Showing posts with label দুর্গা কথা. Show all posts
Showing posts with label দুর্গা কথা. Show all posts

Saturday, 7 October 2017

থিমের প্যান্ডেল

রসিকবাবু ফাইনালি এবার হুপহাপ্ করে হপিংয়ে বেরোলেন, গিন্নিকে নিয়ে প্যান্ডেল। 
- বেহালা মন্দ কি। প্যান্ডেল সে তো আছেই। অশোকার মোগলাইও তো আছে। বেঙ্গল হোটেলের মটন কাটলেটও তো .... 
(গিন্নি কটমট চোখে)- বেরোতে না বেরোতেই খাওয়ার চিন্তা এসে গেলো, তাই না? বলি বিয়ের পর এই প্রথম তো নাকি। 
- আহা এতো হাটবে, শরীর টাকে রাখতে হবে না? তাছাড়া তোমার পছন্দের প্রচুর ডালডা ঢালা এগরোলও তো আছে- এগরোল ফ্রম হাজি, কি রাজি?
(গিন্নি) - সে পরে দেখা যাবে। চলো চলো, এতে ঢোক তো। কি সুন্দর প্যান্ডেলটা। এই কি থিম গো এইটের?
- দাড়াও বুঝে দেখি। ভিতরে চলো। ওকি কিছুই তো নেই। প্যান্ডেল কি কমপ্লিট হয়নি নাকি? সব তো ফাঁকা। নাকি চোখে দেখা যাচ্ছে না? বললাম কাটলেট খেয়ে ঢুকি। তাতে চোখ-মাথা সব ভালো খোলে। থিমের প্যান্ডেল বোঝা কি সহজ নাকি? নিড এলেম গিন্নি।
(সিকিউরিটি) - স্যার ওপরে তাকিয়ে দেখুন। টেবিল, চেয়ার, আলমারি সব ওপরে সাঁটানো। বুঝলেন না? এটাই থিম। যেন বাড়িটা উল্টে গ্যাছে।
(গিন্নি) - এই এই ওকি কি করছো, ওগো কে কোথায় আছো গো? এই এরকম শুয়ে পড়লে কেন? দেওয়াল বেয়ে কি করছো?
রসিকবাবু ততক্ষনে দেওয়াল বেয়ে মাথা নিচে, পা ওপরে।
- আহা আহা গিন্নি এইবার থিম টা বোঝা যাচ্ছে। থিমের নাম "শীর্ষাসন"। ঠিক বলেছো গিন্নি, আগে থিমের প্যান্ডেল, তারপর কাটলেট। না হলে এতক্ষনে কাটলেট মাথায় চড়তো।


Tuesday, 3 October 2017

বাঁশ

"বাঁশ" শুনলেন কি ব্যাস অমনি সব ভয়ে ভ। বলি বাঁশকে ভয় পান কেন? আরে মশাই, বাঁশ তো আর নিজে নিজে ভয় দেখায় না। যত্তসব। বাঁশ-ক্যারিয়ারদের ভয় পাওয়াটা বরং লজিকাল। বাঁশ-ক্যারিয়াররা বাঁশকে অন্য-এর ওপর ইউস করলে, তাতে বাঁশের কি দোষ বলুন তো? বেচারা নির্ভেজাল শান্ত বাঁশটি। এভাবে ওকে ভয় পেতে থাকলে আর খিল্লি ওড়াতে থাকলে একদিন যে বাঁশ বাবাজি নিজেই ভয় দেখাতে হামলা করবে না, সে গ্যারান্টি নেই কিন্তু। বাঁশ বলে কি, আত্মসম্মান নেই নাকি! ভাগ্যিস পুজোর প্যান্ডেলে বছর বছর তার একটু সন্মান প্রাপ্তি হয়। না হলে ওনাকে বাগে আনা মুশকিল ছিল। এবারের পুজোতে বাঁশ বাবাজি হেব্বি হ্যাপি সুরুচি সংঘ-এ। তার মেক ওভার আগেও হয়েছে বটে তবে এখানে লুকটা জাস্ট ফাটিয়ে। তৈরী হয়েছে বাঁশ-মানুষ। উচ্চতায় সাধারণদের দু-গুণ। সিক্স প্যাক, বাই-ট্রাই সেপ্স, চেস্ট, মানে একেবারে জমে রাবড়ি। মানুষ-মানুষ সেজে বাঁশের সে কি ঝিং-চ্যাক হাবভাব! সাধারণ মানুষ যখন ভিড়ে গুঁতোগুঁতি করে, ঘাড় উঁচিয়ে, হা করে, শুধু ঢোক গিলছে, বাঁশবাবুর কি মজা। মনে মনে হেব্বি হেসেছে। সে এক কান্ড বটে।

পুনশ্চ: বাকি সবাই যেমন তেমন বাঁশ সামলেছে। কিন্তু অসুর টেনশনে সবুজ হয়ে গেছে। যতই হোক ভিলেন, যতই থাকুক ত্রিশূলের গুঁতো, যতই কামড়াক সিংহ, ফিজিক এর দিক দিয়ে একটা ফেভারেবল পসিশন তো তার ছিল এতদিন নাকি! সেটাকেই চ্যালেঞ্জ? দু হাত তুলে বলছে, "কি বাঁশ। কি বাঁশ"


দেবীকে চক্ষুদান

পূজার বেদীতে বসা দেবীকে যেমন ইচ্ছে সাজাতে পারি, বলেই কি তার প্রতি এতো যত্ন? এতো মন আকুল করা ভালোবাসা?
না হলে, রক্ত-বুদ্ধি ওয়ালা জীবের প্রতি এতো অন্যায় কেন? তাদের বুঝি যেমন ইচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করা কিঞ্চিৎ দুস্কর? 
কাউকে বেশ করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার মধ্যে মনের জ্বালা মেটানো তৃপ্তি আছে একরাশ, তাই না?
যে দেশ কাউকে স্বচ্ছন্দ-স্বাধীন হতে দেখতে পারে না, সে "দেশ লয় গো কত্তা, দেশ লয়। সে দেশলাই, ভিজে দেশলাই। ক্ষুদ্র, সংকীর্ণ, ক্ষমতাহীন।" 

কুমোরটুলিতে আজ দেবীকে চক্ষুদান করা হচ্ছে, দেখুন দেখুন দেবী হাসছেন। এই দেশের অন্তরে চক্ষুদান কবে হবে?

পুজোর দিনগুলিতে নিরামিষ

- এহ!! পুজোর দিনগুলিতে মাংস!!
- আরে পিঁয়াজ-রসুন নেই তো!!
- ওহ নিরামিষ বুঝি। দাও তো পাঁচ পিস্। চর্বিওয়ালা দিও বুঝলে।

Tuesday, 27 June 2017

লক্ষণরেখাটা

কার চোখ, কার দিকে, কখন, কিভাবে, কোথায় এবং কোথায় সুরুৎ করে আটকে যায়, তা কে বলতে পারে! 
রাস্তায় চলছেন ফিরছেন যারা, বিশেষত স্ত্রীজাতীয় হলেই তারা সবাই হলো শোপিস। পুরুষ জাতির চোখ তাদের "দেখে"। তা ভাই দেখা যেতেই পারে। সে দোষের নয়। বরং তা থেকে নতুন রাস্তা তৈরী হয়। কারোর দিকে দেখলেন, ভালো লাগলো, মন ছুঁয়ে গেলো, কবিতার জন্ম হলো, গল্প হলো, কথা আগে এগোলো, জীবনের সাথে জুড়ে গেলো সে। কি সুন্দর! দেখা যদি নাই হতো, তাহলে কি আর এমন মিষ্টি জীবন-চলচ্চিত্র তৈরী হতো? অবশ্য সব সময় যে পরিণতি এরকমই হবে তার মুচলেকা নেই। কখনও ছোট ছোট টেলিফিল্মও হয়, যা এন্ড-দে-লিভ-হাপিলি-এভার-আফটার টাইপ হয় না। কখনও হৃদয়ে চোট, কখনও বা কোমরে। তবে তাতেও একটা এডভেঞ্চার আছে বটে। অর্থাৎ চলতে-ফিরতে ঘুরেএএ -ঘুরেএএ বা আড়চোখে টুক করে দেখা নেওয়ার মধ্যে ক্ষতি নেই। বরং লভ্যাংশ বেশ। তাই তা চলছে। মুশকিলটা হচ্ছে এই “দেখা”র নিউমেরিকাল ফ্যাক্টর এবং তার লিমিট ফাংশান কিছু আজ অব্দি আবিষ্কার হয়নি। তাই সবটাই আপেক্ষিক। কতটা “দেখা” হলে তাতে নারীরা অস্বস্তিতে পড়বেন না তা বোঝার আগেই "অ্যাংরি" রিঅ্যাকশনে ভস্মীভূত হতে হয় বহু নিরপরাধ প্রাণীকে। উল্টোটারও সমান সম্ভাবনা। পুরুষরা গলা লম্বা করে জিগাইতে পারেন, শুধু পুরুষ কেন, নারীরা? হ্যা হ্যা প্রচুর দ্যাখেন। ভারতবর্ষের নারীদের, শিলনোড়ার তলায় যতদিন রাখা গিয়েছিলো, ততদিন আড়চোখে-পর্দার পিছন থেকে, আর আজকাল প্রকাশ্যেই পুরুষ দেখা চলে। আজকাল আবার একটু বেশিই চলে, ওই বোধহয় শিলনোড়ার পুরোনো হিসেব মেটানোর উদ্দেশ্যে পুরুষদের একটু ইচ্ছাকৃতভাবেই.... তবে যাই বলুন পুরুষরাই এখনো এব্যাপারে এগিয়ে। এমন এগিয়ে যে মকবুল ফিদাবাবু ফিদা হয়ে আঁকলেন নগ্ন সরস্বতী। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখলেন সরস্বতীকে দেখে তাঁর পুরুষালী উত্তেজনার কথা। বুঝলাম মা সরস্বতীও টার্গেট। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই উক্তি আবার সরস্বতী-সন্মান পাওয়ার পরেই। শুধুই কাকতালীয়?
ওবাবা তাতে কি? শিল্পে নগ্নতার ভিজ্যুয়াল রিপ্রেসেন্টেশনস তো সেই কবে থেকে.... সেই তো রেনেসাঁস। পাবলো পিকাসো? এগোন শিলে? এঁদের কারুকার্য হা করে দেখবেন। আর মকবুল-সুনীল শুনিলেই চমকান কেন মশাই?
আসলে ভারতবর্ষ কোনদিকে কিভাবে সাবালক হবে, আদৌ হবার প্রয়োজন আছে কিনা, সে নিয়ে বোধহয় একটু বিভ্রান্ত। "ছি ছি জঘন্য" বললেও দুর্গাপ্রণাম করতে গিয়ে এরূপ দৈহিক চিন্তা নিশ্চয় অনেক পুরুষের যে আসে, তা অবাস্তব নয় বলেই মনে হয়। মহিলাদের কি আসে না? আসে। "কার্তিক ঠাকুরকে হেবি হ্যান্ডসম লাগছে" "অসুরের বাইস্পেস তা জাস্ট অসাম" ওই আর কি! তার বাইরের চিন্তা ভাবনা? আসে হয়তো। খুব বেশি নয়। সচরাচর নয়। মহিলারা আজও একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়তো বা ভীতু। তা এর ঠিক-ভুল বিচার করবে মানুষের নিজের মানসিক স্থিতি। কিন্তু যদি তা ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল? তাহলে? কে ওই "জাস্ট একটু দেখা" আর "আয় ছিঁড়ে খাই" এর সূক্ষ্ম সীমারেখা দেখিয়ে দেবে? তবে সে লক্ষণরেখাটাও ছলেবলে পার করানো যায় আর জটায়ুর ডানা কাঁটা পড়ে। আমি ভাবছি মানুষ কবে রোবট হবে! চোখের সামনের চলেফিরে বেড়ানো শোপিস হবে ইমোশনলেস। যা ইচ্ছে করো, কিছুতেই কিছু হবে না। হে হে। ওহো ওহো আরে আরে "ইচ্ছেটাই" তো থাকবে না। তাতে সাহিত্য বন্ধ হবে বা বন্ধ্যা হবে। দুঃখের। কিন্তু পাঁচ-বছরের বাচ্চাকে রড-ঢোকানো-নির্মম যন্ত্রনা তো সহ্য করতে হবে না।


Picture from Google