Showing posts with label মিষ্টি কথা. Show all posts
Showing posts with label মিষ্টি কথা. Show all posts

Tuesday, 3 October 2017

এই উইকেন্ডে দেখা করবে?

বং-রা বলেন, রবিঠাকুর-মান্না-কিশোর নিয়ে বাঙালি ন্যাকাপনা লেবু চটকে একেবারে তেতো। শুধুই কি বলেন? কোনো কোনো সাহসী বং এগিয়ে এসে নতুন লেবু প্রোডিউসও করতে চান। গিটার-ক্যানভাস-বাংলা কিবোর্ড এপ্লিকেশন, অস্ত্র-সস্ত্র যা সহজে পাওয়া যায়, নিয়ে এগিয়ে পরেন। ফেসবুকে পেজের পর পেজ বাড়ে। ইউটিউবে চ্যানেল এর পর চ্যানেল। দুদিন যেতেই অস্ত্রে ভ্যাজাল বেরোয়। কিন্তু ব্রহ্মাস্ত্র নেই বলে পিছিয়ে যাওয়া? উহু নাহ। বরং এর ওর বাগান থেকে লেবু চুরিটা বেটার। তাই শুরু হয়। তাতে পৃথিবী বদলায় না। উল্টে ঘড়ির কাঁটা বদলায়। কিছুতেই আকাশের রং সবুজ আর গাছের রং নীল হয়না। এইটা মোটামুটি চলে ধরুন এই বয়স ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ অব্দি। কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে এরপর তারাই আবার নিজেরাই লেবু চটকানোতে ফিরে আসেন। বা ঢাউস গদিতে এক পা আর একটির ওপর তোলার চেষ্টা করে হুইস্কী-র গ্লাসে সুপ করে চুমুক দিয়ে "ধুর শ্লা বাঙালি" বলে নিজের জীবনপথের যত-সমস্ত পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়ে নেন। একে বলে চক্র। লেবু চক্র।
ভাত-ডাল থেকে via ইডলি-সাম্বার বাঙালি পাস্তাতে সহজেই আস্থা পেয়েছেন। ধুতি থেকে via বলিউড বাঙালি হলিউড ডুড হয়েছেন। তাতে কি। আর একটা রবীন্দ্রনাথ জন্মালে ঠিক যে আবার ইউ-টার্ন মারবেন, সে মনে মনে জানা। ঠান্ডা ঘরে মিটিংয়ের পর মিটিং শেষে, ইংরিজি কপচে, দুহাত দিয়ে মাথা চেপে যখন ল্যাপটপ স্ক্রিনে তাকিয়ে। হঠাৎ হোয়াটসাপে টুং। "তুমি যে শিশির বিন্দু মম কুমুদির বক্ষে না হেরিলে ওগো তোমারে তমসা ঘনায় চক্ষে।"। ম্যাজিক কাজ করে না বলুন? গায়ে বাঙালি কাঁটা গুলো সোজা হয়ে বলে ওঠে "ওহ, শ্লা বাঙালি", হাতের আঙ্গুল গুলো মাথা থেকে নেমে ওই পুরোনো বাংলা কিবোর্ডে টাইপ শুরু করে, এমনি এমনি,"আমি যামিনী তুমি শশী হে ভাতিছ গগন মাঝে, মিস ইউ। এই উইকেন্ডে দেখা করবে?"

Thursday, 11 May 2017

শুধু এই হাসিতেই

** সিরিয়ালটা শুরু হলো ভালোই কিন্তু নায়কের আট নম্বর বিয়েটা আর নেওয়া যাচ্ছেনা।
** ভালো একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস মাথায় আসছে না!! কি মুশকিল।
** মনীষা ম্যাথসে আমার থেকে টেন মার্ক্স্ বেশি পেয়েছে বলে আমাকে এবার সামার সেলে ক্রপটপ কিনে দেবে না? কি অদ্ভুত লজিক!!
** বিরিয়ানির দামটা ফট করে কুড়ি টাকা বাড়িয়ে দিলো!! আর এ নিয়ে কোনো বিপ্লব হলোনা?
** শুধু গান গাইতে চেয়েছিলাম, এখন স্কেল নিয়ে লোকের বাড়ি-ঘরের মাপঝোপ করছি। এটা জীবন?
** শ্লা আমি ঠিক জানতাম। কাল ছুটি নিচ্ছি, মালটা ঠিক লাস্টমোমেন্টে ফাইলগুলো পাঠাবে। ধুস।
** মাসের শেষের ডেটগুলোতেই সব নিমন্ত্রণ বাড়িগুলো হামলে পরে। কেন রে? আখেরে তোদেরই তো ক্ষতি রে। ক্ষি জ্বালা রে ভাই।
** "ইটস নট ওয়ার্কিং"? মানেটা কি? এতদিনের চ্যাট-স্ক্রিনের সামনে গালে হাত দিয়ে অপেক্ষা, প্রতিটি বোকা-বোকা স্ট্যাটাস আপডেটে ওয়াও নিদেনপক্ষে লাইক, দেখা করলেই প্রত্যেকবার ডেয়ারিমিল্ক আর ডোমিনোস। আর এখন "ইটস নট ওয়ার্কিং"? কারণটা ঝেড়ে কাশলো না পর্যন্ত!!
** নিশ্চিন্তে আইপিএল টাও আমার জীবনে চ্যালেঞ্জ। এর থেকে কোলের বাচ্চার ফেসভ্যালু অনেক বেশি। 
** অফিসের কাজ, ঘরের কাজ এসবই যদি একমাত্র যুদ্ধ হতো, তুড়ি মেরে বলতাম,"আই ক্যান কংকর দা ওর্য়াল্ড"। কিন্তু সারাদিন এরওর হাঁ-করা জিভ-বার-করা মুখ সহ্য করা, বাসে-ট্রামে শরীর বাঁচানো, এগুলো?
 -------------
শুধু এই হাসিতেই মাথাঠাসা ডালহৌসি, মুহূর্তে সান্দাকফু
শুধু এই হাসিতেই "আমার মতে জগৎটাতে ভালোটারই প্রাধান্য, মন্দ যদি তিন-চল্লিশ, ভালোর সংখ্যা সাতান্ন"
শুধু এই হাসিতেই "আমি যামিনী, তুমি শশী হে"
শুধু এই হাসিতেই ডেসডিমোনা বেঁচে উঠে এক চড় মেরে ওথেলোকে বলে," উইথিন এ পার্ক অফ লাসটি ফ্লাওয়ারস, দি চার্ম অফ হিস্ ফ্লুট এস এম্পাওয়ার্স … গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে, বিসরি ত্রাস-লোকলাজে. সজনি, আও আও লো, জয়েন মি জয়েন মি জয়েন ওহ"
শুধু এই হাসিতেই কেটো বাসের জানলা, বাকিংহাম প্যালেসের দোতলা
শুধু এই হাসিতেই চ্যাটচ্যাটে ঘাম আচমকা পনেরো ডিগ্রির ম্যাজিকে চিলড
শুধু এই হাসিতেই ঢেঁড়সের তরকারির বদলে ডিনার টেবিলে অকস্মাৎ রগরগে মটন
শুধু এই হাসিতেই অফিসের বস, বাজারের ফর্দ, পুরোহিতের দক্ষিণা, ছেলের বায়না, মহুয়ার পরচর্চা, কেকেআরের রান রেট, বাজেটপেশ, আউটঅফসিলেবাস, দেশের ইকোনমি, পাশের জনের প্রতি পক্ষপাত হঠাৎ কিরকম "বেশ-তো"
শুধু এই হাসিতেই লাল-সবুজ-কমলা “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি” টপিক নিয়ে একমঞ্চে
শুধু এই হাসিতেই বামুনদল জাত-পাতের বিরুদ্ধে পিটিশন দেয়
শুধু এই হাসিতেই মাঝরাতের ভয়-ভয় হোয়াটস্যাপ আই-লাভ-ইউ মেসেজটা গান্ধীজির স্ট্যাম্পমার্কা ইনল্যান্ড লেটার হয়ে পৌঁছে যায় তার ডেস্কে

শুধু এই হাসিতেই, সবাই “এই মুহূর্তে” বাঁচে

Thursday, 27 April 2017

শিল্প ভাবনা

মানুষের শিল্প ভাবনা যত্রতত্র। শিল্পকাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদের ব্যক্তিত্ব। তাদের শিল্পীস্বত্বা পাশের মানুষকেও দেয় অনাবিল আনন্দ।
এই যেমন এই ছবিটি, দেখুন ভালো করে। ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন? তাহলে অনুরোধ করবো, আরেকবার দেখুন।

-কি দেখছেন বলুন তো?
-আরে, ওই তো কটা চাড্ডি রুমাল আর মোজা।
-ধুস, ভালো করে দেখুন। রুমাল গুলি দেখুন বাঁ দিক থেকে ডানে। কিরকম রংগুলি গাঢ় থেকে ধূসর? আবার উল্টোদিক থেকে ধূসর থেকে গাঢ়। এবার মোজাগুলি দেখুন। এর মধ্যে আবার অন্য বৈচিত্র। গাঢ়-ধূসর-গাঢ়।
- কি বুঝলেন?
- কি আর বোঝার আছে বলুন তো?
- বটে, এবার তো আপনার শিল্পচিন্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে মশাই। দেখুন এর মধ্যে আছে নিষ্পাপ অভিরাম শিল্প। এবং এর মাধ্যমে শিল্পীর চরিত্র প্রকাশ পায়। চারটি প্রধান বৈশিষ্ঠ্য নজরে পড়ে।

প্রথমত
শিল্পী নিশ্চয় কাজে-কর্মে বেশ নিপুণা। ঘরে বাইরে নিশ্চয় তিনি অনবদ্য়।

দ্বিতীয়ত
এনার হাতে সময় অনেক। তাই সময় নিয়ে এক এক করে এগুলি সাজিয়েছেন।

তৃতীয়ত:
দেখুন মহিলারুমাল এবং পুরুষমোজা বেশ কাছাকাছি। মানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাকে বলে বেশ মাখোমাখো।

চতুর্থত:
রুমালের ক্ষেত্রে রং ধূসর থেকে গাঢ় অর্থাৎ বেশ খুশিতেই দিন কাটছে শিল্পীর। মোজার মধ্যে বৈচিত্র্য সুতরাং স্বামীর জীবন বেশ রঙিন। রঙের ওঠানামা নজরে আসে। কিন্তু তা সংযত।

তাছাড়া ব্যালান্স মানে সামঞ্জস্য ব্যাপারটা শিল্পী ভালোই বোঝেন। সে সংখ্যার দিকেই হোক বা জোড়ায়।
ম্যাট্রিমোনিয়াল নয় একই রকম একটি মানুষের প্রয়োজন এ সমাজে। শিল্পীর সাথে আলাপচারিতাতেই কিছু জ্ঞানবৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ থেকেই যায়। কি বলেন?





Friday, 14 April 2017

চো চো চোদ্দশ চব্বিশ।

বাংলা চোদ্দশ চব্বিশ।
বেশ একটা চো চো ব্যাপার, তাই না?
কি কি করবেন:
এই বছরটা চোঁ চোঁ করে কাটান।
চপ-চমচম-চা-চানাচুর-চিনি-চর্ব্যচোষ্য ছাড়া বাঙালি অচল। কুচোচিংড়ির বড়া, সাথে কুচোনো পিঁয়াজ, উফফ চমৎকার, চলবে।
চোঁয়া ঢেকুরটা আপ্রতিরোধ্য। অম্ল-প্রতিষেধক চিবিয়ে নেবেন।
আমের চোকলা চোয়ানো রস চোষা? অসমীচীন, একান্তে চলবে।
চোলাই? এহ!! চোপ!!
চোখ পাকানো, চোখ টেপা, চোখ টাটানো, চোখ ঘোরানো, চোখ রাঙ্গানো ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা আবশ্যিক। তবে চঞ্চল চোখাচুখি চলতে পারে। তা যেন চুলোচুলিতে পরিণত না হয়।
আড়চোখে এদিক ওদিক চাইতে গিয়ে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেও, বিরত থাকুন।
যে হারে চড়চড় করে চারিদিকে চরম গরম, চোখে সর্ষেফুল দেখা অসম্ভব নয়।
চোপড়ানি বা চোটপাট বা চোপার মাত্রা চোদ্দশ চব্বিশ-এ বাড়তে পারে। তাতে ভয়ে কেঁচো হয়ে যাবেন না। চুপসে থাকুন।
চোয়াড়ে চোস্ত চোরচোট্টা-চিটিংবাজ চারিদিকে কৃত্রিম চেহারা নিয়ে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে। তাদের চোয়াল ভেঙে দিতে মন চাইছে? উহু নিতান্তই চিপ। ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করবেননা।
চটপট কুলকুচি করে নিন।
ধার বাকি চোকান।
ভাঙাচোরা মন নিয়ে মনচোরের সাথে জুয়াচুরি খেলবেন না। ওতে নাকানিচোবানি খাওয়ার চান্স আছে।
মন খুলে বাঁচুন। ওটাই বাঁচোয়া।

Monday, 10 April 2017

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চক্রের বদলে ছড়ান রসভরা জিলিপি

সন্দীপনিতে পড়াশোনা শেষ করে থেকে সময় পেলে ভালো লেখা পড়েন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। লিপি, পাণ্ডুলিপি সব পড়া শেষ। বারকয়েক রিভিশনও হয়ে গেলো। এবার একটু নতুন লেখা পেলে ভালো হতো। দেবী সরস্বতী শেষমেশ বাঁচালেন, খোঁজ দিলেন ফেসবুকের। লিংক পাঠিয়ে দিলেন। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও। ফেসবুকে নতুন একাউন্ট খুলে শ্রীকৃষ্ণ ভারী খুশি। এতো লিপি, এতো লিখন, এতো ভাষা, এতো বর্ণমালা। বেশ চলছিল, মুশকিল হলো, গত কয়েকবছরে লেখার সংখ্যা হুড়হুড় করে বেড়েছে।
যেমন সংখ্যা বাড়ে পরীক্ষার সময় ছাত্রভক্তের,
যেমন সংখ্যা বাড়ে পুজোর সময় মহিলাভক্তের,
যেমন সংখ্যা বাড়ে ইয়ারএন্ডের সময় চাকুরেভক্তের, (সূক্ষ্মরূপে বেশিরকম বাড়ে ফিনান্সিয়াল ইয়ারেন্ডে)
যেমন সংখ্যা বাড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের পর আমজনতাভক্তের, (বাজেট পেশের পর অতিরিক্ত মাত্রায়)
তেমনই ঝাটিকাবেগে লেখার পরিমান বাড়ছে। চারিদিকে থিকথিক করছে লেখা। শ্রীকৃষ্ণ অভিভূত, বিস্মিত এবং চিন্তিত। কোনো লেখা মিস করতে চান না তাই কিছুটা বিচলিতও। নারদকে খুব দরকার। এইসব কাজে ওর খুব মাথা চলে। ঠিক সময়ে আগমন নারদমহাশয়ের।
-নারায়ণ, নারায়ণ, প্রভু, চিন্তিত দেখাইতেছে কেন আপনারে?
-আইসো আইসো নারদমহাশয়, এইতো খুঁজিতেছিলাম তোমারে।
-হাজির প্রভু, কহেন দেখি কি চিন্তা আপনারে করিতেছে বিব্রত?
-আর কি বলি, ফেসবুকে লেখা লেখি, কত কত, শত শত ....
-আর বলিতে হইবে না প্রভু, ধরিয়াছি ঠিক, পড়িতে এতো লিখন, হউক দিনের দৈর্ঘ্য অধিক.
-উহু না না, উহাতে সমস্যা বাড়িবে অতিশয়, পড়িবার সময়ের সাথে লিখনও জন্মাইবে শয় শয়। অন্য কোনো উপায়?
-তবে প্রভু, লেখকের চিত্তবিক্ষেপ ঘটিলে, বিশ্রাম লইবে কলম, বিরতি আঙুলে।
-সাধু উপায় হে নারদমহাশয়, ভাবিয়া দেখ কি রূপে তাহাদের চিত্তবিক্ষেপ হয়। যাহাতে সমাজেরও কল্যাণ এবং চিত্ত রয় আমোদময়।
-জিহ্বা লইয়া বড়ো সংবেদনশীল বাংলার লেখককুল, খাদ্য জাতীয় আয়োজনে চিত্তবিক্ষেপ ঘটিবেই, নির্ভুল।
- ইয়ায়ায়ায়াহুউউউউউ
জিহ্বাকে পরিতৃপ্ত করিতে লেখক ছুটিল, শ্লথ হইলো লিপি,
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চক্রের বদলে ছড়ান রসভরা জিলিপি।
নারদ অগোচর হতে হতে ভাবলেন, বাঙালিদের জন্য জিলিপি কেন? রসগোল্লা-সন্দেশ থাকতে? ও হরি, প্রভুর জন্মস্থান ভুললে চলবে কি করে। প্রভু নিজের জন্মস্থানের মিষ্টান্ন বড়ই পছন্দ করেন বটে।
মধ্য(প্রদেশ)এর স্বাদ পাক উত্তর, উত্তরের স্বাদ পাক পশ্চিম,
এবার পশ্চিম? পশ্চিম পাক খাক রসে।