Thursday, 21 February 2019

বাংলাভাষা ফ্রীজে রাখা রাবড়ি

বাংলাভাষা ফ্রীজে রাখা রাবড়ির মতো, চরম শান্তি এই ভেবে, যে সে আছে, জানি সাথে আছে, এক্কেবারে আমার। এ স্বাদের ভাগ হলে স্বাদ সাড়ে সাতাশ গুন বাড়ে। পাস্তা-কাবাব-নিজামের রোল জিভ-এর সারপ্রাইস গিফ্ট। কিন্তু আদতে জিভের যে অপেক্ষা, বাংলাভাষা তাই। সবাই জানে। কিন্তু বাড়িতে মায়ের আদরের মতো ওটা কিরকম একটা "আছেই তো" টাইপের হয়ে যায়। একবার বাংলার বাইরে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে নিলেই,, এসিডিটিটা অনুভব করা যায়। তখন কো-বাঙালি খুঁজে অক্সিজেন টানার চেষ্টা চলে।
**মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বসে খেলার ম্যাচের ওই নির্ণায়ক মুহূর্তে, হাত কচলানোর সময় আপনার মুখ দেখে যে কেউ বলবে, আপনি হাওড়া।
**প্যারিসের পকেট ফাঁকা করা হোটেলে ঢুকে যখন দেখলেন, পাশবালিশ নেই, দুটো গালাগাল বেরোনো বাঙালি অধিকার।
**স্প্যানিশ প্রতিবেশীর গিটার প্র্যাকটিস বেশ লাগে, একদিন সেই সুরে রবি ঠাকুর পেতেই প্রথম গিয়ে আলাপ করলেন।
**পোল্যান্ডের গ্রামে বাঙালি রেস্তোরাঁ নেই, শুধু বাড়ির খাবার পেতে আপনি বিয়ে করলেন।
**আইসল্যান্ডে পৌঁছে অব্দি বাঙালি মুখ খুঁজছেন, যদি একটিবার পাওয়া যেত।
**ঠান্ডা রুমে ঢুকে রুম হিটার অন করতে করতে বুকের ভিতর থেকে দলা পাকানো কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছে, কিন্তু ব্যর্থ চেষ্টা তাকে আটকানোর। কি মুখে কাঁদবেন? মায়ের "খেয়ে নে" ঘ্যানঘ্যানানি আর প্যাঁচপ্যাঁচে গরম থেকে পালাতেই তো এদেশে।
আরও হাজারো হাজারো অনুভূতি চারিদিকে। বাংলা শুধু ভাষা নয়. প্রতি শব্দে রয়েছে একটা একটা অভিব্যক্তি। ভূল হোক বাংলা লিখতে, হাজার বাংলার মধ্যে দুটো ইংরিজি আসুক। মন জানে বাংলা কি। মন সব জানে বাংলা আমার কাছে কি।

Thursday, 14 February 2019

আয়না, আই লাভ ইউ

আদো আদো করে গড়িয়াহাটের মোড়ে দাঁড়িয়ে তারা আজ প্রমিস করলো, কখনো ছেড়ে যাবে না একে অপরকে।
আজ থেকে তারা মনে-প্রাণে এক।
অটোতে বাড়ি ফেরার পথে, মেয়েটি দেখলো, ছেলেটি হা করে রাস্তার ওপারে অন্য একটি মেয়েকে দেখছে। এমন তন্ময়, যে তাকে হাত নেড়ে "বাই" বলতেও ভুলে গিয়েছে।
ছেলেটি এক্সপেক্ট করছিলো, বাড়ি ফিরে মেয়েটি জানাবে, ছেলেটির দেওয়া গিফ্টটা কেমন লাগলো। কিন্তু মেয়েটি জানায়নি।
তারপর রাতে ফোনে কি প্রচন্ড ঝামেলা! দুজনেই রাগে গুমরোচ্ছে। বিছানাতে এপাশ-ওপাশ, দুশ্চিন্তা। পরের দিন মিটমাট হবে কিনা জানা নেই। গড়িয়াহাটের প্রমিসটা জাস্ট ছেলেখেলা মনে হচ্ছে। একটা রাত চলে যাবে চিন্তায়, মন খারাপে। একটা পুরো রাত। ধুস।
হঠাৎ কি মনে হলো, তখন মাঝরাত, মেয়েটি আয়নার কাছে গেলো, নিজেকে দেখলো আর কি জানি কি মনে হলো, কারিনা কাপুর স্টাইলে বললো,"মেয় আপনি ফেভারিট হু". আর বলেই হেসে ফেললো। আর পরক্ষনেই রাগটাগ ভ্যানিস। জাস্ট সু, ভ্যানিশ। ইশ, রাগটা কি বিচ্ছিরি রকমের বাড়াবাড়ি লাগছে এখন।
কেউ কতদিন কাকে কত কিলোগ্রাম ভালোবাসবে, তা কি সে নিজেও জানে! প্রমিস-ট্রমিস তো শুধুই মুহূর্তকে গ্ল্যামারাস করার মেকআপ কিট। একজনের প্রতি অপরজনের ভালোবাসা থাকলে থাকে। না থাকলে থাকে না। ভালোবাসা আসে, যায়, হয়তো আবার আসে।
রবি ঠাকুর বলেছেন,"
লাজে ভয়ে ত্রাসে আধো-বিশ্বাসে
শুধু আধখানি ভালোবাসা,
শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা,
শুধু আলো-আঁধারে কাঁদা-হাসা।"
কেউ ছেড়ে যাবে তার ভয়, কেউ যদি আর ভালো না বাসে তার ভয়, কেউ চিট করছে কি না তার ভয়! এই ভয় যাকে বলে ইনসেক্যুরিটি, চব্বিশঘন্টা চেপে থাকবে কেন! কেন কারো জন্য নির্ভর করবে নিজের ভালো থাকা! কেউ কাউকে কি বা দিতে পারে! কাকে কত লিটার বিশ্বাস করা যায়! এর উত্তর কি কেউ জানে?
কিন্তু নিজেকে ভালোবাসার গ্যারান্টিটা তো নিজেই দেওয়া যায়। তাতে না কাউকে দরকার, না কেউ বাধা। বরং নিজেকে ভালোবাসলে মনের মধ্যে একটা হনলুলুকুলুপুলু টাইপ তৈরী হয়, তাতে বাকি সব কিছু "বেশ তো" টাইপ হয়ে যায়। বেশ একটা ক্ষমা-মা ভাব আসে।
মেয়েটি সেদিন রাতে এসএমএস করলো,"আই লাভ ইউ, বাট মোর আই লাভ মাইসেলফ। এন্ড, আই এম হ্যাপি"। সে রাতটা দুজনেই নিশ্চিন্তে ঘুমোতে গেলো। ভবিষ্যৎ কেউ জানে না। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে কোনো গ্রাজ নেই, কারোর ওপর কোনো রাগ নেই। ঠিক যেমনটা সবাই চাই। শান্তি।
তাই কাউকে ভালোবাসা ভালো। তার চেয়ে ভালো একটা আয়না আর তাকে বলা আই লাভ ইউ। নিজেকে ভালোবাসলে বাকিদের থেকে চাওয়ার ক্যালকুলেশনে ব্যস্ত থাকার দরকারই হয়না। ট্রাই, ইট ওয়ার্কস।

Monday, 11 February 2019

মনবাসাতে পারফরমেন্স চলছে

এই মুহূর্তে তুমি ঠিক কি করছো?
আমার কথা মনে পড়ছে খুব?
মনে পড়ছে আমাদের দিনযাপন?
খুনসুটি? সিনেমা? কমিক্স?
রবীন্দ্রসংগীত, বব মারলে?
ক্ষিরাই, দারিংবাড়ী, বইমেলা?
নাকি শুধুই ঝগড়ার কথা ভেবে
খুব রাগ করছো আমার ওপর।
মনে হচ্ছে, বেশ হয়েছে
সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে?
হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছো বুঝি?
নাকি মিস করছো প্রচন্ড?
ইগোর লাইন অফ কন্ট্রোল
ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্টে?
হয়তো এসব কোনোটাই নয়।
হয়তো নতুন কারোর সাথে
নতুন গল্প-এর প্লট তৈরী হচ্ছে।
তার হবি, তার ফেভারিটস
মুখস্ত করছো মন দিয়ে।
তাকে তোমার সমস্ত চার্ম
মুগ্ধ করছে উত্তমের মতো।
অথবা  .......
যা ভাবছি, যেটুকু ভাবা যায়,
তার বাইরেও হয়তো অনেক
কিছু আছে, যা চলছে, হচ্ছে,
কল্পনাদেবী যার হদিস পান না।
সত্যি এই মুহূর্তে কি করছো?
না, সত্যি তা জানতে চাই না।
কল্পনাদেবী বড়ো বিলাসী,
খামখেয়ালি, অনিয়ত,
স্টেজ, অভিনয় সব ওনার,
ডিরেক্টরও সেখানে উনিই।
তাহলে?
তুমি জেনে রেখো, উঠতে বসতে,
আজকাল দিনরাত মনবাসাতে 
ফাটিয়ে পারফরমেন্স চলছে,
অডিয়েন্স মুগ্ধ, বশীভূত।

Monday, 28 January 2019

ব্যালান্সের চেষ্টা

- ডিভোর্স ছাড়া উপায় নেই রমিতদা। এ একেবারে নাজেহাল কেস। তুমিই ভালো আছো দিব্যি। আপেল খাচ্ছো। কামড়ে খাও, কেটে খাও। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমার জীবনটা শালা কৈফিয়তের শপিং মল তৈরী হয়েছে।

- স্থির হও খোকা। সোমবার তো। চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ্যশ্বাসে আকাশে বাতাসে একটু নেগেটিভ এনার্জি জেনারেট করেছে। এই নে, তুই ও একটা আপেল খা দেখি। কামড়ে খাবি খা। হুইস্কি বের করে ঢাল। দেখবি বেশ একটা স্বাচ্ছন্দ্যময় ওয়ার্ম ফিলিং আসছে। মনে হালকা চাপ তখনও থাকবে। তবে সেটা ব্যালান্সড।
এই যে আপেল এর হাঁকুপাঁকু মাটির দিকে ধেয়ে যাওয়া দেখে, স্যার নিউটন, ইউনিভার্স -এর প্রতিটি কণার মধ্যে এট্ট্রাকশন এর কথা বলেছিলেন। বিয়ে করেননি সারাজীবন। তাই মাখোমাখো আকর্ষণটুকুই দেখেছেন।

- তবেই বোঝো। শালা বিয়ে করেছো কি কেস খেয়েছো।

- বটেই। কিন্তু কেস ভালো। উইলিয়াম থমসন বিবাহিত। টেরটি পেলেন হাড়ে হাড়ে। গ্যালাক্সি-এর ডার্ক ম্যাটার খুঁজে পেলেন। বললেন রিপালশনের কথা। দিলেন বিকর্ষণ এর ব্যাখ্যা। ওদিকে আইনস্টাইন আবার বেলতলা গিয়েছেন দুবার। E=MC2 করতে করতে জিভ দেখিয়ে নেগেটিভ ম্যাসের থিওরি বলেছেন।

- হমমম।

- যেদিকে যাও, কন্ট্রিবিউট করে যাও। লক্ষ্য হবে, ব্যালান্স। আসবে না। তবু চেষ্টা করে যেতে হবে খোকা। থ্যানোস ও চেষ্টা করেছে অর্ধ্যেক এভেঞ্জআর দের হত্যা করে ব্যালান্স আনবে ইউনিভার্স-এ। পারেনি। ভূগর্ভে একটু এদিকওদিক হয়, ভূমিকম্প আসে, কিন্তু নড়াচড়া করে আবার স্থিতিশীলতা মাস্ট। উল্টিমেটলী ব্যালান্সের চেষ্টা। নইলে বাছা খেলাটা ভীষণ বোরিং।

- দাদা, ওই সংকটময় কৈফিয়ত ডিমান্ডের চাপের মুহূর্তে কি আর এসব তত্ত্বকথা মাথায় আসে!

- আনবে। আনতে হবে। আনা প্র্যাকটিস করবে। সময় খুব খারাপ মানি। গুগলে নিউটন সার্চ করলে এখন আর শান্ত-স্নিগ্ধ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট দৃশ্য আসে না। রাজকুমার রাওয়ের আঁতকে ওঠা ছবি আসে। তা বলে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। কণ্ঠ ও বেশি জোড়ে নয়। মনে মনে ভাবো "কফি উইথ করনে" বসে আছো। উস্কানি আসবে। ট্র্যাপ রেডি। পা দেওয়া যাবে না। গান গাও মনে মনে, আমি যামিনী, তুমি শশী হে। লিরিক্স টা মনে না পড়লে, মনে করার চেষ্টা কারো। একসময় দেখবে মেঘ কেটেছে। এইভাবেই চালিয়ে যাও ভায়া। আপেল কামড়ে বা কেটে। 

Saturday, 8 December 2018

টিকালো নাক

টিকালো নাক বড্ডো ওভাররেটেড বুঝলেন। সুন্দর মুখের ওয়ান অফ দি এলিমেন্ট হিসেবে টিকালো নাক ধরা হলেও নাকানিচোবানি কম খেতে হয়না। ফিজিক্স স্যার তো চুম্বকের বিপরীত মেরুর ধর্ম বোঝাতে, উদাহরণ দিলেন ক্লাসের টিকালোমোষ্ট নাক হোল্ডার পটার। ফুটবল, দেওয়াল, দরজা ইত্যাদির সাথে পটার টিকালো নাকের সম্পর্ক যেমন। পটা চুমু খায় চোখ খুলে। যতবার চোখ বন্ধ করে চুমু খেতে গেছে, গার্লফ্রেন্ডের মাথা স্ট্রেইট হিট ওন টিকালো নাক। মাথা ভোঁ ভোঁ। রোমান্সের সাড়ে সব্বোনাশ।
রসিকবাবুর কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে রসিকবাবু বলেন, "যেমন বাজপাখির মতো তোমার নাক ....."
রসিক গিন্নি কনুই মেড়ে রসিকবাবুকে থামিয়ে বললেন,"বাজপাখি নয়, টিয়াপাখি। তোমার তো কোনোদিনই কান্ডজ্ঞান নেই ..... পটুবাবু তুমি ওসব বাজে কথাতে কান দিও না তো। কি সুন্দর লম্বা নাক তোমার ....."
রসিকবাবু,"হে হে নাক গলাতেও সুবিধে। হে হে ...... উফফ তুমি আবার চোখ পাকাচ্ছো কেন গিন্নি!! আমি বলছি টিকালো নাক ভালোই। এই দেখো না অটোগুলো। একটা চাকা ওরকম টিকালো নাকের মতো এগিয়ে থাকে। মার্সিডিজ-ফেরারিকে কেয়ারই না করে, হালকা নাক গলিয়ে দিলেই ব্যাস কেল্লা ফতে। পটে, নাকের গুরুত্ব কাছে বটে। মাঝে মধ্যে খুড়োর কল হিসেবে ব্যবহার করবে কিনা ভেবে দেখো তো খোকা? তবে চুমুটা চোখ খুলেই খেও।"

Friday, 30 November 2018

অশ্বিনীকুমার

রসিকবাবুর পেট ব্যাথা।
কখনো পেটের ডানদিকে, কখনো পেটের বাঁদিকে, আর কখনো একবারে সেন্টার অফ মাস।
সকাল থেকেই থেকে থেকে পেটে হাত দিয়ে,"ওরে ওরে ওরে" করে উঠছেন।
গিন্নী স্পাইডারম্যানের মতো হাত বাড়িয়ে এন্টাসিড সাপ্লাই দিচ্ছেন। বিকেলে "ওরে ওরে ওরে" র ভলিউম সঙ্কটজনক লেভেলে যেতেই পাড়ার ডাক্তারঠাকুরপোকে তলব দেওয়া হলো।

ডাক্তারঠাকুরপো - বুঝলে বৌদি, উল্টোপাল্টা খাওয়ার এতো বাজে স্বভাব রসিকদার। এইটে কন্ট্রোলে না আনলে তো সমস্যা হবেই। লোভ সামলানো কঠিন সাধন, সবাই কি পারে? নিশ্চয় গতকাল কিছু উল্টোপাল্টা খেয়েছিলো, ঠিক বলেছি বৌদি?

রসিকগিন্নী - না মানে  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - ব্যাস ব্যাস আর বলতে হবে না। আপনার চোখের সামনে কি আর খেয়েছে। নিশ্চয় বাইরেই গপাগপ সাটিয়েছে। উফ বৌদি সিঙ্গারাটা কি ভালো বানিয়েছো গো। আর দুটো হবে?

রসিকগিন্নী - হ্যা নিশ্চয়, এইতো নাও। বলছি যে, সমস্যাটা কি বলতো? এরকমতো আগে কখনো দেখিনি। ইদানিং তো ডায়েট করছেন, স্যুপ আর ভেজিটেবল ব্যাস  .....

ডাক্তারঠাকুরপো - সেকি রসিকদা আর ডায়েট ! ধুস তুমি কি আর খেয়াল রাখছো আপিসে কি করছে? জানো না, মোড়েই বসন্ত কেবিন, এগোলেই পুঁটিরাম তারপর কত কি।

রসিকগিন্নী - এই ওকি, তুমি আঙ্গুল মটকাচ্চো কেন? তোমার আবার গালাগাল করার ইচ্ছে হলো নাকি? এরকম হলেই তো তুমি এরকম আঙ্গুল মটকাও। তোমার কি শরীরে খুব কষ্ট হচ্ছে? মাথা গরম করছো কেন? মানে ঠাকুরপোকে বলো না মাথা ঠান্ডা করে। উঠে বসবে? ও হ্যা বলছে মনে হয়। ও ঠাকুরপো একটু তুলে ধরো তো। কি বলছে বুঝতে পারছি না।

ধরাধরি করে রসিকবাবুকে তুলে ধরতেই রসিকবাবু কেটে কেটে সাড়ে চারটে গালাগাল দিলেন বজ্রনিনাদে। পঞ্চমটার বেলা গলাটা শক্তি হারিয়ে মিনমিন করে ফেলেছে। তাতে আরও রেগে বলতে শুরু করলেন, বেরো বাড়ি থেকে, আমার বাড়িতে এসে সিঙ্গারা গিলছে শুধু না, আমার পেট টিপে টিপে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে দেওয়ার জোগাড় করলো, তার ওপরে আমার নামে আবার উল্টোপাল্টা বকা!! বেরো বাড়ি থেকে এখুনি বেরো বাড়ি থেকে।

ডাক্তারঠাকুরপো - ঠিক আছে ঠিক আছে , ইয়ে এ এ এ এ এই যে রইলো ইয়ে তোমার সিঙ্গারা। খেলাম না পাঁচ নম্বরটা। এভাবে অপমান।

এই বলে পঞ্চম সিঙ্গারাটা ফুল ফোর্সে প্লেটে রাখতে যান ঠাকুরপো। সিঙ্গারাও অমনি ভার্টিকাল এক্সিসে স্পিন করে স্ট্রেইট রসিকবাবুর মুখে।
এহে এহে করে রসিকগিন্নী মুখ থেকে সিঙ্গারা বার করতেই দেখেন রসিকবাবুর মুখে হাসি।

রসিকগিন্নী - এএ ই কি হলো, লাগলো নাকি? হাসছো কেন? পাগল হলে নাকি?

রসিকবাবু- আরে দাঁড়াও দাঁড়াও, সিঙ্গারাটা মুখে ঠেসে ধরতো আবার।

রসিকগিন্নী - এ মানে?

রসিকবাবু- আরে ধরই না। আ আঃ আহা (গপ করে সিঙ্গারা গিলে) কি শান্তি কি শান্তি। আহা আহা কি শান্তি।

রসিকগিন্নী আর ঠাকুরপো চোখ বড়ো করে তাকিয়ে।

রসিকবাবু প্লেটে পরে থাকা ষষ্ঠ সিঙ্গারাটা মুখে তুলে নিয়ে বলতে লাগলেন, অবিচার করেছি এতদিন গিন্নী অবিচার। ডাক্তার আমাকে ক্ষমা করো। তুমি আজ আমাকে মহাপাপ করা থেকে বাঁচালে। সিঙ্গারার ওই টুপটুপে তেল আজ সাতদিন পর জিভে পড়তেই শরীরে কি শান্তি, কি স্বস্তি, কি আরাম। যেন জীবনের আসল মানে খুঁজে পাওয়া। এক বোধোদয়। জানলাম শরীরের প্রতি কি অন্যায় অবিচারটাই না করেছি। জিভ থেকে পেট সবাই অভিমান করছে। বুঝিনি। নেহাতই উপায় ছিল না তাই বিদ্রোহ করেছে। ডায়েট করেছি, স্যুপ খেয়েছি, সিদ্ধ সব্জি চিবিয়েছি। একের পর এক অন্যায়। কি পাপ কি পাপ। নাহ ডাক্তার আর নয়। গিন্নী তুমি অশ্বিনীকুমার হয়ে  ..... ইয়ে আরও কিছু সিঙ্গারা সাপ্লাই দিতে পারো? আভি ইসি ওয়াক্ত ? প্লিস?

Monday, 5 November 2018

রঙ্গমঞ্চ

কালীপুজোর পাড়া-ভোজন।
প্রথমদিন আমিষ। দ্বিতীয়দিন নিরামিষ।
অবাধ খাবার আয়োজন, তার ওপর আমিষ। পাড়ার রিকশারাজু থেকে ডাক্তার হাজরা, মণ্ডপে সবার হাজিরা।
বাঙালি কে কোন শ্লা অসময়নিষ্ঠ বলে?
বেলা বারোটায় রান্না রেডি, খাবার লোক নেই। ঠিক একটা বাজতেই, জনজোয়ার। সব বাঙালির একসাথে খিদে পায়। ফ্রি -এর খাবার পেতে এবার লাগা লাইন। খিদে এবার পেট থেকে মাথাতে। পুজোর দিনে, মণ্ডপে গালাগাল দিলে, দেবীর কোপে পড়ার ভয়। ঢোক গেলা ছাড়া নো উপায়। ইতিমধ্যে পেট ভরপেট করে দাঁত খুঁচতে খুঁচতে বেরিয়ে আসা লোকজন-এর "জিতে গেছি কাকা" টাইপ বাঁকা চাহনি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া। এ যেন যুদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে পড়ে মিনি-পুকুর। লাইন এগোয় অনুপমের কাছিমের মতো। "গুটি গুটি পায়ে আর এগোতে পারে না"। শেষে পুকুর উপচে পড়ার আগেই এক ঠেলাতে একেবারে ফ্রাইড রাইস এর কাউন্টারে। তারপরে স্বপ্নের মতো ফিফটিন মিনিটস। ততক্ষনে পেট দয়াভিক্ষা করে ক্লান্ত। তুবড়ির মতো একটা জম্পেশ ঢেঁকুর দিতেই এ হে হে ...... ফিফটি পার্সেন্ট মাল হড়হড়িয়ে বাইরে। আসলে গলার নিচে ডাউনস্ট্রিম ফ্লো করবে, সে সময়টা পায়নি বেচারা। ঢেঁকুরটা চিরকালই অবাধ্য। আইটেমগুলোকে পেটে স্টে ই যদি না করানো গেলো, তাহলে তো যুদ্ধ-এ ফেল। যাক কেউ দেখেনি। মুখ-টুক ধুয়ে বেরিয়ে পড়লেই বাঁচোয়া। আরে ওদিকে কি? ভিড় কেন? পান-সুপারি টা মিস হলো নাকি? আরে এ হে হে, এতো আরেকজন বমি টমি করে ......
তাহলে এখন বাঙালির টাইম টু এক্ট এস এ শুভানুধ্যায়ী
"আরে কেন এতো খাস? ফ্রি এর মাল দেখলেই হামলে পড়বি? একটু বুঝে খাবি তো নাকি ..... মণ্ডপের এখানে এ হে হে কি ময়লা" ....... এবার কব্জি গুটিয়ে বেরিয়ে পড়া যাক মানে মানে। হে হে সবই "এ মায়া প্রপঞ্চময় ভব রঙ্গমঞ্চ মাঝে"।