Monday, 20 November 2017

তুম তানা নানা

পরিস্থিতি হেবি থমথমে। জেঠুর মুখে কালি লেপে শ্রাবন্তীদি নাকি পালিয়েছে। কালি মুছতে সারা পাড়া উইথ পাড়ার ডাক্তার বাড়িতে হাজির। আমি আর দাদা স্কুল থেকে ফিরে খবর পেয়েই দৌড়ে কালি মোছা দেখতে গেলাম। কালি কোথায়! জেঠুর দিব্বি সেই ফর্সাটি। শুধু খাটে হেলান দেওয়া আর বুকে হাত। পাড়ার ডাক্তার বলছেন,"কালই ইসিজি করিয়ে নিন। কোনো নেশা নেই তো? এখনকার ব্যাথাটা আপনার স্ট্রেস থেকেই। বেশি চাপ নেবেন না" চারিদিকে সবার মুখ কালাপানির কয়েদিদের মতো। নিস্তব্ধতার কম্পেটিশন -এ পাড়ার দিদা-দাদুরা মাঝে মাঝে বাঁধ সাধলেও, মোটের ওপর একটা থমথমে ভাব ইন্ট্যাক্ট রাখতে সক্ষম হচ্ছেন সবাই। মাঝে মাঝে চপাট চপাট মশা মারার আওয়াজ। শ্রাবন্তীদির পালানো তবু সহ্য হবে,  কিন্তু ভয়ানক ডেঙ্গি? সে থেকে কে বাঁচাবে? কুঁইকুঁই করে জেঠু বলে উঠলেন,"কাছুয়া টা জ্বালাও না"
উপস্থিত সকলেই ঝটপট শশব্যস্ত হয়ে কাছুয়া খুঁজতে লাগলেন। পেলেনও। মুশকিল হলো, দেশলাই? নাই। জেঠিমার মুখ-এর পরিস্থিতি যা, তাতে বিনা দেশলাই-তেই আগুন লাগার সম্ভাবনা। তাই জেঠিমাকে কেউ ঘাটাতে চায় না। ঠিক এ অবস্থায়, দাদা বলে উঠল,"আরে দাদু, লাইটার তো তোমার পকেটেই"।

সবার মুখ এখন দাদার দিকে। ঠিক তখনি, কার মোবাইলে বেজে উঠলো,"আগুন লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন তুম তানা নানা নানা"

Monday, 13 November 2017

চিরকুট চিৎপাত

ছাতাটা হারিয়েছি।
কোথায় রেখেছি মনে রাখতে না পারাকেই হারানো বলে, তাই না?
ছাতাটা হারিয়েছি এই ধরুন ছটা বর্ষা আগে। এ ক বছরে অবশ্য ছাতা হারিয়েছি এই স্মৃতিটাই হারিয়ে গেছিলো। মনে পড়লো এই একটা অদ্ভুত ঘটনাটাতে। গত ২৩ দিন ধরে ইতিহাস বইয়ের পাতায় রাখা একটি চিরকুট পাচ্ছি রোজ। তাতে লেখা,"আমি আছি, ইতি ছাতা"। প্রথম প্রথম ব্যাপারটাকে ছাতার মাথা বলে উড়িয়ে দিলাম। কিন্তু  ইতিহাস পড়া ইগনোর করাতে ওই সেদিন স্যারের কাছে প্রবল বকা খাই। বকা খেয়ে ইতিহাস বইটি খুলতেই আবার ওই চিরকুট। মাথাতে আগুন জ্বলে উঠলো। সমাধান এবার করতেই হচ্ছে। মা-বাবা-দিদি কে বলতে গেলাম। হিতে বিপরীত। বুঝলাম, সবার ওই ছবর্ষা আগের স্মৃতিটিকে উস্কে দিয়েছি। চিরকুটের উপস্থিতির থেকে ছাতাটির অনুপস্থিতিতে তাঁরা বেশি মর্মাহত। ফলস্বরূপ ছ-বছর আগে ছাতা হারানোর দিনটির যেন পুনরাবৃতি ঘটলো। সাথে বোনাস প্রাপ্তি- বাবার গুরুগম্ভীর জ্ঞান, ডালের হাতা হাতে মার হাই পিচ উপদেশ আর দিদির? খিল্লিমাখা হাসি। বিশেষ সুবিধা হলো না। সব আশা নিয়ে স্কুলে আমার আমার ডিটেক্টিভ বেস্ট ফ্রেন্ডকে এই ব্যাপারে বললাম। শুরুতেই ওর কথা কেন যে মাথায় আসেনি! যাই হোক, প্রথমেই শুরু করলাম সবকটা চিরকুট নিয়ে প্যাটার্ন বোঝা। উদ্ধার হলো দুটো জিনিস:
১. লেখাটা কারো একার নয়। ডিফারেন্ট হ্যান্ডরাইটিং
২. লেখা কালোকালি তে, কিন্তু শেড এক নয়

এর মধ্যে একটা চিরকুট নিয়ে বন্ধুটি বেশ সিরিয়াস। বললো,"চল বাড়িতে"। গেলাম। পরিস্কার চকচকে ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস নিয়ে এলো ওর দাদার ঘর থেকে। ওই চিরকুটের ওপর কিছুক্ষন ধরতেই চিৎকার করে উঠলো,"তোর দিদি থিয়েটারের স্ক্রিপ্ট লেখে, তাই না? ওরই কাজ মনে হচ্ছে রে। দেখ না চিরকুটের ওপর আবছা লেখা, ভূতের গপ্পো ৩। আমার মনে হয় এই চিরকুটটা যে পাতাতে লেখা তার আগের পাতাতেই এই গল্পের প্লটটা লেখা শুরু হয়েছিল। ডটপেনে চেপে লেখে বোধহয়, তাই ছাপ পড়েছে নিচের পাতায়। ভেবেছিলো, তুই এই চিরকুট দেখে ভয় পাবি, তাই তোর সাথে একটা রিয়েল এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিলো।"
"জিও কাকা" বলে লাফিয়ে উঠলাম। ঠিকই তো, বাড়ির লোক ছাড়া রোজ রোজ আমার ঘরে ঢুকে এ কাজ কে করবে! আজ বাড়ি গিয়ে একটা দুর্দান্ত ক্লাইম্যাক্স মোমেন্ট যে ক্রিয়েট করবো, সে নিয়ে সন্দেহ নেই। উফফ ভেবেই রোমাঞ্চ জাগছে। মনে হচ্ছে এবার আমার ছাতা হারানোর দোষটা কাটবে।


খুশিতে ডগমগ আমি যখন বন্ধুটির সাথে সমাধান উদযাপন করছি, ওর দাদা পাশের ঘর থেকে ঢুকে বলে," তোপসে, আমার ম্যাগনিফায়িং গ্লাসটা  .... ও তোর হাতে। তোদের কাজ হয়ে গেলে দিয়ে যাস। আর শোন, বাড়িতে সন্দেশ আছে। চাই তো এখুনি ভিতরে যা দৌড়ে।" এই বোনাস সন্দেশ জিভের চারিধারে ঘুরঘুর করতে করতে বললো, মনে হয় দিদি এরকম কাজ বার বার করুক। ২১ রজনী সেনের এই বাড়ি আমার এই জন্য এতো ফেভারিট।

নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি

মেজোমামার বিয়েতে তার সঙ্গে প্রথম দেখা। না ঠিক দেখা নয়। আড়চোখে পলক ফেলে ফেলে নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি কে একটু বুঝে নেওয়া। কালো ধুতির চল সে সময় ছিল না। তাই সবার চোখই ছিল তার ওপর। নানারকম চাহুনি, যেমন “কি বোকা বোকা” “একি অদ্ভুত” “বাহ্ বেশ হাটকে তো” ছিল বটে। কিন্তু তাতে তাকে মোটেই অপ্রতিভ মনে হচ্ছিল না। বরং যেন একটু বেশিই স্বচ্ছন্দ। আর তাতে আড়চোখ আরও বেশি করে তাকেই খুঁজতে লাগলো। তার চোখ দু-একবার আমার চোখকে অ্যাকনোলেজ করেছিল বটে তবে খুব দ্রুত। ইতিমধ্যে এই পুরো সাইলেন্ট টেলিফিল্মটা কখন যে আমার ভাই ট্র্যাক করতে শুরু করেছে জানি না। মালা–‌বদলের ভিড়ে আমার কানের কাছে এসে বললো, “লাভ নেই। এনগেজড। আমাদেরই কোচিংয়ের মেয়ের সঙ্গে” । ড্যাম। চুরি করে ধরা পরে যাওয়া, তাও আবার সে চোরাই মাল যদি অকেজো হয়। ফিলিংসটা ঠিক কেমন হয় বলুন তো! যাক চোখাচুখি নিয়ন্ত্রিত হল তখুনি। সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে।
===============
প্রায় ৭-৮ মাস পরে, অক্সিজেনে তখন পুজো পুজো গন্ধ। নতুন জামার মসমস, নতুন জুতোর ফোস্কা, পুরনো বন্ধুর হইচই, পুরনো রেস্টুরেন্টে নতুন মেনু, সব চলছিল নিজের তালে। উলটোদিকের টেবিলে আমাদের মতোই আরেক দল, একইরকম হুল্লোড়ে মত্ত। শুধু মুখগুলোই অচেনা ….. উহু একটা মুখ তো বেশ চেনা। আরিব্বাস। নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতি যে। আজ সাদা শার্ট নীল ডেনিম। আর সঙ্গে সঙ্গেই মাথা বলে উঠলো, “না না, আর ও পথে না”। ব্যাস সোনু নিগম হয়ে বিড়বিড় করলাম, জানা নাহি থা পিয়ার কি গলি মে। কিন্তু ওপার থেকে ফোর জি নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী চোখ যেন আমাকে ফলো করছে মনে হল। ইগনোর করতে, আরও বেশি করে মন দিলাম বিরিয়ানিতে। সবে দু-চামচ মুখে দিয়ে বিরিয়ানিতে মেডিটেশন শুরু করেছি, ওমনি “হাই, ডু উই নো ইচ আদার ….. ” সাদা শার্ট নীল ডেনিম আর তার দলবল, চোখের সামনে। কতক্ষণ হা করে ছিলাম মনে নেই। বাকি কী বলে গেল, মনে নেই। আলাপচারিতার শুরু। সুতপা কনুই-এর গুঁতো মেরে বলেছিল,”এই সেই? খবরদার। এনগেজেড কিন্তু।” এরকম সাবধান বাণী শুনে মনে হল, যেন ও সাবধান না করলে আমি যে কোনও মুহূর্তে সাদা শার্ট নীল ডেনিমকে জড়িয়ে ধরবো। আশ্চর্য্য। তা সেই সাবধানবাণীর ঠেলায় বা বিরিয়ানি কন্সেন্ট্রেশনে বাঁধা পড়ায়, আলাপচারিতাতে কন্সেন্ট্রেট করতে পারিনি। আমি মূলত শ্রোতাই হলাম। শেষে অবাক করে দিয়ে সুতপা হঠাৎ নবমীতে ম্যাডক্স স্কোয়ারের প্ল্যান বানিয়ে বসলো। সুতপাকে বুঝতে পারে কার সাধ্যি! আবার দেখা হওয়ার এক্সাইটমেন্ট যে আমার মধ্যে একেবারেই ছিল না তা বলা ভুল। মাস্কারা লাগালাম একটু ঘন করেই। না না, আর কিছু না। একটা প্রেজেনটেব্‌ল লুক তো দরকার, নাকি! তবে সুতপা-বুবাই দের সঙ্গে বেরোলে কেন এ কথা মনে হয় না! ওরা ছোট্টবেলার বন্ধু বলে! ম্যাডক্স স্কোয়ারের আড্ডা তখন চরমে, সাদা শার্ট নীল ডেনিম আমার কানে ফিসফিস করে বললো, “হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে। কাল একবার লেকে মিট করা যায়? সেই বিয়ে বাড়ি থেকে ট্রাই করছি। না বললে শুনবো না কিন্তু।” হার্টবিট ১১০। আচ্ছা এমন বুক চিনচিন করে কেন বলুন তো যখন মাথা আর মন ঝগড়া করে? মাথার শত অ্যালার্টকে মিথ্যে করে, দেখি না কী বলতে চায়, শুনতে মন চলল দশমীর বিকেলে, লেকের ধারে। পৌঁছনোর দু-কিলোমিটার আগেই এসএমএস, “নাহ সামনাসামনি বলার সাহস নেই। অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে। ক্যান ইউ হোল্ড মাই হ্যান্ড? ফর লাইফ?” মোবাইল থেকে চোখ তুলে মনে হল আশেপাশের কিছু লোক হা করে দেখছে আমায়? খেয়াল করলাম আমার মুখটা এক গাল হাসিতে ভরে গেছে কখন, আমার অজান্তেই! অক্সিজেনে এখন নীল পাঞ্জাবি কালো ধুতির গন্ধ। আশেপাশে লুকিয়ে আমায় দেখছে না তো? বাড়ি ফিরে ভাইকে একটা কিল মারবো ভাবছি।

Monday, 30 October 2017

ফিউচার

ফিউচার

- তাহলে কি.....
- হ্যা আর কোনো ফিউচার দেখছি না। শুধু শুধু একে টেনে বেরিয়ে লাভ কি?
- সবই তো ঠিক ছিল শ্রী। হঠাৎ কি হলো?
- তোমার আর আমার মধ্যে এতো ফারাক। এডজাস্ট করা সম্ভব কিন্তু তার একটা লিমিট আছে তো নাকি?
- খেতে খেতে ঢেকুরটা তো আজকাল একটু কমই হয়। হয় না?
- উফ ওটা তো মাইনর। কুঁজো হয়ে হাঁটা টা আর নেওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সময়-অসময়ে কথার খেই হারিয়ে ফেলা। পরশু রাতে ফোন করতে করতে হঠাৎ চুপ। কত কথা বলে যাচ্ছি আমি একা একাই। শেষে আওয়াজ নেই দেখে কেটে কল করি। তারপর বুঝলাম, ঘুমিয়ে পড়েছিলে। মানে হাউ ডেয়ার ইউ! যাক গে যাক আজ ঠিক করেছি আর মাথা গরম করবো না।
- বলছি যে, একটি বার আমার কথা শোনো। আমি কথার খেই হারাবো না। মানে যেই খেই হারিয়ে যাবার সিগন্যাল পাবে, আমাকে একটু চোখ মেরে দিও বা হাত টিপে দিও। আমি বুঝে যাব। কথার খেই, দড়ি, তার, পাইপ যা পাবো ধরে উঠে আসবো ঠিক মেন লাইনে। আসলে তুমি না থাকলে খেই-খৈ সবেতেই তো জল থৈ থৈ। ঠাঁই পাই কোথা বলতো। আর ঘুমের কেসটার সমাধান আছে।
- আছে?
- হ্যা গো। কলেজেই কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নেবো না হয়। ক্যারাম আর উনিয়নের টাইমটার সাথে এডজাস্ট করে নেবো। স্যার শাস্তি দেবে দিক। বন্ধুরা ত্যাগ করবে করুক। ও দুঃখ তবু সহ্য হবে। কিন্তু তোমাকে ছেড়ে থাকার দুঃখ, সারাজীবন তোর্তুগিলা দ্বীপে একা থাকার মতো হবে গো। তুমি ত্যাগ কোরো না গো। ট্যাগ করে রেখো। পিনপোস্টের মতো।
- প্লিস। রাস্তায় মেয়ে দেখলেই যে চোখটা ড্যাবডেবিয়ে বেরিয়ে আসে। জিভটাও। তার বেলা? ঐটাই মেন রিজন। আমি তো আর গরু চড়াতে তোমার সাথে হাঁটি না যে সারাক্ষন তোমার দিকেই নজর রাখবো। আর কি ইরিটেটিং! তুমি একটা পারভার্ট। বিকৃতবুদ্ধি। নাহলে রাস্তায় মেয়ে দেখে এরকম করো!
- বটেই তো। বটেই তো। গরু চড়াবে কেন খামোকা। কিন্তু তুমি তো পয়েন্টটাই বোঝোনি এতদিন আর আমাকে ভুল বুঝে এসেছো, এহ হে এহ হে এহ হে।
- কিসের পয়েন্ট? দাঁত বার না করে বলে ফেলো।
- ব্যাপারটা হলো যে, দ্যাখ তুমি হলে আমার রত্ন। মানে তোমাকে পেয়ে আমার সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে। মানে তুমিই আমার ডেসডিমোনার সুরেলা গলা, তুমিই আমার "হামদাম সুনিও রে", তুমিই আমার "টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন, টু ফোর ফোর ...."
- একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেব কিন্তু, ভনিতা না করে বলবে?
- ঐটাই তো মানে সংক্ষেপে এই যে, তোমাকে সাথে নিয়ে হাঁটি যখন, ওরা দেখনি কিরকম হাঁ করে থাকে!! তাই ওদের আমি ইয়ে মানে....
- কি বলো?
- ওই মুখ ভেঙ্গাই। জিভ বের করে, এ এ এ এ। আর চোখ আর জিভের কানেক্শনটা তো জানোই। জিভ বেরোলেই দেখবে চোখটা বড়ো হয়ে যায়। ওই "জিম ক্যারি" ইন "দি-মাস্ক" এর মতো আর কি। কি যে প্রশান্তি কি বলবো তোমায়।
- য়্যা মানে? ওরকম বাঁদরের মতো?
- এএএই এক্কেবারে ঠিক বলেছো। বাঁদরের মতো ভেঙ্গিয়ে সারা পৃথিবীকে জানাতে চাই,"পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি, ফিং দিয়া দিই তিন দোল, আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা  ...."
- আচ্ছা আচ্ছা। বুঝেছি।
- বুঝেছো?
- হুঁ।
- (ভয়ে ভয়ে) কি?
- একটু এডজাস্ট নাহয় করেই নেবো। ছেলে তুমি মন্দ না।

Monday, 23 October 2017

আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ

-ও এম জি! দিস ইস ড্যাম অসাম ইয়ার। এটা বট না অশ্বত্থ?
-অশ্বত্থ গাছ। খুব পুরোনো হবে। বাড়িটাকে পুরো জাপটে ধরেছে। হে হে যেন বাড়িটা ওর প্রেমিকা।
-তুই এই দেখছিস? আমি ভাবছি, প্রোপার্টিটার কি বিচ্ছিরি অবস্থা। নিশ্চয় ছেলে-মেয়েরা সব আমেরিকা-লন্ডনে। আর কোর্টে কেস চলছে। হিয়ারিংয়ের ডেট পিছোচ্ছে। সেম ওল্ড স্টোরি।
-ধুস। তুই আনরোমান্টিক। আমার মতো করে ভাবলেও তো পারো দেবী ফর আ চেঞ্জ। শিকড়-এ একটা আর্ট আছে, দেখ। লুক্স লাইক একটা মেয়ের এলোমেলো সাহসিনী চুল।
-আমার তো মনে হচ্ছে একটা নাম্বার, সামথিং লাইক থার্টি নাইন?
- হে আমার আনরোমান্টিক, সংখ্যাতত্ববিদ দেবী, আপনি এর মধ্যে কোর্টের কেস আর সংখ্যা ছাড়া আর কিছু পেলেন না দেখে নিশ্চিন্ত হলাম।
- নিশ্চিন্ত কেন?
- বিয়ের পর সংসারের জমা-খরচের রেসপনসিবিলিটি তোমায় দিয়ে আমি মাতবো আপন তালে।
- স্যাট আপ।
- আচ্ছা আচ্ছা, যাক ফটো তুলে নি কি বল। রাতে একবার আসবো। বিউটিফুল একটা ক্যাপচার হবে এক্সপেক্ট করছি।
-এই, আজ কি রে? পূর্ণিমা না অমাবস্যা?
-ওহ গস। কাম অন। আমি কি বলছি, আর তুই কি বলছিস! আই ডোন্ট নো ইয়ার, পূর্ণিমা না অমাবস্যা। কাল রাতে কালীপুজো গেলো। নিশ্চয় অমাবস্যা হবে। রাইট?
-দিদা বলতেন, অমাবস্যার রাতে বট বা অশ্বত্থ গাছের তলায় যেতে নেই!
-ডোন্ট টেল মি, সেটা তুই বিলিভ করিস আজও। প্লিস লেট্ মি কন্সেন্ট্রেট। আজ রাতে আসছি। একটা ফাটাফাটি ক্লিক তোমাকে উপহার দেব বেবি।
=======================
"আজ কি অপরূপ সাজ তোমার হে পৃথিবী
অশ্বত্থে আজ লেগেছে হাওয়া, উত্তাল মাধবী।
হা হা হা হা। আজ অমাবস্যা। অশ্বত্থের আজ কামনা জেগেছে, আবার। আবার সে আজ মহাতরঙ্গময়। যেমন হয়েছিল আজ থেকে ষাট বছর আগে। পাতায় পাতায় কেমন ইশারা। ডালে ডালে চলেছে সর্বনাশা খেলা। শিকড়গুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। উদ্দণ্ড শক্তি চেপে বসেছে ওতে। আজ কি নেশায় মেতেছে যেন। গুণে দেখেছো উনচল্লিশ। সেই উনচল্লিশটা খিদে মিটিয়েছিলো অশ্বত্থ একে একে উনচল্লিশ তাজা প্রাণে। আরে আরে এ ছেলে-মেয়ে দুটি কোথায় যায়? ওদের আটকাই কিভাবে। এই কি বিধাতার ইচ্ছে? আজ কি আবার? আবার? না, না ..."
=========================
-এই পিনটু দেখ দেখ, অশ্বত্থ গাছটা কিরকম বেড়ে গেছে এক রাতে?
-আরে ও সব ওরকমই। বাড়িটা কোনদিন ভেঙে পড়বে, দেখিস।
-এই দেখ দেখ, শিকড়ে এমন জড়িয়ে আছে, যেন কি একটা বোঝাতে চাইছে।
- ওই আবার। আবার সেদিনের মতো। আজ কি সংখ্যা? নাকি আজ তোকে ডাকছে, বলছে, দোল খাবি? হ্যা? হা হা।
-আরে ইয়ার্কি না। সত্যি দেখ, শিকড়গুলোর আঁকাবাঁকা পথ গুলো দেখ। কিরকম একটা যেন লাগছে। মম ... ওই চার আর এক দেখ দেখ একচল্লিশ। একদম যেন একচল্লিশ। ও ও ওই ও ও ওই কিছু শুনতে পাচ্ছিস? একটা চিৎকার? কেউ যেন কিছু বলতে চাইছে?


-ধুর ভাই। চল তো যত্তসব। এই সেদিন বলি উনচল্লিশ। আজ হয়ে গেলো একচল্লিশ। আবার চিৎকারও শুনছিস? তুই কবিতা লেখ না হয় ডাক্তার দেখা। হা হা। এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? ধুর। শোন। সামনের অমাবস্যায় রাতে আসবো দুজনে কেমন? কিচ্ছু ভয়ের নেই। একবার রাতে এখানে এসে বসবো, দেখবি ভয়-টয় সব হাওয়া। কবে রে অমাবস্যা? পরশু?

Wednesday, 18 October 2017

১২ নম্বরের রচনা

"বৈচিত্র্য-র মধ্যে ঐক্য" এই ১২ নম্বরের রচনাটা সবার হেব্বি পছন্দের। "কমন পড়েছে, হুররে"।
গাছগাছালি, পাহাড়পর্বত, মরুভূমি এসব নিয়ে লিখলে মেরে কেটে ৬, তবে খাতা যিনি দেখছেন তাঁর জিভে জল আনা খাবার দাবার নিয়ে লিখলে ৯ নম্বর পাক্কা।
রাকাও মহা উৎসাহে পরীক্ষাতে রচনাটা লিখেছিল, বলেছিল জব্বর লিখেছে। নম্বর বেড়োতে রাকা কিরকম যেন হতভম্ভাইস্ড হয়ে গিয়েছিল, ১২তে পেয়েছিল ২। শুধুই কি তাই? টিচার-ব্যক্তিটি বাঁকা হাসি হেসে উচ্চস্বরে ক্লাসের মাঝে পড়ে শুনিয়েছিলেন ওর লেখা। সে কি কান্ড! মাথা নিচু করে ছিল রাকা। টপটপ করে দুফোটা জল পড়েছিল হাতে। আজ সবটা মনে নেই। তবে শেষ লাইনটা ছিল এইরকম, "ভারতবর্ষ-এর মানুষের মন সর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যময়। কালো রং-ওয়ালা মহিলা-জীব ভারতের রাস্তায়-হাটে-মাঠে-ঘাটে কুচ্ছিত-মহাঅশুভ, তবে পূজার মন্দিরে মূর্তি হিসেবে চলবে।"

(চরিত্র কাল্পনিক। বিষয়বস্তু কাল্পনিক কিনা, আপনারাই বলুন।)
(নিচের ছবিটি একটি শ্যামবর্ণা নারীর, যেন ঘরের মা লক্ষীটি, যাঁর অস্ত্র ওঠে অন্যায়ে।)

Saturday, 7 October 2017

থিমের প্যান্ডেল

রসিকবাবু ফাইনালি এবার হুপহাপ্ করে হপিংয়ে বেরোলেন, গিন্নিকে নিয়ে প্যান্ডেল। 
- বেহালা মন্দ কি। প্যান্ডেল সে তো আছেই। অশোকার মোগলাইও তো আছে। বেঙ্গল হোটেলের মটন কাটলেটও তো .... 
(গিন্নি কটমট চোখে)- বেরোতে না বেরোতেই খাওয়ার চিন্তা এসে গেলো, তাই না? বলি বিয়ের পর এই প্রথম তো নাকি। 
- আহা এতো হাটবে, শরীর টাকে রাখতে হবে না? তাছাড়া তোমার পছন্দের প্রচুর ডালডা ঢালা এগরোলও তো আছে- এগরোল ফ্রম হাজি, কি রাজি?
(গিন্নি) - সে পরে দেখা যাবে। চলো চলো, এতে ঢোক তো। কি সুন্দর প্যান্ডেলটা। এই কি থিম গো এইটের?
- দাড়াও বুঝে দেখি। ভিতরে চলো। ওকি কিছুই তো নেই। প্যান্ডেল কি কমপ্লিট হয়নি নাকি? সব তো ফাঁকা। নাকি চোখে দেখা যাচ্ছে না? বললাম কাটলেট খেয়ে ঢুকি। তাতে চোখ-মাথা সব ভালো খোলে। থিমের প্যান্ডেল বোঝা কি সহজ নাকি? নিড এলেম গিন্নি।
(সিকিউরিটি) - স্যার ওপরে তাকিয়ে দেখুন। টেবিল, চেয়ার, আলমারি সব ওপরে সাঁটানো। বুঝলেন না? এটাই থিম। যেন বাড়িটা উল্টে গ্যাছে।
(গিন্নি) - এই এই ওকি কি করছো, ওগো কে কোথায় আছো গো? এই এরকম শুয়ে পড়লে কেন? দেওয়াল বেয়ে কি করছো?
রসিকবাবু ততক্ষনে দেওয়াল বেয়ে মাথা নিচে, পা ওপরে।
- আহা আহা গিন্নি এইবার থিম টা বোঝা যাচ্ছে। থিমের নাম "শীর্ষাসন"। ঠিক বলেছো গিন্নি, আগে থিমের প্যান্ডেল, তারপর কাটলেট। না হলে এতক্ষনে কাটলেট মাথায় চড়তো।