Saturday, 8 December 2018

টিকালো নাক

টিকালো নাক বড্ডো ওভাররেটেড বুঝলেন। সুন্দর মুখের ওয়ান অফ দি এলিমেন্ট হিসেবে টিকালো নাক ধরা হলেও নাকানিচোবানি কম খেতে হয়না। ফিজিক্স স্যার তো চুম্বকের বিপরীত মেরুর ধর্ম বোঝাতে, উদাহরণ দিলেন ক্লাসের টিকালোমোষ্ট নাক হোল্ডার পটার। ফুটবল, দেওয়াল, দরজা ইত্যাদির সাথে পটার টিকালো নাকের সম্পর্ক যেমন। পটা চুমু খায় চোখ খুলে। যতবার চোখ বন্ধ করে চুমু খেতে গেছে, গার্লফ্রেন্ডের মাথা স্ট্রেইট হিট ওন টিকালো নাক। মাথা ভোঁ ভোঁ। রোমান্সের সাড়ে সব্বোনাশ।
রসিকবাবুর কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে রসিকবাবু বলেন, "যেমন বাজপাখির মতো তোমার নাক ....."
রসিক গিন্নি কনুই মেড়ে রসিকবাবুকে থামিয়ে বললেন,"বাজপাখি নয়, টিয়াপাখি। তোমার তো কোনোদিনই কান্ডজ্ঞান নেই ..... পটুবাবু তুমি ওসব বাজে কথাতে কান দিও না তো। কি সুন্দর লম্বা নাক তোমার ....."
রসিকবাবু,"হে হে নাক গলাতেও সুবিধে। হে হে ...... উফফ তুমি আবার চোখ পাকাচ্ছো কেন গিন্নি!! আমি বলছি টিকালো নাক ভালোই। এই দেখো না অটোগুলো। একটা চাকা ওরকম টিকালো নাকের মতো এগিয়ে থাকে। মার্সিডিজ-ফেরারিকে কেয়ারই না করে, হালকা নাক গলিয়ে দিলেই ব্যাস কেল্লা ফতে। পটে, নাকের গুরুত্ব কাছে বটে। মাঝে মধ্যে খুড়োর কল হিসেবে ব্যবহার করবে কিনা ভেবে দেখো তো খোকা? তবে চুমুটা চোখ খুলেই খেও।"

Friday, 30 November 2018

অশ্বিনীকুমার

রসিকবাবুর পেট ব্যাথা।
কখনো পেটের ডানদিকে, কখনো পেটের বাঁদিকে, আর কখনো একবারে সেন্টার অফ মাস।
সকাল থেকেই থেকে থেকে পেটে হাত দিয়ে,"ওরে ওরে ওরে" করে উঠছেন।
গিন্নী স্পাইডারম্যানের মতো হাত বাড়িয়ে এন্টাসিড সাপ্লাই দিচ্ছেন। বিকেলে "ওরে ওরে ওরে" র ভলিউম সঙ্কটজনক লেভেলে যেতেই পাড়ার ডাক্তারঠাকুরপোকে তলব দেওয়া হলো।

ডাক্তারঠাকুরপো - বুঝলে বৌদি, উল্টোপাল্টা খাওয়ার এতো বাজে স্বভাব রসিকদার। এইটে কন্ট্রোলে না আনলে তো সমস্যা হবেই। লোভ সামলানো কঠিন সাধন, সবাই কি পারে? নিশ্চয় গতকাল কিছু উল্টোপাল্টা খেয়েছিলো, ঠিক বলেছি বৌদি?

রসিকগিন্নী - না মানে  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - ব্যাস ব্যাস আর বলতে হবে না। আপনার চোখের সামনে কি আর খেয়েছে। নিশ্চয় বাইরেই গপাগপ সাটিয়েছে। উফ বৌদি সিঙ্গারাটা কি ভালো বানিয়েছো গো। আর দুটো হবে?

রসিকগিন্নী - হ্যা নিশ্চয়, এইতো নাও। বলছি যে, সমস্যাটা কি বলতো? এরকমতো আগে কখনো দেখিনি। ইদানিং তো ডায়েট করছেন, স্যুপ আর ভেজিটেবল ব্যাস  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - সেকি রসিকদা আর ডায়েট ! ধুস তুমি কি আর খেয়াল রাখছো আপিসে কি করছে? জানো না, মোড়েই বসন্ত কেবিন, এগোলেই পুঁটিরাম তারপর কত কি।

রসিকগিন্নী - এই ওকি, তুমি আঙ্গুল মটকাচ্চো কেন? তোমার আবার গালাগাল করার ইচ্ছে হলো নাকি? এরকম হলেই তো তুমি এরকম আঙ্গুল মটকাও। তোমার কি শরীরে খুব কষ্ট হচ্ছে? মাথা গরম করছো কেন? মানে ঠাকুরপোকে বলো না মাথা ঠান্ডা করে। উঠে বসবে? ও হ্যা বলছে মনে হয়। ও ঠাকুরপো একটু তুলে ধরো তো। কি বলছে বুঝতে পারছি না।

ধরাধরি করে রসিকবাবুকে তুলে ধরতেই রসিকবাবু কেটে কেটে সাড়ে চারটে গালাগাল দিলেন বজ্রনিনাদে। পঞ্চমটার বেলা গলাটা শক্তি হারিয়ে মিনমিন করে ফেলেছে। তাতে আরও রেগে বলতে শুরু করলেন, বেরো বাড়ি থেকে, আমার বাড়িতে এসে সিঙ্গারা গিলছে শুধু না, আমার পেট টিপে টিপে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে দেওয়ার জোগাড় করলো, তার ওপরে আমার নামে আবার উল্টোপাল্টা বকা!! বেরো বাড়ি থেকে এখুনি বেরো বাড়ি থেকে।

ডাক্তারঠাকুরপো - ঠিক আছে ঠিক আছে , ইয়ে এ এ এ এ এই যে রইলো ইয়ে তোমার সিঙ্গারা। খেলাম না পাঁচ নম্বরটা। এভাবে অপমান।

এই বলে পঞ্চম সিঙ্গারাটা ফুল ফোর্সে প্লেটে রাখতে যান ঠাকুরপো। সিঙ্গারাও অমনি ভার্টিকাল এক্সিসে স্পিন করে স্ট্রেইট রসিকবাবুর মুখে।
এহে এহে করে রসিকগিন্নী মুখ থেকে সিঙ্গারা বার করতেই দেখেন রসিকবাবুর মুখে হাসি।

রসিকগিন্নী - এএ ই কি হলো, লাগলো নাকি? হাসছো কেন? পাগল হলে নাকি?

রসিকবাবু- আরে দাঁড়াও দাঁড়াও, সিঙ্গারাটা মুখে ঠেসে ধরতো আবার।

রসিকগিন্নী - এ মানে?

রসিকবাবু- আরে ধরই না। আ আঃ আহা (গপ করে সিঙ্গারা গিলে) কি শান্তি কি শান্তি। আহা আহা কি শান্তি।

রসিকগিন্নী আর ঠাকুরপো চোখ বড়ো করে তাকিয়ে।

রসিকবাবু প্লেটে পরে থাকা ষষ্ঠ সিঙ্গারাটা মুখে তুলে নিয়ে বলতে লাগলেন, অবিচার করেছি এতদিন গিন্নী অবিচার। ডাক্তার আমাকে ক্ষমা করো। তুমি আজ আমাকে মহাপাপ করা থেকে বাঁচালে। সিঙ্গারার ওই টুপটুপে তেল আজ সাতদিন পর জিভে পড়তেই শরীরে কি শান্তি, কি স্বস্তি, কি আরাম। যেন জীবনের আসল মানে খুঁজে পাওয়া। এক বোধোদয়। জানলাম শরীরের প্রতি কি অন্যায় অবিচারটাই না করেছি। জিভ থেকে পেট সবাই অভিমান করছে। বুঝিনি। নেহাতই উপায় ছিল না তাই বিদ্রোহ করেছে। ডায়েট করেছি, স্যুপ খেয়েছি, সিদ্ধ সব্জি চিবিয়েছি। একের পর এক অন্যায়। কি পাপ কি পাপ। নাহ ডাক্তার আর নয়। গিন্নী তুমি অশ্বিনীকুমার হয়ে  ..... ইয়ে আরও কিছু সিঙ্গারা সাপ্লাই দিতে পারো? আভি ইসি ওয়াক্ত ? প্লিস?

Monday, 5 November 2018

রঙ্গমঞ্চ

কালীপুজোর পাড়া-ভোজন।
প্রথমদিন আমিষ। দ্বিতীয়দিন নিরামিষ।
অবাধ খাবার আয়োজন, তার ওপর আমিষ। পাড়ার রিকশারাজু থেকে ডাক্তার হাজরা, মণ্ডপে সবার হাজিরা।
বাঙালি কে কোন শ্লা অসময়নিষ্ঠ বলে?
বেলা বারোটায় রান্না রেডি, খাবার লোক নেই। ঠিক একটা বাজতেই, জনজোয়ার। সব বাঙালির একসাথে খিদে পায়। ফ্রি -এর খাবার পেতে এবার লাগা লাইন। খিদে এবার পেট থেকে মাথাতে। পুজোর দিনে, মণ্ডপে গালাগাল দিলে, দেবীর কোপে পড়ার ভয়। ঢোক গেলা ছাড়া নো উপায়। ইতিমধ্যে পেট ভরপেট করে দাঁত খুঁচতে খুঁচতে বেরিয়ে আসা লোকজন-এর "জিতে গেছি কাকা" টাইপ বাঁকা চাহনি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া। এ যেন যুদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে পড়ে মিনি-পুকুর। লাইন এগোয় অনুপমের কাছিমের মতো। "গুটি গুটি পায়ে আর এগোতে পারে না"। শেষে পুকুর উপচে পড়ার আগেই এক ঠেলাতে একেবারে ফ্রাইড রাইস এর কাউন্টারে। তারপরে স্বপ্নের মতো ফিফটিন মিনিটস। ততক্ষনে পেট দয়াভিক্ষা করে ক্লান্ত। তুবড়ির মতো একটা জম্পেশ ঢেঁকুর দিতেই এ হে হে ...... ফিফটি পার্সেন্ট মাল হড়হড়িয়ে বাইরে। আসলে গলার নিচে ডাউনস্ট্রিম ফ্লো করবে, সে সময়টা পায়নি বেচারা। ঢেঁকুরটা চিরকালই অবাধ্য। আইটেমগুলোকে পেটে স্টে ই যদি না করানো গেলো, তাহলে তো যুদ্ধ-এ ফেল। যাক কেউ দেখেনি। মুখ-টুক ধুয়ে বেরিয়ে পড়লেই বাঁচোয়া। আরে ওদিকে কি? ভিড় কেন? পান-সুপারি টা মিস হলো নাকি? আরে এ হে হে, এতো আরেকজন বমি টমি করে ......
তাহলে এখন বাঙালির টাইম টু এক্ট এস এ শুভানুধ্যায়ী
"আরে কেন এতো খাস? ফ্রি এর মাল দেখলেই হামলে পড়বি? একটু বুঝে খাবি তো নাকি ..... মণ্ডপের এখানে এ হে হে কি ময়লা" ....... এবার কব্জি গুটিয়ে বেরিয়ে পড়া যাক মানে মানে। হে হে সবই "এ মায়া প্রপঞ্চময় ভব রঙ্গমঞ্চ মাঝে"।

Wednesday, 31 October 2018

আসলেতে পাখি সে

টেবিল ১:
শোন্ শোন্ কন্সেন্ট্রেট করতে শেখ। সামনের কালীপুজোতে তুবড়ি প্রতিযোগিতা। নোটবুকটা বার কর দেখি। তুবড়ির মশলার মাপটা ঝালিয়ে নেওয়া যাক। চল চম্পাহাটি। চারটে কাটলেট বলে দে।

টেবিল ২:
অনিককে ফোন করে "হ্যাঁ" বলেই দাও রুমাদিদি। কবিরাজি অর্ডার করবে তো আজ। স্পেশাল ডে বলে কথা।

টেবিল ৩:
আর শোনো, কাল কিন্তু ইলেকট্রিসিটি বিলটা জমা করতে হবে। শুনছো তুমি? আরে আবার কফি অর্ডার করলে যে। উঠবে কখন?

টেবিল ৪:
একটা ব্রীজ রিপেয়ার করতে কতদিন লাগে বলুনতো বরুণবাবু? আমরা নাকি এখন দ্রুতগতির যুগে? ধুর ধুর, এখন কফিটা পেলে হয় সময়মতো।

টেবিল ৫:
পাগলা দাশু জানিস না? পড়িস নি? আচ্ছা মটন মামলেট ..... মানে ওই ওমলেট, খা। খেতে খেতে বলছি।

টেবিল ৬:
বাবার শরীরটা বিগড়েছে। এখানে এসেছি শুনেছে যখন, কাটলেট প্যাক করিয়ে নিয়ে যেতে হবেই গো।

টেবিল ৭:
শোনো তোমার এই রোজকার অভিযোগ শুনে আমি এবার ফেডাপ। আমি কি এতোই খারাপ? এবার দেখবে একদিন সম্পর্কটা এতোই তেতো হবে যে দুজনেই ভ্যানিশ হয়ে যাবো। কোল্ড কফি বলবো?

টেবিল ৮:
পলাশপ্রিয়াকে ভুলতে পারছিস না? একেবারেই না? আজকাল কোয়ালিটিতে বেড়ে গোলমাল দেখছি। নাহলে ০৪ মাসের প্রেম ভুলতে চার কাপই তো যথেষ্ট। যাক তুই দশম কাপটা ট্রাই করেই দেখ তো। কাজ হবেই। হতেই হবে। এই বাড়ির কফির ওপর ভরসাটা এতো সহজে ডাইলিউট হতে দেওয়া যায় না।

টেবিল ৯:
আজ পুরো আঠারো বছর পর তোমার সঙ্গে দেখা। কেমন আছো তুমি? ফিশ ফ্রাই এখনো তেমনি ভালোবাসো? নাকি চেহারার সাথে সাথে স্বাদও বদলেছে?

======

ধুস আড্ডা নয়, কোনো এক অদৃশ্য লেখকের ইচ্ছে হচ্ছে আর টেবিলে টেবিলে তৈরী হচ্ছে ইমোশন, কফি হাউসের স্টিমুলেশনে তাতে টপাস টপাস ফোঁটা ফোঁটা টুইস্ট।

ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে; যার খুশি দেখে এস "কফি হাউসে"।



Saturday, 27 October 2018

নাড়ু

লক্ষ্মীপুজো এলেই আবীর কোমরবেঁধে পুজোর জোগাড়ে লেগে যায়। মা-বাবা-বৌ খুশিই হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের মধ্যে হালকা আধ্যাত্মিক পাঞ্চ থাকলে বাড়ির লোকজন ভরসা পায়। আবীর পুজোর বাজার করে, ঘরের ঝুল ঝাড়ে, লক্ষ্মীঠাকুর ফুল দিয়ে সাজায়, ঘরের ডেকোরেশন করে, মা-বৌ লক্ষ্মীর পা আঁকলে কোমরে হাত দিয়ে রিভিউ করে, আল্পনার ডিসাইন গুগল খুঁজে জোগাড় করে। দেখেশুনে আত্মীয়স্বজন "কি ভালো কি ভালো" বলে। বন্ধুরা হাসে, বলে, কি মেয়েদের মতো  ....... । মা গর্বভরে ছেলের মাথায় হাত বোলান। বাবা কিন্তু প্রত্যেকবারের মতোই বিরক্ত।
- আবু, তুই এবার নাড়ু এনেছিস না আবার ভুলেছিস? আবু? আবীর? শুনতে পেলি?
- বাবা, পরের বছর পাক্কা।
- আবু, প্রত্যেকবার তোর এই এক কথা  ......

মা ছেলের মাথায় হাত বোলান। ছেলের সাথে নাড়ুর কি যে এতো রাগ! ভুলে যাওয়ার ছেলে যে আবু নয়, তা মা জানেন। বৌ রিয়া জানে আজ আবীর ছাতে কাটাবে অনেকরাত অবধি। কারণ জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যায়। জোর করবে এ স্বভাব রিয়ার নেই।

- তুই আবার কাঁদছিস
- কোথায় কাঁদছি?
- আমার সাথে নাটক করিস না। তোর মা-বাবা যে কি, এতোবছরেও তোকে সামলাতে পারলো না।
- সামলানোর কি আছে ? আমি কি বাচ্চা নাকি?
- আচ্ছা, তাহলে এবারেও দোকানে নাড়ু এদিক-ওদিক নাড়িয়ে কিনলি না কেন?
- উফফ, তুমি আবার  ......
- কি আবার? বল বল। চুপ করলি কেন বল।
- ও দোকানদার বাজে কোয়ালিটির নাড়ু গছাচ্ছিল, তাই  ......
- আচ্ছা, অন্য সব দোকানেই বাজে নাড়ু? আবুদাদুভাই, নাড়ুর গন্ধে তুমি আমাকে খোঁজো, তা কি আমার বুঝতে বাকি আছে। তাই না? দাদুভাই? আরে আরে ওই দেখো ছেলের চোখ অমনি ছল্ছলিয়ে  ..... কি মুশকিল .......
- ঠাম্মা, প্যাকেটের নাড়ুতে তোমার শাড়ির গন্ধ খুঁজি, নেই যে ......  এই ছায়াতে বসে তোমার ঘিয়ে মাখা তেলতেলে হাত আমার কপালে চাই সেই আগের মতো, আর পাই না ..... তোমার নরম কোলে মাথা রেখে লালকমলের গল্প শুনতে চাই, শুনি না তো আজকাল   ......  ব্যাঙ্গমাদের কথা শুনে আমার হাসি পেলে, চোখ বড়ো করে বিশ্বাস করাও না তো আজকাল  ...... পাঁচালি পড়ার সুরটা তোমার মতো কারোর নয়, কেনো বলো?   ......  ঠাম্মা, কেন ছায়া হয়ে আছো ঠাম্মা? ঠাম্মা  তুমি ফিরে এসো .......

Wednesday, 12 September 2018

একটি অদ-ভূত

গল্পের প্লট:
একটি গ্রাম, গ্রামে অন্ধকার, গ্রামে বন-জঙ্গল, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসী, গ্রামের ভীতু গ্রামবাসীর কুসংস্কার। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে হেজিয়ে দেওয়া অতি পরিচিত ভূত-ভূত প্লট।

গল্পের অদ-ভূত:
একটি মহিলা।

ওনার বৈশিষ্ট্য:
লাজুক মহিলা যার মুখের অর্ধাংশই ঘোমটা ঢাকা। ইনি ওড়েন। হাত-পা না নাড়িয়েই, জাস্ট উড়তে পারেন। ওনার টার্গেট মূলতঃ পুরুষ। তবে আচমকা নিরীহ পুরুষদের ওপর চড়ে বসেন না। যথেষ্ট সতর্কীকরণ বার্তা জানিয়ে তারপরই হামলা করেন। প্রথমে ফিসফিসিয়ে তার নাম ধরে ডাকেন। তারা সাড়া দিলে ধাঁ করে কাঁধের কাছে পৌঁছে যান। এবং তখন সময় দেন। পুরুষটি যদি মুখ ঘোরায়, তবেই তাকে উনি সম্মতি বলে ধরেন। নচেৎ কি করেন, তা জানা নেই। কারণ এযাবৎ ওনার ডাকে সাড়া না দিয়ে কেউ থাকেনি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিধারণকারিনী এই মহিলা ভূত এরপর লেসার পয়েন্টার লাইট ফেলেন ছেলেটির চোখে। ব্যাস। কোথায় যাবে। পুরুষটি আন্ডার হার কন্ট্রোল এন্ড টেকেন ইনটু হার ডেরা। এই ভূতের বিশেষত্ব হলো, ইনি নিজে চব্বিশ হাত কাপড়ে ঢাকা থাকলেও শিকার নেওয়ার সময় পরিবেশের প্রতি যথেষ্ট সচেতনতা দেখান। তাই পুরুষটির জামাকাপড় রিসাইক্লিং -এর জন্য ওখানেই ফেলে শুধু শিকারটিকেই বগলদাবা করে কেটে পড়েন।

ভূত তাড়ানোর উপায়:
গ্রামের সবাই এই মহিলা ভূত এবং তার পদ্ধতি-প্রণালী সম্পর্কে অবগত। তাই তারা প্রত্যেকে বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে, ওই মহিলাকে না আসার অনুরোধ জানিয়ে দেওয়াললিখন করে রাখে। লক্ষণরেখা কনসেপ্ট। মহিলা ভূতটি শিক্ষিত, শিষ্টাচার-সমৃদ্ধ এবং ভদ্র বাধ্য। দেওয়াললিখন থাকলে উনি সে বাড়ির পুরুষদের বাড়িতে থাকা অবস্থাতে শিকার কনসিডার করেন না। কিন্তু রাস্তাতে হাতে নাতে ধরেন।

কেসটা কি:
"স্ত্রী"।
বাড়ির পুরুষদের বিনা কাপড়ে গায়েব করা ভূত তাড়াতেই হবে। এই বেমক্কা রাস্তা-আক্রমণ রুখতে এবং এই অদ-ভূত চিরতরে তাড়াতে যে পরিস্থিতি পরিবেশ তৈরী হয়, তাই নিয়েই সিনেমা "স্ত্রী"। এক বালতি পপকর্ন শেষ করেও গল্পের শেষে মাথা চুলকোতে চুলকোতে হল থেকে বেরোলেন। গল্পের “হরর” হড়হড় করে মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়ল। "কেসটা কি হলো" এই নিয়েই কো-অডিয়েন্সের সাথে আলোচনা করতে করতে ওলা ধরে বেহালা পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। কিন্তু কিছুতেই শেষে কি হলো, কেন হলো, গভীরে গেলেন, আরো গভীরে গেলেন, কিন্তু কেসের তল খুঁজে পেলেন না।
এই হলো "স্ত্রী"।



পুনশ্চ: রাজকুমার রাও, অপারশক্তি খুরানা, অভিষেক ব্যানার্জী এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠি একসাথে এই অদ-ভূতকে আউট এন্ড আউট কমেডি করে তুলতে পেরেছে। ওদের অভিনয় দুর্দান্ত। ডায়ালগ রাইটারকে স্যালুট।

Sunday, 9 September 2018

গুগলের থেকেও হাই স্পিড

- হ্যাল্লো
- কোথায়?
- এই তো, অটোতে। প্রচুর জ্যাম। বদ্দিপাড়াতে আটকে। বড়ো বড়ো বাস গুলো এপাশে, ওপাশে আটকে দিয়ে একেবারে স্যান্ডউইচ   .....
- বলছি যে খবর শুনেছ?
- ওহ তুমিও পেলে?
- ওহ তোমাকে কে বললো?
- আমাকে রমাদি। তোমাকে?
- গুগল।
- এহ? মানে? ওহ রামকাকার ছেলে গোগোল?
- ওহ না রে বাবা। গুগল গুগল।
- গু?
- বাদ দাও। যাই হোক, খবরটা তো দুঃখজনক। আবার শিলিগুড়িতে?
- তাই নাকি? আমি ভাবলাম দিঘা?
- সেকি! দিঘাতেও? কি বলছো? কি সব হচ্ছে গো। আমি তো পড়লাম শিলিগুড়িতে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার।
- আমি তো শুনলাম দিঘা। ওখানেই এখন তোলপাড়। রুমকির বাবা-মা সব তো ছুটেছে ওদিকেই। মেয়েটা  .....
- দীঘাতে কোন ব্রিজ বলতো? (পাশের কে-প্যাসেঞ্জের দের দিকে মুখ করে) বলছি দাদা আবার আরেকটা ভেঙেছে, এটা আবার দিঘাতে। গিন্নী জানালো। গিন্নি আমার গুগলের থেকেও হাই স্পিড। আমাদের আসলে প্রচুর রিলেটিভ আসে পাশে। খবর একেবারে সাংহাই ম্যাগলেভ এর স্পীডে একেবারে আমাদের মোবাইলের স্পিকারএ। এ হ্যালো হ্যালো তোমার কথাই বলছিলাম এই অটো-দাদাদের  ..... স্পিকারে দিচ্ছি বুঝলে? একটু বলো তো কি শুনেছ।
-  ওই, রুমকি আবার পালিয়েছে। প্রথমবার তো তবু ডায়মন্ড হারবার। হোটেলে পৌঁছনোর আগেই খপ। এবার দীঘা। তাও কোন হোটেল জানা যায়নি। বলছে দক্ষিনেশ্বরে নাকি বিয়েও সেরে ফেলেছে। তা তুমি কি সব ব্রিজ ব্রিজ করছো গো? এএএই, আমার চা টা ঠান্ডা হয়ে গেলো গো। আমি যাই, বাবা লোকনাথ শুরু হয়ে গেছে। আর আটা নিয়ে এসো মনে করে। রাখলাম।
- (ফোন কাটতে কাটতে, পাশের কে-প্যাসেঞ্জের দের দিকে মুখ করে) ওই ইয়ে মানে, আমি ভাবলাম ব্রিজ আবার  ..... ইয়ে, বলছি এখানেই নামিয়ে দিন তো দাদা। কাজ আছে। এখানেই এখানেই হ্যা। দূর মশাই, জল-কাদা যা থাকুক, থামান এখানে। নামি।