Showing posts with label ভয় কথা. Show all posts
Showing posts with label ভয় কথা. Show all posts

Tuesday, 18 February 2020

ডেথ ড্রাইভ

ধরে আছে? নাকি ছেড়ে দিতে চাইছে?
এসব ভাববো না কল করবো পুলিশ? ইমিডিয়েট হেল্প?
বেশ কিছু লোকও ততক্ষনে জড়ো হয়েছে আসে পাশে। সবাই হা করে ওপরে তাকিয়ে। সবার মুখে ভয় আতঙ্ক। এদিক ওদিক দেখছেন। কেউ কি কল করেছে অলরেডি পুলিশে? হেল্প কি আসছে? কেউ কেউ চিৎকার করে বলছে, হেই। আর ইউ ক্রেজি? হোল্ড অন। ডোন্ট ডোন্ট ডোন্ট ডু দিস ম্যান। একজন বয়স্ক মহিলা বিড়বিড় করছেন। বোধহয় ঈশ্বরকে ডাকছেন।
হঠাৎ একজন হেসে উঠলো। সাথে সাথে একটা চাপা হিসহিস, ফিসফিস। আর ছোঁয়াচে হাসি একটু একটু করে সবাইকে কব্জা করলো। আরে ফাইবারগ্লাসের একটা স্ট্যাচু যে।
আজ্ঞে। চেকরিপাব্লিকের প্রাগ শহরের স্টেয়ার মেস্তো অর্থাৎ ওল্ড টাউনে এই স্ট্যাচুটি আসলে ট্যুরিস্টদের জন্য একটা চমক।
----------------------------------------------------------------------------------------------
সিগমান্ড ফ্রেউড ছিলেন একজন সাইকোএনালিস্ট। সাইকোএনালিসিস্ শব্দটির জন্মদাতা এই ব্যক্তি নানা চিকিত্সাবিদ্যাগত আবিষ্কার করেছেন মানুষের সাইকিক নেচারের নানা ক্ষেত্রে যেমন বিষাদ, ইগো, স্বপ্ন এমনকি থানাটোস অর্থাৎ মৃত্যুর চালক ইত্যাদিতে। নিউরোলজিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। প্রায় আশি বছর বয়সে তিনি যখন জীবনের শেষ পর্যায়ে, তখন তাঁর খ্যাতি এবং জন্মসূত্রে ইহুদি সংযোগ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মানসিক-শারীরিক অত্যাচার সহ্য করেন। তাঁর নিজের লেখা মূল্যবান তথ্য পুড়িয়ে দেওয়া হয় চোখের সামনে। নিরুপায় হয়েই পালিয়ে যেতে হয় লন্ডনে। শেষের সে দিন তখন ভয়ঙ্কর রিফুজি অবস্থায় কাটছে যখন, ধরা পড়লো ক্যান্সার বীজ শরীরে জাঁকিয়ে বসেছে। সমস্তটা জীবনে নানা মানুষের আতঙ্ক, সাবকন্সসিয়াস মানসিক অবস্থা নিয়ে এনালাইসিস করা ব্যক্তি নিজেও ভয় পেয়েছেন বহুবার নিজেকে নিয়ে। আতঙ্কে থেকেছেন। মনে হয়েছে জীবনকে ধরে রাখবেন নাকি হাল ছেড়ে দেবেন। শেষে যখন অসুস্থতা চরমে, খাওয়া বন্ধ হলো, কথা বলাও, নিজের মৃত্যুর ভয়ে প্রতিদিন মরছিলেন পলে পলে। সিদ্ধান্ত নিলেন মরফিনের হাই ডোসে মৃত্যুবরণ করবেন তাঁর ডাক্তার বন্ধুর সাহায্যে। হলোও তাই। প্ল্যান মাফিক কাজ।

প্রাগের মূর্তিটি তাঁর ওই মানসিক অবস্থাকে উৎসর্গ করেই, ধরে রাখবেন নাকি জাস্ট ছেড়ে দেবেন!

Wednesday, 12 September 2018

একটি অদ-ভূত

গল্পের প্লট:
একটি গ্রাম, গ্রামে অন্ধকার, গ্রামে বন-জঙ্গল, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসী, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসীর কুসংস্কার। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে হেজিয়ে দেওয়া অতি পরিচিত ভূত-ভূত প্লট।

গল্পের অদ-ভূত:
একটি মহিলা।

ওনার বৈশিষ্ট্য:
লাজুক মহিলা যার মুখের অর্ধাংশই ঘোমটা ঢাকা। ইনি ওড়েন। হাত-পা না নাড়িয়েই, জাস্ট উড়তে পারেন। ওনার টার্গেট মূলতঃ পুরুষ। তবে আচমকা নিরীহ পুরুষদের ওপর চড়ে বসেন না। যথেষ্ট সতর্কীকরণ বার্তা জানিয়ে তারপরই হামলা করেন। প্রথমে ফিসফিসিয়ে তার নাম ধরে ডাকেন। তারা সাড়া দিলে ধাঁ করে কাঁধের কাছে পৌঁছে যান। এবং তখন সময় দেন। পুরুষটি যদি মুখ ঘোরায়, তবেই তাকে উনি সম্মতি বলে ধরেন। নচেৎ কি করেন, তা জানা নেই। কারণ এযাবৎ ওনার ডাকে সাড়া না দিয়ে কেউ থাকেনি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিধারণকারিনী এই মহিলা ভূত এরপর লেসার পয়েন্টার লাইট ফেলেন ছেলেটির চোখে। ব্যাস। কোথায় যাবে। পুরুষটি আন্ডার হার কন্ট্রোল এন্ড টেকেন ইনটু হার ডেরা। এই ভূতের বিশেষত্ব হলো, ইনি নিজে চব্বিশ হাত কাপড়ে ঢাকা থাকলেও শিকার নেওয়ার সময় পরিবেশের প্রতি যথেষ্ট সচেতনতা দেখান। তাই পুরুষটির জামাকাপড় রিসাইক্লিং -এর জন্য ওখানেই ফেলে শুধু শিকারটিকেই বগলদাবা করে কেটে পড়েন।

ভূত তাড়ানোর উপায়:
গ্রামের সবাই এই মহিলা ভূত এবং তার পদ্ধতি-প্রণালী সম্পর্কে অবগত। তাই তারা প্রত্যেকে বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে, ওই মহিলাকে না আসার অনুরোধ জানিয়ে দেওয়াললিখন করে রাখে। লক্ষণরেখা কনসেপ্ট। মহিলা ভূতটি শিক্ষিত, শিষ্টাচার-সমৃদ্ধ এবং ভদ্র বাধ্য। দেওয়াললিখন থাকলে উনি সে বাড়ির পুরুষদের বাড়িতে থাকা অবস্থাতে শিকার কনসিডার করেন না। কিন্তু রাস্তাতে হাতে নাতে ধরেন।

কেসটা কি:
"স্ত্রী"।
বাড়ির পুরুষদের বিনা কাপড়ে গায়েব করা ভূত তাড়াতেই হবে। এই বেমক্কা রাস্তা-আক্রমণ রুখতে এবং এই অদ-ভূত চিরতরে তাড়াতে যে পরিস্থিতি পরিবেশ তৈরী হয়, তাই নিয়েই সিনেমা "স্ত্রী"। এক বালতি পপকর্ন শেষ করেও গল্পের শেষে মাথা চুলকোতে চুলকোতে হল থেকে বেরোলেন। গল্পের “হরর” হড়হড় করে মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়ল। "কেসটা কি হলো" এই নিয়েই কো-অডিয়েন্সের সাথে আলোচনা করতে করতে ওলা ধরে বেহালা পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। কিন্তু কিছুতেই শেষে কি হলো, কেন হলো, গভীরে গেলেন, আরো গভীরে গেলেন, কিন্তু কেসের তল খুঁজে পেলেন না।
এই হলো "স্ত্রী"।



পুনশ্চ: রাজকুমার রাও, অপারশক্তি খুরানা, অভিষেক ব্যানার্জী এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠি একসাথে এই অদ-ভূতকে আউট এন্ড আউট কমেডি করে তুলতে পেরেছে। ওদের অভিনয় দুর্দান্ত। ডায়ালগ রাইটারকে স্যালুট।

Monday, 4 June 2018

সব একরকম ব্যালান্সড

বেলা বৌদি শুধু বলে যায়,"ওরা ভালো নেই, ওরা ভালো নেই"

অথচ,
প্রিটি জিন্টা ছবি দিচ্ছে লাঞ্চের,
মেসি বল পায়ে সেলফি তুলছে,
রশিদ খান ফাটাচ্ছে,
অর্ণব গোস্বামী চেঁচাচেছ,
নতুন মোবাইল মার্কেটে,
কমল হাসান টুইটে,
পেট্রোল পনেরো আনা ডাউন,
ফেরারিও ফেরারি মন,
রাশিয়া গ্যাস দিলো, ভারত খেলো,
ঝড় এলো (বলে)

সব তো দিব্বি। তেলে ঝালে নুনে মিষ্টিতে সব জমেছে ভালোই। সব একরকম ব্যালান্সড।
তবু বিকেলবেলা ছাতে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে জামগাছটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বেলা বৌদির নাভিশ্বাস ওঠে। বৌদি শুধু বলে যায়,"ওরা ভালো নেই, ওরা ভালো নেই"। নাভিশ্বাস সামলাতে রোজ সন্ধ্যে হালদার ডাক্তারকে হাল ধরতে হয়। ওষুধে কাজ হয়না।
কাল অব্দি একশো পাঁচটা জাম ছিল। আজ আটটা কম। বাঁদর নেই। পাখি ঠোকরায় না। হাওয়ার দমক তো ছিলোই না। তবু জাম নেই!

জাম যায় কোথায়!
জাম যায় কোথায়!
জাম যায় কোথায়!

পাড়ার লোকজন বলে, কালের দোষ। গরমকালের। সুস্থ মানুষ পাগল হয়ে যাচ্ছে। নাহলে ওই জাম নিয়ে কেউ ভাবে .......
বেলা বৌদির ছেলে আমেরিকা থেকে চেঁচায়, জামগুলো পেড়ে খেয়ে নিলেই তো হলো। তাও দেবে না। বাড়িতে একা বসে বসে এই অবস্থা। লোকজনের সাথে কথা বললে, এদিক ওদিক ঘুরতে বেরোলে তবু যদি .......
ডাক্তার বলে,মানসিক সমস্যা বলে তো মনে হয়না। সবই তো ঠিকঠাক বলছেন, করছেন। শুধু জাম নিয়ে ......

বৌদি শুধু বলে যায়,"ওরা ভালো নেই, ওরা ভালো নেই। ওরা চুপচাপ চলে যাচ্ছে। কেউ ভালো নেই। ওরা ভালো নেই।"

Thursday, 15 March 2018

স্কেলটা

"টিক টিক টিক টিক"
ব্যাস ওই আবার। এখন আবার কি? এই এখুনি তো লাঞ্চ খাইয়ে এলাম। ওহো এবার বোধহয় ওনার পটি টাইম। উফফ এটা একটা লাইফ? সারাদিন শুধু  "টিক টিক টিক টিক"। এই চা দাও, এই ব্রেকফাস্ট দাও, এই শাড়ি চেঞ্জ করাও। আর পটি করানো তো যুদ্ধ। সারাদিন খেয়ে খেয়ে আর বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোটা হচ্ছে আর শুধু "টিক টিক টিক টিক"। রোমা বলে, শাশুড়ীরা নাকি খুব ভয়ঙ্কর হয়। তারা নাকি ঝগড়া করে, তারা নাকি বৌয়ের নিন্দে করে প্রতিবেশীর কাছে! আমার প্যারালাইস্ড শাশুড়ী, তাই আমি নাকি ভালোই আছি। প্রতিবেশীর কাছে আমার নাম নিন্দে করতে পারেনা। কথা বলতে পারেনা তাই ঝগড়াও নেই। তা আমি বলি, ওসব হলেই বরং বেঁচে যেতাম। কানের কাছে সারাদিন প্রতি ঘন্টাতে "টিক টিক টিক টিক" তো আর শুনতে হতো না। কোনো শখ-আহ্লাদ-ঘুরতে যাওয়া-সিনেমা যাওয়া তো নেই জীবনে। রোমার সাথেও যে দশমিনিট কথা বলবো তার জো নেই। শুরু হবে "টিক টিক টিক টিক"। সেদিন তো "জননীর কোলে" সিরিয়ালের ঠিক ক্লাইমেক্সের টাইমেই "টিক টিক টিক টিক"। ও বলে, পঁচাশি বছরের ওর মা, তাকে নাকি আর আয়ার ভরসাতে রাখা যায় না, বয়স্কদের ওপর নাকি খালি হামলার খবর পেপারে। তাও তো খুব জোড় করে একজন আয়া রাখা হলো। ওই পনেরদিন মতো টিকেছিল। সারাদিন "টিক টিক টিক টিক" এর জ্বালায় আর রোজ মাঝরাতে আঠারোবার উঠতে গিয়ে সে আয়ার নিজেরই নাকি এখন বাড়িতে আয়ার সেবার দরকার হয়ে পড়েছে।
সারাদিন সমস্ত বাড়ির খেয়াল রেখে তারপর রাতে ওই "টিক টিক টিক টিক" আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন আর কিছু না শুধু একটু ভালো করে ঘুমোতে চাই। কতদিন যে ভালো করে ঘুম টুকু হয়নি!

ওই আবার। "টিক টিক টিক টিক"।
"দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাকে বাথরুম থেকে তো বেরুতে দাও উফফফফ"
মাঝে মাঝে মনে হয় ওই যে স্কেলটা দিয়ে খাটের ধারে "টিক টিক টিক টিক" করে, সেটা দিয়েই মাথাতে ..... 

============================================================================

- কি হলো, উঠে পড়লে কেন?
- না ওই যে মা বোধহয়  ....
- মা? পর্ণা তুমি আমার মা কে এতো ভালোবাসতে? উনি চলে যাওয়ার পরেও  .....
- ও হ্যা। রোজ রাতে কি যে হয়। কিন্তু আজ যেন  ..... যাক ঘুমিয়ে পড়ো। আমিও  ..... এই ওটা কিসের আওয়াজ। শোনো, শুনতে পাচ্ছো। শোনো
- কোথায় পর্ণা কিচ্ছু তো নয়। তোমার মনের ভুল। শুয়ে পড়ো।
- উফফফফ ভালো করে শোনো। শোনো না। আরে এইটা স্কেলের তোবড়ানো দিকটার আওয়াজ। আমি জানবো না? এই ছ'বছর ধরে শুনছি  .....
- পর্ণা  .....

Friday, 16 February 2018

ট্যাটু

- দ্যাখা দ্যাখা ওটা কি ..... ওটা কি দ্যাখা
- উফফ মা ছাড়ো তো , আমি জাস্ট বাড়ি ঢুকলাম আর তুমি শুরু হয়ে গেলে।
- ঋক, দ্যাখ আমার দিকে। কেন হাত লুকোচ্ছিস! দ্যাখা হাতটা দ্যাখা।
- উফফ মা 
- একি এটা কি? এটা কি করেছিস?
- ও কিছু না। ট্যাটু। বাবাকে বলবে না কিন্তু। বলো বলবে না। প্রমিস করো।
- ট্যা?
- টু।
- মানে? ওই যেগুলো একদম সুঁচ বিঁধিয়ে  .....
- উফফ আরে এ সব কুল মা  ..... তুমি বুঝবে না  ..... আরে কি হলো? মারছো কেন? থামো থামো বলছি। উফফ মা কাম অন  ..... আরে আবার কাঁদছো কেন? আরে তুমি যে কি করো না।

********
- কে কে ওখানে? মা তুমি? কি হলো?
- লেগেছে বাবা তোর?
- আরে না না। তোমার ওই নরম হাতে লাগে নাকি। তোমারই হাতে লেগেছে দ্যাখো। আমার বাইসেপ্সে কি স্ট্রেন্থ জানো? হে হে।
- ধুস। আমি বলছি ওই যে হাতে সুঁচ ফোটালো  .... তাতে লাগেনি?
- ওহ একটু। মাইনর। তুমি আবার কাঁদছো নাকি! উফফ মা  .....
********
- এই যে এদিকে আসুন আসুন এদিকে।
- এই এরা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে গো? ঋক কোথায়? বলো না আমরা এখানে এসেছি কেন? ইসস কি গন্ধ।
- দেখুন। বডির অবস্থা খুব খারাপ। মুখ দেখে ভয় পাবেন না। বাসটা মুখের ওপরেই  ..... মানে যাই হোক দেখুন যদি শার্ট-প্যান্ট বা বডির অন্য কোনো আইডেন্টিফিকেশন দেখে বলতে পারেন, ঋক বসু ইনি কিনা  ..... ওকি ওকি হাতটা ধরে এরকম  ..... ট্যাটুটা কি আইডেন্টিফাই করতে পারছেন? ওকি এই ওনাকে ধরুন ধরুন  ..... উনি বোধহয় ফেইন্ট হয়ে যাচ্ছেন   ..... বলছি মিস্টার বসু, সরি মানে আমাদের ডিউটি, প্লিস বলুন আপনার ওয়াইফ কি কিছু আইডেন্টিফাই করতে পারলেন? ইনি কি ঋক বসু?


Monday, 23 October 2017

আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ

-ও এম জি! দিস ইস ড্যাম অসাম ইয়ার। এটা বট না অশ্বত্থ?
-অশ্বত্থ গাছ। খুব পুরোনো হবে। বাড়িটাকে পুরো জাপটে ধরেছে। হে হে যেন বাড়িটা ওর প্রেমিকা।
-তুই এই দেখছিস? আমি ভাবছি, প্রোপার্টিটার কি বিচ্ছিরি অবস্থা। নিশ্চয় ছেলে-মেয়েরা সব আমেরিকা-লন্ডনে। আর কোর্টে কেস চলছে। হিয়ারিংয়ের ডেট পিছোচ্ছে। সেম ওল্ড স্টোরি।
-ধুস। তুই আনরোমান্টিক। আমার মতো করে ভাবলেও তো পারো দেবী ফর আ চেঞ্জ। শিকড়-এ একটা আর্ট আছে, দেখ। লুক্স লাইক একটা মেয়ের এলোমেলো সাহসিনী চুল।
-আমার তো মনে হচ্ছে একটা নাম্বার, সামথিং লাইক থার্টি নাইন?
- হে আমার আনরোমান্টিক, সংখ্যাতত্ববিদ দেবী, আপনি এর মধ্যে কোর্টের কেস আর সংখ্যা ছাড়া আর কিছু পেলেন না দেখে নিশ্চিন্ত হলাম।
- নিশ্চিন্ত কেন?
- বিয়ের পর সংসারের জমা-খরচের রেসপনসিবিলিটি তোমায় দিয়ে আমি মাতবো আপন তালে।
- স্যাট আপ।
- আচ্ছা আচ্ছা, যাক ফটো তুলে নি কি বল। রাতে একবার আসবো। বিউটিফুল একটা ক্যাপচার হবে এক্সপেক্ট করছি।
-এই, আজ কি রে? পূর্ণিমা না অমাবস্যা?
-ওহ গস। কাম অন। আমি কি বলছি, আর তুই কি বলছিস! আই ডোন্ট নো ইয়ার, পূর্ণিমা না অমাবস্যা। কাল রাতে কালীপুজো গেলো। নিশ্চয় অমাবস্যা হবে। রাইট?
-দিদা বলতেন, অমাবস্যার রাতে বট বা অশ্বত্থ গাছের তলায় যেতে নেই!
-ডোন্ট টেল মি, সেটা তুই বিলিভ করিস আজও। প্লিস লেট্ মি কন্সেন্ট্রেট। আজ রাতে আসছি। একটা ফাটাফাটি ক্লিক তোমাকে উপহার দেব বেবি।
=======================
"আজ কি অপরূপ সাজ তোমার হে পৃথিবী
অশ্বত্থে আজ লেগেছে হাওয়া, উত্তাল মাধবী।
হা হা হা হা। আজ অমাবস্যা। অশ্বত্থের আজ কামনা জেগেছে, আবার। আবার সে আজ মহাতরঙ্গময়। যেমন হয়েছিল আজ থেকে ষাট বছর আগে। পাতায় পাতায় কেমন ইশারা। ডালে ডালে চলেছে সর্বনাশা খেলা। শিকড়গুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। উদ্দণ্ড শক্তি চেপে বসেছে ওতে। আজ কি নেশায় মেতেছে যেন। গুণে দেখেছো উনচল্লিশ। সেই উনচল্লিশটা খিদে মিটিয়েছিলো অশ্বত্থ একে একে উনচল্লিশ তাজা প্রাণে। আরে আরে এ ছেলে-মেয়ে দুটি কোথায় যায়? ওদের আটকাই কিভাবে। এই কি বিধাতার ইচ্ছে? আজ কি আবার? আবার? না, না ..."
=========================
-এই পিনটু দেখ দেখ, অশ্বত্থ গাছটা কিরকম বেড়ে গেছে এক রাতে?
-আরে ও সব ওরকমই। বাড়িটা কোনদিন ভেঙে পড়বে, দেখিস।
-এই দেখ দেখ, শিকড়ে এমন জড়িয়ে আছে, যেন কি একটা বোঝাতে চাইছে।
- ওই আবার। আবার সেদিনের মতো। আজ কি সংখ্যা? নাকি আজ তোকে ডাকছে, বলছে, দোল খাবি? হ্যা? হা হা।
-আরে ইয়ার্কি না। সত্যি দেখ, শিকড়গুলোর আঁকাবাঁকা পথ গুলো দেখ। কিরকম একটা যেন লাগছে। মম ... ওই চার আর এক দেখ দেখ একচল্লিশ। একদম যেন একচল্লিশ। ও ও ওই ও ও ওই কিছু শুনতে পাচ্ছিস? একটা চিৎকার? কেউ যেন কিছু বলতে চাইছে?


-ধুর ভাই। চল তো যত্তসব। এই সেদিন বলি উনচল্লিশ। আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ। আবার চিৎকারও শুনছিস? তুই কবিতা লেখ না হয় ডাক্তার দেখা। হা হা। এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? ধুর। শোন। সামনের অমাবস্যায় রাতে আসবো দুজনে কেমন? কিচ্ছু ভয়ের নেই। একবার রাতে এখানে এসে বসবো, দেখবি ভয়-টয় সব হাওয়া। কবে রে অমাবস্যা? পরশু?

Sunday, 14 May 2017

স্ট্রেইট লাইনটাই একমাত্র রাস্তা

- হ্যা হ্যা স্ট্রেইট লাইন। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। 
- তুমি কি করে একথা বলছো সেনদা? তুমি কি দেখেও দেখছো না? তুমি দেখছো না এ রূপকথার রাজ্য। বাস্তবে অথচ কিচ্ছু নেই, ফক্কা। কিন্তু সবাই ভাবছে, আছে। মানে জানে যে নেই, তবু জোর করে নিজের ঘাড়কে দু হাত দিয়ে চেপে ধরে বোঝাচ্ছে যে এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব এটাই বাস্তব। দুষ্টু লোক, রাজকুমার আর রাজকন্যে এই নিয়েই আজকের বায়োস্কোপের এসেসমেন্ট। বাস্তব কেউ বলেনা। সুড়সুড়ি দিয়ে কান্না? আছে। সুড়সুড়ি দিয়ে হাসি? তাও আছে। নেই শুধু প্রাণ। আত্মারাম নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে নাকি তাকে হিপ্নোটাইসড করা হয়েছে বলতো? কোথাও মনে হয়না- এই তো আমার গল্প। থিয়েটারে তবু আজকাল একটুআধটু … কিন্তু ফিল্ম? শুধু ভাবাবেগময় একটা ক্লান্তিকর গতি। রূপকথা দিয়ে খিদে মেটে? জ্বালাটা শান্ত হচ্ছে না যে। কেউ আঙ্গুল তুলে বলে না,"রাজা, তোর কাপড় কোথায়?" 
- তা সে আমাকেও লোকে অভিযোগ করতো। আমি নাকি বড্ডো ডিরেক্ট। আমার তবু মনে হতো, আই মাস্ট মেক এ পয়েন্ট। কিন্তু মাঝে মাঝে নিজের বিশ্বাসেই তো মনে হতো যেন হালকা ফাটল..... 
- তবু তো তুমি যা দেখাতে সেটা রিয়ালিটি ছিল। বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে, সময়ের সাথে, ম্যাচুরিটির সাথে। কিন্তু সেই ফাটল টাও তো লুকোও নি। আল্টিমেটলি ভণ্ডামিকে তো প্রশ্রয় দাওনি। ভণ্ডামি তো আজও আছে। বাস্তবে প্রতিবাদের অক্ষমতা থাকতে পারে। তাই সেখানে না পারলেও, ছবিতেই তো সে ভণ্ডামিকে নেকেড করা যায়, যেমন তুমি করেছো। না হলে কিসের আর্ট?
- আমার সময় উন্মত্ততা ছিল। 
- আজ নেই বলছো?
- আছে, কিন্তু মানুষ অনেকদিন যুদ্ধ দেখেনি। ভিতরে লড়ে চললেও অনেকদিন বাইরের লড়াই না দেখে দেখে মানুষ ভীতু হয়ে গেছে। মানুষ বড়ো ভয়ে আছে।
- আমার মাঝে মাঝে কান্না পায় সেনদা। দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় আর পারবো না। 
- সেই জন্যই তো স্ট্রেইট লাইন। যা দেখছিস তাই এঁকে দে। একদম স্ট্রেইট। ঐটাই একমাত্র রাস্তা। "আজ" নিয়ে ভাব। দেখবি তোর পরের প্রজন্মও ছবি দেখে বলছে - এই তো আমার গল্প। আসলে সময় বদলায়। কমোডিটি বদলায়। মধ্যবিত্ত বদলায় না। সমস্যা বদলায় না।বুর্জোয়া অপরিবর্তনীয়।

(14th May জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন শ্রী মৃনাল সেন।)



Monday, 3 April 2017

গাইয়ে হবু-জামাই

বেশ অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মেয়ে কমলা নাকি প্রেম করছে, তাও আবার এক গাইয়ে বাউন্ডুলের সাথে। মেয়ের বাবা ডেকে পাঠালেন গাইয়েকে। ইন্টারভিউ টাইম উইথ প্রবাবল-হবু শ্বশুরমশাই।
---------------------------------------------------------
-কতদিন ধরে চলছে এসব?
-পুরানো সেই দিনের কথা, হায় ও সেই, চোখের দেখা প্রাণের কথা .....

-থাক থাক ওকি গান শুরু করলে কেন? বলছি যে, কিছু করা হয়? নাকি বাবার হোটেলেই....
-হা-আ-আ-আই। নাই কাজ নাই। দিন যায়, দিন যায়। আয় আয়, আয় আয়। হাতে কাজ নাই॥

- ও বাবা তারমানে লবডঙ্কা!
-তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে,আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে ....

-কি জ্বালা! আরে বাপু কি খাওযাবে আমার মেয়েকে?
- আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছু তো নাই বাকি, ওগো নিঠুর, দেখতে পেলে তা কি ....

-কি কপাল, মা কমলা আর কোন ছেলে পেলে না মা, শেষে এই? তা ছেলে, তোমার বাবা-মা কি বলছে?
- হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো--সুর হারালেম অশ্রুধারে....

- বটেই তো, তা হবে না, এ ছেলের জন্মমাত্রই মা-বাবার এই হাল বলে আমার মনে হয়! বাপে তাড়ানো মায়ে খেদানো কেস, তা কি আমার ঘাড়ে পড়বার পরিকল্পনা নাকি?
- হৃদয়-আবরণ খুলে গেল তোমার পদপরশে হরষে ওহে দয়াময় ....

- জানতাম আমি, এ সব কেস কি করে ঠিক করতে হয় আমি জানি.
- হৃদয় মোর কোমল অতি, সহিতে নারি রবির জ্যোতি, লাগিলে আলো শরমে ভয়ে,মরিয়া যাই মরমে॥

-- (মাথায় হাত দিয়ে)হে ভগবান ....
-- (ইন ঘরে-বাইরে-সৌমিত্র স্টাইল) শাসনে যতই ঘেরো আছে বল দুর্বলেরও, হও-না যতই বড়ো আছেন ভগবান।


Thursday, 30 March 2017

ভালোবাসার মার্কেট ভ্যালু

গতবছর স্বামীটি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, বিয়ে করেছে অন্য কাউকে। আর তার পর থেকেই নাকি মেয়েটির সাজসজ্জ্বার বহর বেড়েছে। পাড়ায় কানাঘুষো যে, আবার মেয়ে বিয়ে করবে তাই.... হাতে চুরি একটার থেকে বেড়ে দুটো-তিনটে। মাথায় ফুল, কখনো গয়না। শাড়িটা নাকি আজকাল উঁচু করে পড়ে। সাইকেল চালিয়ে যখন কাজে যায়, এদিক ওদিক তাকায়, বোধহয় পুরুষ খোঁজে। এমন তখন তার চাউনি, যে দেখবে সে বশীভূত হয়ে যাবে। কথা বলে যখন, কোমড়ে হাত দিয়ে ন্যাকামো করে। রাত-বিরেতে একা একা ঘুরে বেড়ায়, নোংরা পাড়ায় যায় কিনা কে জানে? আসলে পুরুষের মন ইলাস্টিকের মতো, টানতে হয়। আজকাল সাজের বহরে অনেকেই উঁকিঝুঁকি মারে বটে। তাতে মেয়েটির বেশ মজা লাগে। ভালোবাসতে মেয়েটির বেশ লাগে। ভালোবাসার কথা শুনলে বুক ঢিপঢিপ করে, শিহরণ জাগে। এই তো সেদিন পূর্ণিমায় ছেলেটি মাতাল হয়ে কত্ত ভালোবাসার কথা বললো। শেষে বিয়ের কথা অব্দি বলে বসলো। এটাই তো চাইছিলো মেয়েটি, খুশিই তো হওয়ার কথা। কিন্তু কিরকম যে সব গুলিয়ে গেলো, কেমন পচা গন্ধ চারিদিকে। সব নেশা উড়ে গেলো যেন। ছেলেটি তখনও ঘ্যান ঘ্যান করছে। ছেলেটিকে "না" বলে ছেড়ে আসতে কি যে আনন্দ হচ্ছিলো। ছেলেটি এখন দেখলেই দৌড়ে পালায়।
কেন এরকম?
এই ফাগুনে পাশের পাড়ার বুড়ো মাস্টারও খুব কদিন পিছু পিছু। সুন্দর সুন্দর মিষ্টি মিষ্টি কত কথা। বলে নাকি ওগুলো কবিতা। মেয়েটির মাথায় কিছু ঢোকেনি, কিন্তু শুনতে বেশ লাগছিলো। মাসখানেক চলেছিল এই খেলা। মাঝে একদিন হাত বাড়ালো এদিক ওদিক, কিন্তু মেয়েটির চাহনিতেই সে হাতের উন্মাদনা শাসিত হলো। বোধহয় সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তাই রাতে ডাকলো চাঁদপুরের বনে। মেয়েটির কোনো ভয় নেই যেন। চলে গেলো একাএকা। গান হলো, নাচ হলো, নেশা হলো, হঠাৎ মাস্টার বলে বসলো," চল বিয়ে করি, এই সব যারা আমাদের দেখছে, ওই পলাশ, ওই আফ্রিকান টিউলিপ, ওই পান্থপাদপ, দেখ কিরকম দুলছে, সায় দিচ্ছে আমাদের কথায়, ওদের সাক্ষী করে চল বিয়ে করি". অমনি পচা পচা গন্ধ, মদটাতে কে যেন বিষ-তিতো ঢেলে দিয়েছে। তারপরের কথা মনে নেই মেয়েটির। শুধু মনে আছে যে, বাড়ি ফিরে আসতে আসতে খুব মজা লেগেছিলো, খুব হাসছিলো মেয়েটি। পরের দিন ডাক্তারের একটি দল এলো শহর থেকে। মেয়েটিকে নিয়ে গেলো তাদের সাথে।

ডক্টর রায় এই গল্পটা আমাকে বলেন। মেয়েটির নাকি মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। মাস্টারকে নাকি পাথর ছুড়ে মেড়েছিলো, সারা পাড়া তখন ওর পাশবিক হাসিতে জেগে উঠেছিলো।


আমি হেসে বললাম, দোষটা আমাদেরই। ভালোবাসার মার্কেট ভ্যালুটা ওকে জানানো হয়নি যে। ওটা তো বিনামূল্যে পাওয়া যায় না।

Monday, 6 March 2017

রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"

রিকির আজ ক্লাস ফোর হলো। নতুন ক্লাসে শুরুর দিনে সবাইকে নিজের ব্যাপারে চার লাইন বলতে বলা হলো। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা নানারকম ভাবে নিজেদের কথা বলছে। এবার পালা রিকির। রিকি বেঞ্চ থেকে উঠে ধীরে ধীরে গেলো সামনে। শুরু করলো।
"আই এম রিকি বোস। মাই ফাদার ইস ধীমান বোস। মাই মাদার ইস শর্মিলা বোস। মাই ফাদার ইস এ পোয়েম   ....."
কেউ কেউ হাসতে শুরু করলো। টিচার বললেন,"রিকি, নট পোয়েম বেবি, ইট উইল বি পোয়েট"
রিকি বললো,"উফফ, সরি টিচার, মাই ফাদার ইস এ পোয়েট। মাই মাদার ইস এ  ......" বলে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে রিকি।
টিচার পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন,"ওকে, ভেরি গুড, নেমে এসো রিকি। হু ইস নেক্সট?" সমস্ত ক্লাস যথারীতি ক্লাপ করলো। উঠে পড়লো পরের জন।
রিকি বেঞ্চে ফিরে আসতে পাশে বসা বন্ধু টনি জিজ্ঞেস করলো,"তুই কেনো স্টেমার করছিলি? চুপ করে গেছিলি কেনো হঠাৎ? তোর মা কি করে? ডক্টর? হাউজওয়াইফ?"
রিকি বললো,"আমার মা শুধু পাপার হাত ধরে থাকে।"
টনি হেসে উঠলো,"শুধু পাপার হাত ধরে থাকে? আর কিছু করে না? আর ইউ ম্যাড রিকি?"
রিকি মাথা নিচু করে বিড়বিড় করলো,"সত্যি বলছি"
বাড়ি ফিরে টনি সব কথা মাকে বলছে, আর হাসছে। যত হাসছে, মার মুখ তত গম্ভীর হচ্ছে। শেষে মা বললো,"টনি বেবি, তুমি রিকির থেকে একটু দূরে থাকবে হ্যা? যা বলছি শুনবে কিন্তু। হি ইস ইল"
ইল!!
পরের দিন টনির মা দেখা করলেন রিকির বাবার সাথে, সব বললেন, শেষে বললেন,"আমার মনে হয় ওকে ভালো সাইক্রিয়াটিস্ট দেখানো দরকার। মানে বাইরে থেকে তো ও সুস্থ। প্লিজ ডোন্ট টেক মি রং। হয়তো মায়ের অভাবটা ফিল করতে করতেই  ......"
রিকির বাবা টলোমলো পায়ে বাড়িতে ঢুকেই খোঁজ করলেন ছেলের। ছেলে ঘুমোচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গা অব্দি অপেক্ষা করতে সোফায় ঠাঁয় বসে ভাবলেন। এ কি ভাবে সম্ভব। সত্যি ছেলে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে?
তখন ছটা হবে, ছেলে পিছন থেকে "পাপা, এসে গেছো" বলে গলা জড়িয়ে ধরলো। বাবা শান্ত ভাবে, রোজের মতো স্কুলের সমস্ত গল্প শুনলেন। কিন্তু ক্লাসের ঘটনাটা এড়িয়ে গেলো রিকি। বাবা জিজ্ঞেস করলেন," রিকি সোনা, তুমি জানো তোমার মা আকাশের ষ্টার, বলেছি না কতবার? তবে তুমি টনিকে আজ ওরকম বললে কেনো?"

রিকি চমকে গেলো, পাপা জানলো কি করে? বিড়বিড় করে চোখ ছলছল রিকি বললো,"মা সবসময় তোমার হাত ধরে থাকে। দাদুকে বলেছিলাম, দাদুও বিলিভ করেনি। আমাকে বকলো, তোমাকে বলতে বারণ করেছিল...তাই তো আমি … এখনো মা তোমার হাত ধরে আছে, তুমি একবার ঘুরে আয়নায় দেখো? পাপা, মা তোমার সাথেও কথা বলে না? কি হলো পাপা, কথা বলো, তুমি কি ভয় পেয়েছো?"