Showing posts with label খোরাক কথা. Show all posts
Showing posts with label খোরাক কথা. Show all posts

Monday, 28 January 2019

ব্যালান্সের চেষ্টা

- ডিভোর্স ছাড়া উপায় নেই রমিতদা। এ একেবারে নাজেহাল কেস। তুমিই ভালো আছো দিব্যি। আপেল খাচ্ছো। কামড়ে খাও, কেটে খাও। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমার জীবনটা শালা কৈফিয়তের শপিং মল তৈরী হয়েছে।

- স্থির হও খোকা। সোমবার তো। চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ্যশ্বাসে আকাশে বাতাসে একটু নেগেটিভ এনার্জি জেনারেট করেছে। এই নে, তুই ও একটা আপেল খা দেখি। কামড়ে খাবি খা। হুইস্কি বের করে ঢাল। দেখবি বেশ একটা স্বাচ্ছন্দ্যময় ওয়ার্ম ফিলিং আসছে। মনে হালকা চাপ তখনও থাকবে। তবে সেটা ব্যালান্সড।
এই যে আপেল এর হাঁকুপাঁকু মাটির দিকে ধেয়ে যাওয়া দেখে, স্যার নিউটন, ইউনিভার্স -এর প্রতিটি কণার মধ্যে এট্ট্রাকশন এর কথা বলেছিলেন। বিয়ে করেননি সারাজীবন। তাই মাখোমাখো আকর্ষণটুকুই দেখেছেন।

- তবেই বোঝো। শালা বিয়ে করেছো কি কেস খেয়েছো।

- বটেই। কিন্তু কেস ভালো। উইলিয়াম থমসন বিবাহিত। টেরটি পেলেন হাড়ে হাড়ে। গ্যালাক্সি-এর ডার্ক ম্যাটার খুঁজে পেলেন। বললেন রিপালশনের কথা। দিলেন বিকর্ষণ এর ব্যাখ্যা। ওদিকে আইনস্টাইন আবার বেলতলা গিয়েছেন দুবার। E=MC2 করতে করতে জিভ দেখিয়ে নেগেটিভ ম্যাসের থিওরি বলেছেন।

- হমমম।

- যেদিকে যাও, কন্ট্রিবিউট করে যাও। লক্ষ্য হবে, ব্যালান্স। আসবে না। তবু চেষ্টা করে যেতে হবে খোকা। থ্যানোস ও চেষ্টা করেছে অর্ধ্যেক এভেঞ্জআর দের হত্যা করে ব্যালান্স আনবে ইউনিভার্স-এ। পারেনি। ভূগর্ভে একটু এদিকওদিক হয়, ভূমিকম্প আসে, কিন্তু নড়াচড়া করে আবার স্থিতিশীলতা মাস্ট। উল্টিমেটলী ব্যালান্সের চেষ্টা। নইলে বাছা খেলাটা ভীষণ বোরিং।

- দাদা, ওই সংকটময় কৈফিয়ত ডিমান্ডের চাপের মুহূর্তে কি আর এসব তত্ত্বকথা মাথায় আসে!

- আনবে। আনতে হবে। আনা প্র্যাকটিস করবে। সময় খুব খারাপ মানি। গুগলে নিউটন সার্চ করলে এখন আর শান্ত-স্নিগ্ধ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট দৃশ্য আসে না। রাজকুমার রাওয়ের আঁতকে ওঠা ছবি আসে। তা বলে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। কণ্ঠ ও বেশি জোড়ে নয়। মনে মনে ভাবো "কফি উইথ করনে" বসে আছো। উস্কানি আসবে। ট্র্যাপ রেডি। পা দেওয়া যাবে না। গান গাও মনে মনে, আমি যামিনী, তুমি শশী হে। লিরিক্স টা মনে না পড়লে, মনে করার চেষ্টা কারো। একসময় দেখবে মেঘ কেটেছে। এইভাবেই চালিয়ে যাও ভায়া। আপেল কামড়ে বা কেটে। 

Friday, 30 November 2018

অশ্বিনীকুমার

রসিকবাবুর পেট ব্যাথা।
কখনো পেটের ডানদিকে, কখনো পেটের বাঁদিকে, আর কখনো একবারে সেন্টার অফ মাস।
সকাল থেকেই থেকে থেকে পেটে হাত দিয়ে,"ওরে ওরে ওরে" করে উঠছেন।
গিন্নী স্পাইডারম্যানের মতো হাত বাড়িয়ে এন্টাসিড সাপ্লাই দিচ্ছেন। বিকেলে "ওরে ওরে ওরে" র ভলিউম সঙ্কটজনক লেভেলে যেতেই পাড়ার ডাক্তারঠাকুরপোকে তলব দেওয়া হলো।

ডাক্তারঠাকুরপো - বুঝলে বৌদি, উল্টোপাল্টা খাওয়ার এতো বাজে স্বভাব রসিকদার। এইটে কন্ট্রোলে না আনলে তো সমস্যা হবেই। লোভ সামলানো কঠিন সাধন, সবাই কি পারে? নিশ্চয় গতকাল কিছু উল্টোপাল্টা খেয়েছিলো, ঠিক বলেছি বৌদি?

রসিকগিন্নী - না মানে  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - ব্যাস ব্যাস আর বলতে হবে না। আপনার চোখের সামনে কি আর খেয়েছে। নিশ্চয় বাইরেই গপাগপ সাটিয়েছে। উফ বৌদি সিঙ্গারাটা কি ভালো বানিয়েছো গো। আর দুটো হবে?

রসিকগিন্নী - হ্যা নিশ্চয়, এইতো নাও। বলছি যে, সমস্যাটা কি বলতো? এরকমতো আগে কখনো দেখিনি। ইদানিং তো ডায়েট করছেন, স্যুপ আর ভেজিটেবল ব্যাস  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - সেকি রসিকদা আর ডায়েট ! ধুস তুমি কি আর খেয়াল রাখছো আপিসে কি করছে? জানো না, মোড়েই বসন্ত কেবিন, এগোলেই পুঁটিরাম তারপর কত কি।

রসিকগিন্নী - এই ওকি, তুমি আঙ্গুল মটকাচ্চো কেন? তোমার আবার গালাগাল করার ইচ্ছে হলো নাকি? এরকম হলেই তো তুমি এরকম আঙ্গুল মটকাও। তোমার কি শরীরে খুব কষ্ট হচ্ছে? মাথা গরম করছো কেন? মানে ঠাকুরপোকে বলো না মাথা ঠান্ডা করে। উঠে বসবে? ও হ্যা বলছে মনে হয়। ও ঠাকুরপো একটু তুলে ধরো তো। কি বলছে বুঝতে পারছি না।

ধরাধরি করে রসিকবাবুকে তুলে ধরতেই রসিকবাবু কেটে কেটে সাড়ে চারটে গালাগাল দিলেন বজ্রনিনাদে। পঞ্চমটার বেলা গলাটা শক্তি হারিয়ে মিনমিন করে ফেলেছে। তাতে আরও রেগে বলতে শুরু করলেন, বেরো বাড়ি থেকে, আমার বাড়িতে এসে সিঙ্গারা গিলছে শুধু না, আমার পেট টিপে টিপে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে দেওয়ার জোগাড় করলো, তার ওপরে আমার নামে আবার উল্টোপাল্টা বকা!! বেরো বাড়ি থেকে এখুনি বেরো বাড়ি থেকে।

ডাক্তারঠাকুরপো - ঠিক আছে ঠিক আছে , ইয়ে এ এ এ এ এই যে রইলো ইয়ে তোমার সিঙ্গারা। খেলাম না পাঁচ নম্বরটা। এভাবে অপমান।

এই বলে পঞ্চম সিঙ্গারাটা ফুল ফোর্সে প্লেটে রাখতে যান ঠাকুরপো। সিঙ্গারাও অমনি ভার্টিকাল এক্সিসে স্পিন করে স্ট্রেইট রসিকবাবুর মুখে।
এহে এহে করে রসিকগিন্নী মুখ থেকে সিঙ্গারা বার করতেই দেখেন রসিকবাবুর মুখে হাসি।

রসিকগিন্নী - এএ ই কি হলো, লাগলো নাকি? হাসছো কেন? পাগল হলে নাকি?

রসিকবাবু- আরে দাঁড়াও দাঁড়াও, সিঙ্গারাটা মুখে ঠেসে ধরতো আবার।

রসিকগিন্নী - এ মানে?

রসিকবাবু- আরে ধরই না। আ আঃ আহা (গপ করে সিঙ্গারা গিলে) কি শান্তি কি শান্তি। আহা আহা কি শান্তি।

রসিকগিন্নী আর ঠাকুরপো চোখ বড়ো করে তাকিয়ে।

রসিকবাবু প্লেটে পরে থাকা ষষ্ঠ সিঙ্গারাটা মুখে তুলে নিয়ে বলতে লাগলেন, অবিচার করেছি এতদিন গিন্নী অবিচার। ডাক্তার আমাকে ক্ষমা করো। তুমি আজ আমাকে মহাপাপ করা থেকে বাঁচালে। সিঙ্গারার ওই টুপটুপে তেল আজ সাতদিন পর জিভে পড়তেই শরীরে কি শান্তি, কি স্বস্তি, কি আরাম। যেন জীবনের আসল মানে খুঁজে পাওয়া। এক বোধোদয়। জানলাম শরীরের প্রতি কি অন্যায় অবিচারটাই না করেছি। জিভ থেকে পেট সবাই অভিমান করছে। বুঝিনি। নেহাতই উপায় ছিল না তাই বিদ্রোহ করেছে। ডায়েট করেছি, স্যুপ খেয়েছি, সিদ্ধ সব্জি চিবিয়েছি। একের পর এক অন্যায়। কি পাপ কি পাপ। নাহ ডাক্তার আর নয়। গিন্নী তুমি অশ্বিনীকুমার হয়ে  ..... ইয়ে আরও কিছু সিঙ্গারা সাপ্লাই দিতে পারো? আভি ইসি ওয়াক্ত ? প্লিস?

Wednesday, 16 May 2018

গড়িয়াহাট এর মোড়ে

গড়িয়াহাট এর মোড়ে রক্তারক্তি কাণ্ড। 
রসিকবাবুর হাঁটুতে চোট, দোকানদারের থুতনিতে।
ভিজিটর দের কেউ কেউ হালকা আহত, কারও পা, কারও হাত, কারও নাক, কারও পেট। বাকিরা তীব্র মানসিক চাপে। 
চারিদিক থেকে চাপা উত্তেজনা। গজগজ। খসখস। ফিসফাস। ফোঁস ফোঁস।
ট্র্যাফিক পুলিশ চলে এসেছেন। 
বুঝলেন যে, গরমই ছিল। ফুলকোও বটে। আলুও চন্দ্রমুখী। নুন - চিনি যথাযথ।
তবু .......
কিছুক্ষন ভেবে হঠাৎ মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,
"আরে সমস্যা টা আগে বলবেন তো। আরে আমার বউ ভারী করিৎকর্মা। বাড়িতে লঙ্কা গাছ লাগিয়েছে। সারা বাড়িতে শুধু লঙ্কা আর লঙ্কা। দেখুন দেখি, ব্যাগে ও রয়ে আছে বেশ কয়েক টা। এতদিন বিরক্ত হতাম। এই আজ দেখি কাজেই লাগলো। সকাল ৬ টাতে কি আর এ জিনিস এখানে চাইলেই পাবেন? যা ডিমান্ড। এই যে নিন। (বলেই, পিঠের ব্যাগ থেকে বার করলেন একটি কচি সবুজ টসটসে কাঁচা লঙ্কা।) আরে নিন মশাই নিন, লজ্জা পাবেন ন ন না ..... এই একি এই কাড়াকাড়ি করবেন না .... এই একি.... কি হচ্ছেটা কি, একি লঙ্কা কান্ড!!"



Wednesday, 6 December 2017

লিস্টটা

বাপ মরা মেয়ে তাও আবার বয়স পঁয়ত্রিশ ছুঁইছুঁই। সে মেয়ের বিয়েটা ঠিকঠাক দিতে পেরে উমাজেঠিমা বেশ খুশি। আরও বেশি খুশি এইজন্য যে বিয়ের ১ মাসের মধ্যে মেয়ে তল্পি-তল্পা নিয়ে বাড়ি ফেরেনি। ঘন ঘন ফোন করেনি। যে কবার ফোন করেছে, শশুড়বাড়ির গুষ্টি উদ্ধার করেনি। আর  এতো কিছু করেনি বলেই, উমাজেঠিমা দারুন খুশি।
একদিন সকালে ছেলেকে ডাকলেন ঘরে।
- শোন বাবু, পিলুর বিয়েটা ভালোই হলো কি বল? শোন, একটা লিস্ট করেছি। তার মধ্যে টুকটাক জিনিসগুলো স্বপনকে দিয়ে আনিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু কিছু জিনিস আনতে হবে তোকে। কাল বিকেলের আগে একটু এনে দিস তো।
- সে এনে দেওয়া যাবে মা। দেখি কি জিনিস? লিস্টটা দাও  ..... ও এই টিক দেওয়া গুলো? আচ্ছা। য়্যা? মানে? হুঁকো? গাঁজা? মানে? মা?
- হ্যা আর ওই ইসে ....
- কি?
- ওই মদের মধ্যে কোনটা ভালো হবে রে?
- মানে? তুমি? মদ? গাঁজা? কিসব বলছো?
- কেন?
- মানে তুমি বলছো? তোমার চাই মদ?
- কেন? তুই আকাশ থেকে পড়ছিস যে? কি বলছি যেন বুঝতেই পারছিস না? রোজ রবিবার দরজা বন্ধ করে কি গেলা হয়, জানিনা নাকি?
- এ এই ইয়ে মানে  ..... না মানে আহা আবার আমার কথা কেন  .... আমি বলছি যে তুমি? মদ? মানে  ....
- মানে মানে করিস না তো। কোনটা ভালো হবে বল।
- ওই ওই ইয়ে, হুইস্কি।
- আচ্ছা আনিস ঐটাই। ব্যাস বিকেলের মধ্যেই আনিস কিন্তু। রাতেই বসতে হবে তো?
- (চিৎকার করে) মা গো, বলছি এমন কি হলো গো তোমার? এই রকম করছো। আমাদের কোনো ভুল হলে বলো একবার। কি হয়েছে তোমার?
- আরে, কি আবার হবে? "শিবঠাকুরের মানত" এর এবার রিটার্ন টাইম। শিবঠাকুরের পুজো হবে কাল। ওনার যা পছন্দ দিতে হবে না পুজোর সামগ্রীতে?

Monday, 20 November 2017

তুম তানা নানা

পরিস্থিতি হেবি থমথমে। জেঠুর মুখে কালি লেপে শ্রাবন্তীদি নাকি পালিয়েছে। কালি মুছতে সারা পাড়া উইথ পাড়ার ডাক্তার বাড়িতে হাজির। আমি আর দাদা স্কুল থেকে ফিরে খবর পেয়েই দৌড়ে কালি মোছা দেখতে গেলাম। কালি কোথায়! জেঠুর দিব্বি সেই ফর্সাটি। শুধু খাটে হেলান দেওয়া আর বুকে হাত। পাড়ার ডাক্তার বলছেন,"কালই ইসিজি করিয়ে নিন। কোনো নেশা নেই তো? এখনকার ব্যাথাটা আপনার স্ট্রেস থেকেই। বেশি চাপ নেবেন না" চারিদিকে সবার মুখ কালাপানির কয়েদিদের মতো। নিস্তব্ধতার কম্পেটিশন -এ পাড়ার দিদা-দাদুরা মাঝে মাঝে বাঁধ সাধলেও, মোটের ওপর একটা থমথমে ভাব ইন্ট্যাক্ট রাখতে সক্ষম হচ্ছেন সবাই। মাঝে মাঝে চপাট চপাট মশা মারার আওয়াজ। শ্রাবন্তীদির পালানো তবু সহ্য হবে,  কিন্তু ভয়ানক ডেঙ্গি? সে থেকে কে বাঁচাবে? কুঁইকুঁই করে জেঠু বলে উঠলেন,"কাছুয়া টা জ্বালাও না"
উপস্থিত সকলেই ঝটপট শশব্যস্ত হয়ে কাছুয়া খুঁজতে লাগলেন। পেলেনও। মুশকিল হলো, দেশলাই? নাই। জেঠিমার মুখ-এর পরিস্থিতি যা, তাতে বিনা দেশলাই-তেই আগুন লাগার সম্ভাবনা। তাই জেঠিমাকে কেউ ঘাটাতে চায় না। ঠিক এ অবস্থায়, দাদা বলে উঠল,"আরে দাদু, লাইটার তো তোমার পকেটেই"।

সবার মুখ এখন দাদার দিকে। ঠিক তখনি, কার মোবাইলে বেজে উঠলো,"আগুন লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন তুম তানা নানা নানা"

Friday, 18 August 2017

প্রতিযোগিতার নাম হলো .....

আরে ভায়া, বিকেলে পারফরম্যান্স, হ্যা হ্যা অন স্টেজ। তা সেলেব্রিটি সময়ের একটু আগেই এসে পড়েছেন। এসেই লাজুক মুখে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে একটু রেস্ট নেওয়ার প্রস্তাব রাখলেন। একে তো ওই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি তায় আবার জাস্ট একটু "বিউটি স্লিপ" এর রিকোয়েস্ট। কোনো অসুবিধা তো হয়ইনি। বরং আগে এসে পড়াতে স্টেজে ওনার সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিয়ে কোনো রকম চিন্তাই রইলো না। আপ্লুত হয়ে ক্লাব একটা বেঞ্চ ইসিলি এরেঞ্জ করলো। উনিও দিব্বি ওতেই ভালোভাবে এডজাস্ট করে নিলেন। একটু রেস্ট চাই বৈকি। যতই হোক পারফরমান্সটা তো তাতে আরও জমবে, কারণ শুনেছি ঘুমলে নাকি উনি নাকি আরও বিস্তারিত হন! সেও চাক্ষুষ দেখার সুযোগ রইলো। মানে একেবারে জমে দই .... মানে হতো। জাস্ট একটা মাইনর প্রব্লেম। উনি যখন সবেই বেঞ্চে নিজেকে বেশ কমফোর্টেবল করে, হেমা মালিনীর মতো ড্রিমগার্ল চোখটা বন্ধ করবেন, ব্যাস ..... ওনার মালিক হাজির! ভাবুন, ওই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি হয়েও ওনার ওপর হম্বিতম্বি করার এক মালিক আছে। কি দুঃখের কথা বলুন তো। তবে কি, ওনার এই এত্তোওওওওও বড়ো সেলিব্রিটি হওয়ার পিছনে ওনার মালিকেরই সমস্ত অবদান। তাই কিছু বলারও নেই। সেলেব্রিটির পুষ্টি-তুষ্টি-ইস্টি এমনকি সেলেব্রিটির সৃষ্টিও ওই মালিকেরই দয়ায়। তাই আর মুষ্টি বাগিয়ে ধরা হয়না মালিকের ওপর। মালিক লোকটা এমনি ভালো, কিন্তু এই সময় বিশেষে নিজেকে এমন প্রাধান্য দেন যে ওই সেলেব্রিটি ব্যাটাকে একদম পাত্তা দেননা। এমনিতে মালিক-সেলিব্রিটি এক আত্মা এক প্রাণ। কিন্তু কোথাও পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেলেব্রিটি আগে পৌঁছন। তা এই যে সেলিব্রিটি রেস্ট নিতে যাবেন বেঞ্চে, মালিক দেরীতে পৌঁছলেন। পৌঁছেই মালিক উইদাউট নকনক, ঠেলে গুঁতিয়ে ওই জায়গা নিজে দখল করলেন। বেদম ঠেলা খেয়ে সেলিব্রিটি বেচারা চোখ খুলে হড়কে একেবারে ঝুলে পড়ে-পড়ে। ভাগ্যিস ক্লাবের মেম্বারদের মধ্যে একজন ঘটনাটা একদম সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেয়েছে, সে তাড়াতাড়ি এসে সেলিব্রিটিকে দুহাতে তুলে ধরে। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষন বসে থাকবে। চিল চিৎকার করতে বাকিরাও এসে পড়ে। ওর ওই অবস্থা দেখে চটপট একটা তক্তা জোগাড় করে। তাতে এইযাত্রা রেহাই। আপাতত ওটাই ঠেকিয়ে রাখা। মালিক তো ততক্ষনে বেঞ্চে স্বপ্ন-সাগরে। গোলু-সেলিব্রিটি তক্তায়। ক্লাবের উদ্যোক্তারা আপাতত বিকেল অব্দি পর্যায়ক্রমে টহল দিচ্ছে। তক্তা সরলেই মুশকিল। মালিক-সেলিব্রিটি তো নিশ্চিন্তেই আছেন মনে হচ্ছে। ও আপনাদের প্রতিযোগিতার নামটাই বলা হয়নি, নাম হলো "ভুঁড়ি কত ভারী"।

Monday, 7 August 2017

"রাখী" তে কেউ "গুলজার" হচ্ছে না

আগের দিন যে চঞ্চল হাত গুলো "বাড়িয়ে দাও তোমার হাত আমি আবার তোমার আঙ্গুল ধরতে চাই" জানিয়েছিল, আজ তারা অদৃশ্য। অদ্ভুত তো!
"রাখী" তে কেউ "গুলজার" হচ্ছে না।
"রাখী" শুনলেই কেউ "পল পল দিল কে পাশ" ধর্মেন্দ্র হচ্ছে না।
উল্টে ছেলেগুলো সব ভাইরাস-এর মতো একেবারে নিকেশ হচ্ছে।
জন্মমাত্রই যদিও "রাখী" এন্টিভাইরাস-সম! ওই যে সংস্কৃত-তে রাখী শব্দের অর্থ "বন্ড অফ প্রটেকশন"। তাই .....
তা সে তো দুশমন-দমনে। শিষ্ট-দের ভয় কিসের? তারা পালাচ্ছে কেন?
ইতিহাস অনুযায়ী "রাখী" যত্রতত্র সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে। এই যেমন ধরুন যুদ্ধ বাঁধলো রাজা-স্বামীর সাথে অন্য রাজার। স্ত্রী টিং টিং টি টিং করে বুদ্ধি বাতলে ফটাং পাঠিয়ে দিলেন "রাখী", ব্যাস বরফ গলে জল। (কে বলে, বাঙালিরাই শুধু ইমোশনাল। শুধু নিজেদের ভাও বাড়ালে হবে, হে বাঙালি?)। তা সেসব তো সব ওই উত্তরভারতে। পূর্ব-পুরুষদের ওসব কান্ড দেখে তারা আজকাল জোরকদমে "ভাইয়া-মেরে রাখী কে বন্ধন কো নিভানা"। বেশ কথা।
কিন্তু দি গ্রেট বেঙ্গলে যারা রবি-ঠাকুর বলতেই মূর্ছা যান, তারাও কি করে তালে বেতাল হয়ে পড়েন শুনি? যেখানে রবিগুরু হিন্দু-মুসলিম বন্ড-এর উদ্দেশ্যে রাখী-বন্ধন উদযাপন করছিলেন, সেখানে? অবশ্য যতই তিনি করে থাকুক না কেন, তা তখনই বিভাজন রুখতে পারেনি। আর আজ তিনি যখন শুধুই বাঙালির বসার ঘরের "টেগোর" হয়ে আছেন, তখন আর .... উহু কোনো শক্ত শক্ত কথা নয়। সোমবার এমনি বড়ো একগুঁয়ে। তাই আল্টিমেটলি "রাখী" একটা বন্ড। জেমস বন্ড। মজবুত জোর। টুটেগা নাহি।
অতঃপর ছেলে-মেয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাখী কিনুন, রাখী পড়ান। শুধু ভাই-বোন কেন? আজ ওই রিক্সা-চালককে রাখী পড়ান না কেন? পাশের বাড়ির ঠাম্মাকে রাখী পড়ান না কেন? বয়-ফ্রেন্ড, গার্ল-ফ্রেন্ডকেও পড়ান। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে কেও পড়ান।
শর্ত একটাই।
কব্জির এপাশ ঘুরিয়ে সুতো ওপাশে নিয়ে যাবার সময়, জোরে জোরে বলুন, "ভালো থেকো, শুভ হোক"।
#রাখীবন্ধন #রাখী

Wednesday, 19 July 2017

জাগ্গা জাসুস

বলছি, বয়স কত? হাড়ের নয়। মনের? কিভাবে মাপবেন?
"জাগ্গা জাসুস" দেখে আসুন।
*****প্রথমেই বিধিমূলক সতর্কীকরণ, এলেখা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। একে বলা যায় "ধিতাং" লেখা।
"এহেড অফ টাইম" "নট ইভেন ইন্টেলেকচুয়াল" "বোগাস" "বিলো অ্যাভারেজ" ইত্যাদি শুনেই বা পড়েই গিয়েছিলাম "জাগ্গা জাসুস" দেখতে।
ফোর্থ ডে, লাস্ট শো।
ছবির শুরুতেই একটি বাচ্চার গলা, গানের মাধ্যমে জানাচ্ছে ডু'স এন্ড ডোন্ট'স। ওই মোবাইল-ফেসবুক ইত্যাদি বন্ধ রাখা, নাহলে ফিল্মে যা খিচুড়ি হয়েছে, সেটা গুলিয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। শুনে মুচকি হাসি এসেই গেলো অজান্তে। আরে সিরিয়াসলি। অনুরাগ বাসু আমার খুড়তুতো কাকুর জ্যাঠতুতো জ্যেঠুর মামাতো মামা বলেই কি বলছি নাকি? সিরিয়াসলি এলো। চুপচাপ ইন্টারনেট অফ করলাম। মোবাইল সাইলেন্ট করলাম।
ক্যাটরিনা গল্পকার, বাচ্চাদের কমিক বই থেকে গল্প শোনাচ্ছেন। কখনো কথা কখনো গান। গল্প নিয়ে যাচ্ছে এক সেট থেকে অন্য সেটে। সেখানেও গান-নাচ। বুনিয়াদে আসলে রহস্য উদ্ঘাটন। নামেই সেটা স্পষ্ট। "জাসুসি" তো থাকছেই। মোট তিনটে অনুসন্ধানী বা গোয়েন্দা গল্প, পাশাপাশি জাগ্গা-গোয়েন্দার নিজস্ব জীবন কাহিনী নিয়েই এই মুভি। মোটামুটি সবাই এটিকে "মিউজিক্যাল ফিল্ম"ই বলছেন। কারণ সংলাপ-এর বেশিরভাগই গানে গানে। তিন ঘন্টার সিনেমাতে তাহলে কত গান হতে পারে, কল্পনা করুন। অদ্ভুতভাবে অসংখ্য সে গানের সবকটাই আমার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অদ্ভুত নয়? কন্সিস্টেন্সি রাখতে পারাটা কি চাট্টিখানি কথা?
তা হঠাৎ খামোকা সব গানে-ভুবন-ভরিয়ে-দেব কেন? লজিক হ্যায়। "জাগ্গা জাসুস" তোতলা, মানে একটু নয়, বেশ ভালো রকম। গানে গানে কথা বললে ব্যাপারটা নাকি স্মুথ হয়ে যায়। ওই মিউসিক ডিরেক্টর প্রীতমের নিজস্ব এক্সপেরিন্সও তাই। ওর ইন্টারভিউতে এ কথা বহুবার শুনেছি।
যদিও খুব কম জায়গায়, তথাপি, "গলতি সে মিস্টেক" হয়েছে। "জাগ্গা জাসুস" ভুলে গেছে সে তোতলা আর ফ্লুয়েন্টলি কথা বলে ফেলেছে। আমি ব্যাপারগুলো ইগনোর করেছি। এ ঘটনা এক্সসাইটমেন্টে হতে পারে বলে ধরেছি। হয় জগ্গার এক্সসাইটমেন্ট বা হয়তো অনুরাগ বাসুর।
হাতি-জিরাফ-বাঘ-গুহা- হিরোর চুলের স্টাইল সবই এলো পর্দায়। তাতে একটু বেশ টিনটিন এ ফিরে যাওয়া হলো। পুরুলিয়া, আসাম হয়ে, মরক্কো পৌঁছলো। আসামের বিহু হলো। "নাইফ থ্রো" হলো। "গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা" হলো। "শুন্ডি" হলো। কলকাতার "ইয়েলো ট্যাক্সি" হলো। “শাশ্বত-রজতাভ” হলো। মানে বাঙালিদের জন্য এক্সট্রা মাখো-মাখো, যেটা অনুরাগ বাসুর মুভিতে না পেলেই বরং মন খারাপ, সে সব একদম জোরকদমে ছিল। আর সেই একই কারণে অবাঙালিরা বেশিরভাগই গালি দিয়েছেন। গানে গানে গল্প বলে অনেকেই হাই তুলেছেন। হাতির মাথার ওপর চেপে বিয়াল্লিশ তলা থেকে ঝাঁপ মেরে আবার লাফ দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে কাঁখে করে সোজা বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া টাইপ "সিম্পল" সিনেমাটিক কিছু নেই বলেছেন। তার ওপর আবার বাঙালিদের নিয়ে বাড়াবাড়িটা, "আগুনে ড্রপিং ফ্রেশ ঘি"। আমার কথা হচ্ছে, আইডিয়াটা এদেশে নতুন। সেইটা মানতে হবে ভায়া। শুধু একটাই ইয়ে ইয়ে ব্যাপার। বেশ কয়েকবছর আগে একটি হলিউড মিউজিক্যাল ফিল্ম "দি সাউন্ড অফ মিউসিক" দেখেছিলাম। সেটি সাধারণ একটি গল্পকে অসাধারণ করে তুলেছিল শুধুমাত্র মিউসিক ছিল বলে। মিউসিকের সব লিরিক্সের মানে বোঝা না গেলেও গল্পটা সিম্পল বলে কোনো ঠোক্কর খেতে হয়নি। এবার "জাগ্গা জাসুস" যেহেতু ডিটেক্টিভ তাই প্রতিটি শব্দ-বাক্য পরিষ্কার শোনা বা বোঝার প্রবল চেষ্টা ছিল, তা যাচ্ছিলোনা মিউজিকের জন্য বা ছন্দের জন্য বা স্পীডের জন্য বা আমার ব্রেনের সিগন্যালের জন্য। ঐটাই যা.... কিন্তু তা রসে ব্যাঘাত ঘটায় নি। বরং দুটো গান বেশ মনে ধরেছে। সোশ্যাল মেসেজ দেওয়া,"কিষান সুইসাইড কর রাহা হ্যায় তো হামারা কিয়া, হাম তো নিম্বু মির্চি লাগাকে সেফ হ্যায়।" অন্যটি,"জিনা তো উনহিকা জিনা কাহালায়া, জোভি বিনা চু চা কারকে, খাকে-পিকে চলে গায়ে।"
না না এতো কিছুর পরেও এটা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। আসলে লোকজন বলছে প্রচুর জায়গা থেকে নাকি কপি-টপি হয়েছে। আমার কাছে যুক্তিগুলো একেবারেই ধোপে টেকার মতো না। বাঙালির ইমোশনগুলোকে ইঙ্গিতে রেখেছেন সারা সিনেমা জুড়ে, হ্যা তা বলতে পারেন। তাতে তো বাঙালিদের খুশিই হওয়া উচিত। বাঙালিমুভির যা হাল ৮০-এর পর থেকে, এই অনুরাগ, প্রীতম এরাই তো আবার একটু হাল ধরছেন। বাঙালিদের তাতেও প্রব্লেম। রাবণের চেয়ে বিভীষণ মার্কেটে বেশি। যাই হোক রিস্ক নিয়ে এতো সুন্দর একটা প্রজেক্ট করার জন্য পুরো টীমকে হৃদয়মার্কা ইমোজি।
আর ইয়ে সৌরভ শুক্লা ভদ্রলোককে আবারো প্রণাম।

Thursday, 1 June 2017

সিলভার লাইন

- দিন কাগজটা এদিকে দিন। এটা পেলেন কোথায়?
- বালিশের পাশে। এতে যে শব্দ গুলো আছে, এরা আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ......
- ও। তা কে দিলো এটা আপনাকে?
- ওই সেইটাই ঠিক মনে করতে পারিনা! উফ খুব কষ্ট হয় মনে করতে .....
- ঠিক আছে, ঠিক আছে, দেখি কি লেখা আছে, সাংসারিক আলাপ?
- ওই আর কি, আল্টিমেটলি অন্যের ছেলে মার্ক্স কম পেলো কিনা সেইটাই লক্ষ্য আর তাতেই মোক্ষ।
- খাতির?
- শুধু যদি ব্যাকগ্রাউন্ড সলিড থাকে। ভালো কানেকশন বা টাকা। অন্ততপক্ষে ভালো বংশ। নাহলে কে তুমি বাবা শান্তিগোপাল?
- ডাঙ্গুলি লাঞ্ছিত ছেলেবেলা?
- জানি জানি, প্রতিদিন দুপুরে আমার অপেক্ষা করেছে। প্রতারণাটা আমিই করেছিলাম। ইঁদুর দৌড়ের নেশার কাছে সব তুচ্ছ মনে হতো। তবু সেতো ছেলেবেলা।
- ড্রেনমগ্ন শব যার পিঠে সতেজ উদ্ভিদের মতো ফুটে রয়েছে অমোঘ একটা ছুরি?
- এ থেকে রেহাই নেই। নোংরা-পঁচা গন্ধটা অনেকদিন থেকেই একটু একটু করে বেড়েছে। আমি বলেছিলাম বুল্টিকে, মাধবীকে, চয়নকে, সান্টুকে, কোকিলকে, পলাশগাছটাকে, সাক্সফোনটাকে, গানের সুরগুলোকে, সকালকে মানে প্রায় সকলকে। কেউ গন্ধ পেতো না। তারপর যখন ছুরিটা দেখা যেতে থাকলো, সবাই যন্ত্রনাটা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করলো, তখন গন্ধটাও টের পাচ্ছিলো। কিন্তু উপায় কি? এভাবেই চলতে হবে। সবাই জখম। ওষুধ কোথায়? শুধু রাতে একটু হাত বোলানোতে কি প্রচন্ড শান্তি।
- আকাশচারী কেরানি?
- ওহ।
- কি হলো?
- এভরি ক্লাউড হ্যাস এ সিলভার লাইন, ডাক্তারবাবু। শনিবার রাতে ফ্লাইং শসারটা নামে যখন ছাতের ওপর। ডাঙ্গুলি টাকে সাথে নি। বুকটা এমন ঢিপঢিপ করে যতক্ষণ না আসে। ঠিক আসে নিয়মাফিক। উঠে যাই ওতে আর .... মহীনের ঘোড়াগুলি টেনে নিয়ে যায় ফ্লাইং শসারটাকে। কি হলো ডাক্তারবাবু চললেন কোথায়?
- আসছি একটা ফোন করে। (ঘর থেকে বেরিয়ে) হমমম আপনার বন্ধুর মেন্টাল ডিসর্ডারটাই ..... বুঝলেন। একটু চিকিৎসার দরকার আছে। আজ এডমিট করে যান ..... ওই দেখুন উনি চেঁচাচ্ছেন। কন্ফার্ম করুন। আমি বলে দেব টীম এখুনি ওনার ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেবে।
- (ঘরের ভিতর থেকে) ও ডাক্তারবাবু ..... আরে ও ডাক্তারবাবু .........
আমরা যাইনি ম’রে আজো -তবু কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়,
মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে। .....

(নিচের ছবিটি ১৯৭৮ সালের মহীনের ঘোড়াগুলি বাংলা ব্যান্ডের দ্বিতীয় অ্যালবামের (অজানা উড়ন্ত বস্তু বা আ-উ-ব)।ভারতের সর্বপ্রথম রকব্যান্ড।)





Sunday, 14 May 2017

স্ট্রেইট লাইনটাই একমাত্র রাস্তা

- হ্যা হ্যা স্ট্রেইট লাইন। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। 
- তুমি কি করে একথা বলছো সেনদা? তুমি কি দেখেও দেখছো না? তুমি দেখছো না এ রূপকথার রাজ্য। বাস্তবে অথচ কিচ্ছু নেই, ফক্কা। কিন্তু সবাই ভাবছে, আছে। মানে জানে যে নেই, তবু জোর করে নিজের ঘাড়কে দু হাত দিয়ে চেপে ধরে বোঝাচ্ছে যে এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব। দুষ্টু লোক, রাজকুমার আর রাজকন্যে এই নিয়েই আজকের বায়োস্কোপের এসেসমেন্ট। বাস্তব কেউ বলেনা। সুড়সুড়ি দিয়ে কান্না? আছে। সুড়সুড়ি দিয়ে হাসি? তাও আছে। নেই শুধু প্রাণ। আত্মারাম নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে নাকি তাকে হিপ্নোটাইসড করা হয়েছে বলতো? কোথাও মনে হয়না- এই তো আমার গল্প। থিয়েটারে তবু আজকাল একটুআধটু … কিন্তু ফিল্ম? শুধু ভাবাবেগময় একটা ক্লান্তিকর গতি। রূপকথা দিয়ে খিদে মেটে? জ্বালাটা শান্ত হচ্ছে না যে। কেউ আঙ্গুল তুলে বলে না,"রাজা, তোর কাপড় কোথায়?" 
- তা সে আমাকেও লোকে অভিযোগ করতো। আমি নাকি বড্ডো ডিরেক্ট। আমার তবু মনে হতো, আই মাস্ট মেক এ পয়েন্ট। কিন্তু মাঝে মাঝে নিজের বিশ্বাসেই তো মনে হতো যেন হালকা ফাটল..... 
- তবু তো তুমি যা দেখাতে সেটা রিয়ালিটি ছিল। বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে, সময়ের সাথে, ম্যাচুরিটির সাথে। কিন্তু সেই ফাটল টাও তো লুকোও নি। আল্টিমেটলি ভণ্ডামিকে তো প্রশ্রয় দাওনি। ভণ্ডামি তো আজও আছে। বাস্তবে প্রতিবাদের অক্ষমতা থাকতে পারে। তাই সেখানে না পারলেও, ছবিতেই তো সে ভণ্ডামিকে নেকেড করা যায়, যেমন তুমি করেছো। না হলে কিসের আর্ট?
- আমার সময় উন্মত্ততা ছিল। 
- আজ নেই বলছো?
- আছে, কিন্তু মানুষ অনেকদিন যুদ্ধ দেখেনি। ভিতরে লড়ে চললেও অনেকদিন বাইরের লড়াই না দেখে দেখে মানুষ ভীতু হয়ে গেছে। মানুষ বড়ো ভয়ে আছে।
- আমার মাঝে মাঝে কান্না পায় সেনদা। দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় আর পারবো না। 
- সেই জন্যই তো স্ট্রেইট লাইন। যা দেখছিস তাই এঁকে দে। একদম স্ট্রেইট। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। "আজ" নিয়ে ভাব। দেখবি তোর পরের প্রজন্মও ছবি দেখে বলছে - এই তো আমার গল্প। আসলে সময় বদলায়। কমোডিটি বদলায়। মধ্যবিত্ত বদলায় না। সমস্যা বদলায় না।বুর্জোয়া অপরিবর্তনীয়।

(14th May জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন শ্রী মৃনাল সেন।)



Wednesday, 3 May 2017

"কায়নাত" কি "কৌশিশ"

"কেহতে হে কি কিসি চিজ কো আগার দিল সে চাহো, তো পুরি কায়নাত উসে তুমসে মিলানেকি কৌশিশ মে লাগ্ জাতি হে।"

ইয়ে মানে ডায়ালগ টা সঠিক। এতদিন বুঝিনি। কাল বুঝলাম জানেন। বাহুবলী দেখতে গিয়ে জীবনে প্রথম তা মর্মোদ্ধার করলাম। সিনেমা দেখতে গেলে আশেপাশের পরিবেশ আপনাকে শুরু থেকেই ট্রেলার দেখাতে থাকে। না হলে সিনেমার মাহাত্ম্যর মাইলেজে ঘাটতি পড়ে। 
যেমন ধরুন নতুন সিনেমা আসছে, পোস্ত। বাড়িতে দেখলেন, ইয়েস, লাঞ্চে আলুপোস্ত। বেগম জান দেখতে যাওয়ার আগে একটু বৌকে জড়িয়ে ধরে হঠাৎ বলে উঠলেন,"আন বান শান, তুমি বেগম জান" বা ঐরকম পেটি কিছু ছড়া। 
ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস এর ক্ষেত্রে সংসারীরা একটু গুণে দেখবেন সারাদিনে কতবার ফিউরিয়াস হয়েছেন। অন্যদিনের তুলনায় একটু যেন বেশি না? হে হে হতেই হবে বাওয়া। নাহলে বুঝবেন, আপনি সিনেমাটির প্রতি সুবিচার করেননি। আপনি মুভিটাই ডিজার্ভ করেন না। 
এবার আসি বাহুবলীর কথায়। সিনেমা যেহেতু বাহুবলী। একটা অ্যাকশন-অ্যাকশন.... আর সেখানেই যত সমস্যা। মানে আমি শান্তিপ্রিয় তুলসী চক্কোত্তি। তা বলে কি আমাদের কি বাহুবলী দেখতে নেই? ভয়ে ভয়ে আছি, "কায়নাত" কি "কৌশিশ" করছে কে জানে। রিলিজ করার পরের দিন। সিনেমা শুরুর পনেরো মিনিট আগেই সিনেমাঘরে পোঁছলাম। ভিড় এভোয়েড করতে নিজের যথেষ্ট স্মর্টনেস ব্যবহার করে বাইরেই কিছুক্ষন দাঁড়ালাম। ভাবলাম সবাই ঢুকে গেলে ধীরে ধীরে এন্ট্রি নেওয়া যাবে। স্মার্ট আইডিয়া। শো শুরু হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে ঢুকতে গিয়ে দেখি, ভিড়ের পরিমাণ তো কমেনি উল্টে বেড়ে গিয়েছে। কানটা খাঁড়া করতেই বুঝলাম, শো অনিবার্যকারণবশতঃ পনেরো মিনিট ডিলেইড। আর শুনেই পিছন ফিরতে গিয়ে দেখি,জনঅরণ্য। আমি-পেরেক, গর্তে ঢুকে প্যাঁচ খেয়ে গেছি। এবার হাতুড়ি ঠোকা খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর কি, দরদর করে ঘাম, জায়গা-অজায়গায় চুলকুনি, ঘাড়ের কাছে গরম-পিঁয়াজি নিশ্বাস। অনুভব করলাম। মন দিয়ে। পিছনের মহিলা তার পাশের শ্রেষ্ঠতর-অর্ধ্যেকের (বেটার হাফের) কাঁধে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। তিনি বুঝতেও  পারছেন নাকি যে নিজের সাথের ঢাউস ব্যাগটার নাইন্টিটু পার্সেন্ট আমার বাহুর ওপর? আমি বাহুবলী নই ম্যাডাম। বুঝলাম "কায়নাত" ইস নাউ ইন অ্যাকশন। এই মুহূর্তে কোথা থেকে অসময়ে এসে "চ্যালেঞ্জ" গোত্তা মারলো, ব্যাস আর তো হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না। অপেক্ষার একেকটি সেকেন্ডে মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষের টিকি দেখার অপেক্ষা। যেই না দরজা খুলবে, সে সময় কোন স্ট্রাইকটা যথোপযুক্ত হবে, তার প্ল্যান ছকে নেওয়া চলছে। আসে-পাশের সবার মুখ দেখি গম্ভীর। কেউ হাসছে না, কথা বলছে সিক্রেট মিশনের এজেন্টদের মতো। সবার নজর মাছের চোখে। ভাবলাম শত্রুকে ডাইভার্ট করি। বলে উঠলাম আচমকা,"বিচ্ছিরি গরম ভাই। কি করছে এরা। কখন যে খুলবে। পশ্চিমবঙ্গের টাইমসেন্সটা নিয়ে কোনো বিপ্লব যতদিন না হচ্ছে  ....." পিছন থেকে একজন বলে উঠলেন,"মশাই, এই গরমে চুপ করে থাকুন না প্লিস। আর না হলে কিছু নতুন বলুন। গান শোনান। বাজে কথা বলাটাও একধরণের পলিউশন জানেন, বাকদূষণ"। ড্যাম!! বুঝলাম সবাই কনসেনট্রেট করতে চাইছে। শত্রুপক্ষ অনেক বেশি প্রিপারেড। আমি এমনিতেই পিছনের সৈন্য। কালচক্রে এইমুহূর্তে আবার অভিমন্যু স্টেটে। অসহায় বোধ করছিলাম ভীষণ। অপেক্ষার আরও পাঁচ মিনিট। এইই দরজা খুলল। ব্যাস। আক্রম..... ণ। বাহুবলী ১ এর কিছু দৃশ্যের কথা মনে করে একটু ঝুঁকে, তীরের ফলের মতো মুঠো বন্ধ করে যেই না এগোবো, হঠাৎ কোমরে বেদম জোরে গুদুম। পাশের মহিলার কনুইয়ের সফল লক্ষ্যভেদ আমার কোমরে, বুঝলাম অফেন্সিভ খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই সময়ে, কেউ আমার চোখের ওপর রুমাল ঝাড়লো। ডেন্জার। মানে দল বেঁধে নেমেছে। আমি রিস্ক না নিয়ে "কাটাপ্পা পা পা পা" বলে ছুটলাম এলোপাতাড়ি। হে হে কাটাপ্পা-নামের মহিমা কম? দেখলাম হলের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। এবার শুরু অন্ধকারে সিট্ হাতড়ানো। কোনোরকমে নিজেরটা খুঁজে বসা গেলো। মনে হলো ব্যাস এবার বোধহয় "কায়নাত" বাবুও বাহুবলী এনজয় করবেন। ও হরি, সে গুড়ে বালি। বাহুবলী সিনেমা বলে কথা বাওয়া, তাই মহাধামাকা "কৌশিশ" টাও যথোপযুক্ত হবে সেটা এক্সপেক্ট করা উচিত ছিল। হঠাৎ চিল-চিৎকার সাথে বেদম সিটি। একের পর এক। সিনেমা শুরুর প্রথম দশ মিনিট কানে তালা ছিল। যতবারই বাহুবলীর স্ক্রিনে আগমণ, ততবারই চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী উড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী নাচছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী চোখ নাড়ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। বাহুবলী কোপাচ্ছেন, চিল-চিৎকার-সিটি। সামনে-পিছনে সর্বত্র। এতক্ষনে অস্ত্র নামিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু যুদ্ধে হার নিশ্চিত। আমি আত্মসমর্পণ করেছি। তুলসী-চক্কোত্তি- আমি ক্ষেপটি মেরে বসে রইলাম বাকি সময়টা। আর অনুধাবন করলাম বাহুবলী কে বড্ডো বেশি "দিল সে" চাওয়া হয়ে গিয়েছে। নেক্সট টাইম একটু কেয়ারফুল থাকতে হবে।

P.S.সামনের সিটে বসে (বা উড়ে) থাকা "চিল-চিৎকার-সিটি" গ্রূপের যে লিডার ছেলেটি, চেহারাতে তিনি লাঠিকে কম্পেটিশন দেন। কিন্তু গলার জোরে নয়। মাঝে কোনো বিশেষ ফোন আসাতে তিনি একটু দিকভ্রান্ত হলেও শেষ অব্দি গলা জোর অটল ছিল। ওনার সাথে একটু আলাপ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সিনেমা শেষ হতেই উনি লুচি-মটনের মতো মুহূর্তেই অন্ধকারের পেটে অদৃশ্য হলেন। হোয়াট এ মিস।

Saturday, 29 April 2017

প্রসাদ

- মানে? ইয়ার্কি নাকি? টাকা দেবেন না মানে? মামদোবাজি?
- (আঙুলে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চাটতে চাটতে) ইয়াম মানে... ইয়ে চেঁচামেচি করছেন কেন। এটা আপনার দোকান?
-হ্যা। না হলে বলছি কেন? টাকা বার করুন ফটাফট।
-আরে দাঁড়ান মশাই। আপনার ব্যবসা এটা?
-আলবাত
-শুনুন, ঠাকুমা বলতেন বুঝলেন (আঙুলে লেগে থাকা মাংসের ঝোল চাটতে চাটতে)
-মশাই ঝোল চাটা বন্ধ করুন। কি বলতেন আপনার ঠাকুমা?
-বলছি বলছি। ঠাকুমা বলতেন," মন্দিরে চেঁচামেচি করতে নেই। দেবতা অসন্তুষ্ট হয়।"
-অ। মানে? কি? হঠাৎ দেবতা-মন্দিরের প্রসঙ্গ কেন?
-ওই দেখুন। ধর্মে কর্মে একেবারেই মন নেই দেখছি। ওই যে পিছনে লিখে আটকে রেখেছেন, সে কি লোক দেখানো? লোক দেখানো ধর্ম আমার একদম পছন্দ নয় বুঝলেন। আজকাল যা সব.... যাক ওসব কোথায় কাজ নেই। আসল কথা হলো, আপনি ব্যবসায়ী, আপনার মন্দির এটা। আমি দেবতা। এবার আপনি নিশ্চয় জানতে চাইবেন, আমি সন্তুষ্ট কিনা। তা রান্না আমার খুব খারাপ লাগেনি। শুধু মাংসে একটু আজিনোমোটো দিলে জমে যেত। আর রুটি পাতলা করে বেল্লে বেশ একটু তুলতুলে ভাব আসতো। রুমালি রুটির অপশনটাও তো রাখতে পারেন।
-থামুন। ইয়ার্কি মারার জায়গা পাননি। আটত্রিশটা রুটি খেয়ে দুটো মাংসের প্লেট গিলে, ন্যাকামো হচ্ছে? তুলতুলে নয় তো গিললেন কি করে?
-আহা একেবারেই মন্দ হয়নি। কিন্তু ইম্প্রোভমেন্টের জায়গা রাখবেন না তা বলে? শুনুন রান্না একটা শিল্প। আর শিল্পে ইম্প্রোভমেন্ট না থাকলে স্যাচুরেশন এসে যাবে যে। তাহলেই দেবতা রুষ্ট হবেন। মানে কাস্টমার। আর শুনুন বাড়িতে পঁচিশটা খাই। তাই আটত্রিশটা ওয়াস টাফ। কিন্তু শুধুমাত্র আপনার মুখ চেয়ে আমি জোর করে ঠুসে ঠুসে খেলাম।
-জোর করে ঠুসে ঠুসে? আমার ছেলেগুলো দৌড়ে দৌড়ে যোগান দিতে দিতে পাগল হয়ে গেলো। আর আপনি কি ঢপের কথা বলছেন? পাগল আপনি?
-কেন, পাগলের কি আছে? আপনিই তো লিখে রেখেছেন? পরিশ্রম আমার পূজা। তা আমাকে কি আপনার এমন অমানুষ মনে হয় যে একজন মনখুলে মন্দিরে পূজা করতে চাইছে আর আমি দেখেও তা অদেখা করবো? একটু সাহায্য করবো না? তাই.....
-আরে মশাই। আপনি আমাদের পাগল করে দেবেন যে। ওইটাতো কাল বৌ এসে কোথা থেকে এনে লাগিয়ে গেছে। দেওয়ালের ওই জায়গাটা খোবলানো ছিল, ঐটাই চাপা দিতে … যাতে দেখতে ভালো লাগে তাই। শুনুন, এখন কাস্টমার আসার টাইম। ঝামেলা করবেন না। চুপচাপ দিয়ে দিন।
-হ্যা এই তো। একেবারে কড়কড়ে। 
- (হেসে) দিচ্ছেন? ব্বাবা, বকালেন বটে। দিন দিন। দিয়ে দিন।

-আরে কি যে বলেন, না দিয়ে যাই কখনো। এএএই এএএই ......... এই যে আমার হাত রইলো তোমার মাথায়। আর আমি বলছি, আমি খুব সন্তুষ্ঠ। তোমরা যে পরিপাটি করে পূজার আয়োজন করেছো। তাতে আমি খুব খুশি। ব্যাস প্রসাদ পেয়ে গেলে। চলি তাহলে। ওহ হ্যা বলছি যে, আজকাল কি সব সেলফি টেলফি হয়. তুলতে পারেন আমাকে নিয়ে। যদি টদি আপনাদের টাপনাদের কাজে টাজে লাগে টাগে। ওই হয়তো নেক্সট দেবতার সামনে রেফারেন্স হিসেবে … এই এএএই একি পড়ে গেলেন যে। ওরে বাবা একি পরম ভক্ত রে আমার, সাষ্টাঙ্গে টাস্ট্যাঙ্গে দরকার নেই রে পাগল। আমি এতেই খুশি রে। ওকি সাড়া নেই কেন..... কি হলো?

Tuesday, 25 April 2017

হাঁস ত্যাগ

দাদা- বুঝলে ভাই, হাঁস ত্যাগ করলাম

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - সেকি রোস্টেড প্রিপারেশনটা তো মারাত্মক ছিলো, বৌদির হাতেই তো প্রথম খেলাম। বৌদি, দাদা কি পাগল হয়ে গেলেন নাকি।

বৌদি (কোমড়ে হাত দিয়ে ভুরু কুঁচকে দাদার দিকে শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে)
(থতমত দাদা)- মানে আমি তো ফেসবুকএ যাস্ট  .....

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো- আবার ফেসবুকেও জানাচ্ছেন নাকি এসব। আরে বাবা প্রোটিনএর দিকটাও যদি দেখেন, তাতেও তো হাঁস এগিয়ে চিকেনের থেকে, বৌদি আপনিই বলুন তো। 

বৌদি (শ্যেনদৃষ্টি এখনও) - গতমাসে বুড়ির জন্মদিনের দিন যে বললে, হাঁস-আইটেমটা তোমার খাসা লেগেছে! তবে কি শুনছি এসব হ্যা?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - তবে। তাছাড়া আপনি না খেলে বৌদি কি আর শুধু নিজের জন্য রাঁধবে! তাছাড়া বৌদিরও তো প্রোটিন দরকার নাকি এই বয়সে। (বিড়বিড় করে) আর আমাদের জন্য!!!!

(এখনও থতমত দাদা)-কি যে হচ্ছে একেবারে ধরতে পারছি না যে ভাই। কি রাঁধবে ভাই?

বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো -আরে ধুর বাবা, ওই যে বললেন হাঁস। ত্যাগ করলেন যে!

(এইবার ধাতস্ত দাদা)-না না হাঁস না হাঁস না। হাঁস ছাড়া যায়। ঐটা তো মানে সত্যিই 
তোমার বৌদির ওতে জুড়ি নেই। আমি তো হ্যাস ট্যাগএর কথা বলছিলাম। নতুন শিখলাম ফেসবুকে। 

বৌদি (লুকিয়ে মুচকি হেসে)- বুড়োর ভীমরতি যত্তসব।


বৌদি ভক্ত ঠাকুরপো - ও হরি। মশায় পুরো দিয়েছিলেন একেবারে টেনশনে ফেলে। বলছি কথা যখন উঠলোই, হবে নাকি কাল? নিয়ে আসবো নাকি দাদা আজ?

Wednesday, 19 April 2017

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়?

পকেটমারাটা কোয়ালিফিকেশন নয়? কোয়ালিফিকেশন নয় পকেটমারাটা?

কোন পকেটটা টার্গেট, দূর থেকে সেটা পরিমাপ করা। বাসে-ট্রামের দুলুনি সহ্য করা, লোকের ঘাম-বগলের গন্ধ সে সব তো ছেড়েই দিন। লোকজন নাকি ডিও মাখে। ধুর ধুর খুব খারাপ কোয়ালিটি। ডিও কোম্পানিগুলোর উচিত আমাদের থেকে রিভিউ নেওয়া।

সে যায় হোক, পকেটমারের ঝক্কি জানেন? পকেটের পিছনে সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষকে কমফোর্ট দেওয়া। ভিড়ে ওই মসাজ খেয়ে যখন তারা মোটামুটি নিরূপদ্রব নিয়ন্ত্রণাধীনে, তখন বকশিস হিসেবে ঐটুকু আর এমন কি। তাতেও তো ঠকে যাই, মশাই। একে তো ওই মানিব্যাগগুলো সব চাইনিজ মাল, তার মধ্যে ক্যাটরিনা কাইফের দাঁত কেলানো ছবি, দশ টাকা, দাঁত খুচানোর কাঠি। এই সব দেখলে মটকাটা একেবারে.... একবার তো পেলাম পাঁচশো টাকা। পেয়েই মনে হলো, যাক আজ পিঙ্কিকে নিয়ে আটটা-এগারোটার একটা শো ঠুকে দেব। শ্লা, জানলাম টাকাটাই নাকি এখন অচল। সে টাকা ভাঙাতে লাইন-টাইন দিয়ে মাইরি, খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে গেলো। মোবাইল ফোবাইল ছুঁই না। ও সব সালটানো খুব মুশকিল। মেয়েদের ব্যাপারেও হেভি রিস্ক। তাই ওব্যাপারে কোনোদিনই সাহস করিনি। তাছাড়া ওদের গলায়-কানে আজকাল যা সব আইটেম, ও সব দেখে ওদের জন্যই মায়া হয়। এক একবার মনে হয় ডেকে বলে দি, "দিদিমনি গলা-ঘাড়টা তো আপনার কালো হয়ে যাচ্ছে, ওসব বাজে কোয়ালিটির মাল পড়বেন না". তবে মেয়েদের মুডের ঠিক নেই তো, কিসে কি হয়, সেই ভেবে আর সাবধান করতে যাইনি।

আচ্ছা সবই কি খারাপ করি বলুন? এই মানিব্যাগগুলোর যা একেবারে জরাজীর্ন অবস্থা, পকেটমার হওয়ার পর যখন ভদ্রলোক নতুন আরেকটা কেনেন, মনটা কিরকম খুশি খুশি লাগে বলুন তো? সেদিন তো মানিব্যাগের সাথে একটা চিঠিও পেলাম। মাফ করবেন, পড়ে ফেলেছি, হে হে। ওতে যা পড়লাম তাতে বুঝলাম, বৌয়ের হাতে ওই টিনা-ময়নার চিঠি পড়লে, ভদ্রলোক খবরের কাগজের হেডলাইন হতেন। ভদ্রলোকটিকে কিরকম মারাত্মক বিপদ থেকে বাচালাম, বলুন। হয়তো, ওই ভদ্রলোকের খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হয়ে যেত, সে রাতে বাড়ি ফিরে পকেটমারির গল্প করতে করতে, বৌয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন, তখন হয়তো আর ডিভোর্সের কথা ভাবতে ভালো লাগছে না তাদের।

আর এদিকে আমার কাছে বরং চিঠিটা সেফ। পিঙ্কিকে চিঠি লেখার একটা ইনস্পিরেশন কপি হিসেবেও রইলো। আমার তো আর কাব্য ফব্য আসে না। এইসব লিখলে পিঙ্কি হয়তো খুশি হয়ে উঠলো। সারাদিনের ঘাম, দুলুনি, ঠেলাঠেলি, মার্ খাওয়ার টেনশন, এসবের পর শুধু ওই ওর হাসি মুখেতেই তো সব জমা-খরচ ডেবিট-ক্রেডিট মিলে মিশে কিরকম যেন .... মম..... কিরকম যেন লাল-মার্কা তীর-চালানো-দিল হয়ে যায়।


Wednesday, 12 April 2017

ভয়ঙ্কর টুপি

টুপি। ওহ অমনি মাঙ্কি ক্যাপ ভাবছেন? তা অবশ্য ভাবতেই পারেন। সে বাঙালিদের এক্কেবারে নিজস্ব কিনা। ন্যাপথলিনের গন্ধে জড়ানো আলমারির শেষ প্রান্তে সে থাকে। তাকে খুঁজে বার করা যেন পলাশীর যুদ্ধ, খুঁজতে গেলে সব টেনে আগে বার করতে হবে। এই নিয়ে কত গল্প কত লেখালেখি। তবে ২০১৭ তে দাঁড়িয়ে বলবো মাঙ্কি ক্যাপএর গুরুত্ব হারিয়েছে, শুধু হারিয়েছে বললে ভুল বলা হবে। বলা উচিৎ সচেতনভাবে পরিহার করা হয়েছে। নকল করা চলছে যে!! হে হে, বাঙালি যা করে মন দিয়ে, তাই নকলও। যদিও আজকাল লেখকেরা এখনো মাঙ্কি ক্যাপ আওড়ান লেখালেখিতে। বোধহয় এটি বাঙালির কমফোর্ট এঙ্গেল। ওই যেরকম গ্লোবাল ওয়ার্মিংর খাঁচায় আঁটকে থাকা বাঙালিদের জন্য, "ডিসেম্বরের হাড় হিম করা" শীতের মিথটা বেশ এনজয়বল।
সে যাই হোক, টুপি কিন্তু টেনশন ও। এই বুঝি কেউ পরিয়ে দিলো। সব সময় সজাগ থাকতে হয়।
**কি হলো, রোজ যাচ্ছি এই রুটে, ডেলি প্যাসেঞ্জেরদের বোকা বানানো? রোজ আট টাকা নিচ্ছে, আর তুমি বলছো নয়? তুমি কে হে?
**এই জানো, পুরো ঠকে গেলাম। ওই দোকানে এতো দরাদরি করে আশি টাকা, আর এখানেতো এমনিতেই আশি বলছে। ইশশ
**দিস ইস আনরিয়েল। সেম রুম ছশ টাকা বেশি চার্জ করেছেন আমাকে। ওই তো দেখলাম ওনাদের দিব্যি ডিসকাউন্ট দিয়ে দিলেন।
এই সব খুচরো ঝামেলার পরে আরও একটু উচ্চমার্গের কিছুও আছে।
**দূর বা** ফেসবুক করা ছেড়েই দেব। শালা সব ফেক একাউন্টে ভর্তি। মালটার সাথে ইমোশনালি ইনভল্ভড হয়ে গেলামরে। এখন দেখছি ফেক।
**রামকৃষ্ণ এন্ড বিবেকানন্দ চিট ফান্ড-এর ঘটনাটা শুনলি? ভগবানকেও ছাড়ছেনা, এদের নরকেও ঠাই নেই 
**বিয়ের আগে কিচ্ছু বলেনি, ছেলেটার আগের বিয়ের এখনো ডিভোর্সও হয়নি। এখনো নাকি সম্পর্ক আছে। একটা বাচ্চাও নাকি আছে ওদের।
যত্রতত্র তাই এই অদৃশ্য টুপির টেনশন। তবে এর থেকেও ভয়ানক এক টুপি আছে, বলুনতো কি?
আচ্ছা দাঁড়ান, হিন্ট দিচ্ছি, এটিকে দেখা যায়। এটিকে পড়া যায়, আর পড়লেই পরাজয়। এটলিস্ট সমর্পন তো বটেই।
একদম ঠিক বলেছেন কত্তা, টোপর। টুপির ওপর।

আচ্ছা, এর থেকেও ভয়ঙ্কর টুপি আছে। আমেরিকার আমাজন ভ্যালিতে যুগের পর যুগ ধরে আছেন এক প্রজাতি, তারা টুপি। মানে তাদের প্রজাতির নাম টুপি। টুপিরা আবার টুপি ও পড়ে। কেন ভয়ঙ্কর? তারা মরতে ভালোবাসে। নিজের জন্য, নিজের প্রজাতির জন্য, নিজের মাতৃভূমির জন্য। নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে, এককথায়, মুহূর্তে। কি ভয়ঙ্কর, তাই না? আমরা সব কি সুন্দর নিজেরদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত, নিজের বর-বৌ-বাচ্চা নিয়েই সময় পাইনা আর এদিকে দেখুন এদের! এরা একেবারেই পাতে দেওয়ার মতো নয়। নাঃ আমাজন ভ্যালিতে কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে গেলে টুপি থেকে সাবধান। সংস্পর্শে যদি দেশপ্রেম-ট্রেম জেগে ওঠে! টু ডেঞ্জারাস।

Saturday, 8 April 2017

বোতল এট ইওর সার্ভিস, চিয়ার্স

নতুন বিয়ের পর অনেক কিছু পরিবর্তন হবে, এই সাবধান বানীর অন্ত ছিল না. বিয়ের পর তাই যা কিছু পরিবর্তন তার সাথে মোটামুটি একপ্রকার সমন্বয়সাধন করা গিয়েছিল. মদ্যপানের সাথেও. 
এমনিতে বৌ আমার অপর্না সেন, শুধু ওই .. মানে .. মদ্যপান নিয়ে একটু ছায়াদেবী গোছের. আমি আবার লুকিয়ে চুড়িয়ে কিছু করে বৌয়ের কাছে কেস খেতে নারাজ. তাই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই ফেল্লাম.সুযোগ বুঝলেই শুরু করলাম এলকোহলের গুরুত্ব​-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ছোট ব​ড় অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা. মুখ ঝামটা, রবিবার সকালের আধসিদ্দ আলুর দম, রাতের মশারি টানানোর বিরক্তিকর ডিউটি সব মুখ বুঝে হজম করলাম. এট লাস্ট একদিন বৌ বলে ওঠে, "এনোতো দেখি একটা ওয়াইন, কাল বিউটিশিয়ান রিনা টিভিতে বলছিলেন ওটা খেলে নাকি স্কিনে গ্লো আসে!" ইয়াহু উ উ উ উ চাহে কোই মুঝে জঙলি কাহে..... ওয়াইন জিনিসটাতে আমিও তখন সেভাবে অভ্যস্ত নই যদিও, লেকিন কুছ পরোয়া নেই.....বিউটিসিয়ান রিনাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করলো। না মানে ধন্যবাদজ্ঞাপন হিসেবে। যাই হোক পরের দিনই একটা রেড ওয়াইন নিয়ে হাজির হলাম.. উত্তেজনায় ঘেরা সন্ধ্যেতে গদ গদ গলায় বল্লাম, কি গো খুলবো? গিন্নীর ঘাড় নাড়া ওয়িথ মুচকি হাসি দেখে আমি তো তখনই মাতাল. ওপরের প্লাস্টিকটা খুলতেই, দেখি বোতলের মুখে কর্ক. বুঝলাম যত সাধ্য সাধনা এর আগমনের জন্য, আগমনের পরবর্তী বন্দোবস্তের প্রতি অবহেলা হ​য়েছে, মানতেই হবে. কর্কস্ক্রু নেই বাড়িতে! ঠুকঠাক-দুমদাম-টানা-হ্যাঁচ​ড়া যন্ত্রবিজ্ঞানের যাবতীয় কৌশল প্রয়োগ করে যা দেখা গেল, হিতে বিপরীত হ​য়েছে, কর্ক আর ও ভিতরে ঢুকে গেছে! বৌয়ের ভুরুযুগল কাছাকাছি আসছে, মানে আসন্ন ঝ​ড়ের সংকেত. ওদিকে কর্কও বিপরীতমুখী. রাত তখন একটা. বৌ ইতিমধ্যে যুদ্ধের অভিপ্রায় ত্যাগ করে হাই তুলছে আর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিতে দিতে বলছে,"হোলো, বোতল খোলা?" কথাটা স্ট্রেইট ছবি-বিশ্বাসী-অভিমানী-হৃদয়ে হিট করল. করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে. দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে পাতি বাঙলা আইটেম মানে সাঁড়াশি নিয়ে দিলাম এক বাঙালি ঠোকা কর্কের ওপর, ব্যাস কর্ক আত্মসমর্পণ করে টুপ করে পরলো বোতলের মধ্যে, সাঁড়াশি ই  ই ই, তোমায় কুর্নিশ..... বৌ, বোতল এট ইওর সার্ভিস..... চিয়ার্স…


পুনশ্চ: বৌ গ্লাস হাতে নিদ্রালু চোখে জিজ্ঞাসা করেছিল,"বোতলের ভিতরে ওটা কি ভাসছে যেন".... আমি বলেছিলাম," ও আমাদের প্রেম গো, ওই রূপরাশি আপনা বিকাশি. রয়েছে পূর্ণ গৌরবে ভাসি"

Monday, 3 April 2017

গাইয়ে হবু-জামাই

বেশ অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মেয়ে কমলা নাকি প্রেম করছে, তাও আবার এক গাইয়ে বাউন্ডুলের সাথে। মেয়ের বাবা ডেকে পাঠালেন গাইয়েকে। ইন্টারভিউ টাইম উইথ প্রবাবল-হবু শ্বশুরমশাই।
---------------------------------------------------------
-কতদিন ধরে চলছে এসব?
-পুরানো সেই দিনের কথা, হায় ও সেই, চোখের দেখা প্রাণের কথা .....

-থাক থাক ওকি গান শুরু করলে কেন? বলছি যে, কিছু করা হয়? নাকি বাবার হোটেলেই....
-হা-আ-আ-আই। নাই কাজ নাই। দিন যায়, দিন যায়। আয় আয়, আয় আয়। হাতে কাজ নাই॥

- ও বাবা তারমানে লবডঙ্কা!
-তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে,আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে ....

-কি জ্বালা! আরে বাপু কি খাওযাবে আমার মেয়েকে?
- আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছু তো নাই বাকি, ওগো নিঠুর, দেখতে পেলে তা কি ....

-কি কপাল, মা কমলা আর কোন ছেলে পেলে না মা, শেষে এই? তা ছেলে, তোমার বাবা-মা কি বলছে?
- হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো--সুর হারালেম অশ্রুধারে....

- বটেই তো, তা হবে না, এ ছেলের জন্মমাত্রই মা-বাবার এই হাল বলে আমার মনে হয়! বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো কেস, তা কি আমার ঘাড়ে পড়বার পরিকল্পনা নাকি?
- হৃদয়-আবরণ খুলে গেল তোমার পদপরশে হরষে ওহে দয়াময় ....

- জানতাম আমি, এ সব কেস কি করে ঠিক করতে হয় আমি জানি.
- হৃদয় মোর কোমল অতি, সহিতে নারি রবির জ্যোতি, লাগিলে আলো শরমে ভয়ে,মরিয়া যাই মরমে॥

-- (মাথায় হাত দিয়ে)হে ভগবান ....
-- (ইন ঘরে-বাইরে-সৌমিত্র স্টাইল) শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।


Saturday, 1 April 2017

ইয়া বড় পুরু ঠোঁট

সুন্দর ফর্সা নাদুসনুদুস চেহারা, ইয়া বড় পুরু ঠোঁট লাল টুকটুকে, এ দেখেই বাবা ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্রীমুখ। আত্মীয়স্বজন ছেলের মুখ ঠিকমতো দেখতেই পাননি জন্মের বেশ কয়েকবছর। মুখ ভরে থাকতো কালো টিপে। বাড়ির প্রত্যেকেই সকালে উঠে একটি করে কালো টিপ্ সাটিয়ে দিতেন শ্রীমুখে। সবাই প্রথম তার মুখ দেখতে পেয়েছিলো প্রথম স্কুলে ভর্তি যাওয়ার সময়। স্কুল থেকে টিপ্ ভর্তি মুখের ছবি বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। অগত্যা....
যে যাই হোক শ্রীমুখবাবুর এতদিনে সরকারি চাকরি হয়েছে। সুতরাং কোল্ড্রিংক্স সুরুৎ করে মেরে দেওয়ার পর ঢেকুর যেমন অবশ্যম্ভাবী এবং আকাঙ্ক্ষিত। ঠিক তেমন ভাবেই সরকারি চাকরির পরই ঘটকের আগমন বাড়িতে। মার্কেটে ফেসভ্যালু কম নয় শ্রীমুখবাবুর। সুতরাং গোলগাল ঘরোয়া পাত্রীর সাথে শুভপরিণয় সম্পন্ন হলো। বিয়ের পর বৌ গদ গদ হয়ে বলেছিলেন,"তোমার ঠোঁটদুটো এক্কেবারে দুধপুলি, ঘন, গাঢ়, জমাট, পুরু, নিবিড়". সে দুধপুলির স্বাদ কেমন বা বৌদির সে স্বাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে অবশ্যই শ্রীমুখবাবু খোলসা করেননি। তবে এ বিবরণের মুহূর্তে লাল হয়ে যাওয়া গাল আর কানদুটি ঘটনার সুখকর আমোদের দিকেই ইঙ্গিত করে। সুতরাং বেশ চলছিল এতকাল। সুষ্ঠ সুন্দর নিয়মমাফিক। সমস্যা শুরু এই কয়েকমাস ধরে। একটা অস্বস্থিকর পরিস্থিতি। বাসে যাচ্ছেন, অমনি কেউ যেন তাকে দেখে হাসছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, কেউ যেন তাকে মুখ ভেঙাচ্ছে। প্রথম প্রথম পাত্তা দেননি। কিন্তু ক্রমে যেন ব্যাপারটা বাড়ছে। এহেন অবস্থায় মনমেজাজ খুব খারাপ। কিছু ভালো লাগছে না টাইপ। বৌ লুচি-মটন, ইলিশ দিয়ে মনটাকে ফুরফুরে মোডে আনছেন বটে, কিন্তু রাস্তায় বেড়োলেই সেটা রিসেট হয়ে যাচ্ছে। মনের ভুল যে নয় তা প্রমান পেলেন, দেখেন কয়েকটি স্কুল-পড়ুয়া তার দিকে স্মার্টফোন তাক করে আছে। ছবি তুলছে নাকি? সহ্য করতে না পেরে ছুট্টে যেতে গেলেন, এ সমস্যার কারণ জানা দরকার। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই তারা বেপাত্তা। সেদিনই বিকেলে অফিস থেকে ফিরে যখন বাড়িতে লুচি -আলুরদমে ভাসছেন। কে যেন এসেছে। খাওয়া ছেড়ে ওঠার নো কোয়েশ্চেন। তাই খাওয়া শেষ করে পাঁচ মিনিট কুলকুচি করে মোট আধঘন্টা পর বসার ঘরে গিয়ে দেখেন, একটি ছেলে-মেয়ে জোড়া তার সাথে দেখা করতে এসেছে। তাদের কাঁধে ক্যামেরা।
- বলো কি ব্যাপার।
- কাকু, বলছি আপনার একটা ফটো নিতে পারি?
বলেই কিচিক
- য়্যা? মানে? ওকি তুলে নিলে যে। মানে কিছুই তো  ...
- বুঝিয়ে বলছি কাকু। আসলে আপনার মুখটা ভীষণ ইউনিক। তাই আপনাকে মডেল হিসেবে আমাদের খুব কাজে লাগবে। আমরা একটা ট্রেনিং স্কুল চালাই।
- (শ্রীমুখবাবু খুশিতে ডগমগ হয়ে, আড়চোখে পর্দার আড়ালে দাঁড়ানো বৌয়ের উদ্দেশ্যে হালকা হাসি ছুড়ে বললেন) দেখ ভায়া, আমি তো এসবের কিছুই জানি না। তবে তোমরা যখন বলছো  ....
- কাকু কিচ্ছু জানতে হবে না, আপনাকে। প্রতি উইকেন্ডে একটা করে সিটিং ব্যাস। এই ধরুন ঘন্টা দুয়েক। চেয়ারে হেলান দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন। আর কিচ্ছু না। আমরা আপনাকে দেখিয়ে স্টুডেন্টদের ট্রেনিং দিয়ে নেবো।
- ব্যাস এইটুকু, আর কিছু না?
- না কাকু, এইটুকুই, আসলে আপনার মুখটা আজকের দিনে একটা অ্যাসেট। কতদিন আপনার পিছনে ঘুরছি জানেন। সমস্ত এঙ্গেলে আপনাকে পরখ করেছি।
- (খুশিতে শ্রীমুখবাবুর চোখের কোণে তখন জল) কি যে বলবো ভাই তোমাদের, মানে আমার মুখ নিয়ে ছোট্টবেলা থেকে অনেক প্রশংসা টসংশা হে হে ওই আর কি শুনেছি। কিন্তু এই ভাবে কেউ .... তা বেশ ভায়া তোমরা কিসের ট্রেনিং দাও?

- কাকু, সেলফি ট্রেনিং সেন্টার। মানে আজকাল তো জানেনই, সেলফি তোলাটা একটা আর্ট। মার্কেটে হেবি চলছে, এই ফেসবুকে, টুইটারে, ইনস্টাগ্রামে এখানে ওখানে। আসলে ওর ওপরেই তো সব মানে প্রেম, বিয়ে এমনকি চাকরি ব্যবসা অব্দি। এপ্লিকেশন ফর্মে চাইছে সেলফি। আমরা তাই শেখাই বিভিন্ন এঙ্গেল, কৌণিক পরিমাপ ইত্যাদিতে সেলফি নেওয়া। আপনাকে নিচ্ছি পাউটের ক্লাসের জন্য। পাউট নিশ্চয় জানেন। ঠোঁটটা একটু ছুঁচোলো করে, এগিয়ে এনে হে হে কিচিক সেলফি। আপনার ঠোঁট গুলো তো বাই ডিফল্ট পাউট। মুউউউআআআ হে হে।

Sunday, 26 March 2017

নয় এ মধুর খেলা

"নয় এ মধুর খেলা"
----
মনে আছে একটু একটু করে খড় দিয়ে, কুটো দিয়ে, ঘাস দিয়ে বেঁধেছিলাম ঘর। 
----
"তোমায় আমায় সারাজীবন সকাল-সন্ধ্যাবেলা নয় এ মধুর খেলা"
----
প্রথম প্রথম যেদিন ঘর বাঁধলাম আর ঝড় এলো, তোমার চোখের কোনে দেখেছিলাম চিকচিক জল। তবু তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি। তাই তো ওই ঝড় শুধু ঘরটাকেই তছনছ করলো। আমাদের শক্ত করে ধরে থাকা তো নষ্ট করতে পারেনি। আমাদের উষ্ণতাকে তো হিম করতে পারেনি। আমাদের পাখা চারটিকে শিথিল করতে পারেনি। পরের বার ঝড় আমাদের মুচকি হাসি দেখে খানিক ভয়ই পেয়েছিলো জানো? কেমন পালিয়েছিলো অর্ধ্যেকরাস্তায়। তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি।
-----
"কতবার যে নিবল বাতি, গর্জে এল ঝড়ের রাতি
সংসারের এই দোলায় দিলে সংশয়েরই ঠেলা"
-----
বুড়ো পাখিটার নজর ছিল আমার ওপর। সেদিন প্রথম জানলাম তুমি রাগতেও পারো। আমার সর্বাঙ্গে কাটা দিয়েছিলো প্রথম। তোমার চোখে প্রথম সেদিন দেখেছিলাম ত্রাস। আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় ছিল বুঝি? জিজ্ঞেস করিনি কোনোদিন, আজ বলবে? শত ডানা ঝাপটানোতেও মোটেই সে বুড়ো বাঁধ মান ছিলো না, মনে আছে তোমার? শেষে যখন একসাথে এগিয়ে গেছি মরিয়া হয়ে, পিছু হটে গেলো। আজ ভাবলে অবাক লাগে। ও যদি পিছু না হটত? যদি ঘুরে দাঁড়াতো, এগিয়ে আসত? সত্যি কতটুকু ক্ষমতা ছিল আমাদের বলো। সত্যিই কি আটকানো যেত? তবে একটা প্রবল ইচ্ছাশক্তি ছিল আমাদের। ওতেই বোধহয় ...... আর হারানোর মতো কিইবা ছিল আমাদের বলো। তুমিই তো আমার সব। তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি।
-----
"বারে বারে বাঁধ ভাঙিয়া বন্যা ছুটেছে।
দারুণ দিনে দিকে দিকে কান্না উঠেছে।"
-----
তুমি শুনতে পাচ্ছো? ওগো সত্যি শুনতে পাচ্ছো গো। মনে নেই তোমার সাথে ছিলাম আমি, আর ভাগ্যিস আমার সাথে তুমি। তবে আজ বলছো কেন, ছেড়ে যাবে? এই দুটি শব্দ আমার সব কিছুকে গুলিয়ে দিচ্ছে যে। কোনটা ভুল ছিল? কোনটা ঠিক ছিল? কোনটা স্বপ্ন ছিল? কোনটা বাস্তব? আমার সব গল্পগুলোর শব্দ এদিক ওদিক ছিটকে পড়ছে। ওদের জুড়বো সেই শক্তিটাও তুমি কেড়ে নেবে? এমন অবলীলায় বলছো, ছেড়ে যাবে? কার সাথে চলে যাবে, সে জিজ্ঞাসা করার সাহস আমার নেই। তোমাকে অনুযোগ করবো, তাও পারছি না। তুমি তো কিচ্ছু লুকোলে না, অকপটে বলে দিলে, ছেড়ে যাবে। তোমার চোখে ভয় নেই তো, মিথ্যা নেই তো। কিন্তু চিকচিক করছে কি একটা যেন। এর থেকে তুমি যদি আমার সাথে লুকোচুরি করতে, তোমার ওপর রাগ করতাম, খুব রাগ করতাম, খুব বকতাম তোমায়, খুব খারাপ কথা বলতাম। তাতে হয়তো একদিন সবকিছু ভুলেই যেতাম। কিন্তু তুমি তো তা করলে না. শুধু বললে, ছেড়ে যাবে। কিভাবে মনকে বোঝাবো? কিভাবে বলবো মনকে, "ভালো হয়েছে চলে গেছে, ও একটা শয়তান ....." সে যে তুমি নও, সে আরও একবার প্রমান করলে অকপটে বলে। তাহলে তোমার চোখ চিকচিক কেন? তবে তাই হোক, শুধু ঐটিই নিয়ে তাহলে আমি বাঁচি। তবে যায়, চলে যাও, আর কিছু বোলো না, চলে যাও। আমার জন্য এই তো অনেক, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময়, তোমার চোখের কোণে চিকচিক। তোমার প্রেমে আঘাত পেলাম, অবহেলা নয় বটে।
------
"ওগো রুদ্র, দুঃখে সুখে এই কথাটি বাজল বুকে—
তোমার প্রেমে আঘাত আছে, নাইকো অবহেলা
নয় এ মধুর খেলা"
------

Wednesday, 22 March 2017

জীবন মানেই জিবাংলা 2

রসিকবাবু হনিমুনে। না মানে একটু খাঁদমিশ্রিত হনিমুনে।
যৌথ পরিবারে আর হনিমুন! কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা বললেই মিনিমাম সতেরোজন সঙ্গে সঙ্গে তল্পিতল্পা নিয়ে রেডি। তাই আপিসের কাজে উড়িষ্যা যেতে হবে শুনে অফারটা বাগিয়ে নিলেন রসিকবাবু। এব্রিথিং ইস ফেয়ার ইন লাভ। আর ওয়ার নিয়ে শান্তপ্রিয় রসিকবাবুর কোনো কাজ নেই। পাতের পেঁপের মতো জীবনের থালা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
রসিকবাবু এসে হাজির উড়িষ্যায়। কথামতো গিন্নিও বাপের-বাড়ি-যাবে অজুহাতে, সাথে সাথে। সব একদম মাখনের মতো হলো।
বাড়ি থেকে কেউ একটিবারও ট্যাফোঁ করতে পারেনি। ইয়াহুহুহুহুহুহু। অফিসের গেস্ট হাউসটিও বেশ। ঢুকেই বাথরুমটা দেখে নেওয়া মাস্ট। ঐটিতেই আত্মার সম্পর্ক। পরিষ্কার বাথরুমের পরিবর্তে একবাটি ইলিশ? উহু তুচ্ছ, তবে যদি স্ট্রেইট ফ্রম পদ্মা হয়, তাহলে ওই ইয়ে আর কি। যাহোক বিছানা পরিষ্কার। ঘরে জল? তোয়ালে? সব জায়গামতো অবস্থিত। পারফেক্ট। অফিসে ঢু মারতে হবেই। তাড়াতাড়ি চলে আসতে হবে এদিক-ওদিক ম্যানেজ করে। গিন্নিকে ফ্লাইং কিস দিয়ে বেরিয়ে যাবেন যেই, গিন্নি বলে উঠলেন,"বলছি, টিভির রিমোটটা?" "ধুস, এই তো নাও। চলে আসবো তাড়াতাড়ি বুঝলে?" রসিকবাবু বলে বেরিয়ে গেলেন। এ
র পরের কয়েক ঘন্টা কাটানো যেন জিও সিমের নেটওয়ার্ক খোঁজা। কিছুতেই ঘড়ির কাটা আর নড়ে না। ফাইলের পর ফাইল, শেষ আর হয়না। লঙ্কাহীন মামলেট গেলা এর থেকে সহজ। বিকেল সাড়ে পাঁচটা অব্দি ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ফটোগ্রাফারদের মতো উত পেতে বসে ছিলেন। ঠিক সাড়ে পাঁচটা বাজতেই বেরিয়ে এলেন ঝোপ থেকে। এদিক ওদিক দেখে চুপি চুপি গুটিগুটি পায়ে কোনোরকমে বসের কেবিনটা ক্রস করতেই উনি ভ্লাদিমির লেনিন। তেমনি দর্পে গটগটিয়ে ঘরে ঢুকলেন। গিন্নি কোথায়? বাথরুমে? উহু? তবে? বিছানার ওপরে লেপ মোড়া? বোঝো ..... গিন্নি এসি চালিয়ে, লেপ মুড়িয়ে, জড়িয়ে, ঘুমিয়ে, রসিয়ে, খানিক কষিয়ে, নাক ডাকিয়ে, সুরে সুরে ভনভনিয়ে ওই আর কি  ..... ঘুমোচ্ছেন।
ধ্ধ্যুস বলে বিমর্ষ রসিকবাবু বসতে যাবেন খাটে, অমনি কর্কশ আওয়াজে,"আজ ব্লু হ্যা পানি পানি  ....." বেজে উঠলো। গিন্নির মোবাইলের অ্যালার্ম আর অমনি গিন্নি ধড়মড়িয়ে উঠলেন। রসিকবাবুর চেহারায় হাসি ফুটে উঠলো। যাক।
গিন্নি -"ওমা তুমি এসে গেছো? কখন এলে?"
রসিকবাবু হামাগুড়ি দিয়ে চোখ সরু করে গিন্নির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে-"চাহে কোই মুঝে জংলী কহে  ..... "
গিন্নিও মুচকি হেসে-"কেহেনে দো জি কাহ্তা রাহে  ...."
রসিকবাবু উল্লাসে -"হাম পিয়ার কে তুফানো মে  ....."
অমনি আবার "আজ ব্লু হ্যা পানি পানি  ....." বেজে উঠলো।
রসিকবাবু-" ওহ কি মুশকিল, এটা বন্ধ করতো, থেকে থেকে বাজছে কেনো?"
গিন্নি-"ওহ,এই রে ছটা বাজলো, সরো দেখি সরো। "
রসিকবাবু -,"য়্যা, কি হলো?"
গিন্নি (এক ঠেলা দিয়ে)-"দিদি নম্বর ওয়ান, যাতে মিস না হয় স্নুজ করে রেখেছিলাম মোবাইলের অ্যালার্ম।সরো দেখি সরো। আমি খুব ভাবছিলাম জানো যদি জি বাংলা না আসে এখানে! প্রণাম করে নামজপ করতে করতে ভয়ে ভয়ে টিভি খুলতেই উফফফফ কি শান্তি। বাড়ি ফিরে গোপালকে এক্সট্রা নকুলদানা আর মমমম সরভাজাও দুটো দেব।দেখি সরো"
রসিকবাবু গিন্নির ধাক্কায় ততক্ষনে খাট থেকে নিচে মাটিতে।
রসিকবাবু বিড়বিড় করছেন,"হাম পিয়ার কে তুফানো মে গিরে হ্যা হ্যাম ক্যা করে"