Showing posts with label marriage. Show all posts
Showing posts with label marriage. Show all posts

Thursday, 15 March 2018

স্কেলটা

"টিক টিক টিক টিক"
ব্যাস ওই আবার। এখন আবার কি? এই এখুনি তো লাঞ্চ খাইয়ে এলাম। ওহো এবার বোধহয় ওনার পটি টাইম। উফফ এটা একটা লাইফ? সারাদিন শুধু  "টিক টিক টিক টিক"। এই চা দাও, এই ব্রেকফাস্ট দাও, এই শাড়ি চেঞ্জ করাও। আর পটি করানো তো যুদ্ধ। সারাদিন খেয়ে খেয়ে আর বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোটা হচ্ছে আর শুধু "টিক টিক টিক টিক"। রোমা বলে, শাশুড়ীরা নাকি খুব ভয়ঙ্কর হয়। তারা নাকি ঝগড়া করে, তারা নাকি বৌয়ের নিন্দে করে প্রতিবেশীর কাছে! আমার প্যারালাইস্ড শাশুড়ী, তাই আমি নাকি ভালোই আছি। প্রতিবেশীর কাছে আমার নাম নিন্দে করতে পারেনা। কথা বলতে পারেনা তাই ঝগড়াও নেই। তা আমি বলি, ওসব হলেই বরং বেঁচে যেতাম। কানের কাছে সারাদিন প্রতি ঘন্টাতে "টিক টিক টিক টিক" তো আর শুনতে হতো না। কোনো শখ-আহ্লাদ-ঘুরতে যাওয়া-সিনেমা যাওয়া তো নেই জীবনে। রোমার সাথেও যে দশমিনিট কথা বলবো তার জো নেই। শুরু হবে "টিক টিক টিক টিক"। সেদিন তো "জননীর কোলে" সিরিয়ালের ঠিক ক্লাইমেক্সের টাইমেই "টিক টিক টিক টিক"। ও বলে, পঁচাশি বছরের ওর মা, তাকে নাকি আর আয়ার ভরসাতে রাখা যায় না, বয়স্কদের ওপর নাকি খালি হামলার খবর পেপারে। তাও তো খুব জোড় করে একজন আয়া রাখা হলো। ওই পনেরদিন মতো টিকেছিল। সারাদিন "টিক টিক টিক টিক" এর জ্বালায় আর রোজ মাঝরাতে আঠারোবার উঠতে গিয়ে সে আয়ার নিজেরই নাকি এখন বাড়িতে আয়ার সেবার দরকার হয়ে পড়েছে।
সারাদিন সমস্ত বাড়ির খেয়াল রেখে তারপর রাতে ওই "টিক টিক টিক টিক" আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন আর কিছু না শুধু একটু ভালো করে ঘুমোতে চাই। কতদিন যে ভালো করে ঘুম টুকু হয়নি!

ওই আবার। "টিক টিক টিক টিক"।
"দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাকে বাথরুম থেকে তো বেরুতে দাও উফফফফ"
মাঝে মাঝে মনে হয় ওই যে স্কেলটা দিয়ে খাটের ধারে "টিক টিক টিক টিক" করে, সেটা দিয়েই মাথাতে ..... 

============================================================================

- কি হলো, উঠে পড়লে কেন?
- না ওই যে মা বোধহয়  ....
- মা? পর্ণা তুমি আমার মা কে এতো ভালোবাসতে? উনি চলে যাওয়ার পরেও  .....
- ও হ্যা। রোজ রাতে কি যে হয়। কিন্তু আজ যেন  ..... যাক ঘুমিয়ে পড়ো। আমিও  ..... এই ওটা কিসের আওয়াজ। শোনো, শুনতে পাচ্ছো। শোনো
- কোথায় পর্ণা কিচ্ছু তো নয়। তোমার মনের ভুল। শুয়ে পড়ো।
- উফফফফ ভালো করে শোনো। শোনো না। আরে এইটা স্কেলের তোবড়ানো দিকটার আওয়াজ। আমি জানবো না? এই ছ'বছর ধরে শুনছি  .....
- পর্ণা  .....

Thursday, 8 February 2018

পদ্মাবত এবং টিয়া

পদ্মাবত নিয়ে এ যাবত অনেক ঘোল-শরবত হলো। ওসব নিয়ে না চাইলেও চোখের সামনে, কানের পাশে, হাতের ডগায়, মাথার আগায় যা সব চলছে, তাতে খুব চিন্তিত। না, চিন্তা দেশ নিয়ে নয়, দীপিকার মাথা নিয়েও নয়, বনশালির কুশপুতুল নিয়ে তো নয়ই। চিন্তা ওই টিয়াটিকে নিয়ে।
এ? টিয়া কোথা থেকে এলো!
সিনেমাটি না দেখে থাকলে, নিদেনপক্ষে রানী পদ্মিনীর গল্পটা না পড়ে থাকলে, নিশ্চয় ভূরু কুঁচকে এটাই ভাবছেন।
তা কেসটা এরকম।
বেশি সুন্দরী মেয়ে মানেই মেয়ের বাবারা বাই ডিফল্ট অমরেশ পুরি। এ দেশে অবশ্য তা ছাড়া উপায়ই বা কি! যাক সে অন্য প্রসঙ্গ।
তা পদ্মিনীও সুন্দরী। (সে তো দিপিকা পাডুকোনকে নাম ভূমিকা নায়িকা হিসেবে দেখেই আন্দাজ করেছেন) তাই পদ্মিনীর বাবারও মেয়েকে সামলানোর প্রবল চাপ। কারোর সাথে কথা বলা বারণ পদ্মিনীর। এখানেই এন্ট্রি টিয়ার। হ্যা পাখি। যে সে পাখি নয়, কথা বলা পাখি। তা তার সাথেই জমে ওঠে পদ্মিনীর, সরল বন্ধুত্ব। টিয়াটির বেশ চকচকে নামও দেওয়া হয়, হীরামন। এই বন্ধুত্বর চাকচিক্য দেখে, মেয়ের বাবার আবার চাপ। বোধহয় এই জন্য যে পাখিটি ছেলে। ছেলে পাখির সাথেও কথা বলা যথেষ্ট রিস্কি মনে করাতে পাখি-হত্যার হুকুম জারি হলো। ব্যাস, টিয়া অমনি জান বাঁচিয়ে ভাগ মিলখা। এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে হাত বদল হয়ে সে এবার রতন সিংহের পোষ্য।
গল্প এতদূর শুনলে, বেচারা টিয়া আর পদ্মিনীর বিচ্ছেদের দুঃখে মনটা কিরকম কিরকম ভারী হয়ে আসে শ্রোতার। হওয়ারই কথা।
তা টিয়ার হঠাৎ খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, পদ্মিনীর রূপ নিয়ে গল্প করতে থাকে রতনের কাছে। ব্যাস রতনেরও, দিল মে লাড্ডু ফুটা। আরে বাবা, ছেলেদের হৃদয় হলো সেই ভালোবাসার তেঁতুল পাতা, সুজন-নজন আরও কতজনই আসুক না কেন, ঠিক ফিট হয়ে যায়। রতনেরও তাই। বাড়িতে অলরেডি বৌ বর্তমান, তবু লাড্ডু ফুটা তো ফুটা। এইসময় বলি টিয়ার আক্কেলটাই বা কি হ্যা? নিজে পাখি হয়ে ঝাড়ি মারলি, তার থেকে বেশি কিছু হবে না জেনে আরেকজনকে লেলিয়ে দিলি! পদ্মিনীর বাবার পাখিকেও সন্দেহ করা যে একেবারেই যুক্তিসঙ্গত, তা আর বলতে বাকি রাখে না।
এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, মেয়ের বাবারা যদি এ লেখা পড়ছেন, একদম নোট করে নিন। কাউকে বিশ্বাস করা নয়। বাড়িতে কাক-চিল-এমনকি ভোডাফোনের কুকুরও যেন বসতে না পারে।
যাই হোক, সে টিয়াটি এমন ইয়ে, যে সে রতন সিংকে পদ্মিনীর ঠিকানা জানায়, উড়ে গিয়ে পদ্মিনীকে দেখা করার ডেট-টাইম অ্যাডভান্স জানিয়ে দেয়, মানে জিপিএস-হোয়াটস্যাপ এর কম্বো, ওই একাই হীরামন টিয়াটি। এরপর তো মহাকান্ড। সাত সমুদ্র পার করে রতন পৌঁছয়, হেব্বি ঝামেলা ঝঞ্ঝাট সামলে রতন-পদ্মর বিয়ে হয়, তাতেই কি শেষ? সাথে জীবন-যুদ্ধ সামলানো, সতীনের সাথে হাল্কা কূটকচালি ম্যানেজ করা ওসবও হয়। কিন্তু ও নিয়ে আমার গল্প নয়। কারণ ওতে টিয়া নেই। শুরুতেই বলেছি চিন্তা আমার টিয়া নিয়ে।
সুফি কবি জয়সির লেখা অনুযায়ী, ওই টিয়াই নাকি কি এক কারণে রতন -এর থেকে বহিষ্কৃত হয় এবং আরও একবার খুজলি করে, এবার একেবারে স্বয়ং আলাউদ্দিন খিলজীকে। আর তারপর তো খেল খতম, আর পয়সাও হজম হয়না। এই পোরশনটা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। মানে টিয়াটির চাপা-শয়তানি ঠিক কতদূর তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আর এখানেই আমার চিন্তা।
প্রশ্ন হলো, চাপ তো এখনো আছে। টিয়াটি কোথায়? সে তো এখনো ফ্রি বার্ড। আরে বাবা, জানি জানি বলবেন এতো বছর হয়েছে, তো থোড়ি সে পাখি আছে নাকি। আরে বাবা, জন্মান্তর বলেও তো কথা আছে, তাই না? আর তাছাড়া তার যে বংশবৃদ্ধি হয়নি, তাই বা কে বলতে পারে। প্রেমে ভাংচি দেওয়া ইয়েরা ওই ওরই বংশধর যে নয়, তা কে বলতে পারে।
তাই আর কি, একটু চাপে। এরা আশেপাশেই ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। দেখছেনই এই এতবছর পরেও রতন-পদ্ম-খিলজী যা চাপে, তাতে আপনাদের কে বাঁচাবে।
তাই সবাই সাধু সাবধান।

Thursday, 27 April 2017

শিল্প ভাবনা

মানুষের শিল্প ভাবনা যত্রতত্র। শিল্পকাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদের ব্যক্তিত্ব। তাদের শিল্পীস্বত্বা পাশের মানুষকেও দেয় অনাবিল আনন্দ।
এই যেমন এই ছবিটি, দেখুন ভালো করে। ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন? তাহলে অনুরোধ করবো, আরেকবার দেখুন।

-কি দেখছেন বলুন তো?
-আরে, ওই তো কটা চাড্ডি রুমাল আর মোজা।
-ধুস, ভালো করে দেখুন। রুমাল গুলি দেখুন বাঁ দিক থেকে ডানে। কিরকম রংগুলি গাঢ় থেকে ধূসর? আবার উল্টোদিক থেকে ধূসর থেকে গাঢ়। এবার মোজাগুলি দেখুন। এর মধ্যে আবার অন্য বৈচিত্র। গাঢ়-ধূসর-গাঢ়।
- কি বুঝলেন?
- কি আর বোঝার আছে বলুন তো?
- বটে, এবার তো আপনার শিল্পচিন্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে মশাই। দেখুন এর মধ্যে আছে নিষ্পাপ অভিরাম শিল্প। এবং এর মাধ্যমে শিল্পীর চরিত্র প্রকাশ পায়। চারটি প্রধান বৈশিষ্ঠ্য নজরে পড়ে।

প্রথমত
শিল্পী নিশ্চয় কাজে-কর্মে বেশ নিপুণা। ঘরে বাইরে নিশ্চয় তিনি অনবদ্য়।

দ্বিতীয়ত
এনার হাতে সময় অনেক। তাই সময় নিয়ে এক এক করে এগুলি সাজিয়েছেন।

তৃতীয়ত:
দেখুন মহিলারুমাল এবং পুরুষমোজা বেশ কাছাকাছি। মানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাকে বলে বেশ মাখোমাখো।

চতুর্থত:
রুমালের ক্ষেত্রে রং ধূসর থেকে গাঢ় অর্থাৎ বেশ খুশিতেই দিন কাটছে শিল্পীর। মোজার মধ্যে বৈচিত্র্য সুতরাং স্বামীর জীবন বেশ রঙিন। রঙের ওঠানামা নজরে আসে। কিন্তু তা সংযত।

তাছাড়া ব্যালান্স মানে সামঞ্জস্য ব্যাপারটা শিল্পী ভালোই বোঝেন। সে সংখ্যার দিকেই হোক বা জোড়ায়।
ম্যাট্রিমোনিয়াল নয় একই রকম একটি মানুষের প্রয়োজন এ সমাজে। শিল্পীর সাথে আলাপচারিতাতেই কিছু জ্ঞানবৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ থেকেই যায়। কি বলেন?





Tuesday, 25 April 2017

হাঁস ত্যাগ

দাদা- বুঝলে ভাই, হাঁস ত্যাগ করলাম

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - সেকি রোস্টেড প্রিপারেশনটা তো মারাত্মক ছিলো, বৌদির হাতেই তো প্রথম খেলাম। বৌদি, দাদা কি পাগল হয়ে গেলেন নাকি।

বৌদি (কোমড়ে হাত দিয়ে ভুরু কুঁচকে দাদার দিকে শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে)
(থতমত দাদা)- মানে আমি তো ফেসবুকএ যাস্ট  .....

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো- আবার ফেসবুকেও জানাচ্ছেন নাকি এসব। আরে বাবা প্রোটিনএর দিকটাও যদি দেখেন, তাতেও তো হাঁস এগিয়ে চিকেনের থেকে, বৌদি আপনিই বলুন তো। 

বৌদি (শ্যেনদৃষ্টি এখনও) - গতমাসে বুড়ির জন্মদিনের দিন যে বললে, হাঁস-আইটেমটা তোমার খাসা লেগেছে! তবে কি শুনছি এসব হ্যা?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - তবে। তাছাড়া আপনি না খেলে বৌদি কি আর শুধু নিজের জন্য রাঁধবে! তাছাড়া বৌদিরও তো প্রোটিন দরকার নাকি এই বয়সে। (বিড়বিড় করে) আর আমাদের জন্য!!!!

(এখনও থতমত দাদা)-কি যে হচ্ছে একেবারে ধরতে পারছি না যে ভাই। কি রাঁধবে ভাই?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো -আরে ধুর বাবা, ওই যে বললেন হাঁস। ত্যাগ করলেন যে!

(এইবার ধাতস্ত দাদা)-না না হাঁস না হাঁস না। হাঁস ছাড়া যায়। ঐটা তো মানে সত্যিই 
তোমার বৌদির ওতে জুড়ি নেই। আমি তো হ্যাস ট্যাগএর কথা বলছিলাম। নতুন শিখলাম ফেসবুকে। 

বৌদি (লুকিয়ে মুচকি হেসে)- বুড়োর ভীমরতি যত্তসব।


বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - ও হরি। মশায় পুরো দিয়েছিলেন একেবারে টেনশনে ফেলে। বলছি কথা যখন উঠলোই, হবে নাকি কাল? নিয়ে আসবো নাকি দাদা আজ?

Wednesday, 12 April 2017

ভয়ঙ্কর টুপি

টুপি। ওহ অমনি মাঙ্কি ক্যাপ ভাবছেন? তা অবশ্য ভাবতেই পারেন। সে বাঙালিদের এক্কেবারে নিজস্ব কিনা। ন্যাপথলিনের গন্ধে জড়ানো আলমারির শেষ প্রান্তে সে থাকে। তাকে খুঁজে বার করা যেন পলাশীর যুদ্ধ, খুঁজতে গেলে সব টেনে আগে বার করতে হবে। এই নিয়ে কত গল্প কত লেখালেখি। তবে ২০১৭ তে দাঁড়িয়ে বলবো মাঙ্কি ক্যাপএর গুরুত্ব হারিয়েছে, শুধু হারিয়েছে বললে ভুল বলা হবে। বলা উচিৎ সচেতনভাবে পরিহার করা হয়েছে। নকল করা চলছে যে!! হে হে, বাঙালি যা করে মন দিয়ে, তাই নকলও। যদিও আজকাল লেখকেরা এখনো মাঙ্কি ক্যাপ আওড়ান লেখালেখিতে। বোধহয় এটি বাঙালির কমফোর্ট এঙ্গেল। ওই যেরকম গ্লোবাল ওয়ার্মিংর খাঁচায় আঁটকে থাকা বাঙালিদের জন্য, "ডিসেম্বরের হাড় হিম করা" শীতের মিথটা বেশ এনজয়বল।
সে যাই হোক, টুপি কিন্তু টেনশন ও। এই বুঝি কেউ পরিয়ে দিলো। সব সময় সজাগ থাকতে হয়।
**কি হলো, রোজ যাচ্ছি এই রুটে, ডেলি প্যাসেঞ্জেরদের বোকা বানানো? রোজ আট টাকা নিচ্ছে, আর তুমি বলছো নয়? তুমি কে হে?
**এই জানো, পুরো ঠকে গেলাম। ওই দোকানে এতো দরাদরি করে আশি টাকা, আর এখানেতো এমনিতেই আশি বলছে। ইশশ
**দিস ইস আনরিয়েল। সেম রুম ছশ টাকা বেশি চার্জ করেছেন আমাকে। ওই তো দেখলাম ওনাদের দিব্যি ডিসকাউন্ট দিয়ে দিলেন।
এই সব খুচরো ঝামেলার পরে আরও একটু উচ্চমার্গের কিছুও আছে।
**দূর বা** ফেসবুক করা ছেড়েই দেব। শালা সব ফেক একাউন্টে ভর্তি। মালটার সাথে ইমোশনালি ইনভল্ভড হয়ে গেলামরে। এখন দেখছি ফেক।
**রামকৃষ্ণ এন্ড বিবেকানন্দ চিট ফান্ড-এর ঘটনাটা শুনলি? ভগবানকেও ছাড়ছেনা, এদের নরকেও ঠাই নেই 
**বিয়ের আগে কিচ্ছু বলেনি, ছেলেটার আগের বিয়ের এখনো ডিভোর্সও হয়নি। এখনো নাকি সম্পর্ক আছে। একটা বাচ্চাও নাকি আছে ওদের।
যত্রতত্র তাই এই অদৃশ্য টুপির টেনশন। তবে এর থেকেও ভয়ানক এক টুপি আছে, বলুনতো কি?
আচ্ছা দাঁড়ান, হিন্ট দিচ্ছি, এটিকে দেখা যায়। এটিকে পড়া যায়, আর পড়লেই পরাজয়। এটলিস্ট সমর্পন তো বটেই।
একদম ঠিক বলেছেন কত্তা, টোপর। টুপির ওপর।

আচ্ছা, এর থেকেও ভয়ঙ্কর টুপি আছে। আমেরিকার আমাজন ভ্যালিতে যুগের পর যুগ ধরে আছেন এক প্রজাতি, তারা টুপি। মানে তাদের প্রজাতির নাম টুপি। টুপিরা আবার টুপি ও পড়ে। কেন ভয়ঙ্কর? তারা মরতে ভালোবাসে। নিজের জন্য, নিজের প্রজাতির জন্য, নিজের মাতৃভূমির জন্য। নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে, এককথায়, মুহূর্তে। কি ভয়ঙ্কর, তাই না? আমরা সব কি সুন্দর নিজেরদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত, নিজের বর-বৌ-বাচ্চা নিয়েই সময় পাইনা আর এদিকে দেখুন এদের! এরা একেবারেই পাতে দেওয়ার মতো নয়। নাঃ আমাজন ভ্যালিতে কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে গেলে টুপি থেকে সাবধান। সংস্পর্শে যদি দেশপ্রেম-ট্রেম জেগে ওঠে! টু ডেঞ্জারাস।

ঘরোয়া পদ্ধতি

রসিকবাবুর বিয়ের পরের একসপ্তাহ, পঙ্গপালের মতো আত্মীয়দের বিদায় দিতে দিতেই চলে গেলো। বৌয়ের সাথে বসে দুদণ্ড কথা বলবে তার উপায় নেই। আজ আপিস থেকে বাড়ি ফিরে দেখে বাড়ি ফাঁকা, অনলি বৌ রান্নাঘরে, ফ্রায়িং বেগুউউনি। উফফফফ লাভলি। 
- ওগো খেতে এসো? বেগুনভাজা গুলো তুলে রেখেছি। দেরি কোরোনা কিন্তু, ঠান্ডা হয়ে যাবে। 
- হে হে 
-হাসছো কেনো গো? কি হলো? এসো খেয়ে নাও। 
- হে হে হে হ্যা যাচ্ছি হে হে 
-কি হলো গো তোমার? হাসছো কেনো।
- হে হে কিজানি কেনো
-মানে, ওমাগো পাগলের সাথে বিয়ে হলো নাতো? কিগো না হেসে খাও না গো। কি দেব বোলো।
- এগুনি ব্যাকটা। হে হে
- মানে?
- না এগুনি ব্যাকটা ধুর হে হে বেগুনি একটা। হে হে যুলিয়ে গাচ্ছে। ধুর গুলিয়ে যাচ্ছে। হে হে।
(হাত পা ছড়িয়ে)- ওগো বাবাগো মাগো , একি হলো গো। এই তুমি কি পাগল? হাসছো? ভুলভাল বকছো?
রসিকবাবু হেসেই চললেন। বেগতিক দেখে পাড়ার সাহিত্যিক কাম ডাক্তার সুবিমলকে ডাকতে হলো। অবস্থা বিচার করে, সুবিমল বললেন,"রেয়ার কেস। বিয়ের কদিন খুব হা হা করে হাসার ফলে, মুখের পোস্টেরিওর পিলার আর ইন্টেরিওর পিলার তীব্র অভিমান করেছে। বুঝলেন না? মানে মুখের ওপর আর নীচ, তীব্র অভিমান, কিছুতেই কাছাকাছি আসতে চাইছে না। এতদিন কিছু সিম্পটম বোঝেননি? মান ভাঙাতে হবে। জিভ ওদিকে ঘটক হতে গিয়ে বিপদে পড়ছে। তীব্র বিরোধিতায় খেই হারিয়ে ফেলছে।"
-উপায়?
-হমমম ওই আর কি ইয়ে মানে চুম্বন। দুটি অভিমানী বিপরীতগামী মেরুকে এক করতে ঐটিই একমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতি। কি করবেন দেখুন। নাহলে এম্বুলেন্স ডাকি?
রসিকবাবু সবটি শুনে জোরে জোরে বললেন,"হে হে হে হে হে হে হে হে"


Saturday, 8 April 2017

বোতল এট ইওর সার্ভিস, চিয়ার্স

নতুন বিয়ের পর অনেক কিছু পরিবর্তন হবে, এই সাবধান বানীর অন্ত ছিল না. বিয়ের পর তাই যা কিছু পরিবর্তন তার সাথে মোটামুটি একপ্রকার সমন্বয়সাধন করা গিয়েছিল. মদ্যপানের সাথেও. 
এমনিতে বৌ আমার অপর্না সেন, শুধু ওই .. মানে .. মদ্যপান নিয়ে একটু ছায়াদেবী গোছের. আমি আবার লুকিয়ে চুড়িয়ে কিছু করে বৌয়ের কাছে কেস খেতে নারাজ. তাই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেল্লাম.সুযোগ বুঝলেই শুরু করলাম এলকোহলের গুরুত্ব​-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ছোট ব​ড় অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা. মুখ ঝামটা, রবিবার সকালের আধসিদ্দ আলুর দম, রাতের মশারি টানানোর বিরক্তিকর ডিউটি সব মুখ বুঝে হজম করলাম. এট লাস্ট একদিন বৌ বলে ওঠে, "এনোতো দেখি একটা ওয়াইন, কাল বিউটিশিয়ান রিনা টিভিতে বলছিলেন ওটা খেলে নাকি স্কিনে গ্লো আসে!" ইয়াহু উ উ উ উ চাহে কোই মুঝে জঙলি কাহে..... ওয়াইন জিনিসটাতে আমিও তখন সেভাবে অভ্যস্ত নই যদিও, লেকিন কুছ পরোয়া নেই.....বিউটিসিয়ান রিনাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করলো। না মানে ধন্যবাদজ্ঞাপন হিসেবে। যাই হোক পরের দিনই একটা রেড ওয়াইন নিয়ে হাজির হলাম.. উত্তেজনায় ঘেরা সন্ধ্যেতে গদ গদ গলায় বল্লাম, কি গো খুলবো? গিন্নীর ঘাড় নাড়া ওয়িথ মুচকি হাসি দেখে আমি তো তখনই মাতাল. ওপরের প্লাস্টিকটা খুলতেই, দেখি বোতলের মুখে কর্ক. বুঝলাম যত সাধ্য সাধনা এর আগমনের জন্য, আগমনের পরবর্তী বন্দোবস্তের প্রতি অবহেলা হ​য়েছে, মানতেই হবে. কর্কস্ক্রু নেই বাড়িতে! ঠুকঠাক-দুমদাম-টানা-হ্যাঁচ​ড়া যন্ত্রবিজ্ঞানের যাবতীয় কৌশল প্রয়োগ করে যা দেখা গেল, হিতে বিপরীত হ​য়েছে, কর্ক আর ও ভিতরে ঢুকে গেছে! বৌয়ের ভুরুযুগল কাছাকাছি আসছে, মানে আসন্ন ঝ​ড়ের সংকেত. ওদিকে কর্কও বিপরীতমুখী. রাত তখন একটা. বৌ ইতিমধ্যে যুদ্ধের অভিপ্রায় ত্যাগ করে হাই তুলছে আর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিতে দিতে বলছে,"হোলো, বোতল খোলা?" কথাটা স্ট্রেইট ছবি-বিশ্বাসী-অভিমানী-হৃদয়ে হিট করল. করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে. দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে পাতি বাঙলা আইটেম মানে সাঁড়াশি নিয়ে দিলাম এক বাঙালি ঠোকা কর্কের ওপর, ব্যাস কর্ক আত্মসমর্পণ করে টুপ করে পরলো বোতলের মধ্যে, সাঁড়াশি ই  ই ই, তোমায় কুর্নিশ..... বৌ, বোতল এট ইওর সার্ভিস..... চিয়ার্স…


পুনশ্চ: বৌ গ্লাস হাতে নিদ্রালু চোখে জিজ্ঞাসা করেছিল,"বোতলের ভিতরে ওটা কি ভাসছে যেন".... আমি বলেছিলাম," ও আমাদের প্রেম গো, ওই রূপরাশি আপনা বিকাশি. রয়েছে পূর্ণ গৌরবে ভাসি"

Monday, 3 April 2017

গাইয়ে হবু-জামাই

বেশ অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মেয়ে কমলা নাকি প্রেম করছে, তাও আবার এক গাইয়ে বাউন্ডুলের সাথে। মেয়ের বাবা ডেকে পাঠালেন গাইয়েকে। ইন্টারভিউ টাইম উইথ প্রবাবল-হবু শ্বশুরমশাই।
---------------------------------------------------------
-কতদিন ধরে চলছে এসব?
-পুরানো সেই দিনের কথা, হায় ও সেই, চোখের দেখা প্রাণের কথা .....

-থাক থাক ওকি গান শুরু করলে কেন? বলছি যে, কিছু করা হয়? নাকি বাবার হোটেলেই....
-হা-আ-আ-আই। নাই কাজ নাই। দিন যায়, দিন যায়। আয় আয়, আয় আয়। হাতে কাজ নাই॥

- ও বাবা তারমানে লবডঙ্কা!
-তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে,আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে ....

-কি জ্বালা! আরে বাপু কি খাওযাবে আমার মেয়েকে?
- আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছু তো নাই বাকি, ওগো নিঠুর, দেখতে পেলে তা কি ....

-কি কপাল, মা কমলা আর কোন ছেলে পেলে না মা, শেষে এই? তা ছেলে, তোমার বাবা-মা কি বলছে?
- হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো--সুর হারালেম অশ্রুধারে....

- বটেই তো, তা হবে না, এ ছেলের জন্মমাত্রই মা-বাবার এই হাল বলে আমার মনে হয়! বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো কেস, তা কি আমার ঘাড়ে পড়বার পরিকল্পনা নাকি?
- হৃদয়-আবরণ খুলে গেল তোমার পদপরশে হরষে ওহে দয়াময় ....

- জানতাম আমি, এ সব কেস কি করে ঠিক করতে হয় আমি জানি.
- হৃদয় মোর কোমল অতি, সহিতে নারি রবির জ্যোতি, লাগিলে আলো শরমে ভয়ে,মরিয়া যাই মরমে॥

-- (মাথায় হাত দিয়ে)হে ভগবান ....
-- (ইন ঘরে-বাইরে-সৌমিত্র স্টাইল) শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।