Showing posts with label foodie. Show all posts
Showing posts with label foodie. Show all posts

Wednesday, 31 July 2019

গটরি অমাবস্যা

বাঙালিরা ডিম, ডিমের কুসুম, মটনের চর্বি থালার কোণায় রেখে দেয়। হিমালয় ঢেকে দেওয়া ভাত, কোপাই নদীর মতো তরকারিতে না কুলোলে, তবু কুতিয়ে কাতিয়েই শেষ করা যায়, কিন্তু ওই স্বর্গীয় বস্তুসমস্ত শেষপাতেই, জমিয়ে এবং অবশ্যই রসিয়ে। ভাগ্গ্যিস আজকাল বিয়ে বাড়িতে বুফে সিস্টেম। নাহলে আইসক্রিমের পর চর্বিওয়ালা ওয়ান পিস্ চাইতে ক্যাটারারদের সামনে হাত পাতা ইস লিটল ইয়ে ইয়ে। মোদ্দাকথা বাঙালি ভালোবাসার জিনিসটি যত্নে সামলায় শেষ পাতে।
তেমনি কালী পুজোর নির্জলা উপবাস। দুদিন আগে থেকেই বাড়িতে নিরামিষ। দিনের দিন তো চোখে মুখেই নিরামিষ ভাব ফুটে ওঠে। লোকজন দেখলেই বোঝে কিছু মর্মান্তিক ঘটেছে। নিরামিষকে আপন করতে পারার থেকে কঠিন আমিষকে দূর করা। আর যেই কালী পুজো শেষ, সকালে উঠেই বাঙালির প্রথম শব্দ, মটন। কালী পুজোর সাথে পাঠাবলির পিছনে কোনো প্রবল খাদ্যরসিক ব্রাহ্মণের যোগাযোগ না থাকলেই নয়।

মারাঠিরা অর্থাৎ মহারাষ্ট্রিয়ানরা উল্টো। শ্রাবণ মাস এ তাঁরা একবেলা খায়, নিঃসন্দেহে নিরামিষ। মদ্যপান? ছিঃ। তাঁরা মনে করে, এই সময় চারিদিকে রোগের সম্ভাবনা বেশি, তাই ভোগের লোভ আয়ত্তে রাখাই যথাযথ। তাই শ্রাবণ শুরুর আগের দিনই তাঁরা গাঁতিয়ে খায়, একে গাতারি বলে। গাতারি অমাবস্যা মানে শ্রাবণের আগের অমাবস্যার দিন। লোকমুখে প্রচারিত ঐদিন লোকজন মদ খেতে খেতে টলে পড়ে নালাতে, তাই এর নাম গটরি অমাবস্যা। চিকেন আর মদ ঐদিন অপরিহার্য। অন্যরকম ভ্যারাইটি স্বাদমতো, জিভমতো, মনমতো, পকেটমতো।



আগামী ০২ অগাস্ট সেই গাঁতিয়ে খাবার দিন। অদ্ভুতভাবে সেদিন আবার শুক্কুরবার। মহারাষ্ট্রে থাকলে তো কথাই নেই, না থাকলেও সেক্যুলার কসমোপলিটন বাঙালি হিসেবে দিনটি উদযাপন করা কর্তব্য। কি বলুন?

Monday, 5 November 2018

রঙ্গমঞ্চ

কালীপুজোর পাড়া-ভোজন।
প্রথমদিন আমিষ। দ্বিতীয়দিন নিরামিষ।
অবাধ খাবার আয়োজন, তার ওপর আমিষ। পাড়ার রিকশারাজু থেকে ডাক্তার হাজরা, মণ্ডপে সবার হাজিরা।
বাঙালি কে কোন শ্লা অসময়নিষ্ঠ বলে?
বেলা বারোটায় রান্না রেডি, খাবার লোক নেই। ঠিক একটা বাজতেই, জনজোয়ার। সব বাঙালির একসাথে খিদে পায়। ফ্রি -এর খাবার পেতে এবার লাগা লাইন। খিদে এবার পেট থেকে মাথাতে। পুজোর দিনে, মণ্ডপে গালাগাল দিলে, দেবীর কোপে পড়ার ভয়। ঢোক গেলা ছাড়া নো উপায়। ইতিমধ্যে পেট ভরপেট করে দাঁত খুঁচতে খুঁচতে বেরিয়ে আসা লোকজন-এর "জিতে গেছি কাকা" টাইপ বাঁকা চাহনি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া। এ যেন যুদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে পড়ে মিনি-পুকুর। লাইন এগোয় অনুপমের কাছিমের মতো। "গুটি গুটি পায়ে আর এগোতে পারে না"। শেষে পুকুর উপচে পড়ার আগেই এক ঠেলাতে একেবারে ফ্রাইড রাইস এর কাউন্টারে। তারপরে স্বপ্নের মতো ফিফটিন মিনিটস। ততক্ষনে পেট দয়াভিক্ষা করে ক্লান্ত। তুবড়ির মতো একটা জম্পেশ ঢেঁকুর দিতেই এ হে হে ...... ফিফটি পার্সেন্ট মাল হড়হড়িয়ে বাইরে। আসলে গলার নিচে ডাউনস্ট্রিম ফ্লো করবে, সে সময়টা পায়নি বেচারা। ঢেঁকুরটা চিরকালই অবাধ্য। আইটেমগুলোকে পেটে স্টে ই যদি না করানো গেলো, তাহলে তো যুদ্ধ-এ ফেল। যাক কেউ দেখেনি। মুখ-টুক ধুয়ে বেরিয়ে পড়লেই বাঁচোয়া। আরে ওদিকে কি? ভিড় কেন? পান-সুপারি টা মিস হলো নাকি? আরে এ হে হে, এতো আরেকজন বমি টমি করে ......
তাহলে এখন বাঙালির টাইম টু এক্ট এস এ শুভানুধ্যায়ী
"আরে কেন এতো খাস? ফ্রি এর মাল দেখলেই হামলে পড়বি? একটু বুঝে খাবি তো নাকি ..... মণ্ডপের এখানে এ হে হে কি ময়লা" ....... এবার কব্জি গুটিয়ে বেরিয়ে পড়া যাক মানে মানে। হে হে সবই "এ মায়া প্রপঞ্চময় ভব রঙ্গমঞ্চ মাঝে"।

Wednesday, 16 May 2018

গড়িয়াহাট এর মোড়ে

গড়িয়াহাট এর মোড়ে রক্তারক্তি কাণ্ড। 
রসিকবাবুর হাঁটুতে চোট, দোকানদারের থুতনিতে।
ভিজিটর দের কেউ কেউ হালকা আহত, কারও পা, কারও হাত, কারও নাক, কারও পেট। বাকিরা তীব্র মানসিক চাপে। 
চারিদিক থেকে চাপা উত্তেজনা। গজগজ। খসখস। ফিসফাস। ফোঁস ফোঁস।
ট্র্যাফিক পুলিশ চলে এসেছেন। 
বুঝলেন যে, গরমই ছিল। ফুলকোও বটে। আলুও চন্দ্রমুখী। নুন - চিনি যথাযথ।
তবু .......
কিছুক্ষন ভেবে হঠাৎ মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,
"আরে সমস্যা টা আগে বলবেন তো। আরে আমার বউ ভারী করিৎকর্মা। বাড়িতে লঙ্কা গাছ লাগিয়েছে। সারা বাড়িতে শুধু লঙ্কা আর লঙ্কা। দেখুন দেখি, ব্যাগে ও রয়ে আছে বেশ কয়েক টা। এতদিন বিরক্ত হতাম। এই আজ দেখি কাজেই লাগলো। সকাল ৬ টাতে কি আর এ জিনিস এখানে চাইলেই পাবেন? যা ডিমান্ড। এই যে নিন। (বলেই, পিঠের ব্যাগ থেকে বার করলেন একটি কচি সবুজ টসটসে কাঁচা লঙ্কা।) আরে নিন মশাই নিন, লজ্জা পাবেন ন ন না ..... এই একি এই কাড়াকাড়ি করবেন না .... এই একি.... কি হচ্ছেটা কি, একি লঙ্কা কান্ড!!"



Saturday, 7 October 2017

নিকো পার্কের বাপীদা

লোকজন বলছিল, ওটা নাকি একোয়ারিয়াম।
দুর্গাপুজোতে একোয়ারিয়াম!! ও ফিশ!!
কাছাকাছি হতেই বুঝি একোয়ারিয়াম নয় হে। এ হলো মরীচিকা, ফুল অফ ফুচকা।
বাংলার বুকে ফুচকা সারভাইভিং ফ্যাক্টর। এনার প্রভাব অনস্বীকার্য।
#বাড়িতে ডিনার না হলে ফুচকা।
#ছেলের এক্সাম পরশু থেকে, টেনশনে ফুচকা।
#অফিস ফেরত, গৃহযুদ্ধের প্রাক্কালে দশটাকার ফুচকা।
#স্কুললাঞ্চ ডাস্টবিনে, গেটের বাইরে হাত বাড়িয়ে ফুচকা।
সে আরও কত কান্ড।
তা এই ফুচকা দোকানি ফুচকা দোকানি পাক্কা মার্কেটিং এনালিস্ট। মার্কেট ডিমান্ড ভালোই বুঝেছে, তাই এনাফ সাপ্লাই নিয়ে হাজির। এনাফ বলে এনাফ। শুধু কোয়ান্টিটি দেখলেই যে হবে না তাও বুঝেছে, তাই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি কম নাকি? দেখুন না কি অফার করছে  আপনাকে। দই ফুচকা তো আঁতিপাতি। এখানে পাওয়া যাচ্ছে চাটনী ফুচকা, জেলি ফুচকা। আমি ঘাড় উঁচু করে খুঁজছিলাম মটন ফুচকা বা রাবড়ি ফুচকা গোছের কিছু। মানে ঘেটে ঘ যখন হচ্ছেই, তখন ড্রিম বিগ।

"জেলি ফুচকা জিনিসটা কি বাপিদাদা", জিজ্ঞেস করতেই, মায়াবী চোখ তুলে জিজ্ঞেস উনি বললেন ,"আমি বাপি নই,  ঝাল বেশি না কম? জল দিয়ে না শুকনো? এই নিন বাটি"

নিকো পার্কের এরকম একটি বাপীদা না হলে দুর্গাপূজাতে টিনেজার রা বলবে কি করে,"ইটস ক্রেজি ইয়ার"


Tuesday, 3 October 2017

জিভে "ধাপ্পা"

"সব পেলে নষ্ট জীবন" অনুপমদা আগেই বলেছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! আর তাছাড়া বাঙালিরা আবার কো-বাঙালিদের কথা বিশেষ মনে ধরেন না। পশ্চিমীদের কথাকেই ..... ওই আর কি আপ্তবাক্য বলে ধরেন। 
কাচের ভিতর ঠান্ডাঘরে ১০ খানা ইয়া লম্বা লম্বা চোঙ পাশাপাশি সাজানো। তাতে একটাতে হলুদ, নিচে ছোট্ট স্টিকারে লেখা "ম্যাংগো"। ও মা গো! পাশেরটা সাদা, "পিস্তাসিও"। জিও। তারপরে "ভ্যানিলা", "রাম-রেসিন", "চকলেট", "স্ট্রবেরি", "রাস্পবেরি" আরও সব মিলে লাল-নীল-হলুদের মেলা বসিয়েছে। জিভ আন-কন্ট্রোলেবল। কোনোরকমে ঢোক গিলে গিলে সামাল দেওয়া। চোখ বাঁ থেকে ডানে যায়। মন বলে "লুটে নে, লুটে নে"। দড়াম করে অমনি মাথা থ্র্যাটেনিং দেয়,"ওহে টোয়েন্টি টু পার্সেন্ট ফ্যাট"। ভ্যাট, এই হাতছানি ইগনোর করা যায় নাকি? একটা তো নেবোই। চোখ নাচতে নাচতে এগোতে লাগলো। থামলো একটা হালকা নির্ভেজাল অলিভ সবুজে। নিয়েই নেওয়া গেলো, এক স্কুপ। জিভকে বইতে দেওয়া গেলো "আমার খোলা হাওয়া"। মাথাকে রেস্ট দেওয়া গেলো "তিষ্ঠ ক্ষণকাল"। মন-প্রাণ এক করে চামচে অমৃতাংশ তুলে স্ট্রেইট জিভে চালান করা গেলো। চনমনে ঠান্ডা মুখের ভিতর কাবাডি কাবাডি খেলতে শুরু করেছে সবে .... আহা। হুট্ করে হঠাৎ কে যেন জিভে "ধাপ্পা" বলে দিলো। "ধাপ্পা আ আ আ আ"। এমন টেস্ট, কেউ যেন রেগে ঘাস সিদ্ধ খেতে দিয়েছে। সান্তনা হিসেবে সেই সিদ্ধতে মিষ্টি দিতে ভোলেনি যদিও। এহে একিরে। শেষে মিষ্টি ঘাস! দৌড়ে যাওয়া চোঙ-এর কাছে। দেখা গেলো হালকা নির্ভেজাল অলিভ সবুজটির স্টিকারটিতে লেখা "গ্রিন টি"! জিভ চিৎকার করে ওঠে,"হে পাপাত্মা, পাষন্ড, পাপিষ্ঠ, দুরাত্মা ..... "
"সব পেলে নষ্ট জীবন" অনুপমদা আগেই বলেছেন......
অত কিছু ছেড়ে গ্রিন টিতে চোখ আটকানোর পিছনে যড়যন্ত্রটা কার সেটা ভেবে কিছুতেই উত্তর পাওয়া যায়না। কাচুমাচু চুপ মেরে থাকাই সেফ। তবে জিভ কিন্তু গালাগাল দিয়েছে উচ্চ ভাষায়। সেইটে অগ্রাহ্য করলে চলবে না। জিভের এই শালীনতার পিছনে কি ওই গ্রিন টির হাত আছে?

গোলবাড়ি

এক প্লেট মটন কষা। এক প্লেট মটন কিমা। সাথে পরোটা। ব্যাস এইটুকুই। 
তাং মাত কারো। 
বাকি কিছু মনে নেই, মশাই। মনে থাকার কথাও নয়। মেডিটেশন -এ কতটা কন্সেন্ট্রেশন লাগে, সে যারা করেন তারা জানেন, বোঝেন। মনপ্রাণ এক করে চিন্তন-মননকে ভাসিয়ে দিয়ে তবেই তো আধ্যান। গাঢ় খয়রী রং আর তেলের ভাবাবেগের মাঝে সে আধ্যান তখন পিকে। আমির খানের পিকে নয়। ইংরিজি পিকে। মানে শীর্ষ-এ। ঘোর কাটল যখন সামনের প্লেটে লেগে তেলের বিন্দু। হাত ভার্টিক্যালি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আঙ্গুল চেটে ফিনিশিং টাচ চলছে তখন, কানে ভেসে এলো,"গোলবাড়ি কেন গোল নয়", "গোলবাড়ির কেন কোনো শাখা নেই", "গোলবাড়ি কেন এতো ঘিঞ্জি", "গোলবাড়িতে কেন এসি নেই", "গোলবাড়ির মেনুতে অপসন এতো কেন কম".
হে মহাজীবন .....
নাহ মানুষের দেখছি কন্সেন্ট্রেশনের খুব অভাব। মটন কষাকে সামনে পেয়েও ফোকাস করতে পারছে না। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার আঘাত সামলাতে, প্রতিবাদ স্বরূপ কালো কাপড়, না না কাপড় নয়, ওই কালো রগরগে মটন কষাই ওই আর কি ইয়ে এক প্লেট অনলি, সাথে মটন কাটলেট আর মটন চাপ প্যাক করানো গেলো। এ শুধুমাত্র জাতির উদ্দেশ্যেই। প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে।