Wednesday, 16 May 2018

গড়িয়াহাট এর মোড়ে

গড়িয়াহাট এর মোড়ে রক্তারক্তি কাণ্ড। 
রসিকবাবুর হাঁটুতে চোট, দোকানদারের থুতনিতে।
ভিজিটর দের কেউ কেউ হালকা আহত, কারও পা, কারও হাত, কারও নাক, কারও পেট। বাকিরা তীব্র মানসিক চাপে। 
চারিদিক থেকে চাপা উত্তেজনা। গজগজ। খসখস। ফিসফাস। ফোঁস ফোঁস।
ট্র্যাফিক পুলিশ চলে এসেছেন। 
বুঝলেন যে, গরমই ছিল। ফুলকোও বটে। আলুও চন্দ্রমুখী। নুন - চিনি যথাযথ।
তবু .......
কিছুক্ষন ভেবে হঠাৎ মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,
"আরে সমস্যা টা আগে বলবেন তো। আরে আমার বউ ভারী করিৎকর্মা। বাড়িতে লঙ্কা গাছ লাগিয়েছে। সারা বাড়িতে শুধু লঙ্কা আর লঙ্কা। দেখুন দেখি, ব্যাগে ও রয়ে আছে বেশ কয়েক টা। এতদিন বিরক্ত হতাম। এই আজ দেখি কাজেই লাগলো। সকাল ৬ টাতে কি আর এ জিনিস এখানে চাইলেই পাবেন? যা ডিমান্ড। এই যে নিন। (বলেই, পিঠের ব্যাগ থেকে বার করলেন একটি কচি সবুজ টসটসে কাঁচা লঙ্কা।) আরে নিন মশাই নিন, লজ্জা পাবেন ন ন না ..... এই একি এই কাড়াকাড়ি করবেন না .... এই একি.... কি হচ্ছেটা কি, একি লঙ্কা কান্ড!!"



Tuesday, 20 March 2018

ভিক্টিম শেষে চড়াই

কিউট অথচ শো-অফ হীন।
পুচকে, নাদুসনুদুস, কঠিন-দৃঢ়-অভিমানী ঠোঁট। অথচ নো শো-অফ। দিব্বি আশেপাশে ঘুরে বেরায়। বদ্রি-লাভবার্ড -এর মতো দুর্লভ নয়। তা বলে কি এলেবেলে নাকি? আত্মসম্মানে বিদ্যাসাগর। কখনো খাঁচার মধ্যে দেখেছেন ওকে? হু হু বাবা।
কিন্তু এই কলকাতায় বেচারাদের মোটে কদর নেই। দাঁত থাকতে দাঁতের আর চড়াই থাকতে চড়াইয়ের মর্যাদা নেই।
ভাবুন যার চিকচিক আওয়াজে বিরক্ত হয়ে জানলা বন্ধ করছেন, একদিন তাকে আর দেখতেই পেলেন না।
এর প্রসেস অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আমার মুম্বাইবাসী বন্ধু জানলায় একটা চড়াই দেখবে বলে আজ হাপিত্যেশ করে। মুম্বাইতে গাছ-টাছ কেটে মানুষ নিজেদের জায়গা করে নিতে ব্যস্ত। চড়াই কি আর পুলিশ কমপ্লেইন করতে পারে? মোবাইল টাওয়ার বসানো অনেক বেশি জরুরি। চড়াইকে তো আর ফোন করতে হয়না বর-বৌ-বাচ্চাকে। ওদের উড়ে যাওয়ার পাখা আছে। চুপিচুপি শুনে রাখুন, মুখ ভেংচে চোখ উল্টে পড়ে যাবেন না যেন। আমাদের দেশে বেশ কিছু লোক চড়াই-কারি বানিয়ে খান নিয়মিত। ওই আর কি, কামোত্তেজনা- ফামোত্তেজনা বাড়াতে। আমাদের দেশের একম-অদ্বিতীয়ম-লক্ষ্যম কামোত্তেজনা। ফ্রি ফান্ডে, "তোমাকে দেখাবো নায়াগ্রা তোমাকে শেখাবো ভায়াগ্রা" এর ভিক্টিম শেষে চড়াই।
এই চড়াই-উতরাই আর সহ্য করতে না পেরে কিছু বুদ্ধিমান চড়াই বিদেশে পালিয়েছে বা পাতি মরেছে, বেঁচে গেছে। যেকটা কিউট ভারতবর্ষে পরে আছে, তাদের পোড়া কপাল।
গ্রীকদেবী আফ্রোডিট-এর ভালোবাসার প্রতীক স্বয়ং তুই।
এ যে পোড়া ভারত, চড়াই, ভালোবাসার দাম এখানে নেই।
তবু যদি অধমের দু-চার কথা শোনেন, বলি যে,
১. একটু জানলার ধারে জল রাখুন, একটু পান করে বাঁচুক বেচারা
২. পারলে একটু দানাও দিন
৩. গাছ লাগাবেন এ আর নতুন কথা কি
একটু হোক না। ক্ষতি কি।

Thursday, 15 March 2018

স্কেলটা

"টিক টিক টিক টিক"
ব্যাস ওই আবার। এখন আবার কি? এই এখুনি তো লাঞ্চ খাইয়ে এলাম। ওহো এবার বোধহয় ওনার পটি টাইম। উফফ এটা একটা লাইফ? সারাদিন শুধু  "টিক টিক টিক টিক"। এই চা দাও, এই ব্রেকফাস্ট দাও, এই শাড়ি চেঞ্জ করাও। আর পটি করানো তো যুদ্ধ। সারাদিন খেয়ে খেয়ে আর বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোটা হচ্ছে আর শুধু "টিক টিক টিক টিক"। রোমা বলে, শাশুড়ীরা নাকি খুব ভয়ঙ্কর হয়। তারা নাকি ঝগড়া করে, তারা নাকি বৌয়ের নিন্দে করে প্রতিবেশীর কাছে! আমার প্যারালাইস্ড শাশুড়ী, তাই আমি নাকি ভালোই আছি। প্রতিবেশীর কাছে আমার নাম নিন্দে করতে পারেনা। কথা বলতে পারেনা তাই ঝগড়াও নেই। তা আমি বলি, ওসব হলেই বরং বেঁচে যেতাম। কানের কাছে সারাদিন প্রতি ঘন্টাতে "টিক টিক টিক টিক" তো আর শুনতে হতো না। কোনো শখ-আহ্লাদ-ঘুরতে যাওয়া-সিনেমা যাওয়া তো নেই জীবনে। রোমার সাথেও যে দশমিনিট কথা বলবো তার জো নেই। শুরু হবে "টিক টিক টিক টিক"। সেদিন তো "জননীর কোলে" সিরিয়ালের ঠিক ক্লাইমেক্সের টাইমেই "টিক টিক টিক টিক"। ও বলে, পঁচাশি বছরের ওর মা, তাকে নাকি আর আয়ার ভরসাতে রাখা যায় না, বয়স্কদের ওপর নাকি খালি হামলার খবর পেপারে। তাও তো খুব জোড় করে একজন আয়া রাখা হলো। ওই পনেরদিন মতো টিকেছিল। সারাদিন "টিক টিক টিক টিক" এর জ্বালায় আর রোজ মাঝরাতে আঠারোবার উঠতে গিয়ে সে আয়ার নিজেরই নাকি এখন বাড়িতে আয়ার সেবার দরকার হয়ে পড়েছে।
সারাদিন সমস্ত বাড়ির খেয়াল রেখে তারপর রাতে ওই "টিক টিক টিক টিক" আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন আর কিছু না শুধু একটু ভালো করে ঘুমোতে চাই। কতদিন যে ভালো করে ঘুম টুকু হয়নি!

ওই আবার। "টিক টিক টিক টিক"।
"দাঁড়াও দাঁড়াও, আমাকে বাথরুম থেকে তো বেরুতে দাও উফফফফ"
মাঝে মাঝে মনে হয় ওই যে স্কেলটা দিয়ে খাটের ধারে "টিক টিক টিক টিক" করে, সেটা দিয়েই মাথাতে ..... 

============================================================================

- কি হলো, উঠে পড়লে কেন?
- না ওই যে মা বোধহয়  ....
- মা? পর্ণা তুমি আমার মা কে এতো ভালোবাসতে? উনি চলে যাওয়ার পরেও  .....
- ও হ্যা। রোজ রাতে কি যে হয়। কিন্তু আজ যেন  ..... যাক ঘুমিয়ে পড়ো। আমিও  ..... এই ওটা কিসের আওয়াজ। শোনো, শুনতে পাচ্ছো। শোনো
- কোথায় পর্ণা কিচ্ছু তো নয়। তোমার মনের ভুল। শুয়ে পড়ো।
- উফফফফ ভালো করে শোনো। শোনো না। আরে এইটা স্কেলের তোবড়ানো দিকটার আওয়াজ। আমি জানবো না? এই ছ'বছর ধরে শুনছি  .....
- পর্ণা  .....

Wednesday, 21 February 2018

ককটেল

আমিষ-নিরামিষ একই ফ্রিজের একই ফ্লোরে থাকলে একটু ছোঁয়া তো লাগবেই। তাই না?
আকাশের মা-র তাতে প্রবল সমস্যা। উপায় হিসেবে ভাবা হলো, আলাদা একটি পুঁচকে ফ্রিজ হবে, যাতে থাকবে নিরামিষ। এবং দুটি ফ্রিজ যেন একে ওপরের থেকে অন্ততপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বে থাকে।
কিন্তু যদি নিরামিষ ফ্রিজের পাশে বসে আমিষ হাঁচি আসে?
যদি নিরামিষের ফ্রিজের ভিতরকার বাটির ওপর লাগিয়ে রাখা ভেজ-আইডেন্টিফিকেশন-নেইলপলিশ- মার্ক আচমকা উঠে যায়?
যদি নিরামিষের ফ্রিজের ওপর কোনো গেস্ট এসে মটন-বিরিয়ানি খাওয়া কব্জিটা রেখে ফেলে?

গত কয়েকমাস ধরে এই সব সম্ভাবনার কথা আকাশের মা কে বোঝাতে, উনি অবশেষে ঠিক করেছেন, একটি ফ্রিজই থাক। ওই নিরামিষের আগের দিন একটু মুছে নিলেই হবে। যতই হোক, আমিষ-নিরামিষ, খাদ্য বই আর কিছু তো নয়।

ঠিক যেমন, যে দেশে কোনো একটি সরকারী ভাষা নেই (“একটি” শব্দটির ওপর জোর দেবেন), তখন একগাদা আশেপাশের ভাষার সাথে একটু ছোঁয়াছুঁয়ি তো হবেই। তাই না?
উত্তরে-দক্ষিণে-পশ্চিমে গিয়ে কি আর বাংলা বলা যাবে? ওখানে "জল খাতা হুঁ" -এর পাঞ্চ মারতেই হবে। অর্থাৎ আমাদের দেশের লোকজনকে একটু ককটেল হতেই হয়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক আকর্ষণ মাধ্যাকর্ষণ -এর কারণেও পাঞ্চ আজকাল একেবারে প্রায়-আবশ্যিক হয়ে উঠেছে। অমনি বলবেন, "বাজে কেন বকছেন? দক্ষিণে তো ওরা দিব্বি নিজের ভাষাতেই কথা বলে।" তা বলে। আমেরিকার রাস্তাতেও তাদের একমাথা তেল চুপচুপে চুলে ফুলের মালা লাগিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আপনি কি ধুতি-শাড়ি পড়েন? প্যারিসে গিয়ে পড়বেন?

ব্যাপার হলো, আপনার মন কি চায়? অন্য ভাষাকে করায়ত্ত করাতে দোষ কি? অবশ্যই নিজের ভাষাকে অপমান না করে। যারা অপমান করে, তাদের ওপর আমারও হেভি ইয়ে হয়। খুব লিখেছি, খিল্লি করেছি তাদের নিয়ে একসময়। কিন্তু এখন মনে হয় তাদের বলি,"ভালো হয়ে উঠুন তাড়াতাড়ি"। কারণ "শো অফ" একটা রোগ। ভাষা আরো অনেককিছুর মতোই সেটার শিকার।
তা বাদ দিয়ে অন্য ভাষাতে অনুরাগ দোষের কি। এই দেখুন না আজকাল বাংলা লেখাতে আধুনিক লেখকরা মাঝে মাঝেই ইংরিজি ব্যবহার করেন, তাদের লেখা পড়তে ভালো লাগলেও পড়া বর্জন করবেন? (ডিসক্লেইমার: এই লেখা যা আপনি এখন পড়ছেন, তার সব কিছুই কাল্পনিক আর কেউ কোন মিল পেলে তা নিতান্তই কাকতালীয়)। সাধু থেকে চলিত হয়েছিল একসময়, তা নিয়েও মহাভারত কম হয়নি। চলিত থেকে এখন ককটেলিত হয়ে গেলেও বিচলিত হবেননা। এটাই নিয়ম। Heraclitus বলেছেন change is the only constant। যদি ইংরিজি না পড়তেন, সন্মান না করতেন, এই কোট টাও  জানা হতো না।

আজ সারাদিন শুদ্ধ বাংলা বলে যেতে হবে নাকি! সে তো আবার ওই "শো অফ" বা ওই সিনেমা হলে "ও বাবা আবার উঠে দাঁড়াতে হবে" টাইপ জাস্ট একটা দায়।
মাতৃ ভাষাটাকে দায় করে তুলবেন না।
আমি বলি কি, অন্য ভাষা কথাতে-লেখাতে পাঞ্চ হচ্ছে হোক। আপনি যেটা চান, সেটাই করুন। চয়েস আপনার। তবে মানুষকে-কুকুরকে-ভিখিরিকে-অন্ধকে যেমন অপমান করা ঠিক না, তেমনি ভাষাকেও না। নিজের ভাষাকে তো একেবারেই না।

মন দিয়ে বাংলাকে ভালোবাসছে দেখুন ওই লোকটা। রাশিয়ার পাতাল রেলে বসে অফিস ফেরত লোকটা জয় গোস্বামী পড়ছেন। 
জয় বাংলা।

জয় বাঙালি।

Friday, 16 February 2018

ট্যাটু

- দ্যাখা দ্যাখা ওটা কি ..... ওটা কি দ্যাখা
- উফফ মা ছাড়ো তো , আমি জাস্ট বাড়ি ঢুকলাম আর তুমি শুরু হয়ে গেলে।
- ঋক, দ্যাখ আমার দিকে। কেন হাত লুকোচ্ছিস! দ্যাখা হাতটা দ্যাখা।
- উফফ মা 
- একি এটা কি? এটা কি করেছিস?
- ও কিছু না। ট্যাটু। বাবাকে বলবে না কিন্তু। বলো বলবে না। প্রমিস করো।
- ট্যা?
- টু।
- মানে? ওই যেগুলো একদম সুঁচ বিঁধিয়ে  .....
- উফফ আরে এ সব কুল মা  ..... তুমি বুঝবে না  ..... আরে কি হলো? মারছো কেন? থামো থামো বলছি। উফফ মা কাম অন  ..... আরে আবার কাঁদছো কেন? আরে তুমি যে কি করো না।

********
- কে কে ওখানে? মা তুমি? কি হলো?
- লেগেছে বাবা তোর?
- আরে না না। তোমার ওই নরম হাতে লাগে নাকি। তোমারই হাতে লেগেছে দ্যাখো। আমার বাইসেপ্সে কি স্ট্রেন্থ জানো? হে হে।
- ধুস। আমি বলছি ওই যে হাতে সুঁচ ফোটালো  .... তাতে লাগেনি?
- ওহ একটু। মাইনর। তুমি আবার কাঁদছো নাকি! উফফ মা  .....
********
- এই যে এদিকে আসুন আসুন এদিকে।
- এই এরা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে গো? ঋক কোথায়? বলো না আমরা এখানে এসেছি কেন? ইসস কি গন্ধ।
- দেখুন। বডির অবস্থা খুব খারাপ। মুখ দেখে ভয় পাবেন না। বাসটা মুখের ওপরেই  ..... মানে যাই হোক দেখুন যদি শার্ট-প্যান্ট বা বডির অন্য কোনো আইডেন্টিফিকেশন দেখে বলতে পারেন, ঋক বসু ইনি কিনা  ..... ওকি ওকি হাতটা ধরে এরকম  ..... ট্যাটুটা কি আইডেন্টিফাই করতে পারছেন? ওকি এই ওনাকে ধরুন ধরুন  ..... উনি বোধহয় ফেইন্ট হয়ে যাচ্ছেন   ..... বলছি মিস্টার বসু, সরি মানে আমাদের ডিউটি, প্লিস বলুন আপনার ওয়াইফ কি কিছু আইডেন্টিফাই করতে পারলেন? ইনি কি ঋক বসু?


Thursday, 8 February 2018

পদ্মাবত এবং টিয়া

পদ্মাবত নিয়ে এ যাবত অনেক ঘোল-শরবত হলো। ওসব নিয়ে না চাইলেও চোখের সামনে, কানের পাশে, হাতের ডগায়, মাথার আগায় যা সব চলছে, তাতে খুব চিন্তিত। না, চিন্তা দেশ নিয়ে নয়, দীপিকার মাথা নিয়েও নয়, বনশালির কুশপুতুল নিয়ে তো নয়ই। চিন্তা ওই টিয়াটিকে নিয়ে।
এ? টিয়া কোথা থেকে এলো!
সিনেমাটি না দেখে থাকলে, নিদেনপক্ষে রানী পদ্মিনীর গল্পটা না পড়ে থাকলে, নিশ্চয় ভূরু কুঁচকে এটাই ভাবছেন।
তা কেসটা এরকম।
বেশি সুন্দরী মেয়ে মানেই মেয়ের বাবারা বাই ডিফল্ট অমরেশ পুরি। এ দেশে অবশ্য তা ছাড়া উপায়ই বা কি! যাক সে অন্য প্রসঙ্গ।
তা পদ্মিনীও সুন্দরী। (সে তো দিপিকা পাডুকোনকে নাম ভূমিকা নায়িকা হিসেবে দেখেই আন্দাজ করেছেন) তাই পদ্মিনীর বাবারও মেয়েকে সামলানোর প্রবল চাপ। কারোর সাথে কথা বলা বারণ পদ্মিনীর। এখানেই এন্ট্রি টিয়ার। হ্যা পাখি। যে সে পাখি নয়, কথা বলা পাখি। তা তার সাথেই জমে ওঠে পদ্মিনীর, সরল বন্ধুত্ব। টিয়াটির বেশ চকচকে নামও দেওয়া হয়, হীরামন। এই বন্ধুত্বর চাকচিক্য দেখে, মেয়ের বাবার আবার চাপ। বোধহয় এই জন্য যে পাখিটি ছেলে। ছেলে পাখির সাথেও কথা বলা যথেষ্ট রিস্কি মনে করাতে পাখি-হত্যার হুকুম জারি হলো। ব্যাস, টিয়া অমনি জান বাঁচিয়ে ভাগ মিলখা। এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে হাত বদল হয়ে সে এবার রতন সিংহের পোষ্য।
গল্প এতদূর শুনলে, বেচারা টিয়া আর পদ্মিনীর বিচ্ছেদের দুঃখে মনটা কিরকম কিরকম ভারী হয়ে আসে শ্রোতার। হওয়ারই কথা।
তা টিয়ার হঠাৎ খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, পদ্মিনীর রূপ নিয়ে গল্প করতে থাকে রতনের কাছে। ব্যাস রতনেরও, দিল মে লাড্ডু ফুটা। আরে বাবা, ছেলেদের হৃদয় হলো সেই ভালোবাসার তেঁতুল পাতা, সুজন-নজন আরও কতজনই আসুক না কেন, ঠিক ফিট হয়ে যায়। রতনেরও তাই। বাড়িতে অলরেডি বৌ বর্তমান, তবু লাড্ডু ফুটা তো ফুটা। এইসময় বলি টিয়ার আক্কেলটাই বা কি হ্যা? নিজে পাখি হয়ে ঝাড়ি মারলি, তার থেকে বেশি কিছু হবে না জেনে আরেকজনকে লেলিয়ে দিলি! পদ্মিনীর বাবার পাখিকেও সন্দেহ করা যে একেবারেই যুক্তিসঙ্গত, তা আর বলতে বাকি রাখে না।
এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, মেয়ের বাবারা যদি এ লেখা পড়ছেন, একদম নোট করে নিন। কাউকে বিশ্বাস করা নয়। বাড়িতে কাক-চিল-এমনকি ভোডাফোনের কুকুরও যেন বসতে না পারে।
যাই হোক, সে টিয়াটি এমন ইয়ে, যে সে রতন সিংকে পদ্মিনীর ঠিকানা জানায়, উড়ে গিয়ে পদ্মিনীকে দেখা করার ডেট-টাইম অ্যাডভান্স জানিয়ে দেয়, মানে জিপিএস-হোয়াটস্যাপ এর কম্বো, ওই একাই হীরামন টিয়াটি। এরপর তো মহাকান্ড। সাত সমুদ্র পার করে রতন পৌঁছয়, হেব্বি ঝামেলা ঝঞ্ঝাট সামলে রতন-পদ্মর বিয়ে হয়, তাতেই কি শেষ? সাথে জীবন-যুদ্ধ সামলানো, সতীনের সাথে হাল্কা কূটকচালি ম্যানেজ করা ওসবও হয়। কিন্তু ও নিয়ে আমার গল্প নয়। কারণ ওতে টিয়া নেই। শুরুতেই বলেছি চিন্তা আমার টিয়া নিয়ে।
সুফি কবি জয়সির লেখা অনুযায়ী, ওই টিয়াই নাকি কি এক কারণে রতন -এর থেকে বহিষ্কৃত হয় এবং আরও একবার খুজলি করে, এবার একেবারে স্বয়ং আলাউদ্দিন খিলজীকে। আর তারপর তো খেল খতম, আর পয়সাও হজম হয়না। এই পোরশনটা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। মানে টিয়াটির চাপা-শয়তানি ঠিক কতদূর তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আর এখানেই আমার চিন্তা।
প্রশ্ন হলো, চাপ তো এখনো আছে। টিয়াটি কোথায়? সে তো এখনো ফ্রি বার্ড। আরে বাবা, জানি জানি বলবেন এতো বছর হয়েছে, তো থোড়ি সে পাখি আছে নাকি। আরে বাবা, জন্মান্তর বলেও তো কথা আছে, তাই না? আর তাছাড়া তার যে বংশবৃদ্ধি হয়নি, তাই বা কে বলতে পারে। প্রেমে ভাংচি দেওয়া ইয়েরা ওই ওরই বংশধর যে নয়, তা কে বলতে পারে।
তাই আর কি, একটু চাপে। এরা আশেপাশেই ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। দেখছেনই এই এতবছর পরেও রতন-পদ্ম-খিলজী যা চাপে, তাতে আপনাদের কে বাঁচাবে।
তাই সবাই সাধু সাবধান।

Wednesday, 6 December 2017

লিস্টটা

বাপ মরা মেয়ে তাও আবার বয়স পঁয়ত্রিশ ছুঁইছুঁই। সে মেয়ের বিয়েটা ঠিকঠাক দিতে পেরে উমাজেঠিমা বেশ খুশি। আরও বেশি খুশি এইজন্য যে বিয়ের ১ মাসের মধ্যে মেয়ে তল্পি-তল্পা নিয়ে বাড়ি ফেরেনি। ঘন ঘন ফোন করেনি। যে কবার ফোন করেছে, শশুড়বাড়ির গুষ্টি উদ্ধার করেনি। আর  এতো কিছু করেনি বলেই, উমাজেঠিমা দারুন খুশি।
একদিন সকালে ছেলেকে ডাকলেন ঘরে।
- শোন বাবু, পিলুর বিয়েটা ভালোই হলো কি বল? শোন, একটা লিস্ট করেছি। তার মধ্যে টুকটাক জিনিসগুলো স্বপনকে দিয়ে আনিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু কিছু জিনিস আনতে হবে তোকে। কাল বিকেলের আগে একটু এনে দিস তো।
- সে এনে দেওয়া যাবে মা। দেখি কি জিনিস? লিস্টটা দাও  ..... ও এই টিক দেওয়া গুলো? আচ্ছা। য়্যা? মানে? হুঁকো? গাঁজা? মানে? মা?
- হ্যা আর ওই ইসে ....
- কি?
- ওই মদের মধ্যে কোনটা ভালো হবে রে?
- মানে? তুমি? মদ? গাঁজা? কিসব বলছো?
- কেন?
- মানে তুমি বলছো? তোমার চাই মদ?
- কেন? তুই আকাশ থেকে পড়ছিস যে? কি বলছি যেন বুঝতেই পারছিস না? রোজ রবিবার দরজা বন্ধ করে কি গেলা হয়, জানিনা নাকি?
- এ এই ইয়ে মানে  ..... না মানে আহা আবার আমার কথা কেন  .... আমি বলছি যে তুমি? মদ? মানে  ....
- মানে মানে করিস না তো। কোনটা ভালো হবে বল।
- ওই ওই ইয়ে, হুইস্কি।
- আচ্ছা আনিস ঐটাই। ব্যাস বিকেলের মধ্যেই আনিস কিন্তু। রাতেই বসতে হবে তো?
- (চিৎকার করে) মা গো, বলছি এমন কি হলো গো তোমার? এই রকম করছো। আমাদের কোনো ভুল হলে বলো একবার। কি হয়েছে তোমার?
- আরে, কি আবার হবে? "শিবঠাকুরের মানত" এর এবার রিটার্ন টাইম। শিবঠাকুরের পুজো হবে কাল। ওনার যা পছন্দ দিতে হবে না পুজোর সামগ্রীতে?