Showing posts with label উল্লাস কথা. Show all posts
Showing posts with label উল্লাস কথা. Show all posts

Saturday, 8 December 2018

টিকালো নাক

টিকালো নাক বড্ডো ওভাররেটেড বুঝলেন। সুন্দর মুখের ওয়ান অফ দি এলিমেন্ট হিসেবে টিকালো নাক ধরা হলেও নাকানিচোবানি কম খেতে হয়না। ফিজিক্স স্যার তো চুম্বকের বিপরীত মেরুর ধর্ম বোঝাতে, উদাহরণ দিলেন ক্লাসের টিকালোমোষ্ট নাক হোল্ডার পটার। ফুটবল, দেওয়াল, দরজা ইত্যাদির সাথে পটার টিকালো নাকের সম্পর্ক যেমন। পটা চুমু খায় চোখ খুলে। যতবার চোখ বন্ধ করে চুমু খেতে গেছে, গার্লফ্রেন্ডের মাথা স্ট্রেইট হিট ওন টিকালো নাক। মাথা ভোঁ ভোঁ। রোমান্সের সাড়ে সব্বোনাশ।
রসিকবাবুর কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে রসিকবাবু বলেন, "যেমন বাজপাখির মতো তোমার নাক ....."
রসিক গিন্নি কনুই মেড়ে রসিকবাবুকে থামিয়ে বললেন,"বাজপাখি নয়, টিয়াপাখি। তোমার তো কোনোদিনই কান্ডজ্ঞান নেই ..... পটুবাবু তুমি ওসব বাজে কথাতে কান দিও না তো। কি সুন্দর লম্বা নাক তোমার ....."
রসিকবাবু,"হে হে নাক গলাতেও সুবিধে। হে হে ...... উফফ তুমি আবার চোখ পাকাচ্ছো কেন গিন্নি!! আমি বলছি টিকালো নাক ভালোই। এই দেখো না অটোগুলো। একটা চাকা ওরকম টিকালো নাকের মতো এগিয়ে থাকে। মার্সিডিজ-ফেরারিকে কেয়ারই না করে, হালকা নাক গলিয়ে দিলেই ব্যাস কেল্লা ফতে। পটে, নাকের গুরুত্ব কাছে বটে। মাঝে মধ্যে খুড়োর কল হিসেবে ব্যবহার করবে কিনা ভেবে দেখো তো খোকা? তবে চুমুটা চোখ খুলেই খেও।"

Wednesday, 12 September 2018

একটি অদ-ভূত

গল্পের প্লট:
একটি গ্রাম, গ্রামে অন্ধকার, গ্রামে বন-জঙ্গল, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসী, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসীর কুসংস্কার। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে হেজিয়ে দেওয়া অতি পরিচিত ভূত-ভূত প্লট।

গল্পের অদ-ভূত:
একটি মহিলা।

ওনার বৈশিষ্ট্য:
লাজুক মহিলা যার মুখের অর্ধাংশই ঘোমটা ঢাকা। ইনি ওড়েন। হাত-পা না নাড়িয়েই, জাস্ট উড়তে পারেন। ওনার টার্গেট মূলতঃ পুরুষ। তবে আচমকা নিরীহ পুরুষদের ওপর চড়ে বসেন না। যথেষ্ট সতর্কীকরণ বার্তা জানিয়ে তারপরই হামলা করেন। প্রথমে ফিসফিসিয়ে তার নাম ধরে ডাকেন। তারা সাড়া দিলে ধাঁ করে কাঁধের কাছে পৌঁছে যান। এবং তখন সময় দেন। পুরুষটি যদি মুখ ঘোরায়, তবেই তাকে উনি সম্মতি বলে ধরেন। নচেৎ কি করেন, তা জানা নেই। কারণ এযাবৎ ওনার ডাকে সাড়া না দিয়ে কেউ থাকেনি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিধারণকারিনী এই মহিলা ভূত এরপর লেসার পয়েন্টার লাইট ফেলেন ছেলেটির চোখে। ব্যাস। কোথায় যাবে। পুরুষটি আন্ডার হার কন্ট্রোল এন্ড টেকেন ইনটু হার ডেরা। এই ভূতের বিশেষত্ব হলো, ইনি নিজে চব্বিশ হাত কাপড়ে ঢাকা থাকলেও শিকার নেওয়ার সময় পরিবেশের প্রতি যথেষ্ট সচেতনতা দেখান। তাই পুরুষটির জামাকাপড় রিসাইক্লিং -এর জন্য ওখানেই ফেলে শুধু শিকারটিকেই বগলদাবা করে কেটে পড়েন।

ভূত তাড়ানোর উপায়:
গ্রামের সবাই এই মহিলা ভূত এবং তার পদ্ধতি-প্রণালী সম্পর্কে অবগত। তাই তারা প্রত্যেকে বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে, ওই মহিলাকে না আসার অনুরোধ জানিয়ে দেওয়াললিখন করে রাখে। লক্ষণরেখা কনসেপ্ট। মহিলা ভূতটি শিক্ষিত, শিষ্টাচার-সমৃদ্ধ এবং ভদ্র বাধ্য। দেওয়াললিখন থাকলে উনি সে বাড়ির পুরুষদের বাড়িতে থাকা অবস্থাতে শিকার কনসিডার করেন না। কিন্তু রাস্তাতে হাতে নাতে ধরেন।

কেসটা কি:
"স্ত্রী"।
বাড়ির পুরুষদের বিনা কাপড়ে গায়েব করা ভূত তাড়াতেই হবে। এই বেমক্কা রাস্তা-আক্রমণ রুখতে এবং এই অদ-ভূত চিরতরে তাড়াতে যে পরিস্থিতি পরিবেশ তৈরী হয়, তাই নিয়েই সিনেমা "স্ত্রী"। এক বালতি পপকর্ন শেষ করেও গল্পের শেষে মাথা চুলকোতে চুলকোতে হল থেকে বেরোলেন। গল্পের “হরর” হড়হড় করে মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়ল। "কেসটা কি হলো" এই নিয়েই কো-অডিয়েন্সের সাথে আলোচনা করতে করতে ওলা ধরে বেহালা পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। কিন্তু কিছুতেই শেষে কি হলো, কেন হলো, গভীরে গেলেন, আরো গভীরে গেলেন, কিন্তু কেসের তল খুঁজে পেলেন না।
এই হলো "স্ত্রী"।



পুনশ্চ: রাজকুমার রাও, অপারশক্তি খুরানা, অভিষেক ব্যানার্জী এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠি একসাথে এই অদ-ভূতকে আউট এন্ড আউট কমেডি করে তুলতে পেরেছে। ওদের অভিনয় দুর্দান্ত। ডায়ালগ রাইটারকে স্যালুট।

Wednesday, 6 December 2017

লিস্টটা

বাপ মরা মেয়ে তাও আবার বয়স পঁয়ত্রিশ ছুঁইছুঁই। সে মেয়ের বিয়েটা ঠিকঠাক দিতে পেরে উমাজেঠিমা বেশ খুশি। আরও বেশি খুশি এইজন্য যে বিয়ের ১ মাসের মধ্যে মেয়ে তল্পি-তল্পা নিয়ে বাড়ি ফেরেনি। ঘন ঘন ফোন করেনি। যে কবার ফোন করেছে, শশুড়বাড়ির গুষ্টি উদ্ধার করেনি। আর  এতো কিছু করেনি বলেই, উমাজেঠিমা দারুন খুশি।
একদিন সকালে ছেলেকে ডাকলেন ঘরে।
- শোন বাবু, পিলুর বিয়েটা ভালোই হলো কি বল? শোন, একটা লিস্ট করেছি। তার মধ্যে টুকটাক জিনিসগুলো স্বপনকে দিয়ে আনিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু কিছু জিনিস আনতে হবে তোকে। কাল বিকেলের আগে একটু এনে দিস তো।
- সে এনে দেওয়া যাবে মা। দেখি কি জিনিস? লিস্টটা দাও  ..... ও এই টিক দেওয়া গুলো? আচ্ছা। য়্যা? মানে? হুঁকো? গাঁজা? মানে? মা?
- হ্যা আর ওই ইসে ....
- কি?
- ওই মদের মধ্যে কোনটা ভালো হবে রে?
- মানে? তুমি? মদ? গাঁজা? কিসব বলছো?
- কেন?
- মানে তুমি বলছো? তোমার চাই মদ?
- কেন? তুই আকাশ থেকে পড়ছিস যে? কি বলছি যেন বুঝতেই পারছিস না? রোজ রবিবার দরজা বন্ধ করে কি গেলা হয়, জানিনা নাকি?
- এ এই ইয়ে মানে  ..... না মানে আহা আবার আমার কথা কেন  .... আমি বলছি যে তুমি? মদ? মানে  ....
- মানে মানে করিস না তো। কোনটা ভালো হবে বল।
- ওই ওই ইয়ে, হুইস্কি।
- আচ্ছা আনিস ঐটাই। ব্যাস বিকেলের মধ্যেই আনিস কিন্তু। রাতেই বসতে হবে তো?
- (চিৎকার করে) মা গো, বলছি এমন কি হলো গো তোমার? এই রকম করছো। আমাদের কোনো ভুল হলে বলো একবার। কি হয়েছে তোমার?
- আরে, কি আবার হবে? "শিবঠাকুরের মানত" এর এবার রিটার্ন টাইম। শিবঠাকুরের পুজো হবে কাল। ওনার যা পছন্দ দিতে হবে না পুজোর সামগ্রীতে?

Monday, 13 November 2017

নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি

মেজোমামার বিয়েতে তার সঙ্গে প্রথম দেখা। না ঠিক দেখা নয়। আড়চোখে পলক ফেলে ফেলে নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি কে একটু বুঝে নেওয়া। কালো ধুতির চল সে সময় ছিল না। তাই সবার চোখই ছিল তার ওপর। নানারকম চাহুনি, যেমন “কি বোকা বোকা” “একি অদ্ভুত” “বাহ্ বেশ হাটকে তো” ছিল বটে। কিন্তু তাতে তাকে মোটেই অপ্রতিভ মনে হচ্ছিল না। বরং যেন একটু বেশিই স্বচ্ছন্দ। আর তাতে আড়চোখ আরও বেশি করে তাকেই খুঁজতে লাগলো। তার চোখ দু-একবার আমার চোখকে অ্যাকনোলেজ করেছিল বটে তবে খুব দ্রুত। ইতিমধ্যে এই পুরো সাইলেন্ট টেলিফিল্মটা কখন যে আমার ভাই ট্র্যাক করতে শুরু করেছে জানি না। মালা–‌বদলের ভিড়ে আমার কানের কাছে এসে বললো, “লাভ নেই। এনগেজড। আমাদেরই কোচিংয়ের মেয়ের সঙ্গে” । ড্যাম। চুরি করে ধরা পরে যাওয়া, তাও আবার সে চোরাই মাল যদি অকেজো হয়। ফিলিংসটা ঠিক কেমন হয় বলুন তো! যাক চোখাচুখি নিয়ন্ত্রিত হল তখুনি। সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে।
===============
প্রায় ৭-৮ মাস পরে, অক্সিজেনে তখন পুজো পুজো গন্ধ। নতুন জামার মসমস, নতুন জুতোর ফোস্কা, পুরনো বন্ধুর হইচই, পুরনো রেস্টুরেন্টে নতুন মেনু, সব চলছিল নিজের তালে। উলটোদিকের টেবিলে আমাদের মতোই আরেক দল, একইরকম হুল্লোড়ে মত্ত। শুধু মুখগুলোই অচেনা ….. উহু একটা মুখ তো বেশ চেনা। আরিব্বাস। নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি যে। আজ সাদা শার্ট নীল ডেনিম। আর সঙ্গে সঙ্গেই মাথা বলে উঠলো, “না না, আর ও পথে না”। ব্যাস সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে। কিন্তু ওপার থেকে ফোর জি নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী চোখ যেন আমাকে ফলো করছে মনে হল। ইগনোর করতে, আরও বেশি করে মন দিলাম বিরিয়ানিতে। সবে দু-চামচ মুখে দিয়ে বিরিয়ানিতে মেডিটেশন শুরু করেছি, ওমনি “হাই, ডু উই নো ইচ আদার ….. ” সাদা শার্ট নীল ডেনিম আর তার দলবল, চোখের সামনে। কতক্ষণ হা করে ছিলাম মনে নেই। বাকি কী বলে গেল, মনে নেই। আলাপচারিতার শুরু। সুতপা কনুই-এর গুঁতো মেরে বলেছিল,”এই সেই? খবরদার। এনগেজেড কিন্তু।” এরকম সাবধান বাণী শুনে মনে হল, যেন ও সাবধান না করলে আমি যে কোনও মুহূর্তে সাদা শার্ট নীল ডেনিমকে জড়িয়ে ধরবো। আশ্চর্য্য। তা সেই সাবধানবাণীর ঠেলায় বা বিরিয়ানি কন্সেন্ট্রেশনে বাঁধা পড়ায়, আলাপচারিতাতে কন্সেন্ট্রেট করতে পারিনি। আমি মূলত শ্রোতাই হলাম। শেষে অবাক করে দিয়ে সুতপা হঠাৎ নবমীতে ম্যাডক্স স্কোয়ারের প্ল্যান বানিয়ে বসলো। সুতপাকে বুঝতে পারে কার সাধ্যি! আবার দেখা হওয়ার এক্সাইটমেন্ট যে আমার মধ্যে একেবারেই ছিল না তা বলা ভুল। মাস্কারা লাগালাম একটু ঘন করেই। না না, আর কিছু না। একটা প্রেজেনটেব্‌ল লুক তো দরকার, নাকি! তবে সুতপা-বুবাই দের সঙ্গে বেরোলে কেন এ কথা মনে হয় না! ওরা ছোট্টবেলার বন্ধু বলে! ম্যাডক্স স্কোয়ারের আড্ডা তখন চরমে, সাদা শার্ট নীল ডেনিম আমার কানে ফিসফিস করে বললো, “হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে। কাল একবার লেকে মিট করা যায়? সেই বিয়ে বাড়ি থেকে ট্রাই করছি। না বললে শুনবো না কিন্তু।” হার্টবিট ১১০। আচ্ছা এমন বুক চিনচিন করে কেন বলুন তো যখন মাথা আর মন ঝগড়া করে? মাথার শত অ্যালার্টকে মিথ্যে করে, দেখি না কী বলতে চায়, শুনতে মন চলল দশমীর বিকেলে, লেকের ধারে। পৌঁছনোর দু-কিলোমিটার আগেই এসএমএস, “নাহ সামনাসামনি বলার সাহস নেই। অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে। ক্যান ইউ হোল্ড মাই হ্যান্ড? ফর লাইফ?” মোবাইল থেকে চোখ তুলে মনে হল আশেপাশের কিছু লোক হা করে দেখছে আমায়? খেয়াল করলাম আমার মুখটা এক গাল হাসিতে ভরে গেছে কখন, আমার অজান্তেই! অক্সিজেনে এখন নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতির গন্ধ। আশেপাশে লুকিয়ে আমায় দেখছে না তো? বাড়ি ফিরে ভাইকে একটা কিল মারবো ভাবছি।

Monday, 23 October 2017

আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ

-ও এম জি! দিস ইস ড্যাম অসাম ইয়ার। এটা বট না অশ্বত্থ?
-অশ্বত্থ গাছ। খুব পুরোনো হবে। বাড়িটাকে পুরো জাপটে ধরেছে। হে হে যেন বাড়িটা ওর প্রেমিকা।
-তুই এই দেখছিস? আমি ভাবছি, প্রোপার্টিটার কি বিচ্ছিরি অবস্থা। নিশ্চয় ছেলে-মেয়েরা সব আমেরিকা-লন্ডনে। আর কোর্টে কেস চলছে। হিয়ারিংয়ের ডেট পিছোচ্ছে। সেম ওল্ড স্টোরি।
-ধুস। তুই আনরোমান্টিক। আমার মতো করে ভাবলেও তো পারো দেবী ফর আ চেঞ্জ। শিকড়-এ একটা আর্ট আছে, দেখ। লুক্স লাইক একটা মেয়ের এলোমেলো সাহসিনী চুল।
-আমার তো মনে হচ্ছে একটা নাম্বার, সামথিং লাইক থার্টি নাইন?
- হে আমার আনরোমান্টিক, সংখ্যাতত্ববিদ দেবী, আপনি এর মধ্যে কোর্টের কেস আর সংখ্যা ছাড়া আর কিছু পেলেন না দেখে নিশ্চিন্ত হলাম।
- নিশ্চিন্ত কেন?
- বিয়ের পর সংসারের জমা-খরচের রেসপনসিবিলিটি তোমায় দিয়ে আমি মাতবো আপন তালে।
- স্যাট আপ।
- আচ্ছা আচ্ছা, যাক ফটো তুলে নি কি বল। রাতে একবার আসবো। বিউটিফুল একটা ক্যাপচার হবে এক্সপেক্ট করছি।
-এই, আজ কি রে? পূর্ণিমা না অমাবস্যা?
-ওহ গস। কাম অন। আমি কি বলছি, আর তুই কি বলছিস! আই ডোন্ট নো ইয়ার, পূর্ণিমা না অমাবস্যা। কাল রাতে কালীপুজো গেলো। নিশ্চয় অমাবস্যা হবে। রাইট?
-দিদা বলতেন, অমাবস্যার রাতে বট বা অশ্বত্থ গাছের তলায় যেতে নেই!
-ডোন্ট টেল মি, সেটা তুই বিলিভ করিস আজও। প্লিস লেট্ মি কন্সেন্ট্রেট। আজ রাতে আসছি। একটা ফাটাফাটি ক্লিক তোমাকে উপহার দেব বেবি।
=======================
"আজ কি অপরূপ সাজ তোমার হে পৃথিবী
অশ্বত্থে আজ লেগেছে হাওয়া, উত্তাল মাধবী।
হা হা হা হা। আজ অমাবস্যা। অশ্বত্থের আজ কামনা জেগেছে, আবার। আবার সে আজ মহাতরঙ্গময়। যেমন হয়েছিল আজ থেকে ষাট বছর আগে। পাতায় পাতায় কেমন ইশারা। ডালে ডালে চলেছে সর্বনাশা খেলা। শিকড়গুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। উদ্দণ্ড শক্তি চেপে বসেছে ওতে। আজ কি নেশায় মেতেছে যেন। গুণে দেখেছো উনচল্লিশ। সেই উনচল্লিশটা খিদে মিটিয়েছিলো অশ্বত্থ একে একে উনচল্লিশ তাজা প্রাণে। আরে আরে এ ছেলে-মেয়ে দুটি কোথায় যায়? ওদের আটকাই কিভাবে। এই কি বিধাতার ইচ্ছে? আজ কি আবার? আবার? না, না ..."
=========================
-এই পিনটু দেখ দেখ, অশ্বত্থ গাছটা কিরকম বেড়ে গেছে এক রাতে?
-আরে ও সব ওরকমই। বাড়িটা কোনদিন ভেঙে পড়বে, দেখিস।
-এই দেখ দেখ, শিকড়ে এমন জড়িয়ে আছে, যেন কি একটা বোঝাতে চাইছে।
- ওই আবার। আবার সেদিনের মতো। আজ কি সংখ্যা? নাকি আজ তোকে ডাকছে, বলছে, দোল খাবি? হ্যা? হা হা।
-আরে ইয়ার্কি না। সত্যি দেখ, শিকড়গুলোর আঁকাবাঁকা পথ গুলো দেখ। কিরকম একটা যেন লাগছে। মম ... ওই চার আর এক দেখ দেখ একচল্লিশ। একদম যেন একচল্লিশ। ও ও ওই ও ও ওই কিছু শুনতে পাচ্ছিস? একটা চিৎকার? কেউ যেন কিছু বলতে চাইছে?


-ধুর ভাই। চল তো যত্তসব। এই সেদিন বলি উনচল্লিশ। আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ। আবার চিৎকারও শুনছিস? তুই কবিতা লেখ না হয় ডাক্তার দেখা। হা হা। এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? ধুর। শোন। সামনের অমাবস্যায় রাতে আসবো দুজনে কেমন? কিচ্ছু ভয়ের নেই। একবার রাতে এখানে এসে বসবো, দেখবি ভয়-টয় সব হাওয়া। কবে রে অমাবস্যা? পরশু?

Saturday, 7 October 2017

নিকো পার্কের বাপীদা

লোকজন বলছিল, ওটা নাকি একোয়ারিয়াম।
দুর্গাপুজোতে একোয়ারিয়াম!! ও ফিশ!!
কাছাকাছি হতেই বুঝি একোয়ারিয়াম নয় হে। এ হলো মরীচিকা, ফুল অফ ফুচকা।
বাংলার বুকে ফুচকা সারভাইভিং ফ্যাক্টর। এনার প্রভাব অনস্বীকার্য।
#বাড়িতে ডিনার না হলে ফুচকা।
#ছেলের এক্সাম পরশু থেকে, টেনশনে ফুচকা।
#অফিস ফেরত, গৃহযুদ্ধের প্রাক্কালে দশটাকার ফুচকা।
#স্কুললাঞ্চ ডাস্টবিনে, গেটের বাইরে হাত বাড়িয়ে ফুচকা।
সে আরও কত কান্ড।
তা এই ফুচকা দোকানি ফুচকা দোকানি পাক্কা মার্কেটিং এনালিস্ট। মার্কেট ডিমান্ড ভালোই বুঝেছে, তাই এনাফ সাপ্লাই নিয়ে হাজির। এনাফ বলে এনাফ। শুধু কোয়ান্টিটি দেখলেই যে হবে না তাও বুঝেছে, তাই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি কম নাকি? দেখুন না কি অফার করছে  আপনাকে। দই ফুচকা তো আঁতিপাতি। এখানে পাওয়া যাচ্ছে চাটনী ফুচকা, জেলি ফুচকা। আমি ঘাড় উঁচু করে খুঁজছিলাম মটন ফুচকা বা রাবড়ি ফুচকা গোছের কিছু। মানে ঘেটে ঘ যখন হচ্ছেই, তখন ড্রিম বিগ।

"জেলি ফুচকা জিনিসটা কি বাপিদাদা", জিজ্ঞেস করতেই, মায়াবী চোখ তুলে জিজ্ঞেস উনি বললেন ,"আমি বাপি নই,  ঝাল বেশি না কম? জল দিয়ে না শুকনো? এই নিন বাটি"

নিকো পার্কের এরকম একটি বাপীদা না হলে দুর্গাপূজাতে টিনেজার রা বলবে কি করে,"ইটস ক্রেজি ইয়ার"


Tuesday, 3 October 2017

দেবীকে চক্ষুদান

পূজার বেদীতে বসা দেবীকে যেমন ইচ্ছে সাজাতে পারি, বলেই কি তার প্রতি এতো যত্ন? এতো মন আকুল করা ভালোবাসা?
না হলে, রক্ত-বুদ্ধি ওয়ালা জীবের প্রতি এতো অন্যায় কেন? তাদের বুঝি যেমন ইচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করা কিঞ্চিৎ দুস্কর? 
কাউকে বেশ করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার মধ্যে মনের জ্বালা মেটানো তৃপ্তি আছে একরাশ, তাই না?
যে দেশ কাউকে স্বচ্ছন্দ-স্বাধীন হতে দেখতে পারে না, সে "দেশ লয় গো কত্তা, দেশ লয়। সে দেশলাই, ভিজে দেশলাই। ক্ষুদ্র, সংকীর্ণ, ক্ষমতাহীন।" 

কুমোরটুলিতে আজ দেবীকে চক্ষুদান করা হচ্ছে, দেখুন দেখুন দেবী হাসছেন। এই দেশের অন্তরে চক্ষুদান কবে হবে?

পুজোর দিনগুলিতে নিরামিষ

- এহ!! পুজোর দিনগুলিতে মাংস!!
- আরে পিঁয়াজ-রসুন নেই তো!!
- ওহ নিরামিষ বুঝি। দাও তো পাঁচ পিস্। চর্বিওয়ালা দিও বুঝলে।

Wednesday, 19 July 2017

পোচ্চন্ড নেশা

এসেছি ..... আমি এসেছি .......দূর থেকে বহুদূরে- পথে পথে ঘুরে ঘুরে আমি এসেছি।
নেশা নিরাময় করাতে চাই ডাক্তারবাবু। পোচ্চন্ড নেশা আমার। গাঁজা-চরসের নেশা নয়। ওসব তো সেই বাচ্চাবেলার জিনিস। আর ড্রাগ শুনলেই ড্রাগনের ভয়। সেই একবার ড্রাগন-ওয়ার্স দেখতে গিয়ে সিনেমাহলে বন্যাপরিস্থিতি তৈরী হলো, সেই থেকে ড্রাগ-ওনে অনীহা। হেরোইনটা মমমম না ঠিক নেশা বলবোনা। ওটাও আয়ত্তে। আসলে আমার হিরোইনে নেশা। পোচ্চন্ড। তা সে যেকোনো হিরোইনই হোকনা কেন। সে নেশা বলবো কি মশাই, কি দুলুনি কি দুলুনি। সিনেমাহল থেকে আর বাড়ি ফিরতে পারি না। এই মনে হয় সামনে নূতন। আপনি কি নতুন পড়লেন? উফফ আপনাদের এতো তাড়াহুড়ো না। নতুন নয়, নতুন নয়, নূতন, নূতন। ওই "দিল কা ভমর করে পুকার", পাড়ায় হুল্লোড় করেছিলাম, সারা পাড়া বালতি নিয়ে জল ঢালতে তবে সৎবিৎ ফেরে। আবার কখনো মনে হয় সামনে দীপিকা, ওই পাদুকোন। হ্যাঁ। "কাশ্মীর ম্যা, তু কন্যাকুমারী", নেশার চোটে সেবার তো ফুলদাদুর বিয়ের ধুতিই পড়ে পাড়া মাত করেছিলাম। তবে সেবার নাকি সবাই মজাই পাচ্ছিলো। ওই যেই ধুতিটা গুটিয়ে হাঁটুর ওপর তুলতে গেছি, ব্যাস "ও বাবাগো" বলে আবার জলের বালতি। পরশু একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। করিনার ওই রিকুয়েস্ট আর ফেলতে পারিনি। হ্যা মশাই কাপুর। ওনার ফটো কিনে বুকে চিপকে নিয়েছি নেশার ঘোরে। সে অব্দি তবু ঠিক ছিল। ফেভিকলটা যে পকেটেই সে খেয়াল ছিলোনা। ও নিয়েই বসে গেছিলাম কোমোডের ওপর। ব্যাস। আঁটকে গেছি। কিছুতেই উঠতে পারিনা। সেবার আর জল ঢালতে হয়নি। ওই ল্যাজে গোবড়ে কেসে নেশা এমনিই কেটে গিয়েছিলো।
তাই মনে হলো সিম্পটম গুলো সিরিয়াস। কেস বেশ ম্যাচুওর্ড। তাই প্রফেশনাল হেল্প নিতান্তই দরকার বলে মনে হচ্ছে। তা বলছি যে, আপনার স্পেশালাইজেশন বোধহয় মদ-এর ওপরেই। ওই পি কে তারপরই আপনার বিশ্বাস। আর তাছাড়া ডার্ক রেড, বোল্ড লেটারে "মদ ছাড়ান" .... তাই দেখেই গেস মারলাম। কিন্তু আমার কেসটা তবু আপনাকেই নিতেই হবে। আপনি পারবেন। আমি জানি।
কেন?
1. আপনার নামে আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস।
2. লোকেশনটাও বেশ সুইট্যাবল। গেস্ট হাউসে নিরিবিলি-বিবৃতিতে বেশ দ্বিধাহীন বোধ করবো।
3. বৃহঃবার টাও সুবিধাজনক। ঐদিন আমার নেশা লাগে না। শুক্কুরবারে নতুন রিলিজ থাকে যে।
খুব সমস্যায় আছি মশাই। বাঁচান।

ইমোজি না ইমোবাবু

- মে আই কাম ইন? 
- ইয়েস। সিট্ ডাউন প্লিস। আপনার বায়ো-ডাটা তো খাসা মানে বেশ ইম্প্রেসিভ। 
- বলছেন? ওই ইয়ে সবই ন্যাচারাল-ট্যালেন্ট বলতে পারেন। 
- সে আর বলতে। বলছি এখুনি একটু হেসে দেখাতে পারবেন? ওয়েট। যে সে হাসি নয় কিন্তু। ওমরেশ পুরি টাইপ?
- কি আর বলবো স্যার? হে হে ওটা তো আমার বাথরুম স্টান্ট। 
- য়্যা? সেকি? আর উৎপল দত্ত "হীরক রাজা" মার্কা?
- হে হে ঐটাও। খুবই সহজ। মুখ আধ-চাপা, বেরিয়ে থাকবে দাঁত শুধুমাত্র ওপর পাটির চারটি ইন্সাইজর। ব্যাস।
- বটে? আর কানন দেবী কান্না?
- একটু ডিফিকাল্ট ছিল শুরুতে, ডুকরে কান্না টাইপ তো, তা এখন করে ফেলতে পারি ঐটাও। আসলে শুধুই তো এক্সপ্রেশন। ভয়েসের ব্যাপারটা নেই বলেই ব্যাপারটা সহজ আর কি। সুচিত্রা সেন "সপ্তপদী" মানে চোখ ছলছল কিন্তু গাম্ভীর্য্য, মাধবী "ছদ্মবেশী" মানে মুখ বন্ধ এক গাল হাসি, রবি ঘোষ "ধন্যিমেয়ে" মানে উচ্ছে-তেতো মুখ করা পুরোহিত। এই গুলোও রপ্ত।
- আপনি তো মশাই ফাটিয়ে দিয়েছেন। এতো ট্যালেন্ট নিয়ে এতদিন কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলেন? আপনার আগের জনেরা, যারা সব ইন্টারভিউ দিতে এলো, সব কটা যেন হিমেশ রেশমিয়া, পাথরের সাথে কম্পেটিশনেও হেরে যাবে। যাক গে যাক। শুনুন চাকরি আপনিই পাচ্ছেন। আপনার গাল গুলো একটু শুধু ভরাট করতে হবে এই যা। সে একটা ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিতে হেল্প করবে আমাদের টীম। এখন অনেক কাজ। আপনার সব ইমোশন প্রিন্ট করতে পাঠাতে হবে। আমাদের সোশ্যাল নেটওয়র্কিংএ লঞ্চ করতে হবে। সে নিয়ে একটা প্রমোশন ইভেন্ট এরেঞ্জ করতে হবে। টু মাচ ওয়ার্ক। ফেসবুকের সাথে কম্পিটিশন বাবা, যে সে কথা! তবে বাঙালি এক্সপ্রেশন-এর সাথে ওরা পাল্লা দিতে পারবে না। হে হে হে হে। ও আর একটা কথা, আপনার নামটা ....
- ইমোজি। বা স্মাইলি।
- উহু। বদলাতে হবে। বাঙালি এক্সপ্রেশন্স। বাঙালি ভাব-আবেগ থাকবে আর নাম ধার নেবো নর্থ ইন্ডিয়ানদের থেকে? ইমো "জি"? ওসব "জি" "ফি" চলবে না। বাবু চলতে পারে। ইমোবাবু? বা ইমো-মশাই? শর্ট-এ ইমোশাই। শব্দে বেশ একটা লাজুক ব্যাপার আছে। কি বলেন?

জাগ্গা জাসুস

বলছি, বয়স কত? হাড়ের নয়। মনের? কিভাবে মাপবেন?
"জাগ্গা জাসুস" দেখে আসুন।
*****প্রথমেই বিধিমূলক সতর্কীকরণ, এলেখা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। একে বলা যায় "ধিতাং" লেখা।
"এহেড অফ টাইম" "নট ইভেন ইন্টেলেকচুয়াল" "বোগাস" "বিলো অ্যাভারেজ" ইত্যাদি শুনেই বা পড়েই গিয়েছিলাম "জাগ্গা জাসুস" দেখতে।
ফোর্থ ডে, লাস্ট শো।
ছবির শুরুতেই একটি বাচ্চার গলা, গানের মাধ্যমে জানাচ্ছে ডু'স এন্ড ডোন্ট'স। ওই মোবাইল-ফেসবুক ইত্যাদি বন্ধ রাখা, নাহলে ফিল্মে যা খিচুড়ি হয়েছে, সেটা গুলিয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। শুনে মুচকি হাসি এসেই গেলো অজান্তে। আরে সিরিয়াসলি। অনুরাগ বাসু আমার খুড়তুতো কাকুর জ্যাঠতুতো জ্যেঠুর মামাতো মামা বলেই কি বলছি নাকি? সিরিয়াসলি এলো। চুপচাপ ইন্টারনেট অফ করলাম। মোবাইল সাইলেন্ট করলাম।
ক্যাটরিনা গল্পকার, বাচ্চাদের কমিক বই থেকে গল্প শোনাচ্ছেন। কখনো কথা কখনো গান। গল্প নিয়ে যাচ্ছে এক সেট থেকে অন্য সেটে। সেখানেও গান-নাচ। বুনিয়াদে আসলে রহস্য উদ্ঘাটন। নামেই সেটা স্পষ্ট। "জাসুসি" তো থাকছেই। মোট তিনটে অনুসন্ধানী বা গোয়েন্দা গল্প, পাশাপাশি জাগ্গা-গোয়েন্দার নিজস্ব জীবন কাহিনী নিয়েই এই মুভি। মোটামুটি সবাই এটিকে "মিউজিক্যাল ফিল্ম"ই বলছেন। কারণ সংলাপ-এর বেশিরভাগই গানে গানে। তিন ঘন্টার সিনেমাতে তাহলে কত গান হতে পারে, কল্পনা করুন। অদ্ভুতভাবে অসংখ্য সে গানের সবকটাই আমার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অদ্ভুত নয়? কন্সিস্টেন্সি রাখতে পারাটা কি চাট্টিখানি কথা?
তা হঠাৎ খামোকা সব গানে-ভুবন-ভরিয়ে-দেব কেন? লজিক হ্যায়। "জাগ্গা জাসুস" তোতলা, মানে একটু নয়, বেশ ভালো রকম। গানে গানে কথা বললে ব্যাপারটা নাকি স্মুথ হয়ে যায়। ওই মিউসিক ডিরেক্টর প্রীতমের নিজস্ব এক্সপেরিন্সও তাই। ওর ইন্টারভিউতে এ কথা বহুবার শুনেছি।
যদিও খুব কম জায়গায়, তথাপি, "গলতি সে মিস্টেক" হয়েছে। "জাগ্গা জাসুস" ভুলে গেছে সে তোতলা আর ফ্লুয়েন্টলি কথা বলে ফেলেছে। আমি ব্যাপারগুলো ইগনোর করেছি। এ ঘটনা এক্সসাইটমেন্টে হতে পারে বলে ধরেছি। হয় জগ্গার এক্সসাইটমেন্ট বা হয়তো অনুরাগ বাসুর।
হাতি-জিরাফ-বাঘ-গুহা- হিরোর চুলের স্টাইল সবই এলো পর্দায়। তাতে একটু বেশ টিনটিন এ ফিরে যাওয়া হলো। পুরুলিয়া, আসাম হয়ে, মরক্কো পৌঁছলো। আসামের বিহু হলো। "নাইফ থ্রো" হলো। "গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা" হলো। "শুন্ডি" হলো। কলকাতার "ইয়েলো ট্যাক্সি" হলো। “শাশ্বত-রজতাভ” হলো। মানে বাঙালিদের জন্য এক্সট্রা মাখো-মাখো, যেটা অনুরাগ বাসুর মুভিতে না পেলেই বরং মন খারাপ, সে সব একদম জোরকদমে ছিল। আর সেই একই কারণে অবাঙালিরা বেশিরভাগই গালি দিয়েছেন। গানে গানে গল্প বলে অনেকেই হাই তুলেছেন। হাতির মাথার ওপর চেপে বিয়াল্লিশ তলা থেকে ঝাঁপ মেরে আবার লাফ দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে কাঁখে করে সোজা বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া টাইপ "সিম্পল" সিনেমাটিক কিছু নেই বলেছেন। তার ওপর আবার বাঙালিদের নিয়ে বাড়াবাড়িটা, "আগুনে ড্রপিং ফ্রেশ ঘি"। আমার কথা হচ্ছে, আইডিয়াটা এদেশে নতুন। সেইটা মানতে হবে ভায়া। শুধু একটাই ইয়ে ইয়ে ব্যাপার। বেশ কয়েকবছর আগে একটি হলিউড মিউজিক্যাল ফিল্ম "দি সাউন্ড অফ মিউসিক" দেখেছিলাম। সেটি সাধারণ একটি গল্পকে অসাধারণ করে তুলেছিল শুধুমাত্র মিউসিক ছিল বলে। মিউসিকের সব লিরিক্সের মানে বোঝা না গেলেও গল্পটা সিম্পল বলে কোনো ঠোক্কর খেতে হয়নি। এবার "জাগ্গা জাসুস" যেহেতু ডিটেক্টিভ তাই প্রতিটি শব্দ-বাক্য পরিষ্কার শোনা বা বোঝার প্রবল চেষ্টা ছিল, তা যাচ্ছিলোনা মিউজিকের জন্য বা ছন্দের জন্য বা স্পীডের জন্য বা আমার ব্রেনের সিগন্যালের জন্য। ঐটাই যা.... কিন্তু তা রসে ব্যাঘাত ঘটায় নি। বরং দুটো গান বেশ মনে ধরেছে। সোশ্যাল মেসেজ দেওয়া,"কিষান সুইসাইড কর রাহা হ্যায় তো হামারা কিয়া, হাম তো নিম্বু মির্চি লাগাকে সেফ হ্যায়।" অন্যটি,"জিনা তো উনহিকা জিনা কাহালায়া, জোভি বিনা চু চা কারকে, খাকে-পিকে চলে গায়ে।"
না না এতো কিছুর পরেও এটা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। আসলে লোকজন বলছে প্রচুর জায়গা থেকে নাকি কপি-টপি হয়েছে। আমার কাছে যুক্তিগুলো একেবারেই ধোপে টেকার মতো না। বাঙালির ইমোশনগুলোকে ইঙ্গিতে রেখেছেন সারা সিনেমা জুড়ে, হ্যা তা বলতে পারেন। তাতে তো বাঙালিদের খুশিই হওয়া উচিত। বাঙালিমুভির যা হাল ৮০-এর পর থেকে, এই অনুরাগ, প্রীতম এরাই তো আবার একটু হাল ধরছেন। বাঙালিদের তাতেও প্রব্লেম। রাবণের চেয়ে বিভীষণ মার্কেটে বেশি। যাই হোক রিস্ক নিয়ে এতো সুন্দর একটা প্রজেক্ট করার জন্য পুরো টীমকে হৃদয়মার্কা ইমোজি।
আর ইয়ে সৌরভ শুক্লা ভদ্রলোককে আবারো প্রণাম।

Thursday, 11 May 2017

শুধু এই হাসিতেই

** সিরিয়ালটা শুরু হলো ভালোই কিন্তু নায়কের আট নম্বর বিয়েটা আর নেওয়া যাচ্ছেনা।
** ভালো একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস মাথায় আসছে না!! কি মুশকিল।
** মনীষা ম্যাথসে আমার থেকে টেন মার্ক্স্ বেশি পেয়েছে বলে আমাকে এবার সামার সেলে ক্রপটপ কিনে দেবে না? কি অদ্ভুত লজিক!!
** বিরিয়ানির দামটা ফট করে কুড়ি টাকা বাড়িয়ে দিলো!! আর এ নিয়ে কোনো বিপ্লব হলোনা?
** শুধু গান গাইতে চেয়েছিলাম, এখন স্কেল নিয়ে লোকের বাড়ি-ঘরের মাপঝোপ করছি। এটা জীবন?
** শ্লা আমি ঠিক জানতাম। কাল ছুটি নিচ্ছি, মালটা ঠিক লাস্টমোমেন্টে ফাইলগুলো পাঠাবে। ধুস।
** মাসের শেষের ডেটগুলোতেই সব নিমন্ত্রণ বাড়িগুলো হামলে পরে। কেন রে? আখেরে তোদেরই তো ক্ষতি রে। ক্ষি জ্বালা রে ভাই।
** "ইটস নট ওয়ার্কিং"? মানেটা কি? এতদিনের চ্যাট-স্ক্রিনের সামনে গালে হাত দিয়ে অপেক্ষা, প্রতিটি বোকা-বোকা স্ট্যাটাস আপডেটে ওয়াও নিদেনপক্ষে লাইক, দেখা করলেই প্রত্যেকবার ডেয়ারিমিল্ক আর ডোমিনোস। আর এখন "ইটস নট ওয়ার্কিং"? কারণটা ঝেড়ে কাশলো না পর্যন্ত!!
** নিশ্চিন্তে আইপিএল টাও আমার জীবনে চ্যালেঞ্জ। এর থেকে কোলের বাচ্চার ফেসভ্যালু অনেক বেশি। 
** অফিসের কাজ, ঘরের কাজ এসবই যদি একমাত্র যুদ্ধ হতো, তুড়ি মেরে বলতাম,"আই ক্যান কংকর দা ওর্য়াল্ড"। কিন্তু সারাদিন এরওর হাঁ-করা জিভ-বার-করা মুখ সহ্য করা, বাসে-ট্রামে শরীর বাঁচানো, এগুলো?
 -------------
শুধু এই হাসিতেই মাথাঠাসা ডালহৌসি, মুহূর্তে সান্দাকফু
শুধু এই হাসিতেই "আমার মতে জগৎটাতে ভালোটারই প্রাধান্য, মন্দ যদি তিন-চল্লিশ, ভালোর সংখ্যা সাতান্ন"
শুধু এই হাসিতেই "আমি যামিনী, তুমি শশী হে"
শুধু এই হাসিতেই ডেসডিমোনা বেঁচে উঠে এক চড় মেরে ওথেলোকে বলে," উইথিন এ পার্ক অফ লাসটি ফ্লাওয়ারস, দি চার্ম অফ হিস্ ফ্লুট এস এম্পাওয়ার্স … গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে, বিসরি ত্রাস-লোকলাজে. সজনি, আও আও লো, জয়েন মি জয়েন মি জয়েন ওহ"
শুধু এই হাসিতেই কেটো বাসের জানলা, বাকিংহাম প্যালেসের দোতলা
শুধু এই হাসিতেই চ্যাটচ্যাটে ঘাম আচমকা পনেরো ডিগ্রির ম্যাজিকে চিলড
শুধু এই হাসিতেই ঢেঁড়সের তরকারির বদলে ডিনার টেবিলে অকস্মাৎ রগরগে মটন
শুধু এই হাসিতেই অফিসের বস, বাজারের ফর্দ, পুরোহিতের দক্ষিণা, ছেলের বায়না, মহুয়ার পরচর্চা, কেকেআরের রান রেট, বাজেটপেশ, আউটঅফসিলেবাস, দেশের ইকোনমি, পাশের জনের প্রতি পক্ষপাত হঠাৎ কিরকম "বেশ-তো"
শুধু এই হাসিতেই লাল-সবুজ-কমলা “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি” টপিক নিয়ে একমঞ্চে
শুধু এই হাসিতেই বামুনদল জাত-পাতের বিরুদ্ধে পিটিশন দেয়
শুধু এই হাসিতেই মাঝরাতের ভয়-ভয় হোয়াটস্যাপ আই-লাভ-ইউ মেসেজটা গান্ধীজির স্ট্যাম্পমার্কা ইনল্যান্ড লেটার হয়ে পৌঁছে যায় তার ডেস্কে

শুধু এই হাসিতেই, সবাই “এই মুহূর্তে” বাঁচে

Wednesday, 3 May 2017

"কায়নাত" কি "কৌশিশ"

"কেহতে হে কি কিসি চিজ কো আগার দিল সে চাহো, তো পুরি কায়নাত উসে তুমসে মিলানেকি কৌশিশ মে লাগ্ জাতি হে।"

ইয়ে মানে ডায়ালগ টা সঠিক। এতদিন বুঝিনি। কাল বুঝলাম জানেন। বাহুবলী দেখতে গিয়ে জীবনে প্রথম তা মর্মোদ্ধার করলাম। সিনেমা দেখতে গেলে আশেপাশের পরিবেশ আপনাকে শুরু থেকেই ট্রেলার দেখাতে থাকে। না হলে সিনেমার মাহাত্ম্যর মাইলেজে ঘাটতি পড়ে। 
যেমন ধরুন নতুন সিনেমা আসছে, পোস্ত। বাড়িতে দেখলেন, ইয়েস, লাঞ্চে আলুপোস্ত। বেগম জান দেখতে যাওয়ার আগে একটু বৌকে জড়িয়ে ধরে হঠাৎ বলে উঠলেন,"আন বান শান, তুমি বেগম জান" বা ঐরকম পেটি কিছু ছড়া। 
ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস এর ক্ষেত্রে সংসারীরা একটু গুণে দেখবেন সারাদিনে কতবার ফিউরিয়াস হয়েছেন। অন্যদিনের তুলনায় একটু যেন বেশি না? হে হে হতেই হবে বাওয়া। নাহলে বুঝবেন, আপনি সিনেমাটির প্রতি সুবিচার করেননি। আপনি মুভিটাই ডিজার্ভ করেন না। 
এবার আসি বাহুবলীর কথায়। সিনেমা যেহেতু বাহুবলী। একটা অ্যাকশন-অ্যাকশন.... আর সেখানেই যত সমস্যা। মানে আমি শান্তিপ্রিয় তুলসী চক্কোত্তি। তা বলে কি আমাদের কি বাহুবলী দেখতে নেই? ভয়ে ভয়ে আছি, "কায়নাত" কি "কৌশিশ" করছে কে জানে। রিলিজ করার পরের দিন। সিনেমা শুরুর পনেরো মিনিট আগেই সিনেমাঘরে পোঁছলাম। ভিড় এভোয়েড করতে নিজের যথেষ্ট স্মর্টনেস ব্যবহার করে বাইরেই কিছুক্ষন দাঁড়ালাম। ভাবলাম সবাই ঢুকে গেলে ধীরে ধীরে এন্ট্রি নেওয়া যাবে। স্মার্ট আইডিয়া। শো শুরু হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে ঢুকতে গিয়ে দেখি, ভিড়ের পরিমাণ তো কমেনি উল্টে বেড়ে গিয়েছে। কানটা খাঁড়া করতেই বুঝলাম, শো অনিবার্যকারণবশতঃ পনেরো মিনিট ডিলেইড। আর শুনেই পিছন ফিরতে গিয়ে দেখি,জনঅরণ্য। আমি-পেরেক, গর্তে ঢুকে প্যাঁচ খেয়ে গেছি। এবার হাতুড়ি ঠোকা খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর কি, দরদর করে ঘাম, জায়গা-অজায়গায় চুলকুনি, ঘাড়ের কাছে গরম-পিঁয়াজি নিশ্বাস। অনুভব করলাম। মন দিয়ে। পিছনের মহিলা তার পাশের শ্রেষ্ঠতর-অর্ধ্যেকের (বেটার হাফের) কাঁধে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। তিনি বুঝতেও  পারছেন নাকি যে নিজের সাথের ঢাউস ব্যাগটার নাইন্টিটু পার্সেন্ট আমার বাহুর ওপর? আমি বাহুবলী নই ম্যাডাম। বুঝলাম "কায়নাত" ইস নাউ ইন অ্যাকশন। এই মুহূর্তে কোথা থেকে অসময়ে এসে "চ্যালেঞ্জ" গোত্তা মারলো, ব্যাস আর তো হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না। অপেক্ষার একেকটি সেকেন্ডে মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষের টিকি দেখার অপেক্ষা। যেই না দরজা খুলবে, সে সময় কোন স্ট্রাইকটা যথোপযুক্ত হবে, তার প্ল্যান ছকে নেওয়া চলছে। আসে-পাশের সবার মুখ দেখি গম্ভীর। কেউ হাসছে না, কথা বলছে সিক্রেট মিশনের এজেন্টদের মতো। সবার নজর মাছের চোখে। ভাবলাম শত্রুকে ডাইভার্ট করি। বলে উঠলাম আচমকা,"বিচ্ছিরি গরম ভাই। কি করছে এরা। কখন যে খুলবে। পশ্চিমবঙ্গের টাইমসেন্সটা নিয়ে কোনো বিপ্লব যতদিন না হচ্ছে  ....." পিছন থেকে একজন বলে উঠলেন,"মশাই, এই গরমে চুপ করে থাকুন না প্লিস। আর না হলে কিছু নতুন বলুন। গান শোনান। বাজে কথা বলাটাও একধরণের পলিউশন জানেন, বাকদূষণ"। ড্যাম!! বুঝলাম সবাই কনসেনট্রেট করতে চাইছে। শত্রুপক্ষ অনেক বেশি প্রিপারেড। আমি এমনিতেই পিছনের সৈন্য। কালচক্রে এইমুহূর্তে আবার অভিমন্যু স্টেটে। অসহায় বোধ করছিলাম ভীষণ। অপেক্ষার আরও পাঁচ মিনিট। এইই দরজা খুলল। ব্যাস। আক্রম..... ণ। বাহুবলী ১ এর কিছু দৃশ্যের কথা মনে করে একটু ঝুঁকে, তীরের ফলের মতো মুঠো বন্ধ করে যেই না এগোবো, হঠাৎ কোমরে বেদম জোরে গুদুম। পাশের মহিলার কনুইয়ের সফল লক্ষ্যভেদ আমার কোমরে, বুঝলাম অফেন্সিভ খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই সময়ে, কেউ আমার চোখের ওপর রুমাল ঝাড়লো। ডেন্জার। মানে দল বেঁধে নেমেছে। আমি রিস্ক না নিয়ে "কাটাপ্পা পা পা পা" বলে ছুটলাম এলোপাতাড়ি। হে হে কাটাপ্পা-নামের মহিমা কম? দেখলাম হলের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। এবার শুরু অন্ধকারে সিট্ হাতড়ানো। কোনোরকমে নিজেরটা খুঁজে বসা গেলো। মনে হলো ব্যাস এবার বোধহয় "কায়নাত" বাবুও বাহুবলী এনজয় করবেন। ও হরি, সে গুড়ে বালি। বাহুবলী সিনেমা বলে কথা বাওয়া, তাই মহাধামাকা "কৌশিশ" টাও যথোপযুক্ত হবে সেটা এক্সপেক্ট করা উচিত ছিল। হঠাৎ চিল-চিৎকার সাথে বেদম সিটি। একের পর এক। সিনেমা শুরুর প্রথম দশ মিনিট কানে তালা ছিল। যতবারই বাহুবলীর স্ক্রিনে আগমণ, ততবারই চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী উড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী নাচছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী চোখ নাড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী কোপাচ্ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। সামনে-পিছনে সর্বত্র। এতক্ষনে অস্ত্র নামিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু যুদ্ধে হার নিশ্চিত। আমি আত্মসমর্পণ করেছি। তুলসী-চক্কোত্তি- আমি ক্ষেপটি মেরে বসে রইলাম বাকি সময়টা। আর অনুধাবন করলাম বাহুবলী কে বড্ডো বেশি "দিল সে" চাওয়া হয়ে গিয়েছে। নেক্সট টাইম একটু কেয়ারফুল থাকতে হবে।

P.S.সামনের সিটে বসে (বা উড়ে) থাকা "চিল-চিৎকার-সিটি" গ্রূপের যে লিডার ছেলেটি, চেহারাতে তিনি লাঠিকে কম্পেটিশন দেন। কিন্তু গলার জোরে নয়। মাঝে কোনো বিশেষ ফোন আসাতে তিনি একটু দিকভ্রান্ত হলেও শেষ অব্দি গলা জোর অটল ছিল। ওনার সাথে একটু আলাপ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সিনেমা শেষ হতেই উনি লুচি-মটনের মতো মুহূর্তেই অন্ধকারের পেটে অদৃশ্য হলেন। হোয়াট এ মিস।

Saturday, 29 April 2017

প্রসাদ

- মানে? ইয়ার্কি নাকি? টাকা দেবেন না মানে? মামদোবাজি?
- (আঙুলে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চাটতে চাটতে) ইয়াম মানে... ইয়ে চেঁচামেচি করছেন কেন। এটা আপনার দোকান?
-হ্যা। না হলে বলছি কেন? টাকা বার করুন ফটাফট।
-আরে দাঁড়ান মশাই। আপনার ব্যবসা এটা?
-আলবাত
-শুনুন, ঠাকুমা বলতেন বুঝলেন (আঙুলে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চাটতে চাটতে)
-মশাই ঝোল চাটা বন্ধ করুন। কি বলতেন আপনার ঠাকুমা?
-বলছি বলছি। ঠাকুমা বলতেন," মন্দিরে চেঁচামেচি করতে নেই। দেবতা অসন্তুষ্ট হয়।"
-অ। মানে? কি? হঠাৎ দেবতা-মন্দিরের প্রসঙ্গ কেন?
-ওই দেখুন। ধর্মে কর্মে একেবারেই মন নেই দেখছি। ওই যে পিছনে লিখে আটকে রেখেছেন, সে কি লোক দেখানো? লোক দেখানো ধর্ম আমার একদম পছন্দ নয় বুঝলেন। আজকাল যা সব.... যাক ওসব কোথায় কাজ নেই। আসল কথা হলো, আপনি ব্যবসায়ী, আপনার মন্দির এটা। আমি দেবতা। এবার আপনি নিশ্চয় জানতে চাইবেন, আমি সন্তুষ্ট কিনা। তা রান্না আমার খুব খারাপ লাগেনি। শুধু মাংসে একটু আজিনোমোটো দিলে জমে যেত। আর রুটি পাতলা করে বেল্লে বেশ একটু তুলতুলে ভাব আসতো। রুমালি রুটির অপশনটাও তো রাখতে পারেন।
-থামুন। ইয়ার্কি মারার জায়গা পাননি। আটত্রিশটা রুটি খেয়ে দুটো মাংসের প্লেট গিলে, ন্যাকামো হচ্ছে? তুলতুলে নয় তো গিললেন কি করে?
-আহা একেবারেই মন্দ হয়নি। কিন্তু ইম্প্রোভমেন্টের জায়গা রাখবেন না তা বলে? শুনুন রান্না একটা শিল্প। আর শিল্পে ইম্প্রোভমেন্ট না থাকলে স্যাচুরেশন এসে যাবে যে। তাহলেই দেবতা রুষ্ট হবেন। মানে কাস্টমার। আর শুনুন বাড়িতে পঁচিশটা খাই। তাই আটত্রিশটা ওয়াস টাফ। কিন্তু শুধুমাত্র আপনার মুখ চেয়ে আমি জোর করে ঠুসে ঠুসে খেলাম।
-জোর করে ঠুসে ঠুসে? আমার ছেলেগুলো দৌড়ে দৌড়ে যোগান দিতে দিতে পাগল হয়ে গেলো। আর আপনি কি ঢপের কথা বলছেন? পাগল আপনি?
-কেন, পাগলের কি আছে? আপনিই তো লিখে রেখেছেন? পরিশ্রম আমার পূজা। তা আমাকে কি আপনার এমন অমানুষ মনে হয় যে একজন মনখুলে মন্দিরে পূজা করতে চাইছে আর আমি দেখেও তা অদেখা করবো? একটু সাহায্য করবো না? তাই.....
-আরে মশাই। আপনি আমাদের পাগল করে দেবেন যে। ওইটাতো কাল বৌ এসে কোথা থেকে এনে লাগিয়ে গেছে। দেওয়ালের ওই জায়গাটা খোবলানো ছিল, ঐটাই চাপা দিতে … যাতে দেখতে ভালো লাগে তাই। শুনুন, এখন কাস্টমার আসার টাইম। ঝামেলা করবেন না। চুপচাপ দিয়ে দিন।
-হ্যা এই তো। একেবারে কড়কড়ে। 
- (হেসে) দিচ্ছেন? ব্বাবা, বকালেন বটে। দিন দিন। দিয়ে দিন।

-আরে কি যে বলেন, না দিয়ে যাই কখনো। এএএই এএএই ......... এই যে আমার হাত রইলো তোমার মাথায়। আর আমি বলছি, আমি খুব সন্তুষ্ঠ। তোমরা যে পরিপাটি করে পূজার আয়োজন করেছো। তাতে আমি খুব খুশি। ব্যাস প্রসাদ পেয়ে গেলে। চলি তাহলে। ওহ হ্যা বলছি যে, আজকাল কি সব সেলফি টেলফি হয়. তুলতে পারেন আমাকে নিয়ে। যদি টদি আপনাদের টাপনাদের কাজে টাজে লাগে টাগে। ওই হয়তো নেক্সট দেবতার সামনে রেফারেন্স হিসেবে … এই এএএই একি পড়ে গেলেন যে। ওরে বাবা একি পরম ভক্ত রে আমার, সাষ্টাঙ্গে টাস্ট্যাঙ্গে দরকার নেই রে পাগল। আমি এতেই খুশি রে। ওকি সাড়া নেই কেন..... কি হলো?

Wednesday, 19 April 2017

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়?

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়? কোয়ালিফিকেশন নয় পকেটমারাটা?

কোন পকেটটা টার্গেট, দূর থেকে সেটা পরিমাপ করা। বাসে-ট্রামের দুলুনি সহ্য করা, লোকের ঘাম-বগলের গন্ধ সে সব তো ছেড়েই দিন। লোকজন নাকি ডিও মাখে। ধুর ধুর খুব খারাপ কোয়ালিটি। ডিও কোম্পানিগুলোর উচিত আমাদের থেকে রিভিউ নেওয়া।

সে যায় হোক, পকেটমারের ঝক্কি জানেন? পকেটের পিছনে সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষকে কমফোর্ট দেওয়া। ভিড়ে ওই মসাজ খেয়ে যখন তারা মোটামুটি নিরূপদ্রব নিয়ন্ত্রণাধীনে, তখন বকশিস হিসেবে ঐটুকু আর এমন কি। তাতেও তো ঠকে যাই, মশাই। একে তো ওই মানিব্যাগগুলো সব চাইনিজ মাল, তার মধ্যে ক্যাটরিনা কাইফের দাঁত কেলানো ছবি, দশ টাকা, দাঁত খুচানোর কাঠি। এই সব দেখলে মটকাটা একেবারে.... একবার তো পেলাম পাঁচশো টাকা। পেয়েই মনে হলো, যাক আজ পিঙ্কিকে নিয়ে আটটা-এগারোটার একটা শো ঠুকে দেব। শ্লা, জানলাম টাকাটাই নাকি এখন অচল। সে টাকা ভাঙাতে লাইন-টাইন দিয়ে মাইরি, খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে গেলো। মোবাইল ফোবাইল ছুঁই না। ও সব সালটানো খুব মুশকিল। মেয়েদের ব্যাপারেও হেভি রিস্ক। তাই ওব্যাপারে কোনোদিনই সাহস করিনি। তাছাড়া ওদের গলায়-কানে আজকাল যা সব আইটেম, ও সব দেখে ওদের জন্যই মায়া হয়। এক একবার মনে হয় ডেকে বলে দি, "দিদিমনি গলা-ঘাড়টা তো আপনার কালো হয়ে যাচ্ছে, ওসব বাজে কোয়ালিটির মাল পড়বেন না". তবে মেয়েদের মুডের ঠিক নেই তো, কিসে কি হয়, সেই ভেবে আর সাবধান করতে যাইনি।

আচ্ছা সবই কি খারাপ করি বলুন? এই মানিব্যাগগুলোর যা একেবারে জরাজীর্ন অবস্থা, পকেটমার হওয়ার পর যখন ভদ্রলোক নতুন আরেকটা কেনেন, মনটা কিরকম খুশি খুশি লাগে বলুন তো? সেদিন তো মানিব্যাগের সাথে একটা চিঠিও পেলাম। মাফ করবেন, পড়ে ফেলেছি, হে হে। ওতে যা পড়লাম তাতে বুঝলাম, বৌয়ের হাতে ওই টিনা-ময়নার চিঠি পড়লে, ভদ্রলোক খবরের কাগজের হেডলাইন হতেন। ভদ্রলোকটিকে কিরকম মারাত্মক বিপদ থেকে বাচালাম, বলুন। হয়তো, ওই ভদ্রলোকের খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হয়ে যেত, সে রাতে বাড়ি ফিরে পকেটমারির গল্প করতে করতে, বৌয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন, তখন হয়তো আর ডিভোর্সের কথা ভাবতে ভালো লাগছে না তাদের।

আর এদিকে আমার কাছে বরং চিঠিটা সেফ। পিঙ্কিকে চিঠি লেখার একটা ইনস্পিরেশন কপি হিসেবেও রইলো। আমার তো আর কাব্য ফব্য আসে না। এইসব লিখলে পিঙ্কি হয়তো খুশি হয়ে উঠলো। সারাদিনের ঘাম, দুলুনি, ঠেলাঠেলি, মার্ খাওয়ার টেনশন, এসবের পর শুধু ওই ওর হাসি মুখেতেই তো সব জমা-খরচ ডেবিট-ক্রেডিট মিলে মিশে কিরকম যেন .... মম..... কিরকম যেন লাল-মার্কা তীর-চালানো-দিল হয়ে যায়।


Friday, 14 April 2017

চো চো চোদ্দশ চব্বিশ।

বাংলা চোদ্দশ চব্বিশ।
বেশ একটা চো চো ব্যাপার, তাই না?
কি কি করবেন:
এই বছরটা চোঁ চোঁ করে কাটান।
চপ-চমচম-চা-চানাচুর-চিনি-চর্ব্যচোষ্য ছাড়া বাঙালি অচল। কুচোচিংড়ির বড়া, সাথে কুচোনো পিঁয়াজ, উফফ চমৎকার, চলবে।
চোঁয়া ঢেকুরটা আপ্রতিরোধ্য। অম্ল-প্রতিষেধক চিবিয়ে নেবেন।
আমের চোকলা চোয়ানো রস চোষা? অসমীচীন, একান্তে চলবে।
চোলাই? এহ!! চোপ!!
চোখ পাকানো, চোখ টেপা, চোখ টাটানো, চোখ ঘোরানো, চোখ রাঙ্গানো ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা আবশ্যিক। তবে চঞ্চল চোখাচুখি চলতে পারে। তা যেন চুলোচুলিতে পরিণত না হয়।
আড়চোখে এদিক ওদিক চাইতে গিয়ে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেও, বিরত থাকুন।
যে হারে চড়চড় করে চারিদিকে চরম গরম, চোখে সর্ষেফুল দেখা অসম্ভব নয়।
চোপড়ানি বা চোটপাট বা চোপার মাত্রা চোদ্দশ চব্বিশ-এ বাড়তে পারে। তাতে ভয়ে কেঁচো হয়ে যাবেন না। চুপসে থাকুন।
চোয়াড়ে চোস্ত চোরচোট্টা-চিটিংবাজ চারিদিকে কৃত্রিম চেহারা নিয়ে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে। তাদের চোয়াল ভেঙে দিতে মন চাইছে? উহু নিতান্তই চিপ। ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করবেননা।
চটপট কুলকুচি করে নিন।
ধার বাকি চোকান।
ভাঙাচোরা মন নিয়ে মনচোরের সাথে জুয়াচুরি খেলবেন না। ওতে নাকানিচোবানি খাওয়ার চান্স আছে।
মন খুলে বাঁচুন। ওটাই বাঁচোয়া।

Wednesday, 12 April 2017

ঘরোয়া পদ্ধতি

রসিকবাবুর বিয়ের পরের একসপ্তাহ, পঙ্গপালের মতো আত্মীয়দের বিদায় দিতে দিতেই চলে গেলো। বৌয়ের সাথে বসে দুদণ্ড কথা বলবে তার উপায় নেই। আজ আপিস থেকে বাড়ি ফিরে দেখে বাড়ি ফাঁকা, অনলি বৌ রান্নাঘরে, ফ্রায়িং বেগুউউনি। উফফফফ লাভলি। 
- ওগো খেতে এসো? বেগুনভাজা গুলো তুলে রেখেছি। দেরি কোরোনা কিন্তু, ঠান্ডা হয়ে যাবে। 
- হে হে 
-হাসছো কেনো গো? কি হলো? এসো খেয়ে নাও। 
- হে হে হে হ্যা যাচ্ছি হে হে 
-কি হলো গো তোমার? হাসছো কেনো।
- হে হে কিজানি কেনো
-মানে, ওমাগো পাগলের সাথে বিয়ে হলো নাতো? কিগো না হেসে খাও না গো। কি দেব বোলো।
- এগুনি ব্যাকটা। হে হে
- মানে?
- না এগুনি ব্যাকটা ধুর হে হে বেগুনি একটা। হে হে যুলিয়ে গাচ্ছে। ধুর গুলিয়ে যাচ্ছে। হে হে।
(হাত পা ছড়িয়ে)- ওগো বাবাগো মাগো , একি হলো গো। এই তুমি কি পাগল? হাসছো? ভুলভাল বকছো?
রসিকবাবু হেসেই চললেন। বেগতিক দেখে পাড়ার সাহিত্যিক কাম ডাক্তার সুবিমলকে ডাকতে হলো। অবস্থা বিচার করে, সুবিমল বললেন,"রেয়ার কেস। বিয়ের কদিন খুব হা হা করে হাসার ফলে, মুখের পোস্টেরিওর পিলার আর ইন্টেরিওর পিলার তীব্র অভিমান করেছে। বুঝলেন না? মানে মুখের ওপর আর নীচ, তীব্র অভিমান, কিছুতেই কাছাকাছি আসতে চাইছে না। এতদিন কিছু সিম্পটম বোঝেননি? মান ভাঙাতে হবে। জিভ ওদিকে ঘটক হতে গিয়ে বিপদে পড়ছে। তীব্র বিরোধিতায় খেই হারিয়ে ফেলছে।"
-উপায়?
-হমমম ওই আর কি ইয়ে মানে চুম্বন। দুটি অভিমানী বিপরীতগামী মেরুকে এক করতে ঐটিই একমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতি। কি করবেন দেখুন। নাহলে এম্বুলেন্স ডাকি?
রসিকবাবু সবটি শুনে জোরে জোরে বললেন,"হে হে হে হে হে হে হে হে"


Monday, 10 April 2017

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চক্রের বদলে ছড়ান রসভরা জিলিপি

সন্দীপনিতে পড়াশোনা শেষ করে থেকে সময় পেলে ভালো লেখা পড়েন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। লিপি, পাণ্ডুলিপি সব পড়া শেষ। বারকয়েক রিভিশনও হয়ে গেলো। এবার একটু নতুন লেখা পেলে ভালো হতো। দেবী সরস্বতী শেষমেশ বাঁচালেন, খোঁজ দিলেন ফেসবুকের। লিংক পাঠিয়ে দিলেন। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও। ফেসবুকে নতুন একাউন্ট খুলে শ্রীকৃষ্ণ ভারী খুশি। এতো লিপি, এতো লিখন, এতো ভাষা, এতো বর্ণমালা। বেশ চলছিল, মুশকিল হলো, গত কয়েকবছরে লেখার সংখ্যা হুড়হুড় করে বেড়েছে।
যেমন সংখ্যা বাড়ে পরীক্ষার সময় ছাত্রভক্তের,
যেমন সংখ্যা বাড়ে পুজোর সময় মহিলাভক্তের,
যেমন সংখ্যা বাড়ে ইয়ারএন্ডের সময় চাকুরেভক্তের, (সূক্ষ্মরূপে বেশিরকম বাড়ে ফিনান্সিয়াল ইয়ারেন্ডে)
যেমন সংখ্যা বাড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের পর আমজনতাভক্তের, (বাজেট পেশের পর অতিরিক্ত মাত্রায়)
তেমনই ঝাটিকাবেগে লেখার পরিমান বাড়ছে। চারিদিকে থিকথিক করছে লেখা। শ্রীকৃষ্ণ অভিভূত, বিস্মিত এবং চিন্তিত। কোনো লেখা মিস করতে চান না তাই কিছুটা বিচলিতও। নারদকে খুব দরকার। এইসব কাজে ওর খুব মাথা চলে। ঠিক সময়ে আগমন নারদমহাশয়ের।
-নারায়ণ, নারায়ণ, প্রভু, চিন্তিত দেখাইতেছে কেন আপনারে?
-আইসো আইসো নারদমহাশয়, এইতো খুঁজিতেছিলাম তোমারে।
-হাজির প্রভু, কহেন দেখি কি চিন্তা আপনারে করিতেছে বিব্রত?
-আর কি বলি, ফেসবুকে লেখা লেখি, কত কত, শত শত ....
-আর বলিতে হইবে না প্রভু, ধরিয়াছি ঠিক, পড়িতে এতো লিখন, হউক দিনের দৈর্ঘ্য অধিক.
-উহু না না, উহাতে সমস্যা বাড়িবে অতিশয়, পড়িবার সময়ের সাথে লিখনও জন্মাইবে শয় শয়। অন্য কোনো উপায়?
-তবে প্রভু, লেখকের চিত্তবিক্ষেপ ঘটিলে, বিশ্রাম লইবে কলম, বিরতি আঙুলে।
-সাধু উপায় হে নারদমহাশয়, ভাবিয়া দেখ কি রূপে তাহাদের চিত্তবিক্ষেপ হয়। যাহাতে সমাজেরও কল্যাণ এবং চিত্ত রয় আমোদময়।
-জিহ্বা লইয়া বড়ো সংবেদনশীল বাংলার লেখককুল, খাদ্য জাতীয় আয়োজনে চিত্তবিক্ষেপ ঘটিবেই, নির্ভুল।
- ইয়ায়ায়ায়াহুউউউউউ
জিহ্বাকে পরিতৃপ্ত করিতে লেখক ছুটিল, শ্লথ হইলো লিপি,
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চক্রের বদলে ছড়ান রসভরা জিলিপি।
নারদ অগোচর হতে হতে ভাবলেন, বাঙালিদের জন্য জিলিপি কেন? রসগোল্লা-সন্দেশ থাকতে? ও হরি, প্রভুর জন্মস্থান ভুললে চলবে কি করে। প্রভু নিজের জন্মস্থানের মিষ্টান্ন বড়ই পছন্দ করেন বটে।
মধ্য(প্রদেশ)এর স্বাদ পাক উত্তর, উত্তরের স্বাদ পাক পশ্চিম,
এবার পশ্চিম? পশ্চিম পাক খাক রসে।


Saturday, 8 April 2017

বোতল এট ইওর সার্ভিস, চিয়ার্স

নতুন বিয়ের পর অনেক কিছু পরিবর্তন হবে, এই সাবধান বানীর অন্ত ছিল না. বিয়ের পর তাই যা কিছু পরিবর্তন তার সাথে মোটামুটি একপ্রকার সমন্বয়সাধন করা গিয়েছিল. মদ্যপানের সাথেও. 
এমনিতে বৌ আমার অপর্না সেন, শুধু ওই .. মানে .. মদ্যপান নিয়ে একটু ছায়াদেবী গোছের. আমি আবার লুকিয়ে চুড়িয়ে কিছু করে বৌয়ের কাছে কেস খেতে নারাজ. তাই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেল্লাম.সুযোগ বুঝলেই শুরু করলাম এলকোহলের গুরুত্ব​-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ছোট ব​ড় অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা. মুখ ঝামটা, রবিবার সকালের আধসিদ্দ আলুর দম, রাতের মশারি টানানোর বিরক্তিকর ডিউটি সব মুখ বুঝে হজম করলাম. এট লাস্ট একদিন বৌ বলে ওঠে, "এনোতো দেখি একটা ওয়াইন, কাল বিউটিশিয়ান রিনা টিভিতে বলছিলেন ওটা খেলে নাকি স্কিনে গ্লো আসে!" ইয়াহু উ উ উ উ চাহে কোই মুঝে জঙলি কাহে..... ওয়াইন জিনিসটাতে আমিও তখন সেভাবে অভ্যস্ত নই যদিও, লেকিন কুছ পরোয়া নেই.....বিউটিসিয়ান রিনাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করলো। না মানে ধন্যবাদজ্ঞাপন হিসেবে। যাই হোক পরের দিনই একটা রেড ওয়াইন নিয়ে হাজির হলাম.. উত্তেজনায় ঘেরা সন্ধ্যেতে গদ গদ গলায় বল্লাম, কি গো খুলবো? গিন্নীর ঘাড় নাড়া ওয়িথ মুচকি হাসি দেখে আমি তো তখনই মাতাল. ওপরের প্লাস্টিকটা খুলতেই, দেখি বোতলের মুখে কর্ক. বুঝলাম যত সাধ্য সাধনা এর আগমনের জন্য, আগমনের পরবর্তী বন্দোবস্তের প্রতি অবহেলা হ​য়েছে, মানতেই হবে. কর্কস্ক্রু নেই বাড়িতে! ঠুকঠাক-দুমদাম-টানা-হ্যাঁচ​ড়া যন্ত্রবিজ্ঞানের যাবতীয় কৌশল প্রয়োগ করে যা দেখা গেল, হিতে বিপরীত হ​য়েছে, কর্ক আর ও ভিতরে ঢুকে গেছে! বৌয়ের ভুরুযুগল কাছাকাছি আসছে, মানে আসন্ন ঝ​ড়ের সংকেত. ওদিকে কর্কও বিপরীতমুখী. রাত তখন একটা. বৌ ইতিমধ্যে যুদ্ধের অভিপ্রায় ত্যাগ করে হাই তুলছে আর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিতে দিতে বলছে,"হোলো, বোতল খোলা?" কথাটা স্ট্রেইট ছবি-বিশ্বাসী-অভিমানী-হৃদয়ে হিট করল. করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে. দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে পাতি বাঙলা আইটেম মানে সাঁড়াশি নিয়ে দিলাম এক বাঙালি ঠোকা কর্কের ওপর, ব্যাস কর্ক আত্মসমর্পণ করে টুপ করে পরলো বোতলের মধ্যে, সাঁড়াশি ই  ই ই, তোমায় কুর্নিশ..... বৌ, বোতল এট ইওর সার্ভিস..... চিয়ার্স…


পুনশ্চ: বৌ গ্লাস হাতে নিদ্রালু চোখে জিজ্ঞাসা করেছিল,"বোতলের ভিতরে ওটা কি ভাসছে যেন".... আমি বলেছিলাম," ও আমাদের প্রেম গো, ওই রূপরাশি আপনা বিকাশি. রয়েছে পূর্ণ গৌরবে ভাসি"

Thursday, 30 March 2017

ভালোবাসার মার্কেট ভ্যালু

গতবছর স্বামীটি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, বিয়ে করেছে অন্য কাউকে। আর তার পর থেকেই নাকি মেয়েটির সাজসজ্জ্বার বহর বেড়েছে। পাড়ায় কানাঘুষো যে, আবার মেয়ে বিয়ে করবে তাই.... হাতে চুরি একটার থেকে বেড়ে দুটো-তিনটে। মাথায় ফুল, কখনো গয়না। শাড়িটা নাকি আজকাল উঁচু করে পড়ে। সাইকেল চালিয়ে যখন কাজে যায়, এদিক ওদিক তাকায়, বোধহয় পুরুষ খোঁজে। এমন তখন তার চাউনি, যে দেখবে সে বশীভূত হয়ে যাবে। কথা বলে যখন, কোমড়ে হাত দিয়ে ন্যাকামো করে। রাত-বিরেতে একা একা ঘুরে বেড়ায়, নোংরা পাড়ায় যায় কিনা কে জানে? আসলে পুরুষের মন ইলাস্টিকের মতো, টানতে হয়। আজকাল সাজের বহরে অনেকেই উঁকিঝুঁকি মারে বটে। তাতে মেয়েটির বেশ মজা লাগে। ভালোবাসতে মেয়েটির বেশ লাগে। ভালোবাসার কথা শুনলে বুক ঢিপঢিপ করে, শিহরণ জাগে। এই তো সেদিন পূর্ণিমায় ছেলেটি মাতাল হয়ে কত্ত ভালোবাসার কথা বললো। শেষে বিয়ের কথা অব্দি বলে বসলো। এটাই তো চাইছিলো মেয়েটি, খুশিই তো হওয়ার কথা। কিন্তু কিরকম যে সব গুলিয়ে গেলো, কেমন পচা গন্ধ চারিদিকে। সব নেশা উড়ে গেলো যেন। ছেলেটি তখনও ঘ্যান ঘ্যান করছে। ছেলেটিকে "না" বলে ছেড়ে আসতে কি যে আনন্দ হচ্ছিলো। ছেলেটি এখন দেখলেই দৌড়ে পালায়।
কেন এরকম?
এই ফাগুনে পাশের পাড়ার বুড়ো মাস্টারও খুব কদিন পিছু পিছু। সুন্দর সুন্দর মিষ্টি মিষ্টি কত কথা। বলে নাকি ওগুলো কবিতা। মেয়েটির মাথায় কিছু ঢোকেনি, কিন্তু শুনতে বেশ লাগছিলো। মাসখানেক চলেছিল এই খেলা। মাঝে একদিন হাত বাড়ালো এদিক ওদিক, কিন্তু মেয়েটির চাহনিতেই সে হাতের উন্মাদনা শাসিত হলো। বোধহয় সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তাই রাতে ডাকলো চাঁদপুরের বনে। মেয়েটির কোনো ভয় নেই যেন। চলে গেলো একাএকা। গান হলো, নাচ হলো, নেশা হলো, হঠাৎ মাস্টার বলে বসলো," চল বিয়ে করি, এই সব যারা আমাদের দেখছে, ওই পলাশ, ওই আফ্রিকান টিউলিপ, ওই পান্থপাদপ, দেখ কিরকম দুলছে, সায় দিচ্ছে আমাদের কথায়, ওদের সাক্ষী করে চল বিয়ে করি". অমনি পচা পচা গন্ধ, মদটাতে কে যেন বিষ-তিতো ঢেলে দিয়েছে। তারপরের কথা মনে নেই মেয়েটির। শুধু মনে আছে যে, বাড়ি ফিরে আসতে আসতে খুব মজা লেগেছিলো, খুব হাসছিলো মেয়েটি। পরের দিন ডাক্তারের একটি দল এলো শহর থেকে। মেয়েটিকে নিয়ে গেলো তাদের সাথে।

ডক্টর রায় এই গল্পটা আমাকে বলেন। মেয়েটির নাকি মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। মাস্টারকে নাকি পাথর ছুড়ে মেড়েছিলো, সারা পাড়া তখন ওর পাশবিক হাসিতে জেগে উঠেছিলো।


আমি হেসে বললাম, দোষটা আমাদেরই। ভালোবাসার মার্কেট ভ্যালুটা ওকে জানানো হয়নি যে। ওটা তো বিনামূল্যে পাওয়া যায় না।