Showing posts with label তফাৎ কথা. Show all posts
Showing posts with label তফাৎ কথা. Show all posts

Thursday, 15 March 2018

স্কেলটা

"টিক টিক টিক টিক"
ব্যাস ওই আবার। এখন আবার কি? এই এখুনি তো লাঞ্চ খাইয়ে এলাম। ওহো এবার বোধহয় ওনার পটি টাইম। উফফ এটা একটা লাইফ? সারাদিন শুধু  "টিক টিক টিক টিক"। এই চা দাও, এই ব্রেকফাস্ট দাও, এই শাড়ি চেঞ্জ করাও। আর পটি করানো তো যুদ্ধ। সারাদিন খেয়ে খেয়ে আর বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোটা হচ্ছে আর শুধু "টিক টিক টিক টিক"। রোমা বলে, শাশুড়ীরা নাকি খুব ভয়ঙ্কর হয়। তারা নাকি ঝগড়া করে, তারা নাকি বৌয়ের নিন্দে করে প্রতিবেশীর কাছে! আমার প্যারালাইস্ড শাশুড়ী, তাই আমি নাকি ভালোই আছি। প্রতিবেশীর কাছে আমার নাম নিন্দে করতে পারেনা। কথা বলতে পারেনা তাই ঝগড়াও নেই। তা আমি বলি, ওসব হলেই বরং বেঁচে যেতাম। কানের কাছে সারাদিন প্রতি ঘন্টাতে "টিক টিক টিক টিক" তো আর শুনতে হতো না। কোনো শখ-আহ্লাদ-ঘুরতে যাওয়া-সিনেমা যাওয়া তো নেই জীবনে। রোমার সাথেও যে দশমিনিট কথা বলবো তার জো নেই। শুরু হবে "টিক টিক টিক টিক"। সেদিন তো "জননীর কোলে" সিরিয়ালের ঠিক ক্লাইমেক্সের টাইমেই "টিক টিক টিক টিক"। ও বলে, পঁচাশি বছরের ওর মা, তাকে নাকি আর আয়ার ভরসাতে রাখা যায় না, বয়স্কদের ওপর নাকি খালি হামলার খবর পেপারে। তাও তো খুব জোড় করে একজন আয়া রাখা হলো। ওই পনেরদিন মতো টিকেছিল। সারাদিন "টিক টিক টিক টিক" এর জ্বালায় আর রোজ মাঝরাতে আঠারোবার উঠতে গিয়ে সে আয়ার নিজেরই নাকি এখন বাড়িতে আয়ার সেবার দরকার হয়ে পড়েছে।
সারাদিন সমস্ত বাড়ির খেয়াল রেখে তারপর রাতে ওই "টিক টিক টিক টিক" আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন আর কিছু না শুধু একটু ভালো করে ঘুমোতে চাই। কতদিন যে ভালো করে ঘুম টুকু হয়নি!

ওই আবার। "টিক টিক টিক টিক"।
"দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাকে বাথরুম থেকে তো বেরুতে দাও উফফফফ"
মাঝে মাঝে মনে হয় ওই যে স্কেলটা দিয়ে খাটের ধারে "টিক টিক টিক টিক" করে, সেটা দিয়েই মাথাতে ..... 

============================================================================

- কি হলো, উঠে পড়লে কেন?
- না ওই যে মা বোধহয়  ....
- মা? পর্ণা তুমি আমার মা কে এতো ভালোবাসতে? উনি চলে যাওয়ার পরেও  .....
- ও হ্যা। রোজ রাতে কি যে হয়। কিন্তু আজ যেন  ..... যাক ঘুমিয়ে পড়ো। আমিও  ..... এই ওটা কিসের আওয়াজ। শোনো, শুনতে পাচ্ছো। শোনো
- কোথায় পর্ণা কিচ্ছু তো নয়। তোমার মনের ভুল। শুয়ে পড়ো।
- উফফফফ ভালো করে শোনো। শোনো না। আরে এইটা স্কেলের তোবড়ানো দিকটার আওয়াজ। আমি জানবো না? এই ছ'বছর ধরে শুনছি  .....
- পর্ণা  .....

Wednesday, 19 July 2017

জাগ্গা জাসুস

বলছি, বয়স কত? হাড়ের নয়। মনের? কিভাবে মাপবেন?
"জাগ্গা জাসুস" দেখে আসুন।
*****প্রথমেই বিধিমূলক সতর্কীকরণ, এলেখা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। একে বলা যায় "ধিতাং" লেখা।
"এহেড অফ টাইম" "নট ইভেন ইন্টেলেকচুয়াল" "বোগাস" "বিলো অ্যাভারেজ" ইত্যাদি শুনেই বা পড়েই গিয়েছিলাম "জাগ্গা জাসুস" দেখতে।
ফোর্থ ডে, লাস্ট শো।
ছবির শুরুতেই একটি বাচ্চার গলা, গানের মাধ্যমে জানাচ্ছে ডু'স এন্ড ডোন্ট'স। ওই মোবাইল-ফেসবুক ইত্যাদি বন্ধ রাখা, নাহলে ফিল্মে যা খিচুড়ি হয়েছে, সেটা গুলিয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। শুনে মুচকি হাসি এসেই গেলো অজান্তে। আরে সিরিয়াসলি। অনুরাগ বাসু আমার খুড়তুতো কাকুর জ্যাঠতুতো জ্যেঠুর মামাতো মামা বলেই কি বলছি নাকি? সিরিয়াসলি এলো। চুপচাপ ইন্টারনেট অফ করলাম। মোবাইল সাইলেন্ট করলাম।
ক্যাটরিনা গল্পকার, বাচ্চাদের কমিক বই থেকে গল্প শোনাচ্ছেন। কখনো কথা কখনো গান। গল্প নিয়ে যাচ্ছে এক সেট থেকে অন্য সেটে। সেখানেও গান-নাচ। বুনিয়াদে আসলে রহস্য উদ্ঘাটন। নামেই সেটা স্পষ্ট। "জাসুসি" তো থাকছেই। মোট তিনটে অনুসন্ধানী বা গোয়েন্দা গল্প, পাশাপাশি জাগ্গা-গোয়েন্দার নিজস্ব জীবন কাহিনী নিয়েই এই মুভি। মোটামুটি সবাই এটিকে "মিউজিক্যাল ফিল্ম"ই বলছেন। কারণ সংলাপ-এর বেশিরভাগই গানে গানে। তিন ঘন্টার সিনেমাতে তাহলে কত গান হতে পারে, কল্পনা করুন। অদ্ভুতভাবে অসংখ্য সে গানের সবকটাই আমার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অদ্ভুত নয়? কন্সিস্টেন্সি রাখতে পারাটা কি চাট্টিখানি কথা?
তা হঠাৎ খামোকা সব গানে-ভুবন-ভরিয়ে-দেব কেন? লজিক হ্যায়। "জাগ্গা জাসুস" তোতলা, মানে একটু নয়, বেশ ভালো রকম। গানে গানে কথা বললে ব্যাপারটা নাকি স্মুথ হয়ে যায়। ওই মিউসিক ডিরেক্টর প্রীতমের নিজস্ব এক্সপেরিন্সও তাই। ওর ইন্টারভিউতে এ কথা বহুবার শুনেছি।
যদিও খুব কম জায়গায়, তথাপি, "গলতি সে মিস্টেক" হয়েছে। "জাগ্গা জাসুস" ভুলে গেছে সে তোতলা আর ফ্লুয়েন্টলি কথা বলে ফেলেছে। আমি ব্যাপারগুলো ইগনোর করেছি। এ ঘটনা এক্সসাইটমেন্টে হতে পারে বলে ধরেছি। হয় জগ্গার এক্সসাইটমেন্ট বা হয়তো অনুরাগ বাসুর।
হাতি-জিরাফ-বাঘ-গুহা- হিরোর চুলের স্টাইল সবই এলো পর্দায়। তাতে একটু বেশ টিনটিন এ ফিরে যাওয়া হলো। পুরুলিয়া, আসাম হয়ে, মরক্কো পৌঁছলো। আসামের বিহু হলো। "নাইফ থ্রো" হলো। "গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা" হলো। "শুন্ডি" হলো। কলকাতার "ইয়েলো ট্যাক্সি" হলো। “শাশ্বত-রজতাভ” হলো। মানে বাঙালিদের জন্য এক্সট্রা মাখো-মাখো, যেটা অনুরাগ বাসুর মুভিতে না পেলেই বরং মন খারাপ, সে সব একদম জোরকদমে ছিল। আর সেই একই কারণে অবাঙালিরা বেশিরভাগই গালি দিয়েছেন। গানে গানে গল্প বলে অনেকেই হাই তুলেছেন। হাতির মাথার ওপর চেপে বিয়াল্লিশ তলা থেকে ঝাঁপ মেরে আবার লাফ দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে কাঁখে করে সোজা বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া টাইপ "সিম্পল" সিনেমাটিক কিছু নেই বলেছেন। তার ওপর আবার বাঙালিদের নিয়ে বাড়াবাড়িটা, "আগুনে ড্রপিং ফ্রেশ ঘি"। আমার কথা হচ্ছে, আইডিয়াটা এদেশে নতুন। সেইটা মানতে হবে ভায়া। শুধু একটাই ইয়ে ইয়ে ব্যাপার। বেশ কয়েকবছর আগে একটি হলিউড মিউজিক্যাল ফিল্ম "দি সাউন্ড অফ মিউসিক" দেখেছিলাম। সেটি সাধারণ একটি গল্পকে অসাধারণ করে তুলেছিল শুধুমাত্র মিউসিক ছিল বলে। মিউসিকের সব লিরিক্সের মানে বোঝা না গেলেও গল্পটা সিম্পল বলে কোনো ঠোক্কর খেতে হয়নি। এবার "জাগ্গা জাসুস" যেহেতু ডিটেক্টিভ তাই প্রতিটি শব্দ-বাক্য পরিষ্কার শোনা বা বোঝার প্রবল চেষ্টা ছিল, তা যাচ্ছিলোনা মিউজিকের জন্য বা ছন্দের জন্য বা স্পীডের জন্য বা আমার ব্রেনের সিগন্যালের জন্য। ঐটাই যা.... কিন্তু তা রসে ব্যাঘাত ঘটায় নি। বরং দুটো গান বেশ মনে ধরেছে। সোশ্যাল মেসেজ দেওয়া,"কিষান সুইসাইড কর রাহা হ্যায় তো হামারা কিয়া, হাম তো নিম্বু মির্চি লাগাকে সেফ হ্যায়।" অন্যটি,"জিনা তো উনহিকা জিনা কাহালায়া, জোভি বিনা চু চা কারকে, খাকে-পিকে চলে গায়ে।"
না না এতো কিছুর পরেও এটা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। আসলে লোকজন বলছে প্রচুর জায়গা থেকে নাকি কপি-টপি হয়েছে। আমার কাছে যুক্তিগুলো একেবারেই ধোপে টেকার মতো না। বাঙালির ইমোশনগুলোকে ইঙ্গিতে রেখেছেন সারা সিনেমা জুড়ে, হ্যা তা বলতে পারেন। তাতে তো বাঙালিদের খুশিই হওয়া উচিত। বাঙালিমুভির যা হাল ৮০-এর পর থেকে, এই অনুরাগ, প্রীতম এরাই তো আবার একটু হাল ধরছেন। বাঙালিদের তাতেও প্রব্লেম। রাবণের চেয়ে বিভীষণ মার্কেটে বেশি। যাই হোক রিস্ক নিয়ে এতো সুন্দর একটা প্রজেক্ট করার জন্য পুরো টীমকে হৃদয়মার্কা ইমোজি।
আর ইয়ে সৌরভ শুক্লা ভদ্রলোককে আবারো প্রণাম।

Tuesday, 27 June 2017

লক্ষণরেখাটা

কার চোখ, কার দিকে, কখন, কিভাবে, কোথায় এবং কোথায় সুরুৎ করে আটকে যায়, তা কে বলতে পারে! 
রাস্তায় চলছেন ফিরছেন যারা, বিশেষত স্ত্রীজাতীয় হলেই তারা সবাই হলো শোপিস। পুরুষ জাতির চোখ তাদের "দেখে"। তা ভাই দেখা যেতেই পারে। সে দোষের নয়। বরং তা থেকে নতুন রাস্তা তৈরী হয়। কারোর দিকে দেখলেন, ভালো লাগলো, মন ছুঁয়ে গেলো, কবিতার জন্ম হলো, গল্প হলো, কথা আগে এগোলো, জীবনের সাথে জুড়ে গেলো সে। কি সুন্দর! দেখা যদি নাই হতো, তাহলে কি আর এমন মিষ্টি জীবন-চলচ্চিত্র তৈরী হতো? অবশ্য সব সময় যে পরিণতি এরকমই হবে তার মুচলেকা নেই। কখনও ছোট ছোট টেলিফিল্মও হয়, যা এন্ড-দে-লিভ-হাপিলি-এভার-আফটার টাইপ হয় না। কখনও হৃদয়ে চোট, কখনও বা কোমরে। তবে তাতেও একটা এডভেঞ্চার আছে বটে। অর্থাৎ চলতে-ফিরতে ঘুরেএএ -ঘুরেএএ বা আড়চোখে টুক করে দেখা নেওয়ার মধ্যে ক্ষতি নেই। বরং লভ্যাংশ বেশ। তাই তা চলছে। মুশকিলটা হচ্ছে এই “দেখা”র নিউমেরিকাল ফ্যাক্টর এবং তার লিমিট ফাংশান কিছু আজ অব্দি আবিষ্কার হয়নি। তাই সবটাই আপেক্ষিক। কতটা “দেখা” হলে তাতে নারীরা অস্বস্তিতে পড়বেন না তা বোঝার আগেই "অ্যাংরি" রিঅ্যাকশনে ভস্মীভূত হতে হয় বহু নিরপরাধ প্রাণীকে। উল্টোটারও সমান সম্ভাবনা। পুরুষরা গলা লম্বা করে জিগাইতে পারেন, শুধু পুরুষ কেন, নারীরা? হ্যা হ্যা প্রচুর দ্যাখেন। ভারতবর্ষের নারীদের, শিলনোড়ার তলায় যতদিন রাখা গিয়েছিলো, ততদিন আড়চোখে-পর্দার পিছন থেকে, আর আজকাল প্রকাশ্যেই পুরুষ দেখা চলে। আজকাল আবার একটু বেশিই চলে, ওই বোধহয় শিলনোড়ার পুরোনো হিসেব মেটানোর উদ্দেশ্যে পুরুষদের একটু ইচ্ছাকৃতভাবেই.... তবে যাই বলুন পুরুষরাই এখনো এব্যাপারে এগিয়ে। এমন এগিয়ে যে মকবুল ফিদাবাবু ফিদা হয়ে আঁকলেন নগ্ন সরস্বতী। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখলেন সরস্বতীকে দেখে তাঁর পুরুষালী উত্তেজনার কথা। বুঝলাম মা সরস্বতীও টার্গেট। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই উক্তি আবার সরস্বতী-সন্মান পাওয়ার পরেই। শুধুই কাকতালীয়?
ওবাবা তাতে কি? শিল্পে নগ্নতার ভিজ্যুয়াল রিপ্রেসেন্টেশনস তো সেই কবে থেকে.... সেই তো রেনেসাঁস। পাবলো পিকাসো? এগোন শিলে? এঁদের কারুকার্য হা করে দেখবেন। আর মকবুল-সুনীল শুনিলেই চমকান কেন মশাই?
আসলে ভারতবর্ষ কোনদিকে কিভাবে সাবালক হবে, আদৌ হবার প্রয়োজন আছে কিনা, সে নিয়ে বোধহয় একটু বিভ্রান্ত। "ছি ছি জঘন্য" বললেও দুর্গাপ্রণাম করতে গিয়ে এরূপ দৈহিক চিন্তা নিশ্চয় অনেক পুরুষের যে আসে, তা অবাস্তব নয় বলেই মনে হয়। মহিলাদের কি আসে না? আসে। "কার্তিক ঠাকুরকে হেবি হ্যান্ডসম লাগছে" "অসুরের বাইস্পেস তা জাস্ট অসাম" ওই আর কি! তার বাইরের চিন্তা ভাবনা? আসে হয়তো। খুব বেশি নয়। সচরাচর নয়। মহিলারা আজও একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়তো বা ভীতু। তা এর ঠিক-ভুল বিচার করবে মানুষের নিজের মানসিক স্থিতি। কিন্তু যদি তা ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল? তাহলে? কে ওই "জাস্ট একটু দেখা" আর "আয় ছিঁড়ে খাই" এর সূক্ষ্ম সীমারেখা দেখিয়ে দেবে? তবে সে লক্ষণরেখাটাও ছলেবলে পার করানো যায় আর জটায়ুর ডানা কাঁটা পড়ে। আমি ভাবছি মানুষ কবে রোবট হবে! চোখের সামনের চলেফিরে বেড়ানো শোপিস হবে ইমোশনলেস। যা ইচ্ছে করো, কিছুতেই কিছু হবে না। হে হে। ওহো ওহো আরে আরে "ইচ্ছেটাই" তো থাকবে না। তাতে সাহিত্য বন্ধ হবে বা বন্ধ্যা হবে। দুঃখের। কিন্তু পাঁচ-বছরের বাচ্চাকে রড-ঢোকানো-নির্মম যন্ত্রনা তো সহ্য করতে হবে না।


Picture from Google



Sunday, 14 May 2017

স্ট্রেইট লাইনটাই একমাত্র রাস্তা

- হ্যা হ্যা স্ট্রেইট লাইন। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। 
- তুমি কি করে একথা বলছো সেনদা? তুমি কি দেখেও দেখছো না? তুমি দেখছো না এ রূপকথার রাজ্য। বাস্তবে অথচ কিচ্ছু নেই, ফক্কা। কিন্তু সবাই ভাবছে, আছে। মানে জানে যে নেই, তবু জোর করে নিজের ঘাড়কে দু হাত দিয়ে চেপে ধরে বোঝাচ্ছে যে এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব। দুষ্টু লোক, রাজকুমার আর রাজকন্যে এই নিয়েই আজকের বায়োস্কোপের এসেসমেন্ট। বাস্তব কেউ বলেনা। সুড়সুড়ি দিয়ে কান্না? আছে। সুড়সুড়ি দিয়ে হাসি? তাও আছে। নেই শুধু প্রাণ। আত্মারাম নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে নাকি তাকে হিপ্নোটাইসড করা হয়েছে বলতো? কোথাও মনে হয়না- এই তো আমার গল্প। থিয়েটারে তবু আজকাল একটুআধটু … কিন্তু ফিল্ম? শুধু ভাবাবেগময় একটা ক্লান্তিকর গতি। রূপকথা দিয়ে খিদে মেটে? জ্বালাটা শান্ত হচ্ছে না যে। কেউ আঙ্গুল তুলে বলে না,"রাজা, তোর কাপড় কোথায়?" 
- তা সে আমাকেও লোকে অভিযোগ করতো। আমি নাকি বড্ডো ডিরেক্ট। আমার তবু মনে হতো, আই মাস্ট মেক এ পয়েন্ট। কিন্তু মাঝে মাঝে নিজের বিশ্বাসেই তো মনে হতো যেন হালকা ফাটল..... 
- তবু তো তুমি যা দেখাতে সেটা রিয়ালিটি ছিল। বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে, সময়ের সাথে, ম্যাচুরিটির সাথে। কিন্তু সেই ফাটল টাও তো লুকোও নি। আল্টিমেটলি ভণ্ডামিকে তো প্রশ্রয় দাওনি। ভণ্ডামি তো আজও আছে। বাস্তবে প্রতিবাদের অক্ষমতা থাকতে পারে। তাই সেখানে না পারলেও, ছবিতেই তো সে ভণ্ডামিকে নেকেড করা যায়, যেমন তুমি করেছো। না হলে কিসের আর্ট?
- আমার সময় উন্মত্ততা ছিল। 
- আজ নেই বলছো?
- আছে, কিন্তু মানুষ অনেকদিন যুদ্ধ দেখেনি। ভিতরে লড়ে চললেও অনেকদিন বাইরের লড়াই না দেখে দেখে মানুষ ভীতু হয়ে গেছে। মানুষ বড়ো ভয়ে আছে।
- আমার মাঝে মাঝে কান্না পায় সেনদা। দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় আর পারবো না। 
- সেই জন্যই তো স্ট্রেইট লাইন। যা দেখছিস তাই এঁকে দে। একদম স্ট্রেইট। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। "আজ" নিয়ে ভাব। দেখবি তোর পরের প্রজন্মও ছবি দেখে বলছে - এই তো আমার গল্প। আসলে সময় বদলায়। কমোডিটি বদলায়। মধ্যবিত্ত বদলায় না। সমস্যা বদলায় না।বুর্জোয়া অপরিবর্তনীয়।

(14th May জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন শ্রী মৃনাল সেন।)



Wednesday, 19 April 2017

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়?

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়? কোয়ালিফিকেশন নয় পকেটমারাটা?

কোন পকেটটা টার্গেট, দূর থেকে সেটা পরিমাপ করা। বাসে-ট্রামের দুলুনি সহ্য করা, লোকের ঘাম-বগলের গন্ধ সে সব তো ছেড়েই দিন। লোকজন নাকি ডিও মাখে। ধুর ধুর খুব খারাপ কোয়ালিটি। ডিও কোম্পানিগুলোর উচিত আমাদের থেকে রিভিউ নেওয়া।

সে যায় হোক, পকেটমারের ঝক্কি জানেন? পকেটের পিছনে সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষকে কমফোর্ট দেওয়া। ভিড়ে ওই মসাজ খেয়ে যখন তারা মোটামুটি নিরূপদ্রব নিয়ন্ত্রণাধীনে, তখন বকশিস হিসেবে ঐটুকু আর এমন কি। তাতেও তো ঠকে যাই, মশাই। একে তো ওই মানিব্যাগগুলো সব চাইনিজ মাল, তার মধ্যে ক্যাটরিনা কাইফের দাঁত কেলানো ছবি, দশ টাকা, দাঁত খুচানোর কাঠি। এই সব দেখলে মটকাটা একেবারে.... একবার তো পেলাম পাঁচশো টাকা। পেয়েই মনে হলো, যাক আজ পিঙ্কিকে নিয়ে আটটা-এগারোটার একটা শো ঠুকে দেব। শ্লা, জানলাম টাকাটাই নাকি এখন অচল। সে টাকা ভাঙাতে লাইন-টাইন দিয়ে মাইরি, খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে গেলো। মোবাইল ফোবাইল ছুঁই না। ও সব সালটানো খুব মুশকিল। মেয়েদের ব্যাপারেও হেভি রিস্ক। তাই ওব্যাপারে কোনোদিনই সাহস করিনি। তাছাড়া ওদের গলায়-কানে আজকাল যা সব আইটেম, ও সব দেখে ওদের জন্যই মায়া হয়। এক একবার মনে হয় ডেকে বলে দি, "দিদিমনি গলা-ঘাড়টা তো আপনার কালো হয়ে যাচ্ছে, ওসব বাজে কোয়ালিটির মাল পড়বেন না". তবে মেয়েদের মুডের ঠিক নেই তো, কিসে কি হয়, সেই ভেবে আর সাবধান করতে যাইনি।

আচ্ছা সবই কি খারাপ করি বলুন? এই মানিব্যাগগুলোর যা একেবারে জরাজীর্ন অবস্থা, পকেটমার হওয়ার পর যখন ভদ্রলোক নতুন আরেকটা কেনেন, মনটা কিরকম খুশি খুশি লাগে বলুন তো? সেদিন তো মানিব্যাগের সাথে একটা চিঠিও পেলাম। মাফ করবেন, পড়ে ফেলেছি, হে হে। ওতে যা পড়লাম তাতে বুঝলাম, বৌয়ের হাতে ওই টিনা-ময়নার চিঠি পড়লে, ভদ্রলোক খবরের কাগজের হেডলাইন হতেন। ভদ্রলোকটিকে কিরকম মারাত্মক বিপদ থেকে বাচালাম, বলুন। হয়তো, ওই ভদ্রলোকের খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হয়ে যেত, সে রাতে বাড়ি ফিরে পকেটমারির গল্প করতে করতে, বৌয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন, তখন হয়তো আর ডিভোর্সের কথা ভাবতে ভালো লাগছে না তাদের।

আর এদিকে আমার কাছে বরং চিঠিটা সেফ। পিঙ্কিকে চিঠি লেখার একটা ইনস্পিরেশন কপি হিসেবেও রইলো। আমার তো আর কাব্য ফব্য আসে না। এইসব লিখলে পিঙ্কি হয়তো খুশি হয়ে উঠলো। সারাদিনের ঘাম, দুলুনি, ঠেলাঠেলি, মার্ খাওয়ার টেনশন, এসবের পর শুধু ওই ওর হাসি মুখেতেই তো সব জমা-খরচ ডেবিট-ক্রেডিট মিলে মিশে কিরকম যেন .... মম..... কিরকম যেন লাল-মার্কা তীর-চালানো-দিল হয়ে যায়।


Thursday, 30 March 2017

ভালোবাসার মার্কেট ভ্যালু

গতবছর স্বামীটি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, বিয়ে করেছে অন্য কাউকে। আর তার পর থেকেই নাকি মেয়েটির সাজসজ্জ্বার বহর বেড়েছে। পাড়ায় কানাঘুষো যে, আবার মেয়ে বিয়ে করবে তাই.... হাতে চুরি একটার থেকে বেড়ে দুটো-তিনটে। মাথায় ফুল, কখনো গয়না। শাড়িটা নাকি আজকাল উঁচু করে পড়ে। সাইকেল চালিয়ে যখন কাজে যায়, এদিক ওদিক তাকায়, বোধহয় পুরুষ খোঁজে। এমন তখন তার চাউনি, যে দেখবে সে বশীভূত হয়ে যাবে। কথা বলে যখন, কোমড়ে হাত দিয়ে ন্যাকামো করে। রাত-বিরেতে একা একা ঘুরে বেড়ায়, নোংরা পাড়ায় যায় কিনা কে জানে? আসলে পুরুষের মন ইলাস্টিকের মতো, টানতে হয়। আজকাল সাজের বহরে অনেকেই উঁকিঝুঁকি মারে বটে। তাতে মেয়েটির বেশ মজা লাগে। ভালোবাসতে মেয়েটির বেশ লাগে। ভালোবাসার কথা শুনলে বুক ঢিপঢিপ করে, শিহরণ জাগে। এই তো সেদিন পূর্ণিমায় ছেলেটি মাতাল হয়ে কত্ত ভালোবাসার কথা বললো। শেষে বিয়ের কথা অব্দি বলে বসলো। এটাই তো চাইছিলো মেয়েটি, খুশিই তো হওয়ার কথা। কিন্তু কিরকম যে সব গুলিয়ে গেলো, কেমন পচা গন্ধ চারিদিকে। সব নেশা উড়ে গেলো যেন। ছেলেটি তখনও ঘ্যান ঘ্যান করছে। ছেলেটিকে "না" বলে ছেড়ে আসতে কি যে আনন্দ হচ্ছিলো। ছেলেটি এখন দেখলেই দৌড়ে পালায়।
কেন এরকম?
এই ফাগুনে পাশের পাড়ার বুড়ো মাস্টারও খুব কদিন পিছু পিছু। সুন্দর সুন্দর মিষ্টি মিষ্টি কত কথা। বলে নাকি ওগুলো কবিতা। মেয়েটির মাথায় কিছু ঢোকেনি, কিন্তু শুনতে বেশ লাগছিলো। মাসখানেক চলেছিল এই খেলা। মাঝে একদিন হাত বাড়ালো এদিক ওদিক, কিন্তু মেয়েটির চাহনিতেই সে হাতের উন্মাদনা শাসিত হলো। বোধহয় সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তাই রাতে ডাকলো চাঁদপুরের বনে। মেয়েটির কোনো ভয় নেই যেন। চলে গেলো একাএকা। গান হলো, নাচ হলো, নেশা হলো, হঠাৎ মাস্টার বলে বসলো," চল বিয়ে করি, এই সব যারা আমাদের দেখছে, ওই পলাশ, ওই আফ্রিকান টিউলিপ, ওই পান্থপাদপ, দেখ কিরকম দুলছে, সায় দিচ্ছে আমাদের কথায়, ওদের সাক্ষী করে চল বিয়ে করি". অমনি পচা পচা গন্ধ, মদটাতে কে যেন বিষ-তিতো ঢেলে দিয়েছে। তারপরের কথা মনে নেই মেয়েটির। শুধু মনে আছে যে, বাড়ি ফিরে আসতে আসতে খুব মজা লেগেছিলো, খুব হাসছিলো মেয়েটি। পরের দিন ডাক্তারের একটি দল এলো শহর থেকে। মেয়েটিকে নিয়ে গেলো তাদের সাথে।

ডক্টর রায় এই গল্পটা আমাকে বলেন। মেয়েটির নাকি মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। মাস্টারকে নাকি পাথর ছুড়ে মেড়েছিলো, সারা পাড়া তখন ওর পাশবিক হাসিতে জেগে উঠেছিলো।


আমি হেসে বললাম, দোষটা আমাদেরই। ভালোবাসার মার্কেট ভ্যালুটা ওকে জানানো হয়নি যে। ওটা তো বিনামূল্যে পাওয়া যায় না।

Sunday, 26 March 2017

বুড়োর নবজন্ম এর আমানত আছে "গুলজার"এ

-কিরে, সেল্ফের মধ্যে থেকে থেকে ঘুমিয়ে পড়েছিস যে! ভালোই আছিস, আর আমার দেখ কত কাজ। এখ্খুনি বুড়ো আবার আমাকে নিয়ে ক্লিক ক্লিক শুরু করবে।  তবে.... যতই হোক কর্মই ধর্ম।  এখন আমার কাজ করার দিন। হে হে আর তোর পরে পরে ঘুমানোর আর আমার দিকে ঈর্ষার উঁকি-ঝুঁকির দিন। কিরে ভুল বললাম? খিক খিক।

- হমমম

- শুধু হমমম ! অবশ্য কিই বা বলবি। উইগুলো সব লাইন দিয়ে তোর ওই সেলফের দিকেই। যা সামলা ওদের। তোদের নিয়ে এই হচ্ছে মুশকিল।  কোনো কাজেও আসবি না, উপরন্তু আবার হেভি মেইন্টেনেন্স কস্ট।  বুড়ো যে কেনো তোদের লাইব্রেরিতে দিয়ে দিচ্ছেনা, বুঝিনা। বেকার ঝামেলা।


- (মুচকি হাসি) ওটি হবে না হে ছোকড়া। ওই কোনায় ঢুলছে "মধুসূদন রচনাবলী", ওর ১০৮ নম্বর পাতার ভাঁজে রাখা শুকনো গোলাপ নিয়ে দেখিস না বুড়ো কিরকম আদিখ্যেতা করে প্রতি দুপুরে। ওই যে সমরেশ বসুর "প্রজাপতি" চোখ পিটপিট করছে। ওকে পড়তে গিয়ে সেকি কান্ড, বুড়োর চোখের সব কান্না কোপাই হয়ে বয়েছিল পাতায় পাতায়। এখনো তার স্রোতের শব্দ শোনা যায়  মাঝে মাঝে। আর আমি, মানিকবাবুর "পুতুল নাচের ইতিকথা", প্রতি বিকেলে চা খেতে খেতে বুড়ো যখন তাকায় আমার দিকে,  মনে মনে কি জিজ্ঞেস করে জানিস,"শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?" সে মনের হদিস আমার কাছেই যে পায়, "শশী"বুড়ো। আর এই যে "গুলজার" হেলে আছে। বুড়োর নবজন্ম এর আমানত আছে "গুলজার"এ। এ না থাকলে তো কবেই সন্ন্যাসী হয়ে যেত বুড়ো। তখন কোথায় থাকতিস তুই, তোর স্ক্রল আর তোর ক্লিক ক্লিক। যতই চাচা চৌধুরীর নব সংস্করণ হও হও হে হিরো, কোথায় পাবে পাতার পর পাতায় লেগে থাকা সেই হাজার কথা মনে করিয়ে দেওয়া গন্ধ আর ছোট্ট সেই হাতে লেখা পেজমার্কগুলো, যার একটাতে প্রথম "আই লাভ ইউ" লেখা লাল কালিতে। কোথায় পাবে? কোথায় পাবে!

নয় এ মধুর খেলা

"নয় এ মধুর খেলা"
----
মনে আছে একটু একটু করে খড় দিয়ে, কুটো দিয়ে, ঘাস দিয়ে বেঁধেছিলাম ঘর। 
----
"তোমায় আমায় সারাজীবন সকাল-সন্ধ্যাবেলা নয় এ মধুর খেলা"
----
প্রথম প্রথম যেদিন ঘর বাঁধলাম আর ঝড় এলো, তোমার চোখের কোনে দেখেছিলাম চিকচিক জল। তবু তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি। তাই তো ওই ঝড় শুধু ঘরটাকেই তছনছ করলো। আমাদের শক্ত করে ধরে থাকা তো নষ্ট করতে পারেনি। আমাদের উষ্ণতাকে তো হিম করতে পারেনি। আমাদের পাখা চারটিকে শিথিল করতে পারেনি। পরের বার ঝড় আমাদের মুচকি হাসি দেখে খানিক ভয়ই পেয়েছিলো জানো? কেমন পালিয়েছিলো অর্ধ্যেকরাস্তায়। তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি।
-----
"কতবার যে নিবল বাতি, গর্জে এল ঝড়ের রাতি
সংসারের এই দোলায় দিলে সংশয়েরই ঠেলা"
-----
বুড়ো পাখিটার নজর ছিল আমার ওপর। সেদিন প্রথম জানলাম তুমি রাগতেও পারো। আমার সর্বাঙ্গে কাটা দিয়েছিলো প্রথম। তোমার চোখে প্রথম সেদিন দেখেছিলাম ত্রাস। আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় ছিল বুঝি? জিজ্ঞেস করিনি কোনোদিন, আজ বলবে? শত ডানা ঝাপটানোতেও মোটেই সে বুড়ো বাঁধ মান ছিলো না, মনে আছে তোমার? শেষে যখন একসাথে এগিয়ে গেছি মরিয়া হয়ে, পিছু হটে গেলো। আজ ভাবলে অবাক লাগে। ও যদি পিছু না হটত? যদি ঘুরে দাঁড়াতো, এগিয়ে আসত? সত্যি কতটুকু ক্ষমতা ছিল আমাদের বলো। সত্যিই কি আটকানো যেত? তবে একটা প্রবল ইচ্ছাশক্তি ছিল আমাদের। ওতেই বোধহয় ...... আর হারানোর মতো কিইবা ছিল আমাদের বলো। তুমিই তো আমার সব। তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি।
-----
"বারে বারে বাঁধ ভাঙিয়া বন্যা ছুটেছে।
দারুণ দিনে দিকে দিকে কান্না উঠেছে।"
-----
তুমি শুনতে পাচ্ছো? ওগো সত্যি শুনতে পাচ্ছো গো। মনে নেই তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি। তবে আজ বলছো কেন, ছেড়ে যাবে? এই দুটি শব্দ আমার সব কিছুকে গুলিয়ে দিচ্ছে যে। কোনটা ভুল ছিল? কোনটা ঠিক ছিল? কোনটা স্বপ্ন ছিল? কোনটা বাস্তব? আমার সব গল্পগুলোর শব্দ এদিক ওদিক ছিটকে পড়ছে। ওদের জুড়বো সেই শক্তিটাও তুমি কেড়ে নেবে? এমন অবলীলায় বলছো, ছেড়ে যাবে? কার সাথে চলে যাবে, সে জিজ্ঞাসা করার সাহস আমার নেই। তোমাকে অনুযোগ করবো, তাও পারছি না। তুমি তো কিচ্ছু লুকোলে না, অকপটে বলে দিলে, ছেড়ে যাবে। তোমার চোখে ভয় নেই তো, মিথ্যা নেই তো। কিন্তু চিকচিক করছে কি একটা যেন। এর থেকে তুমি যদি আমার সাথে লুকোচুরি করতে, তোমার ওপর রাগ করতাম, খুব রাগ করতাম, খুব বকতাম তোমায়, খুব খারাপ কথা বলতাম। তাতে হয়তো একদিন সবকিছু ভুলেই যেতাম। কিন্তু তুমি তো তা করলে না. শুধু বললে, ছেড়ে যাবে। কিভাবে মনকে বোঝাবো? কিভাবে বলবো মনকে, "ভালো হয়েছে চলে গেছে, ও একটা শয়তান ....." সে যে তুমি নও, সে আরও একবার প্রমান করলে অকপটে বলে। তাহলে তোমার চোখ চিকচিক কেন? তবে তাই হোক, শুধু ঐটিই নিয়ে তাহলে আমি বাঁচি। তবে যায়, চলে যাও, আর কিছু বোলো না, চলে যাও। আমার জন্য এই তো অনেক, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময়, তোমার চোখের কোণে চিকচিক। তোমার প্রেমে আঘাত পেলাম, অবহেলা নয় বটে।
------
"ওগো রুদ্র, দুঃখে সুখে এই কথাটি বাজল বুকে—
তোমার প্রেমে আঘাত আছে, নাইকো অবহেলা
নয় এ মধুর খেলা"
------

Tuesday, 21 March 2017

জীবন মানেই জিবাংলা

অফিস থেকে ঠিক বেরোনোর মুহূর্তে বুড়ো বস একগাদা ফাইল চাপিয়ে দিয়ে পাঠালেন পিওনের হাত দিয়ে। যারা বলে গভর্নমেন্ট চাকরি সুখের, তাদের বিরিয়ানিতে গাদা গাদা উচ্ছে সিদ্ধ। তাদের রসোগোল্লায় গাদাখানেক নুন। তাদের মটনরোলে সোয়াবিন আর পনির ঠাসা।
"ধ্যাৎ তেরিকা" বলে সব ফাইল ঠেলে বিনীতা ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।
মিটির এক্সাম কেমন হলো কেজানে। এতক্ষনে নিশ্চয় এক্সাম শেষ। একটা কল করে দেখ যাক। টিংটিং ফোন , রিং হচ্ছে। কিন্তু ওপার থেকে কোনো উত্তর নেই। "উফফফ" বলে আবার ফোন। এবারও কোনো উত্তর নেই। নিশ্বাসটা জোরে জোরে পড়ছে বিনীতার।
সতেরো বছরের মেয়ে, তবু একা ছেড়ে একমুহূর্তে থাকতে পারে না বিনীতা। সমসময় চিন্তায় থাকে। স্বামীর সাথে ডিভোর্স পাঁচ বছর হলো। মা আর মেয়েকে নিয়ে সমস্ত পৃথিবী বিনীতার।
মা কে ফোন করে দেখি তো। এখানেও রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ফোন তোলে না। কি  মুশকিল। টেনশনে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার যোগাড়। তাড়াতাড়ি ট্যাক্সি ধরে জোরে চালাতে বললো বিনীতা। পুরো রাস্তাটা একবার এই ফোন, আরেকবার ওই ফোন। এরকম তো কোনোদিন হয়না। মাঝরাস্তা যখন পৌঁছেছে, বাইরে অফিস টাইমের ট্রাফিক। জঘন্য। নাঃ মিটির বন্ধু কে ফোন করি। টিংটিং ফোন , রিং হচ্ছে।
-হ্যালো
-হ্যা হ্যালো, আমি মিটির মা বলছি
-হ্যা বলুন বিনীতা। আজকের পেপারটা কি বাজে হয়েছে না। সব আউট অফ সিলেবাস। মিটির কেমন হো  .....
- হ্যা মানে বলছি, মিটিকে ফোনে পাচ্ছি না। ওকে দেখেছেন ছুটির পর?
- য়্যা? মিটি? মমমম হ্যা বেরোলো তো। স্কুলভ্যানেও উঠলো দেখলাম, কিন্তু পেপারটা অতি জঘন  .....

যাক্ তাহলে ভ্যানে উঠেছে। বাড়ি পৌঁছেছে।  ......
কিন্তু তাহলে ফোন ধরছেনা কেন। বাড়িতে পৌঁছলে মা বা মিটি কেউই রিং শুনতে পাচ্ছে না? আর পিলামাসি, সেও তো আছে। সেও কি এখনো রান্না ঘরে? ভ্যানওয়ালা ঠিকঠাক পৌঁছে দিয়েছে তো? নাকি? আবার টেনশনে অস্থির হয়ে উঠলো বিনীতা। আর ভাবতে পারছে না, মাথাটা টলমল করছে। হাতগুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে। বাড়ির দরজার কাছে পৌঁছলো। তাড়াতাড়ি ভাড়া মিটিয়ে চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঢুকলো। বাড়ির একটা চাবি বিনীতার কাছে থাকে। সব্বাই উপরের ঘরে থাকে। হাঁকুপাঁকু করে উপরে উঠতেই এদিক ওদিক দেখে, কেউ কোথাও নেই। মা র ঘরের দরজা বন্ধ। পড়িমরি ঠেলে ঢুকতেই দেখে প্রচন্ড শব্দে টিভি চলছে।  আর মা, মিটি , পিলামাসি সব বুঁদ হয়ে টিভির দিকে। "টেন পোয়েএএএএএএএএএন্টস, দি  .. দি  .. নম্বর ওয়ান। দি  .. দি  .. নম্বর ওয়ান।"
প্রচন্ড রাগে বিনীতা বলতে শুরু করলো,
"কি ব্যাপার কি হ্যা? তখন থেকে ফোন করে যাচ্ছি? তোমরা কি পাগল? কোনো কান্ডজ্ঞান নেই নাকি হ্যা? অফিসের সমস্ত টেনশন নিয়ে আছি, তার ওপর ফোনটা ধরারও প্রয়োজন  বোধ  ....."

মা: "কুমড়ো   ....."
মিটি: "না গো দিম্মা, আনসারটা ক্যাডবেরি হবে ...."
পিলামাসি: "না না, কোনো সব্জির নাম বলতি হবে  ....."

সব দেখে ধপ করে বসে পড়লো বিনীতা। বসতে গিয়ে দেখে চেয়ারে ডাই করে রাখা সব জামাকাপড়, তার মধ্যে মা আর মিটির ফোনদুটো চোখ পিটপিট করে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে।

Monday, 6 March 2017

রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"

রিকির আজ ক্লাস ফোর হলো। নতুন ক্লাসে শুরুর দিনে সবাইকে নিজের ব্যাপারে চার লাইন বলতে বলা হলো। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা নানারকম ভাবে নিজেদের কথা বলছে। এবার পালা রিকির। রিকি বেঞ্চ থেকে উঠে ধীরে ধীরে গেলো সামনে। শুরু করলো।
"আই এম রিকি বোস। মাই ফাদার ইস ধীমান বোস। মাই মাদার ইস শর্মিলা বোস। মাই ফাদার ইস এ পোয়েম   ....."
কেউ কেউ হাসতে শুরু করলো। টিচার বললেন,"রিকি, নট পোয়েম বেবি, ইট উইল বি পোয়েট"
রিকি বললো,"উফফ, সরি টিচার, মাই ফাদার ইস এ পোয়েট। মাই মাদার ইস এ  ......" বলে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে রিকি।
টিচার পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন,"ওকে, ভেরি গুড, নেমে এসো রিকি। হু ইস নেক্সট?" সমস্ত ক্লাস যথারীতি ক্লাপ করলো। উঠে পড়লো পরের জন।
রিকি বেঞ্চে ফিরে আসতে পাশে বসা বন্ধু টনি জিজ্ঞেস করলো,"তুই কেনো স্টেমার করছিলি? চুপ করে গেছিলি কেনো হঠাৎ? তোর মা কি করে? ডক্টর? হাউজওয়াইফ?"
রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"
টনি হেসে উঠলো,"শুধু পাপার হাত ধরে থাকে? আর কিছু করে না? আর ইউ ম্যাড রিকি?"
রিকি মাথা নিচু করে বিড়বিড় করলো,"সত্যি বলছি"
বাড়ি ফিরে টনি সব কথা মাকে বলছে, আর হাসছে। যত হাসছে, মার মুখ তত গম্ভীর হচ্ছে। শেষে মা বললো,"টনি বেবি, তুমি রিকির থেকে একটু দূরে থাকবে হ্যা? যা বলছি শুনবে কিন্তু। হি ইস ইল"
ইল!!
পরের দিন টনির মা দেখা করলেন রিকির বাবার সাথে, সব বললেন, শেষে বললেন,"আমার মনে হয় ওকে ভালো সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো দরকার। মানে বাইরে থেকে তো ও সুস্থ। প্লিজ ডোন্ট টেক মি রং। হয়তো মায়ের অভাবটা ফিল করতে করতেই  ......"
রিকির বাবা টলোমলো পায়ে বাড়িতে ঢুকেই খোঁজ করলেন ছেলের। ছেলে ঘুমোচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গা অব্দি অপেক্ষা করতে সোফায় ঠাঁয় বসে ভাবলেন। এ কি ভাবে সম্ভব। সত্যি ছেলে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে?
তখন ছটা হবে, ছেলে পিছন থেকে "পাপা, এসে গেছো" বলে গলা জড়িয়ে ধরলো। বাবা শান্ত ভাবে, রোজের মতো স্কুলের সমস্ত গল্প শুনলেন। কিন্তু ক্লাসের ঘটনাটা এড়িয়ে গেলো রিকি। বাবা জিজ্ঞেস করলেন," রিকি সোনা, তুমি জানো তোমার মা আকাশের ষ্টার, বলেছি না কতবার? তবে তুমি টনিকে আজ ওরকম বললে কেনো?"

রিকি চমকে গেলো, পাপা জানলো কি করে? বিড়বিড় করে চোখ ছলছল রিকি বললো,"মা সবসময় তোমার হাত ধরে থাকে। দাদুকে বলেছিলাম, দাদুও বিলিভ করেনি। আমাকে বকলো, তোমাকে বলতে বারণ করেছিল...তাই তো আমি … এখনো মা তোমার হাত ধরে আছে, তুমি একবার ঘুরে আয়নায় দেখো? পাপা, মা তোমার সাথেও কথা বলে না? কি হলো পাপা, কথা বলো, তুমি কি ভয় পেয়েছো?"

Thursday, 2 March 2017

অমুকবাবু কি বাঙালি?

মিস্টার অমুক। দুর্ভাগ্যক্রমে ওনার জন্ম ভারতবর্ষের বাংলায়। ইংলিশ মিডিয়ামে বড় হতে হতে তিনি দুর্ভাগ্য আরও বেশি অনুভব করেছেন। তার জীবনে এ লেগে আছে কলঙ্কের মত। সে নিয়ে তার লজ্জার শেষ নেই। চাকরিজীবনের আগে এ কলঙ্ক থেকে বাঁচার চেষ্টার ত্রূটি ছিলনা বিন্দুমাত্র। ভাঙা-ব্যাঁকা-ন্যুব্জ-ক্ষীণ ইংলিশ নিদেনপক্ষে হিন্দি ব্যবহার করেছেন প্রতি মুহূর্তে, বাংলায় তার সাবলীলতাকে সচেতনভাবে, খানিক নির্দয়ভাবে অস্বীকার করে। "হাত দিয়ে খেতে তার অসুবিধার" কথা প্রকাশ করেছেন বারে বারে প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে। বাবা-মার সাথে তাজমহল ঘুরতে গিয়ে প্রথম ধপধপে সাদা চামড়াওয়ালা মানুষ পড়ে তার চোখের সামনে। তার সাথে ছবি তোলার বায়না তার বাবাকে অস্বস্থিতে ফেললেও মা সে সাধ পুরণে আকাশ-বাতাস এক করে দিয়েছিলেন। ছেলেটির অনুরোধে সে ছবি দেখতে হয়েছে, খানিক বাধ্য হয়েই পরিচিত স্বজন-কুজনদের। ছোট্টবেলায় যতটুকু সম্ভব আর কি। চাকরিজীবনে পৌঁছনোর পর প্রথম শর্তই ছিল, চাকরি হতে হবে বাংলার বাইরে। মিলেও গেলো একটি, আইটির ঘাঁটি বেঙ্গালুরুতে। সেখানে গিয়ে যথাসম্ভব চেষ্টা করতেন, নিজের আদি বাড়ির কথা সর্বসম্মুখে না আনতে। কেউ কখনো তাকে যদি জিজ্ঞেস করতেন,"আর ইউ পাঞ্জাবি" বা "আর ইউ ফ্রম সাউথ", একরাশ খুশি ফুটে উঠতো তার চোখে মুখে। বাংলায় আর প্রায় আসেনি না অমুকবাবু। সমগ্র বাংলা তখন তার কাছে গলে যাওয়া ভাতের মতো। এহেন অমুকবাবু রোজের মতো একদিন বেড়িয়েছেন প্রাতঃভ্রমণে। আগের দিন বার্থডে সেলেব্রেশন জোড়দার হয়েছে। তাই প্রাতঃভ্রমণটা আজ মাস্ট। একপাঁক ঘুরতেই পেট মোচড়, কিছুতেই আর চলতে পারছেন না। বসে পড়লেন কাছাকাছি একটি বেঞ্চে। মাথা ঘুরছে, চোখ অন্ধকার। 
****
চোখ খুলতেই দেখলেন নিজের ঘরে শুয়ে আছেন, আর সামনে একটি মাঝারি সাইজের টাক মাথা লোক দাঁড়িয়ে। লোকটি মুচকি হেসে বলতে শুরু করলেন,"যাক, জ্ঞান ফিরেছে তাহলে, আর একটু দেরি হলেই ডাক্তার ডাকতে হতো।"
অমুকবাবু বলে উঠলেন,"বাঙালি? এই রে … আই মিন আর ইউ বেঙ্গলি? আই ডোন্ট সিম টু নো ইউ, এন্ড হোয়াই দা হেল ডিড ইউ এন্টার হিয়ার উইথাউট মাই পারমি ...... "
লোকটি বলে উঠলেন,"দাঁড়ান দাঁড়ান, উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? পার্কে দেখি বেঞ্চিতে শুয়ে গোঙাচ্ছেন। আমি বুঝলাম, এসিডিটি। যতই হোক বাঙালি তো, গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারি, জেলুসিল কেস না নেক্সট লেভেল।"
অমুকবাবুর মুখে রা টি নেই। 
লোকটি বলে চলেছেন,"একটু চেনা লাগছিলো আপনাকে। গোঙাতে গোঙাতে যেই বললেন, গলা জ্বালা। ব্যাস, একদম স্ট্রেইট ব্রেনে কিক। কোরামঙ্গলাতে তো, দুর্গাপুজোর চাঁদা চাইতে এসেছিলুম না দু-বছর আগে? কে যেন খবর দিলো এই ফ্ল্যাটে বাঙালি আছে। আপনি কি সব ভাষা বলতে শুরু করলেন, সেই থেকে আপনাকে আর ঘাটায়নি, মানে ইয়ে সরি। যাকগে, তারপর ট্যাক্সি ফ্যাক্সি ডেকে এখানে পৌঁছে, বিল্ডিংয়ে উঠলুম। তারপর তো কি জ্বালা। আপনার সাউথইন্ডিয়ান বাড়িওয়ালা চাবি দিতেই চায়না। বলি মশাই দেখতে পাচ্ছেন না, একজনের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারপর ওই পাতি বাঙালি কায়দায় মালটাকে হাত করলাম। বললাম, আমরা একই শহরের কলকাতার, আইডি কার্ডটা দিয়ে আস্তে হলো শেষে। ভদ্রলোকের যত চিন্তা বাড়ির সেফ্টিতে, মানুষের জীবনটিতে ততটা নয়। আর বলুন কিছু জানার আছে?" 
অমুকবাবু ধাতস্থ হচ্ছেন ধীরে ধীরে। রোবটের মতো হঠাৎ বলতে থাকেন,"আমি কি বলে যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবো, আপনি আমার জীবন রক্ষা করেছেন" 
লোকটি বলেন,"ও কিছু নয়, আমরা সব ভিনদেশে উড়ে এসে জুড়ে বসেছি। নিজেদের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে হবে অনলি টু সার্ভাইভ। আচ্ছা জ্ঞান দিয়েছি আপনার বাড়িওয়ালাকে। ব্যাটা আমাকে সন্দেহ করছিলো? আচ্ছা ভদ্রলোক কিরকম ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে ছিলেন, যখন জানলেন আপনি বাঙালি.যাক, আপনি রেস্ট নিন। আসুন না মাঝে মাঝে আমাদের আসোসিয়েশনে। জমিয়ে আড্ডা হবে। আসি।”
অমুকবাবুর পেটব্যাথা একদম নেই এখন আর, কিন্তু মাথাটা যেন আবার ঘুরছে, ধন্যবাদ-জ্ঞাপন-জীবন-রক্ষা এই এতগুলো বাংলা শব্দ কি করে তিনি নিজে মুখে বললেন!

Sunday, 19 February 2017

আদিম এবং অকৃত্রিম, তথাপি প্রতি পলের আনন্দ

- মানে, আর কতক্ষন? লোকদেখানো না করলেই নয়?
-ওহ, মানে আমি লোকদেখাই, আর তুমি? ধোওয়া তুলসীপাতা
-তাহলে তুমিই দেখো, এই হিসেবে তো আমি রিলিশড ফ্রম অল এলিগ্যাশন্স।
-মানে? কি ভুলভাল বকছো।
-আরে তুমি তো বললে তুলসীপাতা, তুলসী দাসের রামায়ণের পাতা। খুললেই তো একের পর এক গৃহঅশান্তি। সে দিক দিয়ে আমি তো শান্তিপ্রিয় এবং ………
-থামো, সোজা কথাকে শুধু উল্টো করা। তুমি হলে ঘাপটি, ঘাপটি বোঝো? লোকের কাছে সাধুপুরুষটি, ভাজা মাছটি উল্টে খেতে পারে না। আমি চিনি না তোমাকে …… বাব্বা।
-উঁহু উঁহু সাধুরা জেনেরালি নিরামিষাশী, ভাজা মাছ তো আউট অফ কোয়েশ্চেন। আর যে সাধুপুরুষ, মাছ ভাজতে পারে, সে ওল্টাতে পারবেনা কেন হে! তার কি হঠাৎ প্যারালিসিস হলো? কোইন্সিডেন্স অনুযায়ী যদি তা হয়ও, পয়েন্ট ওয়ান পার্সেন্ট, তাহলে তার ভাজা মাছের চিন্তা ছেড়ে এম্বুলেন্সের নম্বর খোঁজা আর হরিনাম জপ করা উচিত। বাংলার প্রবাদ গুলোর একটু রিভিশন দরকার। ইটস হাই টাইম।
-এই লোক আমায় পাগল করে দেবে একদিন। এই লোকের সাথে ঘর করে দেখাক কেউ।
-সে চান্স নেওয়া বোকামোর কাজ হবে মনে করি। আর তাতে লসটা তোমারি।
-আচ্ছা? তাই নাকি?
-মানে, শুধু শুধু খাওয়ার লোক বাড়াবে?
-আচ্ছা, মানে ঝি গিরিও করাতে চাও আমায় দিয়ে, তলে তলে এতো। চলে যাবো যেদিকে দু-চোখ যায়।
-তোমার ক্যাটারাক্ট অপারেশনটা হয়নি যে।
-ওহ বাহ্, হলে রাস্তায় ছেড়ে দিতে বেশ সুবিধে হতো তাই না? শয়তান, তুমি তল-শয়তান।
-মুখোশের তলায় শয়তান হবে কথাটা
-ওরে আমার বাংলার মাস্টারমশাই, তুমি ওই, তুমি ওই, তুমি মুখোশ, তুমি শয়তান, তুমি পাজি ...... উফ আমার বুক ধরফর করছে।
- বুক ধড়ফড় সেন্স করে সেটা সেন্সরি নার্ভাস সিস্টেমে গিয়ে তারপর সেটা বলতে মিনিমাম ৩০-৭০ মিলিসেকেন্ড লাগে। তোমার কি এতটা সময় .......
- ও মা গো
- আচ্ছা আচ্ছা, ডাক্তার ডাকবো, মানে কোথায় কষ্ট হচ্ছে?
- বলছি, আগে বলো। গোয়ার টিকিটটা কালই কাটবে, বলো ......
- (বিড়বিড় করে) কে বলে, মহিলাদের বুদ্ধি কম?






Saturday, 17 December 2016

ভাষা-হামলা

-কিধার উতরেঙ্গে স্যার, জাগা কা নাম তো বাতাইয়ে
-আরে তুমি চলাতে রহ​, আমি বাতাবো সম​য় এলে ..... আরে আরে রোকে রোকে, আরে আগে আগে…
- ঠিক হ্যায়, চলা রাহে হ্যায়
-আরে আগে আগে, নট সামনে
- আরে আগে হি তো চলা রাহে হ্যায়
-আরে পিছনে পিছনে, আগের গলি চলে গেল তো, ধুর
-আরে পিছে ক্যায়া, আপ আগে আগে কর রাহে হ্যায়, ইসলিয়ে হাম তো আগে ভাগে

- তুমি তো আগে ভাগে, সাথে ভাষা গেল মায়ের ভোগে

সেলফি 3

ফ্রন্ট ক্যামেরা জিন্দাবাদ!.....

সেলফি তুলতে রাকা বৌদির ঝকঝকে ফ্ল্যাটের সামনে "ডাক-ফেশ" করে বেশ কটি ক্লিক ক্লিক করলেন দুই তন​য়া.

সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট হ​য়ে গেলো ফেসবুকে. 
কিন্তু কমেন্টে সব "লল্" পেয়ে তন​য়াযুগল অবাক.......
রাকা বৌদির নেমপ্লেটটা " রাকা এ.” মাথার ওপর উজ্জ্বল!


ফ্রন্ট ক্যামারার দৌলতে সবাই যা দেখছে তা হল "এ কারা" ......

সেলফি 2


ফ্রন্ট ক্যামেরা জিন্দাবাদ!.....

ফেসবুকে পোস্ট হওয়া সেলফিগুলো নিয়ে মশগুল নাতনীরা. 
প্রথম শাড়ি প​ড়া সেলফি বলে কথা!

হঠাত পিছন থেকে ফিক ফিক আওয়াজ. তাকিয়ে দেখে দিদিমা ছবির দিকে তাকিয়ে হাসছে!


"শাড়ির উল্টা আচল!মাইয়াগুলান শাড়ি প​ড়াডাও ঠিকঠাক শেখল না!"

সেলফি

ফ্রন্ট ক্যামেরা জিন্দাবাদ!.....

-ভাই, ওটা কি দেখতাছি, সব কটা মাইয়া ফন লইয়া হাসে, টানাটানি করে, মুখটা অরকম ছুঁচামার্কা কেন্.

-দাদা, মুখটা ওরকম করে আছে, ওটাকে বলে ডাক-ফেস, নিজেদের ছবি নিজেরাই তুলছে, সেলফি


-বাবা গো, আর কত দেখাবি ভেলকি!

Wednesday, 7 December 2016

আজ উৎস, কাল সক্রিয়


"জিও কাকা, গুরু দেবের গান, টুনি সাউন্ডটা বাড়া, শুনি"
দাদু ভাবেন " গুরুদেব, ভগবানের গান! বাহ, নাতিটির তো বেশ ভক্তি!”
কাকিমা ভাবেন "উত্তমকুমারের গান মনে হ​য়, কানটা একটু পাতি",
"ভজ গৌরাঙ্গ লহ গৌরাঙ্গ" শোনা গেল নাতির অনুরোধের গানটি.
কাকিমার হৃদয়ভঙ্গ হল বটে, কিনতু দাদু বলেন উঠলেন “আহা”!
তবে “কলিযুগের কেষ্টরাধা ডিস্কঠেকে করে ডান্স" শুনে দাদু এক্কেবারে হা!
“ছিঃ ছিঃ, ওরে ভগবানকেও ছাড়লি না রে তোরা!”
“আরে কামঅন দাদু, গুরুদেবকে নিয়ে কোন কথা হবেনা!”
“আমরাও সিনেমা-গান শুনেছি বাপু, পৃথ্বীরাজ কাপুর! আঃ কি জাদু!”
“ধুর! এখন ফাস্ট ডিজিটাল যুগ! প্যানপ্যানানি আজকাল আর চলেনা দাদু!”
একাল-সেকালের চিরকালীন এই বিদিত দ্বন্দ্ব,
আমি তবে কোন দলের, ভাবি আমি, মধ্যবয়স্ক!
পৃথ্বীরাজ কাপুরের মুঘল​-এ-আজম অতুলনীয় বটে,
রয়্যাপ, জ্যাজ, ডীস্কোনাচ সমৃদ্ধ ছবি বেশ মজার লাগে.
আধুনিক গল্প​-কবিতায় যেমন জাগরণ হ​য় সমাজসচেনতা.
তেমনি মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ না প​ড়লে আত্মজ্ঞানে ভাটা,
চিঠিতে ছিল প্রতীক্ষার আমোদ, শব্দে শব্দে অনুভূতি.
ইমেল কেমন সুলভ, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ​, এবং দ্রুতগতি.
প্রযুক্তির উন্নতিতে গোটা পৃথিবী যখন আঙ্গুলের ডগায়,
সাবেকি প্রথা রীতিনীতি প্রাণবন্ত, নস্টালজিয়া হৃদয়ে.
সেকাল পঠিত-অনুভূত, একাল প্রতীয়মান-সমক্ষ,
সেকাল নম্র-আত্মবাদী, একাল দ্বিধাহীন উন্মুক্ত.
একাল যদি সক্রিয়, সেকাল তবে উৎস,

আমি দুয়েতেই, একাল-সেকাল সত্য সত্য সত্য.

আস্থা


জন্মকথা


উত্তাপ