানে বিদ্যাসাগর। কখনো খাঁচার মধ্যে দেখেছেন ওকে? হু হু বাবা।
কিন্তু এই কলকাতায় বেচারাদের মোটে কদর নেই। দাঁত থাকতে দাঁতের আর চড়াই থাকতে চড়াইয়ের মর্যাদা নেই।
ভাবুন যার চিকচিক আওয়াজে বিরক্ত হয়ে জানলা বন্ধ করছেন, একদিন তাকে আর দেখতেই পেলেন না।
এর প্রসেস অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আমার মুম্বাইবাসী বন্ধু জানলায় একটা চড়াই দেখবে বলে আজ হাপিত্যেশ করে। মুম্বাইতে গাছ-টাছ কেটে মানুষ নিজেদের জায়গা করে নিতে ব্যস্ত। চড়াই কি আর পুলিশ কমপ্লেইন করতে পারে? মোবাইল টাওয়ার বসানো অনেক বেশি জরুরি। চড়াইকে তো আর ফোন করতে হয়না বর-বৌ-বাচ্চাকে। ওদের উড়ে যাওয়ার পাখা আছে। চুপিচুপি শুনে রাখুন, মুখ ভেংচে চোখ উল্টে পড়ে যাবেন না যেন। আমাদের দেশে বেশ কিছু লোক চড়াই-কারি বানিয়ে খান নিয়মিত। ওই আর কি, কামোত্তেজনা- ফামোত্তেজনা বাড়াতে। আমাদের দেশের একম-অদ্বিতীয়ম-লক্ষ্যম কামোত্তেজনা। ফ্রি ফান্ডে, "তোমাকে দেখাবো নায়াগ্রা তোমাকে শেখাবো ভায়াগ্রা" এর ভিক্টিম শেষে চড়াই।
এই চড়াই-উতরাই আর সহ্য করতে না পেরে কিছু বুদ্ধিমান চড়াই বিদেশে পালিয়েছে বা পাতি মরেছে, বেঁচে গেছে। যেকটা কিউট ভারতবর্ষে পরে আছে, তাদের পোড়া কপাল।
গ্রীকদেবী আফ্রোডিট-এর ভালোবাসার প্রতীক স্বয়ং তুই।
এ যে পোড়া ভারত, চড়াই, ভালোবাসার দাম এখানে নেই।
তবু যদি অধমের দু-চার কথা শোনেন, বলি যে,
১. একটু জানলার ধারে জল রাখুন, একটু পান করে বাঁচুক বেচারা
২. পারলে একটু দানাও দিন
৩. গাছ লাগাবেন এ আর নতুন কথা কি
একটু হোক না। ক্ষতি কি।

Tuesday, 3 October 2017

এই উইকেন্ডে দেখা করবে?

বং-রা বলেন, রবিঠাকুর-মান্না-কিশোর নিয়ে বাঙালি ন্যাকাপনা লেবু চটকে একেবারে তেতো। শুধুই কি বলেন? কোনো কোনো সাহসী বং এগিয়ে এসে নতুন লেবু প্রোডিউসও করতে চান। গিটার-ক্যানভাস-বাংলা কিবোর্ড এপ্লিকেশন, অস্ত্র-সস্ত্র যা সহজে পাওয়া যায়, নিয়ে এগিয়ে পরেন। ফেসবুকে পেজের পর পেজ বাড়ে। ইউটিউবে চ্যানেল এর পর চ্যানেল। দুদিন যেতেই অস্ত্রে ভ্যাজাল বেরোয়। কিন্তু ব্রহ্মাস্ত্র নেই বলে পিছিয়ে যাওয়া? উহু নাহ। বরং এর ওর বাগান থেকে লেবু চুরিটা বেটার। তাই শুরু হয়। তাতে পৃথিবী বদলায় না। উল্টে ঘড়ির কাঁটা বদলায়। কিছুতেই আকাশের রং সবুজ আর গাছের রং নীল হয়না। এইটা মোটামুটি চলে ধরুন এই বয়স ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ অব্দি। কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে এরপর তারাই আবার নিজেরাই লেবু চটকানোতে ফিরে আসেন। বা ঢাউস গদিতে এক পা আর একটির ওপর তোলার চেষ্টা করে হুইস্কী-র গ্লাসে সুপ করে চুমুক দিয়ে "ধুর শ্লা বাঙালি" বলে নিজের জীবনপথের যত-সমস্ত পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়ে নেন। একে বলে চক্র। লেবু চক্র।
ভাত-ডাল থেকে via ইডলি-সাম্বার বাঙালি পাস্তাতে সহজেই আস্থা পেয়েছেন। ধুতি থেকে via বলিউড বাঙালি হলিউড ডুড হয়েছেন। তাতে কি। আর একটা রবীন্দ্রনাথ জন্মালে ঠিক যে আবার ইউ-টার্ন মারবেন, সে মনে মনে জানা। ঠান্ডা ঘরে মিটিংয়ের পর মিটিং শেষে, ইংরিজি কপচে, দুহাত দিয়ে মাথা চেপে যখন ল্যাপটপ স্ক্রিনে তাকিয়ে। হঠাৎ হোয়াটসাপে টুং। "তুমি যে শিশির বিন্দু মম কুমুদির বক্ষে না হেরিলে ওগো তোমারে তমসা ঘনায় চক্ষে।"। ম্যাজিক কাজ করে না বলুন? গায়ে বাঙালি কাঁটা গুলো সোজা হয়ে বলে ওঠে "ওহ, শ্লা বাঙালি", হাতের আঙ্গুল গুলো মাথা থেকে নেমে ওই পুরোনো বাংলা কিবোর্ডে টাইপ শুরু করে, এমনি এমনি,"আমি যামিনী তুমি শশী হে ভাতিছ গগন মাঝে, মিস ইউ। এই উইকেন্ডে দেখা করবে?"

Monday, 28 August 2017

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপর নাই

"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই"
- য়্যা? কে বললো?
- ইয়ে আমি
- আমি কে?
- আমি ক্রো, ব্রো।
- (ভুঁরু উঁচিয়ে) অ তুমি? তা আমি কারো ব্রো নই। তবে আপাতত তুমি আমার লেফ্ট আই ব্রোয়ের ওপর থেকে ঠোঁটটা সরাও বাছা। 
- উপস সরি। বলছি আপনিই কি সেই? মানে দি অলমাইটি? দি খ্ৰীষ্ট।
- মমম সেই রকমই তো জানতাম। তো হঠাৎ এই ভর দুপুরবেলা, আমাকে বাটারিং? কি চাই হে?
- ধুস, কি যে বলেন, খ্ৰীষ্টদা। একটা প্রশ্ন খুঁজতে খুঁজতে সেই দূর নিকো থেকে ইকোতে এসে হাজির।
- বটে। নিকো আর এমনকি দূর? ওই তো সেক্টর ফাইভ …
- আরে আমি কি আর ওলা-উবের করে এসেছি? এর কাঁধে, ওর মাথায় ভর করে, নৌকো চড়ে, সাঁকো বেয়ে তবে না....
- আচ্ছা হয়েছে।, এবার প্রশ্নটা বলে ফেলো।
- সেরকম কিছু না, তবে আবার সেরকমই। মানে যার কাছে যেরকম। তো উইদাউট মাচ বকমবকম, প্রশ্নটা হলো,"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই", ইহা কি সত্য?
- বটে। কলকাতার ঘাম চ্যাটচ্যাটে দুপুরবেলা হিসেবে প্রশ্নটি নিতান্তই বিরক্তিকর। তবে ক্রোয়ের মুখে এরকম প্রশ্ন আগে থ্রো হতে দেখিনি। তাই আমি যাইপরোনাই আপ্লুত। তা হ্যা কথাটি সত্য হে।
- ও মানে একেবারেই মিথ্যা করা যায়না? সেই ঈশপের সময় থেকে ছেলেপুলে আমার রেফারেন্স নিয়ে নিয়ে ডাক্তার-ইঞ্জি হয়ে গেলো। আর আজ এতো ওপরে বসেও আমায় শুনতে হবে সবার ওপরে ওই ওরা?
- দেখো হে, এটাই বলবো তুমি ভায়া অনেক সেফ।
- সেফ?
- ইয়েস। ওপথে মোটেই পা বাড়িও না। দেখছো না "সবার ওপরে মানুষ সত্য" শুনে পাবলিক গুলোর হাল কি হয়েছে? খেলা শুরু করেছে নিজেদের মধ্যে। কে সত্য, কে ওপরে, সেই নিয়ে লাঠালাঠি শুরু করেছে। ওই ওই দেখো সমস্ত রকম অস্ত্র নিয়ে নেমে পড়েছে। সাহিত্য? লালিত্য? বাচস্পত্য? পাণ্ডিত্য? সব নিয়ে। তার চেয়ে বরং এই ওপর থেকে সেফ খেলা দেখে যাও ভায়া।
- ওরে ব্বাবা। তাই তো। আপনার ওপর এই এদের দ্বায়িত্ব ভেবে আমার নিজেকে বেশ ফ্রি বার্ড লাগছে। মানে সেটাই ছিলাম। আরও ফুরফুরে লাগছে। এখন মনটা বেশ হালকা লাগছে। বেশ একটা উপলব্ধি হচ্ছে।
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপর নাই,
আর

বেশ উঁচু স্ট্যাচু পেলে, আমি টপ ভিউটা পাই।
 

Wednesday, 26 July 2017

এ জগতে হায় সেই বেশি চায় যার আছে ভুরি "ভুঁড়ি"

পূজোতে পুরুষদের জামাকাপড় কেনা? তার দ্বায়িত্ব ওনাদের। বৌ-দিদি-বৌদি মিলে চললেন শপিংএ। "XL" এ জাত যাবে। "L" তাদের কাছে তবু সহনীয়। কিন্তু ওই বিবাহিত পুরুষদের মধ্যপ্রদেশ যে মাত্রায় প্রভাবশালী, তাকে কি আর ওই এল-ফেলে আয়ত্তে আনা যায়?

জাস্ট একটা গর্ভাশয়! জাস্ট! ঐটা নেই বলেই যত তাচ্ছিল্য? দিলেই কি তা গর্ব ভরে গর্ভে স্থান দিত না পুরুষ? বীর হবার চান্সটুকুই দেওয়া হলোনা পুরুষদের। কিন্তু তবু নিজের শুধুমাত্র নিজের একান্ত পরিশ্রমে যে পরিমান মাল-মশলা ঠুসে টুসটুসে ভুঁড়ি টুকু বানিয়েছে তাকে একেবারেই পাত্তা না দেওয়া এবং রীতিমতো হেয় করা কি ভালোমানুষের কাজ? "L" মার্কা জামা-কাপড় কিনে এনে একেবারে বোল্ড এন্ড উন্ডারলাইন করে দেখানোর মধ্যে যে মানসিক অত্যাচার, তা কি সুন্দরীদের মানায়? সবথেকে দুঃখের কথা হলো, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও সময়মতো ঠুকে দিয়েছেন, এ জগতে হায় সেই বেশি চায় যার আছে ভুরি "ভুঁড়ি"। কি আর চাইলো পুরুষ! সবই তো চাওয়ার আগেই নারী হিসেবে টপাস ছাদনাতলাতে।
সেই নারীরাই এক হলে বরের ভুঁড়ি নিয়ে তোলপাড়।
আর ব্যাপারটা শুধু কি মানসিক-এই?
পার্থবাবুকে রোজ সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠানো? সেটা? জগিং করতে গিয়ে ওনার ওই ইয়ে টা যে ক্লিয়ার হয়না, সেইটা কে বোঝে?
ত্রিলোকবাবুকে কি একটা মেশিন এনে দেওয়া হয়েছে, সেটা বেল্টের মতো জাপ্টে নিতে হয়। তারপর সুইচ অন। তখন মনে হয় যেন কেউ ওনার সাথে "রজনীকান্ত" "রজনীকান্ত" খেলছে। আর রমেনবাবুর? ওনার গল্পটা শুনে যান। লুচি আর রসগোল্লা গিলে রমেনবাবু শুয়েছেন। হঠাৎ পেটের ওপর হেব্বি চাপ। ঘাড় উঁচিয়ে দেখেন, বৌ পেটের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন চারটি খন্ডস অফ রবীন্দ্ররচনাবলী, তারপর রেখেছেন নিজের বাহুবলী। ওই অবস্থায় যখন রমেনবাবু শুধু মুখ হা করে কিছু বলার চেষ্টা করছেন, বৌ ওনার দিকে তাকিয়ে ভারতনাট্যম চোখ নাচাচ্ছেন। ভেবে দেখুন অবস্থাখানা।

Wednesday, 19 July 2017

ইমোজি না ইমোবাবু

- মে আই কাম ইন? 
- ইয়েস। সিট্ ডাউন প্লিস। আপনার বায়ো-ডাটা তো খাসা মানে বেশ ইম্প্রেসিভ। 
- বলছেন? ওই ইয়ে সবই ন্যাচারাল-ট্যালেন্ট বলতে পারেন। 
- সে আর বলতে। বলছি এখুনি একটু হেসে দেখাতে পারবেন? ওয়েট। যে সে হাসি নয় কিন্তু। ওমরেশ পুরি টাইপ?
- কি আর বলবো স্যার? হে হে ওটা তো আমার বাথরুম স্টান্ট। 
- য়্যা? সেকি? আর উৎপল দত্ত "হীরক রাজা" মার্কা?
- হে হে ঐটাও। খুবই সহজ। মুখ আধ-চাপা, বেরিয়ে থাকবে দাঁত শুধুমাত্র ওপর পাটির চারটি ইন্সাইজর। ব্যাস।
- বটে? আর কানন দেবী কান্না?
- একটু ডিফিকাল্ট ছিল শুরুতে, ডুকরে কান্না টাইপ তো, তা এখন করে ফেলতে পারি ঐটাও। আসলে শুধুই তো এক্সপ্রেশন। ভয়েসের ব্যাপারটা নেই বলেই ব্যাপারটা সহজ আর কি। সুচিত্রা সেন "সপ্তপদী" মানে চোখ ছলছল কিন্তু গাম্ভীর্য্য, মাধবী "ছদ্মবেশী" মানে মুখ বন্ধ এক গাল হাসি, রবি ঘোষ "ধন্যিমেয়ে" মানে উচ্ছে-তেতো মুখ করা পুরোহিত। এই গুলোও রপ্ত।
- আপনি তো মশাই ফাটিয়ে দিয়েছেন। এতো ট্যালেন্ট নিয়ে এতদিন কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলেন? আপনার আগের জনেরা, যারা সব ইন্টারভিউ দিতে এলো, সব কটা যেন হিমেশ রেশমিয়া, পাথরের সাথে কম্পেটিশনেও হেরে যাবে। যাক গে যাক। শুনুন চাকরি আপনিই পাচ্ছেন। আপনার গাল গুলো একটু শুধু ভরাট করতে হবে এই যা। সে একটা ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিতে হেল্প করবে আমাদের টীম। এখন অনেক কাজ। আপনার সব ইমোশন প্রিন্ট করতে পাঠাতে হবে। আমাদের সোশ্যাল নেটওয়র্কিংএ লঞ্চ করতে হবে। সে নিয়ে একটা প্রমোশন ইভেন্ট এরেঞ্জ করতে হবে। টু মাচ ওয়ার্ক। ফেসবুকের সাথে কম্পিটিশন বাবা, যে সে কথা! তবে বাঙালি এক্সপ্রেশন-এর সাথে ওরা পাল্লা দিতে পারবে না। হে হে হে হে। ও আর একটা কথা, আপনার নামটা ....
- ইমোজি। বা স্মাইলি।
- উহু। বদলাতে হবে। বাঙালি এক্সপ্রেশন্স। বাঙালি ভাব-আবেগ থাকবে আর নাম ধার নেবো নর্থ ইন্ডিয়ানদের থেকে? ইমো "জি"? ওসব "জি" "ফি" চলবে না। বাবু চলতে পারে। ইমোবাবু? বা ইমো-মশাই? শর্ট-এ ইমোশাই। শব্দে বেশ একটা লাজুক ব্যাপার আছে। কি বলেন?