Showing posts with label close yet so far কথা. Show all posts
Showing posts with label close yet so far কথা. Show all posts

Tuesday, 9 April 2019

ভবিষ্যতের ভূত

যে ভূতেরা দুষটু লোকেদের বধ করে, তাঁরাই ভবিষ্যতের ভূত। (ভবিষ্যতের কেন, বর্তমানের নয় কেন তা এখনো জানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।)
কেন খামোকা এমন সমাজ সচেতনতা? সব ভূতেরা তো এতো সমাজ সচেতন হয়না। আদতে এঁদের ভূত হওয়ার পিছনে সেই সব দুষ্টু লোকেদের হাত ছিল। তাই রিভেঞ্জ।
গল্পের থিম এইটুকুই।
(এই গল্পটি দর্শকদের দেখানো হবে কি না তা নিয়ে একটি নাটক বাস্তবেই হয়ে যাওয়াতে) ভেবে নিতে অসুবিধা হয়না স্বাভাবিকভাবেই এখানে দুষটু লোক অর্থাৎ বর্তমান রাজনীতিবিদরা এবং ভূত অর্থাৎ সাধারণ মানুষ বা ভূতপূর্ব রাজনীতিবিদরা।
ইটস এ বর্তমান vs অল আদার্স-এর গপ্পো।

খুবই সরল-সুন্দর শিক্ষামূলক গল্প, শুরুতে অবশ্য যা ধরতে একটু বেগ পেতে হয়েছিল। গল্প -এ বেশ কিছু (অগুনতি) সাবগল্প ছিল। একটি অন্যটিতে এলোপাথাড়ি দৌড়োয় অবলীলায় দর্শকদের বেগ-আবেগের তোয়াক্কা না করেই। দর্শকরা পথভোলা-অবোলা-দিশাহারা।
সাবগল্পে কি নেই! রিয়ালিটি শোয়ের ছেলেখেলা, মোবাইল গেম-এর নাশকতা, সাংবাদিকতার ত্রুটি, ফিল্মজগতের জাল, নারীজীবনের দর্দ, বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ, যাত্রা কেন হাওয়া, হারমোনিয়ামে রবীন্দ্রসংগীত-এর ক্লান্তি আরও কত কি।
প্রতিটি সাবগল্প নিয়ে শ্রীজিৎদা চাইলে আগামী দশবছরে আঠাশটা সিনেমা নামাতে পারেন এক তুড়িতে। 
তবে যতই সাবগল্প থাক না কেন, প্রতিটিতেই উদ্দেশ্য ছিল কমন। তা হলো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একেবারে কোনঠাসা করে জীবাশ্ম বানিয়ে দেওয়া। তাতে একেবারে ম্যাজিকের মতো কাজ দিয়েছে। পথভোলা পাবলিক এতে দিশা পেয়েছেন, বলা যায় "খেয়েছেন"। জমিয়ে এনজয় করেছেন।
এইটে দিয়ে মোটামুটি দু ঘন্টা আর বাকি পনেরো মিনিট বর্তমানকে সান্তনা দিতে ভূতপূর্ব রাজনীতিবিদের নিয়ে উদাহরণ, সংহরণ, প্রহারণ, হৃদয়হরণ ইত্যাদি হয়েছে।
পুরো গল্পে প্রচুর ঐতিহাসিক এবং বর্তমান চরিত্রের স্পষ্ট, সিউডো স্পষ্ট এবং কখনো অস্পষ্ট ছোঁয়া।
গোটা কাস্ট এন্ড ক্রুএর কে প্রধান আর কে গেস্ট তা বোঝা মুশকিল।

সবটা শুনে গল্পটা ট্র্যাক করা যতটা বিভ্রান্তিকর মনে হচ্ছে, দেখতে গিয়েও তার থেকে বেশি মনে হবে।
কিন্তু আগেই বলেছি কোণঠাসার ম্যাজিকটা দর্শকদের সিট্ ছেড়ে উঠতে দেয়নি। তা সম্ভব হয়েছে সব্যসাচী, পরান, কাঞ্চন, সুমন্ত, কৌশিক, খরাজ এদের অসাধারণ টাইমিং, অনিক এবং উৎসব এর ডায়লগ -এর জন্য। এঁরা না হাসিয়ে, গোটা গল্পটাকে না ভালোবাসিয়ে ছাড়েনি।


Thursday, 14 February 2019

আয়না, আই লাভ ইউ

আদো আদো করে গড়িয়াহাটের মোড়ে দাঁড়িয়ে তারা আজ প্রমিস করলো, কখনো ছেড়ে যাবে না একে অপরকে।
আজ থেকে তারা মনে-প্রাণে এক।
অটোতে বাড়ি ফেরার পথে, মেয়েটি দেখলো, ছেলেটি হা করে রাস্তার ওপারে অন্য একটি মেয়েকে দেখছে। এমন তন্ময়, যে তাকে হাত নেড়ে "বাই" বলতেও ভুলে গিয়েছে।
ছেলেটি এক্সপেক্ট করছিলো, বাড়ি ফিরে মেয়েটি জানাবে, ছেলেটির দেওয়া গিফ্টটা কেমন লাগলো। কিন্তু মেয়েটি জানায়নি।
তারপর রাতে ফোনে কি প্রচন্ড ঝামেলা! দুজনেই রাগে গুমরোচ্ছে। বিছানাতে এপাশ-ওপাশ, দুশ্চিন্তা। পরের দিন মিটমাট হবে কিনা জানা নেই। গড়িয়াহাটের প্রমিসটা জাস্ট ছেলেখেলা মনে হচ্ছে। একটা রাত চলে যাবে চিন্তায়, মন খারাপে। একটা পুরো রাত। ধুস।
হঠাৎ কি মনে হলো, তখন মাঝরাত, মেয়েটি আয়নার কাছে গেলো, নিজেকে দেখলো আর কি জানি কি মনে হলো, কারিনা কাপুর স্টাইলে বললো,"মেয় আপনি ফেভারিট হু". আর বলেই হেসে ফেললো। আর পরক্ষনেই রাগটাগ ভ্যানিস। জাস্ট সু, ভ্যানিশ। ইশ, রাগটা কি বিচ্ছিরি রকমের বাড়াবাড়ি লাগছে এখন।
কেউ কতদিন কাকে কত কিলোগ্রাম ভালোবাসবে, তা কি সে নিজেও জানে! প্রমিস-ট্রমিস তো শুধুই মুহূর্তকে গ্ল্যামারাস করার মেকআপ কিট। একজনের প্রতি অপরজনের ভালোবাসা থাকলে থাকে। না থাকলে থাকে না। ভালোবাসা আসে, যায়, হয়তো আবার আসে।
রবি ঠাকুর বলেছেন,"
লাজে ভয়ে ত্রাসে আধো-বিশ্বাসে
শুধু আধখানি ভালোবাসা,
শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা,
শুধু আলো-আঁধারে কাঁদা-হাসা।"
কেউ ছেড়ে যাবে তার ভয়, কেউ যদি আর ভালো না বাসে তার ভয়, কেউ চিট করছে কি না তার ভয়! এই ভয় যাকে বলে ইনসেক্যুরিটি, চব্বিশঘন্টা চেপে থাকবে কেন! কেন কারো জন্য নির্ভর করবে নিজের ভালো থাকা! কেউ কাউকে কি বা দিতে পারে! কাকে কত লিটার বিশ্বাস করা যায়! এর উত্তর কি কেউ জানে?
কিন্তু নিজেকে ভালোবাসার গ্যারান্টিটা তো নিজেই দেওয়া যায়। তাতে না কাউকে দরকার, না কেউ বাধা। বরং নিজেকে ভালোবাসলে মনের মধ্যে একটা হনলুলুকুলুপুলু টাইপ তৈরী হয়, তাতে বাকি সব কিছু "বেশ তো" টাইপ হয়ে যায়। বেশ একটা ক্ষমা-মা ভাব আসে।
মেয়েটি সেদিন রাতে এসএমএস করলো,"আই লাভ ইউ, বাট মোর আই লাভ মাইসেলফ। এন্ড, আই এম হ্যাপি"। সে রাতটা দুজনেই নিশ্চিন্তে ঘুমোতে গেলো। ভবিষ্যৎ কেউ জানে না। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে কোনো গ্রাজ নেই, কারোর ওপর কোনো রাগ নেই। ঠিক যেমনটা সবাই চাই। শান্তি।
তাই কাউকে ভালোবাসা ভালো। তার চেয়ে ভালো একটা আয়না আর তাকে বলা আই লাভ ইউ। নিজেকে ভালোবাসলে বাকিদের থেকে চাওয়ার ক্যালকুলেশনে ব্যস্ত থাকার দরকারই হয়না। ট্রাই, ইট ওয়ার্কস।

Monday, 4 June 2018

সব একরকম ব্যালান্সড

বেলা বৌদি শুধু বলে যায়,"ওরা ভালো নেই, ওরা ভালো নেই"

অথচ,
প্রিটি জিন্টা ছবি দিচ্ছে লাঞ্চের,
মেসি বল পায়ে সেলফি তুলছে,
রশিদ খান ফাটাচ্ছে,
অর্ণব গোস্বামী চেঁচাচেছ,
নতুন মোবাইল মার্কেটে,
কমল হাসান টুইটে,
পেট্রোল পনেরো আনা ডাউন,
ফেরারিও ফেরারি মন,
রাশিয়া গ্যাস দিলো, ভারত খেলো,
ঝড় এলো (বলে)

সব তো দিব্বি। তেলে ঝালে নুনে মিষ্টিতে সব জমেছে ভালোই। সব একরকম ব্যালান্সড।
তবু বিকেলবেলা ছাতে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে জামগাছটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বেলা বৌদির নাভিশ্বাস ওঠে। বৌদি শুধু বলে যায়,"ওরা ভালো নেই, ওরা ভালো নেই"। নাভিশ্বাস সামলাতে রোজ সন্ধ্যে হালদার ডাক্তারকে হাল ধরতে হয়। ওষুধে কাজ হয়না।
কাল অব্দি একশো পাঁচটা জাম ছিল। আজ আটটা কম। বাঁদর নেই। পাখি ঠোকরায় না। হাওয়ার দমক তো ছিলোই না। তবু জাম নেই!

জাম যায় কোথায়!
জাম যায় কোথায়!
জাম যায় কোথায়!

পাড়ার লোকজন বলে, কালের দোষ। গরমকালের। সুস্থ মানুষ পাগল হয়ে যাচ্ছে। নাহলে ওই জাম নিয়ে কেউ ভাবে .......
বেলা বৌদির ছেলে আমেরিকা থেকে চেঁচায়, জামগুলো পেড়ে খেয়ে নিলেই তো হলো। তাও দেবে না। বাড়িতে একা বসে বসে এই অবস্থা। লোকজনের সাথে কথা বললে, এদিক ওদিক ঘুরতে বেরোলে তবু যদি .......
ডাক্তার বলে,মানসিক সমস্যা বলে তো মনে হয়না। সবই তো ঠিকঠাক বলছেন, করছেন। শুধু জাম নিয়ে ......

বৌদি শুধু বলে যায়,"ওরা ভালো নেই, ওরা ভালো নেই। ওরা চুপচাপ চলে যাচ্ছে। কেউ ভালো নেই। ওরা ভালো নেই।"

Wednesday, 21 February 2018

ককটেল

আমিষ-নিরামিষ একই ফ্রিজের একই ফ্লোরে থাকলে একটু ছোঁয়া তো লাগবেই। তাই না?
আকাশের মা-র তাতে প্রবল সমস্যা। উপায় হিসেবে ভাবা হলো, আলাদা একটি পুঁচকে ফ্রিজ হবে, যাতে থাকবে নিরামিষ। এবং দুটি ফ্রিজ যেন একে ওপরের থেকে অন্ততপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বে থাকে।
কিন্তু যদি নিরামিষ ফ্রিজের পাশে বসে আমিষ হাঁচি আসে?
যদি নিরামিষের ফ্রিজের ভিতরকার বাটির ওপর লাগিয়ে রাখা ভেজ-আইডেন্টিফিকেশন-নেইলপলিশ- মার্ক আচমকা উঠে যায়?
যদি নিরামিষের ফ্রিজের ওপর কোনো গেস্ট এসে মটন-বিরিয়ানি খাওয়া কব্জিটা রেখে ফেলে?

গত কয়েকমাস ধরে এই সব সম্ভাবনার কথা আকাশের মা কে বোঝাতে, উনি অবশেষে ঠিক করেছেন, একটি ফ্রিজই থাক। ওই নিরামিষের আগের দিন একটু মুছে নিলেই হবে। যতই হোক, আমিষ-নিরামিষ, খাদ্য বই আর কিছু তো নয়।

ঠিক যেমন, যে দেশে কোনো একটি সরকারী ভাষা নেই (“একটি” শব্দটির ওপর জোর দেবেন), তখন একগাদা আশেপাশের ভাষার সাথে একটু ছোঁয়াছুঁয়ি তো হবেই। তাই না?
উত্তরে-দক্ষিণে-পশ্চিমে গিয়ে কি আর বাংলা বলা যাবে? ওখানে "জল খাতা হুঁ" -এর পাঞ্চ মারতেই হবে। অর্থাৎ আমাদের দেশের লোকজনকে একটু ককটেল হতেই হয়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক আকর্ষণ মাধ্যাকর্ষণ -এর কারণেও পাঞ্চ আজকাল একেবারে প্রায়-আবশ্যিক হয়ে উঠেছে। অমনি বলবেন, "বাজে কেন বকছেন? দক্ষিণে তো ওরা দিব্বি নিজের ভাষাতেই কথা বলে।" তা বলে। আমেরিকার রাস্তাতেও তাদের একমাথা তেল চুপচুপে চুলে ফুলের মালা লাগিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আপনি কি ধুতি-শাড়ি পড়েন? প্যারিসে গিয়ে পড়বেন?

ব্যাপার হলো, আপনার মন কি চায়? অন্য ভাষাকে করায়ত্ত করাতে দোষ কি? অবশ্যই নিজের ভাষাকে অপমান না করে। যারা অপমান করে, তাদের ওপর আমারও হেভি ইয়ে হয়। খুব লিখেছি, খিল্লি করেছি তাদের নিয়ে একসময়। কিন্তু এখন মনে হয় তাদের বলি,"ভালো হয়ে উঠুন তাড়াতাড়ি"। কারণ "শো অফ" একটা রোগ। ভাষা আরো অনেককিছুর মতোই সেটার শিকার।
তা বাদ দিয়ে অন্য ভাষাতে অনুরাগ দোষের কি। এই দেখুন না আজকাল বাংলা লেখাতে আধুনিক লেখকরা মাঝে মাঝেই ইংরিজি ব্যবহার করেন, তাদের লেখা পড়তে ভালো লাগলেও পড়া বর্জন করবেন? (ডিসক্লেইমার: এই লেখা যা আপনি এখন পড়ছেন, তার সব কিছুই কাল্পনিক আর কেউ কোন মিল পেলে তা নিতান্তই কাকতালীয়)। সাধু থেকে চলিত হয়েছিল একসময়, তা নিয়েও মহাভারত কম হয়নি। চলিত থেকে এখন ককটেলিত হয়ে গেলেও বিচলিত হবেননা। এটাই নিয়ম। Heraclitus বলেছেন change is the only constant। যদি ইংরিজি না পড়তেন, সন্মান না করতেন, এই কোট টাও  জানা হতো না।

আজ সারাদিন শুদ্ধ বাংলা বলে যেতে হবে নাকি! সে তো আবার ওই "শো অফ" বা ওই সিনেমা হলে "ও বাবা আবার উঠে দাঁড়াতে হবে" টাইপ জাস্ট একটা দায়।
মাতৃ ভাষাটাকে দায় করে তুলবেন না।
আমি বলি কি, অন্য ভাষা কথাতে-লেখাতে পাঞ্চ হচ্ছে হোক। আপনি যেটা চান, সেটাই করুন। চয়েস আপনার। তবে মানুষকে-কুকুরকে-ভিখিরিকে-অন্ধকে যেমন অপমান করা ঠিক না, তেমনি ভাষাকেও না। নিজের ভাষাকে তো একেবারেই না।

মন দিয়ে বাংলাকে ভালোবাসছে দেখুন ওই লোকটা। রাশিয়ার পাতাল রেলে বসে অফিস ফেরত লোকটা জয় গোস্বামী পড়ছেন। 
জয় বাংলা।

জয় বাঙালি।

Friday, 16 February 2018

ট্যাটু

- দ্যাখা দ্যাখা ওটা কি ..... ওটা কি দ্যাখা
- উফফ মা ছাড়ো তো , আমি জাস্ট বাড়ি ঢুকলাম আর তুমি শুরু হয়ে গেলে।
- ঋক, দ্যাখ আমার দিকে। কেন হাত লুকোচ্ছিস! দ্যাখা হাতটা দ্যাখা।
- উফফ মা 
- একি এটা কি? এটা কি করেছিস?
- ও কিছু না। ট্যাটু। বাবাকে বলবে না কিন্তু। বলো বলবে না। প্রমিস করো।
- ট্যা?
- টু।
- মানে? ওই যেগুলো একদম সুঁচ বিঁধিয়ে  .....
- উফফ আরে এ সব কুল মা  ..... তুমি বুঝবে না  ..... আরে কি হলো? মারছো কেন? থামো থামো বলছি। উফফ মা কাম অন  ..... আরে আবার কাঁদছো কেন? আরে তুমি যে কি করো না।

********
- কে কে ওখানে? মা তুমি? কি হলো?
- লেগেছে বাবা তোর?
- আরে না না। তোমার ওই নরম হাতে লাগে নাকি। তোমারই হাতে লেগেছে দ্যাখো। আমার বাইসেপ্সে কি স্ট্রেন্থ জানো? হে হে।
- ধুস। আমি বলছি ওই যে হাতে সুঁচ ফোটালো  .... তাতে লাগেনি?
- ওহ একটু। মাইনর। তুমি আবার কাঁদছো নাকি! উফফ মা  .....
********
- এই যে এদিকে আসুন আসুন এদিকে।
- এই এরা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে গো? ঋক কোথায়? বলো না আমরা এখানে এসেছি কেন? ইসস কি গন্ধ।
- দেখুন। বডির অবস্থা খুব খারাপ। মুখ দেখে ভয় পাবেন না। বাসটা মুখের ওপরেই  ..... মানে যাই হোক দেখুন যদি শার্ট-প্যান্ট বা বডির অন্য কোনো আইডেন্টিফিকেশন দেখে বলতে পারেন, ঋক বসু ইনি কিনা  ..... ওকি ওকি হাতটা ধরে এরকম  ..... ট্যাটুটা কি আইডেন্টিফাই করতে পারছেন? ওকি এই ওনাকে ধরুন ধরুন  ..... উনি বোধহয় ফেইন্ট হয়ে যাচ্ছেন   ..... বলছি মিস্টার বসু, সরি মানে আমাদের ডিউটি, প্লিস বলুন আপনার ওয়াইফ কি কিছু আইডেন্টিফাই করতে পারলেন? ইনি কি ঋক বসু?


Monday, 23 October 2017

আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ

-ও এম জি! দিস ইস ড্যাম অসাম ইয়ার। এটা বট না অশ্বত্থ?
-অশ্বত্থ গাছ। খুব পুরোনো হবে। বাড়িটাকে পুরো জাপটে ধরেছে। হে হে যেন বাড়িটা ওর প্রেমিকা।
-তুই এই দেখছিস? আমি ভাবছি, প্রোপার্টিটার কি বিচ্ছিরি অবস্থা। নিশ্চয় ছেলে-মেয়েরা সব আমেরিকা-লন্ডনে। আর কোর্টে কেস চলছে। হিয়ারিংয়ের ডেট পিছোচ্ছে। সেম ওল্ড স্টোরি।
-ধুস। তুই আনরোমান্টিক। আমার মতো করে ভাবলেও তো পারো দেবী ফর আ চেঞ্জ। শিকড়-এ একটা আর্ট আছে, দেখ। লুক্স লাইক একটা মেয়ের এলোমেলো সাহসিনী চুল।
-আমার তো মনে হচ্ছে একটা নাম্বার, সামথিং লাইক থার্টি নাইন?
- হে আমার আনরোমান্টিক, সংখ্যাতত্ববিদ দেবী, আপনি এর মধ্যে কোর্টের কেস আর সংখ্যা ছাড়া আর কিছু পেলেন না দেখে নিশ্চিন্ত হলাম।
- নিশ্চিন্ত কেন?
- বিয়ের পর সংসারের জমা-খরচের রেসপনসিবিলিটি তোমায় দিয়ে আমি মাতবো আপন তালে।
- স্যাট আপ।
- আচ্ছা আচ্ছা, যাক ফটো তুলে নি কি বল। রাতে একবার আসবো। বিউটিফুল একটা ক্যাপচার হবে এক্সপেক্ট করছি।
-এই, আজ কি রে? পূর্ণিমা না অমাবস্যা?
-ওহ গস। কাম অন। আমি কি বলছি, আর তুই কি বলছিস! আই ডোন্ট নো ইয়ার, পূর্ণিমা না অমাবস্যা। কাল রাতে কালীপুজো গেলো। নিশ্চয় অমাবস্যা হবে। রাইট?
-দিদা বলতেন, অমাবস্যার রাতে বট বা অশ্বত্থ গাছের তলায় যেতে নেই!
-ডোন্ট টেল মি, সেটা তুই বিলিভ করিস আজও। প্লিস লেট্ মি কন্সেন্ট্রেট। আজ রাতে আসছি। একটা ফাটাফাটি ক্লিক তোমাকে উপহার দেব বেবি।
=======================
"আজ কি অপরূপ সাজ তোমার হে পৃথিবী
অশ্বত্থে আজ লেগেছে হাওয়া, উত্তাল মাধবী।
হা হা হা হা। আজ অমাবস্যা। অশ্বত্থের আজ কামনা জেগেছে, আবার। আবার সে আজ মহাতরঙ্গময়। যেমন হয়েছিল আজ থেকে ষাট বছর আগে। পাতায় পাতায় কেমন ইশারা। ডালে ডালে চলেছে সর্বনাশা খেলা। শিকড়গুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। উদ্দণ্ড শক্তি চেপে বসেছে ওতে। আজ কি নেশায় মেতেছে যেন। গুণে দেখেছো উনচল্লিশ। সেই উনচল্লিশটা খিদে মিটিয়েছিলো অশ্বত্থ একে একে উনচল্লিশ তাজা প্রাণে। আরে আরে এ ছেলে-মেয়ে দুটি কোথায় যায়? ওদের আটকাই কিভাবে। এই কি বিধাতার ইচ্ছে? আজ কি আবার? আবার? না, না ..."
=========================
-এই পিনটু দেখ দেখ, অশ্বত্থ গাছটা কিরকম বেড়ে গেছে এক রাতে?
-আরে ও সব ওরকমই। বাড়িটা কোনদিন ভেঙে পড়বে, দেখিস।
-এই দেখ দেখ, শিকড়ে এমন জড়িয়ে আছে, যেন কি একটা বোঝাতে চাইছে।
- ওই আবার। আবার সেদিনের মতো। আজ কি সংখ্যা? নাকি আজ তোকে ডাকছে, বলছে, দোল খাবি? হ্যা? হা হা।
-আরে ইয়ার্কি না। সত্যি দেখ, শিকড়গুলোর আঁকাবাঁকা পথ গুলো দেখ। কিরকম একটা যেন লাগছে। মম ... ওই চার আর এক দেখ দেখ একচল্লিশ। একদম যেন একচল্লিশ। ও ও ওই ও ও ওই কিছু শুনতে পাচ্ছিস? একটা চিৎকার? কেউ যেন কিছু বলতে চাইছে?


-ধুর ভাই। চল তো যত্তসব। এই সেদিন বলি উনচল্লিশ। আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ। আবার চিৎকারও শুনছিস? তুই কবিতা লেখ না হয় ডাক্তার দেখা। হা হা। এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? ধুর। শোন। সামনের অমাবস্যায় রাতে আসবো দুজনে কেমন? কিচ্ছু ভয়ের নেই। একবার রাতে এখানে এসে বসবো, দেখবি ভয়-টয় সব হাওয়া। কবে রে অমাবস্যা? পরশু?

Friday, 18 August 2017

প্রতিযোগিতার নাম হলো .....

আরে ভায়া, বিকেলে পারফরম্যান্স, হ্যা হ্যা অন স্টেজ। তা সেলেব্রিটি সময়ের একটু আগেই এসে পড়েছেন। এসেই লাজুক মুখে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে একটু রেস্ট নেওয়ার প্রস্তাব রাখলেন। একে তো ওই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি তায় আবার জাস্ট একটু "বিউটি স্লিপ" এর রিকোয়েস্ট। কোনো অসুবিধা তো হয়ইনি। বরং আগে এসে পড়াতে স্টেজে ওনার সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিয়ে কোনো রকম চিন্তাই রইলো না। আপ্লুত হয়ে ক্লাব একটা বেঞ্চ ইসিলি এরেঞ্জ করলো। উনিও দিব্বি ওতেই ভালোভাবে এডজাস্ট করে নিলেন। একটু রেস্ট চাই বৈকি। যতই হোক পারফরমান্সটা তো তাতে আরও জমবে, কারণ শুনেছি ঘুমলে নাকি উনি নাকি আরও বিস্তারিত হন! সেও চাক্ষুষ দেখার সুযোগ রইলো। মানে একেবারে জমে দই .... মানে হতো। জাস্ট একটা মাইনর প্রব্লেম। উনি যখন সবেই বেঞ্চে নিজেকে বেশ কমফোর্টেবল করে, হেমা মালিনীর মতো ড্রিমগার্ল চোখটা বন্ধ করবেন, ব্যাস ..... ওনার মালিক হাজির! ভাবুন, ওই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি হয়েও ওনার ওপর হম্বিতম্বি করার এক মালিক আছে। কি দুঃখের কথা বলুন তো। তবে কি, ওনার এই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি হওয়ার পিছনে ওনার মালিকেরই সমস্ত অবদান। তাই কিছু বলারও নেই। সেলেব্রিটির পুষ্টি-তুষ্টি-ইস্টি এমনকি সেলেব্রিটির সৃষ্টিও ওই মালিকেরই দয়ায়। তাই আর মুষ্টি বাগিয়ে ধরা হয়না মালিকের ওপর। মালিক লোকটা এমনি ভালো, কিন্তু এই সময় বিশেষে নিজেকে এমন প্রাধান্য দেন যে ওই সেলেব্রিটি ব্যাটাকে একদম পাত্তা দেননা। এমনিতে মালিক-সেলিব্রিটি এক আত্মা এক প্রাণ। কিন্তু কোথাও পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেলেব্রিটি আগে পৌঁছন। তা এই যে সেলিব্রিটি রেস্ট নিতে যাবেন বেঞ্চে, মালিক দেরীতে পৌঁছলেন। পৌঁছেই মালিক উইদাউট নকনক, ঠেলে গুঁতিয়ে ওই জায়গা নিজে দখল করলেন। বেদম ঠেলা খেয়ে সেলিব্রিটি বেচারা চোখ খুলে হড়কে একেবারে ঝুলে পড়ে-পড়ে। ভাগ্যিস ক্লাবের মেম্বারদের মধ্যে একজন ঘটনাটা একদম সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেয়েছে, সে তাড়াতাড়ি এসে সেলিব্রিটিকে দুহাতে তুলে ধরে। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষন বসে থাকবে। চিল চিৎকার করতে বাকিরাও এসে পড়ে। ওর ওই অবস্থা দেখে চটপট একটা তক্তা জোগাড় করে। তাতে এইযাত্রা রেহাই। আপাতত ওটাই ঠেকিয়ে রাখা। মালিক তো ততক্ষনে বেঞ্চে স্বপ্ন-সাগরে। গোলু-সেলিব্রিটি তক্তায়। ক্লাবের উদ্যোক্তারা আপাতত বিকেল অব্দি পর্যায়ক্রমে টহল দিচ্ছে। তক্তা সরলেই মুশকিল। মালিক-সেলিব্রিটি তো নিশ্চিন্তেই আছেন মনে হচ্ছে। ও আপনাদের প্রতিযোগিতার নামটাই বলা হয়নি, নাম হলো "ভুঁড়ি কত ভারী"।

Thursday, 1 June 2017

সিলভার লাইন

- দিন কাগজটা এদিকে দিন। এটা পেলেন কোথায়?
- বালিশের পাশে। এতে যে শব্দ গুলো আছে, এরা আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ......
- ও। তা কে দিলো এটা আপনাকে?
- ওই সেইটাই ঠিক মনে করতে পারিনা! উফ খুব কষ্ট হয় মনে করতে .....
- ঠিক আছে, ঠিক আছে, দেখি কি লেখা আছে, সাংসারিক আলাপ?
- ওই আর কি, আল্টিমেটলি অন্যের ছেলে মার্ক্স কম পেলো কিনা সেইটাই লক্ষ্য আর তাতেই মোক্ষ।
- খাতির?
- শুধু যদি ব্যাকগ্রাউন্ড সলিড থাকে। ভালো কানেকশন বা টাকা। অন্ততপক্ষে ভালো বংশ। নাহলে কে তুমি বাবা শান্তিগোপাল?
- ডাঙ্গুলি লাঞ্ছিত ছেলেবেলা?
- জানি জানি, প্রতিদিন দুপুরে আমার অপেক্ষা করেছে। প্রতারণাটা আমিই করেছিলাম। ইঁদুর দৌড়ের নেশার কাছে সব তুচ্ছ মনে হতো। তবু সেতো ছেলেবেলা।
- ড্রেনমগ্ন শব যার পিঠে সতেজ উদ্ভিদের মতো ফুটে রয়েছে অমোঘ একটা ছুরি?
- এ থেকে রেহাই নেই। নোংরা-পঁচা গন্ধটা অনেকদিন থেকেই একটু একটু করে বেড়েছে। আমি বলেছিলাম বুল্টিকে, মাধবীকে, চয়নকে, সান্টুকে, কোকিলকে, পলাশগাছটাকে, সাক্সফোনটাকে, গানের সুরগুলোকে, সকালকে মানে প্রায় সকলকে। কেউ গন্ধ পেতো না। তারপর যখন ছুরিটা দেখা যেতে থাকলো, সবাই যন্ত্রনাটা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করলো, তখন গন্ধটাও টের পাচ্ছিলো। কিন্তু উপায় কি? এভাবেই চলতে হবে। সবাই জখম। ওষুধ কোথায়? শুধু রাতে একটু হাত বোলানোতে কি প্রচন্ড শান্তি।
- আকাশচারী কেরানি?
- ওহ।
- কি হলো?
- এভরি ক্লাউড হ্যাস এ সিলভার লাইন, ডাক্তারবাবু। শনিবার রাতে ফ্লাইং শসারটা নামে যখন ছাতের ওপর। ডাঙ্গুলি টাকে সাথে নি। বুকটা এমন ঢিপঢিপ করে যতক্ষণ না আসে। ঠিক আসে নিয়মাফিক। উঠে যাই ওতে আর .... মহীনের ঘোড়াগুলি টেনে নিয়ে যায় ফ্লাইং শসারটাকে। কি হলো ডাক্তারবাবু চললেন কোথায়?
- আসছি একটা ফোন করে। (ঘর থেকে বেরিয়ে) হমমম আপনার বন্ধুর মেন্টাল ডিসর্ডারটাই ..... বুঝলেন। একটু চিকিৎসার দরকার আছে। আজ এডমিট করে যান ..... ওই দেখুন উনি চেঁচাচ্ছেন। কন্ফার্ম করুন। আমি বলে দেব টীম এখুনি ওনার ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেবে।
- (ঘরের ভিতর থেকে) ও ডাক্তারবাবু ..... আরে ও ডাক্তারবাবু .........
আমরা যাইনি ম’রে আজো -তবু কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়,
মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে। .....

(নিচের ছবিটি ১৯৭৮ সালের মহীনের ঘোড়াগুলি বাংলা ব্যান্ডের দ্বিতীয় অ্যালবামের (অজানা উড়ন্ত বস্তু বা আ-উ-ব)।ভারতের সর্বপ্রথম রকব্যান্ড।)





Sunday, 14 May 2017

স্ট্রেইট লাইনটাই একমাত্র রাস্তা

- হ্যা হ্যা স্ট্রেইট লাইন। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। 
- তুমি কি করে একথা বলছো সেনদা? তুমি কি দেখেও দেখছো না? তুমি দেখছো না এ রূপকথার রাজ্য। বাস্তবে অথচ কিচ্ছু নেই, ফক্কা। কিন্তু সবাই ভাবছে, আছে। মানে জানে যে নেই, তবু জোর করে নিজের ঘাড়কে দু হাত দিয়ে চেপে ধরে বোঝাচ্ছে যে এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব। দুষ্টু লোক, রাজকুমার আর রাজকন্যে এই নিয়েই আজকের বায়োস্কোপের এসেসমেন্ট। বাস্তব কেউ বলেনা। সুড়সুড়ি দিয়ে কান্না? আছে। সুড়সুড়ি দিয়ে হাসি? তাও আছে। নেই শুধু প্রাণ। আত্মারাম নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে নাকি তাকে হিপ্নোটাইসড করা হয়েছে বলতো? কোথাও মনে হয়না- এই তো আমার গল্প। থিয়েটারে তবু আজকাল একটুআধটু … কিন্তু ফিল্ম? শুধু ভাবাবেগময় একটা ক্লান্তিকর গতি। রূপকথা দিয়ে খিদে মেটে? জ্বালাটা শান্ত হচ্ছে না যে। কেউ আঙ্গুল তুলে বলে না,"রাজা, তোর কাপড় কোথায়?" 
- তা সে আমাকেও লোকে অভিযোগ করতো। আমি নাকি বড্ডো ডিরেক্ট। আমার তবু মনে হতো, আই মাস্ট মেক এ পয়েন্ট। কিন্তু মাঝে মাঝে নিজের বিশ্বাসেই তো মনে হতো যেন হালকা ফাটল..... 
- তবু তো তুমি যা দেখাতে সেটা রিয়ালিটি ছিল। বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে, সময়ের সাথে, ম্যাচুরিটির সাথে। কিন্তু সেই ফাটল টাও তো লুকোও নি। আল্টিমেটলি ভণ্ডামিকে তো প্রশ্রয় দাওনি। ভণ্ডামি তো আজও আছে। বাস্তবে প্রতিবাদের অক্ষমতা থাকতে পারে। তাই সেখানে না পারলেও, ছবিতেই তো সে ভণ্ডামিকে নেকেড করা যায়, যেমন তুমি করেছো। না হলে কিসের আর্ট?
- আমার সময় উন্মত্ততা ছিল। 
- আজ নেই বলছো?
- আছে, কিন্তু মানুষ অনেকদিন যুদ্ধ দেখেনি। ভিতরে লড়ে চললেও অনেকদিন বাইরের লড়াই না দেখে দেখে মানুষ ভীতু হয়ে গেছে। মানুষ বড়ো ভয়ে আছে।
- আমার মাঝে মাঝে কান্না পায় সেনদা। দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় আর পারবো না। 
- সেই জন্যই তো স্ট্রেইট লাইন। যা দেখছিস তাই এঁকে দে। একদম স্ট্রেইট। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। "আজ" নিয়ে ভাব। দেখবি তোর পরের প্রজন্মও ছবি দেখে বলছে - এই তো আমার গল্প। আসলে সময় বদলায়। কমোডিটি বদলায়। মধ্যবিত্ত বদলায় না। সমস্যা বদলায় না।বুর্জোয়া অপরিবর্তনীয়।

(14th May জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন শ্রী মৃনাল সেন।)



Wednesday, 3 May 2017

"কায়নাত" কি "কৌশিশ"

"কেহতে হে কি কিসি চিজ কো আগার দিল সে চাহো, তো পুরি কায়নাত উসে তুমসে মিলানেকি কৌশিশ মে লাগ্ জাতি হে।"

ইয়ে মানে ডায়ালগ টা সঠিক। এতদিন বুঝিনি। কাল বুঝলাম জানেন। বাহুবলী দেখতে গিয়ে জীবনে প্রথম তা মর্মোদ্ধার করলাম। সিনেমা দেখতে গেলে আশেপাশের পরিবেশ আপনাকে শুরু থেকেই ট্রেলার দেখাতে থাকে। না হলে সিনেমার মাহাত্ম্যর মাইলেজে ঘাটতি পড়ে। 
যেমন ধরুন নতুন সিনেমা আসছে, পোস্ত। বাড়িতে দেখলেন, ইয়েস, লাঞ্চে আলুপোস্ত। বেগম জান দেখতে যাওয়ার আগে একটু বৌকে জড়িয়ে ধরে হঠাৎ বলে উঠলেন,"আন বান শান, তুমি বেগম জান" বা ঐরকম পেটি কিছু ছড়া। 
ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস এর ক্ষেত্রে সংসারীরা একটু গুণে দেখবেন সারাদিনে কতবার ফিউরিয়াস হয়েছেন। অন্যদিনের তুলনায় একটু যেন বেশি না? হে হে হতেই হবে বাওয়া। নাহলে বুঝবেন, আপনি সিনেমাটির প্রতি সুবিচার করেননি। আপনি মুভিটাই ডিজার্ভ করেন না। 
এবার আসি বাহুবলীর কথায়। সিনেমা যেহেতু বাহুবলী। একটা অ্যাকশন-অ্যাকশন.... আর সেখানেই যত সমস্যা। মানে আমি শান্তিপ্রিয় তুলসী চক্কোত্তি। তা বলে কি আমাদের কি বাহুবলী দেখতে নেই? ভয়ে ভয়ে আছি, "কায়নাত" কি "কৌশিশ" করছে কে জানে। রিলিজ করার পরের দিন। সিনেমা শুরুর পনেরো মিনিট আগেই সিনেমাঘরে পোঁছলাম। ভিড় এভোয়েড করতে নিজের যথেষ্ট স্মর্টনেস ব্যবহার করে বাইরেই কিছুক্ষন দাঁড়ালাম। ভাবলাম সবাই ঢুকে গেলে ধীরে ধীরে এন্ট্রি নেওয়া যাবে। স্মার্ট আইডিয়া। শো শুরু হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে ঢুকতে গিয়ে দেখি, ভিড়ের পরিমাণ তো কমেনি উল্টে বেড়ে গিয়েছে। কানটা খাঁড়া করতেই বুঝলাম, শো অনিবার্যকারণবশতঃ পনেরো মিনিট ডিলেইড। আর শুনেই পিছন ফিরতে গিয়ে দেখি,জনঅরণ্য। আমি-পেরেক, গর্তে ঢুকে প্যাঁচ খেয়ে গেছি। এবার হাতুড়ি ঠোকা খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর কি, দরদর করে ঘাম, জায়গা-অজায়গায় চুলকুনি, ঘাড়ের কাছে গরম-পিঁয়াজি নিশ্বাস। অনুভব করলাম। মন দিয়ে। পিছনের মহিলা তার পাশের শ্রেষ্ঠতর-অর্ধ্যেকের (বেটার হাফের) কাঁধে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। তিনি বুঝতেও  পারছেন নাকি যে নিজের সাথের ঢাউস ব্যাগটার নাইন্টিটু পার্সেন্ট আমার বাহুর ওপর? আমি বাহুবলী নই ম্যাডাম। বুঝলাম "কায়নাত" ইস নাউ ইন অ্যাকশন। এই মুহূর্তে কোথা থেকে অসময়ে এসে "চ্যালেঞ্জ" গোত্তা মারলো, ব্যাস আর তো হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না। অপেক্ষার একেকটি সেকেন্ডে মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষের টিকি দেখার অপেক্ষা। যেই না দরজা খুলবে, সে সময় কোন স্ট্রাইকটা যথোপযুক্ত হবে, তার প্ল্যান ছকে নেওয়া চলছে। আসে-পাশের সবার মুখ দেখি গম্ভীর। কেউ হাসছে না, কথা বলছে সিক্রেট মিশনের এজেন্টদের মতো। সবার নজর মাছের চোখে। ভাবলাম শত্রুকে ডাইভার্ট করি। বলে উঠলাম আচমকা,"বিচ্ছিরি গরম ভাই। কি করছে এরা। কখন যে খুলবে। পশ্চিমবঙ্গের টাইমসেন্সটা নিয়ে কোনো বিপ্লব যতদিন না হচ্ছে  ....." পিছন থেকে একজন বলে উঠলেন,"মশাই, এই গরমে চুপ করে থাকুন না প্লিস। আর না হলে কিছু নতুন বলুন। গান শোনান। বাজে কথা বলাটাও একধরণের পলিউশন জানেন, বাকদূষণ"। ড্যাম!! বুঝলাম সবাই কনসেনট্রেট করতে চাইছে। শত্রুপক্ষ অনেক বেশি প্রিপারেড। আমি এমনিতেই পিছনের সৈন্য। কালচক্রে এইমুহূর্তে আবার অভিমন্যু স্টেটে। অসহায় বোধ করছিলাম ভীষণ। অপেক্ষার আরও পাঁচ মিনিট। এইই দরজা খুলল। ব্যাস। আক্রম..... ণ। বাহুবলী ১ এর কিছু দৃশ্যের কথা মনে করে একটু ঝুঁকে, তীরের ফলের মতো মুঠো বন্ধ করে যেই না এগোবো, হঠাৎ কোমরে বেদম জোরে গুদুম। পাশের মহিলার কনুইয়ের সফল লক্ষ্যভেদ আমার কোমরে, বুঝলাম অফেন্সিভ খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই সময়ে, কেউ আমার চোখের ওপর রুমাল ঝাড়লো। ডেন্জার। মানে দল বেঁধে নেমেছে। আমি রিস্ক না নিয়ে "কাটাপ্পা পা পা পা" বলে ছুটলাম এলোপাতাড়ি। হে হে কাটাপ্পা-নামের মহিমা কম? দেখলাম হলের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। এবার শুরু অন্ধকারে সিট্ হাতড়ানো। কোনোরকমে নিজেরটা খুঁজে বসা গেলো। মনে হলো ব্যাস এবার বোধহয় "কায়নাত" বাবুও বাহুবলী এনজয় করবেন। ও হরি, সে গুড়ে বালি। বাহুবলী সিনেমা বলে কথা বাওয়া, তাই মহাধামাকা "কৌশিশ" টাও যথোপযুক্ত হবে সেটা এক্সপেক্ট করা উচিত ছিল। হঠাৎ চিল-চিৎকার সাথে বেদম সিটি। একের পর এক। সিনেমা শুরুর প্রথম দশ মিনিট কানে তালা ছিল। যতবারই বাহুবলীর স্ক্রিনে আগমণ, ততবারই চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী উড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী নাচছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী চোখ নাড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী কোপাচ্ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। সামনে-পিছনে সর্বত্র। এতক্ষনে অস্ত্র নামিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু যুদ্ধে হার নিশ্চিত। আমি আত্মসমর্পণ করেছি। তুলসী-চক্কোত্তি- আমি ক্ষেপটি মেরে বসে রইলাম বাকি সময়টা। আর অনুধাবন করলাম বাহুবলী কে বড্ডো বেশি "দিল সে" চাওয়া হয়ে গিয়েছে। নেক্সট টাইম একটু কেয়ারফুল থাকতে হবে।

P.S.সামনের সিটে বসে (বা উড়ে) থাকা "চিল-চিৎকার-সিটি" গ্রূপের যে লিডার ছেলেটি, চেহারাতে তিনি লাঠিকে কম্পেটিশন দেন। কিন্তু গলার জোরে নয়। মাঝে কোনো বিশেষ ফোন আসাতে তিনি একটু দিকভ্রান্ত হলেও শেষ অব্দি গলা জোর অটল ছিল। ওনার সাথে একটু আলাপ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সিনেমা শেষ হতেই উনি লুচি-মটনের মতো মুহূর্তেই অন্ধকারের পেটে অদৃশ্য হলেন। হোয়াট এ মিস।

Saturday, 8 April 2017

বোতল এট ইওর সার্ভিস, চিয়ার্স

নতুন বিয়ের পর অনেক কিছু পরিবর্তন হবে, এই সাবধান বানীর অন্ত ছিল না. বিয়ের পর তাই যা কিছু পরিবর্তন তার সাথে মোটামুটি একপ্রকার সমন্বয়সাধন করা গিয়েছিল. মদ্যপানের সাথেও. 
এমনিতে বৌ আমার অপর্না সেন, শুধু ওই .. মানে .. মদ্যপান নিয়ে একটু ছায়াদেবী গোছের. আমি আবার লুকিয়ে চুড়িয়ে কিছু করে বৌয়ের কাছে কেস খেতে নারাজ. তাই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেল্লাম.সুযোগ বুঝলেই শুরু করলাম এলকোহলের গুরুত্ব​-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ছোট ব​ড় অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা. মুখ ঝামটা, রবিবার সকালের আধসিদ্দ আলুর দম, রাতের মশারি টানানোর বিরক্তিকর ডিউটি সব মুখ বুঝে হজম করলাম. এট লাস্ট একদিন বৌ বলে ওঠে, "এনোতো দেখি একটা ওয়াইন, কাল বিউটিশিয়ান রিনা টিভিতে বলছিলেন ওটা খেলে নাকি স্কিনে গ্লো আসে!" ইয়াহু উ উ উ উ চাহে কোই মুঝে জঙলি কাহে..... ওয়াইন জিনিসটাতে আমিও তখন সেভাবে অভ্যস্ত নই যদিও, লেকিন কুছ পরোয়া নেই.....বিউটিসিয়ান রিনাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করলো। না মানে ধন্যবাদজ্ঞাপন হিসেবে। যাই হোক পরের দিনই একটা রেড ওয়াইন নিয়ে হাজির হলাম.. উত্তেজনায় ঘেরা সন্ধ্যেতে গদ গদ গলায় বল্লাম, কি গো খুলবো? গিন্নীর ঘাড় নাড়া ওয়িথ মুচকি হাসি দেখে আমি তো তখনই মাতাল. ওপরের প্লাস্টিকটা খুলতেই, দেখি বোতলের মুখে কর্ক. বুঝলাম যত সাধ্য সাধনা এর আগমনের জন্য, আগমনের পরবর্তী বন্দোবস্তের প্রতি অবহেলা হ​য়েছে, মানতেই হবে. কর্কস্ক্রু নেই বাড়িতে! ঠুকঠাক-দুমদাম-টানা-হ্যাঁচ​ড়া যন্ত্রবিজ্ঞানের যাবতীয় কৌশল প্রয়োগ করে যা দেখা গেল, হিতে বিপরীত হ​য়েছে, কর্ক আর ও ভিতরে ঢুকে গেছে! বৌয়ের ভুরুযুগল কাছাকাছি আসছে, মানে আসন্ন ঝ​ড়ের সংকেত. ওদিকে কর্কও বিপরীতমুখী. রাত তখন একটা. বৌ ইতিমধ্যে যুদ্ধের অভিপ্রায় ত্যাগ করে হাই তুলছে আর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিতে দিতে বলছে,"হোলো, বোতল খোলা?" কথাটা স্ট্রেইট ছবি-বিশ্বাসী-অভিমানী-হৃদয়ে হিট করল. করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে. দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে পাতি বাঙলা আইটেম মানে সাঁড়াশি নিয়ে দিলাম এক বাঙালি ঠোকা কর্কের ওপর, ব্যাস কর্ক আত্মসমর্পণ করে টুপ করে পরলো বোতলের মধ্যে, সাঁড়াশি ই  ই ই, তোমায় কুর্নিশ..... বৌ, বোতল এট ইওর সার্ভিস..... চিয়ার্স…


পুনশ্চ: বৌ গ্লাস হাতে নিদ্রালু চোখে জিজ্ঞাসা করেছিল,"বোতলের ভিতরে ওটা কি ভাসছে যেন".... আমি বলেছিলাম," ও আমাদের প্রেম গো, ওই রূপরাশি আপনা বিকাশি. রয়েছে পূর্ণ গৌরবে ভাসি"

Monday, 3 April 2017

গাইয়ে হবু-জামাই

বেশ অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মেয়ে কমলা নাকি প্রেম করছে, তাও আবার এক গাইয়ে বাউন্ডুলের সাথে। মেয়ের বাবা ডেকে পাঠালেন গাইয়েকে। ইন্টারভিউ টাইম উইথ প্রবাবল-হবু শ্বশুরমশাই।
---------------------------------------------------------
-কতদিন ধরে চলছে এসব?
-পুরানো সেই দিনের কথা, হায় ও সেই, চোখের দেখা প্রাণের কথা .....

-থাক থাক ওকি গান শুরু করলে কেন? বলছি যে, কিছু করা হয়? নাকি বাবার হোটেলেই....
-হা-আ-আ-আই। নাই কাজ নাই। দিন যায়, দিন যায়। আয় আয়, আয় আয়। হাতে কাজ নাই॥

- ও বাবা তারমানে লবডঙ্কা!
-তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে,আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে ....

-কি জ্বালা! আরে বাপু কি খাওযাবে আমার মেয়েকে?
- আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছু তো নাই বাকি, ওগো নিঠুর, দেখতে পেলে তা কি ....

-কি কপাল, মা কমলা আর কোন ছেলে পেলে না মা, শেষে এই? তা ছেলে, তোমার বাবা-মা কি বলছে?
- হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো--সুর হারালেম অশ্রুধারে....

- বটেই তো, তা হবে না, এ ছেলের জন্মমাত্রই মা-বাবার এই হাল বলে আমার মনে হয়! বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো কেস, তা কি আমার ঘাড়ে পড়বার পরিকল্পনা নাকি?
- হৃদয়-আবরণ খুলে গেল তোমার পদপরশে হরষে ওহে দয়াময় ....

- জানতাম আমি, এ সব কেস কি করে ঠিক করতে হয় আমি জানি.
- হৃদয় মোর কোমল অতি, সহিতে নারি রবির জ্যোতি, লাগিলে আলো শরমে ভয়ে,মরিয়া যাই মরমে॥

-- (মাথায় হাত দিয়ে)হে ভগবান ....
-- (ইন ঘরে-বাইরে-সৌমিত্র স্টাইল) শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।